কৌতুকটি আমার এক বন্ধুর কাছে শোনা।
একদা তিন অভিযাত্রী বন্ধু আফ্রিকার গহিন জঙ্গলে ভ্রমণ করিতে গিয়া পথ বিস্মৃত হইল। অতঃপর তাহারা দিগ্বিদিক ঘুরিয়াও কোন পথ না পাইয়া একটি বৃক্ষতলে উপবেশন করত বিশ্রাম গ্রহন করিতে ছিল। অকস্মাত একদল জঙ্গলী তাহাদের ঘিরিয়া ধরিল এবং বন্দি করিল। উক্ত জঙ্গলীদিগের গোত্রপ্রধান সভ্য জগতের ভাষা জানিতেন।কারণ তিনি কিয়ৎকাল সভ্য জগতে অতিবাহিত করিয়াছিলেন। অতঃপর তিনি নির্ণয় করিতে সক্ষম হন যে, সভ্য জগতের অবস্থা জঙ্গলীদিগের তুলনায় কিছুমাত্র ভাল তো নহেই বরং এই সভ্যরা জঙ্গলীদিগের তুলনায় অধিকতর অসভ্যই বটে। অতঃপর তিনি নিজ গোত্রে প্রত্যাবর্তন করেন এবং নিজের নিকটে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন," যদি কোন সভ্যকে বাগে পাই তাহলে উহাকে অতীব সভ্য একটা শাস্তি দিব"। বহুদিন পর এই তিন অভিযাত্রী সভ্যকে পাইয়া তাহার প্রতিজ্ঞাপূরণের মহেন্দ্রক্ষণ সমাগত হইল। তিনি বিচারালয় গঠন করিলেন এবং বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক ইহাই নির্ধারিত হইল যে, ইহারা বনমধ্যে প্রবেশ করিয়া প্রকৃত সভ্য জঙ্গলীদিগের মধ্যে তাহাদের তথাকথিত সভ্য জগতের (যাহা আদপেই সভ্য তো নহেই বরং অতিশয় অসভ্য) জীবাণু বহন করিয়া আনিয়াছে। অতএব ইহারা কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হইবে। দলপতি তখন প্রথম অভিযাত্রীকে বলিলেন-
তোমাকে শাস্তি প্রদান করা হইবে। তবে আমরা নিতান্তই সভ্য বলিয়া একতরফা শাস্তির বাবস্থা করি নাই। আমরা ঠিক করিয়াছি তোমাকে দুই ধরনের শাস্তি উপস্থাপন করত যে কোন একটি ধরন বাছিয়া গ্রহণ করিবার সুযোগ প্রদান করিব। প্রথম ধরন হইল- তোমাকে মৃত্যুদন্ড বরণ করিতে হইবে। দ্বিতীয় ধরন হইল তোমাকে পুংগিশ গ্রহণ করিতে হইবে। এখন তুমি মনস্থির কর তুমি কী করিবে।
অভিযাত্রী বলিল-
পুংগিশ কী?
দলপতি বলিলেন-
ইহা মৃত্যুদন্ড নহে তবে ইহার প্রচলন তোমাদের সভ্যজগতে আছে।
প্রথম অভিযাত্রী চিন্তা করিল, অধিক ভাবিয়া লাভ নাই। মৃত্যুদন্ড গ্রহণ করিবার কোন যুক্তি দেখি না। বরং পুংগিশ গ্রহণ করি। সে তাহার অভিপ্রায় জানাইল।অতঃপর গোত্রাধিপতি তাহাকে ১০০০ পুংগিশ প্রদানের আদেশ প্রদান করিলেন।
পুংগিশ হইল জাপানী সুমো কুস্তিগীরের ন্যায় অবয়ব বিশিষ্ট জঙ্গলী কর্তৃক.................................................................................
প্রথম অভিযাত্রী ১০০০ পুংগিশ গ্রহণ করত অতীব দূর্বল হইয়া পড়িলেন। প্রায় মর মর অবস্থা। কিন্তু মরিলেন না।
অতঃপর দ্বিতীয় অভিযাত্রীর নিকট একই প্রস্তাব উত্থাপন করিলে ২য় অভিযাত্রী ভাবিল বন্ধুবর ১০০০ পুংগিশ গ্রহন করিল। ইহাতে তাহার মৃতবৎ অবস্থা হইলেও সে মৃত্যুবরণ করে নাই। বাচিঁলেও বাচিঁতে পারে। অতএব অর্বাচিনের ন্যায় মৃত্যুদন্ড গ্রহণ করিয়া এই ধরাধাম ত্যাগ করিবার কোন যুক্তি নাই। তাই সেও পুংগিশ লাভে মনস্থির করত তাহার অভিপ্রায় জানাইল।
দলপতি এইবার ২য় বন্ধুকে ২০০০ পুংগিশ প্রদানের আদেশ প্রদান করিলেন। আদেশ অতি সুষ্ঠভাবে নির্বাহ হইল। ২য় বন্ধুকে ২০০০ এর অধিক আর একটি অতিরিক্ত পুংগিশ প্রদান করিলেই তিনি নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করিতেন। অতিশয় সঙ্গীনভাবে তিনি জীবন্মৃত হইয়া রহিলেন।
এইবার ৩য় অভিযাত্রীর পালা। তৃতীয়জন দেখিল ক্রমানুসারে তাহার পুংগিশের সুংখ্যা হইবে ৩০০০। এই বিশাল সংখ্যা ধারণ করিবার ক্ষমতা তাহার নাই। সে এইসংখ্যক পুংগিশ পাইলে নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করিবে। তাই সে স্থির করিল এইরুপ অপমান বরণ করিয়া মৃত্যুলাভে কোন বৃদ্ধি নাই। সুতরাং সে মৃত্যুবরণের দিকে তাহার সম্মতি দিল। তাহার অভিপ্রায় জানিয়া গোত্রাধিপতি তাহাকে আমৃত্যু পুংগিশ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



