এই পিরামিডের রহস্যকে ঘিরে যেমন রচয়ীত হয়েছে অসংখ্য ইতিহাস তেমনি রচয়িত হয়েছে অনেক কল্পিত কাহিনী।
কিন্তু আধুনিক কালের প্রত্নতত্তবিদগণ বিভিন্ন খনন কার্য এবং বিভিন্ন প্রাপ্ত লিখনীসমূহের গবেষণার পর যে সিদ্বান্তে উপনীত হন তা হলো, মিসরের পিরামিডগুলো মূলতঃ প্রাচীন কালের বাদশাহদের হমাধিরূপে নির্মান করা হয়েছিল। তৎকালের বাদশাহদের সমাধিসমূহ এিরূপ আকৃতিতে নির্মান করা হতো যে, তার গোরার অংশ মোটা ও উপরে ক্রমন্বয়ে সরু থাকত। ফারাওডের চতুর্থ বংশ থেকে শুরো করে সপ্তদশ বংশ পর্যন্ত সমাধির এই পদ্বতি জনপ্রিয় থাকে। ফলে মিসরের বিভন্ন অন্চলসমূহে অনেক গুলো পিরামিড নির্মান করা হয়। তাই প্রায় আশিটি পিরামিডের নিদর্শন নীলনদের পশ্চিমান্চল এবং মিসরের নিম্নান্চল ও মধ্যবর্তী অন্চল সমূহে এখনো পাওয়া যায়।
কিন্তু কায়রোর অদূরে গিজা অন্চলে তিনটি বড় পিরামিড নির্মান করা হয়। এগুলো আকারের দিক দিয়ে অসাধরণ এবং তাকে সরু আকৃত দেবার জন্য অন্যান্য পিরামিডের ন্যায় সিঁড়ির ধরণও দেয়া হয়নি। বরং এগুলোর পৃষ্ঠকে নীচ থেকে উপর পর্যন্ত সটান রেখে সরু আোকৃতির করা হয়েছে। এই পিরামিডত্রয়কেই বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুরূপে গন্য করা হয় এবং আজও তা বিশ্বের পর্যটকডের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। আধুনিক কালের গবেষণা অনুযায়ী উক্ত পিরামিডত্রয় হযরত ঈসা (আঃ) এর জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে ফারাওদের বংশের চতুর্থ শাখার বাদশাহ খুফু ও তার পুত্র খফরে এবং মানকারা নির্মান করেছিলেন। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ পিরামিডটিকে আল হারামুল আকবার বলা হয়। বাদশা খুফু এটি নির্মান করেন। ভূপৃষ্ঠে তার মোট আয়তন ১৩.১ একর জমি। মাত্র দিকের ভূপৃষ্ঠে এর দৈর্ঘ ৭৫৬ ফুট। নির্মান শেষে এর উচ্চতা ৪৮১.৪ ফুট ছিল। পরবর্তীতে উপরের কিছু অংশ কমে যাওয়ায় এর উচ্চতা ৩১ ফুট লোপ পায়।
এটি নির্মান করতে ২০ লক্ষের অধিক পাথরের ব্লক ব্যাব হার করা হয়েছে। তার কোন একটি পাথরের তৈরি ব্লকের ওজন দুই টনের কম নয়। কোন কোন পাথর ১৫ টন ওজনেরও রয়েছে। তবে পাথেরে গড় ওজন আড়াই টন করে। পাথর গুলো এমন শৈল্পিক নৈপুন্যের সংগে জোড়ানো হয়েছে যে, এগোলোর মধ্যবর্তী ফাটল বাহির থেকে দৃষ্টিগোচর হয় না। বরং পুরো পিরামিডটাকেই একটি দৈবাকৃতির ক্রমান্বেয়ে সরু পাথর বলে মনে হয়।
আল আহরামুল আকবারের নীচে তার ঠিক মাঝখান বরাবর ভূমি থেকে সামান্য উচুতে গুহার মত একটি দরজা আছে। দরজাটি একটি সুড়ংগ পথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। সুরংগ পথটি ভিতর দিয়েই উপরের দিকে উঠে গেছে। আরব ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী এটি পিরামিডের কোন দরজা নয়। এটি খলীফা মামুনুর রশীদ তার শাষন আমলে এর ভিতরের রহস্য উদঘাটনের জন্য হারামে আকবরের ভিতরের অংশ খনন করার নির্দেশ দেন। মাত্র এতটুকু অংশের খননকার্যে সে যুগের বিরাট অংকের সম্পদ ব্যায় করা হয়। এ কাজে আগুন এবং সিরকা থেকে শুরু করে মিনজানিক পর্যন্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। খনেনর পর জানা যায়যে, এর প্রাচীরের পুরুত্ব ২০ হাত। ফলে ২০ হাত কাজ খনন শেষ হলে শহসা সে স্থান বের হয়ে আসে যেখান থেকে সুড়ংগ পথটি উপরের উঠে গিয়েছে।
সুড়ংগে আরোহণ করা খুবই কষ্ঠসাধ্য। আরোহণের কষ্ঠ এবং গরমের প্রচন্ডতায় মানুষ উপরে পৌছতে পৌছতে ঘর্মে সিক্ত হয়ে যায়। সুড়ংগ পথটি পাথরের প্রাচীর বিশিষ্ঠ প্রশস্ত ও বিস্তৃত একটি হলকক্ষে গিয়ে শেষ হয়েছে। হলকক্ষের উত্তর পশ্চিম কোণে পাথরের একটি হাওজ রেয়েছে। বাদশাহদের মৃত দেহ সেই হাউজের ভিতর রাখা হত। পিরামিডের প্রাচীর সমূহে বিরল ও বিচিত্র হস্তলিপিতে বিভিন্ন কথা লেখা ছিল। কালক্রমে তা মিশে গেচে, এর প্রাচীর সমূহ বিচিত্র কারুকার্য ও হীরা জহরত দ্বারা সজ্জিত ছিল। বর্তমানে এর কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই।
বড় পিরামিডের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে হারামে আওসাত অবস্থিত। এর নীচে দাড়িয়ে উপরের দিক তাকালে এটিকেই বড় বলে মনে হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি দ্বিতীয়। নির্মান কালে এর উচ্চতা ছিল ৪৭১ ফুট। বর্তমানে তার উচ্চতা ৪৪৭ ফুট। এটি বাদশাহ খুফুর পুত্র খাফরের কর্তৃক নির্মিত। যিনি সিজারেন নামে অধিক প্রসিদ্ধ।
তৃতীয়টি হারামে আসগার। নির্মাণকালে এটি ২১৮ ফুট উচু ছিল। বর্তমানে ২০৪ ফুট উচু। এটি খাফরের স্থলাভিষিক্ত মানকারা কর্তৃক নির্মিত। যিনি মাইসার নিউস নামে পরিচিত। পিরামিড তিনটি কায়রোর স্বাভাবিক ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচুতে হওয়ায় এখান থেকে কায়রো নগরীর দৃশ্যও বড় সুন্দর দেখা যায়।
=======================
প্রিয় পাঠকদের পিরামিডের সাধ কিছুটা দেয়া এবং পিরামিডের আশেপাশের পরিবেশ সমন্ধে অভিহিত করার জন্য বিভিন্ন এংগেল থেকে তুলা কিছু ছবি আপলোড করেদিলাম। আশা করি ভাল লাগবে, আর ভাল লেগে থাকলে কমেন্ট করে আমার কষ্ঠ সার্থক করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



