somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি আমরা?? মডেলিংয়ের অফার দিয়ে ৬৪ মেয়েকে ধর্ষণ

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আগে পড়ুন--> মোবাইল পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

এরপর পড়ুন নীচের খবরটি। দুটো খবরই আজকে পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত।



মডেলিং ও চাকরির লোভনীয় অফার ছিল রনির ফাঁদ। আর এ ফাঁদে একে একে আটকা পড়েছে ৬৪ নারী। সুন্দরী, আকর্ষণীয় যুবতীদের টার্গেট করেই এগোতো রনি। মডেলিং করলে রাতারাতি তারকা বনে যাবে এ লোভে সুন্দরীরা তার জালে ধরা দিতো। এভাবেই একে একে ৬৪ জনকে ধর্ষণ করেছে রনি। তবে ৬৩ জনকে ধর্ষণের খবর পর্দার আড়ালেই ছিল এতদিন। কিন্তু ধরা পরে ৬৪তম ধর্ষণের ঘটনায়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তার পুরো নাম রিয়াদ মাহমুদ রনি। বাসা আরামবাগে। নির্দিষ্ট কোন ফার্ম না থাকলেও সে নিজেকে মডেল হিসেবেই পরিচয় দিতো। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তাকে মডেলিং-এর প্রস্তাব দিয়ে কাবু করতো। কখনও কখনও প্রেম নিবেদন করতো। প্রেমের অভিনয় করে এ পর্যন্ত চারটি বিয়েও করেছে। তবে কারও সঙ্গে তার সংসার এক বছরের বেশি টেকেনি।

সম্প্রতি নীলা নামের (ছদ্মনাম) (১৭) সুন্দরী এক মেয়েকে চাকরি দেয়ার নাম করে তার কাছাকাছি যায়। এক পর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে। জানা যায়, নীলার সঙ্গে তার পরিচয় দুই মাস আগে। তার বাসা মিরপুর এলাকায়। সে সরকারি বাংলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রথম দেখেই নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় রনি। সে তা প্রত্যাখ্যান করলে পরিবারের মাধ্যমে রনি বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। রনি সেখানেও প্রত্যাখ্যাত হলে কেবল বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেয় নীলাকে। তখন ওই বন্ধুত্বের প্রস্তাব গ্রহণ করে নীলা। গত ১৪ই অক্টোবর নীলাকে একটি বিদেশী কোম্পানিতে ভাল চাকরি দেয়ার অফার দেয় রনি। এজন্য পর দিন তাকে জীবন বৃত্তান্ত ও তিন কপি ছবিসহ রাজধানীর জিপিও মোড়ে যেতে বলে। তার কথামতো সেখানে গেলে নীলাকে সে পীর ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে নিয়ে যায়। পরে হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে তাকে ধর্ষণ করে রনি। ধর্ষিতা নীলা জানায়, হোটেলের কোন কক্ষে যেতে হলে অতিথিদের ফরম পূরণ করতে হয় বলে তাকে দিয়ে ফরম পূরণ করিয়ে নেয়। হোটেলের ৫০৫ নম্বর কক্ষে আরও দু’জন অপেক্ষা করছিল। রুমে ঢুকলে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় তারা। এতে সে ক্ষেপে গেলে দ্রুত পালিয়ে যায় ওরা। পরে তাকে রনি জানায়, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে হোটেলে রুম বুক করেছে সে। তাই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও কেউ আসবে না। এরপর তাকে সে ধর্ষণ করে। নীলা আরও জানায়, সবকিছুই সে মোবাইলে রেকর্ড করে।

এক সময় সে বাইরে থেকে রুম লক করে বেরিয়ে যায়। এ সময় চিৎকার করলেও হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে রুমে ফিরে গিয়ে রনি তাকে জানায়, মোবাইলের ভিডিও চিত্র সে অন্য মোবাইলে ট্রান্সফার করে দিয়েছে। তার কথামতো কাজ না করলে সে ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। এভাবেই চলে তার ওপর রাতভর যৌন নিপীড়ন। নীলা জানায়, শুক্রবার বিকাল চারটার দিকে তাকে নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসে রনি। পরে আবার তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার নাম করে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে সে অস্বীকৃতি জানায়। তখন ট্যাক্সিক্যাবেই আবার নির্যাতন শুরু করে। এক সময় কাঁচি দিয়ে চুল ও চোখের ভ্রু কাটতে শুরু করে। মালিবাগ মোড়ের কাছাকাছি এসে সে চিৎকার শুরু করলে পথচারীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে তাকে। পরে পথচারীরা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জানা যায়, বিকাল চারটার দিকে পল্টন থানায় নিয়ে আসা হয় তাদের। পরে রনির পিতা রফিক উল্লাহ থানায় এসে মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন ধর্ষিতার পরিবারকে। সংবাদ প্রচার না করার জন্য সাংবাদিকদেরও হুমকি দেন তিনি। প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাত তিনটার দিকে ধর্ষক ও ধর্ষিতাকে পল্টন থানা থেকে শাহবাগ থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। ধর্ষিতা জানায়, রনি ধর্ষণের সময় বলছিল, তুই হলি ৬৪ নম্বর। এ রকম আরও ৬৩ জন আমার জীবনে এসেছে। চিৎকার করে লাভ হবে না।

এদিকে রনি জানায়, নীলার সম্মতি নিয়েই সে সেক্স করেছে। চাকরি দেয়ার কোন প্রস্তাব সে নীলাকে দেয়নি। বলে, মেয়েরাই তো আমার সঙ্গে ঘুরতে চায়। এদিকে পীর ইয়ামেনী হোটেলের জিএম মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে জানান, রনি স্ত্রীর পরিচয় দিয়েই হোটেলের রুম বুক করেছিল। তারা বিয়ের কোন কাগজ দেখিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে হোটেল বয় রিপন জানিয়েছে, রনি কয়েকবার খাবার আনার অর্ডার দিলেও কখনও সে রুমে ঢুকতে দেয়নি। নিজেই সে রুমের বাইরে এসে খাবার নিয়ে যেতো। এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, রনি একজন মাদকাসক্ত। তার চারটি বিয়ের ব্যাপারও সে স্বীকার করেছে। পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি অনেক কিছুই বের করা যাবে।
৪৩টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×