somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায় হায় একি শুনলাম!!! বাংলাদেশ নাকি কক্ষপথ বরাদ্দ নিয়েছে৷ভেন্ডি চাষ করবে।

১৭ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্যাটেলাইট টিভি’র কল্যাণে স্যাটেলাইট কথাটির সঙ্গে সবাই বেশ পরিচিত৷ এর মানে হলো কৃত্রিম উপগ্রহ৷ বাংলাদেশের অনেক স্যাটেলাইট চ্যানেল থাকলেও নিজেদের কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ নেই৷ সেই দু:খ হয়তো এবার ঘুচতে চলেছে৷

১৯৫৭ সাল৷ সেবছর প্রথমবারের মতো মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ যার নাম ছিল ‘স্পুটনিক ১'৷ এর পরের বছর অ্যামেরিকা এক্ষেত্রে সফলতা দেখায়৷ যদিও তারা পরিকল্পনা করছিল ১৩ বছর আগে থেকেই৷ পরবর্তীতে আরও অনেক দেশ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে৷ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত এবং পাকিস্তানেরও নিজস্ব উপগ্রহ রয়েছে৷ এর মধ্যে ভারত নিজে নিজেই মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর সামর্থ্য অর্জন করেছে৷ আর পাকিস্তান অন্য দেশের সহায়তায় উপগ্রহ পাঠিয়েছে৷ এখন, বাংলাদেশও সেটা করতে যাচ্ছে৷

পূর্বের কথা

১৯৯৭-৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল৷ কিন্তু পরে সেটা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি৷ এরপর আবার ঝোঁক উঠেছে উপগ্রহের ব্যাপারে৷ সে লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে৷ ২০১৩ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ তার নিজস্ব একটি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাতে চায়৷ এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা - বিটিআরসি৷ এর চেয়ারম্যান হলেন জিয়া আহমেদ৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, এখন পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে৷ সাতটি প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে৷ এর মধ্যে দুটি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের৷ আর ক্যানাডা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জার্মানির একটি করে কোম্পানি রয়েছে৷ এসব কোম্পানির প্রস্তাব খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান আহমেদ৷

তিনি বলেন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে৷ তারাই ঠিক করবে, কে উপগ্রহটি তৈরি করবে এবং মহাকাশে পাঠাবে৷ এছাড়া উপগ্রহটি মহাকাশের কোথায় থাকবে, এর বেস স্টেশনই বা কোথায় হবে, উপগ্রহটি কী কী কাজে লাগানো যেতে পারে, সেসব ব্যাপারে বু্দ্ধি দেবে ঐ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান৷ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ২৮ মাস সময় বেঁধে দেয়া হবে বলেও জানালেন বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান৷

উপগ্রহ প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন বা আইটিইউ'এর কাছ থেকে কক্ষপথ বরাদ্দ নিয়েছে৷

সুবিধা

সফলভাবে উপগ্রহ পাঠাতে পারলে বাংলাদেশের কী লাভ হতে পারে? জিয়া আহমেদ বলছেন, এটি হবে একটি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট অর্থাৎ যোগাযোগ উপগ্রহ৷ ফলে টেলিযোগাযোগ, টিভি ও বেতার সম্প্রচারের মত কাজগুলো এই উপগ্রহ দিয়ে করা সম্ভব হবে, এখন যেটা করা হচ্ছে অন্য দেশের উপগ্রহ ব্যবহার করে৷ যার জন্য খরচ হচ্ছে প্রচুর অর্থ৷ এছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজও করা যাবে এই উপগ্রহের মাধ্যমে৷ চাইলে অন্য দেশকেও উপগ্রহ ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেয়া যেতে পারে৷ সেক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটা উৎস হতে পারে এই উপগ্রহ৷

আরও কিছু তথ্য

কৃত্রিম উপগ্রহগুলো উৎক্ষেপণের সময়েই পর্যাপ্ত জ্বালানি দিয়ে দিতে হয়৷ কারণ মহাকাশে রিফুয়েলিংয়ের কোনো সুযোগ নেই৷ তবে কিছু উপগ্রহ জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহার করে৷ আগেই বলা হয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথমে কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়৷ সেটা ১৯৫৭ সালে৷ এরপর ঐ বছরই ‘স্পুটনিক ২' নামের আরেকটি উপগ্রহ পাঠায় দেশটি৷ সেটাতে ‘লাইকা' নামের একটি কুকুরকেও পাঠানো হয়েছিল৷ যদিও উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে লাইকা মারা গিয়েছিল৷

এবার দুর্ঘটনার খবর৷ দুবছর আগে আমেরিকার কৃত্রিম উপগ্রহ ‘ইরিডিয়াম ৩৩' এবং রাশিয়ার ‘কসমস ২২৫১' উপগ্রহের মধ্যে ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছিল৷ মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা-র উপগ্রহ বিজ্ঞানী মার্ক ম্যাটনি'র মতে, সেটাই ছিল দুটি গোটা কৃত্রিম উপগ্রহের মুখোমুখি সংঘাতের প্রথম ঘটনা৷

এবার আপনারাই বলুন, এই কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনা সমপন্ন হলে মোবাইলের কল রেট কতই না কমে যাবে। তখন শিশুরাও রাতভর মোবাইলে কথা বলতে থাকবে। আর দীর্ঘক্ষন মোবাইলে কথা বললে অবশ্যই তখন কিছু খেতে মন্চাইবে। এই অবস্থায় ভেন্ডি ভাজার চেয়ে মজাদার চিজ আর কিই বা হতে পারে। ফলে দেশে ভেন্ডির চাষ বৃদ্ধি করে দিতে হবে। অপরদিকে দেশে যেভাবে চাষের জমি লোপ পাচ্ছে তখন হয়ত ভেন্ডি চাষের জন্য কোন জমিই পাওয়া যাবে না। ফলে তখন আমরা ভেন্ডি চাষের জন্যও না হয় আবার আন্তর্জাতিক মহলের নিকট আবার কক্ষপথ ভাড়া চাইলাম।
কি বলেন?
১১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×