গত পরশু একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে, বিরল ঘটনা বলার পিছনেও কারন আছে। ভুমিকা বাদ দিয়ে মূল কথায় আসি, কি মনে করে গত পরশু গেলাম একটি পুরান আড্ডা খানায়। গিয়ে দেখি অনেক পরিচিত মূখ। চায়ের আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। চায়ের আড্ডায় রাজনৈতিক বিষয় উঠবে না এটা আমাদের দেশে ভাবাই যায় না। শেয়ার বাজার সহ এই সরকারের আমলে বেশ কিছূ ধরা খাওয়া প্রসঙ্গ নিয়ে একজন বিএনপি সাটোর্টার আমাকে বলল, তা ভাই এখন কি করছেন? এই সরকারের আমলেতো বহুত ধরা খাইলেন। তার এই কথা শুনে একজন আওয়ামী সাপোর্টার কাই কুই করা শুরু করলো। আমি প্রশ্নকারী বিএনপি সাপোর্টারকে বললাম জ্বি ভাই ঠিকই বলেছেন এই সরকারের আমলে বেশ কিছূ ধরা খাইছি এই কথা যেমন সত্য, ঠিক গতবার বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন কুয়েতে একটা চাকরীর ইন্টারভিউতে টিকে আমার মত ২০০০ হাজার মানুষ যেতে পারেন নাই তারেক জিয়ার কমিশন ব্যবসার কারনে। সাথে সাথে আওয়ামী সাপোর্টার বলল এই দিক দিয়ে “জয়” অনেক ভাল।
আমি তারে কইলাম জ্বি মিয়া ভাই সবই ঠিক আছে তবে একটু খটকা লাগে, উনি বলেলন কি বিষয়ে খটকা? আমি বললাম ভাই সাহেব, জয় আমেরিকায় তার স্ত্রীর সাথে যে দুই মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়ে রফা করলো সেই টাকাটা কি জিয়ার ভাঙ্গা সুটকেস থেকে নিছে? বেচা এই কথা শুনে চুপ হয়ে গেল। পাশ থেকে অন্যজন বলল ঠিকই বলছেন ভাই, দেশে এখন এরশাদ কাকারে প্রয়োজন। আমি তারে কইলাম ভাই কথা তয় মন্দ বলেন নাই। তয় কিঞ্চিত টেনশন হয়। তিনি বলেলন কি রকম? আমি বললাম এরশাদ কাকা সকাল বিকাল মাহাজোট সরকারকে তালাক দেয়, তারপরে তালাক দেয়ারে নিয়া ঘর করে। এখন কথা হইল এই যে সকাল বিকাল যেই লোক ভোল পাল্টায় তার উপর কি ভরসা আছে সে যে দুই রমনীর মত করবেনা। অন্যপাশ থেকে একজন বলল ভাই যে যাই বলেন জামাত ক্ষমতায় আসলে দেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা হবে, তখন মানুষ প্রকৃত শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। তারে বললাম ভাই জামাত কি ইসলামী দল? তিনি উত্তর দিলেন অবশ্যই। তারে এলাকার একজন সর্বজন শ্রদ্বেয় ইমাম সাহেবের কথা বলে বললাম এই ইমাম সাহেব কেমন? তিনি বলেল যে উনিতো একজন সর্বজন শ্রদ্বেয় ও খুবই হক্বানী আলেম । এবার তাকে বললাম ভাই সর্বজন শ্রদ্বেয় ইমাম সাহেব হুজুরতো বলেন জামাত কোন ইসলামী দল নয়। আচ্ছা বাদ দেন ইমাম সাহেবের কথা, তাকে প্রশ্ন করলাম এইযে আমরা এখানে সবাই পরিচিত আমাদের মাঝে কি কেউ কাফের আছে? তিনি উত্তর দিলেন না। তাকে আবার প্রশ্ন করলাম আচ্ছা যারা জামাত ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দল করে তারা কি কাফের? তিনি উত্তর দিলেন না। এবার তাকে বললাম তাহলে অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে জামাতের যখন মারামারি হয় সেটা কি কাফেরের সাথে মুসলমানের মারামারি? তিনি উত্তর দিলেন না। এবার তাকে বললাম তাহলে অন্য দলের সাথে জামাতের কেউ যখন মারামারি করে নিহত হয় তাকে জামাতের পক্ষ থেকে শহীদ বলে প্রচার করা হয় কেন? এবার জামাত সাপোর্টার কোন সদুত্তর দিতে না পেরে কাই কুই করা শুরু করলেন। এবার একযোগে সকলে মিলে আমাকে প্রশ্ন করলো আপনি কোন দলের সাপোর্ট করেন? উত্তরে বললাম দেখুন আমি যেই চিন্তায় বিশ্বাসী সেই ধারার কোন রাজনৈতিক দল দেশে এখনো তৈরী হয় নাই। তাই বলা যায় আমি কোন দলের সাপোর্টার না। আর যদি আসে ভোটের হিসাব, তাহরে গত নির্বাচনে আমি “না” ভোট দিয়েছি। আর তার আগের নির্বাচনে চিল্লায় ছিলাম ভোট দেই নাই। অথবা এক কথায় এভাবেও বলতে পারেন সব দলের বিপক্ষে স্রোতের উল্টা দিকে চলা একজন মানুষ আমি।
লেখাটার শুরুতেই বলেছি একটি বিরল ঘটনা এই কারনে যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্ষমতার কম বেশী স্বাদ পাওয়া সব গুলো দলের সাপোর্টারের সাথে আড্ডা ও ভিন্নমত পোষন করার পরেও সুস্থ শরীরের ফিরে আসা। আর এখানেই হলো বাস্তব জগত এবং ভার্চুয়াল জগতের পার্থক্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

