somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফতুয়ার কালেকশন বেশি বিক্রি কম :(( :((

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘ফতুয়া’ শব্দটি ডিকশনারিতে নেই। এটি লোকমুখে প্রচলিত বাঙালির বিশেষ পোশাকের নাম। ফতুয়ার কথা বলতেই যে কারো চোখে রবীন্দ্রনাথের নাটক-গল্পের চরিত্রগুলো ভেসে ওঠে। এখনো রবীন্দ্রনাথের নাটকে আদি সময়ের সেই গোল গলা, সামনে দুটি পকেট আর লম্বাটে ফতুয়া দেখা যায়। সেই সময় একটু বয়স্করা ঘরে আরাম পেতে ফতুয়া পরতেন। সাদা ফিনফিনে কাপড়ের সেই ফতুয়া ২০০০ সালে এসে একেবারে লেটেস্ট ফ্যাশন হয়ে গেল। সবাই শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবির কমন লুকটাকে একটু পরিবর্তন করতেই রীতিমতো ফতুয়ার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। শার্টের বিকল্প কিংবা ক্যাজুয়ালি ফতুয়া একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ফেললো। ২০০০ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ফতুয়া সরগরম করে রেখেছিল ফ্যাশন বাজার।

২০০০-এর শুরু থেকে প্রত্যেক ডিজাইনার ও বুটিক হাউস ফতুয়ার সেই আদি রূপে নানাভাবে শোভাবর্ধন করেছে। ফতুয়ার অলঙ্করণ ও নকশায় এসেছে নানা বৈচিত্র্য। দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। লোকাল মার্কেটে তুমুল চাহিদার কারণে গ্লোবাল মার্কেটেও ছড়িয়ে পড়ে ফতুয়া। এখন প্রবাসী বাঙালিদের মাঝেও তুমুল জনপ্রিয় পোশাক ফতুয়া। জিন্স প্যান্ট কিংবা যে কোনো ট্রাউজারের সঙ্গে চটজলদি পরতে পারার জন্যই ফতুয়ার এতো চাহিদা বেড়েছিল। ইউরোপের সবচেয়ে বড় দোকান জা’রার শো-রুমেও এখন ফতুয়া চলছে। চীন ও ভারতেও ফতুয়ার অবাধ মার্কেট। ফ্যাশন ডিজাইনাররা জানিয়েছেন, ভারতীয় উপ-মহাদেশে ফতুয়ার উৎপত্তি হলেও বাংলাদেশেই ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো বুটিক হাউস থেকে শুরু করে সর্বত্র ফতুয়ার ভরপুর কালেকশন দেখা যাচ্ছে। তরুণ-তরুণীদের বাহারি ডিজাইনের ফতুয়ায় সয়লাব বুটিক হাউসগুলো। কিন্তু এবার ফতুয়ার বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।

কে-ক্রাফটের শো-রুমগুলোতে গতবারের তুলনায় এবার ফতুয়ার বিক্রি কম। কে-ক্রাফটের একজন কর্মী জানান, দুটো পাঞ্জাবির সঙ্গে কেউ কেউ একটা ফতুয়া কিনছেন। আবার যারা শর্ট পাঞ্জাবি পছন্দ করছে না তারাই ফতুয়া কিনছেন।
কে-ক্রাফটের ঈদ কালেকশনে এবার জয়সিল্ক, এন্ডি কটন, এন্ডি সিল্ক ও ডবি কটনের ফতুয়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। অবশ্য অধিকাংশ বুটিক হাউসেও এ ফেব্রিকের ফতুয়াই বেশি। পাশাপাশি অনুন’স সুতি ও টুয়েল কটন, দেশাল কুমিল্লার খাদি আর নরসিংদীর তাঁত, রঙ ডুপিয়ান সিল্ক ও মসলিন এবং সাদা-কালো সুতি ও ক্রেফটের ফতুয়া করেছে ঈদে।

ডিজাইনে শার্ট কাটিং, পাঞ্জাবি কাটিং, গোল গলা, ভ্যান কলার, হাফ নেক বেশি চলছে। কে-ক্রাফটের ফতুয়ায় উজ্জ্বল কালারের সঙ্গে হ্যান্ড ও মেশিন এমব্রয়ডারি, কারচুপি, রঙিন সুতো, স্টোন ও চুমকির কাজে দারুণ সমন্বয় দেখা যায়। এসব ফতুয়ার দাম ৪২৫ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে জয় সিল্ক ও এন্ডি কটনের ফতুয়ার দাম বেশি।

অনুন’সের ঈদের ফতুয়ার কালেকশন বেশি। এবার চাহিদা কম থাকায় নিরাশ নন বিক্রয় কর্মীরা। তারা জানান, ঈদে বিক্রি না হলেও তেমন কিছু হবে না। কারণ ফতুয়া সারাবছরই বিক্রি হয়। তারা আরো জানান, এখন চাহিদা কম থাকলেও ঈদের আগে হঠাৎ ফতুয়ার টান পড়তে পারে। এ জন্যই কালেকশন রাখতে হচ্ছে। অনুন’সে হাফ নেকের ডিমান্ড বরাবরই একটু বেশি। এছাড়া তরুণ-তরুণীদের কাছে হাফ স্লিভ, ফুল স্লিভ দুই ধরনের ফতুয়াই পছন্দ। অনুন’সের ফতুয়ার দাম ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দেশালে ফতুয়ায় স্ক্রিন প্রিন্ট ও দেশি ডিজাইনের ব্যবহার বেশি। এছাড়া তাদের ফতুয়ায় নানা স্লোগান স্থান পেয়েছে।

রঙের ফতুয়ায় নানা উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করে। রঙের মসলিন ফতুয়ার দাম বেশি। কাজের মধ্যে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, চুমকি, হাতের কাজ, পুঁতি ও কাটবেইজ কাজ বেশি। রঙের বিক্রয় কর্মীরা জানান, এবার মেয়েদের কুর্তি, ছেলেদের কুর্তা ও শর্ট পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি থাকায় ফতুয়ার বিক্রি কমেছে। রঙের ফতুয়ার দাম ৩৫০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা।

সাদা-কালোর সুতি ও ক্রেফটের ফতুয়ার চাহিদা একটু বেশি। অনেকে শুধু এ দুটি রঙের জন্য সাদা-কালোর পোশাক পছন্দ করেন। সাদা-কালোর ফতুয়ায় হাতের কাজ, এপলিক ও এমব্রয়ডারি প্রাধান্য পেয়েছে। দাম ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×