বড় বিলাই আপু দেহি স্বপ্নের কথা লেখে। আমি গতকাল রাত্রে একটা উদ্ভট স্বপ্ন দেখলাম। ভাবলাম লেইখা ফালাই। সংরক্ষিত হইয়া থাকুক জিনিসটা।
গত রাত্রে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছি। দেখলাম আমি আমার বন্ধু আশিকের বাসায় যাচ্ছি। ওদের বাসাটা বাস্তবে যেখানে সেখানে না হয়ে অন্য জায়গায়। আমি রিক্সায় করে যাচ্ছি। হঠাৎ মনে হল ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না, বিপদ আছে অথবা মৃত্যু আছে। আমি রিক্সা থেকে নেমে গেলাম। রাত্রি বেলা, আকাশে হালকা মেঘে ঢাকা চাদ, রিক্সায় করে অনেকদুর এসে পড়েছি। এখন বাসায় হেটে যাওয়াও সমস্যা কারণ মনে হচ্ছে পথে বিপদ ঘটতে পারে। হঠাৎ দেখলাম আশিক একটা রিকশায় করে আসছে। আমি ওকে পথে থামিয়ে দিলাম যাতে ও বাড়ীতে যেয়ে বিপদে না পড়ে।
এরপর দেখি হঠাৎ আমি আশিকদের বাসায়। আশিকের মা মুড়ি মাখাচ্ছে আর আমি, আশিক আংকেল, আর আশিকের ছোটবোন রুমকি মুড়ি মাখানি খাচ্ছি (এখানে ব্যাখ্যা পেয়েছি খুজে, এইবার দেশে যেয়ে রোজার সময় একদিন আশিকদের বাসায় ইফতার করেছি)। এরপর আমি আশিকদের বাসাতেই রাত্রে থেকে গেলাম ( এইখানে ব্যাখ্যা পাইছি, একদিন আমাদের বাসায় আমি আর আশিক একসাথে ছিলাম রাত্রে )। ঘরের দরজাটা কাঠের (এমনিতে ওদের বাসার ঘরের দরজা কাঠের) এবং কাঠের খিল ( দুর্গগুলোতে যেমন থাকে ) ( এইটা মিলে নাই, কারন ওদের দরজায় ছিটকিনি)। আমি খিল লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ দরজায় হালকা ঠক ঠক শুনলাম। আমি নিজেই দরজা খুলে বের হয়ে দেখলাম একটা বুলেট পড়ে রয়েছে দরজার সামনে। আমি আংকেলকে বললাম কিন্তু আংকেল তেমন পাত্তা দিলেন না। এরপর দেখি আমরা সবাই ঘর থেক বের হয়ে বাইরে বসে আছি। আমি রুমকিকে ভয় দেখাচ্ছি যে পুলিশ আসছে তোমাকে ধরতে। রুমকি ভয় পেয়ে একবার দৌড় দিচ্ছে আবার ফিরে আসছে। এরপর দেখি আতিরিক্ত ভয় দেখানোর কারণে রুমকি একটা চাকু নিয়ে আমাকে আঘাত করল। আঘাত ঘায়ে লাগে নাই। আংকেল রুমকিকে একটা ধমক দিলেন, আমিও ধমক দিলাম।
এরপর হঠাৎ দেখি আমি আমাদের পুরানো কারখানায়, কারখানার ঘর আর বাউন্ডারি দেওয়ালের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে একটা ছোট তাল গাছ ফেড়ে বানানো মোটা মুগুরের মত লাঠি। উপরে তাকিয়ে দেখি আকাশে চাদ আছে আর তিনটা চিহ্ন আছে। তিনটা কাল প্রতীকি চিহ্ন। প্রতীকগুলো কেমন ছিল ঠিক মনে করতে পারছি না ( আমাদের বেশ কয়েকটা তাল গাছ ছিল যেগুলো পরে স-মিলে নিয়ে ফাড়া হয় )। ঐ তিনটা চিহ্নর মানে বুঝলাম আমাকে তিনটা মানুষকে খুন করতে হবে। আমি প্রস্তুতি নিলাম ওই তিনজন মানুষ খুন করার জন্য। পুরো রাতের আবহাওয়া ছিল, আকাশে চাদ ছিল এবং একটা ভৌতিক খুনী খুনী ভাব ছিল প্রকৃতিতে। চারপাশে যেন ফুটে উঠছিল এখন তিনজন মানুষ খুন হবে আমার হাতে। আমি পুরানো কারখানায় ঢুকলাম। বাথরুমের কাছে একজনকে পেলাম। আমি তাকে তালকাঠটা দিয়ে বাড়ি দিয়ে মারলাম। আর সতর্ক থাকতে লাগলাম কখন বাকী দুইজন আসে, তারা না আবার আমার উপর আগে আঘাত করে বসে। এরপর আমি বাকী দুইজনকে খুজতে আবার বাইরে বের হলাম। আমি ভয় না পেয়ে উলটো দুজনকে খুজতে ছিলাম খুন করার জন্য। একসম্য আমি আবার সেই বাউন্ডারী দেওয়ালের চিপায় আসলাম। এরপর আমি আমার তালকাঠটা দেওয়ালের ওপাশে ফেলে দিলাম। ভাবলাম আর কাউকে খুন করার দরকার নাই। পরে আকাশে দিকে তাকিয়ে দেখলাম আবার সেই তিনটা কালো প্রতিকৃতি। আবার তালকাঠটা নিলাম।
এরপর দেখি আমাদের কারখানার ষ্টোররুমে আমি দেওয়ালে ড্রীল মেশিন দিয়ে ফুটো করছি। এরপর দেখি মা কাজ করছে ষ্টোররুমে। ষ্টোররুমে টিউব লাইট জ্বলছে। আমি আর বাইরে বের হলাম না। বাইরে সেই নীলাভ রাত্রি আর আকাশে তিনটা চিহ্ন, তিনটা খুন করতে হবে, আরো দুইটা খুন বাকী।
বুঝলাম না কিল্লাইগা এই আজব জিনিস দেখলাম। জিনিসটা অনেক লম্বা আছিল। গুরুপাক কিছু খাই নাই ঐদিন। এইডা কি নিজেরই মৃত্যুর কোন আগাম সংকেত!!!!!!
আধো ঘুম আধো জাগরণে দেখতে আছিলাম। বেশ উপভোগ করতে ছিলাম জিনিসটা। শুরুর দিকে বুঝতে পারি নাই এইটা স্বপ্ন কিন্তু পরের দিকে বুঝতে পারছি। আমি স্বপ্ন দেখলে প্রায় সময়ই বুইঝা ফালাই যে এইটা স্বপ্ন। বেশীরভাগ সময় উড়তে চেষ্টা করি তখন। মাগনা একটা অনুভুতি আরকি। স্বপ্নগুলায় অনুভুতি পুরা বাস্তবের মত হয়। মাঝে মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবে স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু সবসময় সেটা সম্ভব হয় না। যখন ইচ্ছাকৃতভাবে দেখি তখন মনে হয় আমি আমার শরীর ছাইড়া অনেক উপরে উইঠা যাইতাছি। হয়তো অন্য কোন জায়গায়। সেই জায়গাটা হয় আমার স্বপ্নের ঘটনাস্থল। মাস দুয়েক আগের কথা মনে পড়ল। প্রায় স্বপ্নের ভিতরে ঢুইকা পড়তাছি কিন্তু সমস্যা করল আমার গায়ের গেঞ্জি। গেঞ্জিটা বলটাইয়া পেটে খোচা মারতে ছিল আর মনোসংযোগে বাধা দিতে আছিল। আমি বুঝতে পারতাছিলাম গেঞ্জি ঠিক করার জন্য হাতটা নাড়া দিলেই সব শ্যাষ! মনে হইতাছি আমার ভিতর থিকা কিছু খুব দ্রুত উপরে উইঠা যাইতাছে। প্রায় স্বপ্নের ভিতরে ঢুকতাছি। কিন্তু অস্বস্তি আর ধইরা রাখতে পারলাম না। গেঞ্জির বলটানি ঠিক করলাম। পুরা জিনিসটা ভেস্তে গেল। পরে আরো কয়েকবার মনোসংযোগের চেষ্টা করলাম কিন্তু আর পারলাম না। আর আজকেরটা ভাংছে ফোন বাজনের কারনে। ধুর!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

