somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নয়া দিল্লী থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি: তিস্তা চুক্তি ও ট্রানজেট দেয়ার পুর্বে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশীদের যথার্থ মর্যাদা নিশ্চিত করুন।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গরিব দেশের গরিব মানুষ আমরা, তাইবলে শখ আল্লাদ থাকতে নাই সেটা হতে পারে না। আমাদের অনেকেই অনেক কষ্ট করে অনেকদিন পয়সা জমিয়ে হানিমুন কিংবা অবসর সময়কে একটু উপভোগ করার জন্যে পারি জমায় পার্শ্ববর্তী ভারতে। এবং এতে অনেকের বিদেশ ভ্রমনের উচ্চাকাঙ্খাও পুর্ন হয়। কিন্তু কারো ভিতর আত্নমর্যাদা ও জাতীয়তাবোধ থাকলে সে কখনোই এই ভারতের বুকে স্বস্থিবোধ বোধ করতে পারে না, পারবে না।

আফ্রিকা ও ইউরুপের বড় বড় শহড়ের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর পর ইচ্ছে জাগলো কিছুটা দেশীয় স্বাদ উপভোগ করার জন্য। তাই বেছে নিলাম ভারতকে। কিন্তু কলকাতা, দিল্লী, আগ্রা, জয়পুর, আজমীর ঘুরে নিজেকে
যতটা ছোট মনে হচ্ছে তার তিল পরিমানও মনে হয়নি কেপটাওন, প্যারিস, জেনেভা, কিংবা মাদ্রিদ ঘুরে।

কলকাতা:
কলকাতাকে আমাদের পুরান ঢাকার সাথে তুলনা করলেও ভূল হবে। তারপরও হাজার হাজার বাংলাদেশী আসেন এই শহড়ে। শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের আগমনকে উদ্দেশ্য করেই জমে উঠেছে জমজমাট হোটেল ব্যাবসা। কলকাতার সাধারণ মানুষও বাংলাদেশীদের প্রতি আন্তরিক। কিন্তু সমস্যা তাদের সরকারের আইন কানুন নিয়ে।

যার ফলে হোটেলে উঠতে গেলেই পোহাতে হয় চড়ম ভোগান্তি। পুরণ করতে হয় অতিরিক্ত 'সি ফর্ম'। কোন কোন হোটেলে বাংলাদেশীদের এ্যালাও করে না। অনেকের সাথে আলাপ করে বুঝতে পারলাম মুম্বাই হামলার পর থেকে বাংলাদেশীদের প্রতি ভারত সরকারের দৃষ্টি পরিবর্তন হয়ে গেছে। রাস্তা ঘাটে পুলিশও বাংলাদেশী বুঝতে পারলে হয়রানি করে।

আগ্রা:
আগ্রার তাজমহলের জন্য এটি দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ট্যুরিষ্ট স্পট। তাই এখানে বাংলাদেশীদের হয়রানি আরো বেশি। এখানে শুধু 'সি ফর্ম' পুরণ করলেই হয় না। জমা দিতে হয় ব্যাক্তিগত ছবিও। আমি হোটেল কতৃপক্ষকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা যা বলল- ''সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বলা আছে, কোনো পাকিস্তানি, বাংলাদেশী, আফগানী ও শ্রিলন্কান হোটেলে উঠলে তাদের পুরু বায়োডাটা পাসপোর্টের কপি সহ স্থানীয় সরকারি ট্যুরিষ্ট অফিসে জমা দিতে হয়''।
(আমি জিজ্ঞেস করলাম পাকিস্তানিদের সাথে বাংলাদেশীদের মিল করার কি কারণ?? তারা বলল মুম্বাই হামলার পরথেকে এই নিয়ম করা হয়েছে এতে আমাদের করার কিছুই নাই)

নয়া দিল্লি:
এখানে হোটেল পেতে আমাকে পাঁচটি হোটেল ঘুরতে হলো। প্রথম চারটিতে ভাড়া ঠিক করে রেজি: করতে পাসপোর্ট বের করতেই তাদের মুখ কালো হয়ে গেলো। তাদের ভাব দেখে মনে হলো আমি এতক্ষন তাদের সময় নষ্ট করেছি। আমাদের নিকট 'সি ফর্ম' নেই বলে তারা আমাকে রোম দিল না। অবশেষে একটি হোটেল পেলাম।

আজ দুপুরে গেলাম বাংলাদেশ দূতাবাসে। কাজ শেষে কাউন্সেলর মি. নাজিবুর রহমানের সাথে উপরোল্লিখিত বিষয় নিয়ে কথা বললাম। তিনিও বিষয়গুলোতে একমত পোষণ করলেন এবং আরো অতিরিক্ত অনেক হয়রানির কথা যোগ করলেন।

তার ভাষ্যমতে নয়াদিল্লিতর জেলহাজতে অসঙ্খ বাংলাদেশী দীর্ঘদিন যাবত আটক আছেন যাদের ৯০ শতাংসের বিপক্ষে কোন সুনিদৃষ্ট অভিযোগ নেই। অথচ তাদের ছাড়ার ব্যাপারে সরকারের কোন স্বদেচ্ছা দেখা যায় না।

মধ্যরাতে হোটেল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে অনেককে। এমন অসঙ্খ অভিযোগও আছে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিকট।

আমার মতে বাংলাদেশীদের জন্য ভারতের পোর্ট এ্যান্ট্রি ভিষা থাকা উচিৎ অথচ এই ভারতের ভিষার জন্য যেই পরিশ্রম ও সময় ব্যায় করতে হয় তাতে বাংলাদেশীদের প্রতি ভারত সরকারের মনোভাব খুব শহজেই বুঝা যায়। তাই ট্রানজিট দেয়া ও তিস্তা চুক্তির সময়ে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারত সরকার দেখাতেই পারে কিন্তু তাদের স্বার্থ উদ্ধার হলে তাদের যে আমাদের আর কোন কাজে আসবে না বা আমাদের যে তাদের কোন প্রয়োজন নেই সেটা তখনই বুঝা যাবে।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন এই যে, শুধু মাত্র ধান চাল আর পানির হিসেব না করে একটু আমাদের আত্নমর্যাদার হিসেবও করবেন, তারপর না হয় তিস্তা চুক্তি কিংবা ট্রানজিটের মত চুক্তি করলেন।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:০১
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×