যৌথবাহিনীর হাতে আটকের পর রিমান্ডে থাকা আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত রিপোর্টটির কিছু অংশ এখানে তুলে দেয়া হল:
কমিশন ও চাঁদা আদায় :
রিমান্ডে থাকা আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম অকপটে স্বীকার করেছেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আংশিক কাজ থেকে তিনি ইস্টকোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ মার্কিন ডলার নিয়েছিলেন। এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে প্রতি মাসে নিতেন ৩ লাখ টাকা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীও বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা নিয়েছেন বলে শেখ সেলিম জানান।
মনোনয়ন বিক্রি :
জিজ্ঞাসাবাদে শেখ সেলিম বলেন, নেত্রীর পে টাকা-পয়সা সংগ্রহের কাজটি করে থাকেন কাজী জাফরউল্লাহ, সালমান এফ রহমান ও শেখ হেলাল। বাতিল হয়ে যাওয়া নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়নের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়ার কাজটিও এই তিনজন করেছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বাতিল হয়ে যাওয়া নির্বাচনের আগে গোলাম দস্তগীর গাজী ও নুরুল ইসলাম বাবুল আমার কাছে এসেছিল টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন নেয়ার জন্য। আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, এটা আমার পে সম্ভব নয়। এরপর তারা কিভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন তা আমি জানি না।
বিআরটিসির দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ হত্যা :
গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে যুবলীগের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে, ২০০৪ সালে ঢাকার শেরাটন হোটেলের পাশে বিআরটিসির দোতলা বাসে আগুন ধরিয়ে ১১ ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনার নেপথ্যে ছিল যুবলীগের বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আযম। ওইদিন সন্ধ্যায় তারা যুবলীগ অফিসে বসে বৈঠক করে এ ধরনের একটি ঘটনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থলে কে বা কারা ছিল সেটা তিনি জানতে পারেননি বলে জানান শেখ সেলিম। তিনি বলেন, আমি নেত্রীর কাছে এ ঘটনার জোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম এভাবে রাজনীতি হয় না।
গার্মেন্টসে শ্রমিক অসন্তোষ :
শেখ সেলিম আরও বলেন, গত বছর ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ মজুমদার। এছাড়া সাভার ইপিজেডে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরীর নেপথ্যে ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ জং।
জঙ্গী বিরোধী অভিযানে অনিহা :
জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, কোটালীপাড়ায় বোমা পাতার ঘটনার পর ঢাকা রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি আমাকে বলেছিলেন যে, শায়খ আব্দুর রহমানকে ধরা না হলে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঠেকানো যাবে না। কিন্তু তখন দলের একাংশের বিরোধিতার কারণে তাকে ধরা হয়নি। কারণ, শায়খ রহমান মির্জা আযমের ভগ্নিপতি। কিন্তু এ পর্যায়ে যখন শায়খ রহমান দেশজুড়ে ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনার মূল হোতা হিসাবে প্রকাশ পায়, তখন দলের সেই লোকেরাই নেত্রীর কাছে গিয়ে বলেছে যে, মির্জা আযমের সঙ্গে শায়খ রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই।
২০০১ এর নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ :
শেখ সেলিম বলেন, কিছু বামপন্থী লোকের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমন বিপর্যয় ঘটেছিল। মোনায়েম সরকার ও শাহরিয়ার কবীরদের মতো কিছু লোক কুকুরের মাথায় টুপি দিয়ে সারাদেশে পোস্টারিং করেছিল। সেই পোস্টারের কারণে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনমত চলে যায়।
ইউটিউব ভিডিও (অডিও):
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

