somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবাদেরও স্যার থাকে!!!(১)

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবাদেরও স্যার থাকে!!!

গ্রামের একটি ছোট্ট স্কুল থেকে সর্বোচ্চ রেজাল্ট করে যখন এই ইট-পাথরের ঢাকা-শহরে পা রাখি, তখন দু’চোখ জুড়ে এক বিশাল স্বপ্ন। দেশের সেরা কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন। প্রতিযোগিতার নানা স্তর পেরিয়ে একসময় সত্যি হলো সেই স্বপ্ন। তারপর পদে পদে কঠোর নিয়ম-কানুন আর পড়াশুনার প্রচণ্ড চাপে বুঝেছিলাম স্বপ্নপূরন কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি! তবে সেই সাথে দিকনির্দেশনাও পেয়েছিলাম পরবর্তী স্বপ্ন দেখার।

পুরো কলেজজীবনে যেমন প্রাপ্তির আছে অনেককিছু, তেমনি অপ্রাপ্তির সংখ্যাটাও খুব একটা কম না। তবু আজ প্রাপ্তির গল্পই বলবো। অপ্রাপ্তির খাতাটা না হয় আপাততঃ বন্ধই থাক…

প্রাপ্তির কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই মনে পড়ছে কিছু অসাধারণ শিক্ষকের মুখ, যাঁদের স্নেহমাখা শাসনের সান্নিধ্যে আমি ধন্য হয়েছি। নাম বলতে গেলে হয়তো অনেক নামই বাদ পড়ে যেতে পারে, তবু কিছু নাম না বললেই নয়। জহরলাল স্যার, আজমল স্যার, সুশান্তস্যার, প্রয়াত বিদ্যাসাগর স্যার, গুহ স্যার কিংবা আদি-রসাত্বক মুখতার স্যার- তাঁরা প্রত্যেকেই আজো আমার কাছে এক অন্য উচ্চতার মানুষ। তবু আজ আমার এই লেখার মূলচরিত্র তাঁদের কেউ নন। আজ আমি লিখতে বসেছি এক তরুণ, প্রাণোবন্ত, বন্ধুবৎসল শিক্ষকের কথা।

মোঃ রেজাউল করিম (রেজা স্যার) - আমার অসম্ভব প্রিয় একজন শিক্ষক এবং অসম্ভব প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা একজন মানুষ। আমরা যখন তাঁর ক্লাস পাই, তিনি তখনো খণ্ডকালীন(বর্তমানে স্থায়ী) শিক্ষক হিসেবেই ক্লাস নিতেন। একই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হওয়াতে ছাত্রদের চিন্তাভাবনা আর কলেজের কঠোর নিয়মকানুন দুটোর সাথেই বেশ দ্রুত তাল মিলাতে পেরেছিলেন। সেই সাথে প্লাসপয়েন্ট হিসেবে তাঁর এপিয়ারেন্সটাও ছিল মুগ্ধ করার মত।

ক্লাসে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে অনেক মজার মজার গল্প করতেন। কখনো অন্যের, আবার কখনো বা নিজের জীবনের গল্প বলতেন। সুন্দর সুন্দর ছড়া বলতেন; শুধু ছেলেদের কলেজ হওয়ায় সেই ছড়ার ইঙ্গিত কখনো সখনো এদিক থেকে ওদিকে চলে গেলেও আমরা মাইণ্ড করতাম না;) আর প্রায়শই এমন কোমল করে কথা বলতেন যে মনে হত আমরা কোনো কলেজে নয়, নার্সারিতে আছি! ক্লাসে চকোলেট, ক্যান্ডি নিয়ে আসতেন; পড়া বলতে পারলেই চকোলেট, ক্যান্ডি!! ক্লাসে যদি বেশি শব্দ হত তখন বলতেন, “এই যে বাবুরা, আমার সবাই এবার চুপ করি!”

নিজের জীবনের স্বপ্ন, পাওয়া, না পাওয়া- অনেককিছু আমাদের সাথে শেয়ার করতেন। স্যারের বাসা ছিলো আজিমপুর-পলাশীর কাছাকাছি। তো, তিনি বাজার করতেন পলাশীর বুয়েট মার্কেট থেকে। এদিকে আমাদের কলেজ থেকে প্রতিবছর প্রচুর ছেলে বুয়েটে চান্স পায়(কলেজের নাম?!)। বাজার করতে গিয়ে কখনো কখনো দেখা হয়ে যেত নিজের কলেজের বন্ধুদের সাথে। আর স্যারেরও একসময় স্বপ্ন ছিলো বুয়েটে পড়ার, কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটা আর হয়ে উঠে নি(সেসব নিয়েও বলেছিলেন, সেটা অন্য একদিন…)। আর সেজন্যই হয়তো আমাদেরকে বুয়েটে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে অনেক উৎসাহ দিতেন। হয়তো নিজের জীবনের আক্ষেপটাকে পূরন করতে চাইতেন ছাত্রদের মাধ্যমে।

একদিন ক্লাসে কথার ফাঁকে বলছিলেন, “জানো, আমি মাঝে মাঝেই খুবই অদ্ভূত একটা কথা ভাবি; তোমরা যখন অনেক বড় হবে, অনেক ভালো চাকরি করবে, তখন একদিন তোমাদের কারো সাথে হটাৎ পথে দেখা হয়ে গেলো। হুমম…ধরো, আজ থেকে ১০-১৫ বছর পরে। হয়তো তোমার সাথে থাকবে বিপরীত লিঙ্গের বিশেষ একজন আর ছোট্ট একটা বাবু(এই বাবু শব্দটা মনে হয় স্যরের অনেক পছন্দের, গলায় অনেক আদর ঢেলে বলতেন)! তখন তুমি আমার সাথে সেই বিপরীত লিঙ্গের বিশেষ একজনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলবে, ইনি আমার স্যার।

আর বাবুটা তখন অবাক হয়ে ভাববে, বাবাদেরও স্যার থাকে!”(চলবে…)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×