ব্লগে আমার বয়স বেশী দিন না। বলতে গেলে একেবারেই নতুন। এই কম সময়ে নানা রকম ক্যাচাল দেখা হইছে। আস্তিক নাস্তিক ক্যাচাল সবচেয়ে উন্নত আসন ধারন করে রেখেছে এর মধ্যে। এরপর আছে ধর্মানুভূতির ক্যাচাল। হিন্দু মুসলিম ক্যাচালো আছে। ছাগুদের পাল নিধনকর্মকে আমি ক্যাচাল বলব না, এটা একটা অবশ্যকর্তব্য।
আমার দ্বারা আসলে বড় কোন কিছু সম্ভব না। কারণ আমার ধৈর্য্য খুব কম। আজকেও একটা ক্যাচাল জাতীয় পোষ্ট দেইখা পোষ্ট লিখতে বসলাম। শেষ আস্তিক নাস্তিক ক্যাচাল শুরু হইছিল একটা সাড়ে বার লাইনের আবালীয় লেখা থিকা। এরপরই একে একে বিশাল বিশ্লেষণপূর্ণ পোষ্ট আসতে থাকে। যাই হোক যার যার ব্লগে তার তার লেখার অধিকার। আমার কিছুই বলার নাই বা সেই অধিকারও নাই। তবে আমার লেখার অধিকার থিকা আমি এহন লেখতাছি।
দুইদিন আগে দুইটা কথা কইছিলাম।
Click This Link
আসলে আস্তিক হইলেই কি আর নাস্তিক হইলেই বা কি? নামাজ পড়লেই বা কি আর পূজা করলেই বা কি? কিছু না করলেই বা কি? যে যেমনে চলতাছে তারে সেমনে চলতে দেন। অন্যের ক্ষতি না হইলেই হইল। আমি ভাত খাই তিনবেলা। এহন আপনে কি আমারে জোর কইরা রুটি খাওয়া শিখাইবেন? সারাদিন আমার কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করবেন, রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমার স্বাস্থ্য নষ্ট হইয়া মরলে তো আরো ভালা। দেশে এমনিতেই জনসংখ্যা সমস্যা। কিছু মইরা কমুক। কি লাভ এত খুচাইয়া। যদি আমার মত বান্দরামী উদ্দেশ্য থাকে তাইলে ভিন্ন কথা। বিনোদনের উপ্রে জিনিস নাই। আর ক্যাচালে কে জয়ী হয় সবসময়? যে সঠিক বিষয়ের উপর থাকে? জ্বী না। সেই জয়ী হয় যার জ্ঞান বেশী। যে যত বেশী জানে সে তত পেচাইতে পারে। আস্তিক কন আর নাস্তিক কন যার জ্ঞান বেশী সেই জিতব। আমরা শুধু উপলব্ধির উপরে চলি, চেতনার উপরে চলি। যার চেতনায় যা বলে সে তাই। পাগলের চেতনায় বলে সে রাজা। তাই সে বিশ্বাস করে সেই রাজা। পাগলামীর সংজ্ঞাই বা কি আর সুস্থতার সংজ্ঞাই বা কি? সংখ্যাগরিষ্ঠের অবস্থা যা তাই সুস্থতা আর বাকীরা পাগল। আমি আপনি একটা বস্তুর বেশী আর কি? আমরা আমাদের জ্ঞানের জোরে নিজেদের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারনে নিজেদের প্রাণী হিসেবে আখ্যা দিয়া একটা বিশিষ্ট আসনে বসাইতাছি, মহিমান্বিত করতাছি নিজেদেরকে। আমাদের চারপাশ একটা বিক্রিয়া আর এর পারিপার্শ্বিক প্রভাব এর বেশী কিছু কি? প্রবৃত্তির বা নিজস্ব ধর্মের (প্রপার্টিজ) খাতিরে যার যা মনে চায় সে তাই করতাছে।
কিছু কাঠমোল্লা আছে। আবার সেই কাঠমোল্লাদের স্তরের কিছু হিন্দু ধর্মালম্বীও আছে। আশ্চর্যের বিষয় কিছু ভুদাই নাস্তিকও আছে। সাধারণত অতিরিক্ত পড়াশোনা এবং এর ফলে উদ্ভুত চেতনা ছাড়া কেউ নাস্তিক হয় না। যাই হোক একজন নাস্তিকে যে প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সাধারণত যেতে দেখা যায় আমাদের এই সমাজে তাতে তার মধ্যে উগ্র আবালীয় আচরন কাম্য নয়। আবালীয় আচরণ সাধারণত ঐ কাঠমোল্লা আর কাঠহিন্দুগুলানের মধ্যেই দেখা যায়। অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় আমাদের দেশে বলতে গেলে বাতিলের খাতায়। তাগোর কিছু গেল বা আইল তা নিয়া মাথা ঘামানির সময় আমাগো নাই। অনেক আগের একটা মন্তব্য তুইলা দিলাম।
Click This Link
মন্তব্যটা ছিলঃ
নাহ বস আপনে আমারে হতাশ করলেন। আপনার কাছ থেকে এইরকম লেখা আশা করি নাই।
ইতিহাস হল অর্ধসত্য। আপনি সেই অর্ধসত্যকে আরো অর্ধসত্য হিসাবে উপস্থিত করেছেন। মুসলমানরা উপমহাদেশে আসছে। তারা যে কর্মকান্ড চালিয়েছে তা ইংরেজদের তুলনায় নস্যি। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল তারা এই জনগোষ্ঠির সাথে মিশে গেছে, যা ইংরেজরা পারে নাই। জোর জবরদস্তি মুসলমানরা যা করছে তা ইংরেজদের তুলনায় নস্যি। হিন্দুদের উপর জিজিয়া চাপাইছে মুসলমানরা। আর ইংরেজরা কি করছে? তারা গণহারে সম্পত্তি ক্রোক কইরা বলছে খ্রীষ্টান হইলে সব সম্পত্তি পাবা। কিন্তু দেখেন এই জনপদের মানুষ খ্রীষ্টান বেশী নাকি মুসলমান বেশী? আপনি আপনার লেখায় খোচা মারা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেন নাই। আর দশটা টিপিক্যাল বাঙ্গালী মুসলমান বা হিন্দুর মত আপনিও একটা টিপিক্যাল হিন্দু হয়ে উঠেছেন। কারণ ছোটবেলায় আপনার সঙ্গীসাথীরা আপনার সাথে যে ব্যাবহার করেছে সেটা আপনার মনে এখনো দাগ কেটে আছে। গন্ডী ছেড়ে আপনি বের হতে পারেন নাই। যার যার বিশ্বাস তার তার কাছে বলে আপনি একটা সাধারণ শিক্ষিত হিন্দুর কথাই বলছেন। এখানে উদারতার তেমন কিছুই নাই। কারণ এ ধরনের উদারতা যারা দেখায় তারা অতি সাধারণ হিন্দু বা মুসলিম যারা ঝামেলা এড়ানোর জন্য এ কাজটি করে থাকে।
এই অঞ্চলে মুসলিম ধর্মের প্রসারের মূল পথিকৃৎ হল সূফীরা। আর ধর্মান্তরিত লোকজন হলেন নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা। আমার বংশের উর্ধ্বতন চতুর্থ বা পঞ্চম পুরুষ ছিলেন একজন হিন্দু। উনার বর্ণ পরিচয় বের করতে পারি নাই। মন্ডল ছিল তার নামের শেষ পদবী। আমিও একটু ইতিহাস বলি। তখন ইংরেজ আমল। এক সূফী এক গ্রামে গেছেন। মুসলিমরা তখন গোত্র বেধে থাকত। অনেকে ইংরেজের বিরুদ্ধে জিহাদ করত। তা এই সূফী গ্রামে যেয়ে জিহাদী জোস মূলক কথাবার্তা না বলে শান্তির কথা বার্তা বলা আরম্ভ করলেন। সূফীরা নিজেদের সাথে কখনো পাথেয় রাখে না। তা মূসলিমরা তারে ত্যাগ করল। তার পাথেয় কিছুই নাই। কোন মুসলিম তারে খাবার বা লাকড়ী কিছুই দেয় না। পরে গ্রামের হিন্দুরা তারে খাবার আর লাকড়ীর ব্যাবস্থা করে দিল। ( উইলিয়াম হান্টারের "ইন্ডিয়ান মুসলিমস" বইতে পড়ছিলাম সম্ভবত )। তা মুসলিম ধর্মের প্রচার কিন্তু এই সূফীদের দ্বারাই হইছে। কোন উচ্চবর্ণের হিন্দু কিন্তু মুসলমান হয় নাই। মুসলমান হইছে নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা যারা স্ব-ধর্মের উচ্চ বর্ণের লোক দ্বারা নির্যাতিত ছিল। আপনি সম্ভবত ব্রাহ্মণ। আপনি কিন্তু মুসলিম হন নাই। কারণ আপনার কাছে আপনার ধর্মের রুপ অনেক বেশী স্পষ্ট। আপনার একটা সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আছে। আপনার অন্যের কিছু দরকার নাই। কিন্তু ঐ খেটে খাওয়া মানুষগুলো অত্যাচার এড়াতে এই সূফীদের কাছেই হাজির হয়েছে, কারণ তারা দেখছে, ধনী গরীব সব এক কাতারে নামাজ পড়ে।
এইবার আসি জল পানি নিয়া। এটা আঞ্চলিক বা সামাজিক ব্যাপার অনেকটা। পশ্চিমবঙ্গে জল বলা যেমন স্বাভাবিক বাংলাদেশে পানি বলা তেমনই স্বাভাবিক। এর কারণ হল বাংলাদেশের জল বলা প্রচলিত ছিল যে সমাজে তাদের অনেকেই দেশ বিভাগের সময় বাংলাদেশের উগ্র বা আবাল টিপিক্যাল মুসলমান (আমি এদের জন্তু বলি, মুসলমান বলতে ইচ্ছা করে না) দ্বারা বিতাড়িত। তাই পানি শব্দটা এখন জেকে বসেছে। আবার ঐপাড়ের আবাল হিন্দু (আমি এদের জানোয়ার বলি) দ্বারা বিতাড়িতরা এখানে এসে জড়ো হয়েছে। যেমন হিন্দু পরিবারগুলোতে কিন্তু এখনো পানি বলা হয় না, জল বলা হয়, গোসল বলা হয় না, স্নান বলা হয়। কারণ তারা অনেকটা প্রাচীন ভাষারীতি চর্চা করে, বংশ পরম্পরায়। এতে আমি সামাজিক সাংস্কৃতিক গোষ্ঠিবদ্ধতা দেখি, আর আবালেরা দেখে হিন্দু মুসলমান।
ভাই আর দাদা। আমার উপরের কথাটার সঠিকতা প্রমাণ হবে এখানে। আমার বাবার ছোটভাই বা বোনেরা মানে আমার কাকারা ( আমি আমার কাকাদের কাকাই বলি, অনেকেই দেখি কাকা বলে, আপনি এইখানেও কিভাবে সাম্প্রদায়িক গন্ধ পাইলেন বুঝলাম না, সম্ভবত বেশী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন) সবসময় আমার বাবাকে "দাদা" বলে ডাকে। বড় ভাই বা ভাই বলে না। কেন? কারণ এটা ময়মনসিংহ অঞ্চলের রীতি। কিভাবে এর জন্ম জানি না। তবে একসময় ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচুর হিন্দুদের বাস ছিল শুনেছি আমার বাবার কাছে। আর আমার বাবাকেই যে শুধু তার ভাইরা বা বোনেরা দাদা বলে তা কিন্তু নয়। হুমায়ুন আহমেদের "হোটেল গ্রেভার ইন" বইতে দেখবেন জাফর ইকবাল তার বড় ভাইকে খাটি ময়মনসিঙ্গা ভাষায় দাদা বলে সম্বোধন করছে। কারণ এটা ঐ অঞ্চলের রীতি। এতে সাম্প্রদায়িকতার কিছু নাই।
আর লুঙ্গি ধুতির ব্যাপারে আর কি বলব। এই ক্ষেত্রে আপনার সাথে একমত। এতে সাম্প্রদায়িকতা আছে। আর আমাদের সমাজ কসমোপলিটান না। এখানে মুসলিমরা সংখাগরিষ্ঠ। তাই ধুতি পড়ে রাস্তায় বের হলে তাদের লাগবেই। কারণ জিনিসটা এখন অপ্রচলিত। আর কিছুদিন পর লুঙ্গিরও এই অবস্থা হবে। এই ক্ষেত্রে সংঘর্ষ হবে ধর্মের নয়, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার।
বাঙ্গালী হিন্দু বা মুসলিম যাই বলেননা কেন প্রায় বেশীরভাগই একেকটা গাড়ল। সারা সপ্তাহ নামাজ পড়ার খবর নাই আর এর বিনিময়ে যে হাজার হাজার বছরের দোজখের শাস্তি জমতাছে সেই দিকে খেয়াল নাই। ঐদিকে একটা গন্ডগোল লাগলে, মার সব হিন্দু মার। একই অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের গুলি আরো জঘন্য, নিকৃষ্ট।
কেমনে কেমনে জানি এত কথা বইলা ফালাইলাম। আসলে হিন্দু বা মুসলিম যাই বলেন দুই জাতরেই আমি খুব কাছ থেকে দেখছি। এক কথায় মুসলমানগুলি হইল আবাল নীতিবান আর হিন্দুগুলি হইল স্বার্থপর সৎ। সুযোগ পাইলেই এক দল আরেক দলরে খুচানি আরম্ভ করে। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র। আপনেও একটা খুচানি মাইরা মজা করা আরম্ভ করছেন। আমি হতাশ।
এইসব খুচাখুচির মধ্যে একটা জিনিসই পাই তা হইল ব্যাফক বিনুদন।
একটা কঠিন অথচ অপ্রিয় সত্য কথা কই। অনেকে মনে কষ্ট নিবেন জানি। তারপরেও কই। বাংলাদেশের অনেক হিন্দু ধর্মালম্বীদের এক পা থাকে ভারতে আর এক পা থাকে বাংলাদেশে। আর ভারতের মুসলমানগুলানের এক পা থাকে পাকিস্তানে আর এক পা থাকে ভারতে। এইটা আমার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থিকা দেখা। হুদাই যুক্তি তর্ক কইরা এই কথা খন্ডাইতে পারবেন না।
এমনিতেই মাথাওয়ালা লোকগুলান সব ওই হারামীর বাচ্চারা মাইরা থুইয়া গেছে ১৪ই ডিসেম্বর। এর ফল এখনও আমরা ভোগ করতাছি। আর কতদিন করা লাগে কে জানে। তারপরেও নিজেদের মধ্যে খুচাখুচি করতাছি। ঐদিক দিয়া আরেক দল ইলেকশন হইলেই বিড়ি সিগারেট নিয়া আহে। মৌজে কিছুদিন প্রার্থীর টেকা খাইয়া, কোন একটাতে সিল মাইরা ঘুম দেই। দিন দিন গরীব দেশটারে আরো গরীব বানাইতাছি। আমার নিজের দৌড় অবশ্য এই ব্লগ পর্যন্তই। কারণ এর বেশী আগাইলে গুলি খাইয়া ইটভাটায় পইড়া থাকতে হইব।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


