somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য / কৌতুক

০৭ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌতুকটি আমার এক বন্ধুর কাছে শোনা।

একদা তিন অভিযাত্রী বন্ধু আফ্রিকার গহিন জঙ্গলে ভ্রমণ করিতে গিয়া পথ বিস্মৃত হইল। অতঃপর তাহারা দিগ্বিদিক ঘুরিয়াও কোন পথ না পাইয়া একটি বৃক্ষতলে উপবেশন করত বিশ্রাম গ্রহন করিতে ছিল। অকস্মাত একদল জঙ্গলী তাহাদের ঘিরিয়া ধরিল এবং বন্দি করিল। উক্ত জঙ্গলীদিগের গোত্রপ্রধান সভ্য জগতের ভাষা জানিতেন।কারণ তিনি কিয়ৎকাল সভ্য জগতে অতিবাহিত করিয়াছিলেন। অতঃপর তিনি নির্ণয় করিতে সক্ষম হন যে, সভ্য জগতের অবস্থা জঙ্গলীদিগের তুলনায় কিছুমাত্র ভাল তো নহেই বরং এই সভ্যরা জঙ্গলীদিগের তুলনায় অধিকতর অসভ্যই বটে। অতঃপর তিনি নিজ গোত্রে প্রত্যাবর্তন করেন এবং নিজের নিকটে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন," যদি কোন সভ্যকে বাগে পাই তাহলে উহাকে অতীব সভ্য একটা শাস্তি দিব"। বহুদিন পর এই তিন অভিযাত্রী সভ্যকে পাইয়া তাহার প্রতিজ্ঞাপূরণের মহেন্দ্রক্ষণ সমাগত হইল। তিনি বিচারালয় গঠন করিলেন এবং বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক ইহাই নির্ধারিত হইল যে, ইহারা বনমধ্যে প্রবেশ করিয়া প্রকৃত সভ্য জঙ্গলীদিগের মধ্যে তাহাদের তথাকথিত সভ্য জগতের (যাহা আদপেই সভ্য তো নহেই বরং অতিশয় অসভ্য) জীবাণু বহন করিয়া আনিয়াছে। অতএব ইহারা কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হইবে। দলপতি তখন প্রথম অভিযাত্রীকে বলিলেন-
তোমাকে শাস্তি প্রদান করা হইবে। তবে আমরা নিতান্তই সভ্য বলিয়া একতরফা শাস্তির বাবস্থা করি নাই। আমরা ঠিক করিয়াছি তোমাকে দুই ধরনের শাস্তি উপস্থাপন করত যে কোন একটি ধরন বাছিয়া গ্রহণ করিবার সুযোগ প্রদান করিব। প্রথম ধরন হইল- তোমাকে মৃত্যুদন্ড বরণ করিতে হইবে। দ্বিতীয় ধরন হইল তোমাকে পুংগিশ গ্রহণ করিতে হইবে। এখন তুমি মনস্থির কর তুমি কী করিবে।

অভিযাত্রী বলিল-
পুংগিশ কী?

দলপতি বলিলেন-
ইহা মৃত্যুদন্ড নহে তবে ইহার প্রচলন তোমাদের সভ্যজগতে আছে।

প্রথম অভিযাত্রী চিন্তা করিল, অধিক ভাবিয়া লাভ নাই। মৃত্যুদন্ড গ্রহণ করিবার কোন যুক্তি দেখি না। বরং পুংগিশ গ্রহণ করি। সে তাহার অভিপ্রায় জানাইল।অতঃপর গোত্রাধিপতি তাহাকে ১০০০ পুংগিশ প্রদানের আদেশ প্রদান করিলেন।

পুংগিশ হইল জাপানী সুমো কুস্তিগীরের ন্যায় অবয়ব বিশিষ্ট জঙ্গলী কর্তৃক.................................................................................

প্রথম অভিযাত্রী ১০০০ পুংগিশ গ্রহণ করত অতীব দূর্বল হইয়া পড়িলেন। প্রায় মর মর অবস্থা। কিন্তু মরিলেন না।

অতঃপর দ্বিতীয় অভিযাত্রীর নিকট একই প্রস্তাব উত্থাপন করিলে ২য় অভিযাত্রী ভাবিল বন্ধুবর ১০০০ পুংগিশ গ্রহন করিল। ইহাতে তাহার মৃতবৎ অবস্থা হইলেও সে মৃত্যুবরণ করে নাই। বাচিঁলেও বাচিঁতে পারে। অতএব অর্বাচিনের ন্যায় মৃত্যুদন্ড গ্রহণ করিয়া এই ধরাধাম ত্যাগ করিবার কোন যুক্তি নাই। তাই সেও পুংগিশ লাভে মনস্থির করত তাহার অভিপ্রায় জানাইল।
দলপতি এইবার ২য় বন্ধুকে ২০০০ পুংগিশ প্রদানের আদেশ প্রদান করিলেন। আদেশ অতি সুষ্ঠভাবে নির্বাহ হইল। ২য় বন্ধুকে ২০০০ এর অধিক আর একটি অতিরিক্ত পুংগিশ প্রদান করিলেই তিনি নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করিতেন। অতিশয় সঙ্গীনভাবে তিনি জীবন্মৃত হইয়া রহিলেন।

এইবার ৩য় অভিযাত্রীর পালা। তৃতীয়জন দেখিল ক্রমানুসারে তাহার পুংগিশের সুংখ্যা হইবে ৩০০০। এই বিশাল সংখ্যা ধারণ করিবার ক্ষমতা তাহার নাই। সে এইসংখ্যক পুংগিশ পাইলে নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করিবে। তাই সে স্থির করিল এইরুপ অপমান বরণ করিয়া মৃত্যুলাভে কোন বৃদ্ধি নাই। সুতরাং সে মৃত্যুবরণের দিকে তাহার সম্মতি দিল। তাহার অভিপ্রায় জানিয়া গোত্রাধিপতি তাহাকে আমৃত্যু পুংগিশ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×