পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে ‘মহান' ও বড় ধরনের ‘অর্জন' বলা হলেও তথাকথিত ‘শান্তিবাহিনীর' তার নিজ দেশের ভেতরে পরিচালিত রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকান্ড, সেনাবাহিনীসহ সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী এবং জনসাধারণের ওপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞ চালানো, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। তারা হাজার হাজার বাঙ্গালী, শান্তিবাহিনী বিরোধী উপজাতি, সেনা সদস্য, বিডিআর জওয়ান, পুলিশ ও আনসার, বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে হত্যা করে। আহত ও অপহরণ করা হয় বহু লোককে। চাকমা জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশকে ভারতে নিয়ে গিয়ে শরণার্থী বানায় তারা। তাদের বিরোধী অংশের ওপর গণহত্যা সংঘটিত করে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। দুই যুগে সেনাসদস্য ও অউপজাতি ২৫ হাজার লোককে তারা হত্যা করে। প্রভৃতি অপকর্মের কোন বিচার হয়নি। এমনকি এসব অপরাধের কোন তদন্ত ও বিচারেরও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অপরদিকে, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বরাত দিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই যুগের রক্তাক্ত বিদ্রোহের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার শান্তিচুক্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে এই পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ২০০টি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানকার আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সাপেক্ষে সরকার আরও ৩৫টি নিরাপত্তা ক্যাম্প ও তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে শুরু হবে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ইতোমধ্যে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন ও পার্বত্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

সেই ভয়াবহ দিনগুলো: স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিরোধী ঘটনা সংঘটিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পৃথক জুমল্যান্ডের দাবি উত্থাপন এবং এ জন্য সশস্ত্র সংঘাত সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর দৃঢ় ভূমিকা বৃহত্তর চট্টগ্রামের জাগ্রত জনতার কারণে শেষ পর্যন্ত তা হতে পারেনি। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার অব্যাহত রেখেছে। শান্তিবাহিনীর পক্ষে প্রচারণার জন্য একাধিক ওয়েবসাইট একাজে নিয়োজিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক করে ফেলতে শান্তিবাহিনী স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে রীতিমত যুদ্ধ করেছে।
চাকমা নেতা সন্তু লারমা এই যুদ্ধের জন্য ৫ হাজার লোকের সমন্বয়ে গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে একটা অংশ ছিল বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর গোপন ও অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে লুট করে নেয়া, আর বৃহদংশই ছিল ভারত থেকে সরবরাহকৃত। এসব অস্ত্রেও মধ্যে ছিল, সাব মেশিনগান, এসএলআরএস, স্টেনগান, এসএমসি, ভূমি মাইন, হ্যান্ডগ্রেনেড, মর্টার শেল, বন্দুক, পিস্তল, রিভলবার, ৩০৩ রাইফেল প্রভৃতি। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক শান্তিবাহিনীর অপারেশনের ‘ধরন' সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, (১) জলে-স্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ঝটিকা আক্রমণ, (২) বাঙ্গালী গ্রামসমূহে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পসমূহে আক্রমণ ও আগুন দেয়া, (৩) অ-উপজাতীয় সদস্যদের হত্যা এবং শান্তিবাহিনীর বিরোধীদের হত্যা, (৪) মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ও গুরুত্বপূর্ণ উপজাতীয় নেতাদের অপহরণ, (৫) নাশকতামূলক তৎপরতা, যেমন- বৈদ্যুতিক স্থাপনা ধ্বংস, ব্রীজ-কালভার্ট-রাস্তাঘাট-বনজসম্পদ আহরণের যন্ত্রপাতি ধ্বংস, (৬) জল ও স্থলে সাধারণ যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং (৭) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ইন্ধন যুগিয়ে উপজাতি শরণার্থী ভারতে প্রেরণ। এই কর্মপরিকল্পনার আলোকেই তারা হাজার হাজার বাঙ্গালী, শান্তিবাহিনীবিরোধী উপজাতি, সেনাসদস্য, বিডিআর জওয়ান, পলিশ ও আনসার, বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে হত্যা করে। আহত ও অপহরণ করা হয় বহু লোককে। চাকমা জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশকে ভারতে নিয়ে গিয়ে শরণার্থী বানায় তারা। তাদের বিরোধী অংশের ওপর গণহত্যা সংঘটিত করে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। দুই যুগে সেনাসদস্য ও অউপজাতি ২৫ হাজার লোককে তারা হত্যা করে। তাদের হত্যালীলার কয়েকটি নমুনা দেয়া যেতে পারে।
১৯৭৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর লংদু থানার কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে ২০ জন অউপজাতিকে হত্যা, ৪০ জনকে আহত এবং ১০৪টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। '৮০ সালের ২৫ মার্চ তারা কাউখালীতে অউপজাতি পাড়ায় আক্রমণ করে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দু'পক্ষে নিহত হয় ২৯ জন, আহত হয় ১১ জন। একই বছর ১৫ সেপ্টেম্বর তারা কাউখালী, বেতছড়ি ও কচুখালীতে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে ৬ অউপজাতিকে ও হত্যা এবং ২৫ জনকে আহত করে। ১৯৮৪ সালের ৩১ মে চাকমা সন্ত্রাসীরা ভূষণছড়া ও বরকলে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে অউপজাতি গ্রামের ৮৮ জনকে গুলী করে হত্যা ও ৩৩ জনকে আহত এবং ১৮ জনকে অপহরণ করে। জ্বালিয়ে দেয় ২৬৪টি বাড়ি। '৮৬ সালের ২২ জুলাই দীঘিনালায় ২৪ জনকে হত্যা ও ৩২ জনকে অপহরণ করে। '৮৯ সালের ১৮ এপ্রিল বাঁশখালীতে এক সংঘর্ষে মারা যায় ১৫ জন। একই বছর ৪ মে লংদুতে নিহত হয় আরো ১৫ জন। '৯০ সালের ১৬ এপ্রিল নাইখ্যংছড়ি ও বলিপাড়ায় গুলীতে নিহত হয় ১৯ জন। ১৯৯২ সালের ১০ জানুয়ারি খিরাম ফরেস্ট অফিসে আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করা হয় ৬ জন কর্মচারীকে। একই বছর ২ ফেব্রুয়ারি লংদুতে লঞ্চে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করা হয় ১৭ জনকে। '৯৫ সালের ১৪ জুন শান্তিবাহিনীর ২০ সদস্যের একটি গ্রুপ একটি ব্যাংক লুট করে। এসময় তারা একজন গার্ডকে হত্যা ও ২ জন ব্যাংক কর্মচারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটিতে আক্রমণ চালিয়ে ৩০ জনকে তারা হত্যা করে। বছরের হিসেবে ১৯৮৪ সালে ২ হাজার এবং ১৯৮৯ সালে ১ হাজার সাধারণ লোককে হত্যার রেকর্ড পাওয়া যায়।
সেনাসদস্যদের হত্যা
শান্তিবাহিনীর লোকেরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার ও জওয়ানদের এ্যামবুশ করে তথা লুকিয়ে থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করে হত্যা করার একটা সংক্ষিপ্ত দিনপঞ্জি দেয়া গেল। ১৯৭৭ সালের ৬ মে সাঙ্গু নদীতে হত্যা করা হয় আবদুল কাদিরসহ ৫ জন সেনাসদস্যকে। একই বছর ২৫ অক্টোবর বান্দরবানে নিহত হন নায়েক আবদুল গনি মিয়া, নায়েক আবদস সাত্তার, নায়েক আরিফ, সিপাই লুৎফর রহমান, সিপাই আলী হোসেন ও সিপাই আবদুল খালেক মুন্সি। '৭৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাঙ্গু নদীতে এ্যামবুশ করে এক সেনাসদস্যকে হত্যা এবং প্রচুর গোলাবারুদ লুট করা হয়। ঐ বছরের ৫ জুলাই কাপ্তাই নতুন বাজার থেকে ২ জন আনসার সদস্যকে অপহরণ করে হত্যা, ১৮ সেপ্টেম্বর দিঘিনালায় নায়েক এসএম রুহুল আমিনকে এবং ১৪ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে ৫ জন সেনাসদস্যকে হত্যা করা হয়। ১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়িতে ৩ জন সেনাসদস্য নিহত ও ৫ জন আহত হন। ঐ বছরই ২১ এপ্রিল ফালাউংপাড়া নামক স্থানে এ্যামবুশ করে হত্যা করা হয় ১১ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ২০ জন জওয়ানকে। লুট করে নেয়া হয় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। সে বছর ১ মার্চ ঘন্টিছড়া নামক স্থানে এ্যামবুশ করে হত্যা করা হয় মেজর মহসিন আলমসহ ২২ জন সেনা জওয়ানকে। ১৯৮৬ সালের ১৯ জুলাই খাগড়াছড়িতে এক সেনাসদস্য নিহত ও ৭ জন আহত হন এবং ৭ আগস্ট ২ জন আনসার সদস্যকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। '৮৭ সালের ২১ জুন নাড়াইছড়ির অদূরে এ্যামবুশ করে হত্যা করা হয় সেনাসদস্য আবদুর রাজ্জাক, ইসমাঈল হোসেন ও মোহনলালকে। একই বছর ২৪ নবেম্বর শিলছড়িতে গুলী করে হত্যা করা ২ সেনা জওয়ানকে। ১৯৮৯ সালে থানচিতে ১১ জন সেনা জওয়ানকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালের ২৭ জানুয়ারি ফরেস্টার আবুল হোসেন, বজল আহমদ ও মাহবুবুল আলমকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।
শান্তিবাহিনীর বপন করা অশান্তির বীজ থেকে গজিয়ে ওঠা চারা পরে বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। তাদের জাতিদ্রোহী কর্মকান্ড থেকে প্রেরণা পেয়ে নানাবিধ সন্ত্রাসী তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়েছে। আর এর দায়ভার চাপানো হয়েছে ইসলামপন্থী গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর। কারো কারো অভিমত, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর প্রথম পর্যায়ের সাফল্যকে ধরে রেখে দ্বিতীয় পর্যায়ে পৃথক রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক অভিযান চালানো হতে পারে। শান্তিবাহিনীর সমর্থক রাজধানীর রাজনৈতিক গোষ্ঠী ভারত-সমর্থিত ও তাদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে চোখ বন্ধ করে শুধু সমর্থনই করেনি, প্রকাশ্যে সংঘটিত বাংলাদেশ-বিরোধী ভারতের নানাবিধ তৎপরতায়ও নীরব থেকেছে। সীমান্তে বিএসএফ'র গুলী করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও সম্পদ লুটপাটের খবর নিত্য প্রকাশিত হলেও তারা মুখে কুলুপ এঁটে থাকে।
সরকারের এই অবিবেচক সিদ্ধান্তের ফলে শান্তিবাহিনীর মূল সংগঠন জনসংহতি সমিতির-ই জয় হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী অ-উপজাতীয় বাঙ্গালীদের জান, মাল, ইজ্জত আবরুর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।এমনিতেই বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার সাথে সাথেই ঐ অঞ্চলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, অপহরণ, খুন-খারাবী বেড়ে গেছে। উপ-জাতীয় যুবকদের নেতৃত্বে গোপন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, এখানে অ-উপজাতীয় নাগরিকদের অধিকার অসাংবিধানিকভাবে খর্ব করা হয়েছে। জীবন যাপনের ক্ষেত্রে অউপজাতীয় বাঙ্গালীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাকমা উপজাতির ৬০ হাজার লোককে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। কিন্তু গুচ্ছগ্রামের ৫৩ হাজার অউপজাতীয় পরিবারের লাখ লাখ মানুষকে তাদের বাড়িঘর, জমি-জমা ফেরত দেওয়া হয়নি। অনেক এলাকায় উপজাতীয়রা বাঙ্গালীদের রেকর্ড করা দখলী জমি-জমা চাষবাস করতে দিচ্ছে না।
সকলেই অবগত আছেন, শান্তিবাহিনী ঐ এলাকায় কি নারকীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। তাদের হাতে ৩০ হাজারেরও অধিক অ-উপজাতীয় বাঙ্গালী নিহত হয়েছিল। সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করার ফলে সেই আগের সন্ত্রাসী পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে ঐ অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের ফলে শান্তি বাহিনী, বাইরের ষড়যন্ত্র ও এনজিওদের যোগসাজসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ হয়েও কার্যত: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ। এমনকি কর্ণফুলী পেপার মিল এবং বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
কাজেই দেশের সংবিধানের মর্যাদা, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী অউপজাতীয় বাঙ্গালীদের জান-মালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত বাতিল এবং অ-উপজাতীয় উদ্বাস্তুদের নিজ বাড়িঘরে পুনর্বাসন ও তাদের জমি-জমা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করার।
লেখক- সেলিম চৌধুরী, গবেষক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

