somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েটি কখনো জানবে না…

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটি কখনো জানবে না…

পথ চলতে গিয়ে অনেকের সাথেই দেখা হয়; সেটা হোক জীবন চলার পথে কিংবা দৈনন্দিনের ক্ষুদ্র গন্তব্যের পথে । কিছু মুখ মনে থাকে, কিছু মুখ হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অতলে । কিছু মুখ ভাবায়, কিছু মুখ জাগায় । এই মুখগুলো জায়গা করে নেয় হৃদয়ের কোনো অজানা কোণে । সবসময় নয়, মাঝে মাঝে হয়তো কোনো একাকিত্বের মুহূর্তে কিংবা কোনো কোলাহলমুখর ক্ষণে এরা ভেসে উঠে মনের পর্দায় ।

ঋতুর বিচারে বর্ষাকাল হলেও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ তখনো প্রবলভাবেই বিরাজমান । শিক্ষাজীবনের দীর্ঘসূত্রতাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে পি.এল. টা ইলাস্টিক রাবারের ন্যায় টেনে টেনে বাড়ানো হচ্ছিলো । অবশ্য সেটা ইলাস্টিক ছিলো কিনা কে জানে । ছাত্রছাত্রী আর শিক্ষকদের টানাটানিতে হয়তো অনেকদিন আগেই বেচারা তার ইলাস্টিসিটি হারিয়ে ফেলেছে । তো সেই ইলাস্টিক কিংবা প্লাস্টিক পি.এল. এর সদ্ব্যবহার করতে আরও অনেক ভার্সিটি স্টুডেন্টের মত আমিও বেছে নিয়েছিলাম কোচিংয়ে ক্লাস নেয়াটাকে । প্রতিদিনের অভ্যাসকে কাঁচকলা দেখিয়ে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যথারীতি কোচিংয়ে হাজির । তারপর সকাল ৯টা আর ১১টায় টানা দু’টো ব্যাচ পড়ানো । দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ার স্বপ্নে বিভোর একদল শিক্ষার্থীর কোলাহল ছেড়ে যখন ফার্মগেট থেকে শাহবাগের উদ্দেশ্যে বাসে উঠি, দুপুরের কড়া রোদ তখন মাথার উপরে । প্রচণ্ড গরমে ঘেমেনেয়ে একাকার; সেইসাথে রাস্তায় দীর্ঘ জ্যাম আর বাসের উপচেপড়া ভীড় । এমনি রোমান্টিকতাবৈরী এক পরিবেশে ওকে প্রথমবারের মত দেখেছিলাম । শুধু একপলকের চাহনি, এর বেশি কিছু নয় । কিন্তু আমি যেন তাতেই হারিয়ে গিয়েছিলাম । ভরদুপুরের প্রচণ্ড গরম, রাস্তার জ্যাম, বাসের ভীড় সবকিছুই ভুলে গিয়েছিলাম । কোথা থেকে যেন প্রশান্তির ঠাণ্ডা হাওয়া পরশ বুলিয়ে গিয়েছিলো আমাকে ।

বড় সাধাসিধা একটা মুখ; আর সেই মুখে ফুটে ছিলো এক নিষ্পাপ সরলতায় ভরা দৃষ্টি । বাবার পাশে চুপ করে বসেছিলো । হাতে একটি নামকরা কোচিংসেন্টারের প্রস্পেক্টাস আর ভর্তির খাম।

শাহবাগ এসে বাস থামল । আমি নামলাম । দেখি ও আর ওর বাবাও নামছে । গাড়িতে বহুবার ভেবেছি, “ইশশ! একবার যদি সুযোগ পেতাম, তাহলে এখনই অফার করতাম ।” বাস থেকে নামার পর ওর বাবা রিকশা খোঁজার জন্য একটু এগিয়ে গেলেন । আমি খানিকটা পিছিয়ে ওর পাশে হাটতে লাগলাম । কিন্তু হায়! আমার গলা শুকিয়ে আসছে কেন? আমি এই অষ্টাদশীর কাছে নার্ভাস হয়ে পড়ছি কেন? আমার এই বাইশবছরের জীবনে কই এমনটিতো আর ঘটেনি ।

ওর বাবা রিকশা ঠিক করে ওকে নিয়ে উঠে পড়ল । আমার কিছুই বলা হলো না । হয়তো আমার চিরকালীন আত্মসন্মানবোধ একটি অপরিচিতার কাছে ভালোবাসা ব্যক্ত করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো কিংবা মুগ্ধতার শিহরণ আর অজানা কোনো অনুভূতি আমাকে আবদ্ধ করে ফেলেছিলো ।

সম্বিত ফিরে পেয়ে আমিও “মামা, জগন্নাথ হল চলো ।” বলে একটা রিকশায় উঠে পড়লাম । দু’টো রিকশাই প্রায় পাশাপাশি যাচ্ছিলো; যদিও ওকে দেখতে পাচ্ছিলাম না । আমার রিকশাটা যে পাশে ছিলো, ও বসে ছিলো তার বিপরীত পাশে । রিকশা হলের দিকে মোড় নিবে, এমন সময় হটাৎ ওর বাবা ডাক দিলেন । খানিকটা হকচকিয়ে গেলাম । ভাবলাম, হয়তো ওনার মেয়েকে ফলো করছি ভেবে ডাকছেন । কিন্তু না ।

“এই যে বাবা, বকশীবাজার কোনদিক দিয়ে যাবে জানো?”

আমি একবার ফিরে দেখলাম, তারপর হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলাম ।

ওদের রিকশাটা চলে গেলো । সেই শেষবার ওকে দেখেছিলাম । এরপর কতবার মনের অজান্তেই আশেপাশে খুঁজেছি । আর দেখিনি । কে জানে কোথায় আছে, কেমন আছে ও । হয়তো আর দেখবো না, হয়তো আবার দেখবো । হয়তো ও কোনোদিনই জানবে না, কেউ একজন তাকে খুজে ফিরছে নিজেরই অজান্তে…।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৩৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×