somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিরামিড সমন্ধে জানুন। ভূল তথ্য এরিয়ে চলুন।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাচীনকালে বিশ্বের যে সপ্তার্য প্রশিদ্ধ ছল, তার মধ্যে মিসরের পিরামিডই একমাত্র এমন আশ্চর্য বস্তু, যা আজ পর্যন্তও আশ্চার্যজনক রূপে স্বীকৃত হয়ে আসছে। খৃষ্টপূর্ব শত সহস্র বছরের নির্মিত বিস্ময়কর এই ভাবন সমূহ অদয়াবধি পুরো প্রকৌশল ইতিহাসের বিস্ময়কর বস্তু মনে করা হয়। আজ প্রযুক্তি যখন উন্নতীর চরম শিখরে আরোহণ করেছে, 'আল হারামুল আকবার' এ যুগেও তার দৈর্ঘ, প্রস্থ এবং উচ্চতার দিক দিয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভবন।



এই পিরামিডের রহস্যকে ঘিরে যেমন রচয়ীত হয়েছে অসংখ্য ইতিহাস তেমনি রচয়িত হয়েছে অনেক কল্পিত কাহিনী।

কিন্তু আধুনিক কালের প্রত্নতত্তবিদগণ বিভিন্ন খনন কার্য এবং বিভিন্ন প্রাপ্ত লিখনীসমূহের গবেষণার পর যে সিদ্বান্তে উপনীত হন তা হলো, মিসরের পিরামিডগুলো মূলতঃ প্রাচীন কালের বাদশাহদের হমাধিরূপে নির্মান করা হয়েছিল। তৎকালের বাদশাহদের সমাধিসমূহ এিরূপ আকৃতিতে নির্মান করা হতো যে, তার গোরার অংশ মোটা ও উপরে ক্রমন্বয়ে সরু থাকত। ফারাওডের চতুর্থ বংশ থেকে শুরো করে সপ্তদশ বংশ পর্যন্ত সমাধির এই পদ্বতি জনপ্রিয় থাকে। ফলে মিসরের বিভন্ন অন্চলসমূহে অনেক গুলো পিরামিড নির্মান করা হয়। তাই প্রায় আশিটি পিরামিডের নিদর্শন নীলনদের পশ্চিমান্চল এবং মিসরের নিম্নান্চল ও মধ্যবর্তী অন্চল সমূহে এখনো পাওয়া যায়।

কিন্তু কায়রোর অদূরে গিজা অন্চলে তিনটি বড় পিরামিড নির্মান করা হয়। এগুলো আকারের দিক দিয়ে অসাধরণ এবং তাকে সরু আকৃত দেবার জন্য অন্যান্য পিরামিডের ন্যায় সিঁড়ির ধরণও দেয়া হয়নি। বরং এগুলোর পৃষ্ঠকে নীচ থেকে উপর পর্যন্ত সটান রেখে সরু আোকৃতির করা হয়েছে। এই পিরামিডত্রয়কেই বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুরূপে গন্য করা হয় এবং আজও তা বিশ্বের পর্যটকডের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। আধুনিক কালের গবেষণা অনুযায়ী উক্ত পিরামিডত্রয় হযরত ঈসা (আঃ) এর জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে ফারাওদের বংশের চতুর্থ শাখার বাদশাহ খুফু ও তার পুত্র খফরে এবং মানকারা নির্মান করেছিলেন। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ পিরামিডটিকে আল হারামুল আকবার বলা হয়। বাদশা খুফু এটি নির্মান করেন। ভূপৃষ্ঠে তার মোট আয়তন ১৩.১ একর জমি। মাত্র দিকের ভূপৃষ্ঠে এর দৈর্ঘ ৭৫৬ ফুট। নির্মান শেষে এর উচ্চতা ৪৮১.৪ ফুট ছিল। পরবর্তীতে উপরের কিছু অংশ কমে যাওয়ায় এর উচ্চতা ৩১ ফুট লোপ পায়।

এটি নির্মান করতে ২০ লক্ষের অধিক পাথরের ব্লক ব্যাব হার করা হয়েছে। তার কোন একটি পাথরের তৈরি ব্লকের ওজন দুই টনের কম নয়। কোন কোন পাথর ১৫ টন ওজনেরও রয়েছে। তবে পাথেরে গড় ওজন আড়াই টন করে। পাথর গুলো এমন শৈল্পিক নৈপুন্যের সংগে জোড়ানো হয়েছে যে, এগোলোর মধ্যবর্তী ফাটল বাহির থেকে দৃষ্টিগোচর হয় না। বরং পুরো পিরামিডটাকেই একটি দৈবাকৃতির ক্রমান্বেয়ে সরু পাথর বলে মনে হয়।

আল আহরামুল আকবারের নীচে তার ঠিক মাঝখান বরাবর ভূমি থেকে সামান্য উচুতে গুহার মত একটি দরজা আছে। দরজাটি একটি সুড়ংগ পথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। সুরংগ পথটি ভিতর দিয়েই উপরের দিকে উঠে গেছে। আরব ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী এটি পিরামিডের কোন দরজা নয়। এটি খলীফা মামুনুর রশীদ তার শাষন আমলে এর ভিতরের রহস্য উদঘাটনের জন্য হারামে আকবরের ভিতরের অংশ খনন করার নির্দেশ দেন। মাত্র এতটুকু অংশের খননকার্যে সে যুগের বিরাট অংকের সম্পদ ব্যায় করা হয়। এ কাজে আগুন এবং সিরকা থেকে শুরু করে মিনজানিক পর্যন্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। খনেনর পর জানা যায়যে, এর প্রাচীরের পুরুত্ব ২০ হাত। ফলে ২০ হাত কাজ খনন শেষ হলে শহসা সে স্থান বের হয়ে আসে যেখান থেকে সুড়ংগ পথটি উপরের উঠে গিয়েছে।

সুড়ংগে আরোহণ করা খুবই কষ্ঠসাধ্য। আরোহণের কষ্ঠ এবং গরমের প্রচন্ডতায় মানুষ উপরে পৌছতে পৌছতে ঘর্মে সিক্ত হয়ে যায়। সুড়ংগ পথটি পাথরের প্রাচীর বিশিষ্ঠ প্রশস্ত ও বিস্তৃত একটি হলকক্ষে গিয়ে শেষ হয়েছে। হলকক্ষের উত্তর পশ্চিম কোণে পাথরের একটি হাওজ রেয়েছে। বাদশাহদের মৃত দেহ সেই হাউজের ভিতর রাখা হত। পিরামিডের প্রাচীর সমূহে বিরল ও বিচিত্র হস্তলিপিতে বিভিন্ন কথা লেখা ছিল। কালক্রমে তা মিশে গেচে, এর প্রাচীর সমূহ বিচিত্র কারুকার্য ও হীরা জহরত দ্বারা সজ্জিত ছিল। বর্তমানে এর কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

বড় পিরামিডের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে হারামে আওসাত অবস্থিত। এর নীচে দাড়িয়ে উপরের দিক তাকালে এটিকেই বড় বলে মনে হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি দ্বিতীয়। নির্মান কালে এর উচ্চতা ছিল ৪৭১ ফুট। বর্তমানে তার উচ্চতা ৪৪৭ ফুট। এটি বাদশাহ খুফুর পুত্র খাফরের কর্তৃক নির্মিত। যিনি সিজারেন নামে অধিক প্রসিদ্ধ।

তৃতীয়টি হারামে আসগার। নির্মাণকালে এটি ২১৮ ফুট উচু ছিল। বর্তমানে ২০৪ ফুট উচু। এটি খাফরের স্থলাভিষিক্ত মানকারা কর্তৃক নির্মিত। যিনি মাইসার নিউস নামে পরিচিত। পিরামিড তিনটি কায়রোর স্বাভাবিক ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচুতে হওয়ায় এখান থেকে কায়রো নগরীর দৃশ্যও বড় সুন্দর দেখা যায়।

=======================









প্রিয় পাঠকদের পিরামিডের সাধ কিছুটা দেয়া এবং পিরামিডের আশেপাশের পরিবেশ সমন্ধে অভিহিত করার জন্য বিভিন্ন এংগেল থেকে তুলা কিছু ছবি আপলোড করেদিলাম। আশা করি ভাল লাগবে, আর ভাল লেগে থাকলে কমেন্ট করে আমার কষ্ঠ সার্থক করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:৩৬
২৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×