বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলের বড় অংশ ডুবে যাওয়ার বিপরীতে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আগামী ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে পলির পরিমাণ বাড়বে। এর ফলে দেশের বেশির ভাগ উপকূল ও নদী-তীরবর্তী এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
২০০৭ সালে জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা এক মিটার বাড়বে। এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলের ১৭ শতাংশ ভূমি ডুবে যাবে।
বিশ্বব্যাপী এই তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত এবং এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ডুবে না গিয়ে পলি জমার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)।
সিইজিআইএস বলেছে, হিমালয় পর্বতমালা থেকে প্রতিবছর ১০০ কোটি টন পলি বঙ্গোপসাগরে এসে পড়ে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার টানে তা বাংলাদেশের উপকূলে এসে জড়ো হয়ে নতুন ভূমি গঠন করে। এভাবে গত ৬৫ বছরে বাংলাদেশের উপকূলে এক হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি জেগে উঠেছে। আগামী ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে দেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোতে পানির পরিমাণ বাড়লেও একই সঙ্গে পলির পরিমাণও বাড়বে। ফলে দেশের বেশির ভাগ উপকূল ও নদী-তীরবর্তী এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
সিইজিআইএসের গবেষণা পরিচালক মমিনুল হক সরকার পরিচালিত ‘মেঘনা এস্টুয়ারি-ইফেক্ট অব ১৯৯৫ আর্থকোয়েক অ্যান্ড ফিউচার ডেভেলপমেন্ট’ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত আরেকটি গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি ‘বাংলাদেশের নদীর ওপরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: মাঠপর্যায়ের গবেষণাভিত্তিক ফলাফল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
গবেষণা দুটির তত্ত্বাবধানকারী মমিনুল হক সরকার এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ বছর ধরে বাংলাদেশের উপকূলে বিপুল পরিমাণে পলি এসে জড়ো হচ্ছে। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এর আগে যে গবেষণাগুলো হয়েছে, তাতে পলি প্রবাহের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে মনে হচ্ছে, আইপিসিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও তাতে বাংলাদেশের উপকূল ও নদী-তীরবর্তী ভূমি ডুবে যাবে না।
আইপিসিসির বক্তব্য: সিইজিআইএসের এই গবেষণার ফলাফলের ব্যাপারে আইপিসিসির চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র প্রসাদ পাচুরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, শুধু একটি গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো উপসংহারে পৌঁছানো ঠিক হবে না। আইপিসিসি কোনো গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে আসলে কী ঘটছে, তার একটি ভারসাম্যমূলক মতামত দেওয়ার চেষ্টা করে।
আইপিসিসির সদস্য ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এর আগে পলি-ব্যবস্থাপনা তেমন গুরুত্ব পায়নি। যে কারণে অপরিকল্পিতভাবে আমরা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ দিয়ে বিল ডাকাতিয়া ও ভবদহে জলাবদ্ধতা তৈরি করেছি। আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পলিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
আতিক রহমান জানান, হিমালয়কেন্দ্রিক নদীগুলো হয়ে যে পলি বাংলাদেশে আসে, তার তিন ভাগের এক ভাগ দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও নদীর তীরে জড়ো হয়। এর এক অংশ নোয়াখালী, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর এলাকার উপকূলীয় নদী এবং বাকি অংশ সমুদ্র হয়ে (সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড) ইন্দোনেশিয়ার দিকে চলে যায়।
গবেষণার ফলাফল: সিইজিআইএসের গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালে আসামে ভূমিকম্পের পর হিমালয়ের একটি বিশাল অংশের পলি হিমালয়-সৃষ্ট নদীগুলো দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি হিমালয় থেকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবাহিত নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব পলি গিয়ে বাংলাদেশের উপকূল এবং অন্য নদীগুলোর তলদেশ ও তীর উঁচু করছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে প্রধান নদীগুলোতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলি আসার পরিমাণও বাড়ছে। এতে জমি উঁচু হচ্ছে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মেঘনা হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র সক্রিয় বদ্বীপ এলাকা, যেখানে ভূমি এখনো গঠিত হচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার সীমানায় অবস্থিত পশুর, শিবসা ও বলেশ্বর নদী দিয়ে প্রচুর পরিমাণ পলি এসে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জড়ো হচ্ছে। নোয়াখালী উপকূলে সবচেয়ে বেশি ভূমি জেগে উঠেছে। আর সবচেয়ে বেশি ভূখণ্ড ভাঙনের শিকার হয়েছে সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও ভোলা জেলা। তবে ভূমি গঠনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নোয়াখালী জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে এই এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সিইজিআইএসের বিজ্ঞানীরা এক বছর ধরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর ওপর গবেষণা চালিয়ে আরও দেখতে পেয়েছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও বাংলাদেশে এই তিনটি নদীর তীরবর্তী ভূমি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। উজান থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি আসবে এবং তা নদীর তলদেশ, তীর ও প্লাবনভূমি উঁচু করবে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বর্ষাকালের পানির পরিমাণ বেড়ে বন্যা এলাকা বেড়ে যাবে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছে, তা-ও ঠিক নয়। কেননা বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীগুলোর নিম্নাঞ্চল বা ভাটি এলাকার তলদেশের গভীরতা বাড়বে। ফলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়ে যাবে। এতে নতুন করে বন্যাপ্রবণ এলাকা বাড়বে না।
সিইজিআইএসের গবেষণা এলাকা হিসেবে দেশের প্রধান তিনটি নদীর মোহনা ও অববাহিকা এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পদ্মা নদীর ক্ষেত্রে চাঁদপুর থেকে আরিচা হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত; যমুনার ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম থেকে জামালপুর হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত এবং নিম্ন মেঘনার ক্ষেত্রে নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা; লক্ষ্মীপুর থেকে চাঁদপুর জেলার নদী-তীরবর্তী এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ফলে এই নদী অববাহিকাগুলোর তলদেশ, তীর ও পার্শ্ববর্তী প্লাবনভূমির ওপর প্রভাব সম্পর্কে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আইপিসিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে পরিমাণ বাড়বে, তাতে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, সিইজিআইএসের গবেষণা অনুযায়ী, উজান থেকে নেমে আসা পলির কারণে আগামী ১০০ বছরে পদ্মা নদীর তলদেশ স্থানভেদে ৩৩ থেকে ৫২ সেন্টিমিটার উঁচু হবে। পদ্মা ও যমুনার তলদেশ, তীর ও সংলগ্ন প্লাবনভূমি স্থানভেদে ১০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার উঁচু হবে। সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় নদীর পানি উঁচু হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সমুদ্র থেকে যত দূরে যাওয়া যাবে, নদীর পানি বাড়ার পরিমাণ তত কমে আসবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে নদীর পানি বাড়বে ৪৩ সেন্টিমিটার আর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বাড়বে ১৮ সেন্টিমিটার।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনজারভেশন ফর নেচারের (আইইউসিএন) জ্যেষ্ঠ জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চিরকালই বাংলাদেশ ডুবে যাবে, এই তত্ত্বের বিপক্ষে ছিলাম।’ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হুমকি ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে কৃষি এবং জীবন-জীবিকার ক্ষতি। তিনি বলেন, সিইজিআইএসের গবেষণায় যে তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দিয়ে আরও পর্যালোচনা হওয়া দরকার।
উপকূলে ভাঙা-গড়া
সময়কাল ভাঙা (বর্গ কিমি) গড়া (বর্গ কিমি) মোট জেগে ওঠার পরিমাণ (বর্গ কিমি) ১৯৪৩: ১৯৭৩ ৮৯০ ২১০০ ১২১০ ১৯৪৩: ২০০৮ ১১৮০ ২৯৭০ ১৭৯০ মোট জেগে ওঠা জমির পরিমাণ এক হাজার ৮০০ কিমি পরিমাণ।সূত্র: সিইজিআইএস
************************************
খবরটা পড়ে মনটা অনেক ঠান্ডা হয়ে উঠল, তাই আপনাদের জন্য শেয়ার করলাম। আপনারা কেহ আগে পড়ে থাকলে মাইন্ড করবেন না। খবরটি প্রথম আলো থেকে সরাসরি কপি, পেষ্ট করা হলো। এর মূল খবর হচ্ছে: Click This Link
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।