আফ্রিকা ও ইউরুপের বড় বড় শহড়ের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর পর ইচ্ছে জাগলো কিছুটা দেশীয় স্বাদ উপভোগ করার জন্য। তাই বেছে নিলাম ভারতকে। কিন্তু কলকাতা, দিল্লী, আগ্রা, জয়পুর, আজমীর ঘুরে নিজেকে
যতটা ছোট মনে হচ্ছে তার তিল পরিমানও মনে হয়নি কেপটাওন, প্যারিস, জেনেভা, কিংবা মাদ্রিদ ঘুরে।
কলকাতা:
কলকাতাকে আমাদের পুরান ঢাকার সাথে তুলনা করলেও ভূল হবে। তারপরও হাজার হাজার বাংলাদেশী আসেন এই শহড়ে। শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের আগমনকে উদ্দেশ্য করেই জমে উঠেছে জমজমাট হোটেল ব্যাবসা। কলকাতার সাধারণ মানুষও বাংলাদেশীদের প্রতি আন্তরিক। কিন্তু সমস্যা তাদের সরকারের আইন কানুন নিয়ে।
যার ফলে হোটেলে উঠতে গেলেই পোহাতে হয় চড়ম ভোগান্তি। পুরণ করতে হয় অতিরিক্ত 'সি ফর্ম'। কোন কোন হোটেলে বাংলাদেশীদের এ্যালাও করে না। অনেকের সাথে আলাপ করে বুঝতে পারলাম মুম্বাই হামলার পর থেকে বাংলাদেশীদের প্রতি ভারত সরকারের দৃষ্টি পরিবর্তন হয়ে গেছে। রাস্তা ঘাটে পুলিশও বাংলাদেশী বুঝতে পারলে হয়রানি করে।
আগ্রা:
আগ্রার তাজমহলের জন্য এটি দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ট্যুরিষ্ট স্পট। তাই এখানে বাংলাদেশীদের হয়রানি আরো বেশি। এখানে শুধু 'সি ফর্ম' পুরণ করলেই হয় না। জমা দিতে হয় ব্যাক্তিগত ছবিও। আমি হোটেল কতৃপক্ষকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা যা বলল- ''সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বলা আছে, কোনো পাকিস্তানি, বাংলাদেশী, আফগানী ও শ্রিলন্কান হোটেলে উঠলে তাদের পুরু বায়োডাটা পাসপোর্টের কপি সহ স্থানীয় সরকারি ট্যুরিষ্ট অফিসে জমা দিতে হয়''।
(আমি জিজ্ঞেস করলাম পাকিস্তানিদের সাথে বাংলাদেশীদের মিল করার কি কারণ?? তারা বলল মুম্বাই হামলার পরথেকে এই নিয়ম করা হয়েছে এতে আমাদের করার কিছুই নাই)
নয়া দিল্লি:
এখানে হোটেল পেতে আমাকে পাঁচটি হোটেল ঘুরতে হলো। প্রথম চারটিতে ভাড়া ঠিক করে রেজি: করতে পাসপোর্ট বের করতেই তাদের মুখ কালো হয়ে গেলো। তাদের ভাব দেখে মনে হলো আমি এতক্ষন তাদের সময় নষ্ট করেছি। আমাদের নিকট 'সি ফর্ম' নেই বলে তারা আমাকে রোম দিল না। অবশেষে একটি হোটেল পেলাম।
আজ দুপুরে গেলাম বাংলাদেশ দূতাবাসে। কাজ শেষে কাউন্সেলর মি. নাজিবুর রহমানের সাথে উপরোল্লিখিত বিষয় নিয়ে কথা বললাম। তিনিও বিষয়গুলোতে একমত পোষণ করলেন এবং আরো অতিরিক্ত অনেক হয়রানির কথা যোগ করলেন।
তার ভাষ্যমতে নয়াদিল্লিতর জেলহাজতে অসঙ্খ বাংলাদেশী দীর্ঘদিন যাবত আটক আছেন যাদের ৯০ শতাংসের বিপক্ষে কোন সুনিদৃষ্ট অভিযোগ নেই। অথচ তাদের ছাড়ার ব্যাপারে সরকারের কোন স্বদেচ্ছা দেখা যায় না।
মধ্যরাতে হোটেল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে অনেককে। এমন অসঙ্খ অভিযোগও আছে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিকট।
আমার মতে বাংলাদেশীদের জন্য ভারতের পোর্ট এ্যান্ট্রি ভিষা থাকা উচিৎ অথচ এই ভারতের ভিষার জন্য যেই পরিশ্রম ও সময় ব্যায় করতে হয় তাতে বাংলাদেশীদের প্রতি ভারত সরকারের মনোভাব খুব শহজেই বুঝা যায়। তাই ট্রানজিট দেয়া ও তিস্তা চুক্তির সময়ে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারত সরকার দেখাতেই পারে কিন্তু তাদের স্বার্থ উদ্ধার হলে তাদের যে আমাদের আর কোন কাজে আসবে না বা আমাদের যে তাদের কোন প্রয়োজন নেই সেটা তখনই বুঝা যাবে।
তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন এই যে, শুধু মাত্র ধান চাল আর পানির হিসেব না করে একটু আমাদের আত্নমর্যাদার হিসেবও করবেন, তারপর না হয় তিস্তা চুক্তি কিংবা ট্রানজিটের মত চুক্তি করলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


