somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিদায় সামহোয়্যার! http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28714334 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28714334 2007-06-03 19:37:45 মিনিমাইজেবল ফ্রন্টপেজ স্বাভাবিকভাবে, প্রথম পাতায় (ফ্রন্টপেজে) পোস্টের শুধু শিরোনাম এবং + - থাকবে। এর ফলে ফ্রন্ট পেজে এখন যেমন মাত্র ১০ টি পোস্ট থাকে, তখন প্রায় ৫০ টি পোস্ট থাকবে।
+ ট্যাবটি ক্লিক করলে পুরো লেখাটির কিছু অংশ দেখা যাবে, যেভাবে এখন দেখা যায়। এরপর বিস্তারিত পড়ুন থেকে পুরো লেখা পড়া যাবে।
- ট্যাবটি ক্লিক করলে শুধু শিরোনাম ছাড়া পুরো লেখাটি বন্ধ হয়ে যাবে।

অন্য ব্লগারদের কাছে মতামত চাইছি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইছি, বিষয়টি টেকনিক্যালি খুব কঠিন কিনা অথবা তাদের অন্যকোনো বক্তব্য আছে কিনা?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28713385 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28713385 2007-05-30 09:59:38
খরায় পানি কম? বর্ষায় পুষিয়ে দিমুনে...

এস পি কাকরানের ইন্টারভিউটি টিভিতে প্রতিটি খবরেই দেখাচ্ছে, পারলে দেখে নিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28713164 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28713164 2007-05-28 22:13:28
আমার প্রিয় ছবি-১ http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28712698 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28712698 2007-05-26 22:42:53 জামাল ভাস্করের নাফ নদী দর্শন, আমেরিকার কনডম ব্যবসা এবং কনডমের ভেতরকার শক্ত বস্তুটির মাজেজা
এতো কথার হেতু রয়েছে জামাল ভাস্করের নাফ নদী দেখতে যাওয়ার শানেনজুলের মধ্যে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী প্রমাণ করার জন্য জামাল ভাস্করকে প্রচুর কষ্ট করতে হয়েছে। বহুত হাইপোথিসিসও নাকি খাড়া করতে হয়েছে। (অথচ রিফুজি সবসময়েই ভালনারেবল, এর জন্য হাইপোথিসিসের কোনো দরকার নেই; আমেরিকায় যেসব রিফুজি ক্যাম্প আছে (যেমন কিউবান) ওখানকার জনগোষ্ঠীকে তো ওরা ভালনারেবল-ই বলে। আর জামাল ভাস্কর বললেই যতো সমস্যা!)

এবং এইসবের লক্ষ্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে এইডসের হাত থেকে বাঁচানো! এইডস বলে আদৌ কোনো জীবনঘাতী রোগ আছে কিনা, এই নিয়েই বিতর্ক* আছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিতর্ক এই অসুখকে নিয়ে ব্যবসা করা নিয়ে। জামাত কায়দায় মানুষের দুর্বল জায়গা নিয়ে ব্যবসা করতে আমেরিকা (এবং ইহুদিবাদ) তো সবসময়ই সক্রিয়। এখানেই ইউএনএফপিএ কিংবা মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মার্কিন কংগ্রেসম্যানরা একেকজন কনডম কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার- আর আমাদের নাকি এইডস! সুতরাং লাগাও বাজি।

হাজার হাজার আফ্রিকান যখন শেল-ইউনিক্যাল আর নানা ইঙ্গ-মার্কিন কোম্পানির আগ্রাসনে না খেয়ে মরছিলো, তখন আমেরিকা আর ব্রিটেন আবিষ্কার করলো- "না! না খেয়ে মরছে না তারা, মরছে এইডসে!" এইডস যদি এতোই ঘাতক হতো, তবে আমেরিকানরা মারা যেতো সবচেয়ে বেশি। যতই অসচেতন বলা হোক না কেন, আফ্রিকার মুসলিম এবং এথনিক জনগোষ্ঠীর যৌনতাবোধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে কোনো তথাকথিত সভ্যদেশের চেয়ে বেশি নিরাপদ। বরং মাত্র ৫%** কনডম ইউজারের দেশ আমেরিকায় কেন এইডস-এ মৃত মানুষের সংখ্যা এতো কম, সেই প্রশ্ন নিদ্বির্ধায় তোলা যায়।

আসল কথা আগেই বলে ফেলেছি! শেষে আবার বলি, কনডম যতো ইলেকট্রিক শক-দেওয়াই হোক, টানলে যতোই লম্বা হোক, যতো হার্ড বা হার্ডকোর হোক- আসল কাম কিন্তু করে কনডমের পিছনেরটা। যতোই তারে আটকাইয়া রাখা হোক, যতোই ঢেকেঢুকে রাখা হোক, যতই বলা হোক- আমেরিকা-ইউএন-কনডম কোম্পানীর ট্যাকের জোর বেশি, কার্যক্ষেত্রে সবসময় তা না-ও হতে পারে। অন্তত ইতিহাস থেকে আমরা সেই শিক্ষাই পাই।


*এইডস সম্পর্কে যত কথা বলা হয়, যতো লোক মারা যাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়, সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে ব্যাপক বিরোধ আছে। এই বিষয়ে আগামীতে একটা পোস্ট দিবো।

**এই হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে কনডম-প্রচারণার আগের বর্তমানে এই হার ১৮%।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28712024 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28712024 2007-05-22 16:43:22
বিনত বিবির মসজিদ এবং আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ আহা, দ্যাখো! ভিখারীর এই মসজিদ কী মনোহর ভূষণে!
------------------------------মারহামাত-এর কন্যা বখত।


মারহামাত-এর কন্যা বখত কিংবা বখত বিনত মারহামাত, যা-ই বলুন না কেন, বখত বিবির সম্বন্ধে যতো মুখরোচক গল্পই থাকুক না কেন বাজারে- সর্বজনস্বীকৃত তারিখ অনুযায়ী ঢাকার সর্বপ্রাচীন প্রার্থনাঘরটি কিন্তু ভেঙ্গে গেছে। কিংবা অন্যভাবে বলা যায় ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কখন? ২০০৬ সালে। যখন আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি ঢাকার ৪০০ বছর উদযাপনের। ইতোমধ্যে ঢাকার চারশত বছর উদযাপনের জন্য বেসরকারিভাবে একটি জাতীয় কমিটিও গঠিত হয়েছে। নগর যদিও বাংলাদেশে কোনো নতুন অভিজ্ঞান নয়, কিন্তু ইয়োরোপীয় বাত্তি জ্বলার (এনলাইটমেন্ট) পর দেশে দেশে যে নগর-পত্তন শুরু হয়, সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে সুবেদার ইসলাম খাঁ কর্তৃক বুড়িগঙ্গার তীরে যে প্রাদেশিক (সুবা) রাজধানী স্থাপন, তার মধ্য দিয়ে নগর হিসেবে ঢাকার পুনর্জন্ম লাভের চারশ’ বছর উদযাপনের জন্য যখন প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মানুষ তখন, তখন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বখত নির্মিত ঢাকার মুসলমানদের প্রথম প্রার্থনাঘরটি।

ঠিক ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে শব্দটা এখানে পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে না। কারণ এটা চাঙমা রাজার বাড়িও না কিংবা রমনার কালী মন্দিরও না। এটা একটা মসজিদ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে মসজিদ ভেঙে ফেলা হবে, এমন দুঃসাহস কারো হবার কথা নয়। কিন্তু ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলতেই হচ্ছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে বখত বিনত মারহামাতের মসজিদ। আরো স্পষ্ট করে বললে বলা যায়, অনেক আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। সত্যি, বখত বিনত মারহামাত-এর নির্মিত সাড়ে চারশো বছরের পুরনো মসজিদটি এর আগে কয়েকবার সংস্কারের জন্য ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমান মসজিদটি ঠিক বখত বিনত মারহামাত-এর নির্মিত মসজিদ নয়, কিংবা এটা প্রাক-মুঘল যুগের স্থাপত্য-শৈলীও পুরোপুরি ধারণ করে না।

বিশেষ করে, পণ্য অর্থনীতির ব্যাপক প্রসারের কারণে অকস্মাৎ ঐতিহ্য-বোধ জেগে ওঠার যে প্রবণতা; ঢাকার চারশো বছর উদযাপনের প্রাক্কালে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও অন্যান্য নিদর্শন সংরক্ষণের দাবি তাই বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী শাখারিবাজার সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী আরমানিটোলা সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী ফরাশগঞ্জ সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী গুলিস্থান সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী রমনা পার্ক সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী ইত্যাদি ইত্যাদি বহু কিছু সংরক্ষণের কথাবার্তা গত কয়েক বছরে বেশ শুনছি আমরা। এবং এও শুনছি, এসব সংরক্ষণের জন্য অ্যাডভোকেসি, পিপল অ্যাওয়ারনেস ইত্যাদি প্রোগ্রামে নাকি বহু ডলার-পাউন্ডও আসছে।

ভেঙে কী ফেলা হয়নি অথবা ভেঙে কি যায়নি প্রাচীন সব স্থাপত্য নিদর্শনগুলো? আমাদের কি ধারণা? আমরা যে লালবাগ কেল্লা, ষাটগম্বুজ মসজিদ কিংবা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কিংবা ময়নামতির আনন্দবিহারের সামনে দাঁড়াই তা কি ৭ম, ৮ম কিংবা ১৬শ শতকে নির্মিত? মোটেই নয়! এই স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগ অংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, কালের বিবর্তনে যাওয়ারই কথা। কিন্তু নিয়ম হলো, যখন নতুন করে নির্মাণ করা হবে, তা অবশ্যই পুরনো স্থাপনা-শৈলী এবং নির্মাণ উপকরণ দিয়ে করতে হবে। বলা বাহুল্য, এই নিয়ম প্রযোজ্য কেবল যৌথ সম্পদের ক্ষেত্রেই। আপনার দাদার তৈরি করা বাড়ি ভেঙে আপনি যেভাবে খুশি নতুন করে বানাতে পারেন, কিন্তু বখত বিনত মারহামাত-এর ওয়াক্ফ করা স্থাপনা আপনি খেয়াল-খুশি মতো ভাঙচুর করতে পারেন না। সাংস্কৃতিক এবং প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সনদের তা স্পষ্ট লঙ্ঘন। বলা দরকার, বাংলাদেশ ঐ সনদগুলো স্বাক্ষর করেছে। এবং গরীব দেশ বলে বাংলাদেশের পক্ষে এই সনদ মেনে চলা যেন কষ্টকর না হয়, এজন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়, যার বেশির ভাগ অংশটাই চিরস্থায়ী দান।

বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব চর্চার সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের একটা তালিকা আছে, তাতে চারশো’রও বেশি ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। এই তালিকাভুক্ত কোনো স্থাপনায় যদি আপনি কখনো বেড়াতে যান, দেখতে পাবেন অথবা বলা যায় খুঁজলে দেখতে পাবেন, একটা নীল সাইনবোর্ড। তাতে লেখা, এই স্থাপনাটি প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের ১৮৫৪ সালের (১৯৬৯ সালে সংশোধিত) আইন অনুসারে সংরক্ষিত, এর কোনোরূপ ক্ষতি সাধন, আঁচড় কাটা, লেখা ইত্যাদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এই আদেশ অমান্যকারীকে এতো টাকা জরিমানা কিংবা এতো বছরের কারাদন্ড কিংবা উভয় শাস্তি বিধান করা যাইতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঐ নীল সাইনবোর্ডটি ২৫ বা তার চেয়ে বেশি সময়ের পুরনো। বাংলাদেশে যেদিন সাইনবোর্ড সংরক্ষণের আইন হবে, সেদিন ঐ সাইনবোর্ডগুলোর সামনে লাগানো থাকবে আরেকটি সাইনবোর্ড, 'এই সাইনবোর্ডগুলো অমুক সালের সাইনবোর্ড সংরক্ষণের আইন কর্তৃক সংরক্ষিত... ...'। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কমবেশি চারশো স্থাপনার অধিকাংশই নাজুক অবস্থায় আছে। যেগুলো সংস্কার করা হয়েছে, সেসব সংস্কার কমিটিতে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক কিংবা সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞ কাউকে রাখা হয়নি। বলতে গেলে, সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করা হয়নি, এর ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। (চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28711687 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28711687 2007-05-20 20:10:12
রোবাব রোসান এবং ওয়ান টপ আর্কিওলিজস্ট : তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে বানরের উত্থান (?) রোবাব রোসান এবং ওয়ান টপ আর্কিওলিজস্ট : বালস্য বাল শীর্ষক পোস্টের পর...
প্রায় ১৫ লাখ বছরের প্রাচীন এবং মানুষের বসবাসের উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভূমিরূপের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেউ কেউ বাংলাদেশের ইতিহাসকে প্রাচীন বলতে নারাজ। এরা বাংলাদেশকে বলেন নতুন ভূমির দেশ, যেন পরশু বিকেলে সমুদ্রের গর্ভ থেকে বাংলাদেশের জন্ম হলো। এইসব বিষয় নিয়েই এই পোস্টটি।

১.
একটি বানর একটি তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে এক মিনিটে ২ ফুট ওপরে ওঠে এবং পরবর্তী মিনিটে ৩ ফুট নিচে নামে। ১০ মিনিট পর বানরটি কোথায় থাকবে? হাস্যকর ঠেকতে পারে, এই ভয় না করেই দশকের পর দশক জুড়ে ইউরোপীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি অংশ বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে তৈলাক্ত বাঁশের বানরে পরিণত করেছেন।

২.
কয়েকদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাস্থানগড়ে খননে লিপ্ত বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ দল জোর দাবি জানালো, মধ্যযুগ নয়, মহাস্থানগড়ের বিকাশ মৌর্যযুগে ঘটেছিল। অদ্ভুত...! মহাস্থানগড়কে মধ্যযুগের সাইট বলে কে দাবি করেছে? মহাস্থানগড় অঞ্চলে যে মৌর্য যুগের অনেক আগেই মানুষের বসতি ছিলো, এমন দাবিই তো বরাবর করে আসছিলেন আমাদের দেশের ইতিহাসবেত্তা ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা। যৌথ দলের দাবিটা তো রীতিমতো আপনাকে কয়েকধাপ নামিয়ে একধাপ ওপরে তোলার মতো ব্যাপার। আপনি অলরেডি একজন গ্রাজুয়েট, আর কেউ যদি বলে, আপনি একেবারে নিরক্ষর নন, তাহলেও বোধ করি ব্যাপারটা এতো দুঃখজনক হবে না। কারণ আপনার ব্যাপারটা তো একজন ব্যক্তির ব্যাপার, আর মহাস্থান তো একটি জনগোষ্ঠী ও অঞ্চলের প্রতিনিধি।

৩.
ফ্রান্স-বাংলাদেশ যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দলের অধিনায়ক জ্যাঁ ফ্রাঁসোয়া শালে মহাস্থানকে মৌর্য যুগের আগে স্থান দিতে আগ্রহী নন (১৯৯৮ পৃ ১৯৩)। তার লেখায় তিনি মহাস্থানের নিচে বাংলাদেশের অপর অংশসমূহকে সমুদ্রে-নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। প্রকৃতপক্ষে বাংলার ইতিহাস যে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন হতে পারে, ইউরোপীয় জাতদেমাগী সাদা চামড়ার মানুষেরা তা মানতে আগ্রহী নন। তারা বলছেন, মৌর্য আগ্রাসনের মাধ্যমেই বাংলায় নগর-সভ্যতার সূচনা। তার অর্থ কী এটাই দাঁড়ায় না যে, এর আগে বাংলার মানুষ ছিল অসভ্য? অনেক ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য ছাড়াই তারা বলছেন, বাংলার অধিকাংশ এলাকাই ছিল পানির নিচে নিমজ্জিত। এবং তারাই গত কয়েক দশক ধরে বলে আসছেন, বাংলাদেশে প্রাগৈতিহাসিক যুগের সংস্কৃতি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই। কেন? যুক্তি কী? তারা বলছেন, বাংলাদেশ একটি নবগঠিত ব-দ্বীপ, সুতরাং এখানে মানুষ এসেছে অনেক পরে, যখন অন্য সব জায়গায় মানুষ সভ্যতার যুগ শেষের পথে। বাংলাদেশের অনেক ভূমিই গড়ে উঠেছে এই ব-দ্বীপের বিকাশের পর, একথা সত্যি- কিন্তু কত নতুন আমাদের এই দেশ? আসুন একটু ভূগোল ও ভূতাত্ত্বিকরা কী বলেন তা জেনে নিই।

বাংলাদেশের পাঁচটি অঞ্চল গঠিত হয়েছে প্লায়োস্টোসিন যুগে। এগুলো হলো- বরেন্দ্রভূমি, মধূপুর গড় অঞ্চল, লালমাই অঞ্চল, সিলেটের পাহাড়ি এলাকা এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা। পদ্মা ও যমুনাবিধৌত সমভূমি ছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রায় পুরোটাই বরেন্দ্রভূমি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল ও ঢাকা পড়েছে মধুপুর গড় অঞ্চলে, লালমাই অঞ্চলে পড়েছে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই অঞ্চলগুলো, সিলেটের পাহাড়ি এলাকা মানে প্রায় পুরো সিলেট বিভাগের উচু ভূমি আর চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা মানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা এবং ফেনি। বাংলাদেশের আর বাকী থাকলো কী? এই পুরো এলাকাটি গঠিত হয়েছে প্লায়োস্টোসিন যুগে, মানে আজ থেকে কমসেকম ১৫ লাখ বছর আগে (সর্বোচ্চ ২৫ লাখ পর্যন্ত বলে থাকেন ভূতাত্ত্বিকরা)। অর্থাৎ ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা আজ থেকে কমপক্ষে ১৫ লাখ বছর আগে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত ছিল। শুধু উপযুক্ত ছিল বললে কম বলা হবে, কারণ নীল বা সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা বসতি স্থাপনের জন্য ছিল নদী-সহায়তা। মেসোপটেমিয়া ও চীনে অবশ্য কিছুটা অন্য প্রাকৃতিক সুবিধাও ছিল। আর বাংলাদেশে শুধু নদী সুবিধাই নয়, এই অঞ্চলের উচু-নীচু ভূমিরূপ দিচ্ছে তিনটি সুবিধা- এক. উচু ভূমিতে নিরপদে বন্যামুক্তভাবে বসবাস, দুই. মৌসুমী বন্যায় পলিবাহিত নিচু ভূমিতে প্রায় বিনা আয়াসে চাষাবাদ এবং তিন. কাছেই জলাভূমি থাকার কারণে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদকে ব্যবহার। অন্যান্য সভ্যতার অঞ্চলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশকে ওগুলোর চেয়ে বেটার মনে হয়।

তাহলে কেন আমরা বাংলাদেশে প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতি এবং নগর-সভ্যতা খুঁজে পাইনি? কারণ আমরা খুঁজিনি। ইউরোপীয় সাদা চামড়া বলে গেছে, তোমরা তো মাত্র মানুষ হলে... সভ্যতা তোমরা কোত্থেকে পাবে?

অথচ খোঁজা যখন শুরু হলো, তখন কিন্তু পাওয়া গেলো। বাংলার যে পাঁচটি প্লায়োস্টোসিন যুগের অঞ্চলের কথা আগে বলেছি ওই অঞ্চলগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতে পাওয়া গেছে প্রাগৈতিহাসিক কালের প্রস্তর যুগের মানুষের ব্যবহার্য হাতিয়ার ও অন্যান্য নিদর্শন। ফেনি ও চট্টগ্রামে, সিলেট ও হবিগঞ্জে, কুমিল্লায় এবং উয়ারী-বটেশ্বরে। একমাত্র বরেন্দ্র অঞ্চল ছাড়া অন্য প্রত্যেকটি অঞ্চলে যতটুকু সন্ধান চালানো হয়েছে, তাতেই পাওয়া গেছে প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন।

এবং প্রাগৈতিহাসিক যুগের পরবর্তীতে বাংলাদেশে নগর-সভ্যতা গড়ে উঠেছিল কিনা? মহাস্থান এক ইউরোপীয়-র (কানিংহাম) আবিষ্কার বলে মহাস্থানকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। কিন্তু এরা মহাস্থানগড়কে মৌর্যযুগের আগে স্থান দিতে আগ্রহী নন। এমনকি তারা মনে করেন মৌর্য যুগের আগে বাংলাদেশে আর কোনো প্রত্নস্থান থাকতে পারে না? কাজেই যখন উয়ারী-বটেশ্বরে খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতকের নগর-সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়, তখন তারা একে মেনে নিতে পারেন না। অথচ উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তর হাতিয়ার, তাম্র-প্রস্তর যুগের বসতি ও বস্তু-নিদর্শন এবং তারো পরের যুগের নগর-সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়েছে। আপনি মেনে নিতে না চাইলে কী করবেন? মাটি যে তার সম্পদ উন্মোচিত করছেই!

বাংলার অবশিষ্ট অংশ- যেটা নব-গঠিত ব-দ্বীপ বলে ফেলনা বলে আমাদের ইতিহাস-চিন্তায় প্রোথিত করে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে- সেই অঞ্চলটি কত নতুন? ভূতাত্ত্বিক হোসেন মনসুর এবং আরো অনেকের বইতেই এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন। মাত্র ৬ হাজার বছর আগেও সমুদ্র সৈকত এখন যেখানে আছে, তার থেকে বিশাল ৫ কিলোমিটার দূরে ছিল (অনন্ত দূরত্ব!)। বাংলার ব-দ্বীপ এখন থেকে ৫-৬ হাজার বছর আগেই গঠিত হয়েছিল, একথাই জানাচ্ছেন ভূতাত্ত্বিকরা, তবে বর্তমানের মতো পুরো অঞ্চলটাই যে শুকনো ভূমি ছিল, তা নয়। কিন্তু জাতদেমাগী উপস্থাপনে ওরা আপনাকে বলবে যেন মাত্র গত মঙ্গলবার এই ভূমি জেগে উঠেছিল।

তাহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ওই বানরের বাঁশে আরোহনের গল্প ফাঁদা কেন? লক্ষ্য করবেন, এই ঘরানার প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবেত্তাগণ ভারতবর্ষকে আর্য কর্তৃক সভ্যকরণ তত্ত্ব দেন, যেন আর্যরা না এলে (?) আমরা বর্বর থেকে যেতাম। তারাই পরে বলেন, ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন আমাদেরকে ঐতিহাসিক ভাবে মুক্তি দিয়েছে, আমাদেরকে আধুনিক ও সভ্য করেছে। এদের কেউ কেউ এমনকি পাকিস্তানি শাসনও যে আমাদেরকে অনেক সভ্য করেছে, সেই পর্যন্ত অগ্রসর হন। প্রকৃতপক্ষে শত শত বছর ধরে ইউরোপ সারা বিশ্বে যে ঔপনিবেশিক আগ্রাসন ও লুটপাট চালিয়েছে, তাকে বৈধ করার জন্য এবং নিপীড়িত দেশগুলোর মানুষের মনে উপনিবেশের স্মৃতি ও বিরোধিতা মুছে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশগুলোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ইতিহাসকে বিকৃত করে। যেন উপনিবেশ না হলে যে আমরা মানুষ-ই হতাম না। কাজেই সাবেক সকল উপনিবেশ ও আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার মাধ্যমে তারা বর্তমান কালেও যেসব আগ্রাসন ও উপনিবেশিক প্রভাব রয়ে গেছে, তাকে বৈধতা দানের চেষ্টা করে। বর্তমান কালে দেশে দেশে পণ্য, তথ্য, জ্ঞান ও গণমাধ্যমের যে আগ্রাসন চলছে উপনিবেশকে কোমলায়িত করে ও উপনিবেশকে মধুমাখা করে তার বৈধতা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।

আর সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হলো, আমাদের দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সঙ্গে জড়িত লেখক, সাংবাদিক, অধ্যাপকদের একটি অংশও না বুঝে অথবা ক্ষমতার লোভে এই নব্য-উপনিবেশিকতা ও সাম্রাজ্যবাদী জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

রোবাব রোসানকে এই অবস্থানে আমি একটি পক্ষে ফেলতে চাই। কারো কাছ থেকে তিনি ঘুষ নিয়েছেন- এমন মতের আমি আগেও বিরোধিতা করেছি, এখনো করছি। তিনি ওই ইউরোপীয় জাতদেমাগি ঘরানার ভাঁজ খেয়েছেন। ওরা তাকে যা বুঝিয়েছে, তিনি সেটুকুকে সত্যি বলে মনে করেছেন। একজন সাংবাদিক সব বিষয়ে জ্ঞানী হবেন, তা আশা করা যায় না। কিন্তু সব মহলের বক্তব্য তুলে ধরবেন, এটা আশা করা যায়। কেবল একটি পক্ষের কথা বলবেন তা কি হয়? বিশেষত যে পক্ষটি আবার বাংলাদেশের ইতিহাসের ব্যাখ্যায় একটি জাতদেমাগী চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত!



বি.দ্র. ২৭ এপ্রিল ২০০৭ দৈনিক নিউ এজে রোবাব রোসানের একটি প্রতিবেদন বিষয়ে এটা দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28710613 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28710613 2007-05-14 21:32:17
রোবাব রোসান এবং ওয়ান টপ আর্কিওলিজস্ট : বালস্য বাল পৃথিবীর প্রগাঢ় প্রস্রাবের ফেনায় ভেসে গেছে!

আমরা যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে অংশ নিয়েছি নিউ এজের সাংবাদিক রোবাব রোসান আমাদেরকে বলেছেন অযোগ্য, অনভিজ্ঞ, নবিস, শিক্ষার্থী। তার কথার সমর্থনে তিনি আবার এক বালস্য বাল টপ আর্কিওলজিস্টের বালের তলে আশ্রয় নিয়েছেন। কে এই বালস্য বাল? রোবাব রোসান তার নাম বলার সাহস পাননি। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে যাদেরকে বিশেষজ্ঞ বলে অভিহিত করা হয়েছে তারা হলেন ড. এনামুল হক, ড. মোজাম্মেল হক, ড. কামরুল আহসান এবং একজন বালস্য বাল "টপ আর্কিওলজিস্ট"। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন নিয়ে এই বিশেষজ্ঞদের কথা বলার অধিকার আছে কিনা এই বিষয়টি বহু বছর ধরেই প্রশ্নের সম্মুখীন। কারণ এদের কারোরই প্রত্নতাত্ত্বিক খননের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভাবা হয় এমন কয়েকজনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের অভিজ্ঞতা নিচের ছকে দেখাচ্ছি। শেষে আমার অভিজ্ঞতাটাও যুক্ত করছি (যদিও আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই)।

বিশেষজ্ঞের নাম---------------------খননের অভিজ্ঞতা
ড. এনামুল হক------------------------------০
ড. মোজাম্মেল হক --------------------------১
ড. একেএম শাহনাওয়াজ---------------------০
ড. আব্দুল মমিন চৌধুরী-----------------------০
ড. কামরুল আহসান--------------------------১
ড. এম আর খান (ফিজু)----------------------০
ড. মোস্তাফিজুর রহমান (লাল)-----------------১২
ড. অসিত বরণ পাল--------------------------০
ড. আইয়ুব খান------------------------------০
স্বাধীন সেন----------------------------------২
বুলবুল আহমেদ-------------------------------০
মাসুদ ইমরান মান্নু-----------------------------২
জয়ন্ত সিংহ রায়-------------------------------০
মালিহা নার্গিস---------------------------------০
রূপালি আক্তার--------------------------------০
সীমা পাওয়ানকার------------------------------০
এবং
সোহেইল জাফর (বিশেষজ্ঞ নই)-----------------৫
(এই তালিকায় সামান্য ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে)

আমার প্রত্নতাত্ত্বিক খননের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো ব্যক্তি বাংলাদেশে একজনই আছেন, তিনি ড. মোস্তাফিজুর রহমান লাল। কোনো বালস্য বাল টপ আর্কিওলজিস্ট বা সাংবাদিকের নাই। ওই বালস্য বাল টপ আর্কিওলজিস্ট তো সিভিলাউজেশনের সংজ্ঞাই জানে না! তার মন্তব্য শুনুন, "কয়েকটি প্রাগৈতিহাসিক পাথর পেলেই তাকে সভ্যতা বলা যায় না"। আরে চুদির ভাই, প্রাগৈতিহাসিক পাথর পেলে তাকে সভ্যতা বলে তোর কোন্ বাপ? প্রাগৈতিহাসিক পাথর তো প্রস্তর যুগের হাতিয়ার রে! ওইটা তো সভ্যতার সময় না। সভ্যতা তো আসলো আরো কয়েক হাজার বছর পর। এই সাধারণ তথ্যটাই জানিস না, আবার টপ আর্কিওলজিস্ট হয়ে গেলি।

আর যে সাংবাদিক তাকে টপ আর্কিওলজিস্ট বানালো তার জ্ঞানের বহর দেখুন। প্রতিবেদনের ভূমিকায় উনি লিখছেন- উয়ারী-বটেশ্বরের সময় ৪৫০ বিসি, এটা হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর সমসাময়িক। আরে ব্যাটা হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর সময়কাল ২৭০০ বিসি, এটা ধ্বংসই হয়ে যায় ১৭০০ বিসি-তে, তো কীভাবে উয়ারী-বটেশ্বর হরপ্পার সমসাময়িক হলো?

তোর মতো কত শত বালস্য বাল, হরিদাস পাল
পৃথিবীর প্রগাঢ় প্রস্রাবের ফেনায় ভেসে গেছে!

বি.দ্র. ২৭ এপ্রিল ২০০৭ দৈনিক নিউ এজে রোবাব রোসানের একটি প্রতিবেদন বিষয়ে এটা প্রথম প্রতিক্রিয়া।

কৃতজ্ঞতা- কবি জোর্তিময় নন্দীর কবিতাটা আবারো ব্যবহার করলাম, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28709873 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28709873 2007-05-09 23:25:46
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন Click This Link
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের বিষয়ে এটা কোনো বিদেশী ষড়যন্ত্র কিনা, সেটা ভেবে দেখা দরকার। কারণ পুরো প্রকল্পটি একজন ব্যক্তি পরিচালনা করছেন, তিনি হলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক শফিকুল আলম। ফ্রান্সের সাথে অসম চুক্তির প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ প্রসঙ্গে যার বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। আমরা অবিলম্বে শফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী ধ্বংসের ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28708372 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28708372 2007-04-29 19:35:23
প্রত্নসম্পদ বেচাকেনা ও পাচার বাংলাদেশের প্রচলিত প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ক আইনটি কেবল পুরনোই নয়, বরং সমকালীন বাস্তবতা-বিবর্জিত। ১৯০৪ সালে প্রণীত একটি আইনের আলোকে ১৯৬৮ সালে প্রণীত এই আইনটি ১৯৭৬ সালে সংশোধন করা হলেও এখানে প্রত্নসম্পদ পাচার ও কেনা-বেচা সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি হিসেবে ৩০ দিনের কারাদণ্ড অথবা ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনটির বিধান একাধারে অ-যুগোপযোগী এবং সেই সাথে এটি অকার্যকরও বটে।

পরশপাথর না কষ্টি পাথর না কালো পাথর
সংবাদমাধ্যমে এটি প্রায়ই দেখা যায়, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি ‘কষ্টি পাথরে তৈরি’। সম্প্রতি উদ্ধারকৃত কিছু মূর্তির মধ্যে ২টি নাকি ‘পরশ পাথরে’র তৈরি। মূর্তিটি প্রকৃতপক্ষে কোন্ পাথরে তৈরি তা যথাযথ গবেষণার আগে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কষ্টি পাথর বা পরশ পাথর বলে কোনো পাথর পৃথিবীতে নেই। সাধারণ ভাবে ব্লাক ব্যাসাল্টকে অনেকে কষ্টি পাথর বলে থাকেন। কিন্তু উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো ব্লাক ব্যাসাল্টের তৈরি কিনা তা-ও তো আগে নিশ্চিত হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী উদ্ধারকারী দলে কি কখনও কোনো পাথর-বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে?

প্রত্নসম্পদের মূল্য : কোটি টাকা না তারও বেশি?
প্রায়ই আমরা দেখে থাকি ‘৫০ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার’। এই মূল্য নির্ধারণ কে করলো? বাজারে ব্লাক ব্যাসাল্টের (কষ্টি পাথরের!) মূল্য কিরূপ? বাজারে প্রতি টন ব্লাক ব্যাসাল্টের দাম ৭০০০ টাকা। তাহলে ২০ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের মূর্তির মূল্য কি করে ৫০ কোটি টাকা হয়? প্রকৃতপক্ষে প্রত্নসম্পদের মূল্য কোনোভাবেই টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই মূল্য নির্ধারণ ও প্রচার পরোক্ষভাবে পাচারকারীদের উৎসাহিত করে।

উদ্ধার  অযত্ন  ধ্বংস?
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মূর্তিগুলো উদ্ধার হওয়ার পর সেগুলো কোথায় যায়? সেগুলো কি আইন-রক্ষাকারী বাহিনীর গুদামেই পরে থাকে? সেগুলোকে কি প্রত্নসম্পদ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়? আমাদের প্রস্তাব হলো, উদ্ধারকৃত প্রত্নসম্পদ যথাসম্ভব দ্রুত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে এবং যোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হোক। উপযুক্ত গবেষণার পর তা যেন জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়, তার ব্যবস্থা করা উচিৎ। কেবল উদ্ধার এবং অযত্নে গুদামে পরে থাকা প্রকৃত অর্থে প্রত্নসম্পদকে ধ্বংসই করে।

প্রত্নসম্পদের প্রকৃত মালিক ও সংরক্ষক
দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পরিচয়বাহী সাংস্কৃতিক সম্পদের প্রকৃত মালিক এই দেশের জনগণ। জনগণকে প্রত্নসম্পদের প্রকৃত পরিচয় অবহিত না করলে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি হয়। আমরা মনে করি, পদ্ধতিগত প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আগে স্থানীয় জনগণ ওই স্থানের প্রত্নসম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকটা উদাসীন থাকে। পদ্ধতিগত গবেষণা শুরু হওয়ার পর অনেকে ধারণা করতে থাকে, সরকারি আমলা অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্ররা এখান থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। গবেষণাকাজে অবশ্যই স্থানীয় মানুষদেরকে সম্পৃক্ত করা উচিত। কিছু মানুষ প্রতক্ষ্যভাবে কাজ করবেন, অন্যরা কাজ দেথবেন। তারা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কাজ এবং আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু দেখবেন। তখনই যদি বোঝানো হয়, কীভাবে ভাঙ্গা মৃৎপাত্র থেকেও আমাদের অমূল্য ইতিহাস ও সংস্কৃতি বোঝা সম্ভব, তাহলে সেখানে অ-পদ্ধতিগত খনন অনেক কমে যাবে, এমনকি গবেষক দলের অনুপস্থিতিতে কোথাও কোনো প্রত্নসম্পদ পাওয়া যাওয়ামাত্র তাদের কেউ কেউ আপনাকে ফোন করবে, খবর পাঠাবে। বাইরে থেকে গিয়ে কারো পক্ষে ঐ অঞ্চলের প্রত্নসম্পদ সংগ্রহ, বেচা-কেনা এবং পাচার করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রেপ্লিকা ও আলোকচিত্র
আর একটি কাজও করতে হবে, তা হলো, প্রত্নসম্পদের যথাযথ আলোকচিত্র ও রেপ্লিকা তৈরি করে বহুল প্রচার। এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনতা এবং জাতীয় সম্পদের প্রতি আগ্রহকেই বৃদ্ধি করবে। এমনকি ব্রিটিশ মিউজিয়ামেও পুরাকীর্তির রেপ্লিকা তৈরি করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন ১৯৮৩-তেও জাতীয় জাদুঘরের কার্যাবলিতে রেপ্লিকা তৈরি করা ও তার প্রচারের কথা বলা হয়েছে, অথচ এই আইনটির যথাযথ প্রয়োগ নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28707634 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28707634 2007-04-24 15:32:17
মৌ ও দুধের গল্প পয়ত্রিশ বছর বসিয়ে রেখেছি দুই নেত্রীর কোলে।

[নববর্ষের উপহার, মওদুদের গ্রেফতার- এই বিষয়ে মওদুদ আহমেদের স্বর্গীয় শ্বশুর কবি জসীমউদ্দীন বেঁচে থাকলে কি এরূপ কোনো কবিতাই লিখতেন?]

কৃতজ্ঞতা: কবি ফয়েজ আহমেদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28706490 http://www.somewhereinblog.net/blog/banglaspotblog/28706490 2007-04-16 19:46:14