somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার গাড়ির নাম্বার টুকবে কে- প্রধানমন্ত্রী না ভারতীয় দূতাবাস?

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লংমার্চ আদোতে কী তা দেখিয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। ফারাক্কা অভিমুখে তার সেই বিখ্যাত লংমার্চ আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এখনো উজ্জ্বল। হালে সেই লংমার্চ পরিণত হয়েছে রোডমার্চে। পায়ে হাটার সাধ ও সাধ্য এখনকার রাজনীতিবিদদের আর নেই, তাই গাড়িই তাদের ভরসা। আমার ভুল না হলে, আমাদের দেশে রোডমার্চের ধারণাটা বিরোধী দল বিএনপিরই সৃষ্টি। দলটি সর্বপ্রথম রোডমার্চ করেছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের করা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে। সন্তু লারমার সাথে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিতে যে জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষিত হয়েছে তা নয়; তবে সে সময় লোকে বলতো, এ চান্সে শেখ হাসিনা যাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারটা না পান সে জন্যই বিরোধী দলের এই রোডমার্চ। চুক্তিকে বিতর্কীত করে তুলা- এই আর কি।

এ আমলেও কয়েক দফা রোডমার্চ সম্পন্ন করেছে বিএনপি। সামনে আরেকটি আছে। উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া যখন রোডমার্চ শুরু করেছিলেন তখন সে যাত্রায় অংশ নিয়েছিল ৩ হাজারের মত গাড়ি। একটি রোডমার্চে গাড়ির এই সংখ্যার বিশেষণ ‘বিপুল’-ই হবে। সবাই তাই বলেছে, বিপুল সংখ্যক গাড়ি। বিএনপি যখন সরকারের ‘দুঃশাসনের’ বিরুদ্ধে রোডমার্চ শুরু করলো তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ বলে বসলেন, সবগুলোর গাড়ির নাম্বার টুকে রাখা হবে। যারা যারা গাড়ি দিয়েছে তাদের আয়ের উৎস খতিয়ে দেখা হবে। এ ধরণের বক্তব্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আসা কতটা বুদ্ধিমত্তার কাজ হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। জনগণের মধ্যেও এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। তারা এই মন্তব্যকে খুব একটা সহজভাবে নেয়নি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল কর্মসূচী দেবেই; মাঠ দখলে প্রচেষ্টা তাদের মধ্যে থাকবেই। কিন্তু সেটাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে হাস্যকর কিংবা হালকা মন্তব্য ভারী পদাধিকারীর কাছ থেকে না আসাই ভাল।

আজ শনিবার আরো একটি রোডমার্চ শুরু হয়েছে দেশে- আয়োজক মহাজোট সরকারের অংশীদার ও রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টি। এ রোডমার্চ নিয়েও শুনা যাচ্ছে অনেক ধরণের কথা। টিপাইমুখ ইস্যু নিয়ে এই রোডমার্চ হলেও জাতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের মনে। এর কারণও স্পষ্ট। সাবেক স্বৈরাচার লেফটেনেন্ট জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ (মুনতাসির মামুনের ভাষায় ‘লেজেহুমো এরশাদ’) একজন ভারতপন্থী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। ভারতপন্থী না হলেও ভারত বিদ্বেষী তিনি নন। কয়েক দিন আগেই তিনি ভারত ঘুরে এসেছেন। উদ্দেশ্য ছিল, আগামী নির্বাচনে তার পক্ষে বিদেশী সমর্থন অর্জন করা। একই উদ্দেশ্যে ভারত ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ইসলামী ও মুসলিম রাষ্ট্রও ভ্রমণ করেছেন তিনি। ভারত থেকে ফিরেই তিনি কেন টিপাইমুখ অভিমুখে কর্মসূচী ঘোষণা করলেন তা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। তিনি কি দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাকি আগামী নির্বাচনে বিএনপির অনুপস্থিতির সুযোগে একক ভাবে অংশ নিয়ে জাতীয়তাবাদী ভোটে ভাগ বসানোর পায়তারা করছেন। টিপাইমুখ অভিমুখী এই লংমার্চের উদ্দেশ্য কী ভারত সরকারকে চাপে রাখা নাকি ভারতেরই পরামর্শে ভবিষ্যত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা। ভারত কী তবে এদেশে বিকল্প জাতীয়তাবাদী শক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে? নাকি ভারতের প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি বলেই এরশাদের এমন ভারত বিরোধী কর্মসূচী? এসব নিয়ে শুধু সচেতন নাগরিক সমাজই নন ভাবছে জনতাও।

তো, আজকের এই লংমার্চ এর আয়োজক মহাজোট সরকারের অংশীদার রাজনৈতিক দল। সরকারে থেকে সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে আজকের যে কর্মসূচী তারা শুরু করলো এর প্রতিক্রিয়ায় কী বলবেন প্রধানমন্ত্রী। মিডিয়া তথ্য মতে, দুই হাজারের উপরে গাড়ি অংশ নিয়েছে আজকের লংমার্চে। এই লংমার্চ বা রোডমার্চ যেহেতু সরকার সমর্থিত নয় বরং এক অর্থে সরকারের বিরুদ্ধে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কী এইসব গাড়ির নাম্বারও টুকে রাখবেন? যেমনটা তিনি রাখতে চেয়েছিলেন বিএনপির মার্চে অংশ নেয়া গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে। নাকি ভারত বিরোধী কর্মসূচী হওয়ার কারণে গাড়ির নাম্বার টুকে রাখবে ভারতী দূতাবাস! বলা যায়না, আজকের সংগ্রহীত এই তথ্য কাজে লেগে যেতে পারে ভবিষ্যতে। কারণ বাংলাদেশের পক্ষে অদূর ভবিষ্যতে ভারতের রাজনৈতিক রাডারের বাইরে বেরিয়ে যাবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
১৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×