somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমি কেন আর হাত দেখি না
কিন্তু হস্তরেখাবিদ হিসেবে আমার এমন উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এখন হুমকির মুখে। পচা শামুকে পা কাটার মতো। লীলা নামের ফার্স্ট ইয়ারের এক পুঁচকে মেয়ে আমার পাঁচ-ছয়জন ভক্ত-অনুরাগীর সামনে বলে বসল, হাত দেখার ব্যাপারটা নাকি পুরোটাই একটা ভাঁওতাবাজি। শুনে মেজাজটা খিঁচড়ে গিয়েছিল, কিন্তু নিজের জ্যোতিষীসুলভ ইমেজের কথা ভেবে আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। একটা বানানো হাসিতে মুখ ভরিয়ে বললাম, ‘আমি তো বিজ্ঞাপন দিইনি। যারা আসে, নিজের ইচ্ছাতেই আসে। আপনাকেও ডেকে আনিনি।’

লীলা এবার আরও আক্রমণাত্মক, ‘আমি হাত দেখাতে আসিনি, আপনার প্রতারণার কথা সবার সামনে বলতে এসেছি।’

প্রতারণা! শব্দটা শুনে যেন পুলিশের সামনে হাতকড়া পরে কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নিজের চেহারাটা ভেসে উঠল চোখের সামনে। কষে একটা চড় দিয়ে ওর গালটা আরও লাল করে দিতে ইচ্ছে করছিল আমার। কিন্তু পারা যায় না দুটি কারণে—এক. আমার ইমেজ রক্ষার দায়, দুই. মেয়েটির ভয়াবহ সুন্দর চেহারা। মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা বোধ করি সুন্দরীদের জন্মগত অধিকার। এ রকম একটি মেয়েকে চড় মারা দূরে থাক, চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকতেও হিম্মত লাগে। স্বীকার করি, সেই মুরোদ আমার অন্তত নেই।

বললাম, ‘প্রতারণা মানে? আমি কি কারও কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছি?’

আমার গলায় বোধ হয় একটু উত্তেজনা ছিল। লীলা হাসল। অপূর্ব সেই হাসি। রাগের মাথায়ও সেই হাসিতে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

লীলা ঠান্ডা গলায় বলল, ‘আপনি রেগে যাচ্ছেন, আচ্ছা সত্যি করে বলুন তো, আপনার ভাগ্য গণনা কতটা ঠিক?’

‘আমি কিরোর বই পড়ে হাতের রেখার বিশ্লেষণ শিখেছি। কিরো যদি ঠিক হয়, তাহলে আমিও ঠিক।’

আবার সেই মোম গলানো হাসি, বলল, ‘হাতের রেখা দেখে ভাগ্য বলতে কিরো পড়ার দরকার হয় না, একটু কমনসেন্স থাকলেই হয়। আপনার কমনসেন্সটা ভালো, তাই...।’
‘আপনি পারবেন?’
‘নিশ্চয়ই। দেখতে চান?’
‘দেখান।’ সরাসরি যুদ্ধে আহ্বান করলাম আমি।

উপস্থিত মেয়েদের মধ্য থেকে শান্তাকে বেছে নেওয়া হলো। লীলা তার হাতের তালুটা নেড়েচেড়ে দেখে বলল, ‘খুব ছোটবেলায় তোমার একটা কঠিন রোগ হয়েছিল, জীবন-মরণ টানাটানি... ঠিক?’
শান্ত মেয়ের মতো শান্তা বলল, ‘ঠিক।’

লীলা আবার বলল, ‘নবম বা দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় একটা ছেলেকে তোমার খুব ভালো লেগেছিল, কিন্তু ওকে কখনো মুখ ফুটে এ কথা বলতে পারোনি...ঠিক?’

শান্তা মাথা নামিয়ে বলল, ‘না, ক্লাস এইটে পড়ার সময়...।’
লীলা বলল, ‘সময়ের সামান্য হেরফের হতে পারে, কিন্তু কথাটা তো সত্যি, নাকি?’
‘হ্যাঁ।’

অন্য সবার মতো আমাকেও চমকে দিয়ে বিজয়িনীর ভঙ্গিতে চলে যাচ্ছিল লীলা। হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে বলল, ‘আপনার হাত দেখেও ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারব, প্রয়োজন হলে দেখা করবেন।’

জীবনে আমি এত অপমান বোধ করিনি আর কখনো। এসব কথা ক্যাম্পাসে চাউর হলে মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। দুটি দিন খুব অস্থিরতার মধ্যে কাটল। প্রায় নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তৃতীয় দিন সকালে ফোন করলাম পূরবীকে। পূরবীই লীলাকে নিয়ে এসেছিল আমার কাছে। ওরা হোস্টেলে একই কক্ষে থাকে।

‘দেখা করতে চাস? হাত দেখাবি?’ রহস্যময় হাসি শোনা গেল পূরবীর, ‘বিকেলে লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ের নিচে থাকিস, ওকে বলে দেব।’
বিকেলে দেখা হয়ে গেল। ‘কেমন আছেন’ জিজ্ঞেস করতেই হাসিতে জুঁইফুল ছড়িয়ে বলল, ‘ভালো। কিন্তু আপনি দেখছি ভালো নেই!’
‘কী করে বুঝলেন?’
‘সব কথা কি আর হাতে লেখা থাকে?’
‘তাহলে বলুন কেন ভালো নেই’—বলে ডান হাতের করতল মেলে ধরলাম ওর সামনে।
লীলা বলল, ‘হাত দেখাতে হবে না, আমার চোখের দিকে তাকান, চোখ দেখে বলব।’
চোখের দিকে তাকিয়ে কী একটু কেঁপে উঠেছিলাম? লীলা বলল, ‘আরে, আপনি তো প্রেমে পড়েছেন!’
ঢোঁক গিলে বললাম, ‘কার?’
‘যদি কথা দেন আর কোনো দিন কারও হাত দেখবেন না, তাহলে বলতে পারি।’
অস্থির লাগছিল আমার, বললাম, ‘দেখব না, কথা দিলাম, বলুন কার?’
সেই বিখ্যাত হাসি লীলার মুখে, সেই হাসি একটু আরক্ত, বলল, ‘আমার।’

আশ্চর্য, হাত না দেখেও এত কিছু বোঝা যায়! তাহলে আমি কিরোর বই পড়ে হাত দেখি কেন?

সেই থেকে আমি আর কারও হাত দেখি না। ক্লাস শেষে লীলার সঙ্গে ক্যানটিনে যাই, বিকেলে অডিটরিয়ামের সামনে নিরিবিলি জায়গাটাতে দুজনে বসে বাদাম চিবাই। সন্ধ্যায় ও হোস্টেলে ফিরে গেলে পরের দিনটার জন্য অপেক্ষা করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29540092 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29540092 2012-02-13 05:49:07
ষড়যন্ত্রপিষ্ট বাংলাদেশের রক্তঝরা হৃদয়

সন্ত্রাসবিরোধী প্রলম্বিত বিশ্বযুদ্ধের অভিযানগুলোতে অনিয়ম ও অপব্যয়ের বোঝা এবং বিশ্ব পুঁজিব্যবস্খায় অনাচারের উভয় সঙ্কট একক পরাশক্তির বিশ্ব নেতৃত্বকে বিব্রতকর অবস্খায় ফেলেছে। দানা বেঁধেছে নানা ভূরাজনৈতিক জটিলতা, আবহাওয়া পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া এবং জনজীবনের মৌলিক চাহিদা মোকাবেলায় বিশ্ববাজার সঙ্কট। ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বেড়ে চলা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জনকল্যাণের ব্যয় সঙ্কোচ ভূমধ্যসাগরীয় ইউরোপীয় দেশগুলোতেও প্রবল অস্খিরতার জন্ম দিয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যমণি যুক্তরাজ্যেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সঙ্কোচে রাজপথে সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেমন সচরাচর ঘটে থাকে। আরব দেশগুলোতে কোথাও অহিংস, কোথাও সহিংস ইন্তেফাদার বিস্তার দ্রব্যমূল্য- বেকারত্বজনিত আর্থসামাজিক বিক্ষোভকে গণবিমুখ আত্মসেবী শাসকদের অপসারণের রাজনৈতিক-ভূরাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় পরিণত করেছে।

অন্য দিকে তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোতে অস্খিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চলেছে। প্রতিক্রিয়ায় পণ্যের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিপর্যয়পীড়িত খাদ্যমূল্যে তার অনিবার্য প্রভাব বর্তাচ্ছে সর্বত্র। অগ্রসর অর্থনীতির জি-২০ গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে ফরাসি দেশের কৃষিমন্ত্রী ব্রুনো লে মেয়ার এ নিয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুনের সাথে পর্যালোচনা করেছেন। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, খাদ্যসঙ্কটের ঝুঁকি আর কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান অস্খিরতায় অনেক দেশে ভুখাদাঙ্গা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এ দেশে বেড়েই চলেছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির বিপাক মাথায় নিয়েই কৃষককে শুরু করতে হয়েছে বোরো ধানের আবাদ। সরকারি খাদ্যনীতি বিভ্রাট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে এবারের বাম্পার আলু ফসলের দুর্গতিতে। ন্যায্যমূল্য দূরের কথা, উৎপাদন মূল্যের সিকিভাগও পাচ্ছে না আলুচাষি। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ কিংবা রফতানি সহায়তার কোনো কর্মসূচি নেই সরকারের, অথচ আলু বিকল্প প্রধান খাদ্য হয়ে চালের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। ওদিকে নীতিবিভ্রাট ও সিদ্ধান্তহীনতায় চালের বাজার, আলুর বাজার, শেয়ারবাজারেও যে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি সরকার বাধিয়ে বসে আছে, তাতে শহুরে আত্মকর্মসংস্খান প্রার্থী তরুণ প্রজন্মের অনেকেই পথে বসেছে। প্রচণ্ড বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মনে। দ্রব্যমূল্য খাদ্যমূল্যের চাপে নাগরিক দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

এ প্রেক্ষাপটে ঘুরে এসেছে দু’বছর আগের মর্মান্তিক পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী। জালে পড়া মাছের মতো একঝাঁক সেনা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সেই দু:সহ স্মৃতির কীট এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও শাসনশৃঙ্খলার অবকাঠামোকে অদ্যাবধি দংশন করে চলেছে। বিভিন্ন মহলে গভীর সন্দেহ রয়েছে ওই হত্যাযজ্ঞের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হতে দেয়া হয়নি, দায়সারা তদন্তের শর্ত ও সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, যথাযথ বিচারের কাজও একেবারেই এগোয়নি। বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের যে বিভাগীয় বিচার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তিবিধান হচ্ছে, মোটা দাগে তারই প্রচারবাদ্য জোরেশোরে বাজিয়ে চলেছে সরকার। তাতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের কিংবা বিদ্রোহী বর্বরতার শিকার যেসব সেনাপরিবার, তাদের মনের ক্ষত শুকাবে কি?

সেনাশহীদদের রক্তবন্যাসিক্ত ওই কালো দিবসটিকে স্মরণ করতে এ নিয়ে সাম্প্রতিক ও অতীতের কিছু সংবেদনশীল সুচিন্তিত মন্তব্য উদ্ধৃত করব। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশী পঞ্চদশী ফেলানীর ঝুলন্ত লাশকে উপলক্ষ করে প্রবাসী বাংলাদেশী সংবাদভাষ্যকার মনজুর আহমদ ২৩ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে নিউইয়র্ক থেকে লিখেছেন : ‘সীমান্তে ভারত নানা ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত, যেগুলো সরাসরি বাংলাদেশের স্বার্থে আঘাত হানছে। বিডিআর বরাবরই বিএসএফ’র এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতিহত করেছে। শেখ হাসিনার বিগত শাসনামলে সীমান্তে এক বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএসএফ এবং বিডিআর। এতে বিএসএফ’র ভূমিকা ছিল আক্রমণকারীর এবং তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে অবস্খান নেয়। বিডিআর সাহসিকতার সাথে তাদের প্রতিরোধ করে এবং তাদের প্রতিরোধে বিএসএফ’র বহু জওয়ান নিহত হয়।

বাংলাদেশের কাছ থেকে এত বড় আঘাত ভারত কখনোই মেনে নিতে পারেনি। সীমান্তে তারা তাদের বৈরী তৎপরতা জোরদার করেছে। নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা, তাদের অপহরণ-নির্যাতনে তারা মেতে উঠেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্খা অধিকারের হিসাব মতে, সীমান্তে বিএসএফ প্রতি চার দিনে গড়ে একটি করে বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এরই পাশাপাশি তারা সুযোগ খুঁজেছে প্রতিপক্ষ বিডিআরকে ঘায়েল করার। সে লক্ষ্য তাদের অর্জিত হয়েছে। নানা চক্রান্তের পাঁকে-চক্রে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বিডিআর’র অস্তিত্ব আজ বিলুপ্ত। বিডিআর’র বদলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এবং নিয়তির পরিহাস এটাই যে, এ বর্ডার গার্ড গঠনে বুদ্ধি-পরামর্শ নেয়া হচ্ছে ভারতের কাছ থেকে। তাদের প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দেবে বিএসএফ।

তাহলে এই বর্ডার গার্ডের কাজ কী হবে? তাদের দায়িত্বই বা কী হবে, ভূমিকাই বা কী হবে? বিএসএফ’র কাছে প্রশিক্ষণ নেয়া এবং ভারতের মদদে গঠন করা বর্ডার গার্ডের পক্ষে কি সেই ভূমিকা পালন কখনোই সম্ভব হবে? বাস্তবতা এটাই যে, প্রশিক্ষক বিএসএফ’র কাছে অধীনস্খ বশংবদ হিসেবে বর্ডার গার্ডকে নতজানু হয়েই থাকতে হবে। এ যদি হয় অবস্খা তাহলে বর্ডার গার্ড গঠনের দরকারইবা কী? বিডিআর ম্যাসাকারের পর অনেক দিন পর্যন্ত তো সীমান্তে বাংলাদেশের কোনো প্রহরা ছিল না। অরক্ষিত সীমান্ত তখন নাকি এককভাবে সামাল দিয়েছে বিএসএফ। সামাল দিয়েছে এবং সঙ্গতভাবেই বলা যায় সীমান্তে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। যার পরিণতিতে আজ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে তাদের বেপরোয়া অনুপ্রবেশ।

জার্মানিতে গবেষণারত প্রাবসী বাংলাদেশী মোকাররম হোসেন সংকলিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরবর্তী কিছু ‘টুকরো খবর’ নিহাল পাবলিকেশন কর্তৃক ২০০৯ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছিল। তার কিয়দংশ উদ্ধৃত করছি : বিডিআর সদর দফতরে নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আবদুল বারী, কর্নেল মুজিবুল হক, কর্নেল মো: আনিসুজ্জামান, কর্নেল জাহিদ, লে: কর্নেল আবু মুসা মো: কায়সার, লে. কর্নেল এনায়েত এবং মেজর মিজানের জানাজা বাদ আসর ঢাকা সেনানিবাসের সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এবং নিহত সেনাকর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন অংশ নেন। এ ঘটনায় রাজনীতিবিদদের ভূমিকার সমালোচনা করে কয়েকজন তাদের সামনের সারিতে রেখে জানাজা পড়তে অস্বীকৃতি জানান। সাবেক সেনাকর্মকর্তারা তাদের কাছে এই প্রশ্ন রাখেন, কেন সেনাবাহিনীকে পিলখানায় সময়মতো ঢুকতে দেয়া হলো না। কেন বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের পালানোর সুযোগ দেয়া হলো। তারা এমনও বলেন, সরকারের এসব লোকজনকে জানাজায় অংশ নিতে দিয়ে আমরা আমাদের সহকর্মীদের লাশের অমর্যাদা হতে দেবো না। কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্যই যেন মিডিয়া সেখানে হাজির হয়েছিল। এসব ঘটনায় জানাজা কিছুটা বিলম্বিত হয়। আসরের নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্খিত হন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক। এ সময় কয়েকজনের আপত্তির মুখে তারা পেছনের সারিতে চলে যান।

“২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ভারতের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন আউটলুকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্খা ‘র’-এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন বাংলাদেশের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে এক নিবন্ধ লিখেছেন। ওই নিবন্ধে তিনি বাংলাদেশ রাইফেলসকে একটি ভয়ানক বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।”

২০০৯ সালের মে মাসে প্রকাশিত ‘রক্তাক্ত পিলখানা’ পুস্তিকায় লন্ডনভিত্তিক একটি সাপ্তাহিকের প্রধান সম্পাদক ও কমিউনিটি নেতা আবু তাহের চৌধুরী লিখেছেন : “পৃথিবীর ইতিহাসের এক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল পিলখানায়। বিদ্রোহী বিডিআর সদস্য ও তাদের দোসরদের হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল, মেজর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল র‌্যাংকের বাঘা বাঘা অফিসারকে। পৈশাচিক কায়দায় তাদের হত্যা করে ম্যানহোল, ড্রেন আর গণকবরে চাপা দেয়া হয়। কোনো কোনো লাশকে পুড়িয়ে পর্যন্ত ফেলা হয়। বাংলাদেশ রাইফেলসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমদকে স্ত্রীসহ হত্যা করা হলো নৃশংসভাবে।”

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক আমানুল্লাহ কবির ওই সালের মার্চ মাসে লিখেছিলেন : “২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের পর ১ মার্চ সেনাকুঞ্জের দরবার হলে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষুব্ধ সেনা অফিসারদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে সময়মতো সেনাবাহিনীকে বিডিআর হেডকোয়ার্টারে অপারেশন করতে দিলে তাদের অনেক অফিসার বেঁচে যেতেন। কিন্তু সেনাবাহিনীকে অপারেশন করতে দেয়া হলো না কেন? এমন প্রশ্নও উথাপন করা হয়, ‘সর্বোচ্চ আসনে থেকে যদি আপনি কাউকে সাহায্য করতে না পারেন, তাহলে এই ইনস্টিটিউশনের দরকার কী? এই দেশ অন্য কাউকে লিজ দিয়ে দিন।’ (ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগের) ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া মন্তব্য এবং অডিওতে এ ধরনের আরো বহু প্রশ্নেরই উল্লেখ করা হয়েছে।

“বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে দেশী-বিদেশী যে শক্তিই কাজ করুক না কেন, সময়মতো বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব এককভাবে সরকারকেই নিতে হবে।”
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুদ্দিন আহমেদ একই সময়ে লিখেছেন : “২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ, যার ফলে ওই এক দিন ৬০ থেকে ৬৫ জন খুবই চৌকস, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় সেনা অফিসারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তা এই দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে সংঘটিত বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরই একটি বড় দুর্ঘটনা। হত্যাকারী বিডিআর বিদ্রোহীরা সেনা কর্মকর্তাদের পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় শুধু যে হত্যা করেছে তা নয়, তারা সেনা কর্মকর্তাদের বাড়িতে ঢুকে বেশ কিছু কর্মকর্তার স্ত্রীদের লাঞ্ছিত করে ও পরে হত্যা করে। বাড়িঘর থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও সোনার অলঙ্কার লুটপাট করে। মৃতদেহগুলো ভূগর্ভস্খ পয়:নালীর মধ্যে ফেলে দেয় এবং গণকবরের আকৃতিতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড কোনো আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা করতে পারে তা কল্পনার অতীত। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিরাট ষড়যন্ত্র আছে বলেই প্রতীয়মান হয়। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ছিল অবশ্যই সেনাবা

“বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনানো হয়েছে। এটা এমনিতেই ঘটেনি। যে ইস্যুগুলোকে ফলাও করে বিদ্রোহের কারণ হিসেবে বিদ্রোহের দিন মিডিয়াতে তুলে ধরা হয়েছিল তা যদি সত্য হতো তাহলে এ বিদ্রোহ অনেক আগেই হতে পারত। এই বিদ্রোহের সাথে ১৯৭৫ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোর মিল রয়েছে। তখনো সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের দোহাই দিয়ে।
“এ সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা (শত্রু পক্ষের) সহযোগীরা এ ব্যাপারে বিডিআর বিদ্রোহের আসল নায়কদের সহায়তা করেছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।”

আর তৎকালীন সেনানেতৃত্বের চরিত্রবল নিয়েও প্রকারান্তরে প্রশ্ন উথাপন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মঞ্জুর রশিদ খান। লিখেছেন : “বিডিআর সদর দফতরে নিরাপত্তার বড় ধরনের ঘাটতি ছিল বা ষড়যন্ত্রকারীদের কেউ কৌশলে ঘাটতি সৃষ্টি করেছিল, এমন অসতর্কতা তো অকল্পনীয়। তাদের নিজস্ব একাধিক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্খা না থাকার তো কথা নয়। আরো বড় ঘাটতি ছিল গোয়েন্দা খবরদারির। বিডিআর’র নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট ছাড়া জাতীয় স্তরের গোয়েন্দা সংস্খাগুলোর চরম ব্যর্থতা এখন আর রাখঢাকের বিষয় নয়। এ পর্যন্ত যা জানা যায় তা খুবই মর্মান্তিক। প্রাথমিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিক দ্রুত কোনো ছোট ফোর্স নিয়ে এগিয়ে এলে সুফল প্রায় নিশ্চিত। শোনা যায়, র‌্যাব থেকে সদ্য বিডিআরে বদলি হওয়া কর্নেল গুলজার তার র‌্যাবের সহকর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন, তাদের সাহায্যে দু’টি বা তিনটি প্লাটুন পাঠালেই যথেষ্ট। সে সাহায্য তিনি পাননি। এর চেয়ে নির্মম দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?

“যুদ্ধ পরিস্খিতি মোকাবেলার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে সেনাবাহিনীকেই অগ্রণী ভূমিকায় থাকতে হয়। এখানে বহিরাক্রমণের মতো যুদ্ধ পরিস্খিতি না হলেও সেনাবাহিনীকেই মূল ভূমিকায় রাখার বিকল্প নেই। জানি না, রাজনৈতিক বা আইনি জটিলতার বিবেচনায় সেনাবাহিনীর কোনো দলকে দ্রুত পাঠানোয় কোনো বাধা ছিল কি না। আশা করি তদন্তে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।”

সে বিষয়ে তদন্তের কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি, আলোকপাত হয়নি। আর সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বুঝে বা না বুঝে এখনো সামরিক স্পর্শকাতরতার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে চলেছে। খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী সামরিক শিক্ষাপ্রাপ্ত নবীনদের গত মাসে একটি প্যারেডে বলেছেন, তিনি পিলখানার বিদ্রোহীদের সাথে আলোচনায় না বসলে ওই দিন সারা দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যেত। আর সামরিক কমান্ডারদের একটা বৈঠকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেছেন : “কর্মকর্তা ও সৈনিকেদের সম্পর্কের মধ্যে এখনো অনেক ব্যবধান রয়েছে, যা কমিয়ে আনতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মধ্যে যেন বৈষম্যের সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29334036 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29334036 2011-02-25 20:18:56
পৌরসভা নির্বাচন : আ.লীগের প্রার্থীর দাপটে প্রশাসন অসহায় :শুধু দেশের প্রশাসন নয় । সারা দেশ অসহায় ....!!!!
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী ওয়ারেস আলী মামুনের অভিযোগ, সরকারি দলের প্রার্থীর কাছে স্থানীয় প্রশাসনও অসহায়। তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের সময় বাধা দিতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তারা ধাওয়া খেয়েও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

শুধু তা-ই নয়, শহরের পুলিশ বক্স দখল করে নির্বাচনী কার্যালয় বানিয়েছেন আমানউল্লাহ। আর এতে সহযোগিতা করেছেন আমানউল্লাহর বড় ভাই সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শফি উল্লাহ। তিনি ময়মনসিংহের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এএসপি। ভাইয়ের নির্বাচনী কার্যক্রম তদারক করতে তিনি জামালপুরে তৎপরতা চালাচ্ছেন। ৮ জানুয়ারি রাতে বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র ওয়ারেস আলী মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনায়ও তিনি তদারকিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবশ্য আমানউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট ভাইয়ের নির্বাচনে বড় ভাই আসতেই পারেন।’ ৮ জানুয়ারিও তাঁর ভাই বেশ কিছু এলাকায় তাঁর পক্ষে কাজ করেছেন বলে তিনি জানান।

পুলিশ কর্মকর্তার এ তৎপরতা নিয়ে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর গত দুই দিন অবশ্য তাঁকে শহরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। তবে শহরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার একটি বড় বিপণিবিতান ও একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানে বসে তিনি প্রতি রাতেই নির্বাচনী কাজের তদারক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর: স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ৮ জানুয়ারি আমানউল্লাহর সমর্থকেরা শহরের দেওয়ানপাড়া মোড়ে বিএনপির প্রার্থী ওয়ারেস আলীর নির্বাচনী কার্যালয় ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উপস্থিতিতেই আমানউল্লাহর কর্মীরা ওয়ারেস আলীর কর্মীদের মারধর করতে থাকে। পুলিশ বাধা দিলে আক্রমণকারীরা পুলিশকে ধাওয়া করে এবং তাদের গাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কোথাও বিশৃঙ্খলা থামাতে গেলে এমন হতেই পারে।’ ওই ঘটনায় পুলিশের কেউ আহত হননি বলে তিনি দাবি করেন।

ওই হামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে আমানউল্লাহ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, বিএনপির প্রার্থীর ওপর ক্ষুব্ধ লোকজন ওই কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। এতে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত ছিল না।

নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন: সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের রেলগেট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্স দখল করে তার সামনে শামিয়ানা টানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় বানানো হয়েছে। পুলিশ বক্সে ঢোকার মুখে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয়’ লেখা ব্যানার। চারদিকে নির্বাচনী পোস্টার দিয়ে ছেয়ে দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য আমানউল্লাহ দাবি করেন, তিনি পুলিশ বক্স দখল করেননি। বক্সের সামনে শামিয়ানা টানিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাত্র।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, পাঁচটির বেশি নির্বাচনী কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই। কিন্তু আমানউল্লাহ ২০টির বেশি কার্যালয় খুলেছেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচটির বেশি কার্যালয় এবং সরকারি স্থাপনায় কার্যালয় করার সুযোগ নেই। কিন্তু এমনটা জামালপুরে ঘটেছে, তাঁর কাছে এমন অভিযোগ নেই। তার পরও তিনি বিষয়টি আজ রোববার তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।

সেনা দাবি: এমন পরিস্থিতিতে জামালপুরে ১৭ জানুয়ারি সুষ্ঠু ভোট হবে কি না, তা নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। নাগরিক সমাজের অনেকে অভিযোগ করেন, এখানে সরকারি দলের লোকজন আর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অনেকটা একাকার হয়ে গেছে। আমানউল্লাহ ক্ষমতাসীন দলের জেলা কমিটির সহসভাপতি। দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন পাওয়ার পর গত ১৬ ডিসেম্বর আমানউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা জামালপুর শহরে মিছিল করেন। এর পরই প্রশাসন আমানউল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিএনপির প্রার্থী ওয়ারেস আলী অভিযোগ করেন, ‘সরকারদলীয় প্রার্থীর বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও আমার নির্বাচনী প্রচারকেন্দ্রে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। জামালপুরে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এখন আর নিরাপদ নন। তাই এখন তাঁদের কাছেও বিচার প্রত্যাশা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ তিনি দ্রুত জামালপুরে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। এ ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।
স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে ভয় পান। অনেকেই বলেছেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা না হলে এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান কঠিন হবে।

শহরের তিরোধা সত্যপীর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারি দল পেশিশক্তি ও প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে ভোটের ফল পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত। পৌরসভায় ক্ষমতার হাতবদল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

জামালপুর পৌরসভায় মেয়র পদে চারজন প্রার্থী, তবে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন আওয়ামী লীগের আমানউল্লাহ ও বিএনপির ওয়ারেস আলী মামুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29308490 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29308490 2011-01-16 14:31:37
কি চমৎকার দেখা গেল!!!!!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29291798 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29291798 2010-12-18 13:10:22
প্রধানমন্ত্রী কি হরতাল চান?
এই প্রশ্নের উত্তর, ‘না।’ শেখ হাসিনা চান না যে দেশে হরতাল হোক। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ঘোষণাও দিয়েছিলেন যে বিরোধী দলে গেলেও তিনি আর কোনো দিন হরতাল ডাকবেন না। অবশ্য তিনি তাঁর কথা রাখতে পারেননি। আর খালেদা জিয়ার হরতালবিরোধী কথামালা একত্র করলে একটা মহাকাব্য হয়ে যাবে। অবশ্য খালেদা জিয়া তখনই হরতালবিরোধী, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী।

এখন দুটো প্রশ্ন চলে আসবে। এক. দেশের মানুষ কি হরতাল চায়? দুই. হরতাল কি দেশের জন্য উপকারী?

এই দুটো প্রশ্নের উত্তর বিএনপি আর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকদের লেটারহেড প্যাডের পাতায় প্রস্তুত করে রাখা আছে। বিরোধী দলের বিবৃতিতে লেখা আছে, দেশের মানুষ শুধু হরতাল চায় তা-ই নয়, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল সমর্থন করেছে, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে হরতালে অংশ নিয়েছে। আর সরকারি দলের রেডিমেড বিবৃতিটা হলো, দেশের মানুষ হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। উভয় দলের কথা পরস্পরবিরোধী হতে পারে, কিন্তু একটা বিষয়ে জনগণের আমোদিত বোধ করা উচিত, উভয় দলই জনগণকে হরতাল পালন করার জন্য বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। এই যে আমরা আজ সন্ধ্যায় পরস্পরবিরোধী দুটো দলের কাছ থেকে অভিনন্দন পাব, এটা কি আমাদের জন্য পরম পাওয়া নয়?

আর হরতাল কি দেশের মানুষের জন্য উপকারী? এই প্রশ্নের উত্তরও তৈরি করা আছে। সরকার বলবে, হরতাল দেশের স্বার্থবিরোধী, অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর, আর জোর করে হরতাল করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। বিরোধীরা বলবে, এই জালিম সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মানেই দেশের উন্নতি, মানুষের উন্নতি, অর্থনীতির উন্নতি নিশ্চিত করার পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া। দেশের মানুষ অতিষ্ঠ, তাকে খানিক তিষ্ঠোতে তো দিতে হবে। তাই এই হরতাল। হরতালই এখন দেশপ্রেমিকের একমাত্র কর্তব্য।

কিন্তু একবার ঠান্ডা মাথায় কি আমাদের ভাবতে হবে না যে আমরা দেশটাকে আদৌ মানুষের বসবাস-উপযোগী রাখতে চাই কি না? পৃথিবীর সব দেশ এগিয়ে যাবে, আমরা কি চিরটাকাল গরিব দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত দেশ, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ, জলবায়ুর কবলে পড়া দেশ, আর্সেনিকদূষিত দেশ হিসেবে পেছনে পড়ে রইব? ১৯৪৭ সালে সিঙ্গাপুর, চীন আমাদের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনেক পেছনে পড়া দেশ হিসেবে গণ্য হতো। মালয়েশিয়া সেই দিনও ছিল আমাদের চেয়ে অনুন্নত দেশ। এখন তারা কোথায় আর আমরা কোথায়?

পৃথিবীর সব দেশে সমস্যা আছে। আছে জাতিগত দ্বন্দ্ব। আছে আঞ্চলিক সমস্যা। পাকিস্তানে রোজ বোমা ফাটছে। গতকালের খবরেও দেখলাম, করাচিতে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। ভারতের একাধিক রাজ্যে রয়েছে আঞ্চলিক অসন্তোষ, আছে উগ্রবাদীদের সশস্ত্র তৎপরতা। শ্রীলঙ্কায় তো সেদিনও চলছিল যুদ্ধাবস্থা। বাংলাদেশে এ ধরনের সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত। এত সুন্দর একটা দেশ আমরা পেয়েছি, এত শান্তিবাদী একটা জনগোষ্ঠী, এত সৃজনশীল উৎপাদনশীল পরিশ্রমী একটা জনগোষ্ঠী, এই দেশের উন্নতি ঠেকিয়ে রাখা খুব মুশকিল। অন্যদিকে আমাদের বাস্তবতাও কঠিন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যদি সত্যি সত্যি দেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যায়, কী হবে? ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যে কী আছে আসলে? কী হবে আমাদের সন্তানদের? আমাদের উত্তর-প্রজন্ম কি এই দেশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে? নাকি সবাইকে পালাতে হবে এই দেশ ছেড়ে?

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তায় বাবা-মা ঘুমুতে পারেন না। তাহলে ১৬ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ যাঁদের হাতে, তাঁরা কী করে ঘুমান? এখন প্রতিটা মুহূর্ত খুব মূল্যবান। অপচয় করার মতো একটা মুহূর্তও আমাদের হাতে নেই।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই হরতালকে বিবেচনা করা দরকার। সত্য বটে, আমাদের দেশের জন্মই হয়েছে হরতালের মধ্য দিয়ে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী ১৯১৯ সালে হরতাল ডেকেছিলেন। গান্ধী ছিলেন অহিংসবাদী, দাবি আদায়ের জন্য হিংসার আশ্রয় নেওয়ার ঘোর বিরোধী, কিন্তু ওই হরতালে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয়র মৃত্যু আর এক হাজার ১০০ জনের আহত হওয়া তাঁকে বিচলিত করে। তিনি হরতাল প্রত্যাহার করে নেন। পাকিস্তান আমলে ১৯৪৮ সাল থেকেই রাষ্ট্রভাষার দাবিতে এ দেশে মিছিল-ধর্মঘট আর হরতাল শুরু হয়ে যায়। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান আর ১৯৭১ সালের মার্চজুড়েই ছিল হরতাল। দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু গণতন্ত্র তো এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল না। সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে হরতাল করতে হয়েছে বারবার। ১৯৯০-এর পরেও সেই জের আর কাটল না। আমরা হরতাল করেই চলেছি।

আবার হরতালের মধ্যেও টিকে থাকার একটা আশ্চর্য শক্তিও এ দেশের মানুষ অর্জন করেছে। ১৯৯৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি যখন একা একা একটা নির্বাচন করে একাই ক্ষমতায় বসল, তখন এ দেশে একবার অনেক দিনের জন্য বিরতিহীন হরতাল ডাকা হয়েছিল। সেই হরতালের সময়েও দেশের অর্থনীতি পুরো ভেঙে পড়েনি। এর কারণ, এই দেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। হরতালে কৃষির ওপরে প্রভাব পড়ে কম। আজকালকার হরতালে অফিস-আদালত খোলা থাকে, বাইরের দরজা বন্ধ রেখে বেশির ভাগ কলকারখানাও আসলে চালুই থাকে। আর ওই সময় ডেইলি স্টার একটা খবর প্রকাশ করেছিল, বাজারে জিনিসপত্রের সরবরাহ অব্যাহত রাখে আসলে আমাদের নদীপথ। হরতালে যা বন্ধ থাকে তা হলো দূরপাল্লার বাস-ট্রাক আর বিপণিবিতান। যদিও কাঁচা বাজার, খাবারের দোকান চালু থাকে।

কিন্তু কয়েক ধরনের ক্ষতি হরতালে হয়ই। এক. মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। কত জরুরি কাজ থাকে মানুষের। যিনি বিদেশে যাবেন, হরতালের মধ্যেও সেই শ্রমজীবী মানুষটাকে কুমিল্লা কিংবা দিনাজপুর থেকে ঢাকায় বিমানবন্দরে আসতেই হবে। কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে, গরিব মানুষ, অ্যাম্বুলেন্স পাবে কোথায়? ট্রেন চলছে, যাত্রীরা ট্রেনে উঠেছেন, দুই স্টেশন যাওয়ার পরে শোনা গেল আর যাবে না ট্রেন, ওই যাত্রীদের কষ্টটা কত ভয়াবহই না হয়! অন্যদিকে দোকানপাট খোলা থাকে না বলে কেনাকাটা বন্ধ থাকে। অর্থনীতিতে তার প্রভাব বিরূপ হতে বাধ্য। আর পণ্য চলাচল ভীষণভাবে ব্যাহত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে রপ্তানিমুখী পণ্য যেমন যেতে পারে না, তেমনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিভিন্ন পণ্যের জরুরি চালানও থমকে যায়। যার দোকান এক দিন বন্ধ থাকে, যে ট্যাক্সিচালক তাঁর গাড়ি বের করতে পারছেন না বলে উপোস থাকেন, তাঁর কষ্টটা লাঘব হবে কিসের বিনিময়ে?

আর আছে রাস্তায় মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। মিছিল বের হবেই, পুলিশ বাধা দেবেই, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি দলের ক্যাডাররাও বের হয়ে পড়ে সজ্জিত হয়ে। জানমালের ক্ষতি হয়। আগুনে ভস্মীভূত হয় দেশের সম্পদ। এসব দেখলে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়।

আমরা যে ভীষণভাবে চাই দেশটা উন্নত হোক। আমরা যে ভীষণভাবে চাই, উন্নতির দৌড়ে আমরা এগিয়ে যাই। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ দৌড়াচ্ছে উন্নয়নের লক্ষ্যবিন্দুর দিকে, আমরাও দৌড়াচ্ছি। কে চায় না, বাংলাদেশ সেই দৌড়ে জয়লাভ করুক। বাংলাদেশ যখন ক্রিকেট খেলায় অন্য দেশকে হারিয়ে দেয়, তখন কে আছেন এই দেশে যিনি খুশি হন না! এই তো এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল। শেষ দৌড়টা যখন নাঈম আর সাব্বির দৌড়াচ্ছিলেন, তখন কি কোনো বাঙালি তাঁদের পায়ে বাধার বেড়ি পরাতে চাইবেন? চাইবেন যে তাঁরা হোঁচট খেয়ে পড়ে যান? তাহলে উন্নয়নের দৌড়ে এই দেশটাকে আমরা কেন বাধা দেব? হরতাল হলো সেই বাধা, যা আমার দেশকে দৌড়াতে দেয় না।

এটা আমরা সবাই বুঝি। আমাদের নেতারাও বোঝেন। তবু কেন তাঁরা হরতাল ডাকেন? একটা কারণ হলো, হরতাল ডাকতে পয়সা লাগে না। শ্রম দিতে হয় না। আগে তো তবু প্রেস বিজ্ঞপ্তি লিখে সংবাদপত্র অফিসে পৌঁছে দিতে হতো, (যখন সেন্সরশিপের কারণে দেশি সংবাদমাধ্যম হরতালের খবর প্রকাশ করতে পারত না, তখন বিবিসির কানে খবরটা পৌঁছাতে হতো।) এখন তারও দরকার পড়ে না। সাংবাদিকেরাই ক্যামেরা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে হাজির থাকেন। হরতাল ডাকলেই হলো। নিশ্চিত তা পালিত হবে।

কিন্তু আরেকটা প্রশ্ন এ প্রসঙ্গে এসে যায়। এ লেখার শিরোনামই তাই। প্রধানমন্ত্রীও কি চান হরতাল আসুক? সরকার চায়? সরকারি দল চায়? নিশ্চয়ই না।

সে ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, হরতাল যাতে না আসে, তার জন্য সরকারকেই অধিকতর দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণ ভোট দিয়ে যাঁদের সরকারে বসিয়েছে, তাঁদের কর্তব্য হলো জনজীবন স্বাভাবিক রাখা, মানুষের জীবনে চলাচলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরাপত্তা বিধান করা। সরকার অবশ্য সেই কাজটা করতে চায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ নামিয়ে, অনেক সময় সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামিয়ে। কিন্তু ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১, ১৯৭১ থেকে ২০১০—আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, শক্তি প্রয়োগ করে বিরোধী আন্দোলন দমন করা যায় না।

হরতাল যাতে না হয়, সেই পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। সেটা করতে হবে কৌশল দিয়ে। আর সেই কৌশলটা হলো বিরোধী দলকে একটা পরিসর দেওয়া, শ্বাস নিতে দেওয়া।

আমরা জানি, আওয়ামী লীগের এ কথা বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের নীরব সায় ছিল, অন্তত তিনি ব্যাপারটা অবগত ছিলেন। আমরা জানি, ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় বোমা হামলার পেছনে বিএনপি সরকারের লোকজন জড়িত ছিল বলে ভাবার যথেষ্ট উপাদান আওয়ামী লীগের কাছে আছে। এরপর এই দুই দল একসঙ্গে মিলেমিশে দেশ চালাবে—এ কথা বলাটা প্রকৃতপক্ষেই অরণ্যে রোদন।

কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, তিনি হরতাল চান কি না? তিনি দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট-ভোগান্তি চান কি না? যদি এর উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে অবশ্যই তাঁকে কৌশলী হতে হবে। বিরোধী দলের হাতে হরতালের উপলক্ষ তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিরোধী দলের বিরোধিতার অস্ত্রগুলোকে নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে। নেলসন ম্যান্ডেলা যদি তাঁর নির্যাতনকারীর সঙ্গে বসতে পারেন, ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিরা যদি আলোচনায় বসতে পারে, তাহলে বিএনপি আওয়ামী লীগকেও একটা ন্যূনতম সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। হরতালে বাধা দিলে আরও কর্মসূচি আসবে। সব আন্দোলন প্রথম দিকে ছোটই থাকে, আস্তে আস্তে তা বড় হয়। হরতাল করে সরকার পরিবর্তন করা যায় না বটে, কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিতে হলে হরতালবিহীন বাংলাদেশ দরকার হবে। আর সরকারি দল যদি মনে করে, বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যাবে, সেটাও ভুল হবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত মেয়াদে বিএনপি তাই ভেবেছিল, তাই করতে চেয়েছিল, তার পরিণতি হয়েছে; এবার আওয়ামী লীগ তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। মাত্র দুই বছরে বারাক ওবামা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির শিকার হয়েছেন।

কাজেই আসুন, আমরা সবাই বলি, আমরা হরতাল চাই না। বিরোধী দল, আপনারা হরতাল ডাকবেন না। সরকারি দল, আপনারা এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, যাতে বিরোধী দল হরতাল ডাকার অজুহাত খুঁজে না পায়। বিরোধী দল যাতে হরতাল না ডাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারকেই নিতে হবে।

তা যদি না হয়, তাহলে বলতেই হবে, এই দেশের ভবিষ্যৎ আমরা নিজেরা গভীর অন্ধকারের দিকে নিজ হাতে ছুড়ে মারছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29284981 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29284981 2010-12-06 23:26:10
অ্যাটর্নি জেনারেল কীভাবে জানলেন খায়রুল হক প্রধান উপদেষ্টা হবেন? অ্যাটর্নি জেনারেল কীভাবে জানলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকই পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হবেন? বর্তমান প্রধান বিচারপতি অবসরে যাবেন আগামী মে মাসে। তার পরের অবস্থানে রয়েছেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান। তিনি অবসরে যাবেন আগামী ডিসেম্বর মাসে। নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান প্রধান বিচারপতি হলে তিনিই হবেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল আগে থেকেই বলে দিলেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রথিতযশা এ আইনজীবী আরও বলেন, অতীতে অ্যাটর্নি জেনারেল এসেছেন এবং গেছেন; কিন্তু বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা বিচার বিভাগের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তার কথা ও আচরণে মনে হচ্ছে তিনিই প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করে থাকেন। কে প্রধান বিচারপতি হবেন আর কে হবেন না এটা ঠিক করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিচার বিভাগের জন্য এটা অশনি সংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের এ ধরনের ন্যক্কারজনক ভূমিকা আমার দীর্ঘ ওকালতি জীবনে আর দেখিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যাতে আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা না হতে পারেন, সেজন্যই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা তাকে নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেগম খালেদা জিয়া তার সেনানিবাসের বাড়ি ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে অনেক কিছুই সম্ভব। এখনও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সরকার আদালত ও বিচার বিভাগকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তাদের নেতাদের নামে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা বাতিল করছে। এটা বিচার বিভাগ ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বর্তমানে আদালতের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, আদালত সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের অবস্থান এমনিতেই অনেক নিচে নেমে গেছে। এটাকে আর নিচে নামাতে চাই না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29282519 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29282519 2010-12-02 22:43:13
অ্যাটর্নি জেনারেল কীভাবে জানলেন খায়রুল হক প্রধান উপদেষ্টা হবেন? অ্যাটর্নি জেনারেল কীভাবে জানলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকই পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হবেন? বর্তমান প্রধান বিচারপতি অবসরে যাবেন আগামী মে মাসে। তার পরের অবস্থানে রয়েছেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান। তিনি অবসরে যাবেন আগামী ডিসেম্বর মাসে। নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান প্রধান বিচারপতি হলে তিনিই হবেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল আগে থেকেই বলে দিলেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রথিতযশা এ আইনজীবী আরও বলেন, অতীতে অ্যাটর্নি জেনারেল এসেছেন এবং গেছেন; কিন্তু বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা বিচার বিভাগের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তার কথা ও আচরণে মনে হচ্ছে তিনিই প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করে থাকেন। কে প্রধান বিচারপতি হবেন আর কে হবেন না এটা ঠিক করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিচার বিভাগের জন্য এটা অশনি সংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের এ ধরনের ন্যক্কারজনক ভূমিকা আমার দীর্ঘ ওকালতি জীবনে আর দেখিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যাতে আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা না হতে পারেন, সেজন্যই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা তাকে নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেগম খালেদা জিয়া তার সেনানিবাসের বাড়ি ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে অনেক কিছুই সম্ভব। এখনও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সরকার আদালত ও বিচার বিভাগকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তাদের নেতাদের নামে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা বাতিল করছে। এটা বিচার বিভাগ ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বর্তমানে আদালতের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, আদালত সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের অবস্থান এমনিতেই অনেক নিচে নেমে গেছে। এটাকে আর নিচে নামাতে চাই না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29282516 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29282516 2010-12-02 22:40:18
সরকার খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করায় দেশ ভয়াবহ সংঘাতের দিকে যাচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির সর্বাত্মক আন্দোলনের হুমকি যৌক্তিক বলে মনে করেন কি?
ভোট দিয়েছেন ২৪৫৫ জন| হ্যাঁ (১৪৪৭), না (৯৮৩), মন্তব্য নেই (২৫)
হ্যাঁ ৫৮.৯৪% না ৪০.০৪% মন্তব্য নেই ১.০২%

অনলাইন জরিপ ফলাফল: [ ২০১০-১১-১৫ - ২০১০-১১-১৯]
সরকার খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করায় দেশ ভয়াবহ সংঘাতের দিকে যাচ্ছে—মওদুদ আহমদের এ বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
ভোট দিয়েছেন ৬৪২৮ জন| হ্যাঁ (৩৫৭৬), না (২৭৮৩), মন্তব্য নেই (৬৯)
হ্যাঁ ৫৫.৬৩% না ৪৩.২৯% মন্তব্য নেই ১.০৭%]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29276765 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29276765 2010-11-23 22:36:31
সরকারের সত্যাচার
পুরোনো বাড়িঘর ছেড়ে নতুন কোনো বাড়িতে যাওয়ার মধ্যে একটা আনন্দ রয়েছে। বেগম জিয়া এবার নতুন বাড়িতে ঈদ করবেন। এটা বিশ্বায়নের যুগ। আমাদের পৃথিবীর নতুন নাম হয়েছে গ্লোবাল ভিলেজ—বৈশ্বিক গ্রাম। তাঁর দুই ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিরা ঈদ করবেন দুই ভিনদেশে। সুতরাং এবার তাঁর আনন্দের শেষ নেই।

আমাদের দেশের উন্নততর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক দলের নেতা অন্য দলের নেতাকে কোনো কারণেই ধন্যবাদ জানান না। এমনকি যদি কেউ মাঘ মাসে অক্সিজেন ছাড়া হিমালয়ের চূড়ায় ওঠেন অথবা ডিঙি নৌকায় আটলান্টিক পাড়ি দেন, তবু তাঁকে তাঁর প্রতিপক্ষ অভিনন্দন জানাবেন না। কিন্তু আনন্দের সঙ্গে পুরোনো বাড়ি ছেড়ে নতুন ঠিকানায় চলে যাওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সরকারি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ এক নজিরহীন নম্র ও উদার আচরণ। খামাকা ধন্যবাদ জানানো হয়নি। ধন্যবাদ তিনি পেয়েছেন ‘সামরিক ভূসম্পত্তি বিভাগের সিদ্ধান্ত এবং আদালতের রায়ে সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ায়।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) খালেদা জিয়াকে খোশ আমদেদ জানিয়েছেন, ‘বাড়ি ছেড়ে দিয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন’ বলে। অর্থাৎ গৃহত্যাগের প্রথম দিন বেগম জিয়ার ওপর নানা দিক থেকে অভিনন্দন বর্ষিত হয়।

শ্লেষ, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ব্যাপারগুলো কথাশিল্পী ও কলাম লেখক যখন করেন, তখন মানুষ কিছু মনে করে না। বরং উপভোগ করে। হাসে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন ব্যক্তিকে নিয়ে রগড় করে, তখন তা কিছু লোক উপভোগ করলেও দেশের কোটি কোটি মানুষের তাতে গা জ্বালা করে। সরকার কার গলায় মালা পরাবে আর কার গলায় সজোরে ধাক্কা দেবে, তা সরকারের এখতিয়ার ও অভিরুচি। কিন্তু রাষ্ট্র ও সরকার যখন কাউকে নিয়ে রগড় করে, তখন তা মানুষের ব্রহ্মতালুতে গিয়ে আঘাত করে।

প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাই হোন আর কোনো বিভাগের জনসংযোগের কর্মকর্তাই হোন, তাঁরা যে মজুরি-ভাতা পান, যা দিয়ে তাঁরা পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করেন, সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পাঠান বা চিরকালের জন্য আমেরিকায় পাঠান, তা শুধু আওয়ামী লীগের ভোটাররা দেন না। বেগম জিয়ার সমর্থকেরাও দেন। চাকরির মেয়াদ শেষে যে পেনশন মৃত্যুর পরবর্তী পাঁচ বছর তার পরিবার পায়, সেটাও কোনো দলের তহবিল থেকে দেওয়া হয় না। দেশের মানুষ দেয়। সাংবাদিকদের সামনে দলের নেতারা নোংরা ভাষায় কথা বলতে পাবেন, তাঁর দায়িত্ব তাঁর, কিন্তু কর্মচারীদের সে অধিকার নেই।

গৃহত্যাগের পর রাতটি না পোহাতেই তাঁকে যে মোবারকবাদ জানানো হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়। খালেদা জিয়া ‘সেজেগুজে’, ‘অকথ্য ভাষায়’, ‘সেনাবাহিনীকে গালিগালাজ’ করেছেন, তা এক কর্মচারীর মুখে শোনা গেল। যাঁরা তাঁকে সসম্ভ্রমে গাড়িতে তুলে দিয়ে ‘বাই বাই’ বলতে গিয়েছিলেন, তিনি নাকি শাসিয়েছেন, ‘আমি সবার চেহারা চিনে রাখছি,...।’ টেলিভিশন দেখেছে বাংলার মানুষ। যদি চিনে রাখারই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেদিনের ভদ্রলোকদের বাংলার মানুষই চিনে রেখেছে।

জাতি হিসেবে আমরা এমন একটি সমষ্টিগত স্বভাব অর্জন করেছি। যেকোনো ধরনের কুৎসিত ও নিষ্ঠুর ঘটনা আমাদের গভীর আনন্দ দেয়। পৈশাচিক আনন্দে আমরা প্রত্যেকেই অভ্যস্ত। কাল যদি বঙ্গবন্ধু সেতুটি ধসে পড়ে, কিছু লোক হয়তো আনন্দে ফেটে পড়বে। তখন সাড়ে তিন কোটি লোক বলবে, আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালের মধ্যে খালেদা জিয়া যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, তার কারণেই এটা ধসে পড়েছে। অন্য সাড়ে তিন কোটি বলবে, ব্রিজের কাজ শেষ করেছিল হাসিনার সরকার। তাই আজ ধসে পড়ল।

বাড়িঘর, জোত-জমির মালিকানা শরিকানা আইন দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার বিষয়। পুরোনো ও নব্য কলাম লেখকেরা এ নিয়ে পত্রিকার পাতাই শুধু ভরাট করতে পারেন। আসল কথা বলতে পারেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা—তাঁর দলীয় দায়বদ্ধতা ও আনুগত্য যা-ই হোক। অ্যাটর্নি জেনারেল গৃহত্যাগের পরদিন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার ওপরে আর কোনো কথা হয় না। তিনি বলেছেন, মামলায় জিতলে খালেদা জিয়া বাড়ি ফিরে পাবেন। কথাটা এক শ ভাগ সত্যি। তিনি জানিয়ে দিলেন, মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, সেটা হবে ২৯ নভেম্বর। আনন্দে ঈদ করার জন্য দেশনেত্রীকে তাঁর পছন্দমতো বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। জমির চিরস্থায়ী মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেগম জিয়া মিথ্যাচার করেছেন। অর্থাৎ সরকারি লোকেরা করছেন সত্যাচার।

স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়ার দৃশ্যটি দেখে অন্তত কিছু মানুষ তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সুখ উপভোগ করেছে। কয়েক কোটি মানুষ হয়তো মনে মনে বলছে, বেশ হয়েছে। তবে আট-দশ কোটি মানুষের মনের অবস্থা আমাদের মতো অ-মনোবিজ্ঞানীর পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তাদের মনোভাব জানা যাবে ২০১৩-র ডিসেম্বরে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29274793 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29274793 2010-11-20 13:38:24
বিষাক্ত শকুনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে নিশ্বাস





কত বেশি নির্বাচিত আর কত রকমে নির্যাতিত—এমন দুই তুল্যদণ্ডের যোগফলে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চাইতে ওপরে আর কোনো সমসাময়িক রাজনীতিবিদ নেই। টানা আটাশ বছর ধরে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকে তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সংসদীয় আসনে বিজয়, নিরাপস সংগ্রামে দুটি ফৌজি শাসনকে (’৮২-’৯০, ২০০৭-’০৮) বিদায় দেওয়ার অসামান্য কৃতিত্ব যে তাঁর, পাশাপাশি তাঁকে সইতে হয়েছে ও হচ্ছে অচিন্তনীয় অমানবিক নির্যাতন। সশস্ত্র হুমকিতেও দেশ ছেড়ে যাননি স্রেফ বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার জন্যে।

কী জবাব দেব আমরা জিয়া পরিবারের কাছে, স্বাধীনতার ঘোষক অমর দেশনায়ক শহীদ জিয়ার আত্মার কাছে? রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হয়ে তারেক ও আরাফাত রহমান যে বাড়ি থেকে অপহৃত, নির্যাতিত ও দেশত্যাগে বাধ্য, তারা একদিন দেশে ফিরবেনই; অসুস্থ তারেক রহমান হয়তো লাঠিতে ভর করে, হয়তো আরাফাত রহমান হুইল চেয়ারে। কিন্তু কোথায় তাদের সেই স্মৃতিবিজড়িত স্বপ্নের বাড়ি? প্রবাসে তাদের প্রচণ্ড অন্তর্দহনে যোগ হলো আরেক বিয়োগ-ব্যথা। নন্দিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় চার দশক ধরে যে বাড়িতে স্মৃতির মিনার গড়ে তুলেছেন, সূর্যকে আলো ছড়াতে দেখেছেন, বিকেলের সূর্যকে পাটের পথে দেখেছেন গাছগাছালির ফাঁকে—শহীদ মইনুল রোডের সেই ৬ নম্বর বাড়িটি আজ তাঁর থেকেও নেই। শুক্রবার থেকে সুবেহ সাদেকে সেই বাড়ি থেকে দেওয়া আজানে শহীদ মইনুল রোড আর জাগবে না।

কয়েকদিন আগে তিনি বলছিলেন এই বাড়ি ঘিরে তাঁর স্মৃতির কথা, ‘এটি আমাদের মনে গাঁথা এক বাড়ি। আমাদের জীবনেরই অংশ। জিয়া সেনাপ্রধান হয়েছেন, রাষ্ট্রপতি হয়েছেন; আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। কত বড় ও বিলাসবহুল বাড়িতে থাকতে পারতাম, কিন্তু যাইনি। এই বাড়ি তো কোনো সাধারণ বাড়ি নয়। ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লবের তথা জিয়ার উত্থান এখান থেকেই।’

আনমনেই কথাগুলো বলছিলেন বেগম জিয়া। ‘বললেন, কত গাছ লাগিয়েছি এখানে। বিদেশ থেকে অনেক ধরনের ফুলের গাছ এনেছি। এখানে অযত্ন হবে বলে কিছু কিছু রাষ্ট্রীয় ভবনগুলোতে দিয়েছি।’
সেদিন বেগম জিয়াকে ততটা উদ্বিগ্ন মনে হয়নি। বরঞ্চ দেশের সমস্যা ও মানুষের সঙ্কটই ছিল তার কাছে মুখ্য। কারণ বাড়িটি তাঁর—এই আত্মবিশ্বাস তাঁর প্রবল। আর সরকার বাড়ি নিয়ে যে এত নোংরামিতে যাবে, তিনি হয়তো ভাবতে পারেননি। বেগম জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দশবারের মতো গৃহবন্দি ছিলেন সেখানে। বর্তমান সরকারের আমলেও অনেকটা সে রকম ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনও দেখা করতে পারতেন না। চিঠিপত্র যেত না। তাও মেনে নিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক উদারতা দেখিয়ে নীল-নকশার নির্বাচনে জেতা মহাজোট সরকারকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মূল থেকে বিদ্বেষ-বিরোধের ঝাঁঝ পুরোটাই উবিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বেগম জিয়া। কিন্তু শেখ হাসিনা ততটাই নিষ্ঠুর হয়েছেন, যতটা খালেদা জিয়া উদারতা দেখিয়েছেন। ১/১১-এর বর্বর সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের সময় অশালীন আপত্তিকর আচরণ করেছিল। বেগম খালেদা জিয়া তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন তার। নিয়তির পরিহাস—শেখ হাসিনা নিজেই অবতীর্ণ হলেন সেই স্বৈরাচারী ভূমিকায়। বেশি ভোট আর বেশি চোটের জীবনানুভবে তৈরি অসামান্য এই নেত্রীর মধ্যে আজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অপমান আর স্মৃতির প্রচণ্ড মন্থন প্রবল। রবীন্দ্রনাথ তিন জন্মভূমির কথা বলেছিলেন—পৃথিবী, স্মৃতিলোক ও জন্মস্থান। অতীতের কাহিনী নিয়ে মানুষ কালের নীড় তৈরি করেছে। এই স্মৃতিলোকেই বিশ্বমানবের অবস্থান। আত্মভূমি এবং বস্তুভূমি এইভাবে দুই প্রান্তে টান করে ধরে, তার মধ্যবর্তী যোগের পথ তৈরি রাখে লোকস্মৃতি। মইনুল রোডের এই বাড়ি, শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া ও তারেক রহমানকে ঘিরে গল্পময়, জীবনময় উপাখ্যান, গণতন্ত্রের প্রতি দৃপ্ত অঙ্গীকার, বাংলাদেশকে আপন শক্তিতে দাঁড় করানোর উজ্জ্বল কাহিনী, খালকাটা, ফসলে ফসলে ভরিয়ে দেওয়া, শিক্ষা বিস্তার, তৃণমূলের মানুষদের জাগানোর কাজ—কী স্মৃতিলোকই না নির্মাণ করেছে। সব কি মুছে যাবে? নাহ! বেগম জিয়ার মতো একজন একা-মানুষের বেঁচে থাকার আনন্দ-দুঃখকে সমষ্টির অন্তর্গত করে নিয়ে আসল মানুষটাকে বাতিল করে দেয়ার প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি যে জনগণ মানে না, শনিবার বিকেল থেকে ফাঁকা রাস্তা ও রোববারের ঈদপূর্ব হরতাল সে সাক্ষ্যই দেয়। বেগম জিয়ার কষ্টকে আজ জনগণ ভাগাভাগি করে নিতে উন্মুখ। ইংরেজিতে একটা কথা আছে : 'One man plus truth makes a majority.' ওই বাড়ি শহীদ জিয়ার—বেগম জিয়া তা প্রমাণ করেছেন এবং তারেক রহমান তা পূর্ণ প্রমাণের অপেক্ষায়।

অথচ শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনও উত্সারিত হয়নি; হয়েছে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতি। স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধ এবং সাত নভেম্বরের চেতনার ব্লাস্ট ফার্নেসে জন্ম নেওয়া শহীদ জিয়ার ইতিবাচক রাজনীতির ধারা বেগম জিয়া বয়ে চলেছেন। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত শহীদ জিয়া এখান থেকেই নিয়েছেন। সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন ও কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবি বেগম জিয়া পূরণ করেছেন তার গণতান্ত্রিক ঔদার্য বলে। আজকের প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালে গণভবন ছেড়েছিলেন কেয়ারটেকার সরকারের সিদ্ধান্তে। বেগম জিয়া তাকে বহিষ্কার করেননি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা এই বাড়ি ছাড়ার জন্য বেগম জিয়াকে নোটিশ দিয়েছিলেন। ‘আমি তো পারতাম সেনানিবাসে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নামে তৈরি জাদুঘর ভেঙে ফেলতে। আমি তো করিনি’—কথোপকথনের ফাঁকে ফাঁকে বেগম জিয়া বলছিলেন আমাকে।
আসলে হিংসাত্মক ও ভুল-বোঝানো রাজনীতির বিস্তার দিয়ে শেখ হাসিনা যে বেগম জিয়াকে ক্রমাগত অসহায়ত্বে ঠেলে দিতে চাইছেন বা রাজনীতি থেকে বাতিল করতে চাইছেন, শত আদালত ঘুরিয়ে তা আইনসিদ্ধ করলেও জনগণ তা মেনে নেবে না। খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ আইন আছে কিনা—সে প্রশ্নের চাইতেও বড় সত্য হচ্ছে শেখ হাসিনার ঝুলিতে প্রচুর গণধিক্কার জমেছে। ঈদের আগে কেন হরতাল, এ প্রশ্নের চাইতে বড় আলোচ্য হচ্ছে—ঈদের আগে সরকারের এই অসভ্যতা কেন? ঈদের আগে বেগম জিয়াকে বর্বরভাবে বাস্তুচ্যুত করায় জাতির বিরক্তি ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া বিদেশি এক সরকারপ্রধানের সফরের প্রাক্কালে বিরোধী নেত্রীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অমানবিক পথ মানুষকে অবাক করেছে। অন্যদিকে একশ্রেণীর তাঁবেদার, গোয়েন্দা-পছন্দ সাংবাদিকদের দিয়ে ‘খালেদা জিয়া আজ বাড়ি ছাড়বেন’—এ ধরনের আষাঢ়ে গল্প ছড়িয়ে আড়ালে বেগম জিয়াকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার কৌশল নািসবাদকেও হার মানায়। শনিবার মানুষের জিজ্ঞাস্য ছিল যিনি বাড়ি ছাড়বেন বলে বলা হচ্ছে, তার বক্তব্য কোথায়? তিনি কি বলেছেন তিনি বাড়ি ছাড়বেন? আর তিনি যদি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়েন, তবে পুলিশ কেন সেখানে গেল? সাংবাদিকদের কাজে এ আত্মজিজ্ঞাসা জরুরি ছিল। আইএসপিআরের শয্যাসঙ্গী (এমবেডেড) সাংবাদিকদের একদিন হয়তো এসবের জবাব দিতে হতে পারে।

মানবাধিকার : আজ সভ্যতা থমকে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশে। ব্যক্তি-অধিকার আজ হিংস্র সরকারের রোষানলে। ন্যাচারাল রাইটের ভিত্তিতে ন্যাচারাল ল—এটাই হচ্ছে মানবাধিকারের অন্তর-কথা। দার্শনিক জনলক এবং জ্যঁ জ্যাক রুশো মানুষের যে তিনটি অধিকারকে সর্বজনীন বলেছিলেন তা হচ্ছে, আত্মরক্ষার অধিকার, ২. সম্পত্তি রক্ষার অধিকার, ৩. স্বাধীনতা (লিবার্টি) রক্ষার অধিকার। অধিকারসংক্রান্ত চিন্তার বিবর্তনে ফরাসি বিপ্লবের পাশাপাশি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধও এক জরুরি পর্ব। ১৭৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম রাষ্ট্র-পিতা টমাস জেফারসনের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘এই সত্য স্বতঃপ্রকাশ বলে আমরা গ্রহণ করি : সব মানুষই সৃষ্টিলগ্নে সমান এবং সৃষ্টিকর্তার হাত থেকেই তারা অপরিত্যাজ্য অধিকার অর্জন করেছে; এইসব অধিকারের মধ্যে আছে জীবন, স্বাধীনতা ও সুখের সন্ধানের অধিকার।’ সুখের সন্ধান শব্দটি এসেছে সম্পত্তি রক্ষার অধিকারকে বিস্তৃত করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদে যে এর প্রতিফলন ঘটেনি তা নয়। ৩১ ও ৪২ বলছে, এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও বিলি-ব্যবস্থা করবার অধিকার থাকবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত ও দখল করা যাবে না। অথচ বেগম জিয়াকে দেওয়া সংসদ ও সরকারের সিদ্ধান্তের বাড়ি, যা তিনি ভোগদখলে আছেন খাজনা দিয়ে, তাকে বলপূর্বক দখল করা হলো। আর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এখনও মামলাটির নিষ্পত্তি ঘটেনি।

শনিবারের এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সম্পর্কে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির ঝোঁক বুঝতে আমেরিকানরা অক্ষম নয়, এ বিবৃতি তারই প্রমাণ। বর্তমান বাংলাদেশে মানবাধিকারের বিপর্যয় সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চুপ থাকতে পারে না, যদিও মানবাধিকারকে তারা আপন স্বার্থের আয়নায় বিবেচনা করে বলে অভিযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাবেক প্রার্থী জন ম্যাককেইন কিছুদিন আগে বলেছেন : 'For tyranny's victims, even the smallest gestures from outside the world sustain their strength to endure...The United States should engage with any government if it serves our interests to do so but we should not pay for that pleasure by muzzling our criticisms of their abusive behavior, or silencing our support for the just aspirations of their people. Repressive regimes will ask us to make that choice, but it is a false choice, and ultimately unnecessary. There is nothing wrong with engaging oppressive regimes to further our interests, but the United States should use this engagement to further all of our interests–not just our security or economic interests, but our moral interests, our interest in human rights.' (The Brown Journal of World Affairs, Issue-2, 2010) অর্থাত্, স্বৈরতন্ত্রের শিকার যারা তারা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন অত্যাচার-অবিচার সহ্য করার ক্ষমতা তাদের থাকে...। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে এমন সব দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের খেয়াল দেয়া উচিত। তবে অন্যায়-অবিচার করে এমন কোনো দেশের সমালোচনা উপেক্ষা করে তাদের কাজে সায় দেয়া বা সেদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা উচিত নয়।

অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে তাদের কাজকে সমর্থন দেয়ার জন্য বলবে, কিন্তু এই ধরনের কাজকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত হবে ভুল এবং অপ্রয়োজনীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করা অন্যায় নয়। তবে সেটা হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে। শুধু আমাদের নিরাপত্তা অথবা অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্যই নয়, আমাদের নৈতিক স্বার্থ, আমাদের মানবাধিকারসংক্রান্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কাজ করা যেতে পারে।

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে আঘাত করা হয়েছে, তা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বেরই ওপর আঘাত। তাঁর অশ্রুফোঁটা দেশপ্রেমিক জনগণকে সাহসী, প্রত্যয়ী করে তুলবে—লাখো শহীদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশের মাটি কখনোই স্বৈরশাসন ও তাঁবেদারি মেনে নেবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29272860 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29272860 2010-11-15 22:14:27
ইরানের প্রেসিডেন্টের গাড়ী কোন মেয়ে আটকালে নাস্তিকরা খুশী হয় কেন?

মেয়েটার হাতের ছায়া পড়েছে বাম্বারে। এই ছবিটিকে ঘষে মেজে করা হয়েছে



তা দেখে নাস্তিক বা ইসলাম বিরোধীদের লুঙ্গি ভিজে গেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29270010 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29270010 2010-11-10 23:10:54
নভেম্বর উপাখ্যানের এপিঠ-ওপিঠ: সৈয়দ আবুল মকসুদ
খুব বড় মিলিটারি রেজিমেন্টেশনের মধ্যে ইতিহাস গায়েব করা হয় অথবা বিকৃত করা হয় এবং সত্য ধামাচাপা দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে এবং সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় ইতিহাসকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার দৃষ্টান্ত শুধু বাংলাদেশেই পাওয়া যাবে। কঠোর সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে সাংবাদিককে সত্য চেপে যেতে হয়। কিন্তু গায়ে পড়ে সত্য গোপন করা অতি নিন্দনীয় কাজ। আজ বাংলার রঙ্গমঞ্চে কুশীলবদের রাজনীতির অভিনয় দেখে ক্ষুধিত পাষাণ-এর পাগলা মেহের আলীর মতো বলতে ইচ্ছা হয়: ‘তফাত যাও! তফাত যাও! সব ঝুট্ হ্যায়! সব ঝুট্ হ্যায়!’ আজ বাংলাদেশে যাঁদের বয়স ৬০-এর ওপরে, তাঁদের অধিকাংশের অবস্থা পাগলা মেহের আলীর মতো।

১৯৭৫-এর নভেম্বরের প্রথম হপ্তায় অ্যাবসার্ড নাটকগুলো অভিনীত হয়েছে এখনকার ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষদের সামনে। তাঁরা সব দেখেছেন, তাঁরা সব জানেন। এখন আর নতুন কিছু যোগ করা যাবে না।

বাঙালি স্বার্থসিদ্ধির জন্য সব সময়ই একজন নন্দ ঘোষ খোঁজে। নিজের দোষ তার ওপর চাপিয়ে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বাঙালি দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মহাজোট সরকারের আমলে জিয়াউর রহমানকে নন্দ ঘোষের ভূমিকায় বসানো হয়েছে। অবশ্য জিয়া ও এরশাদের সময় নন্দ ঘোষ ছিলেন অন্য কেউ।

পঁচাত্তরের পরবর্তী ৩১ বছর নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অজস্র সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়, প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে। প্রকাশিত হয়েছে রাশি রাশি প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার। সেগুলো যদি বন্দুকের নলের মুখে প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তাহলে সেসবকে অগ্রাহ্য করা যাবে না।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রধান গুণই হলো বিশুদ্ধ যুক্তিবাদিতা। কোনো রাষ্ট্রে তা যদি না থাকে, তাহলে জাতীয় জীবনকে অন্ধত্ব গ্রাস করে। সেখানে সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে না। সেখানে বৈজ্ঞানিক চিন্তার সুযোগও থাকে না। শিক্ষা-সংস্কৃতির অমূল্য উপাদানগুলো চূর্ণ হয়ে যায়। সে অবস্থায় বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে ইতিহাসের নামে বহু রকম কল্পকথা প্রচারিত হয়। তা প্রচারিত হয় কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অথবা সুবিধাভোগীদের স্বার্থে।

পঁচাত্তরের নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অপরিহার্য অংশ। ওই ঘটনাপ্রবাহের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ছাড়া, কল্পকথা ছড়িয়ে জাতির কোনো উপকার হবে না। কাগজে বা বইপত্রে যা লেখা হলো তা-ই ইতিহাস নয়, মানুষ যা জানে, তা-ই ইতিহাস। মার্কিন দলিলপত্রের মাধ্যমে মিজানুর রহমান খান প্রথম আলোয় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনায় তা সহায়ক। কিন্তু মার্কিন কূটনীতিকদের পাঠানো প্রতিবেদনই ইতিহাস নয়—ইতিহাসসংক্রান্ত মন্তব্য প্রতিবেদন, যে প্রতিবেদন লিখিত হয়েছে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন প্রচারপত্রের ভিত্তিতে। সেই সঙ্গে আছে ওই প্রতিবেদন প্রেরকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ। ইতিহাস রচনা করতে চাইলে তখনকার রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মূল প্রচারপত্র-লিফলেটের সাহায্য নিতে হবে।
বাংলাদেশের পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনীতি একটি যৌথ রাজনৈতিক প্রকল্প—কোনো এক ব্যক্তি বা একাধিক ব্যক্তির কাজ নয়। যে রাজনীতির প্রবর্তনে গোটা দেশের অধিকাংশ মানুষের নীরব অথবা প্রকাশ্য সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। তা না থাকলে কোনো ব্যক্তি, তা তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শক্তিমান মানুষও যদি হন, টিকে থাকতে পারতেন না। যৌথ প্রকল্প না হলে ওই ধারার রাজনীতি ২১টি বছর বা তারও বেশি টিকে থাকত পারত না।

নভেম্বর উপাখ্যান সম্পর্কে প্রথম আলোয় দুই দলের দুই জেনারেলের সাক্ষাৎকার বেরিয়েছে। মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পূরণ ও ক্ষমতা সংহত করতেই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেন।’ তাঁর এই বক্তব্য থেকে ১২-১৪ বছর বয়স্ক যেকোনো পাঠক মনে করবে, যেকোনো জেনারেলই ইচ্ছা করলে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে পারেন। একজন জনপ্রিয় জেনারেল তাঁর বাহিনীকে ব্যবহার করতেই পারেন, অন্যদিকে দুর্বল ও ব্যর্থরা অধীনস্থের অধীনে গোলামি করেন। একজন সেনাশাসক সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করবেন না তো কি রাস্তার হকার, পত্রিকার উপসম্পাদকীয় লেখক, কবি, নাটকের কলাকুশলী বা ট্যাক্সি ড্রাইভারদের ব্যবহার করবেন?

১৭ আগস্ট আমি বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক ও সম্পাদক জাওয়াদুল করীমের সঙ্গে বঙ্গভবনে গিয়েছিলাম। সেখানে বারান্দায় দাঁড়িয়ে যে দৃশ্য দেখেছিলাম, তা আজ অবিশ্বাস্য মনে হয়। আমার কাছে তখন ‘বিশ্বাসঘাতক’ বা ‘নিমক হারাম’ শব্দ দুটিকে বাঙালির জন্য যথেষ্ট শক্ত শব্দ মনে হয়নি।

দিনের পর দিন সেনাবাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমে ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছেন। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে জেনারেল সফিউল্লাহর স্মৃতি রোমন্থন অথবা পর্যবেক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ, মানবজাতির ইতিহাসে তিনিই একমাত্র সেনাপতি, যিনি ১০টি দিন তিন-চারজন মেজরের অধীনে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করেছেন। এবং সেই মেজররাই তাঁকে, তাঁর ভাষায়, ‘বরখাস্ত’ করেন। তিনি নিজেই বলছেন, ‘বরখাস্ত’, আমরা জানি তাঁকে ‘অবসর’ দেওয়া হয়েছিল। সে জন্যই এখন ‘অব’ লেখা হয়, ‘বরখাস্ত’ লেখা হয় না। তিনিই একমাত্র সেনাপ্রধান, যিনি দুজন রাষ্ট্রপতির অধীনে বহুকাল রাষ্ট্রদূতের চাকরি করেন—যে দুই রাষ্ট্রপতি একসময় ছিলেন তাঁরই অধীনে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়ে যাওয়ার আগে তিনি যে জবানবন্দি দেন, তা আমাদের অনেকের কাছে আছে। জিয়াউর রহমান বা জেনারেল এরশাদের মতো সামরিক শাসকদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞ থাকার কারণ নেই, সফিউল্লাহর তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। মোশতাক-জিয়া তাঁকে চাকরি দিয়েছেন এবং কখনোই জিয়া তাঁকে কূটনীতিকের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেননি। এটা জিয়ার কম উদারতা নয়।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের যদি কৃতজ্ঞতাবোধ না থাকে, সৌজন্যবোধ না থাকে ও উপকারী বন্ধুর উপকারের ঋণ তারা স্বীকার না করে—তাদের দোষ দেওয়া যাবে না। আমাদের মতো মধ্যশ্রেণীর মানুষকে জীবনের বিশেষ বিশেষ অবস্থায় সুখ-শান্তিতে থাকার জন্য আপস করতে হয়। বিত্তবান ও সবলের কাছে নত হতে হয়। মেরুদণ্ড সোজা রাখা যায় না। তা যে বড় দোষ, তা-ও নয়। জিয়ার অব্যাহত নিন্দা সফিউল্লাহর মুখে শোভনীয় নয়।

পঁচাত্তরের নভেম্বর সম্পর্কে মার্কিন দলিল গুরুত্বপূর্ণ; তার চেয়ে বেশি মূল্যবান সেই সময়ের রাজনৈতিক দলগুলোর দলিল, প্রচারপত্র প্রভৃতি। খালেদ মোশাররফের দোষ স্খলনের একটা চেষ্টা চলছে কয়েক বছর ধরে, এখন হচ্ছে তাঁকে একজন চমৎকার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আয়োজন। মিজানুর রহমান খান তাঁর ‘১৯৭৫ নভেম্বর মার্কিন দলিল ৫’-এ লিখেছেন, ‘রব-জলিল এক যৌথ বিবৃতিতে খালেদ মোশাররফকে “বিশ্বাসঘাতক” এবং “ভারত, রাশিয়া ও আমেরিকার উসকানিতে বাংলাদেশের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চক্রান্ত” করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।’ হাসানুল হক ইনু এ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা জাসদের কোনো দলিলে কখনো খালেদ মোশাররফ সম্পর্কে এমন মত দেইনি।...তবে তিনি উচ্চাভিলাষী, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ও সামরিক শাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাকারী।’ ইনু সাহেবের শেষ বাক্যটির সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ নেই, কিন্তু প্রথম কথাটি সঠিক নয়। জাসদের অসংখ্য প্রচারপত্র প্রমাণ দেয় মিজানুর রহমান খানের কথাই ঠিক। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬, তাঁদের এক প্রচারপত্রে বলা হয়েছিল: ‘১৯৭১-এর জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আধিপত্যবাদী ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর সহায়তায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল। জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নিহত অগণিত মানুষের জমাট রক্তের বিনিময়ে সুখের সৌধ নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ল নব্য বুর্জোয়া শাসক ও শোষকগোষ্ঠী। ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টের এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের কাঁধে ভর দিয়ে ক্ষমতা আত্মসাৎ করল মুজিবেরই এককালীন দোসর খোন্দকার মোশতাক, ৩রা নভেম্বর আবার ঘটল সামরিক অভ্যুত্থান, কুখ্যাত ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ভারত-রাশিয়ার প্ররোচনায় প্রতিক্রিয়াশীল মহল দেশ ও জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বকে চিরতরে বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্র করল; তারপর ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরে জাসদ ও বিপ্লবী গণবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর বিপ্লবী জওয়ানরা মহান সিপাহি অভ্যুত্থানে ফেটে পড়ল; কিন্তু আবার দেশি-বিদেশি শোষকরা জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো, অর্জিত হলো না লক্ষ্য,...।’

ক্ষণিকের জন্য রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ করতে গিয়ে দরজার কাছ থেকেই খালেদকে বিদায় নিতে হয়। কিন্তু দেশের সর্বনাশ অর্ধেক করেছিলেন মোশতাক ও মেজররা, বাকি অর্ধেক সম্পন্ন করলেন খালেদ। মোশতাকের সময় ইসলামি চেতনা জোরদার হয়, কিন্তু ভারতবিরোধী জিগির ছিল না। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী চেতনা সুদৃঢ় করে যান খালেদ। সেই চেতনা ব্যবহার করে জিয়া পাঁচ বছর, এরশাদ নয় বছর এবং খালেদা পাঁচ-পাঁচ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকেন। নিজের ক্ষমতা পোক্ত করতে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করতে গিয়ে খালেদ আওয়ামী লীগকে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে রাখার ব্যবস্থা করে যান। আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি খালেদ করেছেন আর কেউ তা করেননি। তিনি ভারতপন্থী—নিজেই এ কথা চাউর করে দিয়েছিলেন এই আশায় যে তাতে ভারত সামরিক সাহায্য নিয়ে তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসবে। ভারতীয় নেতারা এত কাঁচা নন। কিন্তু ফল যা হওয়ার তা-ই হলো। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন হয়ে গেল বহুদিনের জন্য। দুই বন্ধু প্রতিবেশীর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেল। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের জন্ম হয় ৩ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বরের তিন দিনে। সেই মনস্তত্ত্ব থেকে জাতি এখনো মুক্ত নয়।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ৩-৭ নভেম্বরের দিনগুলো আকাশ থেকে হঠাৎ পড়েনি। সব ঘটনারই একটি পটভূমি থাকে। ওই ঘটনাপ্রবাহেরও একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৭৪-এর ১৩ অক্টোবর জাসদ গণ-আন্দোলনের ডাক দেয় এবং ২৬ নভেম্বর দেশব্যাপী হরতালের আহ্বান জানায়। হরতাল ও গণ-আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের প্রচারপত্রে বলা হয়: ‘ভারতের আধিপত্যবাদী, রাশিয়ার সংশোধনবাদী ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সকল চক্রান্ত ও অশুভ প্রভাবের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পূর্ণ বিধানের জন্য; সাম্রাজ্যবাদ ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় সরকার গঠন।’

১৯৭৩-৭৪-এ প্রধান বিরোধী দল ছিল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) ও জাসদ। সরকারের সঙ্গে এই দুই দল ও অন্যান্য বাম দলের সম্পর্ক কেমন ছিল, তা আলোচনা ছাড়া পঁচাত্তরের আগস্ট-নভেম্বরের আলোচনা সম্পন্ন হতে পারে না। ১৯৭৩-৭৫-এ ন্যাপ, জাসদ ও বিভিন্ন বাম দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ছিলেন কারাগারে। তাঁদের জেলে ঢোকাতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের যাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজও ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং দাঁত বের করে হাসেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে চলে যেতে হলো।

অপ্রীতিকর সত্য আলোচনা করে যত খোলাসা করা যায়, তত গণতন্ত্রের উপকার। চাটুকারিতা করে বর্তমান মহাজোটের অসাম্প্রদায়িক সরকারকে সংহত করা যাবে না। তাতে সরকারের বরং ক্ষতি হবে। ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পরে সেই দায় কেউ নেবেন না।

বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বোকামি। বোস্টার বোকা ছিলেন না। তাই তিনি তাঁর ছাদের ওপর থেকে তাকিয়ে দেখে লিখেছিলেন: ‘জেনারেল জিয়া ৭ নভেম্বর সম্পূর্ণ ক্ষমতা করায়ত্ত করার একটি চমৎকার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি চাইলেই ক্ষমতা নিতে পারতেন। রাজপথে আমরা ৭ নভেম্বর যা দেখেছি, তা যদি কোনো অর্থ বহন করে থাকে, তাহলে এটাই প্রমাণ দেয়, জিয়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।’

রাজপথে মি. বোস্টার সেদিন যা দেখেছিলেন, তা আর কারও কাছে অর্থ বহন করুক আর না করুক, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে খুবই অর্থবহ ছিল। সেনাবাহিনীর একজন জনপ্রিয় মানুষই তাঁরা খুঁজছিলেন। তা তাঁরা পেয়ে গেলেন ৭ নভেম্বর। শুধু বোস্টার পাননি, বাংলার মাটির বাম ও অতি ডান সংগঠনের নেতারাও পান। জিয়ার নিজের কোনো শক্তি ছিল না। তাঁর শক্তির উৎস ছিল সোভিয়েত বলয়ের বাইরের গোটা পুঁজিবাদী বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্য এবং দেশের ভেতরের বিভিন্ন ক্ষুদ্র শক্তি। চীন তাঁর পক্ষে দাঁড়ায়। তা ছাড়া ১৯৭৫-৭৬-এ দেশের ভেতরে জিয়ার এতই বন্ধু ছিলেন, যাঁদের সংখ্যা প্রথম আলোর বন্ধুসভার সদস্যদের চেয়ে বেশি।

১৬ নভেম্বর জিয়ার সমর্থনে এগিয়ে আসে পাঁচটি বাম সংগঠন: পূর্ব বাংলার সাম্যবাদী দল (এম-এল), পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এল-এম), পূর্ব বাংলার গণবিপ্লবী পার্টি এবং কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ। তারা তাদের ‘ভারত-রাশিয়ার নয়া চক্রান্তকে ব্যর্থ করুন’ শীর্ষক প্রচারপত্রে বলে: ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর মূল নেতৃত্ব ভারতের এজেন্ট হিসেবে বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহিতার ভূমিকা পালন করলেও বহু দেশপ্রেমিক তাঁদের সমাজতন্ত্র ও ভারতবিরোধী স্লোগানের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে এখনো সেই সংগঠনে অবস্থান করছেন। তাঁদের কাছে আমাদের আহ্বান, আপনারা দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজ দলের নেতৃত্বের কার্যকলাপ বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করুন।’

১৪ নভেম্বর পূর্ব বাংলার সাম্যবাদী দল এক প্রচারপত্রে বলে: ‘জাসদের অভ্যন্তরস্থ দেশপ্রেমিক ভাইদের প্রতি আমাদের আহ্বান; আপনারা সংগঠনের ভিতরের বিশেষ করে ভারত-রাশিয়ার ও অপর বিদেশি শক্তির দালালদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তাদের বিতাড়িত করুন।...হিন্দু ভাইবোনদের প্রতিও আমাদের বিশেষ আহ্বান; আপনাদের দুঃখ-দুর্গতি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্বেষমূলক আচরণ থেকে মুক্তি লাভের জন্য ভারতের ইন্দিরা সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবেন না।’

জিয়ার সেদিন কোনো দল ছিল না, তাঁর কাজ অন্য দলের নেতারাই করে দেন। পূর্ব বাংলার গণবিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও শ্রমিক সংগঠন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা জিয়ার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান। কোনো কোনো সংগঠনের প্রচারপত্রের ভাষা লোমহর্ষক অথবা ঘৃণা উদ্রেককারী। সফিউল্লাহ যে বলেন, জিয়া কিচ্ছু না, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন, তা বড়ই করুণ শোনায়। দেশের ভেতরে তাঁর জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ওআইসি গঠিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার একজন নেতা নির্বাচিত হতেন না।

শত্রুকে নিন্দা করারও একটা ভাষা আছে, একটা রীতি আছে। তার বাইরে গিয়ে কিছু করলে শত্রু উপকৃত হয়। শেখ হাসিনাকে খুশি করতে গিয়ে অনেকেই যা করছেন, তাতে জিয়ার উপকার হচ্ছে।

আরেকটি কথা বলে শেষ করতে চাই। বাংলার সংগ্রামী রাজনীতির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে। দেশের বারো মাসের নয় মাসের সংবাদপত্র পড়ে মনে হবে—এই দেশের নেতা হলেন কয়েকজন ক্ষমতালোভী ও নষ্ট সেনা কর্মকর্তা। প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকদের কোনো প্রচার নেই। মিডিয়ায় জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও বিভিন্ন চরের পীরেরা যে প্রচার পান, তার এক শ ভাগের এক ভাগ পান না তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতা শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। মিডিয়াকে নজরুলের কথাটা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ।

* সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29269997 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29269997 2010-11-10 22:57:29
Taposh was invloved in killing of army officers in BDR
Major Helal, one of the five, was the mastermind behind the blast, which took place on October 21 last year, army sources said.

The officers--one major and four captains--have been sentenced to five years in prison by a court-martial. They began serving their term at Dhaka Central Jail on Thursday.

The convicted servicemen had collected the explosives used in the blast from the BDR Pilkhana headquarters while on duty there after the bloody mutiny, the sources told The Daily Star, citing findings of the probe into the attack on Taposh.

During their trial at Dhaka cantonment, they pleaded guilty to the charges brought against them.

The evidence produced before the court too proved they planned and executed the blast all by themselves.

Taposh, also nephew of Prime Minister Sheikh Hasina, came under the attack in front of his law chamber at Motijheel. He escaped unscathed, but at least 13 people were injured.

The army sources said Helal and the four captains--Rezaul Karim, Rajib, Fuad and Subayel Ibne Rafique--had been “confined to the line (officers' mess in Dhaka cantonment)” soon after their links to the blast surfaced.

For their conviction, the five will not be allowed to use their ranks as former army officers. They will also not get any benefits from the force.

Describing the background, the sources said Helal was posted to a BDR battalion in Teknaf at the time of Pilkhana carnage in the capital. As mutiny broke out at the barracks there as well, he left his station.

Known all along as an arrogant officer, he later tried on his own to track down those responsible for the BDR mutiny.

In news reports following the BDR mayhem, Taposh's name came up, as some BDR jawans had met him to talk about their demands and grievances months before the mutiny.

This along with Pilkhana being in his constituency led Helal to conclude that Taposh was behind the mutiny.

He soon started planning “to teach him a lesson”, which the military considers “absolutely unbecoming of a soldier”, noted the sources.

"If an army man has any grievances, we suggest he share those with the higher authorities. He must not take the law into his own hands," said an army officer in return for anonymity.

Helal and the four were among those assigned to recover arms and reorganise the paramilitary troops at the BDR headquarters after the carnage.

During that time, Helal shared with the captains his idea of “teaching Taposh a lesson”.

The four, who had either worked with the major before or were his students at the commando training school, agreed and set about planning to that end.

While recovering the arms and ammunition left by the mutineers, they collected some explosives and other bomb-making materials. They did not submit those to the authorities who destroyed the recovered grenades and explosives.

On the evening of October 21 last year, the five took position near Taposh's Motijheel office, and one of them detonated the bomb with a remote control device, the sources said.

They did the job without anyone else's help.

After learning about their officers' involvement in the blast, the army authorities began keeping a close watch on their movement. They also checked the call lists of their mobile phones.

The officers had used five new SIMs during the attack, yet the investigators managed to identify their handsets. They also gathered enough evidence to prove them guilty.

Though the five pleaded guilty to the charges, one of them claimed he was forced to do the job, and another said he was not sure what was actually going on.

The sources said the five staged the blast not to kill Taposh but to “teach the lawmaker a lesson”.

If they had done it with an intention to kill him, the army would have tried them differently.

The court-martial awarded them five years' imprisonment under section 55 of the Manual of Bangladesh Army Law.

The section titled "Violation of good order and discipline" reads: "Any person subject to this Act who is guilty of any act, conduct, disorder or neglect to the prejudice of good order and of military discipline shall, on conviction by court martial, be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to five years, or with such less punishment as is in this Act mentioned."]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29268346 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29268346 2010-11-07 21:00:12
আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সঙ্গে ইভটিজিং করছে

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। তাই সংসদকে অকার্যকর করে তারা বাকশালী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়া করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে সন্ত্রাসীরা সারাদেশে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। দেশে বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। অথচ সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা আজ নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যস্ত।

গতকাল চট্টগ্রামের হালিশহর বিশ্বরোড মোড়ে খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া ও গুলশান কার্যালয়ে পুলিশি হানার প্রতিবাদে পাহাড়তলী ও হালিশহর থানা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নোমান বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা ও বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয়, তারা জনগণের সঙ্গে ‘ইভটিজিং’ করছে। সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই, বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নোমান বলেন, সময় এলে জনগণ আপনাদের অবরুদ্ধ করে রাখবে, তখন পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।

সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির বলেন, বিনাশুল্কে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দেয়ার শামিল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো ভারতীয় ট্রাক বিনাশুল্কে চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মনজুরুল আলম মঞ্জু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ আছে। বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করেছি। আগামীদিনে আন্দোলন সংগ্রামেও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

পাহাড়তলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক সামশুল আলমের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এএম নাজিম উদ্দীন, উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী, মহানগর বিএনপি নেতা এমএ সবুর, যুবদল সভাপতি আবুল হাশেম বক্কর, হাজী জামাল আহম্মদ, এসকে খোদা তোতন প্রমুখ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29267548 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29267548 2010-11-06 09:35:12
'ত্যাগী ও সাহসী' নেতার সংবর্ধনা!

পুলিশের কাছে এক সপ্তাহ আগেও তিনি হত্যা মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। কিশোরগঞ্জ সদর, কটিয়াদী ও বাজিতপুরের সরারচর বাজারের তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি এবং আট খুনের মামলার আসামি তিনি। বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ হালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তাঁকেই সংবর্ধনা দিল!

দীর্ঘ আট বছর ফেরারি থাকার পর ওই দিনই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। ঢুলিরচর গ্রামের এ ব্যক্তির নাম মইনুদ্দীন আহমেদ (৫৯)। তিনি হালিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাঁর ফাঁসির দণ্ড হাইকোর্ট সম্প্রতি মওকুফ করেন ।

সংবর্ধনা সভায় কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন প্রধান অতিথি এবং বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ নূরুন্নবী বাদল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ মিজবাহউদ্দিন আহম্মদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আফজাল বলেন, 'আমি আমার জীবনে তাঁর (মইনুদ্দীন আহমেদ) মতো এমন সৎ ও আদর্শবান নেতা দেখিনি।' তিনি মইনুদ্দীনকে 'ত্যাগী ও সাহসী' নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন

হালিমপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল কাদির বলেন, 'মইনুদ্দীন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার মতো লোকের সংবর্ধনায় আমরা যেতে পারি না।' ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক শাহজাহান সিরাজ কানন বলেন, 'তিনি আমাদের মুরুবি্ব ও দলের নেতা ঠিক আছে। কিন্তু তিনি নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই তাঁর সংবর্ধনা সভা দলের প্রায় সব নেতা-কর্মীই বয়কট করেছেন।' ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম বলেন, 'এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের পক্ষ থেকে এভাবে সংবর্ধনা দেওয়া ঠিক হয়নি।'

হালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি কাজল ভুঁইয়া বলেন, 'মইনুদ্দীন চেয়ারম্যান থাকাকালীন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। হত্যা মামলায় ফেরারি হওয়ার আগ পর্যন্ত সে চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের প্রধান আশ্রয়দাতা ছিল। সে ফিরে আসায় অপরাধীরা আবার বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। '

মইনুদ্দীন আহমেদ জানান, দুটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। একটি মামলার নিম্ন আদালতের ফাঁসির আদেশ হাইকোর্ট দুই সপ্তাহ আগে মওকুফ করেন দাবি করে তিনি জানান, ওই সব খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না। একটি মহল ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসিয়েছিল। তবে মহলটি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তাঁর সংবর্ধনা নিয়ে বিতর্ক এবং দলের একাংশের বয়কটের কারণ জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলেও জানান। বাজিতপুর থানার ওসি মো. আকতারুজ্জামান জানান, দুটি মামলায় মইনুদ্দীনের খালাস পাওয়ার কাগজপত্র থানায় এসেছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন বলেন, 'তিনি (মইনুদ্দীন) মামলার আসামি ছিলেন। একটি মামলায় তাঁর ফাঁসিও হয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। তাঁকে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই জানি। আট বছর পর তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তাই তাঁর সংবর্ধনা সভায় গিয়েছি। এ ছাড়া সংবর্ধনায় যাওয়ার আর কোনো কারণ নেই। পরে তিনি যদি কোনো ঘটনায় জড়ান, তখন নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষে থাকব না'।

বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ নূরুন্নবী বাদল সংবর্ধনা সম্পর্কে বলেন, 'মইনুদ্দীন মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং একটি মামলায় ফাঁসিও হয়েছিল, এটা সত্য। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটি আমাদের অতিথি করায় আমরা সেখানে গিয়েছি, আর কিছু নয়।'

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজালের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে (০১৭১১-৬২০০০৩) সোমবার বারবার কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়ায় সংবর্ধনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, বাজিতপুর থানার পুরনো 'ক্রিমিনাল রেকর্ড বোর্ড'-এ মইনুদ্দীনের ছবি প্রায় ১৫ বছর সাঁটানো ছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29265445 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29265445 2010-11-02 08:37:25
আওয়ামী লীগের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আগাচৌর হাজারীপ্রেম

‘জয়নাল হাজারী অন্যায় করে থাকলে তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তাঁকে বরখাস্ত করে আওয়ামী লীগ অন্যায় করেছে। সতীত্বের প্রমাণ দিতে সীতাকে আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। জয়নাল হাজারীর বেলায়ও এমনটা হয়েছে।’-আবদুল গাফফার চৌধুরী

প্রথম আলো ও যুগান্তর পত্রিকার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গাফফার চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক টিপু সুলতানকে প্রহারের খরব অন্যদিকে প্রবাহিত করে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটকে নীরবে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফেনীতে আমার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় আছেন। পরে তাঁর কাছ থেকে জেনেছি যে টিপু সুলতানকে হাজারী প্রহার করেননি। টিপু সুলতানের প্রহারের খবর নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে। অথচ ওই পত্রিকাগুলোর সম্পাদকেরা ১/১১-এর পর তাঁদের দুই সাংবাদিককে ডিজিএফআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন।’ তবে তিনি ওই দুই সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেননি।

অনেকে বাধা দিলেও আজকের অনুষ্ঠানে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে এ প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, ‘জয়নাল হাজারী একজন লেখক। আমি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসেছি।’ জয়নাল হাজারীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ জয়নাল হাজারী বলছি -এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সোমবার প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান হয়। বইটি প্রকাশ করে তরফদার প্রকাশনী।
গাফফার চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি স্বাধীনতা পুরস্কার নিতে চাইনি। যে পুরস্কার ছারছিনার পীর ও বঙ্গবন্ধুর খুনি মাহাবুবুল আলম পেয়েছেন সেই পুরস্কার আমি নিতে চাইনি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়ে চিঠি লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা আমাকে বুঝিয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সাবেক প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা, জয়নাল হাজারী, তরফদার প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘হিটলার দুর্ভাগা। কারণ, তিনি তাঁর কালিমা মোছার জন্য সুযোগ পাননি। আমি সেই সুযোগ পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি মরে যাই, এ বইটাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আমার বইয়ে ভালো-মন্দ সব দিক আছে।’ জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আমি আমার বইয়ে তুলে ধরেছি সাংবাদিক টিপুকে নিয়ে কীভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার হয়েছে। বাঁধন, তসলিমা নাসরিন ও ফেনীর বিজুসহ অন্যান্য ব্যাপারে বইয়ে আমার অবস্থান তুলে ধরেছি।’ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আপনি ফেনী দখল করতে গেছেন, আমি ঢাকার মিডিয়াপল্লী দখল করছি।’ তাঁর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে ভোট দেননি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29256951 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29256951 2010-10-18 00:36:11
"যে মামলা হয়েছে এটা মিথ্যা মামলা, ভয়ের কিছু নেই", নাটোরের বাবু হত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের উদ্দেশে মন্ত্রী
অন্যদিকে বাবুর মেয়ের প্রশ্ন, হত্যা ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, হত্যাকারী যে বা যারাই হোক না কেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু কেন তার এ প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হচ্ছে না। থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বলেছেন, বনপাড়ার স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল আলিমের হত্যা মামলার প্রধান আসামি কে এম জাকির হোসেন হকিস্টিক হাতে অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে বাবুর ওপর হামলা চালান। এ সময় বাবুর মাথায় জামিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে আসামি আশরাফুল, বাবলু, জিল্লুর ওরফে জিন্না, সেলিম, হাসেম ও খোকন মোল্লা উপর্যুপরি কুপিয়ে, পিটিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে বাবুর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

বুধবার বেলা ১১টায় মিছিল শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, এখানে প্রশাসন বিএনপির পক্ষে কাজ করছে।

তিনি ডিবি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, "যে মামলা হয়েছে এটা মিথ্যা মামলা। আর কোনো আসামিকে ধরতে যাবেন না। প্রয়োজনে অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করবে"।

অভিযুক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা শান্ত থাকুন। আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।'

অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বাবুকে রক্ষার জন্য। ঘটনার সময় লাঠি হাতে ছিলেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাঠি দিয়ে তিনি তার বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ওই হত্যার ঘটনার জন্য তিনি দুঃখিত। বাবু যে মারা যাবেন, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেছেন, সরকার ফাঁসির আসামিদের ক্ষমা করে দিচ্ছে বলে হত্যাকারীরা উৎসাহিত হয়ে চেয়ারম্যান বাবুর মতো উদীয়মান নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান খান বলেন, প্রশাসনকে না জানিয়ে বড়াইগ্রামে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিছিল করা ঠিক হয়নি। এ ছাড়া সেখানে থানা বিএনপির অনুষ্ঠান হলেও থানা সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলম উপস্থিত থাকলেন না আর পৌর সভাপতি সানাউল্লাহ বাবু মিছিল বের করে হত্যার শিকার হলেন, এটা খুবই রহস্যজনক।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ শেখ বলেন, ফুটেজ দেখে প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করা হলে তার কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে বড়াইগ্রাম থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলম বলেন, যুবদল নেতা আলিমের খুনি জাকির, খোকন মোল্লা, রাজ্জাকরাই পরিকল্পিতভাবে বাবুকে খুন করেছে।

এ হত্যা ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় এক সভায় বলেন, নাটোরের ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঘটেছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জে এক সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার বিএনপির নেতা-নেত্রীদের জনপ্রিয়তা দেখলেই হয় তাকে জেলে পোরে, নয়তো তাকে হত্যা করে। বাবু হত্যার বিচার এ দেশের মাটিতে হবেই।

উল্লেখ্য, বনপাড়া পৌর বিএনপি শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। দুলু বনপাড়ার কাছাকাছি পেঁৗছে গেছেন এমন খবরে সানাউল্লাহ বাবুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বনপাড়া বাজারে এলে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাকির হোসেন, ছাত্রলীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা রাকিব, জামিল, বাবলু দলবল নিয়ে লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিছিলে আক্রমণ করে। এ সময় তারা সানাউল্লাহ বাবুকে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে ফেলে দেয়। এ সময় চারজন সাংবাদিকের ওপরও হামলা চালানো হয়।

নিহত বাবুর বড় মেয়ে পুনম বলেন, 'ভিডিও ফুটেজে কারা আমার বাবাকে আঘাত করেছে তা পরিষ্কার। তারা কোন দলের? প্রধানমন্ত্রী ফুটেজ দেখে দোষীদের গ্রেফতারের যে প্রতিশ্রুতি দেশবাসীকে দিয়েছিলেন, তা পূরণ করছেন না কেন?'

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29255682 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29255682 2010-10-15 22:10:54
আসলে কি হয়েছিলো সিরাজগন্জে?
১. খালেদা জিয়ার পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ স্হলে ছাত্রলীগ সমাবেশ করার ডাক দেয়।
২. প্রশাসন স্বভাবতই: বিএনপিকে সেখানে সমাবেশ করতে অনুমতি দেয় নি।
৩. বিকল্প স্হান হিসাবে সয়দাবাদ ঠিক করা হয়। এ ব্যাপারে সরকারী অনুমতি দেয়া হয়।
৪. সরকারী অনুমতি দেবার সময় বিএনপি সমাবেশ স্হলের কাছে ট্রেন লাইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্হা নিতে অনুরোধ জানায়
৫. প্রশাসন থেকে জানানো হয় সমাবেশেন দিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ৭ টা পর্যন্ত ওই লাইনে কোন ট্রেন চলবে না
৬. ট্রেন আসলো এবং সমাবেশে যোগ দেওয়া মানুষের ভিড় উপেক্ষা করে গতি ধীর না করেই চলতে থাকলো
৭. আ্যকসিডেন্ট পরবর্তী সময়ে মিডিয়া গুলোতে পরিকল্পিত গুজব ছড়ানো হলো: ২০-৩০ জন মারা গেছে, গার্ড-ড্রাইভারকে পিটিয়ে মেরা ফেলা হয়েছে, ইত্যাদি।
৮. এখন ব্লগে/আওয়ামী মিডিয়াতে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে প্রশাসনকে না জানিয়ে বিএনপি সেখানে সমাবেশ করেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29253833 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29253833 2010-10-12 22:46:13
এ কোন ডিজিটাল বাংলাদেশ? এ কেমন দিন বদল? সত্যি আমরা ক্লান্ত
এই হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সার-সংক্ষেপ। মিডিয়ার কল্যাণে সমগ্র জাতিই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত। প্রধানমন্ত্রী একটি দলের সভানেত্রী, তার চেয়েও বড় পরিচয় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখলে শুধু আওয়ামী লীগ কেন, তার প্রশংসায় উল্লসিত হবে পুরো জাতি। তিনি কোনো পুরস্কার অর্জন করলে সমগ্র জাতির ভালোবাসায় নতুন করে পুরস্কৃত হবেন। কিন্তু কেন জানি, জাতি হিসেবে আমরা এ সংস্কৃতির অনুশীলন করতে পারিনি। বরং বিপরীতে গড়ে উঠেছে দলীয় সংকীর্ণতা আর তোষামোদের এক কুৎসিত প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা আর বিমানবন্দরে তাঁর সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে সেটি আবারো প্রমাণিত হয়েছে।

যানজটের ভয়াবহতায় পুরো নগরবাসী দিশেহারা। দিন দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে সহনশীলতার মাত্রা। দাঁতে দাঁত চেপে মেনে নিতে হয় এই জগদ্দল। ভিআইপিদের যাতায়াতের সময় সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার নিয়ম তো আছেই, তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা! বুধবার বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে সংবর্ধনা দেয়া হলো তাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি কতটুকু সমুন্নত হলো? সংবর্ধনার কারণে সৃষ্ট যানজটের শিকার হাজার হাজার নগরবাসীর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকার মধ্য দিয়ে কষ্ট, ক্ষোভ আর হতাশার যে মিশ্রণ তৈরি হলো, তা প্রধানমন্ত্রীর অর্জনের সমান্তরালে একটি ক্ষত চিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেবে বলেই আমাদের ধারণা।

এই সংবর্ধনা বিমানবন্দরেই দিতে হবে, বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই অপরিহার্যতার যৌক্তিকতা কী? এটি কি পল্টন ময়দান কিংবা অন্য কোথাও পরবর্তী সময়ে করা যেত না? সংবর্ধনায় সৃষ্ট যানজটের ভয়াবহতা এতটাই প্রকট ছিল যে, প্রায় সব দৈনিকই সংবর্ধনার খবরের পাশাপাশি যানজটের খবরটিও ছাপতে বাধ্য হয়েছে।

অন্য আরো কয়েকটি পত্রিকার শেষ পাতার খবর ‘প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় না যাওয়ায় ঢাবি হলের ৪৪ ছাত্র বিতাড়িত’। ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের। হলের ১১০২ ও ১১০৮ নম্বর কক্ষের ৪৪ জন ছাত্রকে গেস্ট রুমে ডেকে পাঠান হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি। প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা কেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যায়নি। কেউ বলেন দীর্ঘদিন ধরে গাদাগাদি করে কষ্টে থাকার কথা। কেউ বলেন পরের দিনের পরীক্ষার কথা। কোনো কথাই আমলে না নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ওই ৪৪ জন ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেন। সময় তখন রাত ১১টা। পত্রিকাগুলো রাত দেড়টা পর্যন্ত খবর দিয়েছে। তখনো পর্যন্ত ৪৪ জন ছাত্র হলের বাইরে খোলা আকাশের নিচে। ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ শাকিবের বক্তব্য, ‘কর্মসূচিতে না গেলে তাদের হল থেকে বের করে দেবে না তো কী করবে?’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কষ্ট করে একবার ভাবুন, কোনো এক মায়ের কোনো এক সন্তান ওই ৪৪ জনের একজন। আপনি নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফেরার ভ্রমণ-ক্লান্তিতে হয়তো খুব সহজেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু ওই মা! তিনি যখন জেনেছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অধ্যয়নরত তার ছেলে বিনা অপরাধে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করছে, তখন তার চোখে ঘুমের বদলে ঝরে পড়ছে রাশি রাশি অশ্রু। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র কোনো অনুষ্ঠানে যেতে বাধ্য নয়। হলে থাকা তার অধিকার; কোনো দল বা ব্যক্তির করুণা নয়। তবে এ কোন ডিজিটাল বাংলাদেশ? এ কেমন দিন বদল? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29250088 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29250088 2010-10-05 22:35:25
সেই দুই বির্তকিত বিচারপতির শপথ যে কোনো সময়

হাইকোর্টে নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারপতি অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস বাবু ও অ্যাডভোকেট মো. খসরুজ্জামানের শপথের জন্য অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যে কোনো সময় তাদের শপথ করানো হতে পারে। শপথের পক্ষে সরকারের উচ্চমহলে আলোচনা চলছে।

এ দুই বিচারপতিকে শপথ না পড়ানোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের দৃঢ় অবস্থান এবং নিয়োগ বাতিল না করার সিদ্ধান্তে সরকার অনড় থাকায় গত প্রায় ৬ মাস ধরে বিষয়টি ঝুলে আছে। প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম আজ অবসরে যাচ্ছেন। তার স্থলাভিষিক্ত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস বাবু ও অ্যাডভোকেট মো. খসরুজ্জামানকে শপথ করাবেন বলেই মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এদিকে সরকারের উচ্চ মহলের দেওয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এ দুই বিচারপতি শপথের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ অবস্থায় তারা আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেননি। আবার, বিচারপতির আসনেও বসতে পারেননি। ফলে, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নিভৃতে বসবাস করছেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশে গত ১১ এপ্রিল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস বাবু ও অ্যাডভোকেট মো. খসরুজ্জামানসহ ১৭ জনকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। এ ব্যাপারে ওইদিন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়। একটি হত্যা মামলার আসামি উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস বাবু এবং প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছিলেন উল্লেখ করে মো. খসরুজ্জামানকে শপথ না পড়ানোর দাবিতে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা সেসময় প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অবশ্য ওই সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতারা এ দুজনকে শপথ পড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হন। এ পরিস্থিতিতে ১৮ এপ্রিল রুহুল কুদ্দুস বাবু ও মো. খসরুজ্জামানকে বাদ দিয়ে বাকি ১৫ জনকে শপথ পড়ানো হয়। সরকার গতবছর মামলা প্রত্যাহার করলে রুহুল কুদ্দুস বাবু অভিযোগমুক্ত এবং মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29247767 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29247767 2010-09-30 22:48:34
ফেসবুকে নিয়মিত তারেক রহমান
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ভাবনা দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করছেন। তার ব্লগেও অভাবনীয় সাড়া পড়েছে। ভক্তরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। এর জবাবে তিনিও ব্লগের মাধ্যমে সবাইকে তার কথা জানিয়ে দিচ্ছেন।

জিয়ার পরিবার ও বিএনপির জন্ম সম্পর্কে প্রথম আলোয় সম্প্রতি প্রকাশিত একটি লেখা ভক্তরা ফেসবুকে লিংকের মাধ্যমে তার কাছে পাঠান। এর জবাবে সর্বশেষ ২৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান নিজ ব্লগে লেখেন, "প্রতিদিনের সংবাদপত্রে আমাদের একটা জিনিসই চোখে পড়ে যে, এটি হচ্ছে জিয়া-পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক আলোচনা। আর এটি করার জন্য আওয়ামী লীগের কিছু মন্ত্রী সব সময় প্রস্তুত থাকেন। সামনে ঈদ। কিন্তু যানজট নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি...এসব কোনো কিছু নিয়েই তাদের কোনো চিন্তা নেই। আমাদের এখন পিছনে না ফিরে সামনের দিকে এগোতে হবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।"

এর আগে আরেকটি ব্লগে তিনি লেখেন, "একটি বাহিনী একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রত্যক্ষভাবে অপহরণ করে নিয়ে যায়, আর সে ফিরে আসে না। একজন এমপি মিছিল করতে গেলে সরকারদলীয় ছাত্ররা তাকে লাঠিপেটা করে, পুলিশ ঘিরে থাকে, যেন কেউ তাকে বাঁচাতে আসতে না পারে। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতাসীনরা প্রতিপক্ষের নারীনেত্রীকে গণধর্ষণ করে। সেসব খবর ভয়ে কোনো পত্রিকা ছাপতে পারে না। ছাত্রী-হোস্টেলে জোরপূর্বক নারী ব্যবসা করে সরকারদলীয় ছাত্রনেতারা। আমরা কি বলতে পারব, বাহাত্তর-পঁচাত্তরের পর কি এমন দুর্দিন আর কখনো দেখেছি?"

ব্লগে বিশ্লেষণী লেখনীর মাধ্যমে তারেক রহমান দূরদেশে থেকেও এভাবেই বাংলাদেশে তার ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29247279 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29247279 2010-09-29 23:10:10
আকদ হবার পর কি কোন বিধি-নিষেধ আছে? http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29232215 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29232215 2010-08-30 10:59:56 অত:পর আমার বিবাহ
অবশেষে এই রোজার মাসে আল্লাহর রহমতে সব পক্ষরে রাজি করানো গেল।

রোজার পর পরই বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। রোজার শেষ দিকে আকদ করে ফেলার একটা সম্ভাবনাও আছে।

সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29225782 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29225782 2010-08-19 15:16:45
ফেল্লাচি বলেছিলো শেখ মুজিব ভুয়া এবং মেকী

২৯ জুন ইতালিয়ান লেখিকা ওরিয়েনা ফাল্লাচির জন্মদিন। বাংলাদেশের সচেতন মহল এই নামটির সাথে পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে তার নেয়া একটি সাক্ষাতকার বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই দেশের মানুষের প্রতি তার মূল্যায়ন এখনকার সময়ে এসে অতি প্রয়োজনীয় হিসাবে দেখা দিয়েছে। এই ধরনের সত্যব্রত সাংবাদিক পৃথিবীতে খুব একটা বেশি জন্মলাভ করেনি। প্রথমে তার জন্ম দিনে তাকে স্মরণ করছি। ২০০৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যবরন করেন তিনি। তিনি এমন একজন সাংবাদিক ছিলেন যে কথপোকথনের মাধ্যমে আসল সত্যকে উদ্ধার করতে পারতেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে তার সম্পর্ক কি সেটা বলার আগে তার সম্পর্কে কিছুটা আমি উল্ল্যেখ করছি।

ইতালিয়ান লেখিকা ওরিয়ানা ফাল্লাচি আপসহীন রাজনৈতিক সাক্ষাতকার গ্রহণকারী হিসেবেই সবচেয়ে পরিচিত। তিনি ১৯২৯ সালের ২৯ জুন ইতালির ফোরেন্সে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ফ্যাসিবাদ বিরোধী একজন সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘ পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফল। সাংবাদিক হিসেবে ওরিয়ানা আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত রাজনৈতিক ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। তাদের মাঝে হেনরি কিসিঞ্জার, ইরানের শাহ, আয়াতুল্লাহ খোমিনি, উইলি ব্রান্ডিট, জুলফিকার আলী ভুট্টো, ওল্টার ক্রনকিট, ওমর খাদাফি, ফেডরিকো ফেলিনি, ইয়াসির আরাফাত, ইন্দিরা গান্ধী, শেখ মুজিব,শন কনারি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওরিয়ানা ফাল্লাচি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক স্বশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী 'গুইয়াসতিজিয়া ই লিবার্তা'য় যোগ দেন। তার পিতা এদোয়ার্দো ফাল্লাচি ছিলেন একজন কাঠশিল্পী ও সক্রিয় রাজনৈতিককর্মী। ইতালির ফ্যাসিস্ট বেনিটো মুসোলিনি'র বিরুদ্ধে তারা সংগ্রাম করছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছেন। তবে এর জন্যে এদোয়ার্দো ফাল্লাচিকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। মুসোলিনির বিরুদ্ধে আন্দোলনে ওরিয়ানার পিতা এদোয়ার্দো একবার ধরা পড়েন। অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। রাজনৈতিক ম্যাগাজিন 'এল ইউরোপীয়' তে দীর্ঘদিন বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বহু খ্যাতনামা সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনে লেখালেখি করেছেন। ১৯৬৮ সালে মেক্সিকান স্বশস্ত্র গোষ্ঠী ওরিয়ানার ওপর তিনবার বন্দুক হামলা চালায়। প্রতিবারই তিনি অল্পের জন্যে প্রাণে রক্ষা পান। ১৯৭৩ সালে সাক্ষাতকার নিতে গিয়ে আলেক্সজান্ডার প্যানাগোউলিস'র প্রেমে পড়েন তিনি। ১৯৬৭ সালের গ্রিক একনায়কের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন আলেক্সজান্ডার প্যানাগোউলিস। ১৯৭২ সালে ওরিয়ানা ফাল্লাচিকে দেয়া সাক্ষা'কারে হেনরি কিসিঞ্জার, 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ'কে অপ্রয়োজনীয় বলে স্বীকার করে নেন। কিসিঞ্জার পরবর্তীতে এই সাক্ষাতকার সম্পর্কে লিখেছেন, 'প্রেসের সঙ্গে জড়িত কারো সঙ্গেই ইতোপূর্বে আমি এতো ভয়ঙ্কর কোনো আলোচনা করিনি।' 'লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস' এ ওরিয়ানাকে চিত্রিত করা হয়েছে এভাবে, 'কোনো বিশ্ব ব্যক্তিত্বের পক্ষেই যে সাংবাদিককে 'না' বলা সম্ভব নয়।' নিজের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন ছিল, 'আমি কখনোই নিজেকে শান্ত একটি রেকর্ডারের মতো বিবেচনা করি না, যে শুধু যা দেখে এবং শোনে সাফল্যের সঙ্গে তাই ধারণ করে রাখে। 'ওরিয়ানা ফাল্লাচির এই বক্তব্যের মধ্যে তার নিজস্ব দর্শনের কিছুটা ছাপ পাওয়া যায়। অর্থাত সবকিছুর পরও নিজের অভিমত বা সিদ্ধান্তকে তিনি মর্যাদা দিতে আগ্রহী। ওরিয়ানা তাঁর নেয়া সাক্ষাতকার সম্পর্কে বলেছেন, 'প্রতিটি সাক্ষা'কারই আমার নিজের আঁকা ছবি।' বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমি যদি চিত্রকর হতাম এবং তখন তোমার ছবি আঁকতাম, তবে সে সময় আমি যেভাবে তোমাকে আঁকতে চাইতাম সেভাবে আঁকার অধিকার কি আমার থাকতো না?'

সাংবাদিকতায় ওরিয়ানা ফাল্লাচি দুইবার সম্মানজনক 'সেন্ট ভিনসেন্ট' পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়াও সাংবাদিকতায় এবং লেখালেখির কারণে তিনি বহু পুরস্কার অর্জন করেন। শিকাগোর কলাম্বিয়া কলেজ তাঁকে 'ডি লিট' সম্মানে ভূষিত করেছে। ওরিয়ানা ফাল্লাচি ইউনির্ভার্সিটি অব শিকাগো, ইয়েল ইউনিভার্সিটি, হার্ভাড ইউনিভার্সিটি এবং কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দিয়েছেন। ওরিয়ানা ফাল্লাচি’র লেখা বিশ্বের প্রায় ২১টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে, এ ম্যান (১৯৭৯), দ্য সেভেন সিনস অব হলিউড (১৯৫৮), দ্য ইউজলেস সেক্স: ভয়েজ অ্যারাউন্ড দ্য ওম্যান, (১৯৬১), পেনেলোপ এট ওয়ার (১৯৬২), লাইমলাইটার্স (১৯৬৩), দ্য ইগোটিস্ট: সিক্সটিন সারপ্রাইজিং ইন্টারভিউস (১৯৬৩), কুয়েল জিওরনো সুলা লুনা (১৯৭০), ইনশাল্লাহ, ইফ দ্য সান ডাইস, ইন্টারভিউ উইথ হিস্টরি (১৯৭৬), লেটার টু অ্যা চাইল্ড নেভার বর্ন, নাথিং অ্যান্ড সো বি ইট, ওরিয়ানা ফাল্লাসি ইন্টারভিসতা ওরিয়ানা ফাল্লাচি (২০০৪), দ্য রেজ অ্যান্ড দ্য প্রাইড (২০০১) এবং দ্য ফোর্স অব রিজন (২০০৪) উল্লেখযোগ্য।

জীবনের শেষ বছরটি তিনি কাটিয়েছেন নিউইয়র্কে। সেখানে তিনি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিতসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি আর টিকে থাকেননি। ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর , ৭৭ বছর বয়সে নিজ শহর ইতালির ফোরেন্সে চিরঘুমের দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আমৃত্যু সংগ্রামী ওরিয়ানা ফাল্লাচি ।(ইনফরমেশন গুলো ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ও কিছু অনুবাদ করা)

১৯৭২ সালের ফেব্রিয়ারীতে ফেল্লাচি বাংলাদেশে আসেন শেখ মুজিবের সাক্ষাতকার নেবার জন্য।এই সাক্ষাতকারে মুজিব কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন সেই সম্পর্কে বিষদ বিবরন তিনি দিয়েছেন।সাক্ষাতকারটি এতো বড় যে সেটা এখানে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।এই সাক্ষাতকারটির অংশগুলো আমি সাংবাদিক এবং অনুবাদক আনোয়ার হোসাইন মঞ্জুর লেখা থেকে সম্পাদনা করেছি।

রবিবার সন্ধ্যা : আমি কলকাতা হয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করেছি। সত্যি বলতে কি, ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তাদের বেয়নেট দিয়ে যে যজ্ঞ চালিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করার পর পৃথিবীতে আমার অন্তিম ইচ্ছা এটাই ছিল যে, এই ঘৃণ্য নগরীতে আমি আর পা ফেলবো না। এ রকম সিদ্ধান্ত আমি নিয়েই ফেলেছিলাম। কিন্তু আমার সম্পাদকের ইচ্ছা যে, আমি মুজিবের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। ভুট্টো তাকে মুক্তি দেয়ার পর আমার সম্পাদকের এই সিদ্ধান্ত যথার্থ ছিল। তিনি কি ধরনের মানুষ? আমার সহকর্মীরা স্বীকৃতি দিল, তিনি মহান ব্যক্তি, সুপারম্যান। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দেশকে সমস্যামুক্ত করে গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করতে পারেন।
আমার স্মরণ হলো, ১৮ ডিসেম্বর আমি যখন ঢাকায় ছিলাম, তখন লোকজন বলছিল, ‘মুজিব থাকলে সেই নির্মম, ভয়ঙ্কর ঘটনা কখনোই ঘটতো না। মুজিব প্রত্যাবর্তন করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না’। কিন্তু গতকাল মুক্তিবাহিনী কেন আরো ৫০ জন নিরীহ বিহারিকে হত্যা করেছে? ‘টাইম’ ম্যাগাজিন কেন তাকে নিয়ে বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে হেডলাইন করেছে? আমি বিস্মিত হয়েছি, এই ব্যক্তিটি ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে সাংবাদিক অ্যালডো শানতিনিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমার দেশে আমি সবচেয়ে সাহসী এবং নির্ভীক মানুষ, আমি বাংলার বাঘ, দিকপাল ... এখানে যুক্তির কোনো স্থান নেই ...।’ আমি বুঝে উঠতে পারিনি, আমার কি ভাবা উচিত।......

...... আমরা রান্নাঘরে প্রবেশ করে দেখলাম, মুজিবের স্ত্রী খাচ্ছেন। সঙ্গে খাচ্ছে তার ভাগনে ও মামাতো ভাইবোনেরা। একটা গামলায় ভাত-তরকারি মাখিয়ে আঙ্গুল দিয়ে মুখে পুরে দিচ্ছে সবাই। এ দেশে খাওয়ার পদ্ধতি এ রকমই। মুজিবের স্ত্রী আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। ঠিক তখনই মুজিব এলেন। সহসা রান্নাঘরের মুখে তার আবির্ভাব হলো। তার পরনে এক ধরনের সাদা পোশাক, যাতে আমার কাছে তাকে মনে হয়েছিল একজন প্রাচীন রোমান হিসেবে। পোশাকের কারণে তাকে দীর্ঘ ও ঋজু মনে হচ্ছিল। তার বয়স একান্ন হলেও তিনি সুপুরুষ। ককেশীয় ধরনের সুন্দর চেহারা। চশমা ও গোফে সে চেহারা হয়েছে আরো বুদ্ধিদীপ্ত। যে কারো মনে হবে, তিনি বিপুল জনতাকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি স্বাস্থ্যের অধিকারী।

আমি সোজা তার কাছে গিয়ে পরিচয় পেশ করলাম এবং আমার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলাম। মি. সরকার ভূমিতে পতিত হয়ে মুজিবের পদচুম্বন করলেন। আমি মুজিবের হাতটা আমার হাতে নিয়ে বললাম, ‘এই নগরীতে আপনি ফিরে এসেছেন দেখে আমি আনন্দিত, যে নগরী আশঙ্কা করছিল যে আপনি আর কোনোদিন এখানে ফিরবেন না।’ তিনি আমার দিকে তাকালেন একটু উষ্মার সঙ্গে। একটু অবজ্ঞার হাসি হেসে বললেন, ‘আমার সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলো।’
আমার দ্বিধা ও সন্দেহের কারণ উপলব্ধি করা সহজ। মুজিবকে আমি জেনে এসেছি একজন গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রী হিসেবে। যখন আমি দম নিচ্ছিলাম, একজন যুবক আমার কাছে এসে বললো, সে ভাইস সেক্রেটারি। বিনয়ের সঙ্গে সে প্রতিশ্রুতি দিল, বিকাল চারটার সময় আমি ‘সরকারি বাসভবনে’ হাজির থাকতে পারলে আমাকে দশ মিনিট সময় দেয়া হবে।...

সেই সময়ের ঢাকা নগরীকে তিনি এই ভাবে তুলে ধরেছেন- ......বিকাল সাড়ে তিনটায় নগরী ক্লান্ত, নিস্তব্ধ, ঘুমন্ত মধ্যাহ্নের বিশ্রাম নিচ্ছে। রাস্তায় কাধে রাইফেল ঝুলানো মুক্তিবাহিনী টহল দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষ হয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু এখনো তাদের হাতে অস্ত্র আছে। তারা রাত-দিন টহল দেয়। এলোপাতাড়ি বাতাসে গুলি ছোড়ে এবং মানুষ হত্যা করে। হত্যা না করলে দোকানপাট লুট করে। কেউ তাদের থামাতে পারে না, এমনকি মুজিবও না। সম্ভবত তিনি তাদের থামাতে সক্ষম নন। তিনি সন্তুষ্ট এজন্য যে, নগরীর প্রাচীর তার পোস্টার সাইজের ছবিতে একাকার। মুজিবকে আমি আগে যেভাবে জেনেছিলাম, তার সঙ্গে আমার দেখা মুজিবকে মেলাতে পারছি না।...

ফেল্লাচি মুজিবের চারিত্রিক এবং ব্যক্তিত্যের বৈশিষ্ট্য নিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করেছেন এইভাবে... সোমবার সন্ধ্যা : আমি যে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছি এটা ছিল একটা দুর্বিপাক। তার মানসিক যোগ্যতা সম্পর্কে আমার সন্দেহ ছিল। এমনকি হতে পারে যে, কারাগার এবং মৃত্যু সম্পর্কে ভীতি তার মস্তিষ্ককে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছে? তার ভারসাম্যহীনতাকে আমি আর কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারি না। একই সময়ে আমি বলতে চাচ্ছি, কারাগার এবং মৃত্যুর ভয় ইত্যাদি... সম্পর্কে কাহিনীগুলো... আমার কাছে এখনো খুব স্পষ্ট নয়। এটা কি করে হতে পারে যে, তাকে যে রাতে গ্রেফতার করা হলো, সে রাতে সব পর্যায়ের লোককে হত্যা করা হলো? কি করে কি করে এটা হতে পারে যে, তাকে কারাগারের একটি প্রকোষ্ঠ থেকে পলায়ন করতে দেয়া হলো, যেটি তার সমাধিসৌধ হতো? তিনি কি গোপনে ভুট্টোর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন? আমি যতো তাকে পর্যবেক্ষণ করেছি, ততো মনে হয়েছে, তিনি (মুজিব) কিছু একটা লুকাচ্ছেন।...
এরপর ফেল্লাচি মুজিবের অফিসে যায় এবং তার সাথে কথা বলার বিবরন দিতে গিয়ে বলেন মুজিব তারসাথে খুব একটা ভালো ব্যবহার করেননি।তিনি সাক্ষাতকারটি এইভাবে নিয়েছেন- কেউ আমাকে অভ্যর্থনা জানালো না। কেউ আমার উপস্থিতিকে গ্রাহ্য করলো না। মুজিব আমাকে বসতে বলার সৌজন্য প্রদর্শন না করা পর্যন্ত সুদীর্ঘক্ষণ নীরবতা বিরাজ করছিল। আমি সোফার ক্ষুদ্র প্রান্তে বসে টেপ রেকর্ডার খুলে প্রথম প্রশ্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু আমার সে সময়ও ছিল না। মুজিব চিৎকার শুরু করলেন, ‘হারি আপ, কুইক, আন্ডারস্ট্যান্ড? নষ্ট করার মতো সময় আমার নেই। ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?... পাকিস্তানিরা ত্রিশ লক্ষ লোক হত্যা করেছে, ইজ দ্যাট কিয়ার... আমি বললাম, ‘মি. প্রাইম মিনিস্টার...।’ মুজিব আবার চিৎকার শুরু করলেন, ‘ওরা আমার নারীদেরকে তাদের স্বামী ও সন্তানদের সামনে হত্যা করেছে। স্বামীদের হত্যা করেছে তাদের ছেলে ও স্ত্রীর সামনে। মা-বাপের সামনে ছেলেকে, ভাইবোনের সামনে ভাইবোনকে ... ‘মি. প্রাইম মিনিস্টার... আমি বলতে চাই...’
‘তোমার কোনো কিছু চাওয়ার অধিকার নেই, ইজ দ্যাট রাইট?’
‘আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া হলো। কিন্তু একটা বিষয় সম্পর্কে আমি আরো কিছু জানতে চাই।’ বিষয়টা আমি বুঝতে পারছিলাম না। ‘মি. প্রাইম মিনিস্টার, গ্রেফতারের সময় কি আপনার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল।’
‘নো, ম্যাডাম নো। তারা জানতো, ওতে কিছু হবে না। তারা আমার বৈশিষ্ট্য, আমার শক্তি, আমার সম্মান, আমার মূল্য, বীরত্ব সম্পর্কে জানতো, আন্ডারস্ট্যান্ড?’
‘তা বুঝলাম। কিন্তু আপনি কি করে বুঝলেন যে তারা আপনাকে ফাঁসিতে ঝোলাবে? ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়?’
‘নো, নো ডেথ সেনটেন্স।’
এই পর্যায়ে তাকে দ্বিধাগ্রস্ত মনে হলো এবং তিনি গল্প বলতে শুরু করলেন, ‘আমি এটা জানতাম। কারণ ১৫ ডিসেম্বর ওরা আমাকে কবর দেয়ার জন্য একটা গর্ত খনন করে।’
‘কোথায় খনন করা হয়েছিল সেটা?’
‘আমার সেলের ভেতরে।’
‘আমাকে কি বুঝে নিতে হবে যে গর্তটা ছিল আপনার সেলের ভেতরে?’
‘ইউ মিস আন্ডারস্ট্যান্ড।’
‘আপনার প্রতি কেমন আচরণ করা হয়েছে মি. প্রাইম মিনিস্টার?’
‘আমাকে একটা নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হয়েছিল। এমনকি আমাকে সাক্ষাৎকারের অনুমতি দেয়া হতো না, সংবাদপত্র পাঠ করতে বা চিঠিপত্রও দেয়া হতো না, আন্ডারস্ট্যান্ড?’’
‘তাহলে আপনি কি করেছেন?’
‘আমি অনেক চিন্তা করেছি, পড়াশোনা করেছি।’
‘আপনি কি পড়েছেন?’
‘বই এবং অন্যান্য জিনিস।’
‘তাহলে আপনি কিছু পড়েছেন।’
‘হ্যা, কিছু পড়েছি’।
‘কিন্তু আমার ধারণা হয়েছিল, আপনাকে কোনো কিছুই পড়তে দেয়া হয়নি।’
‘ইউ মিস আন্ডারস্টুড।’
‘তা বটে মি. প্রাইম মিনিস্টার। কিন্তু এটা কি করে হলো যে, শেষ পর্যন্ত ওরা আপনাকে ফাঁসিতে ঝোলালো না।’
‘জেলার আমাকে সেল থেকে পালাতে সহায়তা করেছেন এবং তার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন।’
‘কেন, তিনি কি কোনো নির্দেশ পেয়েছিলেন?’
‘আমি জানি না। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আমি কোনো কথা বলিনি এবং তিনিও আমার সঙ্গে কিছু বলেননি।’
‘নীরবতা সত্ত্বেও কি আপনারা বন্ধুতে পরিণত হয়েছিলেন?’
‘হ্যা, আমাদের মধ্যে বহু আলোচনা হয়েছে এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমাকে সাহায্য করতে চান।’
‘তাহলে আপনি তার সঙ্গে কথা বলেছেন?’
‘হ্যা, আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি।’
‘আমি ভেবেছিলাম, আপনি কারো সঙ্গেই কথা বলেননি।’
‘ইউ মিস আন্ডারস্টুড।’
‘তা হবে মি. প্রাইম মিনিস্টার। যে লোকটি আপনার জীবন রক্ষা করলো আপনি কি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন না?’
‘এটা ছিল ভাগ্য। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি।’...
এরপর ফেল্লাচি মুজিবের সাথে নানা প্রসঙ্গে জানতে চান কিন্তু শেখ মুজিব তাকে ডমিনেট করে কথা বলতে থাকে।মুজিবের ব্যক্তিগত সম্পত্তির দুঃখ যে তার মনকস্টের কারন হয়ে আছে সেটা ফেল্লাচির কাছে অবাক করেছে।ফেল্লাচি বিষয়টিকে এভাবে লিখেছে-
... আমার বাড়ি, জমি, সম্পত্তি ধ্বংস করেছে, আমার...(মুজিব)।’

তিনি যখন তার সম্পত্তির অংশে পৌছলেন, তার মধ্যে এমন একটা ভাব দেখা গেল, যা থেকে তাকে এ প্রশ্নটা করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করলাম যে, তিনি সত্যিই সমাজতন্ত্রী কি না? তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যা...’। তার কণ্ঠে দ্বিধা। তাকে আবার বললাম, সমাজতন্ত্র বলতে তিনি কি বোঝেন? তিনি উত্তর দিলেন, ‘সমাজতন্ত্র’। তাতে আমার মনে হলো, সমাজতন্ত্র সম্পর্কে তার যথার্থ ধারণা নেই।
এরপর ১৮ ডিসেম্বর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি রাগে ফেটে পড়লেন। নিচের অংশটুকু আমার টেপ থেকে নেয়া:
‘ম্যাসাকার? হোয়াট ম্যাসাকার?’
‘ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত ঘটনাটি।’
‘ঢাকা স্টেডিয়ামে কোনো ম্যাসাকার হয়নি। তুমি মিথ্যে বলছো।’
‘মি. প্রাইম মিনিস্টার, আমি মিথ্যেবাদী নই। সেখানে আরো সাংবাদিক ও পনেরো হাজার লোকের সঙ্গে আমি হত্যাকা- প্রত্যক্ষ করেছি। আপনি চাইলে আমি আপনাকে তার ছবিও দেখাবো। আমার পত্রিকায় সে ছবি প্রকাশিত হয়েছে।’
‘মিথ্যেবাদী, ওরা মুক্তিবাহিনী নয়।’
“মি. প্রাইম মিনিস্টার, দয়া করে ‘মিথ্যেবাদী’ শব্দটি আর উচ্চারণ করবেন না। তারা মুক্তিবাহিনী। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং তারা ইউনিফর্ম পরা ছিল।”
‘তাহলে হয়তো ওরা রাজাকার ছিল যারা প্রতিরোধের বিরোধিতা করেছিল এবং কাদের সিদ্দিকী তাদের নির্মূল করতে বাধ্য হয়েছে।’
‘মি. প্রাইম মিনিস্টার, কেউ প্রমাণ করেনি যে, লোকগুলো রাজাকার ছিল এবং কেউই প্রতিরোধের বিরোধিতা করেনি। তারা ভীতসন্ত্রস্ত ছিল। হাত-পা বাধা থাকায় তারা নড়াচড়াও করতে পারছিল না।’
‘মিথ্যেবাদী।’
“শেষবারের মতো বলছি, আমাকে ‘মিথ্যেবাদী’ বলার অনুমতি আপনাকে দেবো না।”
‘আচ্ছা সে অবস্থায় তুমি কি করতে?’
‘আমি নিশ্চিত হতাম যে, ওরা রাজাকার ও অপরাধী। ফায়ারিং স্কোয়াডে দিতাম এবং এভাবেই এই ঘৃণ্য হত্যাকা- এড়াতাম।’
‘ওরা ওভাবে করেনি। হয়তো আমার লোকদের কাছে বুলেট ছিল না।’
‘হ্যা তাদের কাছে বুলেট ছিল। প্রচুর বুলেট ছিল। এখনো তাদের কাছে প্রচুর বুলেট রয়েছে। তা দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গুলি ছোড়ে। ওরা গাছে, মেঘে, আকাশে, মানুষের প্রতি গুলি ছোড়ে শুধু আনন্দ করার জন্য।...

ফেল্লাচির প্রতি মুজিব যে দূর্ব্যবহার করেছে তার জন্য সেটি তিনি এভাবে বিবৃত করেছেন- ......সোমবার রাত : গোটা ঢাকা নগরী জেনে গেছে, মুজিব ও আমার মধ্যে কি ঘটেছে। শমশের ওয়াদুদ নামে একজন লোক ছাড়া আমার পক্ষে আর কেউ নেই। লোকটি মুজিবের বড় বোনের ছেলে। এই যুবক নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছে তার মামার কাছে। তার মতে মুজিব ক্ষমতালোভী এবং নিজের সম্পর্কে অতি উচ্চ ধারণাসম্পন্ন অহঙ্কারী ব্যক্তি। তার মামা খুব মেধাসম্পন্ন নয়। বাইশ বছর বয়সে মুজিব হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির সচিব হিসেবে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এছাড়া আর কিছু করেননি তিনি। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে, মুজিব একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন। ওয়াদুদের মতে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণ এটা নয়। আসলে একমাত্র ওয়াদুদের মাকেই মুজিব ভয় করেন। এই দুঃখজনক আচরণের জন্য তিনি পারিবারিকভাবে প্রতিবাদ জানাবেন।...

ফেল্লাচি ৭০ এর নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেছেন- কেউ কি জানে ১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি কেন বিজয়ী হয়েছিলেন? কারণ সব মাওবাদী তাকে ভোট দিয়েছিল। সাইক্লোনে মাওবাদীদের অফিস বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং তাদের নেতা ভাসানী আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জনগণকে যদি আবার ভোট দিতে বলা হয়, তাহলে মুজিবের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্নতর হবে, যদি তিনি বন্দুকের সাহায্যে তার ইচ্ছাকে চাপিয়ে দিতে না চান। সেজন্যই তিনি মুক্তিবাহিনীকে অস্ত্রসমর্পণের নির্দেশ দিচ্ছেন না এবং আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, রক্তপিপাসু কসাই, যে ঢাকা স্টেডিয়ামে হত্যাযজ্ঞ করেছিল, সেই আবদুল কাদের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা।...

ফেল্লাচি দ্বিতীয়বারের মত মুজিবের সাথে সাক্ষাতের জন্য রাষ্ট্রপতির দ্বারস্ত হন এবং তিনি মুজিবকে অনুরোধ করতে গেলে উলটো ধমক খান।যাইহোক ফেল্লাচি আবার মুজিবের সাথে দেখা করার একটা ব্যবস্থা করেন।সময়মত তার কক্ষে প্রবেশ করতেই তাকে বের হয়ে যেতে বলে শেখ মুজিব।

“আমিও অফিসে ঢুকলাম। আমার দিকে ফিরে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘গেট আউট’।“...আমাকে এখনই বের হয়ে যেতে হবে এবং আবার আমি যেন এ দেশে পা না দিই।...

এই পর্যায়ে আমি নিজের ওপর সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললাম এবং আমার মাঝে উত্তেজনার যে স্তূপ গড়ে উঠেছিল তা বিস্ফোরিত হলো। আমি বললাম, তার সবকিছু মেকি, ভুয়া। তার পরিণতি হবে খুবই শোচনীয়। যখন তিনি মুখ ব্যাদান করে দাড়ালেন, আমি দৌড়ে বেরিয়ে এলাম এবং রাস্তায় প্রথম রিকশাটায় চাপলাম। হোটেলে গিয়ে বিল পরিশোধ করলাম। স্যুটকেসটা হাতে নিয়ে যখন বেরুতে যাচ্ছি, তখন দেখলাম মুক্তিবাহিনী নিচে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা এ কথা বলতে বলতে আমার কাছে এলো যে, আমি দেশের পিতাকে অপমান করেছি এবং সেজন্য আমাকে চরম মূল্য দিতে হবে। তাদের এ গোলযোগের মধ্যে পাচজন অস্ট্রেলিয়ানের সাহায্যে পালাতে সক্ষম হলাম। (২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)ইন্টারভিউ উইথ হিস্টরী থেকে।

আজ ফেল্লাচির জন্ম দিন তাকে বাংলাদেশিরা কোনদিনই ভুলতে পারবে না।একজন সাহসি সাংবাদিক হিসাবে বিশ্বে তার অবদান আছে অন্যদিকে একজন উত্তেজিত শাসক সম্পর্কে তার বিবরন বাংলাদেশের ইতিহাসে শুদ্ধতা আনতে সাহায্য করবে।

আবু জুবায়ের
কবি,গবেষক,কলামিষ্ট
০১১৯৮০১৬০৮২
Email:]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29222967 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29222967 2010-08-15 02:38:09
ঝটিকা সফরে এসে প্রণব মুখার্জির ‘চাল’
এরকম একটি বিষয় হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপর এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রাক্কালে তার প্রথম ঢাকা সফরের উল্লেখ করা হয় (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯)। তখন তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১০ ঘণ্টার ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের সঙ্গে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ’র সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু ‘সময়ের অভাবে’ বিরোধী দলের নেত্রী এবং তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করার সৌজন্য দেখাতে পারেননি! এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থার ব্যাপারে ব্যক্তি প্রণব মুখার্জির তো বটেই, ভারত সরকারের মনোভাবেরও ন্যক্কারজনক প্রকাশ ঘটেছিল। কারণ, গণতন্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করাটা প্রণব মুখার্জির কর্তব্য ছিল। তা না করায় মইন উ’র সঙ্গে একান্ত বৈঠক নিয়ে সে সময় প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। কারণ, ততদিনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছিল এবং মইন উ রাষ্ট্রীয় কোনো বিশেষ অবস্থানে ছিলেন না।

এবারের ঝটিকা সফরেও আলোড়ন তুলেছেন প্রণব মুখার্জি। মাত্র ঘণ্টা পাঁচেকের জন্য ৭ আগস্ট তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। ফিরে যাওয়ার কথা ছিল রাত ৮টায়। কিন্তু দেড় ঘণ্টা দেরি হয়েছে আওয়ামী লীগের তিন সিনিয়র নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের কারণে। বৈঠকটি প্রণবের ঘোষিত সফরসূচিতে ছিল না। ফলে ব্যাপক কৌতূহলের এবং জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ একে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ‘বিশেষ বার্তা’ মনে করছেন। অনেকে আবার পরোক্ষ ‘ধমক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা বলেছেন, প্রণব মুখার্জি বুঝিয়ে গেছেন, ঢাকায় আওয়ামী লীগের মধ্যেই ভারতের ‘সেকেন্ড লাইন’ রয়েছে। অন্যদিকে পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ঢাকায় প্রণব বাবুর অনেক ‘বন্ধু’ আছেন। তিনি তার কোন ‘বন্ধু’র সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন তা তো আমি বলে দিতে পারি না। দীপু মনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, ওই বৈঠক সম্পর্কে তিনি জেনেছেন পত্রিকা থেকে। আগে জানতেন না।

আওয়ামী লীগের তিন সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে প্রণব মুখার্জির বৈঠক নিয়ে আলোচনা জমে ওঠার কারণ বুঝতে হলে এই নেতাদের দিকে নজর ফেরাতে হবে। মইন উ’দের দিনগুলোতে তারা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলেন। আবদুর রাজ্জাক এবং এই তিনজন সে সময় ‘র্যাটস’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। বৈঠকে শুধু ‘র্যাটস’-এর রাজ্জাক ছিলেন না, সম্ভবত অসুস্থতার কারণে। তিনজনের মধ্যে আবার সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে প্রণব মুখার্জির বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে বাজারে অনেক রটনা রয়েছে। উদ্দিন সাহেবদের সময় কলকাতার ঢাকুরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত প্রণব মুখার্জির অ্যাপার্টমেন্টে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের যাওয়া ও অবস্থান করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। কারণ, একান্ত ব্যক্তিগত ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রণব মুখার্জি সাধারণত অতি ঘনিষ্ঠজনদের ছাড়া অন্য কাউকে যেতে দেন না। অন্যদিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নাকি সেখানে মাঝে-মধ্যেই গিয়ে থাকেন।

কথা অবশ্য শুধু সুরঞ্জিতের কারণে ওঠেনি। রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় প্রধান চরিত্রে রয়েছেন প্রণব মুখার্জি। দ্বিতীয় পর্যায়ে এসেছে তার সেই তিন ‘বন্ধু’র নাম—যাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানান দিয়ে রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। সরকার পতনের ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেখানো থেকে গৃহযুদ্ধের হুমকি দেয়া পর্যন্ত নানাভাবে ‘তুফান’ বইয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতির ‘তুখোড় খেলোয়াড়’ হিসেবে প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন তিনি। এই আবদুল জলিল গত বছরের ২১ এপ্রিল সাংবাদিকদের কাছে রীতিমত তথ্য বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গেছেন। নিজের সুখ-দুঃখ আর অভিমানের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ওয়ান-ইলেভেনে ডিজিএফআইয়ের দালালি করে যারা সুবিধা নিয়েছে তারাই এখনও সুবিধা নিচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকেই ডিজিএফআইয়ের ‘পেইড এজেন্ট’। নাম ধরে ধরে তিনি বলেছেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ডিজিএফআইয়ের দালালি করেছেন। আবদুল জলিলের ভাষাও ছিল যথেষ্ট আক্রমণাত্মক—‘সব ব্যাটা ওই সময় ডিজিএফআইয়ের দালালি করেছে। কে দালালি করেনি সাহস থাকলে বলুক।’ জলিল আরও বলেছিলেন, তখন কারা সকালে ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে মিটিং করে বিকালে দলের সভায় অংশ নিয়েছেন—সবই নাকি দেশের মানুষ জানে। সৈয়দ আশরাফুলের প্রতি ইঙ্গিত করে আবদুল জলিল বলেছিলেন, প্রথমে পালিয়ে লন্ডন চলে যাওয়ার পর কোন নিশ্চয়তা পেয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন তা কি দেশের মানুষ জানে না?

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, আবদুল জলিলের অমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাব দিতেও এদিক-সেদিক করেছিলেন ‘ডিজিএফআইয়ের দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত চার নেতা। প্রথমে তারা কথাই বলতে রাজি হননি। পরে দু’জন অবশ্য ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। আমির হোসেন আমু বলেছিলেন, ‘আবদুল জলিলের মুখেই বারবার ডিজিএফআইয়ের কথা শোনা গেছে।’ জলিলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেছেন, ‘দালালি যারা করেছেন তারাই বলতে পারবেন ডিজিএফআইয়ের দালাল কারা। যে সংস্থার দালালি করেছে সে ডিজিএফআইও বলতে পারবে কারা তার দালালি করেছে।’ দ্বিতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছিলেন অনেকটা কূটনীতিকের ভাষায়—‘বর্তমানে আবদুল জলিল সংক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ মানুষ। ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি অনেক কিছুই বলতে পারেন। তাদের কোনো কথা আমলে নিতে নেই।’ আমির হোসেন আমু ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকার পর মুখ খুলেছিলেন আবদুর রাজ্জাকও। যুবলীগের এক অনুষ্ঠানের ভাষণে ইঙ্গিতে আবদুল জলিলকে ‘ছোট ভাই’ সম্বোধন করে তিনি বলেছিলেন ‘কেউ ভুলের রাজনীতি করলে তাকে ভুলের মাশুল দিতে হবে।’ উল্লেখ্য, আবদুল জলিলের দেয়া বক্তব্য নিয়ে তখন দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শোনা গেলেও বিষয়টিকে শেষ পর্যন্ত পাশ কাটানো হয়েছিল। এর ফলেও ‘ডিজিএফআইয়ের দালালি’ সংক্রান্ত অভিযোগ শক্তি অর্জন করেছিল।
এখানেই রয়েছে প্রণব মুখার্জির বৈঠক নিয়ে আলোচনা জমে ওঠার আসল কারণ। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আবদুল জলিল সুকৌশলে ভারতের নাম বলার পরিবর্তে ডিজিএফআইকে টেনে আনলেও সবকিছুর পেছনে আসলে ভারতই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতের পরিকল্পনা অনুসারেই ২০০৬ সালের অক্টোবরে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর মুহূর্ত থেকে লগি-বৈঠার হত্যা-তাণ্ডবের মাধ্যমে দেশের সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশকে ভয়ঙ্কর করে তোলা হয়েছিল, সংবিধান নির্দেশিত নির্বাচনকে ভণ্ডুল করা হয়েছিল। আবদুল জলিলসহ আওয়ামী লীগের বিশেষ কয়েকজন নেতা সে কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, ওই দিনগুলোতে মাতামাতি যারা করেছেন, তাদের অনেকেই জানতেন না, তারা আসলে কার স্বার্থে কী করছিলেন। এখানে বিশেষ করে আবদুল জলিলের কথা স্মরণ করতেই হবে। কারণ, ভীতি-আতঙ্কে ভরা ওই দিনগুলোতে প্রতিদিন তিনি কথায় কথায় গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর হুমকি দিয়েছেন। আবদুল জলিল যদি জানতেন, তাদের কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে সৃষ্ট অবস্থার সুযোগ নিয়ে জেনারেল মইন উ’রা ক্ষমতা দখল করবেন এবং ছেলের বয়সীদের ‘স্যার’ ডাকতে ডাকতে তাকে মুখে ফেনা তুলতে হবে, জীবন বাঁচানোর জন্য প্রিয় নেত্রী সম্পর্কে অশ্লীল শব্দযোগে কুিসত কথাবার্তা বলতে হবে এবং সর্বতোভাবে মান-সম্মান খোয়ানোর পর রীতিমত দরখাস্ত করে ও জীবনে রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে হবে—তাহলে তিনি নিশ্চয়ই নির্বাচন ভণ্ডুল করার কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন না। কথায় কথায় গৃহযুদ্ধের ভয় তো দেখাতেনই না। কিন্তু আবদুল জলিলের কাছে সে সময় লগি-বৈঠার হত্যা-সন্ত্রাসকেই ক্ষমতায় যাওয়ার ‘সিঁড়ি’ মনে হয়েছিল। আওয়ামী লীগের আরও অনেকের ক্ষেত্রেও কথাটা সমানভাবে প্রযোজ্য।
‘ঠ্যালা-ধাক্কা’ খেয়ে এবং ছেলের বয়সীদের ‘স্যার’ ডেকে-ডেকে মইন উ’দের সময়ে এসে আবদুল জলিল সত্য অনুধাবন করেছিলেন। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বলা দরকার, কোনো দেশে ‘রোডম্যাপ’ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আবদুল জলিলদের মতো নেতাদেরই বেছে নেয়া হয়। অন্যদিকে রাজনীতির তুখোড় ‘খেলোয়াড়’ হলেও আবদুল জলিল কিন্তু বুঝতেই পারেননি যে, তাকে প্রকৃতপক্ষে ছেলেপেলেদের খেলার ‘ঘুড্ডি’ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। তাকে শুধু ওড়ানোই হয়েছে, ‘লাটাই’ তার হাতে ছিল না। তারপর ‘রোডম্যাপের’ ওই বিশেষ পর্বের খেলা যখন সাঙ্গ হয়েছে তখন লাটাইওয়ালারা আরও অনেকের মতো আবদুল জলিলের সুতাও কেটে ফেলেছে। কারণ, তাকে তখন আর লাটাইওয়ালাদের কোনো দরকার নেই। তার দরকার ফুরিয়ে গেছে!

এখানেই রয়েছে ভবিষ্যতের জন্য চিন্তার খোরাক। কারণ, এখনও সেই ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করার তথা ভারতের স্বার্থ আদায় করার কাজই চলছে। শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে চলছেও পুরোদমে। কিন্তু সাধারণভাবে ভারতের স্বার্থে ভূমিকা পালন করলেও কোনো কোনো বিষয়ে শেখ হাসিনা নাকি ইদানীং ঘাড় বাঁকানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে তার দিল্লি সফরকালে স্বাক্ষরিত যুক্ত ঘোষণার বাস্তবায়নে ভারতের অনিচ্ছা এবং ধীরগতি দেখে শেখ হাসিনা নাকি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নাকি বুঝতে পেরেছেন, বিষয়টি তার জন্য সম্মানজনক হয়নি। এজন্যই ট্রানজিট ও করিডোরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে শেখ হাসিনা নাকি এদিক-সেদিক করার চেষ্টা করেছেন। এসবই অবশ্য ভারতীয় পত্র-পত্রিকার খবর। ভারত তাই বলে রাগ করে পিছিয়ে যায়নি। দরকার যেহেতু তারই বেশি, সেহেতু পিছিয়ে যাওয়ার কথাও নয়। একই কারণে সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়ার অর্থাত্ লোভ দেখানোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। শেখ হাসিনার মান ভাঙানোসহ বাংলাদেশকে বাগে আনার দায়িত্ব পেয়েছেন প্রণব মুখার্জি। কিন্তু শুধু ঋণ দিয়ে চলে যাওয়াকে যথেষ্ট মনে করেননি এই ‘বাঙালি’ মন্ত্রী। তিনি তাই ‘র্যাটস’-এর ‘আর’ তথা রাজ্জাককে ছাড়া ‘অ্যাটস’ তথা আমু-তোফায়েল ও সুরঞ্জিতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। উদ্দেশ্যও গোপন রাখা হয়নি। বলা হচ্ছে, বৈঠকটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসলে ‘ধমক’ দিয়ে গেছেন প্রণব মুখার্জি। শেখ হাসিনা যদি কোনো কারণে ‘অবাধ্য’ হওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে ভারত তার ‘সেকেন্ড লাইন’কে কাজে লাগাবে। তেমন অবস্থায় নেতৃত্বে চলে আসবেন ‘র্যাটস’ নামে পরিচিত চার নেতা—যারা এক সময় শেখ হাসিনাকে ‘মাইনাস’ করার কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সঙ্গে নিশ্চয়ই আরও অনেকেই থাকবেন। বড় কথা, বাংলাদেশের রাজনীতিকে কীভাবে দিকভ্রান্ত করতে হয় এবং মইন উ’র মতো লোকজনকে কীভাবে দলে ভেড়াতে হয়—এ সবই রয়েছে ভারতের নখদর্পণে। রয়েছে মাত্র সেদিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও। শেখ হাসিনা সম্পর্কেও সবচেয়ে বেশি জানে ভারতই। কীভাবে তাকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে সে ব্যাপারেও ভারতের রয়েছে সুনির্দিষ্ট ধারণা ও অভিজ্ঞতা। এসব কারণেই প্রণব মুখার্জি ‘ধমক’ দেয়ার বা ‘বার্তা’ পাঠানোর কাজটুকু সেরে গেছেন। তবে তিনি সম্ভবত এখনই শেখ হাসিনাকে হারাতে চান না। রাজনৈতিক অর্থে রশি টানাটানিতে শেখ হাসিনা এবং প্রণব মুখার্জির মধ্যে কার জয় হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শেখ হাসিনা ঝামেলামুক্তভাবে টিকে গেলে বুঝতে হবে, প্রণব মুখার্জি সঠিক ‘চাল’ই দিয়ে গেছেন!

লেখক : শাহ আহমদ রেজা, সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29221763 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29221763 2010-08-13 19:11:09
ভারতকে মেহমানদারী করার জন্য ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিল বাংলাদেশ: কঠিন শর্তে ও উচ্চ সুদে

উচ্চহারে সুদ এবং বিভিন্ন কঠিন শর্ত মেনে ভারত থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণগ্রহণের চুক্তি হলো আজ। ভারতের একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে এ ঋণ নেয়ার ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিশেষজ্ঞরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। অর্থনীতিবিদরা এ চুক্তিকে অন্যায্য, অসম এবং একতরফা বলে মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করেন, এর চেয়ে সহজ শর্তে অভ্যন্তরীণ খাত বা অন্য কোনো ঋণদানকারী সংস্থা থেকেই এ অর্থের জোগান দেয়া যেত।

আবার এ ঋণ ব্যবহৃত হবে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার সুবিধার্থে বাংলাদেশের সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নের জন্য। এছাড়া ঋণের টাকায় প্রকল্পে ব্যবহৃত মেশিনারিজ ও উপকরণ ভারতের কাছ থেকেই কিনতে হবে। ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সুদ, কমিটমেন্ট ফি নামে অতিরিক্ত সুদ এবং খেলাপি হলে আরও ২ শতাংশ হারে জরিমানা দিতে হবে। ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হলে সুদের দ্বিগুণ জরিমানা গুনতে হবে। এছাড়া শর্ত অনুযায়ী ১৪ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে বার্ষিক ফির অতিরিক্ত দশমিক ৫০ শতাংশ জরিমানাও গুনতে হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত চুক্তিতে সব ধরনের পণ্য ও সেবা ভারত থেকে সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। অর্থাত্ এ চুক্তির আওতায় সব পার্চেজ, কন্ট্রাক্ট ভারতীয়রাই করবে। ৮৫ শতাংশ পণ্য কেনাকাটা পরামর্শক ও সেবা নেয়া হবে ভারত থেকে। আর ১৫ শতাংশ নেয়া হবে বাংলাদেশ থেকে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (ইআরডি) এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে বাংলাদেশ কখনও এ ধরনের কঠিন শর্তে কোনো ঋণ নেয়নি। এ ধরনের একতরফা ভারতের অনুকূলে সব সুবিধা রেখে চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে রেলওয়ে, রোড অ্যান্ড হাইওয়ে এবং শিপিংসহ ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে ঢাকা। ১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৪ প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে—এখন তার বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ চলছে। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ভারতের প্রয়োজনে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার হতে পারে—এ চিন্তা থেকে নদী খনন এবং আশুগঞ্জ বন্দর সংস্কার ও উন্নয়ন এবং ভারত থেকে রেল কোচ আমদানি প্রকল্পের কথা ভাবা হচ্ছে।

শর্ত কড়া সুদ বেশি : ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার কাজে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এ ঋণে সুদের হার সাধারণ ঋণের সুদের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থনীতির ভাষায় এটিকে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট (জটিল ঋণ) বলা হয়। সরবরাহকারী সংস্থার শর্ত অনুযায়ী এ ঋণের অর্থ ব্যবহার করতে হয়। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে যেসব ঋণ দেয় তার জন্য সার্ভিস চার্জ ছাড়া আলাদা কোনো সুদ দিতে হয় না। সার্ভিস চার্জ বাবদ দিতে হয় দশমিক ৭৫ শতাংশ। সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এসব ঋণ পরিশোধ করতে হয়। উপরন্তু রেয়াতি সময় পাওয়া যায় আরও অন্তত ১০ বছর। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। এ ধরনের সার্ভিস চার্জের ভিত্তিতে পাওয়া বিশ্বব্যাংকের ১৭৯ কোটি ডলারসহ এডিবি, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার দেয়া প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এখনও অব্যবহৃত পড়ে আছে। গত সেপ্টেম্বরে আইএমএফ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার সহজ শর্তে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ মাত্র দশমিক ২৫ শতাংশ সুদে। এ অবস্থায় ভারতের কাছ থেকে কঠিন শর্ত এবং অস্বাভাবিক উচ্চসুদে ঋণ নেয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ঋণ পরিশোধের মেয়াদও এক্ষেত্রে ২৫ বছর। অথচ এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৪০ বছর।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আপত্তি : ঋণ প্রদানে ভারতের শর্ত নিয়ে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ভারতের চুক্তিপত্রটির নানা অসঙ্গতি ও একপেশে শর্তগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ, পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সুদের হার ও কমিটমেন্ট ফি বেশি বলে মত দিয়েছে। একই সঙ্গে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় নিয়মিত সুদ ছাড়া অতিরিক্ত সুদ আরোপের ব্যাপারেও আপত্তি জানায় তারা।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ ভারতের কাছ থেকে সব পণ্য ও সেবা ক্রয়ের শর্তটিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপের সুদ বেশি বলে আপত্তি করে তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে শুল্ক কর ও ভ্যাট পরিশোধ করেই পণ্য ছাড় করতে হবে বলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।

এ অবস্থায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করার আগে ঋণে সুদের হার কমানো, কমিটমেন্ট ফি কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে (রেয়াতি সময় ৭ বছর) ২৫ বছর করা, ঋণের ৭০ শতাংশ দিয়ে ভারতের পণ্য ও সেবা ক্রয়, বাকি ৩০ শতাংশ দিয়ে বাংলাদেশ এবং অন্য দেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়। তবে এসব দাবির কোনোটিই আমলে নেয়নি ভারত।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এমকে আনোয়ার ভারত থেকে কঠিন শর্তে ঋণ নেয়ার সমালোচনা করে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে এ চুক্তি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি চুক্তিটি করা হলে বাংলাদেশের ওপর ঋণের বোঝা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন। বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে ভারতের একটি আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের কারণেই সম্ভবত তারা এ ধরনের স্বার্থবিরোধী চুক্তিতে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, ট্রানজিট বা যে কোনো কারণেই হোক, প্রকল্পগুলোর সুবিধা যদি ভারতের পক্ষে যায়, তবে কোনো কঠিন শর্ত ছাড়াই তা হওয়া উচিত। আর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া দাম বেশি হলেও তাদের কাছ থেকেই পণ্য কেনার শর্তটি অত্যন্ত অন্যায্য। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর সুবিধা যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের অনুকূলে, তাই ঋণের কোনো সুদই থাকা উচিত নয়। এ প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ অর্থের সঠিক ব্যবহার। ঋণের শর্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতের শর্তের বিষয়ে এখনও আলোচনার সুযোগ আছে। যেমন ১৪টি প্রকল্পে ব্যবহৃত মেশিনারিজ এবং উপকরণ ভারতের কাছ থেকে কেনার শর্ত আছে। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে আন্তর্জাতিক বাজার দর থেকে তা বেশি কিনা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29217201 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29217201 2010-08-07 20:31:18
বাংলাদেশের উপর ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ এখন যা করতে পারে
আমি মনে করি যে, ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশ-কে মুক্ত রাখার জন্য প্রথমেই শেখ হাসিনা-কে আওয়ামী লীগ-এর সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং শেখ পরিবারের কাউকে এই পদে বা দলের অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে বসানো যাবে না- আওয়ামী লীগ-কে শেখ পরিবারের ’বাপের সম্পত্তি’ আর হতে দেওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে শিক্ষিত, দূরদর্শী, স্মার্ট এবং আওয়ামী লীগ-এর জন্য প্রমাণিত ভাবে নিবেদিতপ্রান সেই রকম কাউকে আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি, সাধারন সম্পাদক- এই রকম গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলো-তে বসাতে হবে। কারন, শেখ পরিবারের কেউই নিজেদের-কে আওয়ামী লীগার হিসেবে মনে করেন না, বরং আওয়ামী লীগ-কেই উনাদের বাপের তালুক হিসেবে মনে করেন যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এই বিশাল এবং জনপ্রিয় দলটির জন্য খুবই খারাপ অবস্থা নিয়ে এসেছে।

আওয়ামী লীগ শেখ পরিবারের সম্পতি না, আওয়ামী লীগ এদেশের জনগনের আশা-আকাংখার কথা বলার এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার জন্য জনগনের একটি দল। শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মুক্তির জন্য আর উনার পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগ-কে তৈরি করেছে অপরাধ আর চুরির মাধ্যম হিসেবে। কারন, শেখ পরিবারে শেখ মুজিব ছাড়া এতো গভীর দেশপ্রেমিক বা বিশাল মনের কেউ ছিলো না এবং নেইও- এরা সবই হচ্ছে খুব সাধারন মানের। এরা কেউ প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবেও নিজেদের-কে তৈরি করে নি; আর তাই, শেখ মুজিবের নাম, স্বাধীনতার চেতনা, বঙ্গবন্ধুর চেতনা- এই সব পুরান দিনের কাসুন্দি বেচে বেচে ক্ষমতায় আসে আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন কায়দায় চুরি শুরু করে। এদের প্রায় সবারই এবং এদের সন্তান-রাও বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিষ্টিত হয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগ-এর মতো একটা বিশাল রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যে মমত্ব, কর্তব্য এবং দায়বধ্যতা থাকার দরকার- তা এদের কাছে শূণ্য নয়- একেবারেই নেগেটিভ। কাজেই, শেখ মুজিব ছাড়া শেখ পরিবারের কেউ কোনদিনই আওয়ামী লীগ-এর জন্য ভালো কিছু করে নি, করছে না এবং কোনদিন করবে- সেই আশাও নেই। বরং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ-এর প্রচুর ক্ষতি এরা করেছে, করছে এবং করবেও। অতএব, যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগার, যারা বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ-কে ভালোবেসে আওয়ামী লীগার হয়েছেন- তাঁদের কাছে শেখ পরিবার আওয়ামী লীগ-এর জন্য মঙ্গলজনক- এটা ভাবার কোন যৌক্তিক কারন থাকার কথা না।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে, শেখ পরিবারের ছায়া ছাড়া আওয়ামী লীগ চলতে পারবে কি না! অবশ্যই পারবে। কারন, আওয়ামী লীগারদের মধ্যে শেখ পরিবারের লোক গুলোই সবচেয়ে মূর্খ, দেশপ্রেমহীন এবং দূর্নীতিগ্রস্ত; এদের জন্যই আজ আওয়ামী লীগ-এর ইমেজ খারাপ হয়ে গেছে এবং দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগার-রা সব দিক দিয়েই কোনঠাসা হয়ে আছেন। কাজেই, শেখ পরিবারের ছায়া ছাড়া আওয়ামী লীগ চলতে পারবে না- এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা; বরং তা হলে আওয়ামী লীগ-এর সার্বিক অবস্থা এবং ইমেজ আরো অনেক ভালো হবে- দলের মধ্যেও একটা গনতান্ত্রিক অবহ আসবে।

এটা অনেকেই বলতে পারেন যে, আমার মতো সাধারন মানুষ যে সত্যটা বুঝতে পারছে, আওয়ামী লীগ-এর বিশাল বিশাল নেতা-রা কি তা বোঝেন না? অবশ্যই বোঝেন এবং আমার চেয়ে কয়েক হাজার গুন বেশী বোঝেন। কিন্তু তাঁরা ফাটা বাঁশ-এর চিপায় আটকে গেছেন, না পারছেন সইতে, না পারছেন কইতে। কারন, শেখ মুজিবের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পর সেই পরিবার-টির বেঁচে থাকা সদস্য-দের প্রতি বাংলাদেশের সাধারন মানুষ-দের যে একটা করুনা তৈরি হয়, তার সুযোগ নিয়ে খালি শেখ পরিবারের সদস্যরাই সামনে এগিয়ে আসেন নি, আওয়ামী লীগ-ও নতুন ভাবে দাাঁড়াতে চেষ্টা করেছে এবং দাঁড়িয়ে গেছেও; সেই কারনেই এখন আর আওয়ামী লীগ-কে শেখ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছে না। এটা আওয়ামী লীগ-এর জন্য এখন একটা শাঁখ-এর করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে- শেখ পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ-কে ডুবাচ্ছে কিন্তু শেখ মুজিবের ইমেজে জড়িয়ে যে দূর্নীতিগ্রস্ত শেখ পরিবার, তাদের-কে শেখ মুজিবের বিশাল ইমেজ থেকে আলাদা করার জন্য বিশাল মাপের কোন লীডার আওয়ামী লীগ-এ এখন নেই। কাজেই নিবেদিত প্রান আওয়ামী লীগার-দের এখন বসে বসে এসব দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

তার উপর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ’আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল’- এই যে একটা সাধারন ধারনা বাংলাদেশের মানুষের মগজে ঢুকে গেছে- শেখ পরিবারের সদস্য-রা তাঁদের কর্মকান্ড দিয়ে সেই ধারনা-কে আরো পাকা-পোক্ত করে দিচ্ছেন, যা আওয়ামী লীগ-কে একটা নিরপেক্ষ দেশপ্রেমী রাজনৈতিক দল হিসেবে চুড়ান্তভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। জাময়াতে ইসলামী পাকিস্তানের দালাল আর আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল- এই ধারনাই এখন সাধারন মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, সাধারন মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে জামায়াতের সাথে সমতুল্য হয়ে যাচ্ছে- খালি গু-এর এপিঠ আর ওপিঠ, এক দল বাংলাদশের উপর পাকিস্তানের থাবা অটুট রাখতে চেয়েছিলো আর আরেক দল বাংলাদেশের উপর ভারতের থাবা বিস্তার করতে চাচ্ছে- এদের মধ্যে গুনগত পার্থক্য তাহলে কোথায়? আওয়ামী লীগ-এর নেতৃত্বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছিলো কি শুধুমাত্র এই শোষকের থাবা পরিবর্তনের জন্য? এরই নাম কি ’স্বাধীনতা’র চেতনা? কার স্বাধীনতার চেতনা? কি স্বাধীনতার চেতনা? এই ভাবে দেশের সার্থ বিকিয়ে দিয়ে ’বন্ধুত্ব’ নামের ধোকাবাজি কিনার নামই কি শোষন-মুক্ত সমাজ গঠনের নমুনা?

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আওয়ামী লীগ-কে শেখ পরিবারের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারলেই পর্যায়ক্রমে খালি ভারতের আগ্রাসন থেকে মুক্ত হওয়া না, আরো অনেক সমস্যা থেকেই মুক্ত হওয়া যাবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার জন্য আমরা আজীবন ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো, আমাদের দেশের তিন দিক ঘিরে থাকার জন্য ভারত আমাদের সবচেয়ে নীবিড় প্রতিবেশী এবং সেই জন্য ভারতের প্রতি আমাদের সব রকম সম্ভাব্য এবং উভয় পক্ষের জন্য সন্মান জনক সহযোগিতার দুয়ার খোলা থাকবে। কিন্তু সেই জন্য আমাদের দেশের সার্থের সাথে সম্পর্কিত ভারতের যে কোন উপদেশ, কর্ম-কান্ড এবং ভয়-ভীতি-কে আমরা কোন কারন বা যুক্তিতেই মেনে নিতে বাধ্য নই। বন্ধুত্ব থাকবে সমান লেভেলে- সমান সন্মান এবং সমান অধিকারের ভিত্তিতে; প্রভুত্ব এবং দাসত্বের ভিত্তিতে কখনো বন্ধুত্ব হতে পারে না। দাসত্ব যদি করতেই হয়, তাহলে বিড়ালের দাসত্ব না করে বাঘ বা সিংহের দাসত্ব করাই অনেক বেশী নিরাপদ এবং কম অপমান জনক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29216183 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29216183 2010-08-06 11:10:10
কুরবানী নিয়ে দেবণারায়নের রীট এবং সুরঞ্জিত বাবুর পাকিস্তান ফিরে যাওয়ার রেসিপি!
কোরবানির উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে নয়, তাঁর আরেক ছেলে হজরত ইসহাক (আ.)-কে শুইয়েছিলেন দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। এতে আরো দাবি করা হয়, এ নিয়ে বই-পুস্তকে যা পড়ানো হয়, তা মিথ্যা। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি চলছে। বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট দেবনারায়ণ মহেশ্বর এ দাবি করেই গতকাল রবিবার রিট করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার এই রিটের ওপর পরবর্তী শুনানি হবে। বিশ্ব শান্তি পরিষদ নামে এই সংগঠনটির কার্যালয় রাজধানীর ধলপুরের সিটি পল্লীর তেলেগু কলোনি মন্দিরে। এই সংগঠনের সভাপতি দেবনারায়ণ মহেশ্বরের বাড়ি বরিশাল সদরে।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, 'কোরবানির উদ্দেশ্যে হজরত ইসমাইল (আ.) কে শোয়ানো হয়েছিল আর আল্লাহতায়ালা খুশি হয়ে ইসমাইলের স্থলে একটি দুম্বা দিয়েছিলেন বলে বই-পুস্তকে যা পড়ানো, হয় তা মিথ্যা।'

আদালতের লম্বা হাত কতটা লম্বা হলে কোটি কোটি ধর্মভীরু মানুষের শত বছরের পুরানো বিশ্বাসকে বিচারের সামনে দাঁড় করাতে সাহস করে দলীয় নমিনেশনে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজনীতির সেবাদাস বিচারকবৃন্দ! উপরের রীটকে যেভাবেই অনুবাদ করা হোক না কেন একটা জিনিস সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন বলেই এসব সম্ভব হচ্ছে। মুসলমান ধর্মের বিশ্বাসকে অন্য ধর্মের কেউ চ্যালেঞ্জ করলে শতকরা ৬০ ভাগ অশিক্ষিত দেশের ৮০ ভাগ মানুষ নীরবে হজম করবে জানিনা আওয়ামী নেত্রীবৃন্দ এমনটা মনে করেন কি-না। জনগণের দেশপ্রেম নিয়েও প্রতিদিন নতুন নতুন প্রশ্ন তুলছে নেত্রীর পদলেহনকারী নেতারা। বাবু সুরঞ্জিত সেন ঘোষনা দিয়েছেন যারা ৭২’এর সংবিধান মানবে না তারা এ দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না এবং তাদের উচিৎ পাকিস্তানে ফিরে যাওয়া। বাবু পাকিস্তান আমলে আওয়ামী কর্মসূচী ৬ দফা ও ছাত্রলীগের ১১ দফা নিয়েও একই মন্তব্য করেছেন। দেশের খেটে খাওয়া মানুষদের কজন শাসনতন্ত্র আর ৬ দফা/১১ দফা নিয়ে মাথা ঘামায় তা সুরঞ্জিত বাবুদের জানা আছে কি-না জানিনা। তবে নাগরিক হিসাবে আমাদের জানা আছে এই সেই সুরঞ্জিত বাবু যিনি স্বধর্মীয় গরীব ও নীরিহ চাষীদের বিভিন্নভাবে ঠকিয়ে সিলেটে একরের পর একর হাওর বাওর দখল নিয়েছেন। একজন রাষ্ট্রীয় চোরের মুখে অন্যের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা বৈধ তা নিয়ে কি আমাদের আদালত মাথা ঘামাবে কি-না সময়ই তা প্রমান করবে। বাবু আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষকে পাকিস্তান যাওয়ার দাওয়াত দিচ্ছেন। ম্যাংগোপিপলদের হয়ে বাবুকেও আমি দাওয়াত দিচ্ছি একটা জায়গায় হিজরত করার, নাজিমুদ্দিন রোডের জেলখানা। জুলুমবাজ চোরদের স্থান জেলখানা, রাজনীতির ময়দান নয়।

আজকের পত্রিকায় দেখলাম আমাদের প্রেসিডেন্টের মুখ হতে বেরিয়ে এসেছে নতুন একটা উপাধি, বঙ্গমাতা। স্থানীয় এক অনুষ্ঠানে এভাবেই সন্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনার পরলোকগত মাতা ফজিলেতুন্নেসাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের কৃত্তিত্ব অনেকটাই না-কি পাওনা এই গৃহবধূর। সন্দেহ নেই এ নিয়ে হৈ চৈ'এর শুরুটা হয়েছে মাত্র। আগামীকাল হয়ত পা চাটা কুকুরদের কেউ একজন ঘোষনা দেবে, যারা বঙ্গমাতা উপাধি মানবে না তার এ দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

এভাবেই শুরু হয় একনায়ক ও ফ্যাসিবাদের পতন। শেখ হাসিনাও সে পথেই হাঁটছেন, এবং হাঁটছেন খুব দ্রুত। দেশকে পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে তা অনন্তকাল ধরে ভোগ করার মোহ হতেই জন্ম নেয় এসব অন্ধত্ব। দূরের ইতিহাস বাদ দিয়ে দেশের ইতিহাস ঘাটলেই প্রমান মেলবে ক্ষমতালোভী অন্ধদের শেষ ঠিকানা কোথায় হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29214472 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29214472 2010-08-03 21:29:18
তাজউদ্দীন আহমদ ও জনগণের রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা সেই থেকে তৎকালীন পূর্ববাংলার মুসলিম লীগবিরোধী যেকোনো উদ্যোগ-আয়োজন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। সহযাত্রীদের চেয়ে বয়সে কনিষ্ঠ হয়েও নিরন্তর সাধনা ও প্রজ্ঞাবলে নেতৃত্বের আসনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। যার উজ্জ্বল স্বাক্ষর আমরা লক্ষ করি আটচল্লিশের ভাষা আন্দোলনে, ঊনপঞ্চাশে আওয়ামী মুসলিম লীগ, একান্নতে যুবলীগ এবং অন্যান্য প্রগতিশীল সংগঠন প্রতিষ্ঠায়। ‘জনগণের রাষ্ট্র’ গঠন ছিল তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন।

১৯৪৭-এ ডায়েরিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি পর্যায়ক্রমে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে কথা বললাম। আমাদের জনগণের রাষ্ট্র গঠন করা উচিত। দুর্নীতি ও ঘুষ শক্ত হাতে বন্ধ করতে হবে। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আবেদন জানালাম।’

কিশোর বয়স থেকেই তাজউদ্দীন আহমদ জনগণের রাষ্ট্র গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর রাজনীতির সার কথা ছিল গণমানুষের মুক্তি। অন্যদের সঙ্গে তিনিও উপলব্ধি করেছিলেন, পাকিস্তানি কাঠামোয় সেই মুক্তি আসবে না। প্রথমে তাঁরা মাতৃভাষা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সামনে নিয়ে আসেন, তারপর পর্যায়ক্রমে তা স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয়।
তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত। তার আগে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলের ছিলেন নিশ্চয়ই; কিন্তু একই সঙ্গে দলকে ছাড়িয়েও গিয়েছিলেন। তিনি দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে এক সূত্রে গাঁথতে পারতেন। দলীয় নেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটিই তার প্রমাণ। শেখ মুজিবুর রহমান যদি হন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, তাজউদ্দীন আহমদ তার রূপকার। একাত্তরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুব নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন, ডানপন্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছেন। তা সত্ত্বেও তাজউদ্দীন আহমদ ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী সরকারটির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

যখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী, আওয়ামী লীগের নেতারা ছত্রভঙ্গ, তিনি বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা যুদ্ধে আছি। হাজার হাজার লাশের স্তূপের নিচে পাকিস্তান রাষ্ট্রের কবর রচিত হয়েছে।’ মুজিবনগর সরকারের অনেকে দোদুল্যমান ছিলেন। খন্দকার মোশতাক আহমদ তো মার্কিন দূতিয়ালিতে পাকিস্তানের সঙ্গে আপসরফার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ কত দিন চলবে কেউ জানে না, কোন কোন দেশ আমাদের পক্ষে তাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু এসব সংশয়-সন্দেহ নীরবে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটিকে স্পর্শ করতে পারেনি। সেই যুদ্ধাবস্থায়ও তিনি পরিকল্পনা সেল গঠন করেছিলেন, পরিকল্পনা নিয়েছিলেন—যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী কৌশল নিতে হবে, কীভাবে মুক্তাঞ্চলে শাসনকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তাজউদ্দীন আহমদ সরকার পরিচালনার গুরুদায়িত্বের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন মুক্তিযোদ্ধা শিবিরগুলোতে, তাদের সঙ্গে কথা বলতেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। বিদেশি রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক, লেখক-শিল্পী-সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজটিও তিনি করতেন প্রায় এককভাবে। তাঁর টেবিলে সব সময় একটি ডায়েরি থাকত, তাতে বৈঠকের সময়সূচি টুকে রাখতেন, কাকে কী নির্দেশ দিতে হবে তাও নোট করতেন। এমনকি অনেক সময় মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণও লিখতেন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল, যখন মুজিবনগর সরকার গঠিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়নি, সবার সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, ছাত্র-জনতা, তাদের সাহস, তাদের দেশপ্রেম, তাদের বিশ্বাস, সাধনা, বাংলাদেশের চিন্তায় তাদের নিমগ্ন প্রাণ, তাদের আত্মাহুতি, তাদের ত্যাগতিতিক্ষায় জন্ম নিল এই নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নিরক্ষর মানুষের জন্য রচিত হোক এক নতুন পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না। আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব আর অজ্ঞানতার অভিশাপ থেকে মুক্তি।’

১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়। এরপর দিন-রাত তিনি কাজ করেছেন লক্ষ্যে পৌঁছাতে। তিনি জানতেন, আমাদের সম্পদ সীমিত, সামর্থ্য অপ্রতুল। কিন্তু বিজয় কেউ রুখতে পারবে না।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। তাদের অস্ত্র ও রসদ জোগানোর পাশাপাশি সেক্টর কমান্ডারদের বিরোধ মীমাংসাও করতে হয়েছে তাঁকে। একজন বিশ্লেষকের মতে, ‘সামরিক ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিশ্চিতভাবে শত্রুপক্ষ এর সুযোগ গ্রহণ করত এবং মুক্তিযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলত।’

বিজয়ের পর ১৭ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখনো শত্রুর কারাগারে।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্য নেতারা পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকলেও তাজউদ্দীন আহমদ কাজের সুবিধার জন্য আলাদা থাকতেন। অফিসঘরের পাশের একটি কক্ষে ঘুমাতেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক মুক্তিযোদ্ধা শত্রুবাহিনীর হামলায় পা হারিয়েছেন, হাত হারিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। কেউ গুলির আতঙ্কে যন্ত্রণা চেপে ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এঁদেরও তো অনুভূতি আছে। তাঁদের মা বোন স্ত্রী ছেলেমেয়ে স্বজন রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কথা চিন্তা করার সময় কোথায়?’

তাজউদ্দীন আহমদকে অন্যায়ভাবে ভারতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আসলে তিনি সর্বান্তকরণে ছিলেন বাংলাদেশপন্থী। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, এ যুদ্ধের ধরন কী হবে? কার নেতৃত্বে হবে? ভারতীয় কর্মকর্তারা বললেন, ভারত যদি যুদ্ধে রাজি হয় তাহলে তা ভারতের নেতৃত্বেই হবে। কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদ দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, ‘সেটি হবে না। কারণ, এটি আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ। রাজনৈতিকভাবে আপনারা বলছেন যে আপনারা আমাদের সাহায্য করতে এসেছেন। আর এখন আপনারা নেতৃত্ব দিতে চাইছেন। সেনাবাহিনী অবশ্যই যৌথ নেতৃত্বের অধীনে থাকবে।’

তাজউদ্দীন আহমদ কখনো নেতা হতে চাননি। রামের জুতা সিংহাসনে রেখে ভরত বারো বছর দেশ শাসন করেছিলেন, তাজউদ্দীন আহমদও মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস সরকার পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধুর নামে। নেতা ফিরে এলে দেশের দায়িত্বভার তাঁর হাতে ছেড়ে দিয়ে দায়মুক্ত হন। ক্ষমতালিপ্সু মানুষের এই দেশে এ রকম দৃষ্টান্ত দ্বিতীয়টি নেই। তিনি যে জনগণের রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
৮৫তম জন্মদিনে এই মহান নেতার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29212102 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29212102 2010-07-31 20:02:09
ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের ধর্ম রক্ষা! দেখলেই দিলে ঠান্ডা পরশ বয়ে যায়। দেখুনঃ


(একটি নমুনা ছবি)

শুধু তাই নাই, এই বিশাল ভন্ড গ্রুপ এইসব জাস্ট ইগনোর করছেন । তারা এসব দেইখাও না দেখার ভান করবো বাই ডিফল্ট। একজনের একটা নূন্যতম কমেন্ট দেখলামনা যে এই কমেন্টগুলো করা ঠিক হয়নি। প্রমাণ চান?



এরা আর কত ভন্ডামী করবে। একজনের একটা কমেন্ট দেখলাম পেইড ছাগুদের মত পেইড ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকও নাকি আছে। পার কমেন্ট/পোষ্ট/এজেন্ডা বাস্তবায়নে এরা কত পায় জানতে লোভ হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29210116 http://www.somewhereinblog.net/blog/bangladesh_09/29210116 2010-07-29 11:21:31