somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমার ডায়েরি লেখা: বাল্যকাল হইতে যৌবন; ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! ১.উপক্রমণিকা
শৈশবের কথা আমার খুবই মনে পড়ে। কিন্তু বলার মত তেমন কিছু সেখানে নেই আমার। নেহায়েত অনাকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়াতে বড়দের আদর পেতাম না তেমন। বোরিং বাচ্চাদের কোলে নিতে চায় না কেউ <img src=" style="border:0;" />
বাল্যকালটাও আমার একঘেয়ে এবং একই বিরক্তিকর সুরে পেরিয়ে যাচ্ছিল, তবে একটা ব্যাপার ছাড়া। পড়াশোনায় বেশ ভাল হয়ে উঠেছিলাম আমি। ক্লাসে ফার্স্ট হতাম এবং গর্বিত একজন 'Nerd' হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠছিলাম। আমার প্রতিদিনকার জীবনের বর্ণনাটা ক্লাসের বইতে আদর্শ ছাত্রীর যে বর্ণনা থাকত তারই উনিশ-বিশ হবে।পড়াশোনার বাইরে অন্য কিছু খুব সামান্যই গুরুত্ব পেত আমার কাছে। কিন্তু এতসবের পরেও আমার একটা সার্বক্ষণিক সহচর ছিল- আমার ঠিক পিঠাপিঠি ছোট বোনটা। ওর ব্যক্তিত্ব ছিল আমার উল্টো। পার্থিব বিষয়গুলোর প্রতি তার ভেতরে এক ধরনের অবজ্ঞা কাজ করত। কিংবা উদাসীনতাও বলা চলে। ক্লাস ভর্তি ছেলেমেয়ে যখন ক্লাসওয়ার্ক করে জমা দেওয়ার জন্য মরীয়া হয়ে উঠেছে, সে তখন টিচার বা ক্লাস কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করে বিড় বিড় করে কথা বলতে বলতে কোনো বয়স্ক প্রফেসর বা বিজ্ঞানীর মত পেছনে হাত বেঁধে ক্লাসের এমাথা থেকে ওমাথা টহল দিচ্ছে! ছোটবেলা থেকেই তার ভিতরে জ্ঞানী-গুণী মহামানবী(!) হয়ে ওঠার সমস্ত লক্ষণ পরিস্ফূট হয়ে উঠছিল। ক্লাসের পড়ার ব্যাপারে সে তেমন মনোযোগী ছিল না। যখন যা মনে ধরত, তাই পড়ত সে এবং প্রতিভার জোরে ভালোও করে ফেলত।
ছবি আঁকতে ভালবাসত সে। আমিও বাসতাম। আমরা দুই বোন বসে বসে অনেক বিকাল গ্রামের দৃশ্য কিংবা ডিজনীর বিভিন্ন কার্টুন এঁকে পার করেছি। তবে আরেকটা ব্যাপার ছিল ওর। ও লেখালেখি করত ঐ বয়সেই। যতদূর মনে পড়ে ক্লাস ওয়ান বা টুতে থাকতে ওর লেখা একটা গল্প প্রকাশিত হয়েছিল একটা ম্যাগাজিনে। এই লেখালেখি ব্যাপারটা আমি তখনো চেষ্টা করে দেখিনি। এত গায়েও লাগাতাম না। ভাবখানা- আমার আঁকা হাম্পটি ডাম্পটি মানবের ছবিও তো ম্যাগাজিনে গেছে! কী আর এমন! তবু উৎসাহের বশে একবার একটা গল্প লিখে ফেললাম। প্রেমকাহিনী ছিল সেটা- আর এই নিষিদ্ধ(!) গল্প একমাত্র আমার সেই বোনকেই পড়তে দিয়েছিলাম। সে বেশি একটা প্রশংসা করল না। গল্পটা যে ভাল হয়নি তা আমিও বুঝতে পারছিলাম।
যাই হোক, আমি মনোযোগ দিয়ে ক্লাসের পড়া আর আমার আঁকাআঁকি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। খেয়াল করলাম আমার বোন একা একা কী যেন লিখছে একটা ডায়েরিতে। আমি তো অবাক। ডায়েরি তো ক্লাসের পড়া টুকে আনার জন্যে। এটাতে ঘরে বসে কী লিখছে ও! দেখতে চাইলে সে দিল না দেখতে। আমার আগ্রহ তখনি বেড়ে একশোগুণে পরিণত হল- গোপন কথা! প্রেম-ভালবাসা কিংবা অশ্লীল কিছু! ঠিক করলাম, কী আছে- দেখতেই হবে... লুকিয়ে একদিন পড়লাম তার ডায়েরি। পড়ে তো আমি বিমোহিত- সেখানে দিনলিপি লিখেছে সে! জাগতিক-মহাজাগতিক এবং আদর্শিক বিভিন্ন বিষয়ে তার সুচিন্তিত মতামতও ব্যক্ত করা হয়েছে! তবে আমার মনে গেঁথে গেল শেষ লাইনটা- ''সব মিলিয়ে দিনটি বেশ আনন্দেই কাটল।''

২. ক্যারিয়ারের শুরু
আমার তো স্কুলের ডায়েরি ছাড়া আর ডায়েরি ছিল না। তাছাড়া ক্লাসের ডায়েরিতে ব্যক্তিগত গোপন কথা লেখাটা যুক্তিযুক্ত মনে হল না। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে পড়লে তারা হাসাহাসি করবে। বুদ্ধি বের করে ফেললাম। আমার বাংলা খাতা থেকে কতগুলো পৃষ্ঠা নিয়ে কেটে কুটে একটু লম্বাটে শেইপের একটা নোটবুক বানিয়ে ফেললাম। কেটেকুটে কিছু বানানোতে আমার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল আগে থেকেই। নিজের প্রতিভা কাজে লাগাতে পেরে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলাম আমি।

সবই তো হল। ডায়েরি লেখার পালা এবারে। রাতে ঘুমুতে যাবার আগে ডায়েরি লেখার নিয়ম। আমি শুরু করলাম। ভোর ছটায় ঘুম থেকে উঠেছি। এরপর হোমওয়ার্ক... সব শেষ করে ভাবলাম এবারে কী লেখা যায়? ওহ ঐ কথাটা লিখতে হবে... আমি লিখলাম-সব মিলিয়ে দিনটি বেশ আনন্দেই কাটল <img src=" style="border:0;" />
এরপর প্রতিরাতেই ডায়েরি লেখা চলত। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আমি আবিষ্কার করলাম। আমার ডায়েরিতে মোটামুটি একই কথা লেখা থাকে। আমার প্রায় এক সপ্তাহের ডায়েরির কী ওয়ার্ডস নিলে এরকম হবে: ''ভোর ছটায় ঘুম থেকে উঠেছি। এরপর হোমওয়ার্ক... - বাংলা-ইংরেজি ... ...ক্লাস- সমাজ- বিজ্ঞান-ধর্ম... ....হোমওয়ার্ক- ক্লাসওয়ার্ক- ক্লাসটেস্ট- বুকওয়ার্ক... একঘণ্টা খেলা... পড়া- খাওয়া। এবং যথারীতি সেই লাইন: সব মিলিয়ে দিনটি বেশ আনন্দেই কাটল। "
এই সাতদিনেও আমার মাথা থেকে কোন মহাজাগতিক তত্ত্বের উদয় হল না। জীবন ও জগতের প্রতি ঘৃণা ধরে গেল আমার। নিজের প্রতিভাহীনতার গ্লানিতে মুষড়ে পড়লাম আমি। আর সত্যি কথা বলতে কী, বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সুতরাং, ওখানেই ইতি টানলাম আমার স্বল্পদৈর্ঘ্য ডায়েরি ক্যারিয়ারের।

৩. দ্বিতীয় ইনিংস
পাঁচ বছর পরের ঘটনা। ক্লাস নাইনে উঠেছি মাত্র। বয়ঃপ্রাপ্তিতে নিজের মনোদৈহিক পরিবর্তনের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিকতার পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম প্রথম। পুরনো আজে বাজে দু এক টুকরো ঘটনার সাথে নতুন একটা ঘটনা তৈরি হল। আমার দুবছরের বড় মামাতো ভাই আমাকে প্রেম নিবেদন করল। বলা বাহুল্য, সে ছিল সুদর্শন কিন্তু লেখাপড়ায় খুবই কাঁচা। আমার চোখে: একটি টসটসে 'মাকাল ফল'! কারণ, ভাল স্টুডেন্ট না হলে কাউকে পাত্তাই দিতাম না আমি! ঘটনাটা মাকে বলে দিলাম। ও আমাকে ভালবাসি বলেছে এবং আমার হাত ধরেছে।মা তো রেগে আগুন- আমার মেয়ের হাত ধরে! এতবড় সাহস!! আমাদের বাসায় ওর প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গেল।
কিন্তু একটা কথা আমি মাকে বলিনি- সে আমাকে কিস করার চেষ্টা করেছিল! ব্যাপারটার তাৎপর্য বা গুরুত্ব তখন বুঝিনি। কিন্তু একটু তো বড় হয়েছি ততদিনে। তাই কথাটা গোপন রাখলাম। পরে মনে হলো এটা ডায়েরিতে লেখা উচিত। যেমনই হোক- জীবনে প্রথম তো <img src=" style="border:0;" />
এবারে আমার ডায়েরিতে অনেক কথা এল- তার মাঝে জীবন ও যৌবন সম্পর্কিত চিন্তাভাবনাও ছিল। ডায়েরি লেখা চলতে লাগল... বেশ কিছুদিন পার হল এবং কিছু কিছু বিষয়ে আমার জ্ঞানের মাত্রাও এলিমেন্টারি থেকে হাই স্কুলে গিয়ে পৌঁছল। একদিন ডায়েরি খুলে কী মনে করে পড়ছিলাম পুরনো লেখাগুলো। এবং কী বলব... সেই বীভৎস উৎকট প্রেম নিবেদনের বর্ণনা পড়ে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঘেন্নায় রি রি করতে লাগল। আর চিন্তা করলাম এটা কারো হাতে না পড়া ভাল। চিন্তাটা দুশ্চিন্তায় রূপ নিতে বেশিক্ষণ লাগল না। আর সুযোগ বুঝে একদিন পুড়িয়ে ফেললাম ডায়েরিটা। ঠিক করলাম আর লিখব না।

৪. আবার ঘটনা: তৃতীয় অধ্যায়
কলেজ লাইফটা পেরিয়ে গেল ঝড়ের মত। নিশ্বাস ফেলার জন্য যখন থেমেছি, দেখলাম বুয়েটে অ্যাডমিটেড হয়ে বসে আছি আমি। টুকটাক লিখতাম কিন্তু এগোচ্ছিল না। আবার ঠিক তাও না। একজনের প্রতি ভাল লাগা- হওয়া- না হওয়া কথা এইসব লিখতে চাইতাম। কিন্তু ঘরভর্তি স্পাইগুলোর ভয়ে পারছিলাম না। একটা সাংকেতিক বর্ণমালা আবিষ্কার করলাম। এর পেছনে প্রায় তিনদিন খাটতে হল। তারপর লেখা শুরু করলাম। কিন্তু ইংরেজিতে লিখে ভাল লাগছিল না। এক পৃষ্ঠা লিখতে আমার কয়েক ঘণ্টা লাগল আর ভীষণ ক্লান্তিকরও ছিল কাজটা। বুঝে গেলাম- এভাবে লিখে শান্তি পাব না। ভাবলাম কয়েকদিন বোরিং স্টাইলে লিখি। আমার উৎসাহী ভাইবোনেরা পড়তে চাইলে দিয়ে দিলাম পড়তে। কারণ, আমার তো কোনো 'সিক্রেট' নেই! ওরা খানিক পড়ে খুবই বিরক্ত হল- ঠিক আমাদের English For Today বই এর করিম কিংবা সালমা'র ডায়েরি। বুঝলাম কাজ হয়েছে। ডায়েরি আর ঘাঁটাবেনা কেউ। হলও তাই। আমার ডায়েরি টেবিলে পড়ে থাকলেও কেউ ধরে না। এমনকি সাধলেও পড়তে চায়না। এবারে মনের কথা লিখলাম প্রাণ খুলে...

একদিন দুপুরে, ভাইয়ার ঘরে গিয়ে বসলাম। ভাইয়া বাসার বাইরে তখন। আপনমনে গুনগুন করছিলাম। হঠাৎই টেবিলে রাখা ডায়েরিতে চোখ পড়ল। পড়তে শুরু করলাম। ভাইয়ার লেখার অদ্ভুত একটা ভঙ্গিমা ছিল। প্রথমে এই সময়ের কথা। তারপর শৈশবের কথা। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়লাম এক নিঃশ্বাসে। এরপর থেকে প্রায়ই ভাইয়ার ডায়েরি পড়তাম। স্টাইলটা কপিও করলাম কিছুদিন। কিন্তু কিছুদিনই। আর ভালো লাগে না কপি করতে। কারণ, নিজের জীবনটা ততদিনে ঘটনার ঘনঘটায় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠেছে! কিন্তু কোন কিছুর এক্সট্রীমকে ভয় পেতাম আমি... আবারও সেই Feeling of Insecurity... আবারও পুড়িয়ে ফেলা। আমার ভালোলাগা- ভালোবাসার সব কথা ডায়েরির সাথেই পুড়ে মৃত্যুবরণ করল।

৫. চ্যাপ্টার ফোর: ট্র্যাজেডি
ব্লগে লেখা লেখি শুরু করেছি বছর তিনেক। মনের কথা সরাসরি না হলেও বলা তো যায় একরকম। এতেই তৃপ্ত থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হোস্টেলে থাকা শুরু করলাম এর মাঝে। আমার রুমমেটরা প্রায় থাকতই না। সুতরাং, পেয়ে গেলাম দুর্লভ নিজের পিসির সাথে আরও দুর্লভ প্রাইভেসি! কাগজে লেখার অভ্যাস চলে গেছে বহুদিন। কম্পিউটারেই লেখা শুরু করলাম ডায়েরি। কেউ ওঁৎ পেতে নেই পড়ার জন্য। কেউ নেই হাসার জন্য। আর সেই সাথে আছে নিজের ভেতর পর্যন্ত ডুব দিয়ে দেখার অবাধ সুযোগ। মাঝে মাঝেই লেখা হত... একথা ওকথা... আমার মনের দর্পণ হয়ে উঠছিল ডায়েরির সফট ভার্সন। কাজ করতে ভাল না লাগলে নিজের ডায়েরি স্ক্রল করে যেতাম। সময় কেটে যেত দুঃখবিলাস আর স্বপ্নচারণে...

বছর দুই কেটে গেল। কাজের জন্যেই একবার ফরম্যাট দিতে হল সি ড্রাইভটা। এই কাজটা করতে করতে ততদিনে এত এক্সপার্ট এবং বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিলাম যে কোন গুরুত্বই দেইনি। রাত দুটার সময় ঝিমুতে ঝিমুতে ফরম্যাট দিলাম। খুব শিগগির হয়ে গেল। রিবুটের সময় কেমন যেন উল্টাপাল্টা লাগছিল। পাত্তা দিলাম না। ওপেন করার পর আবিষ্কার করলাম আমি ডি ড্রাইভে ইনস্টল করেছি উইন্ডোজ। এবং ওখানেই ছিল আমার গত চার বছরের সমস্ত ফোটো, আমার সব লেখালেখি আর আমার ডায়েরি। মাথা ঘুরছিল। চোখে অন্ধকার দেখলাম। কী করলাম আমি এটা! হায় হায়!

ধাক্কটা খানিক পর একটু সামলে উঠে হঠাৎ মনে হলো আমার এই ডায়েরিতে যত কষ্টের স্মৃতি জমা হয়েছে- ওগুলো মুছে যাওয়াই ভাল। হয়তো নতুন করে শুরু করতে হবে আমাকে- তারই ইঙ্গিত এটা। তা নাহলে এমন অপ্রত্যাশিত অস্বাভাবিক ভুল হবে কেন আমার! মাথায় এইসব নানারকম দার্শনিক তত্ত্বের উদয় হওয়াতে আমি আবার ড্রাইভটা ফুল ফরম্যাট করে আবার সি তে উইন্ডোজ ইন্সটল করে ঘুমুতে গেলাম। কোন এক প্রোগ্রামার বন্ধু শুনে বলে- রিট্রীভ করা যাবে তো! আমি শুনে বললাম, থাক; ডায়েরি আমার জন্যে না! আড়ালে থাকা দীর্ঘশ্বাসটা সে শোনেনি ঠিকই, তবে আঁচ করেছিল নিশ্চয়ই...

বি. দ্র. : গতকাল বাসায় গিয়েছিলাম। আমার হবু প্রোগ্রামার ছোটোভাইয়ের পেটমোটা ডায়েরী দেখে এইসব ঘটনা তোলপাড় করে ওঠে স্মৃতিতে। লেখাটার জন্যে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে আমার ট্র্যাজেডি শুনে সে যে হাসতে হাসতে খুন হয়েছে তা বলাই বাহুল্য; সাথে নতুন করে শুরু করার ফ্রি উপদেশও মিলেছে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29347751 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29347751 2011-03-19 23:26:02
প্রভাত- বিরাগ ওয়াশরুম থেকে আসতে আসতে মনে হল সকালটা ঠিক হাঁটতে বের হওয়ার মত। বান্ধবী সুপ্রিয়াও দেখলাম উঠে পড়েছে। স্পীড আপ হল আমার ওকে দেখে। রুমে একটা ইয়ার-দোস্ত থাকলে যা হয়- মানে চল, ঘুরে আসি- এই সেই করব- হাবি জাবি... মানে জোশ চলে এল একরকম। কিন্তু বেরোনোর পরে ফীলটা গেলো একদম বদলে; জিন্স- টপস- কেডস আর ওড়নার মধ্যে নিজেকে একদম প্যাক্ড মনে হচ্ছিল। এক ফোঁটা বাতাস নেই কোথাও। বৃষ্টি বা ঝড়ের আগের চরম হিউমিড আবহাওয়ায় নিজেকে সেদ্ধ মনে হচ্ছিল। ভাবলাম হলে ফেরত যাই। হাঁটা আর হবে না। কী মনে করে খেতে গেলাম চাঙ্খারপুল। হালুম হালুম করে তিনটা নান আর নেহারী সাবাড় করলাম। আমার খাওয়া দেখে সুপ্রিয়া অবাক।
ফেরার পালা। এবারে আবহাওয়াটা একটু বদলেছে মনে হল। সূর্য আগের মতই মেঘের আড়ালে। বাতাস বন্ধ। তবুও কেন যেন মনে হল একটু বদলেছে। রিকশা নিলাম। রিকশাওয়ালা ছেলেটার বয়স কম। কচি মুখ দেখে ভাড়া একটু বেশি চাইলেও উঠে গেলাম। আসতে আসতে গল্প করছিলাম আমি আর সুপ্রিয়া- সকালের বাতাসটা ভাল লাগে আসলে। এখন আবহাওয়াও একটু বেটার।
রিকশাওয়ালা বলে উঠল- বেশ বেশ
তার শব্দচয়নে মজা পেয়ে আবার শুনতে চাইলাম- কী?
সে ঘুরে তাকিয়ে বলল- fresh.
আমরা দুজনেই হেসে উঠলাম এবারে। খানিক পর মনে হল দুচার কথা জিজ্ঞেস করি।
তার বাড়ি পটুয়াখালী। বয়স উনিশ-বিশ। পড়াশোনা জানে না। কিন্তু কথার মাঝে যেসব ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করছিল- আমি রীতিমত অবাক হচ্ছিলাম- মানে তার উচ্চারণ খুবই স্পষ্ট আর যথেষ্ট ভালও। মায়া লাগছিল। মনে মনে চিন্তা করছিলাম আমার ছোট ভাইটার কথা। একই বয়স। অথচ এই ছেলেটাকে রিকশা চালাতে হচ্ছে।
সে নাকি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত মাদ্রাসায় পড়েছে। তখন কিছু পারত না। পরে একজনের কাছে 'গ্র্যামার' শিখেছে। আমি তার অ্যাকসেন্ট শুনে অবাক হচ্ছিলাম। টিচার নিশ্চয়ই খুব ভাল।
আমরা দুজনেই বলছিলাম তার পড়াশোনা করা উচিত। কিন্তু উপায় কী? পেট তো চলবে না। আর সত্যি বলতে আমি নিজেও ঠিকমত জানি না কোথায় আছে এইসব। মানে বয়স্কদের ফ্রী পড়াশোনার জন্যে সরকারের প্রকল্পগুলোর নাম শুনে এসেছি সবসময়। তাকেও শুধু মুখেই বললাম আছে তো এরকম- কিন্তু কোনরকম আর কোথায় এসবের উত্তর দিতে পারলাম না।
কথায় কথায় সে বলল- তার ইচ্ছা নিজে নিজে পড়ে অনেক কিছু শিখবে। আর টাকা জমিয়ে প্রাইভেট এক্সাম দেবে। শেষে বলল দোয়া করবেন।
ছেলেটার নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি। কিন্তু ঘুরেফিরেই মনে হচ্ছিল- একটু সুযোগ পেলে কত মানুষ এগিয়ে যেতে পারত। মনে মনে তুলনা করছিলাম আমার ছোট ভাইয়ের সাথে। সে যে বিলাসিতায় ভেসে যাচ্ছে তা না। কিন্তু রিকশা চালানোর কথা চিন্তা করতে হচ্ছে না। কত ভাগ্যবান আমার ভাই, কিংবা আমি।
এসে বুয়েট মাঠে কয়েকটা রাউন্ড দিলাম। আজকে স্পোর্টস। সেজন্যে মাঠ রেডি করছে কিউরেটর। বুয়েটে প্রায় সবাই আমাদের জুনিয়র এখন। তাগড়া তাগড়া ছেলেমেয়েরা স্পোর্টসওয়্যার এ ওয়ার্ম আপ করছে। ভালই লাগছিল দেখতে। রিকশাওয়ালার কথা ভুলেই গেলাম। ফিরে এসে শাওয়ার করে খানিক রবীন্দ্র, খানিক হেমন্ত এইসব শুনে ভাবে ডুবে গেলাম। Prime Circle ছাড়লাম না পর্ণার ভয়ে। কালকে সারাদিনে একটা গান পচিয়ে ফেলেছি তো!
বধূ কোন আলো... শুনতে শুনতে মনে মনে কারো বধূ হয়ে উঠলাম। কিছু লিখতেও ইচ্ছা করল। রবীন্দ্রনাথ জমিদার বাড়ির ছেলে ছিলেন। রিকশাওয়ালা হলে কি এসব ফীল করতে পারতেন? হয়তোবা। এরকম ফ্রেশ সকালে তারও ফীল হত, কিন্তু কাব্য করার সুযোগ হয়ে উঠত না আর।
লেখাটা আর বাড়ানোর মানে হয় না। রাবীন্দ্রিক আমেজটা ধরে রাখতে পারছি না আর। লাবণ্য হঠাৎ বুয়েটের আঁতেল ছাত্রী হয়ে উঠেছে। জীবনে সময় খুব কম। কাজ বেশি। ভাবের জগৎ থেকে বের হয়ে আসি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29342225 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29342225 2011-03-11 10:40:12
পুরনো প্রাত্যহিক একঘেয়ে প্রতিদিন আমাদের;
প্রতি কথায় ঝরে পড়া পুরনো অসন্তোষ
আর এক পশলা পুরনো খেদোক্তি।
সারাদিন পাশাপাশি তার,
খুব কাছাকাছি কখনো।
একই ছাদের নিচে; তবু তার ছোঁয়াচে শুধু
অবসন্ন শুষ্ক মুখের শূন্য নিরাশ দৃষ্টি।
বাড়ি ফেরার সময় হল...
ক্লান্ত আমি এলিয়ে পড়ি চোখভাঙা ঘুমে।
হঠাৎই সে বলে-
'চাইলে আমার কাঁধে মাথা রাখতে পার'।
শুধু একটা সেকেন্ড
ব্যয় করলাম
চমকে উঠতে কিংবা
বিব্রত হতে চেয়ে...

তারপর ঘুমিয়ে গেলাম
তার উপর নিজের ভার সঁপে দিয়ে-
আহ! কী অসম্ভব শান্তি!
(কে যেন কানে কানে বলল-
আজ নাকি ভালবাসার দিন!)
আর ফুলেল তীরটা বুকের ভীতর
আরো একটু বিঁধিয়ে দিয়ে
মুচকি হেসে পালিয়ে গেল কেউ...
আটকে দিয়ে
ঠোঁটের ভেতর লাজুক চুমুটাকে;
আর বুকের ভিতর
ভরিয়ে দিয়ে পুরনো
আমার চিরচেনা কেউ!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29326790 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29326790 2011-02-14 21:57:19
আরোপিত অসংলগ্নতা
এখনও মশারীর ভেতরেই আমি। ফুট দশেক দূরে বসা দুটো জ্বলজ্যান্ত মানুষ আর শরীরে জড়ানো দুই কম্বলের ওম মিলে একাকীত্বে ভুগতে দিচ্ছে না আমাকে। তবু ভেতরে ভেতরে সেই পুরনো দুঃখের সুরটা দুঃখবিলাসের রূপ ধরে বার বার প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কী আর করার-- শেষকালে তাই কাগজ কলম নিয়ে বসতে হল।

বিছানায় বসে লেখার অভ্যাসটা ছেড়েছি বহুকাল। হাতে বাংলা লেখা- সেও আজকাল আর হয় না বললেই চলে। তবু মন্দ লাগছে না। রুমে দুটো টিউবলাইট আর একটা টেবল ল্যাম্প জ্বলছে। এই মুহূর্তে একটুকরো অন্ধকারের খুব দরকার। মন কেমন করছিল খানিক আগেও-- কিন্তু এখন অজানা একটা বিরক্তি। শরীরটাও ভাল লাগছে না আজ রাতে। শীতের রাতে গরম লাগাটা কোন ভাল কথা না।

পেটে ভর দিয়ে উবু হয়ে লিখছি এখন। আমার অনেক প্রিয় একটা দেহ-ভঙ্গিমা। ছোট থাকতে এমন ভেবেছি কিনা জানি না, কিন্তু মন চাইছে কেউ এখন আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিক খুব আস্তে আস্তে। আমার সব ক্লান্তি দূর করে দেবে সেই স্পর্শ-- অদ্ভুত ভালবাসায় ভরা সেই ছোঁয়া অসম্ভব ভালোলাগায় ভরিয়ে দেবে আমার সবগুলো ইন্দ্রিয়কে।

আমি আজীবনই ভালবাসার কাঙাল। তাই বোধহয় আমার সমস্ত এই জাতীয় encounter এ একমাত্র ভালবাসা ছাড়া সবই ছিল। হয়তোবা এমনই ঘটবে সবসময়-- হয়তোবা এর কারণ এই যে সেটা পেলে ছুটে চলা থেমে যাবে আমার। হয়তোবা content হয়ে পড়ব, আর সমস্ত উদ্যম যাবে এক নিমিষে ফুরিয়ে-- কে জানে!

আমি আমাকে যে কেন বার বার প্রতারিত করি এ আমি নিজেও জানি না। তেমন অবিচার করি নিজের উপর যেমনটা করেছি অন্যের উপরে। অথচ সবসময় চেয়েছি যা কিছু ভাল, যার ভেতরে কল্যাণ আছে তাকে ধারণ করতে; সবকিছু দিয়ে ন্যায়ের পথে যুদ্ধ করতে। কিন্তু আমি নিজে নিজের কাছে সৎ থাকতে পারছি কই? যে vicious circle এ আটকা পড়ে গেছি, কোনদিন কি তা থেকে আদৌ বের হয়ে আসতে পারব পুরোপুরি? আমার ভেতরের contradiction গুলো কি এভাবেই বিবেক বারে বারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে থাকবে? এই তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব কি প্রতিদিন এভাবেই একটু একটু করে আমার প্রাণটাকে ক্ষয় করে ফেলবে?__ জানি না । আমি হয়তো খুবই তুচ্ছ, খুবই নগণ্য একজন মানুষ। তবু চাই আমার কাজটা করে যেতে।
মাঝে মাঝে নিজেকে ভীষণ রকমের শাস্তি দেই মনে। আবার মনে হয় আল্লাহর সেই কথাটা-- আমাদের মধ্যপন্থী বানিয়েছেন তিনি, যাতে সুবিচার করতে পারি।
তাই তো, সুবিচার তো নিজেকেও করতে হবে তাই না? একটা সময় অনেক কিছুর Influence এ হওয়া ভুলের জন্য নিজেকে আর কতটা শাস্তি দেওয়া উচিত? এইরকম আরেকটা মানুষকে কি আমি ক্ষমা করতাম?
করতাম বোধহয়। আসলে আমিও যে ছোট ছিলাম, অনেক সরল আর অবুঝ ছিলাম এটা কেন যেন ভুলে যাই।
হাত ব্যথা করছে-- গরমও লাগছে বেশ...

*** ওদের দুজনকে একটু চা বানিয়ে দেওয়া উচিত। এদিকে শরীরটা ভাল লাগছে না। কী যে করি...
এই এক জ্বালা-- চোখ বুঁজে শুয়ে পড়লেই হয়। কিন্তু এত সহজে মায়ায় পড়ে যাই আমি... শুয়ে থাকাও সম্ভব না

***
একটা ব্যাপার প্রায় মনে হয়-- আরেকটা হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন খুব কাছে থেকে পাওয়া মনে হয় অনেক দরকার। নইলে কিসের জন্যে heart টা বুকের এক পাশে থাকে? অন্য পাশটায় এত খালি লাগবে বলেই তো! সেখানটায় তো আরেকটা heart এর জায়গা... বুকে বুক না মিললে এই শূন্যতা তো দূর হয় না। মানুষের তাই খুব দরকার কাউকে-- বুকের খালি জায়গাটা ভরে দেবার জন্যে। আলিঙ্গনের উষ্ণতাটা শেয়ার করার জন্যে-- আর নিষ্ঠুর- নিষ্প্রাণ- নিরাসক্ত শীতের দীর্ঘ রাতটাকে ছোট্ট ছোট্ট ভালবাসা দিয়ে ভুলিয়ে দেবার জন্যে। ছোট্ট ছোট্ট স্পর্শ আর আবেগে ভরা অল্প অল্প ভালবাসার কথা-- যেগুলো দিব্যি পদার্থ আর জীববিদ্যার নিয়ম ভেঙে মাথার ধারে কাছে না গিয়ে বুকের একবারে ভিতরটায় হৃৎপিণ্ডের মাঝে গিয়ে ঢুকবে!

সোয়া একটা। দূরে একটা কুকুর ডেকে যাচ্ছে অবিশ্রাম। এই প্রাণীটা যে কী কারণে সারাটা রাত নিজের গরজেই জেগে থাকে-- সে এক অদ্ভুত ব্যাপার। ক্লান্তিহীন প্রভুভক্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী-- আজীবনই যার এক নিয়মে বাঁধা।

হঠাৎ আম্মুকে দেখতে ইচ্ছা করছে...
চোখদুটো জ্বালা করছে কেন যেন। ভাইয়াকেও মনে পড়ছে নিতান্তই অকারণে। মানুষের ধরনই বোধহয় এই। আড়ালে গেলেই শুধু চাওয়া। আর সামনে পেলে অনাদর অবহেলা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেবার চেষ্টা।

নাহ! কষ্ট চাপা দিতে পারছি না কোনভাবেই।
আল্লাহ বলেছেন কষ্টের মধ্যে স্বস্তি আছে। কিন্তু সেটা নিশ্চয়ই ন্যায়পথে থাকলে। আমি কি তা আছি?

*** আপু আর সাওদাকে চা অফার করলাম। খেতে চায় না এখন। একটু ঘুমোবে বলল। আমার ভয় হচ্ছে যে ওরা ঘুমোলে আর উঠতে পারবে না। শেষও হবে না পড়া। জেগে থাকার চেষ্টা করতে হবে। দেখা যাক...

বুঝতে পারছি মনে-প্রাণে খুব চাইছি একজনকে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাসটা ঝালিয়ে নেওয়ার এই-ই সুযোগ। কিন্তু আমি এমন মানুষ, যে সুযোগকে পায়ে ঠেলে দুর্যোগকেই আঁকড়ে ধরেছে বার বার।
তার কথা ভাবাটা এখন আরো একটা কারণে খুব অনুচিত। বুকে ব্যথা করবে এটা চলতে থাকলে--এবং পড়ুয়াদের ডেকে দেবার মত সুস্থ থাকতে পারব না আমি।
পৃথিবীটা খুবই unfair একটা জায়গা। কিন্তু চেষ্টা করলে আমি কিছুটা fair হতে পারি, or at least, for a while, a bit responsible...

ওরা ঘুমিয়ে গেছে। একটা লাইট জ্বলছে এখন রুমে। এর আলোটাও খুব মলিন। বিষণ্ণ তো বটেই। একটা সর্বগ্রাসী অবসাদ পেয়ে বসছে আমাকে-- টের পাচ্ছি-- কিন্তু ঠেকাতে পারছি না। কলমের লেখা যাচ্ছে জড়িয়ে। যা দেখছি আর যা perceive করছি তাতে মিল যে শতভাগ নেই একথা হলফ করে বলতে পারি। একটা হাইও তুলে ফেললাম। সত্যিই ঘুম পেয়েছে আমার।

***
আগের লাইনটা লিখে যখন উঠছি, মোবাইলে তখন সময় ১টা ৪১। মোবাইল ছাড়া অন্য কোথাও টাইম দেখা ভুলেই গেছি প্রায়। যা হোক যে কথা বলছিলাম--
ওয়াশরুম থেকে এসে দেখি সাওদা উঠে বসেছে। টেনশানে ঘুমুতে পারছে না বেচারী। চা বানিয়ে দিলাম। কানিজ আপুও উঠে বসেছে এর মধ্যে। আমি বিছানায় ঢুকতে ঢুকতে সব মিলিয়ে ষোলো মিনিট পার হয়েছে। চা চাখতে গিয়ে জিভ পুড়িয়েছি এবং ঘুম যে পালিয়েছে তা বলাই বাহুল্য!

ক্লান্তি লাগছে বেশ... মাথার পাশে রাখা সঞ্চিতা আর অগ্নিবীণা উপরে রেখে স্ট্রাকচার নোটবুকে আবোলতাবোল বকে প্রায় দুঘণ্টা পার করলাম। হাতে মাথা রেখে পাশ ফিরে শুয়ে লিখছি এখন। বিজ্ঞানীরা জানেন চোখের ক্ষতি করছি-- আমি নিজেও জানি; তবু...

কোন একদিন কি কোথাও যাওয়ার পথে খুব অসতর্ক মুহূর্তে স্ট্রীট লাইটের ফ্যাকাশে হলুদ আলোর ইন্দ্রজালে ভুলে গিয়ে কিছুটা ভালোবাসা নিয়ে আলতো করে আমার গাল ছুঁয়েছিল সে? নাকি এও আমার ক্লান্তিহীন মনের অজস্র কল্পনারাশিরই ছোট্ট একটা অংশ? সে নিজেও বাস্তব কি কল্পনা এই বিতর্কে গিয়ে নিজেকে আর পীড়া দিতে চাই না-- কিন্তু ঐ মুহূর্তটা হঠাৎ করে মনের ভিতরে রাখা শত শত মুহূর্তকে ছাপিয়ে ভীষণ significant হয়ে উঠেছে-- অন্তত আজকের রাতটায়।

*** ঘাড়টা ব্যথায় দপ দপ করছে। ঘুমুতেই হবে এবার__________ দুটা ছাব্বিশ_____

(ডিসেম্বার ১৮,২০১০)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29292379 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29292379 2010-12-19 15:00:41
লিখবোনা আর কবিতা কারণ যা কিছু ভাবি সব আসে তুমি হয়ে
অদ্ভুত এক তুমি-
যার বর্তমানকে সযত্নে ঢেকে
অতীত ধরে রাখি...
অদূর অতীত কিন্তু তবু অধরাই
তুমি সেই; অতলস্পর্শী আঁধারের গ্রাস থেকে টেনে তোলো আমাকে;
আমি সেই তোমার ছাঁচটা বসিয়ে নিয়েছি বুকের ঠিক ভেতরে।
একদম ভেতরে-
লোকে বলে ওখানে নাকি প্রাণ থাকে- কে জানে!
কী বোকা আমি-
ছাঁচটার ভেতরে আসল মানুষটাও ছিল
একদম বুঝিনি
মৃত্যুর মত ভীষণ সেই মানুষটা
কী অনায়াসে একটু একটু করে কেটে নেয় আমার প্রাণ

জানো, যুদ্ধে আমার খুব ক্লান্তি
কারণ, এখন তো আর বলবে না তুমি-
'ভয় কিসের আছি তো আমি';
জেগে থাকবে না ততক্ষণ যতক্ষণ আমিও জেগে-
অদ্ভুত গভীর আশ্বাসে ভরিয়ে দেবে না বুক।

তাই লিখবোনা আর কবিতা
তুমি বোলো না সেই স্বপ্নের কথা, যাতে আমি নেই;
বোলো না আমাকে, কারণ আর আমি লড়বো না;
কারণ, আঁধারেই হারাবো শুধু
প্রতিটা মুহূর্তে জেগে উঠবে পুরনো আমি সেই
শুধু একটাবারের জন্যেও তোমাকে ভাববো না।

এই রাতে তুমি ক্ষমা কোরো
কারণ, নকল হাসি- আর আমি হাসবো না;
তোমার প্রতিকৃতিটাকে আর ভালোবাসবো না।
পরাজয়ের শোকাগ্নিতে শুদ্ধ হব আজ,
তুমিহীনা রুক্ষ রাতের রুদ্র রণ সাজ;

আজ ভালবাসার উত্তাল নদী
ফেনিল, তোমার শ্বাসে;
তপ্ত বিষের নিকষ কালো
বাষ্প হয়ে আসে।

*** তোমাকে নিয়ে আর কখনো কোনো কিছু লিখবো না
কারণ, আজকের রাতে জয়ী হল অসহ্য যন্ত্রণা...


(নামকরণ কৃতজ্ঞতা: তাহিতি আপু)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29288653 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29288653 2010-12-13 03:23:41
নৈশঃ... পরীক্ষা শেষ হয়েছে সপ্তাখানেক। বেশিরভাগ ছাত্রী যার যার বাড়িতে এখন। শুধু থিসিস বা ট্রেনিং আছে যাদের, তারা রয়ে গেছে। আর রয়ে গেছে আর্কিটেকচারের মেয়েরা। ফিফথ ইয়ারের ফাইনাল জুরি চলছে। ভয়ানক ব্যস্ত সবাই। শ্বাস ফেলার সময় নেই। তাই লনে হাঁটতে বা আড্ডা দিতে আসে না কেউ। জমা বা জুরি চলার সময় হাঁটা-হাঁটি বা আড্ডা দেওয়ার মত অবস্থাও থাকে না কারোর। এসময় বরং আর্কিদের আশে পাশে না থাকা ভাল।

তবু কিছুক্ষণের জন্য মেয়েটা নামল লনে। মিনিট তিনেক ঘোরা ফেরা করল একাই। একা ছিল না সে। সহৃদয় কোন বন্ধুর মত এক ঝলক মৃদু হাওয়া পিঠে হাত বুলিয়ে গেল তার। নরম ঘাসগুলোর উপর হাঁটছিল সে ধীরে- প্রতিটা পদক্ষেপে অনুভব করছিল তাদের প্রাণ। সবুজ অথচ দুরন্ত নয়। ভীষণ শান্ত আর বিনয়ী- ওর পায়ের তলায় নুয়ে পড়ছিল তারা- যেন কুর্ণিশ করে অনুরোধ করছিল আরো থাকতে। কিন্তু অস্থির হয়ে উঠল সে। যাবার আগে তারা বিহীন মলিন আকাশটার দিকে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল মেয়েটা। তার দীর্ঘশ্বাসের মাঝে লুকোনো নালিশটা কীভাবে যেন শুনে ফেলল যাযাবর এক মেঘ। আর একটা ফোঁটা বৃষ্টিকে ছেড়ে গেল মেয়েটার জন্যে- আহা! বড় দুঃখী মেয়েটা- বড় নিঃসঙ্গ...
বুকের ভিতর জমাট একটা ব্যথা, আর মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা... ঘন কালো চুলের নিচে শত শত কালো যন্ত্রণার ধারা পাগল করে ফেলছিল তাকে। অস্থির হয়ে চুলে আঙ্গুল চালায় সে। চুলগুলোকে টেনে ধরে একটা ঢোঁক গেলে সে। যেন কষ্টগুলোকে গিলে ফেলবে। আর তখনই হঠাৎ... আরে! কী অদ্ভুত ব্যাপার! কোত্থেকে এক ফোঁটা শীতলতার ছোঁয়া এসে পড়ল তার হাতের পেছন দিকটায়। অসম্ভব ভাললাগায় হাতটাকে গালে ছোঁয়ায় সে, ঠোঁটে আর কপালে...
মুছে গেল সেই যাযাবর মেঘের দেওয়া সেই এক ফোঁটা বৃষ্টি! কিন্তু ছাপ রয়ে গেল তার-প্রেমিকের প্রথম চুম্বনের মত...
কিন্তু বৃষ্টি তো নামবে না আজ...

“আর একটু ক্ষণ থেকেই চলে যাব,”- মনে মনে বলে মেয়েটা। ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠছিল সে। বিষণ্ণতা, ভাললাগা, কষ্ট আর গ্লানি-এত সব অনুভূতির প্রাচুর্য আর তীব্রতায় বুকের ভিতরে ওঠা তুমুল আলোড়ন চোখের জল হয়ে বেরোতে পথ পাচ্ছিল না। তাই ভয় পাচ্ছিল সে- বিস্ফোরণের... তখন কী করে সামলাবে সে?
তবু গোলাপ ঝোপটার দিকে একবার না তাকিয়ে পারল না ও। খুব ইচ্ছা করছিল ফুলগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে। প্রত্যেকটা ফুল ফুটেছে তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে সামান্য সময়ের জন্য। এখনই যে সময়! এখন তাদের ভাল না বাসলে হবে কী করে! সময় যে পেরিয়ে যাচ্ছে... কিন্তু ছুঁলো না সে ফুলগুলোকে। ওরা তার মতই অভাগা। অসময়ে ফুটেছে যে... কেউ ভালবাসবে না ওদের...
অন্ধকার কোণটায় একটু ঢুঁ মেরে আসা যাক। পথে পড়া নাম-না-জানা সাদা ফুল গাছটার দিকে একবার তাকাল ও। নিচে পড়ে থাকা ফুলগুলোকে মাড়িয়ে গেল অবলীলায়। এদিকে ছায়া কিছু গাঢ়। অকারণেই গা রি রি করে ওঠে ওর। যেন এখনই অন্ধকারের ভেতর থেকে বের হয়ে আসবে হিংস্র কিন্তু অসম্ভব সুন্দর এক গোখরো... তারপর...

তারপর ও পৌঁছে যাবে অন্য এক পৃথিবীতে... কেমন হবে জায়গাটা?

ভাবতে ভাবতে মালির ফেলে যাওয়া নিড়ানি টা চোখে পড়ে তার। মাটি লেগে ভোঁতা হয়ে গেছে যন্ত্রটা। তবু মানুষ খুন করার পক্ষে যথেষ্ট কার্যকরী। শুধু ঠিক সময়ে বল প্রয়োগ করতে হবে আরকি! ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত লাগে বেশি। একটা মানুষের বুকে দুবার এই অস্ত্র চালানো খুবই অন্যায়। তার চে শার্প একটা নাইফ দিয়ে ব্র্যাকিউলার আর্টারি কেটে দাও...
উফফ! কী সব ভাবছে সে!! আসলে যন্ত্রটার চেহারাটাই কেমন যেন- সরু দা এর মত... দেখলেই এটা দিয়ে কোথাও কোপ দিতে ইচ্ছা করে.. হঠাৎই সেই ছেলেটার কথা মনে পড়ে ওর। তার বুকে কোপ দিলে কেমন হবে? কেমন লাগবে? শিউরে ওঠে সে! এই বীভৎস ভোঁতা যন্ত্রটা তার বুকে চালানোর কথা ভাবতেই পারে না মেয়েটা। তার মত সুন্দর হতে হবে তো! নাহলে মানাবে কী করে? নিখুঁত হতে হবে...ভীষণ মসৃণ... মসৃণ আর চকচকে... আর ভীষণ ভীষণ ধারালো... এত বেশি ধারালো, যে ছেলেটা বুঝবেই না কখন ঢুকে গেছে বুকের ভেতরে... যেমন করে সে ঢুকে গিয়েছিল মেয়েটার বুকের ভিতরে, ঠিক তেমন করে... নিঃশব্দ নিশাচরের মত...
কোথা থেকে যেন আলো আসছে... আরে কী অদ্ভুত ব্যাপার! এইতো দরজাটা খুলে গেছে... ওহ! এ তো ঐ পৃথিবীটা!- একথা ভাবতেই দরজাটা বন্ধ হয়ে যায়- আর সংবিত ফেরে ওর। রুমে যেতে হবে...
বটলব্রাশটাকে এড়িয়ে কখনোই স্টেয়ার লবিতে ঢুকতে পারে না ও। এবারও যেতে যেতে দাঁড়িয়ে পড়ল ও- লনের একমাত্র বটলব্রাশটার নিচে...
বিদেশি গাছটা একাকী কেমন করে বাসা বেঁধে ফেলেছে এখানে। আলিঙ্গনের মত নেমে আসা তার পাতাগুলোর আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে কেমন অদ্ভুত একটা নিরাপত্তার অনুভূতি হয় তার- সেই সাথে ভাললাগার, ভালবাসার। কী এক অচেনা আবেগের প্রস্রবণে তাকে সিক্ত করে ফেলে নিঃসঙ্গ এই গাছটা। অর্ধগোলাকার ছাউনির মত তার পাতাগুলোর ভেতর দিয়ে আরো একবার আকাশের দিকে তাকায় সে। চাঁদের আলোটা নীরবে এসে নামে ডালপালার ফাঁক দিয়ে- ওর মুখটা ছুঁয়ে যায় সন্তর্পণে... আর মেয়েটা তখন অন্তহীনের দিকে তাকিয়ে তার সমস্ত ভাললাগা, ভালবাসা আর যা কিছু সুন্দর- সব উৎসর্গ করে দেয় সেই ছেলেটার জন্য-যার ভালবাসার তীব্রতায় অবিরাম রক্তক্ষরণ ওকে মেরে ফেলছে প্রতিদিন... যার দেওয়া অসহ্য যন্ত্রণায় ওর আত্মপরিচয়... যার শুধু অস্তিত্ব ওর ধমনীতে জীবনের ধারা...

আজকের রাতটা কেটে যাবে তাকে ছাড়া- হয়তো কাটবে জীবনের আর সব রাত্রিই... হয়তো আজকে রাতে যন্ত্রণার জয় হবে... হয়তো সব রাতেই হবে... হয়তো মেঘে ঢাকা ধূসর আকাশের ওপারে আটকে পড়া নক্ষত্রের কান্না শুনবে না কেউ...হয়তো জীবনচলার পথটা ক্লান্ত চাঁদের মলিন আলোয় এমনই বিষাদময় হয়ে রইবে। তবু এই গাছটার নিচে দাঁড়ালে কিছু চাইতে ইচ্ছা করে মেয়েটার- তাই হাত তোলে সে মনে মনে- কোন কথা বলে না সে... শুধু তার চোখে ভেসে ওঠা আকুল প্রার্থনাটা পড়তে পেরে ঈষৎ ব্যথায় আরেকটু কালো হয়ে যায় আকাশটা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29143703 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29143703 2010-04-28 00:02:46
২৪ মার্চ ২০১০ এর ডায়েরি (নিতান্তই ব্যক্তিগত) ৬দিন পেলে সাধারণত দুদিন এমনি নষ্ট হয়। ভেবে দেখলাম স্ট্রাকচার পরীক্ষার আর চারদিন আছে। ক্লাসটেস্ট একটা দিয়েছিলাম- কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোন নাম্বার পাইনি। মানে শুধু পাশ করতে হলেও আমাকে রীতিমত ভাল(!) করতে হবে ফাইনালে!!
এমনিতেই স্ট্রাকচার আর্কিদের কাছে মূর্তিমান বিভীষিকা- আমার কথা না-ই বা বললাম।
যাই হোক- বিশ্বজিতের পাঠশালায় পড়া শুরু করলাম। বিশ্ব আমার অনেক ভাল ফ্রেন্ড এবং অদ্ভুত ব্যাপার হল সবাইকে পড়িয়ে পাশ করানোর ব্যাপারে তার খুবই আগ্রহ। তাই অনেক কষ্টে ঘুম থেকে উঠে লাইব্রেরিতে যাই- যদি কিছু স্পুনফিডিং করিয়ে দেয় ও! শ্যাগি আবার বলে- বুয়েট তো 'বিশ্ব- বিদ্যালয়'; মানে বিশ্বজিতের বিদ্যালয় আর কি!
যাই হোক, এসব অন্য প্রসঙ্গ।
সারাদিনে দুই সিস্টেম এর অঙ্ক করে আরেক সিস্টেমের থিওরি বুঝে আমার মাথা ঘুরছে তখন। রাত বাজে প্রায় পৌনে ন'টা। ওদের আগেই বের হয়ে এলাম লাইব্রেরি থেকে।
হাঁটছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে... পৌনে আধ টুকরো একটা চাঁদ আর চিক চিক করে ওঠা অসংখ্য তারা- সবাই মিলে পাশে কোন একজনের অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছিল বারবার... বাইরে উদাস করা বসন্তের হাওয়া তার অভাবটাকে তীব্র করে তুলছিল আরও... ভোঁতা একটা ব্যথা আমার ক্লান্ত বুকটাকে আরেকটু আচ্ছন্ন করে দেয়... অজান্তেই গুন গুন করে সুর ভাঁজি... কষ্টের সুর সেগুলো... বিচ্ছেদের কথা দিয়ে মোড়ানো...শুধু বিচ্ছেদের গানগুলোই কেন যেন বুকের গভীর থেকে উঠে আসে... হয়তো আমার কথা বলে...
এলোমেলো ভাবনা, ক্লান্ত শরীর আর মন নিয়ে পাদুটো টেনে টেনে চলছিলাম। লন্ড্রিতে কাপড়-চোপড় দেওয়া ছিল অনেকগুলো। গিয়ে শুনলাম এখনো রেডি না।
হলের দিকে পা বাড়ালাম। ছাত্রী হলের সামনে একটু পরই যুগলদের ভিড় হবে। গেইট লাগানোর ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ভালবাসার মানুষটার সাথে কাটাতে চায় তারা। ব্যাপারটা যতই প্যাশনেইট হোক- আমার একটু বিরক্তিই লাগে। তাই জায়গাটা তাড়াতাড়ি পার হতে চেষ্টা করি আমি। দ্রুত পা চালাচ্ছিলাম কোন দিকে না তাকিয়ে।
হঠাৎই শুনতে পেলাম একটা ছেলের কণ্ঠ: আপু একটু শুনেন!
আমি চমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে দাঁড়ানো। বয়স যে খুব বেশি না- চেহারাই বলে দিচ্ছে সেটা। আবার ডেকেছে আপু বলে। ভাবলাম জুনিয়র কেউ হবে। অবশ্য আমি জুনিয়রদের তেমন চিনি না, আমাকেও তাদের চেনার কথা না। তবু বললাম- বলো
- আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।
আমি এবার ছেলেটাকে ভাল করে দেখলাম। ফর্সা, সুন্দর চেহারা। মোটামুটি ভাল হাইট, টি শার্ট আর স্পোর্টস ট্রাউজার্স পরা নির্মেদ শরীর। খুব ম্যানলি না, তবে কম বয়সের একটা ইনোসেন্স আর বোকামি ধরা পড়ছিল চেহারায়। এর ওপর রোডলাইটের আলো পড়েছে মুখে- সব মিলিয়ে বেশ আকর্ষণীয়ই লাগছিল তাকে। অভদ্রও মনে হচ্ছিল না। ধরেই নিলাম আর্কিটেকচার স্টুডেন্ট হবে। তবু নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলাম- তুমি বুয়েটের?
- না
একটু ধাক্কা খেলাম- উত্তরটার জন্য রেডি ছিলাম না আমি। সামলে নিয়ে বললাম- তাহলে?
- ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ি।
- কোন ব্যাচ?
- ফোরটিনথ ব্যাচ
- আরে এইচ এস সি কোন ব্যাচ?
- জিরো সিক্স
- ওহ আচ্ছা! তো... কি বলতে চাও তুমি?
- আমি একটা মেয়েকে ভালবাসতাম। মেয়েটার নাম সোনালি
(এর কথা শুনেই আমার মুখ হা হয়ে গেল! ভাবলাম মাথা খারাপ নাকি? কিন্তু ছেলেটা কথা বলছিল শুদ্ধ উচ্চারণে এবং গুছিয়ে, সো, শুনতে লাগলাম)
ক্লাস সিক্স থেকে তাকে ভালবাসতাম। যখন ক্লাস টেনে পড়ি ও মারা যায়। ওর কিডনি নষ্ট হয়ে গেছিল। ও মারা যাওয়ার পর থেকে আমি খুব একা। আমি এত একাকীত্বে ভুগি... এটা দূর করার উপায় কী?

আমি একটু ভেবে নিয়ে কথা বলতে চাইলাম। কিন্তু বিরক্তি লেগেছে কথাগুলো শুনতে। ঘটনা সত্যিও হতে পারে- কিন্তু সোনালি নামটা শুনেই বলিউডের সোনালি বেন্দ্রের কথা মনে পড়ে আমি তি তি বিরক্ত হয়ে উঠেছি। আর সারাদিন স্ট্রাকচার করে ক্ষুধা পেটে হলে ফেরার সময় অচেনা মানুষের প্রেমকাহিনী শোনার মুডও থাকে না। সুতরাং বিষয়টা যত আনইউজুয়াল ততটাই ইরিটেইটিং হয়ে উঠল। আর আমিও কাঠ কাঠ স্বরে বললাম- তাই বলে রাস্তার মাঝখানে মানুষকে থামিয়ে উপায় জানতে হবে? আর আমাকেই কেন?
সে সাথে সাথে বলে উঠল- আপনি আমাকে পাগল ভাবলে ভাবতে পারেন। কিন্তু আমি জানতে চাই
- কিন্তু আমার কাছেই কেন?
আমার কণ্ঠে বিরক্তি ঢাকার কোন চেষ্টাই ছিল না।
ছেলেটা এবার মাথা নিচু করে দাঁড়াল। জুনিয়রদের সাথে সাধারণত আমি খুবই সফট। এভাবে বলে তার রিঅ্যাকশান দেখে আবার নিজেরই একটু কেমন লাগল। তাই আবার একটু সহজভাবে বললাম- লোনলি লাগলে তুমি ফ্রেন্ডদের সাথে হ্যাঙ আউট করো। আর জিরো সিক্স মানে তোমার বাইশ- তেইশ তো হবেই। একেবারে বাচ্চা তো না। এসব বিষয় একেবারে না বোঝার মত তো না। এভাবে একজনকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এসব কথা বলা তো ঠিক কাজ না।

ছেলেটা একবার আমার দিকে, একবার নিচের দিকে তাকিয়ে বলল- আমার টুয়েনটি ওয়ান রানিং।
আমি কিছু বললাম না।
সে আবারও বলল- আমার সারাক্ষণই একা লাগে। আমি আপনার কাছে জানতে চাই।
এবার আমার সত্যিই সন্দেহ লাগছিল। বললাম- তুমি কনশাস আছ তো? ড্রাংক না তো?
সে তাড়াতাড়ি বলল- না না আমি ড্রাংক না। আমি সত্যিই আপনার কাছে জানতে চাই।
বলে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে থাকল।
আমি নিজে আহামরি না দেখতে। অন্তত ছেলেরা পিছে লাগার মত না। তার উপর মাথায় ঘোমটা দিয়ে রাখি। আমি ভেবেই পেলাম না এই ছেলেটা কী উদ্দেশ্যে কথা বলছে আমার সাথে!
জায়গায় অজায়গায় কাউন্সেলিং করার একটা বদঅভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে আমার। ওইটার প্রভাবেই বোধহয় আবারও কথা বললাম আমি:
তুমি ফ্রেন্ডদের সাথে টাইম কাটাও বেশি করে।
- আমার কোন ফ্রেন্ড নাই এখানে। দুইটা ফ্রেন্ড আছে। ওরা যশোরে থাকে
- তোমার ফ্যামিলি কী ওখানেই?
- হ্যাঁ। আমি হলে থাকি। আর আমার কম্পিউটারও নাই যে আমার টাইম কাটবে...
ছেলেটার কম্পিউটার নেই শুনে আমার একটু খারাপই লাগল। কম্পিউটার ছাড়া জীবন বাঁচে কীভাবে! আমি এক মিনিট ভেবে নিয়ে বললাম
- তোমার ফ্যামিলি তোমাকে প্রভাইড করে? না নিজে চলতে হয়?
- ফ্যামিলিই খরচ দেয়।
- শোনো, ফ্যামিলির হেল্প চাও। যেকোন সিচুয়েশানে তারাই সবচে বড় সাহায্য করতে পারে। ফ্রেন্ডস হয়তো কিছুটা করবে। কিন্তু মা- বাবার মত না।
- আমার তো এখানে ফ্রেন্ডসই নাই।
- তুমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ো, হলে থাকো- তোমার কীভাবে ফ্রেন্ডস হয় না? অবশ্য তুমি যদি এখানে বুয়েটের হলের সামনে এসে ঘুরতে থাকো তাহলে তো হবেই না! তোমার উচিত ক্লাসে, হলে ফ্রেন্ড বানানো- যারা তোমাকে সব সময় কমপ্যানি দিতে পারবে। বুয়েটে ঘুরে তো লাভ নাই!
আমার কথাগুলো বেশ রুড শোনাচ্ছিল বুঝতে পারছিলাম। ছেলেটা মাথা চুলকে আবারও বলল- হয় নাই ফ্রেন্ডস
ততক্ষণে আমি সিরিয়াসলি কাউন্সেলিং শুরু করে দিয়েছি।
বললাম- তাহলে এক কাজ করো। বিয়ে করে ফেলো। তোমার একাকীত্ব দূর হয়ে যাবে!
ছেলেটা চমকে উঠে বলল- বিয়ে করার জন্য বলি নাই তো।
সম্ভবত আমার কথাটা বিদ্রূপের মত শোনা গেছে। কিন্তু আমি সিরিয়াসলিই বলছিলাম। ভাবলাম এক্সপ্লেইন করা উচিত:
শোনো, বিয়ে করলে তোমার সারাক্ষণই একটা কমপ্যানি থাকবে। আর যেহেতু বাবা- মা তোমাকে প্রভাইড করতে পারছে, চাইলে তারা আরেকটা মেয়েকেও থাকতে দিতে পারবে। আর এটাই তোমার জন্য ভাল হবে। তাদেরকে বলো তোমাকে বিয়ে দিয়ে দিতে!
ছেলেটা এবারে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল। তারপর বলল- বিয়ে করা সম্ভব না, বিয়ে করা সম্ভব না... বলেই হাঁটা শুরু করল।
আমিও একটু ধাক্কা খেলাম বোধহয়। সে বেশ একটু এগিয়ে যাওয়ার পর আমি হলে ঢুকে পড়লাম। লনে হাঁটতে হাঁটতে খোঁপা খুলে দিলাম। দারুণ পাগলা হাওয়া... সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত চুলগুলোকে নিয়ে খেলতে লাগল সে... চুলের বাধা পেরিয়ে ব্রেইনসেলগুলোকে একটু ভাইব্রেশানও দিল। -
খানিক পরেই লক্ষ করলাম- ছেলেটা কে, কী কারণে সে আমার সাথে কথা বলেছে- এইসব নিয়ে আমার অবচেতন মনে চিন্তা চলছে। আর এও মনে হল- যে আমাকে ছেড়ে গেছে, তার চেয়ে এই ছেলেটা অনেক সুন্দর!
আর সবচে অবাক ব্যাপার- বসন্তের বাতাসটা তখনো বুকের ভেতর দিয়ে বইছিল- কিন্তু ব্যথা দিতে পারছিল না খুব বেশি!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29122856 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29122856 2010-03-25 03:28:53
যে লেখাটা কখনো লিখতে চাইনি হয়তো জীবনের আসা- যাওয়া এই পৃথিবীটার জন্যে নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর শুরু থেকে এপর্যন্ত কত শত বিপ্লব হয়েছে- তার তোড়ে হারিয়ে গেছে কোন জনপদ চিরদিনের মত তার সমস্ত অধিবাসী নিয়ে... পৃথিবীর বুক ফুঁড়ে বেরিয়েছে তার তপ্ত ক্রোধোন্মত্ত রক্ত- নিশ্চিহ্ন করে গেছে শত সহস্র জীবন। সেই সব ঘটনা কোথায় হারিয়ে গেছে এখন। একটা দুটা ছোট ছোট চিহ্ন চোখে পড়ে তাদের। আর এর বাইরে যত কিছু ঘটেছে প্রতিদিন-প্রতি মুহূর্তে, সেসবের তো কোন পাত্তাই নেই। হারিয়ে গেছে নদীস্রোতে ভেসে যাওয়া খড়কুটোর মত।
হয়তো মুনাওয়ারের মৃত্যুটাও ঐরকম সহস্র ঘটনার একটার মত হারিয়ে যাবে কালের আবর্তে। সময়ের কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে যাবে ওর বাড়তে না পারা সোয়া দু’বছরের জীবন। সহস্র ঘটনার ঘনঘটায় ভুলে যাবো ওর ছোট ছোট দুষ্টুমি। নতুন পেইন্ট করা দেয়ালে আর থাকবে না ওর আঁকি বুকি। ফ্লোর থেকে মুছে যাবে ছোট পায়ের ছাপগুলো। কানের ভিতর বাজবে না ওর ঠোঁটে নতুন ওঠা আধো বুলি। মনের ভিতর মলিন হয়ে আসবে ওর নিষ্পাপ সুন্দর মুখটা।
হয়তো এসবই স্বাভাবিক। জন্ম-মৃত্যুর রহস্য আমরা জানি না। স্রষ্টার কার্যকারণ জানি না বলে প্রিয়জনের মৃত্যুর পরও ক্ষমা করি তাকে- আবার তার কাছেই সাহস চাই এগিয়ে চলার। কিন্তু যখন স্রষ্টার বদলে মৃত্যু নির্ধারণ হয় অন্য কারও হাতে, তখন?
কিছুদিন আগে শুনলাম আমার সোয়া দুবছর বয়সী খালাতো ভাইটার একটা অপারেশান হবে। অনেক ছেলেরই নাকি এই সমস্যা থাকে। urinating tube টা ওর একটু বাঁকা। আর opening টা একটু মিসপ্লেইসড। এর জন্যে ওর কোন সমস্যা হচ্ছিল না এতদিন। আর দশটা বাচ্চার মতই সুস্থ- স্বাভাবিক জীবন ওর। তবু খালু চাইলেন ঠিক করে ফেলতে। দুতিন মাস ধরে অনেক ডক্টরের সাথে কনসাল্ট করা- অনেক হয়রানি। সবাই বলল অপারেশান খুবই সিম্পল। এর জন্যে বাইরে নেওয়ার দরকার নেই। দেশেই করা যাবে। খালুর পরিচিত আছে বলে কমফোর্ট নার্সিং হোমে ভর্তি করা হল ওকে। তারা নিশ্চিত করল দেশের সেরা সার্জন(ডক্টর সালাম) অপারেশান করবে। কোন চিন্তাই নাই আমাদের।
আমি ভাবলাম সিম্পল অপারেশান তাও এত কেয়ার। কোনরকম দুশ্চিন্তা উঁকিও দেয়নি মনে। দুদিন পরে শুনলাম ওকে আবার শুতে হবে সার্জারি টেবল এ। ওর স্ক্রোটাম এ রক্ত জমে যাচ্ছিল। এজন্যে আবারও কাটাকাটি। এটা শুনে একটু কেমন লাগল। সিম্পল অপারেশান- তাহলে দ্বিতীয়বার কেন? ডাক্তার কি ভুল করল?
কিন্তু প্রশ্ন তুললাম না। এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বার ওকে ফুল অ্যানেসথেসিয়া দিল। জেনিটাল এর একটা সার্জারি তে কেন ফুল অ্যানেসথেসিয়া এই প্রশ্ন আমি তুলতে পারি না- কারণ ডাক্তারির কিছুই বুঝি না। অপারেশন হয়ে গেল। এবারে ও একেবারে শান্ত। দুষ্টু ছেলেটা মরার মত পড়ে ছিল। এত ধকল ওইটুক শরীরের উপর...
এরপর ড্রেসিং করিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পালা। আবারও সেই ডাক্তার। আবারও ফুল অ্যানেসথেসিয়া! পেশেন্ট এর কোনরকম নড়াচড়া বোধহয় তার পছন্দ না। ড্রেসিং হয়ে গেল। এক ঘণ্টা দুঘণ্টা... সময় যাচ্ছিল... কিন্তু মুনাওয়ারের সেন্স ফিরলো না। আইসিইউ তে লাইফ সাপোর্টে চলতে লাগল ওর হৃৎপিণ্ড। দু একবার হাত পা নাড়তে পেরেছিল সে। খালুর একটা আঙুল ধরেছিল ওর ছোট্ট হাতে। কিন্তু তারপর অজ্ঞান অবস্থাতেই খিঁচুনি হল ওর। সেই ওর জীবনের শেষ সাড়া। তারপর থেকে নিথর পড়ে রইল।
ওর অবস্থার অবনতিই হচ্ছিল। আমাদের ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছিল। অনেকেই অপারেশানের সময় ছিল না। কিন্তু পরে যখন শুনল এতটুক বাচ্চাকে এক সপ্তায় চারবার ফুল অ্যানেসথেসিয়া করেছে- তখন আর ধরে রাখতে পারছিল না। ২২ তারিখ বিকালে এক আত্মীয় ডক্টরদের বকাবকি করে গেলেন। তারপর হঠাৎই হসপিটালের ডক্টররা এসে বললেন- আপনারা বাইরে থেকে কাউকে এনে দেখাতে চাইলে দেখান। আমরা যা করার করেছি। নিউরোলজিস্ট আসলেন-দেখে বললেন ব্রেইন ডেথ। এই বেইবি থাকবে না। মনে হল বুকের উপর ভীষণ ভারি ধারালো একটা পাথর ফেলে দিল কেউ। বুকের হাড় ভেঙে আমার হৃৎপিণ্ডটাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে দিল সেটা। খালার কান্না হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল। অস্বাভাবিক আচরণ করতে লাগল। তাকে অ্যাটেন্ড করছিলাম। লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলারই কথা এখন। সব গুছিয়ে ফেললাম। শেষ করলাম আমার ভাইটাকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি।
ডক্টররা সবাইকে ঢুকতে দিল আইসিউতে। শেষ দেখা দেখতে দিল আর কি। শুধু গায়ে একটা রোব চড়িয়ে ঢুকতে হল। আইসিইউতে ঢোকার আরও কিছু প্রিকশানস আছে কিনা আমার জানা নেই। তাই এটা নিয়েও কিছু বললাম না।
ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। লাইফ সাপোর্ট কিটস এর বড় বড় মেশিন- দুইটা ডিসপ্লেতে কতগুলো গ্রাফ- এইসব ঘেরা বিশাল একটা বেডের মাঝখানে অসহায়ভাবে শুয়ে আছে আমার ছোট্ট ভাইটা। এত যন্ত্রপাতি চারপাশে ওর- যেন দৈত্যের খাঁচায় বন্দী দেবশিশু। তাকিয়ে বুকের ভেতরটায় ব্যথা করতে লাগল আমার। ওর অসহায়ত্বটা যেন আমারই। আমারই যেন হাত পা বাঁধা...চোখ সরাতে পারছিলাম না। ওর চোখের সাদা অংশ দেখা যাচ্ছিল খানিকটা। দুই চোখের মণি দুপাশে পড়ে আছে। শ্যামলা ছেলেটা সাদা হয়ে গেছে। যেন একটুও রক্ত নেই ওর শরীরে। তাকিয়ে থেকে হৃৎপিণ্ডটা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছিল আমার। কিন্তু বাইরে থেকে তাড়া এল।
বের হয়ে এলাম। আগের রাতটা সারা রাতই জেগে ছিলাম। শরীর ক্লান্ত অবসন্ন। রাতে কেঁদে কেঁদে একসময় ঘুমিয়েও গেলাম।
কিন্তু তারপরও ডক্টররা লাইফ সাপোর্ট রেখে দিল। অনেক বড় বড় বুলি- এইরকম কেইস কোটিতে একটা হয় না। কেন হয়েছে আমরা জানি না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি...
সেজ খালু শুনে বলল আগেই অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে মেরে ফেলেছিস- এখন ডেডবডি আইসিউতে রেখে দায়িত্ব পালন করে!
এর মধ্যে অনেক ঘটনা আস্তে আস্তে বের হয়ে এল। আইসিইউর ভিতরের এক কর্মচারী নাম গোপন রাখার শর্তে জানাল ডাক্তারের ভুলের কারণেই দ্বিতীয়বার কাটাকুটি করতে হয়েছে –আর ডাক্তারের ভুলের জন্যই এ অবস্থা হয়েছে। তারপর জানা গেল অপারেশন হয়েছে চাইল্ড স্পেশালিস্ট ছাড়া। আমরা যারা তরুণ সবাই চাইলাম কেইস করতে। এদের শাস্তি হওয়া উচিত। তাহলে অন্তত আরো অনেক শিশু বাঁচবে এর হাত থেকে। কিন্তু মা-বাবা রাজি হয় না। এখনো বাচ্চা আইসিইউতে। হোক ক্লিনিক্যালি ডেড, তবু তো মেশিন দিয়ে হার্ট পাম্প করাচ্ছে ওরা!
পরদিন সকালে শুনলাম ওর নাকি একটু পালস পাওয়া যাচ্ছে। ডাক্তারদের কথায় আর বিশ্বাস ছিল না। এরা যেমন অসৎ তেমনি মিথ্যাবাদী। আমি বিশ্বাস করলাম না।
তবু আল্লাহর কাছে চাইলাম- আমার জীবনে যদি একটু পূণ্যও করে থাকি, আমার ভিতরে যদি এতটুকু ভালো থাকে তার দোহাই দিয়ে আমার ভাইটাকে চাইলাম। যেন ফিরিয়ে দেয়। দিন পার হয়ে গেল আরেকটা। ও তখনো কোমায়।
পরদিন বিকালে ডক্টররা জানাল ওরা স্ক্যান করিয়েছে- দুএকটা বাদে বাকি ব্রেইনসেলগুলো ঠিক আছে। সমস্ত যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে বিশ্বাস করলাম তাদের কথা। নিউরোলজিস্ট কি বলেছে ভুলে যেতে চেষ্টা করলাম। আরও জানলাম ও নাকি একটু হাত নাড়াতে পেরেছে। আবারও আশায় বুক বাঁধা... আর অপেক্ষা অলৌকিক কিছু ঘটার...
কিন্তু আর দেরি করতে হলো না। ২৫ তারিখ ভোরেই ফাইনালি ওর হার্টবিট থেমে গেল। এবার আর কোন কশান লাগে নি। আইসিইউতে ও একা। সেই একইভাবে পড়ে আছে। শুধু জিহ্বাটা বের হয়ে এসেছে খানিকদূর। একটু কালচে দেখাচ্ছিল।
এবার আর আমার কান্না আসছিল না। শুধু সর্বগ্রাসী ক্ষোভ চাইছিল পুড়িয়ে দিতে এই কসাইগুলোকে। আবারও সেই কথা গার্ডিয়ানদের সাথে। কেইস করো... এটা তো পরিষ্কার খুন।

বড়রা টেনে বের করে নেয় আমাকে। মা-বাবার সামনে এমন বলতে নেই। কেইস করলে পোস্ট মর্টেম হবে। এতটুকু বাচ্চার পোস্ট মর্টেম করাবে- এটা সহ্য হবে না তাদের। যা হয়ে গেছে হয়ে গেছে... এটা আল্লাহর ফায়সালা। এখন দোয়া করো সবাই। আমি আর কথা বলিনি। ওকে দাদাবাড়িতে কবর দেবে। সবাই এইসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমি যথাসাধ্য করে বেরিয়ে এলাম।
চোয়াল শক্ত। চোখে অশ্রু না মুখে কোন কথাও না- কেমন যেন নির্বিকার হয়ে গেলাম। কি হল এটা! মনে হচ্ছিল কিছুই বুঝতে পারছি না।
কিন্তু যখন মাটি দেওয়ার কথা শুনলাম... ওহ! প্রাণটা বের হয়ে যাচ্ছিল আমার। কে যেন মনে হল আমার কলিজাটা ছিঁড়ে নিয়ে গেল। আমার ফুলের মত নিষ্পাপ ভাইটাকে কী করছে! আমার কলিজার টুকরাটাকে মাটির নিচে শুইয়ে দিচ্ছে! যন্ত্রণায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল... কিন্তু কী অসহায় আমি! কী তুচ্ছ আমি! কিছুই করতে পারলাম না?

সবাইকে বলছি দোয়া কর ওর জন্য, কিন্তু আমার দোয়া আসে না। শুধু সর্ববিধ্বংসী ক্ষোভ আর একরাশ ধিক্কার। ধিক্কার ঐ ডাক্তারের উপর। ধিক্কার সব দুর্নীতিগ্রস্ত অসৎ লোকদের উপর- যারা পচিয়ে ফেলেছে পুরো সমাজটা। আর ধিক্কার আমাদের নিজেদের উপর... ধিক্কার ঐ হাতের উপর যেটা শুধু আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্যে ওঠে, কিন্তু অপরাধীর শাস্তি দিতে ওঠে না।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০
বিকাল ৫.০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29106014 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29106014 2010-02-26 17:44:13
মেজাজ খারাপ দিবসের খিস্তি খেউড় বাংলাদেশ সরকারের ডেলাইট সেইভিং এর জন্য ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল সামারে। ডেলাইট সেইভিং মানে হল আমরা সূর্যের আলো কাজে লাগাতে চাই। এনার্জি কনসাম্পশান কমাতে চাই। যখন সূর্য আলো দিচ্ছে তখন ইলেক্ট্রিসিটি খরচ করে লাইট জ্বালাতে চাই না। তাই যখন সূর্য তাড়াতাড়ি ওঠে, আমরা ঘুমিয়ে না থেকে ওয়ার্কিং ডে শুরু করে দিতে চাই। ডেলাইট সেইভিংটা ফার নর্থের দেশগুলোতে চালু। ওদের গ্রীষ্ম আর শীতে দিনের দৈর্ঘ্যের অনেক পার্থক্য। আমাদের দেশে পার্থক্য সর্বোচ্চ ঘণ্টা তিনেক। তাই এটার খুব দরকার ছিল এমনটা ভাবেননি অনেকেই। তবু বেশ ইফেক্টিভ প্রমাণিত হয় কাজটা। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেই এর সুফল পেয়েছি।
যাই হোক অক্টোবারের পয়লা তারিখে সময়টা আবার পিছিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কারণ শীতে দিনের শুরু দেরিতে আর শেষ তাড়াতাড়ি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই হোক বা অন্য কোন কারণে হোক কাজটা আর করা হয়নি। এ নিয়ে অনেকেই কিছু উচ্চবাচ্য করার পর গণ্ডারের সুড়সুড়ি লাগে। তখন বলা হয় মানুষজন অভ্যস্ত হয়ে গেছে- সময় আর পাল্টানো হবে না!
অথচ প্রতিদিন আটটায় ক্লাস করতে আসার জন্য বুয়েটের স্টুডেন্টদের পৌনে সাতটায় বা স্থানভেদে সাড়ে ছ’টায় বাসা থেকে বের হতে হয়- যেখানে সূর্যই ওঠে পৌনে সাতটায়! বেরোনোর আগে অন্ধকার থাকতে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট রেডি করতে হয়। সমস্ত প্রস্তুতি সূর্যোদয়ের আগেই নিতে হয় বলা চলে। তখন তো লাইট জ্বালাতেই হচ্ছে। ডেলাইট সেইভিং এর মূল উদ্দেশ্যই তো এখন ব্যাহত হচ্ছে! তাছাড়া অন্ধকার থাকতে একটা মেয়েকে বাসা থেকে বেরোতে হচ্ছে বাস ধরতে, যখন ইউজুয়াল অ্যাক্টিভিটি শুরুই হয় না। অন্ধকার যে খুব বড় সমস্যা তা না। তবে আমাদের সামাজিক অবস্থা তো সবার জানা। মদ-গাঁজা খেয়ে তখনো রাস্তার পাড়ে হয়তো ঝিমাচ্ছে বখাটেরা। মেয়েরা যারা সকাল সকাল বেরোয় বা রাত করে ফেরে তারা তো ভোগেই, টেনশানে বাবা-মার বয়স এক ধাক্কায় দশ বছর বাড়ছে। এই অবস্থাতে আমাদের গণ্ডারচর্মধারী কর্তৃপক্ষ বললেন অভ্যস্ততার কথা! আগে তো মানুষের ডেলাইট সেইভিং এর অভ্যস্ততা ছিল না, তখন তাহলে তারা ঘটা করে ঘড়ির কাঁটা ঘুরালেন কী বলে!
কে যেন বলছিল মন্ত্রী এমপি আমলাদের এগারোটার সময় ঘুম থেকে উঠলেই হয়, ড্রাইভার এসে বসে থাকে অফিস পর্যন্ত নির্বিঘ্নে নিয়ে যাওয়ার জন্য। একটা কুড়ি একুশের মেয়েকে যে অন্ধকার থাকতে এসে বাস ধরার জন্যে দাঁড়াতে হচ্ছে- এইসব তো আর ওদের মাথায় থাকবে না।
গণ্ডারের চামড়া পাতলা করার কোন উপায় কি আছে? কিছুদিন যাবৎ ত্বকে গজিয়ে ওঠা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ থেকে রেহাই পেতে স্ক্রাব ব্যবহার করেছিলাম। ভালই কাজ দেয়। পরে জানলাম এটা ত্বকের উপরের একটা স্তর ফেলে দেয়। এজন্য অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ সরিয়ে ফেলার সাথে সাথে ত্বকটাকে আরো সেনসেটিভও করে ফেলে। বাঙালির সেনসিটিভিটি বাড়ানোর জন্য কোন স্ক্রাব তৈরি করা যায় না? স্পেশালিস্টের তো কোন অভাব নেই-কেউ লেগে পড়ে না কেন?
যে সব বিষয় সরাসরি আমার ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পর্কিত না, ওগুলো নিয়ে ভাবা ছেড়ে দিয়েছি অনেকদিন। এমনকি কেউ কথা বলতে চাইলেও তিতা কথা শুনিয়ে দেই- ভারি প্যাঁচাল ভাল লাগে না। কিন্তু আজকে দিনের শেষে এইসব দিয়ে কেন র্যা প আপ করছি?
দিনের শুরু আজকে খারাপ হয়নি। আর্বান ডিজান স্টুডিও এই প্রথম করছি। বেলজিয়াম থেকে চারজন মাস্টার্স স্টুডেন্ট থিসিস করতে এসেছিল ঢাকায়। ওরা আমরা সেইম টপিকে কাজ করছি- মানে ঢাকার ইন্টারনাল ওয়াটার নেটওয়ার্কস। তবে পার্থক্য হল ওরা করছে আড়াই মাস ধরে আর আমরা দুসপ্তা!
বুয়েট ঠিক সময়ে খুললে হয়তো আরেকটা সপ্তা পেতাম কিন্তু সেটা তো নিয়ম না। তাছাড়া বাঙালি অনেক কম সময়ে অবিশ্বাস্য রকমের বেশি কাজ করতে পারে- ঠাট্টা না, এরই প্রমাণ দেখেছি আজকের ওয়ার্কশপে। সবাই যত প্রশংসা করেছে তত না হলেও ভালই হয়েছে বলতে হবে। রাজুক, ওয়াসা- এইসব বড় বড় জায়গা থেকে বড় বড় রুই কাতলা এসেছিল। মাত্র দুসপ্তায় এত বড় টপিকের স্টাডি রিপোর্ট শেষ করছি...আমার তো ভয়ই হচ্ছিল যে সবার সামনে বেইজ্জতি হয় নাকি!
ভালোয় ভালোয়ই শেষ হল ওয়ার্কশপ। তবে এখানেও সেই ঢাক ঢাক গুড় গুড়। ঢাকার প্রাণ বিপন্ন। প্রাচ্যের ভেনিস এখন সিটি অব গার্বেজ। দেয়ালে পিঠ ঠেকেনি আমাদের, আমরা পৌঁছে গেছি অতলস্পর্শী খাদের কিনারে। তবু বাঙালির স্বভাব তো বদলাবে না। স্টুডেন্টদের ওয়ার্কশপেও এত লুকোছাপা- অমুক খালের উপর হয়তো তমুক ডেভেলপার বাড়ি তুলেছে, এটা আনা যাবে না। তমুক লেইকটা ভরাট করে বিল্ডিং তুলে উদ্বোধন করেছে আমাদেরই প্রধানমন্ত্রী- এটা দিও না রিপোর্টে। এই প্রজেক্টটা করছে অমুক ফার্ম (তমুকের হাসব্যান্ডের ফার্ম), খবরদার এই নিয়ে কিছু যেন না থাকে। কিচ্ছু করার ছিল না মেনে নেওয়া ছাড়া। কিন্তু ভিতরে ভিতরে এইসব দুর্নীতিবাজ জোঁকগুলোর উপর ক্ষোভে ফুঁসছিলাম। দেশটাকে চুষে খাচ্ছে এরা। এদেরকে চৌরাস্তার মোড়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিতে পারতাম যদি! উফফ!!
এইভাবে প্রেজেন্টেশান রিপোর্ট হল সবই। ওয়ার্কশপ শেষ। দিনের শেষে পার্টি হল স্টুডিওতে। বেলজিয়ান মেয়ে তিনটাকে শাড়ি আর ছেলেটাকে পাঞ্জাবি পরিয়ে লাফালাফি ছবি তোলা সবই হল। খাওয়া দাওয়াও হল মন্দ না। বিশ্ব আবার লিন্ডা নামের মেয়েটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই ভোরে ওদের চলে যাওয়ার কথা। তাই বিশ্বর ভীষণ মন খারাপ। অবশ্যি লিন্ডাকে সবাই খুব পছন্দ করেছে। ভীষণ জলি মেয়েটা। সুন্দরও। তবে আরও গর্জিয়াস ইসাবেল। সানা আর পিটার একটু কাজপাগল। দেখতেও তেমনি। এইসব কথা মনে করতে করতে রাগ পড়ে এসেছে...
রাগ?
ওহহো! এখন মনে পড়েছে।
হ্যাঁ। রাতে ফেরার পর পর্ণার ফোন পেলাম। ‌ও গত দুতিনদিন হলেই ছিল। কিন্তু আজকে শ্যাগির বাসায় থাকবে। হলেই থাকার কথা ছিল, কিন্তু তখন সাড়ে দশটা। নন রেসিডেন্টদের দশটার পর ঢুকতে ঝামেলা। ওর ব্যাগটা যেন গুছিয়ে গেইটে দিয়ে আসি। আমি প্রপারলি ড্রেসড ছিলাম না। মানে ঘুমের পোশাকে আর কি। বললাম দুমিনিট লাগবে জামা কাপড় পরে নামতে। ও বলল- আমি গেইটে আছি।
কারো জন্যে অপেক্ষা করার মত বিরক্তিকর কাজ আর নেই। কাউকে দাঁড় করিয়ে রাখাটা তাই খুব অপছন্দ করি আমি। ঝটপট জামা গায়ে দিয়ে নামলাম। দারোয়ান মামাকে বলে মেইন গেইট পর্যন্ত গেলাম। গিয়ে খেলাম একটা বিশাল ধাক্কা- কেউ দাঁড়ানো নেই! ভাবলাম একটু পাশে নাকি। স্টুপিড লাগছিল নিজেকে তাও ওর নাম ধরে ডাকলাম। রুম থেকে তো ফোন নিয়েও নামিনি...
এদিকে ব্যাকপ্যাক নিয়ে একা গেইটে দাঁড়ানো। আউলার ছেলেরা যাচ্ছে আর তাকাচ্ছে। একজন বলল- আজকে আর আসবে না। বুয়ারা বের হয়ে বলে আপা ভাল আছেন? গাড়ি নিয়া আইব নাকি?
মেজাজটা ফরটি নাইন হয়ে গেল। তবু দাঁড়িয়ে রইলাম। আজকে ম্যাডামের বেরোতে একটু দেরি হচ্ছিল। প্রায় ষোল-সতেরো মিনিট হাবার মত দাঁড়িয়ে ইতি উতি তাকিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরলাম। মামা তখন ভেতরের কল্যাপসিবল গেইট লাগাতে ঢুকছে। তিনতলায় উঠলাম বলতে গেলে দৌড়ে। একে রেগে টং হয়ে আছি, আবার দৌড়ে উঠে হাঁপাচ্ছি। এইসময় অদি মিষ্টি হেসে বলল- পর্ণা গেইটে দাঁড়িয়ে আছে, ওর ব্যাগ নিয়ে তোকে নামতে বলেছে। আমি প্রথমে চুপ থাকতে চাইলাম। মন চাইছিল ওর ব্যাগটা তিন তলা থেকে ছুঁড়ে ফেলি নিচে। কিন্তু একটা ঝাঁকি মেরেই থামলাম। তারপর অদি আবার কী যেন বলল। এবার আমার মুখ ছুটল-ও কোন জাহান্নামে ছিল? কোথায় ছিল?
অদি বোধহয় তাকিয়েই কাহিনী বুঝেছে। ফোন আমাকে দিয়ে দিল। আমি আবারো ঝাড়তে শুরু করলাম- কোন জাহান্নামে ছিলি তুই? কোথায়? আমি দশ মিনিট ধরে দাঁড়ানো ওখানে তো কাউকে দেখলাম না। তুই কি এখন আসলি?
ও বলল- আমি তো গেইটেই ছিলাম। আউলার গেইটে!
এবার রাগের চোটে আমার আর মুখ দিয়ে কথা আসছিল না। খানিক পরে সম্পূর্ণ আউটবার্স্ট- আউলার গেইটে? আউলায় কী করছিলি তুই? আমাকে গেইটে দাঁড়ানোর কথা বলে তুই ছেলেদের হলে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবি? বিন্দুমাত্র সেন্স আছে তোর? আমি এতক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি ব্যাগ নিয়ে...
আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে ও বলল-তুই এত রাগ করছিস কেন আমার উপরে? আমি এখনি চলে যাচ্ছি।
আমি আরো ঝাড়ি দিচ্ছিলাম কিন্তু দেখলাম ফোন কেটে দিয়েছে। রাগ পড়তে পেল না।
কিছুক্ষণ বসে ছিলাম হার্টবিট নরমাল করার জন্য। শুয়ে পড়ে চেষ্টা করলাম রাগ কমানোর। রাগ কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পর্ণার দুই গালে আট-দশটা চড় মারতে পারলে রাগ পড়ত হয়ত। কিন্তু তার উপায় নেই। উল্টো যেটুকু ঝেড়েছি তার জন্য আমাকে কথা শুনতে হবে। আমার আন্তরিকতা নাই এটসেটরা। এগুলো ভেবে আরো রাগ হতে লাগল। রাগের মুহূর্তে যা মনে আসছে সেটা দিয়ে একটা এসএমএস লিখলাম-
শালা! তোকে মেরে তোর হাড্ডি গুড্ডি গুঁড়ো করে বোনবল বানিয়ে সেটা দিয়ে আমি ফুটবল খেলব।
লেখার পর দেখলাম পর্ণার নাম্বার নেই আমার কাছে। ওর নাম্বার যেটা ছিল তার শেষটা আমি চিনতাম। দেখলাম ও অন্য দুটো নাম্বার থেকে ফোন করেছে। সম্ভব্ত শ্যাগি আর রাজীবদার নাম্বার। রাগে ফুলতে লাগলাম। ফুলতে লাগলাম বললে ভুল হবে। তখন ওভার স্যাচিউরেশান হয়ে গেছে। এসএমএস টা মন খারাপ বিশ্বকে পাঠিয়ে দিলাম। বেচারা কিছু না বুঝে ফোন করল। মেসেজ নাকি ইন্টারেস্টিং অড হয়েছে!
আমার টেম্পার লুজ করা হল জগতের বিরল ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা। অনেক সময় আমি রাগি রাগাটা উচিত বলে। কিন্তু কন্ট্রোল হারাই না। আজকে কী যে হল-সেই বিরল ঘটনা ঘটে বসল।
খানিক পরে ঐ নাম্বার দুটোতেও মেসেজটা পাঠিয়ে দিলাম। তারপরই বুঝলাম যে এখনো আমি বড় হইনি!
মাথা থেকে রীতিমত আগুন বেরোচ্ছে। সেঁজুতি আপুর নতুন কেনা বই তিনটা নামিয়ে কালারফুল ছবিগুলো দেখে মন ভুলানোর চেষ্টা করলাম। লাভ হল না। আপু বলল কাগজ ছিঁড়তে। কিন্তু পর্ণাকে মেরে ভর্তা না বানালে কোনতাতেই কাজ হবে না বুঝলাম।
রাগ ঝাড়তে না পেরে মাথা ধরে গেল।
শেষমেষ বসে চাঁদিতে তেল ঢালতে লাগলাম। অনেকক্ষণ তেল বসিয়েও দেখলাম মাথা এবং চোখ দিয়ে সমানতালে আগুন বেরোচ্ছে। আপু বলল মাথায় পানি দিতে।
শেষমেষ চুলের নিচের অংশ না ভিজিয়ে মাথাটুকু অনেকক্ষণ ধরে ধুয়ে ফিরলাম। আপু দেখে বলল চোখের নিচে নাকি কালি পড়ে গেছে। চোখ বসে গেছে খাদে।
আমার অবস্থা দেখে আপু হাসছিল। আমার বাচ্চারা নাকি মার খেতে খেতে মরে যাবে। আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না- এত রেগে গেছি আমি!
শেষমেষ আপু বুদ্ধি দিল ব্লগ লিখতে। আইডিয়াটা শুনেও রাগ হচ্ছিল। তবে তখন মেজাজ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। ভাবলাম ডায়েরি লিখি। ভাল কথা। আজকে (মানে ৩১শে) পর্ণার জন্মদিন ছিল। বেচারার সাথে এইরকম খিটমিট করলাম...
যাক গে।
এখন আবার মনে হল ব্লগে দিয়ে দেই। অন্যদের মেজাজ খারাপ করে দেই। আমার মেজাজ খারাপ যদিও একটু কমেছে। কিন্তু ঠান্ডার ভেতর মাথায় তেল-পানি দিয়ে ফ্যানের সামনে বসে থেকে মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। ঠাণ্ডা লেগে যাবে বোধহয়...

রাত ২:০০টা
১লা নভেম্বার ২০০৯


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29035625 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29035625 2009-11-01 02:17:04
ঔচিত্যবোধ থেকে জীবন যাপন
একটু চিন্তা করে মনে পড়ল যে সারা রাত জেগে থেকে ভোর পাঁচটায় ঘুমাতে গিয়েছিলাম। কোন কথা না বলে সোফায় বসে রইলাম। আম্মুর দিকে দুই একবার তাকালাম কিন্তু 'খেয়েছিস নাকি' জাতীয় কোন কথা শুনতে পেলাম না।

মনে মনে নিজেকে 'সারাদিন খাইনি, খাওয়া উচিত'- এটা বললাম। খাওয়ার সাথে ওষুধেরও একটা ব্যাপার আছে সেটাও নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।
সভ্য মানুষের দাঁত মাজা, ফ্রেশ হওয়া উচিত।
দিন শেষ হয়ে এসেছে। আবার ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া- গোসল করা উচিত। আমার তেলতেলে মুখটা ফেইশওয়াশ দিয়ে ধোয়া উচিত।
ইন্ডিয়ায় একমাস ঘুরে গায়ের রং পাতিলের তলার মত হয়েছে। ক্রিম-লোশান জাতীয় জিনিসগুলো কিছুদিন হলেও ব্যবহার করা উচিত।
ক্লাস শুরুর আগে বাসায় শেষদিন। ফ্যামিলিকে একটু সময় দেওয়া উচিত।
একটা বিষয় নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছি। ওদের সাথে ডিসকাস করা উচিত।
দেশের কোন খোঁজ খবর জানি না। নিউজটা দেখা উচিত। না দেখলেও কারো থেকে জানা উচিত।
আত্মীয়- স্বজন কে কি অবস্থায় আছে খোঁজ নেওয়া উচিত।
আমাকে নিয়ে মায়ের অনেক আশা- এবার সিরিয়াসলি পড়াশোনা করা উচিত।
আমার বয়সী একটা মেয়ের এক কোণায় পড়ে থাকার কথা না। তাই আমার কর্মচঞ্চল হওয়া উচিত।
এটা উচিত ওটা উচিত। কত কিছু যে করা উচিত।
মরে যেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তাতে মা কষ্ট পাবে। মায়ের জন্য বেঁচে থাকা উচিত।
একটা পা ফেলতে ইচ্ছা করে না। যখন দেখি সামনে আরো একটা দিন আছে তখন মনে হয় পালিয়ে যাই। তবু দিন শুরু করি উচিত বলে।
তবু কাজ করি উচিত বলে। তবু প্রতিদিন বেঁচে থাকি উচিত বলে। ভদ্র থাকি উচিত বলে। হাসি উচিত বলে- ভাল লাগা থেকে না। প্রতিটা পদক্ষেপে পাদুটোকে টেনে ধরে মাটি। বার বার বলে- এইবার থাম। আর কত?
উফফ! কবে যে শেষ হবে এই ঔচিত্যবোধ থেকে জীবন যাপন....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29027107 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29027107 2009-10-17 04:51:53
তোমাকে খুন করব... বইতে থাকো শিরা উপশিরায়;
আমার রাতগুলোতে
বিষের মত ছড়িয়ে পড়ে
বইতে থাকো অবিরাম-
যতক্ষণ না বিষাক্ত হয়ে ওঠে হৃৎপিণ্ডটা।

অলস ঘুমজড়ানো সকালগুলোয়
কিংবা ছায়া পড়া পড়ন্ত দুপুরেও
রেহাই নেই আমার।
হঠাৎই ছোট্ট তোমার কয়েকটা কথা
ছুরির ফলা হয়ে ঢুকে পড়ে;
দুর্বল আমার বর্ম ভেদ করে-
একটানে চিরে ফেলে সমস্ত দেহ-মন।

চলার পথে তুমি দাঁড়াও না অকারণ,
হ্যাংলামোটা তোমাকে দেখিনি করতে;
তবু হঠাৎ
ক্লাস থেকে বেরোতে চোখ পড়ে-
একই সেই ভঙ্গিতে,
দাঁড়িয়ে আছ নিজের মত
বা বন্ধুদের নিয়ে;

না তাকিয়ে চলে যেতে চাই,
না দেখার ভান কর তুমিও...
তারপরই সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি-
কেটে ফেলে আমাকে,
কলিজাটা ছিঁড়ে নেয় একটানে-
আর
তারপর কী মিষ্টি হাসি তোমার!

***
উফফ!!
অসহ্য অসহ্য!!
আর পারছি না!
এত যন্ত্রণা...

হ্যাঁ, তোমাকে খুন করব
ভীষণ যন্ত্রণা দিয়ে
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে
একটু একটু করে

যন্ত্রণায় কাতরে উঠবে তুমি!
আহ! কী শান্তি!!
প্রতিশোধের রক্তে স্নান করে
শীতল হব আমি-
তোমাকে খুন করব
তোমাকে খুন করব...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29022314 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/29022314 2009-10-08 11:03:49
অপ্সরী শুধু অবয়ব তার;
চেয়ে ছিল আমার পানে-
পলকহীন।
আমি তার মন দেখিনি
দেখেছি বিস্তার-
ওহ!
কী অসামান্য-
কী অনন্ত বিস্তৃত সে!
আমার সমস্ত জগৎটাকে
ঢেকে ফেলে এক নিমিষে...

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রি আসে,
পেরিয়ে যায় দ্বিপ্রহর-
শিউরে উঠি ভোরের আলোয়;
তবু
চেয়ে থাকে সে
অবিরাম মনের ভিতর-
সেই জোছনাধোয়া বৃষ্টি
আর
স্নানরতা অপ্সরী সেই...
ছেয়ে ফেলে আমার দিনরাত্রি।

আমার মনের ভেতর,
দুচোখের স্নায়ুতে,
হৃৎস্পন্দনের দ্রুতিতে,
কিংবা নিদ্রার শান্তি বা অশান্তির
প্রতিটি মুহূর্তে-
জোছনার বৃষ্টিতে অবিরাম
গলে পড়ে রূপ অশরীরী;
আমি তার ডাক শুনি-
জোছনাধোয়া সেই অপ্সরী...
সে ডাকে সাড়া দেওয়া
হয়নি আমার
ছোট্ট রাতটা দেয়নি সুযোগ-
বড় হিংসুটে সে।
তবু রেখে গেছে স্মৃতি, সেই-
তীব্র ব্যথার মত!
অসহ্য যন্ত্রণার মত...

তাই জাগিয়ে তুলি তাকে-
সেই ব্যথাটাকে,
বুকের দেয়াল খুঁড়ে
বানাই এক স্নানাগার-
তারপর পালা অপেক্ষার
অপ্সরী,
কবে আসবে
তুমি, এই স্নানঘরে?
আগের মতই সব-
পার্থক্য শুধু দেয়ালটায়;
জোছনার নরম আলোর বদলে
এখানে চুঁইয়ে পড়ে
তাজা রক্ত আমার!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28990159 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28990159 2009-08-07 14:52:44
গলাটিপে খুন করি না জন্মানো ভালবাসাগুলোকে... কতটা পুড়লে খাঁটি হয় জানো?
চাইনা আর কারো রক্তক্ষরণ,
গলাটিপে খুন করি না জন্মানো ভালবাসাগুলোকে।
নির্বিকার চেয়ে দেখি ওদের অন্তিম আর্তনাদের মুহূর্ত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28980970 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28980970 2009-07-20 16:53:46
গোলাপ: রক্তে- স্মৃতিতে- নেশায়- ভালবাসায়... খুব বেশি যে ভাল লাগে, তা না। খুব যে খারাপ লাগে, তাও না।
যে মানুষটা ফুলগুলো দিয়েছে তার জন্যে যে খুব ভালবাসা জাগে, তাও না। তাহলে ঠিক কী ঘটে তখন?
কয়েকদিন ধরেই ব্যাপারটা ঘটছে। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে- কিন্তু নিজে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না সেটা কী। ব্যাপারটা ক্লিয়ার হল শ্যাগি আসার পর।
ও বসেছিল নাবার বেডে, আমি আমার বেডে। হঠাৎ সেই ব্যাপার। আমি আপনমনেই বলে উঠলাম- চা খেতে ইচ্ছা করছে দোস্ত!
তখন রাত অনেক। চা খাবার উপায় নেই। রুমে টি-মেইকার রাখি না... ওটার চা খেতে ভাল লাগে না আমার। কিছুক্ষণ পর টের পেলাম আমি খুব কাছে থেকে ফুলগুলো শুঁকছি। আর শ্যাগি বিড়বিড় করতে লাগল- তুই যে কি করস...
ব্যাপার হল- কদিন আগে একজনের দেওয়া মালা খোঁপায় জড়িয়ে হলে ফিরেছি। তারপর আবার এখন এত বড় ফুলের তোড়া। অনেকের চোখে লাগে। আমিও একটু রঙ্গ করি।
আমি আবার বললাম- দোস্ত এত দারুণ সেন্ট এই ফুলগুলোর... চা খেতে ইচ্ছা করছে খুব।
শ্যাগি বোধহয় শোনেনি কথাগুলো। কস্ট এস্টিমেইশানের পেইন নিতে নিতে বেচারার মাথা খারাপ তখন। আমার কাজ করতে ভাল লাগছিল না।
বিষয়টা অ্যানালাইজ করতে শুরু করলাম- গোলাপের ঘ্রাণ আমার চায়ের নেশা জাগায় কেন? গোলাপের সাথে চায়ের কী সম্পর্ক? নানান রকম থিওরি আসছে মাথায়। ফুল এর সাথে পানীয়, নানা রকম লিটারেচার, শারাব আর সাকি, নজরুল থেকে রুমী ভাবতে থাকি।

একসময় হঠাৎ মনে পড়ে যায় ব্যাপারটা। মনে পড়ে নিজেই খুব অবাক হই-
আরে! এত অভ্যস্ত ছিলাম এটায়, অথচ ভুলে গেলাম কি করে?

তখন আমি ছোট। আমার ছোট ভাইবোনগুলো আরো ছোট। একজন তখনও পৃথিবীতেই আসেনি। সেসময় এই বাংলাদেশটা কেমন তা জানা হয়নি আমার। তবে যে দেশটায় থাকতাম তার জন্য ভালবাসার ভাগটা কম না বেশি, এটা বুঝতে পারি না। যেখানে জন্ম সেখানটায় বলে নাড়ির টান হয়... আর কি হয় জানি না। তবে ওখানকার মানুষ ফুল ভালোবাসে। আমিও বাসতাম। আমার বাবাও বাসত। আমাদের অনেক ফুলের গাছ ছিল। কিন্তু আমার সবচে প্রিয় ছিল বাসার সামনের গোলাপের ঝোপ দুটো।
ওগুলোতে বাবা কখনো ইন্সেক্টিসাইড দেয়নি। তাই পার্কের বিশাল বিশাল মানুষের মাথা সমান গোলাপের ধারে কাছে পৌঁছুতো না ঐ ফুলগুলো। তবে সেটা শুধু দেখতে।
আমাদের ছোট্ট ছোট্ট গোলাপি গোলাপগুলোয় ঘ্রাণ হতো মাতাল করা। মাঝে মাঝে ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে শুঁকতাম আমি। মা বলতো এত কাছ থেকে নাকি ফুল শুঁকতে হয় না। তবু ভাল লাগত।
আর হঠাৎ হঠাৎ বাইরে না গিয়েও, বিছানায় শুয়েও সেই ঘ্রাণটা পেতাম। বিকেলে ঘুমের অভ্যাস ছিল না কোনদিন। লাফ দিয়ে উঠে পড়তাম- কারণ, বাবা তখন চা বানিয়েছে। চা বানিয়ে বাবা সবাইকে ডাকত। তারপর বড় টি পটের ভিতরে অনেকগুলো গোলাপের পাঁপড়ি ছেড়ে দিত। অদ্ভুত সুন্দর ঘ্রাণ হতো তার। ভাল চায়ের একটা সুন্দর ঘ্রাণ আছে। আমার বাবা দুটো জিনিসের ব্যাপারে খুব শৌখিন। এক হল বই, আরেকটা হল চা। বাবা বেস্ট কোয়ালিটি চা কিনত।
আর অনেক যত্ন করে চা বানিয়ে মাকে ডাকত- শুনছ, চা খাবে নাকি? বাচ্চারা...
এটা অবশ্য অনেক আগের কথা।
কিন্তু তারও আগে, যখন ফিডারে দুধ খেতাম, বাবা ফিডারে করে কড়া লিকারের লাল চা খাইয়েছে আমাদের। মা মানা করত। কিন্তু বাবা কি আর শোনে! সব ছেলেমেয়ে বড় হয়ে আঁতেল হবে- সেই ব্যবস্থা জন্মের পর থেকেই নিতে হয়! এইভাবে চা আর গোলাপ এক হয়ে রক্তে মিশল। সাইকোলজির ভাষায় বোধহয় এটাকে বলে কন্ডিশান্ড রিফ্লেক্স।
লিখতে গেলে গোলাপ আর চা- পাশাপাশি শব্দ দুটো বেখাপ্পা। কিন্তু যারা স্বাদটা পেয়েছে আর যারা পায় নি, তাদের ফিল কি এক হতে পারে?

চায়ের নেশা কখন হতে পারে? চায়ের নেশা কথাটার অর্থ যে কী, এইভাবে চা না খেলে কেউ কি বুঝতে পারে? কয়জন ফিডারে করে গোলাপের ঘ্রাণওয়ালা চা খেয়েছে? গর্বের ব্যাপার বৈকি!

গোলাপ ফুল নাকি আমাদের নবী(স) এর খুব প্রিয় ছিল। কথাটা কতদূর সত্যি জানি না। তবে শুনতে খুব মানানসই লাগে। এত মৃদু, এত স্নিগ্ধ অথচ এত মধুর... এটাই বোধহয় সবচে মানায়।

শেই বিকালগুলো যে এত অদ্ভুত সুন্দর ছিল! তারপর অনেক দিন হয়ে গেছে। গোলাপের দেশটা ছেড়ে চলে এসেছি। এদেশেও অনেক ফুল। তবু গোলাপ আমাকে ঐখানে নিয়ে যায়। আবার কখনো টানে চায়ের কাছে। চায়ের ঘ্রাণ মনে করায় বাবার কথা। এখনকার বাবা না। সেই আগের বাবা। যখন আমি ছোট্ট ছিলাম। ভীষণ আদুরে ছিলাম। যে বাবার কোলে উঠে বাবাকে মারতে মারতে নিজেই হয়রান হয়ে কাঁদতে শুরু করতাম, সেই বাবার কথা। আর মায়ের কথা। যার বয়স আরো ষোল বছর কম ছিল। যাকে পৃথিবীর সবচে সুন্দর মহিলা মনে হত। যার গান না শুনলে ভাল লাগত না একটা দিন...
মাঝে মধ্যে সেসময়কার মাকে ভিজুয়ালাইজ করি। মায়ের একটা পার্পল জর্জেট শাড়ি ছিল। আর ছিল কোমর সমান লম্বা ঘন কালো চুল। বাবা আসার একটু আগে মা শাড়িটা পরতো। অন্য শাড়িগুলোর কথা তেমন মনে নেই। বেশির ভাগ অবশ্য স্কার্ট পরতেই দেখতাম বাসায়- যে দেশের যে চল।
সেই শাড়িটা পরে একটা লম্বা বেণী করত মা। আর দিত চোখে কাজল। মায়ের সাজ বলতে এই। তারপর ঐ দেশের সাদা চামড়া আর সোনালি চুলের মহিলাদেরকে নস্যি লাগত আমার শ্যামলা বাঙালি মায়ের কাছে। এমনকি পায়ের যোগ্যও না!
আর তারপর সন্ধ্যে। বাবা আসত। আমার জন্য কিছু না কিছু আনতেই হত... আর সেই চা। কাঁচের মগে খেতাম বাবার কোলে বসে। ফেলে দিতাম বেশিরভাগ। চিনি নিতে নিতে মগ ভরে ফেলতাম। শেষে ফেলে রেখে স্বস্তি। টি পটের ভিতরে হাত ঢুকাতাম অনেক কষ্টে- উদ্দেশ্য গোলাপের পাঁপড়ি তোলা। কারণ এই ছাড়া ভুলেও ফুল ছিড়তাম না আমরা কেউ। ঐ পাঁপড়ি গুলো আমার বই এর ভিতর রেখে দিতাম। পড়তে না পারলে কি হবে? বাবা অনেক অনেক বই কিনে দিত। আর রং পেন্সিল। দাগিয়ে সব পাতা ভরতে চাইতাম। কিন্তু পারতাম না- ছোট্ট ছোট্ট ছিল তো হাতগুলো...ক্লান্ত হয়ে পড়ত খুব তাড়াতাড়ি।

এইসবের পর অনেক সময় পার হয়ে গেছে। এখনও বাবা আছে। এখনও মা আছে। এখনও বাবা চা বানিয়ে সবাইকে ডাকে। কিন্তু বদলে গেছে বাবার মেয়েটা। বাবার কোল আর গোলাপ ঝোপ পেরিয়ে তার পৃথিবী হয়ে গেছে অনেক বিস্তৃত। এখন বাবার সাথে মতের পার্থক্য হলে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয় সে। কেউ কাউকে জোর করে না... ভালবাসার প্রকাশটাও চাপা পড়ে বয়স আর ব্যক্তিত্বের সংঘাতের নিচে।
মাঝে মাঝে শুধু লুকিয়ে কাঁদে, আর এক ছুটে চলে যায় সেই দেশে- যেদেশে কোনদিন বড় হয় না কেউ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28975665 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28975665 2009-07-09 12:37:35
Do You Remember The Time, When We Fell In Love? কথাটা প্রথমে ঠিক ভেতর পর্যন্ত যায় না মোনার। একটু পরেই মোটামুটি চিৎকার দিয়ে ওঠে ও-
কী বলিস? যাহ! মিথ্যা কথা
-আরে আজব! নিউজে দেখলাম।
-কী বলিস দোস্ত?
- হুঁ, অসুস্থ ছিল তো- আর এত সার্জারি করলে মানুষ বাঁচে?
- তাই বলে এত কম বয়সে? কী বলিস তুই? ঠাট্টা করছিস না তো?
- আমি তোর বেয়াই লাগিনি?
- উফফ...
এরপর আর কি বলবে ভেবে পায় না মোনা। কাজের কথা কিছুক্ষণের মত মাথা থেকে চলে যায়। অটোক্যাডের উইন্ডোটা কী ভেবে মিনিমাইজ করে রাখে। জ্যাকসনের গান খুব বেশি নেই ওর কালেকশানে। যা আছে তাও শোনা হয় না। তার যুগ তো শেষ। লেটেস্ট হিটস ছাড়া খুব একটা গান শোনে না মোনা।
জ্যাকসন ফোল্ডারটায় ঢুকে অনেকক্ষণ বসে থাকে মোনা... লোকটা সত্যিই চলে গেল? কি মনে করে আঁখিকে ফোন করে ও। মাইকেল জ্যাকসন যে সত্যি মারা গেছে এটা নিশ্চিত হয় ওর মুখে শুনে। মোনার অনেকদিনের একটা স্বপ্ন ছিল জ্যাকসনের কনসার্টে যাওয়া, স্বপ্নটা পূরণ হয় নি- আর হওয়ার সব পথই বন্ধ হয়ে গেল এখন।
প্রতিভাধর ভীষণ মেধাবী এই লোকটা তার সমস্ত মেধা আর জাদুকরী নিখুঁত কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীটা ছেড়ে গেল। মাইকেল জ্যাকসন মোনার কেউ না, তবু মোনার মন কেমন করতে থাকে...
খুঁজে খুঁজে ওর খুব পছন্দের একটা গান বের করে ও-One day in your life
এই গানটা ছোটবেলায় প্রায়ই শুনত ও । মনটা কেমন উদাস হয়ে যায় ওর।
জ্যাকসনের রেকর্ডেড ভয়েস বলতে থাকে-Just call my name/ And I’ll be there…
চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে মোনার...হায়রে! যে চলে গেছে, ডাকলেই কি তাকে ফিরে পাওয়া যায়? মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল ওর।
কাজের সময়ে মন খারাপ হতে দেওয়া যাবে না- গানটা বন্ধ করে দিতে চায় মোনা। কিন্তু পারে না। লোকটা মায়াবী করুণ কণ্ঠে বলে যেতে থাকে- I will stay in your heart…. I will stay in your heart….
অজান্তেই মোনার চোখ ভিজে ওঠে- কেউ চলে যাওয়ার পরও কেন স্মৃতিগুলো রয়ে যায়?

***
গা ঝাড়া দিয়ে বসে মোনা। একটু দ্রুতলয়ের কোন গান শোনা দরকার- কাজে কিছুতেই আর মন লাগছে না। জ্যাকসনেরই আরেকটা গান প্লে দিল ও-
Do you remember the time,
When we fell in love?
নাচের গান-শুনে মন হালকা হওয়া উচিত, কিন্তু কেন যেন গানটা আরও ভেতরে ঢুকে পড়ে মনটাকে আরও ভার করে তুলছিল... গানের কথাটা আরেকবার চিন্তা করে মোনা... The time, when we fell in love… তাইতো! কবে যেন প্রেমে পড়েছিল মোনা... কবে যেন?
উফফ... অস্থির হয়ে ওঠে মোনা।
কবে ছিল সেটা? সবই বোধহয় ভুলে গেছে!
জ্যাকসন সেই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় আবার- Do you remember?
একটু একটু করে মনে পড়তে শুরু করে মোনার। একটা ছেলে ছিল- খুব সাধারণ একটা ছেলে। ছেলেটা বন্ধু ছিল ওর। দুজনে অনেক আড্ডা দিত। অনেক ঘুরত আর অনেক ঝগড়া করত!
তারপর যেন কী হল...
ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। তখন ওয়ার্ল্ডকাপ দেখার জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে ইউনিভার্সিটি বন্ধ ছিল অনেকদিন। স্টুডেন্টদের বিবাদ চলছিল কর্তৃপক্ষের সাথে, আর মোনার চলছিল তার বন্ধুর সাথে...
দিনটা ছিল মোনার জন্মদিন। ক্যাম্পাসে আসতে বিকাল হয়ে গেছিল ওর। বন্ধুরা সুর করে বার্থডে সং গেয়ে উইশ করেছিল ওকে। একটা সারপ্রাইজ কেকও ছিল। এই গোলমালের সময় ওর জন্যই সবাই এসেছিল। কিন্তু কোন উইশ করেনি জিসান। একটু দূরে একটা গাছে ঠেস দিয়ে বসে ছিল সে। দিন সাতেক যাবৎ তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল ওর সাথে।
ঝগড়া তো প্রায় হয় ওদের। এবারই একটু বেশিরকম... তা হোক, তাই বলে জন্মদিনে জিসান কথা বলবে না ওর সাথে! অভিমানে ভেতরে ভেতরে ফুলতে থাকে মোনা। কিন্তু প্রকাশ করে না। সে কেন যেচে কথা বলতে যাবে? আর আজ তার জন্মদিন! মন খারাপটাকে রাগের রূপ দিয়ে সবার সামনে আরেকবার জিসানের উপর ঝাল ঝাড়ে মোনা। সবাইকে বলে- দেখলি তো তোরা, ওর কত ছোট মন! আজকে আমার জন্মদিন আর ও উইশ করে নি। এর সাথে কি কথা বলা উচিত? আর তোরা আমার দোষ দিস। ভাল হয়েছে আসে নি। আসলে আমার মুড নষ্ট হত। দূরে গিয়ে মরুক।
সবগুলো কথাই যে জিসানের কানে গিয়েছে- এটা বুঝল মোনা। তারপর হাঁটা শুরু করল। বন্ধুদের সাথে বড় আড্ডা কাল হবে। আজকে বাসায় যেতে হবে তার। সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। চারপাশ থেকে পাখিদের কিচিরমিচির মনটাকে আরেকটু খারাপ করে দিচ্ছিল ওর- ছেলেটা সত্যি কথা বলল না তার সাথে! অভিমানে এবার চোখ ভিজে উঠতে চাইল মোনার। নিজেকে সংবরণ করতে মাটির দিকে তাকিয়ে জোরে হাঁটা শুরু করল ও। এলোমেলো ভাবনা, ভাল আর মন্দ লাগা ক্যাম্পাসটার নির্জনতার সাথে মিশে সন্ধ্যাটাকে অদ্ভুত করে তুলছিল।
তখন শহীদ মিনার ছাড়িয়ে গেছে মোনা। হঠাৎই টের পেল, কে যেন ওর হাত টেনে ধরেছে পেছন থেকে! চমকে উঠে হাত ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে মোনা। পারে না। শক্তিশালী মজবুত একটা হাত- নিশ্চয় কোন ছেলের... আবার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে মোনা। এমনিতেই ক্যাম্পাসে তেমন কেউ নেই। ভয় পেয়ে যায় মোনা। একটা চিৎকারও দিতে চেষ্টা করে বোধহয়। কিন্তু কোন আওয়াজ বেরোয় না গলা দিয়ে।
এবার সামনে এসে দাঁড়ায় জিসান। হাতে টকটকে লাল গোলাপের বিশাল একটা তোড়া।
ভয়টা বিস্ময়ে রূপ নেয়-হতভম্ব হয়ে যায় মোনা। এবারও গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোতে চায় না ওর।
তু...তুই! এটা... মানে... অনেকক্ষণ পর এটুকুই বের হতে পায় ওর মুখ দিয়ে।
-হ্যাপী বার্থডে- বলে মিষ্টি করে হাসে জিসান।
অদ্ভুত ভাললাগায় চারপাশটা ছেয়ে যায় মোনার। পৃথিবীটা হঠাৎই যেন রং বদলে ফেলে। আসন্ন সন্ধ্যাটা গোলাপের সুবাসে মাতাল হয়ে ওঠে আর ফুলগুলো থেকে কিছুটা রং ক্ষণিকের জন্য চেয়ে নেয় আকাশটা...
তোড়াটা এগিয়ে দেয় জিসান- যত বছর তত দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মন ভরল না- তাই... বলতে বলতে আবার কেমন একটু লজ্জা পায় ছেলেটা।
তোড়াটা নিতে নিতে একটু ঝুঁকে পড়ে মোনা-বেশ ভারি। মুখ তুলে ও জিজ্ঞেস করে- তাই কী?
-তাই একশো- বলে আবার একটু লাজুক হাসে জিসান।
-একশো! চমকে ওঠে মোনা। তোড়াটার দিকে আরেকবার তাকায় সে, অনেক লালের মাঝে দশটা সাদা গোলাপ... তোড়াটা মুখের কাছে নিয়ে ফুলগুলো গালে লাগায় মোনা। ঘ্রাণ শুঁকতে শুঁকতে আবেশে চোখ বুঁজে ফেলে। দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে সে তোড়াটাকে। ওর বুকের ভিতর জমা একরাশ অভিমান আর ক্ষোভ গলে গলে পড়তে থাকে ফুলগুলোর গায়ে।
সেদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে জিসান। ক্ষণিকের জন্য ফুলগুলোকে খুব হিংসে হয় ওর। তাকিয়েই থাকে সে।
অনেকক্ষণ হয়ে গেছে। মোনা ঝুঁকেই আছে ফুলগুলোর উপর। ওর মুখটা দেখাই যাচ্ছেনা প্রায়।
-চল আজকে রাতদশটা পর্যন্ত ঘুরব।
উত্তর দেয় না মোনা। ফুলগুলোকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে সে।
-অ্যাই, কী হল? শোন, I’m sorry… আরও আগেই তোকে উইশ করা উচিত ছিল। বলতে বলতে আরেকটু কাছে গিয়ে দাঁড়ায় জিসান। কি করবে বুঝতে পারছে না সে...
হঠাৎই ফুঁপিয়ে ওঠে মোনা।
কাঁদছে মেয়েটা! একরাশ আবেগের তীব্র ধাক্কায় সংযমের সমস্ত বাঁধ ভেঙে যায় জিসানের। কিছু বোঝার আগেই আবিষ্কার করে মোনাকে জড়িয়ে ধরে আছে ও।
জিসানের বুকে মুখ গুঁজে পাগলের মত কাঁদতে থাকে মোনা। একশোটা গোলাপ পড়ে থাকে পথের উপর।

***
কি ব্যাপার, একই গান কতবার শোনো?- রুমমেটের কথায় সংবিত ফেরে মোনার।
দুটো গানই রিপিট হচ্ছিল বারবার।
-সরি, বন্ধ করে দিচ্ছি। তুমি তো আবার মাইকেল জ্যাকসনকে দেখতে পারো না...
-হ্যাঁ। তা পারি না। মানুষ খারাপ হলে যত ভাল গানই করুক-
-প্লিজ, এই নিয়ে তর্ক করতে ভাল লাগছে না! মেয়েটাকে থামিয়ে দেয় মোনা। এখন কোন টপিক নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তর্ক করার মত মুড নেই ওর।
-বাপরে! মাইকেল জ্যাকসনের জন্য এত দরদ!
-উঁহু- মাথা নাড়ে মোনা, জ্যাকসনের জন্য না।
-তাহলে? কার জন্য?
-জানি না...
গান বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। তবু মোনা শুনতে পায়- I will stay in your heart….
কে বলছে কথাটা, ঠিক বুঝতে পারে না সে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28974460 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28974460 2009-07-06 22:35:36
সন্ধিপত্র অসহ্য আজ লাগছে ভীষণ
চলছে পিষণ
যাঁতাকলে অহর্নিশি।
দরোজাটা খুলে দেখি
পালিয়েছে চমকে গিয়ে
তোমার দেয়া
মস্ত বড় শুক্লা শশী!

আমার জন্য আজকে রাতে
দিতে হবে
একটা কিছু দিতেই হবে তোমার;
মনটা আমার মানছে না যে
হচ্ছে না কাজ
একটা ফোঁটা,
শুধু চলছে বেড়ে ব্রেনের টেম্পারেচার।

বাঁচোখটায় ভীষণ ব্যথা
ঢুকেছে সুপারগ্লু;
ভ্যাপসা গরমে সারারাত খেটে
বোনাস পেলাম ফ্লু।

এই সব নিয়ে ডিজাইন করে
আছে নাকি কোন শালা?
শুনছ নাকি বলছি কী আমি,
হয়ে গেলে নাকি কালা?

ভাল্লাগছে না একদম কিছু
প্লিজ চলে আস জলদি
ঝগড়াগুলো তুলেই নিলাম
করছি আমি সন্ধি।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28965595 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28965595 2009-06-16 22:28:25
ডায়েরি নাও হতে পারে... আমি মিষ্টি হেসে বললাম- অর্চির কাছে এসেছ তোমরা?
মেয়ে দুটো সাথে সাথে কোরাস গেয়ে উঠল- আপু আমরা আপনার কাছে এসেছি। আমাদেরকে তৃণা পাঠিয়েছে। আপনি নাকি হাত দেখতে পারেন?
শুনে পিত্তি জ্বলে গেল। কোথায় বসেছি একটা কিছু লিখব- একাকিত্বের নোনা স্বাদটা একটু একটু করে চেখে দেখব আর গোটা গোটা অক্ষরে বন্দী করে রাখব দূর ভবিষ্যতের কোন এক বিকেলে রোমন্থন করার জন্যে, আর এখন কিনা দুই পিচ্চি এসে হাত দেখানোর আবদার করছে! একেই বলে খ্যাতির বিড়ম্বনা!!
উপসস! আবার এখন দরজায় নক!!
_________________________________________________________________________________
*** তৃষা আপু এসেছিল। মাত্র গেল। তিনটা বাজে প্রায়।
যা হোক যেটা বলছিলাম...
বাধ্য হয়ে কাষ্ঠ হাসি হেসে মেয়ে দুটোকে রুমে ঢুকতে দিলাম। প্রায় আধাঘণ্টা যাবৎ তাদেরকে কনভিন্স করানোর চেষ্টা করলাম যে আমি হাত দেখতে জানি না। ভুংচাং কথাবার্তা বলি। কিন্তু তারা নাছোড়বান্দা। একটা ব্যাপার বুঝলাম যে সত্য বললে মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না!
সুতরাং ওদের হাত দেখে দিতে হল। যা যা মনে ছিল আর যা যা মনে ছিল না- মিলিয়ে মিশিয়ে উপদেশমূলক কথাবার্তা বলে দিলাম। খুশি হয়ে মেয়েদুটো চলে গেল।
গতকাল সন্ধ্যায় তানভীর আর শামীম এসেছিল আমার সাথে দেখা করতে। এই দুটা আমার কাজিন কাম বেস্ট ফ্রেন্ডস। ঝাড়া তিনঘণ্টা আড্ডাবাজি করলাম। তারপর তানভীরের লাইফের একটা করুণ ঘটনা শুনে মন খারাপ নিয়ে হলে ফিরলাম।
ফেরার পর পর্ণার ফোন পেয়ে স্ট্রাকচার অ্যাসাইনমেন্টের জন্য দৌড়ালাম হ্যাপীর রুমে। পরের রুমেই চলছিল অমির ডান্স ক্লাস(!)। জুনিয়র মেয়েদেরকে র‌্যাগের নাচ শেখাচ্ছিল সে হিন্দি গানের ভিডিও দেখে দেখে। হ্যাপীও ওখানেই ছিল।
হ্যাপীর রুমে গিয়ে ডিজাইন নিয়ে দুচার কথার পর স্ট্রাকচারের প্রশ্নগুলো নিয়ে বের হলাম। পাশের রুমেই বসেছিল পরশু রাতের সেই মেয়েটা- কাঁকন! আমাকে দেখে বিশাল হাসি দিল। আমি পাল্টা হাসি দিয়ে ভাগতে চাইছিলাম। সাথে সাথে ওর বান্ধবীর গলা- আপু আমার হাত দেখে দেন।
পালানো গেল না। বসলাম। কাঁকন মেয়েটা বলল সে নাকি আমার ফ্যান হয়ে গেছে! চুলের জন্য গরম লাগছিল। খোঁপা বাঁধার চেষ্টা করছিলাম-কাঁকনের বান্ধবীর এক্সপ্রেশান দেখে মাঝপথে হাত আটকে গেল। বললাম- কি ব্যাপার? ও মোটামুটি চিৎকার করে বলল- আপু-উ-উ-উ-উ আপনার এতো-ও-ও-ও-ও চুল!
সাথে সাথে কাঁকন আমার গুণাবলির একটা বর্ণনা দিয়ে ফেলল।
এর মধ্যে রুমের ভেতর দশ-বারোজনের বিশাল ক্রাউড হয়ে গেল। সবাই হাত দেখাতে চায়। বেডে জায়গা কম। দুজন দাঁড়ানো। তিনজন তো সিরিয়াল দিয়ে ফ্লোরেই বসে পড়ল।
কেউ কেউ খুব অবিশ্বাস নিয়ে আগেই আমাকে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য রেডি। কেউ আবার দেখলাম গভীর শঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে আছে। আমার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধির তো অভাব নেই- কারো হাত অনেকক্ষণ ধরে নাড়াচাড়া করে বলি- তোমার স্কিন তো খুব সফট! ধরতে দারুণ লাগে। কাউকে বলি তুমি তো এক্সট্রিমলি সেক্সি। তখন বান্ধবীরা তাকে নিয়ে পড়ে- আসলেও তাই নাকি? কখনো তো বলিস না... ওর সাথে কি করিস? এটসেটরা...
আবার গম্ভীর হয়ে সাবধান থাকতে বলি- জুনিয়রদের সামনে একটা বড় আপু ভাব!
এইসব করেও অবশ্যি ভাগতে পারলাম না।
হ্যাপী তার প্রশ্নগুলো সরিয়ে রাখল। হাত না দেখলে নাকি দেবে না আমাকে। যন্ত্রণার কি শেষ আছে?!
শেষপর্যন্ত সবারই হাত দেখতে হল।
রুমে ফিরে দেখলাম সোয়া বারোটা বাজে। আগামীকাল খুব ক্লোজ একটা মানুষের বিয়ে। তাকে আমি সময় সময় অস্বীকার করি। কিন্তু পেরে উঠি না নিজের সাথে। এসে মোবাইল চেক করলাম- সে ফোন করেছিল বিশ মিনিট আগে। সাধারণত এই রকম সময়েই কল করে সে। মিস করেছি কলটা। কল ব্যাক করলাম- ফোন বন্ধ... জানতাম বন্ধ করে রাখবে। রাগ হতে লাগল। মনে মনে জুনিয়রগুলোর পিণ্ডি চটকালাম। ওদের রুমে বসে থাকার সময় বার বার মনে হচ্ছিল সে ফোন করবে আজকে। কেন যে একটু আগে চলে এলাম না... নিজের উপরও রাগ হচ্ছিল। কিসের জন্য যে মন খারাপ করি...

আজকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্ট্রাকচার অ্যাসাইনমেন্ট করেছি। মুডটাই নষ্ট হয়ে গেছে এই করে।
ডিজাইন নিয়ে হ্যাঙ হয়ে আছি। কালকে ৮০টা ফ্লোর প্লেইট কেটেছি। কাটার পর মনে পড়ল যে ওগুলো একটু চেইঞ্জ করেছিলাম ড্রইং এ। সো আবার কাটা লাগবে এই ৮০ টা ফ্লোর। মেজাজ খারাপ হয়ে ব্রেইনস আউট হয়ে যাওয়ার জন্য এটুকুই বোধহয় যথেষ্ট। আর তার উপর কালকের ব্যাপারটা... আর তারও উপর এই ফালতু স্ট্রাকচার অ্যাসাইনমেন্ট!
অবশ্য অনেকদিন পর একটা ফ্রেন্ডের ফোন পেয়ে ভাল লাগছিল কিছুটা। কিন্তু কেন যেন সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে নি...
এদিকে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করার পর দেখি কানিজ আপু এসেছে অনিন্দিতা আপুকে নিয়ে- উদ্দেশ্য হাত দেখানো!
হায়রে কপাল...
এই করতে গিয়ে ডাইনিং এ যেতে দুটা বেজে গেল। সুতরাং গিয়ে তরকারি পেলাম না। আবারও ডিমভাজি দিয়ে খেয়ে চলে আসতে হল। খানিকটা কাঁঠালও ছিল অবশ্য- মানুষ নাড়াচাড়া করে এমন ভর্তা বানিয়ে রেখেছে যে তাকাতেই অরুচি হচ্ছিল। খেলাম না।
ডিজাইনে আর মনই দিতে পারছি না।
ইচ্ছা করছে বিশাল একটা হ্যামার দিয়ে জঘণ্য ৮০তলা অফিসটা ভেঙে চুরমার করে ফেলি...
কিন্তু কেন যেন এই পড়ন্ত দুপুরটা উদাস করে দিতে চাইছে আমাকে।
পাখির ডাক শুনছি না যদিও, কারণ কাককে পাখি বললে অনেকেই কষ্ট পায়। কাক নিচু জাত- নমঃ শূদ্র। ওদের পাখি বলাই ঠিক না। তবু কেন যেন আমার খারাপ লাগে না- অভ্যস্ততাই আসল ব্যাপার।
একটা অদ্ভুত ব্যাপার। সকালবেলা এত কাক ডাকে যে ঘুমানো যায় না। সব কাকই মোটামুটি একভাবে কা কা করে। কিন্তু একটা কাকের ডাক আর সবার থেকে ডিফরেন্ট। তার ডাকটা আমি চিনি। সে বেশ একটু গ্যাপ দিয়ে দিয়ে অনেক জোরে আ আ করে। একবার মনে হয়েছে সে হয়তো লিডার। সবার কথার পরে সে ডিসিশান দেয়। আবার মনে হয় সবতাতের তার দ্বিমত। তাই সবার থেকে আলাদা করে বলে। অথবা হয়তো কিছুই না। তার স্বরই এমন। এই কাকটা মনে হয় অন্যগুলো থেকে আলাদা... একদিন তো সে আমার জানালায় এসেই বসেছে (যদিও আমি নিশ্চিত না যে সে-ই কিনা)!
এই ব্যাপার নিয়ে অবশ্য সৌরভের সাথে একবার লম্বা তর্ক হয়েছিল- মানে কাক কা কা করে ডাকে নাকি আ আ করে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28963668 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28963668 2009-06-12 15:59:00
তৃষ্ণা কাজের জন্যে বেঁচে থাকা নাকি বাঁচার জন্যে কাজ?- প্রশ্নটা শিহাবের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে নীলা লক্ষ করে, সোফায় বসেই ঘুমাচ্ছে ছেলেটা।
ওঠো, খাবে না নাকি?- ওকে একটা ধাক্কা দিয়ে আবার টেবিলে খাবার আনা শুরে করে নীলা। ভেবেছিল এইটুকু শিহাবকে দিয়ে করাবে। রান্নায় সামান্য সাহায্যও করে না সে। কথাটা ভেবে মুখ বিকৃত করে নীলা। স্টুডেন্ট লাইফে বিয়ে করার মত ঝামেলা বোধহয় আর নেই।
অবশ্য সমস্যা সেটা না- সমস্যা ছেলেদের মানসিকতায়। কপাল কুঁচকে শিহাবের দিকে তাকায় সে।
নীলা দেখতে মন্দ না। শিহাব ওর তিন নাম্বার বয়ফ্রেন্ড। হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করেছে সে মেয়েটাকে। কিন্তু ভালবাসার ছিঁটেফোটাও আজকাল আর টের পায় না নীলা। শুধু প্রয়োজনের সময়টায় নীলার কাছ ঘেঁষে ছেলেটা। ছেলেরা বোধহয় সব একই রকম।
এইসব ভাবতে ভাবতে বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীলা। ফিফথ ইয়ারটা অস্বাভাবিক কষ্টকর হয়ে গেছে ওর জন্য। চাকরিটা ছেড়ে দেবে নাকি দু তিন মাস ব্রেক নেবে এইসব চিন্তায় আবারো কপালে ভাঁজ পড়ে ওর।
শিহাব তখন আড়মোড়া ভাঙছে।
বেইবি, রান্না শেষ নাকি সোনা? দাঁড়াও আসছি- ঘুমজড়ানো গলায় অনেকটা আদর ঢেলে দিয়ে কথাগুলো বলে শিহাব।
উত্তর দেয় না নীলা।
মুখ ধুয়ে এসে শিহাব দেখে ওকে রেখে একাই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে নীলা।
- আরে, মন খারাপ নাকি জানু? আসো খাইয়ে দেই। শিহাব ওর কাঁধে হাত রাখে।
- না থ্যাংকস। হাতটা সরিয়ে দেয় নীলা।
শিহাব কিছু না বলে খাওয়া শুরু করে। খানিক পর সে লক্ষ করে, নীলা খাচ্ছে না কিছু। আসলে সে খাবার গুলো নাড়াচাড়া করছিল অনেকক্ষণ ধরে।
- শোনো, কাল মা আর ছোট আপু আসবে। তুমি একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরতে পারবে না?
- নাহ, অনেক কাজ আছে কালকে। উনারা শুক্রবার বিকালে আসলে তো হয়।
- ওদের প্রোগ্রাম আছে তো।
- তাহলে তুমি ম্যানেজ কোরো। আমার তো দশটা বাজবে...
- প্রতিদিন দশটা বাজবে কেন? এত কী কাজ কর তুমি? আচ্ছা জবটা ছেড়ে দাও না কেন? আমার কি টাকার অভাব আছে?
- তুমি তো জানো যে আমার ক্যারিয়ারের জন্য দরকার এটা। প্লিজ তুমি কোনভাবে ম্যানেজ কোরো।
- রনি ভাইয়ের বাসায় পার্টি লাগলে তো ঠিকই টাইম হয় তোমার। আমি এতকিছু বুঝি না। তুমি চলে আসবে ব্যস। আর শোনো, উনার ফার্মে তোমার থাকাটা আমার ভাল লাগছে না। জবটা ছেড়ে দেবে তুমি।
- স্যরি। পারছি না। ঠাণ্ডা গলায় উত্তর দিল নীলা।
খাবার রেখে উঠে পড়ল সে। মাঝেমধ্যেই রনি ভাইকে নিয়ে ওকে খোঁচাখুঁচি করে শিহাব। কোন ভ্যালিড রিজন না থাকলেও করে। ছেলেদের আসলে এটা স্বভাব। কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য মাঝেমধ্য ধমকা ধমকি করে তার সুপিরিয়রিটি বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

তারিক এর কথা মনে পড়ল। রবিন এর কথাও। সবাই ওকে ডমিনেইট করতে চাইত। নীলার এটা সহ্য হয় না। রক্তে আগুন ধরে যায়। ব্রেক আপগুলোর কারণ মনে করে আরও অস্থির হয়ে পড়ল সে। ওর জীবনের গল্প কেন অন্যে লিখবে? ব্রেক আপ খুব বাজে ব্যাপার। আলাদা হওয়ার জন্য কোন রিলেশানশিপে যায়নি নীলা। কিন্তু ওরা ওকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। কারণ একটাই- নিজের জীবনের গল্প নিজেই লিখতে চেয়েছিল নীলা। ওদেরকে বন্ধু ভেবেছে, কিন্তু কর্তা মানতে পারে নি। মনে মনে একশো বার ওদেরকে ধিক্কার দেয় নীলা। ধিক্কার দেয় শিহাবকেও। কল্পনায় ওদেরকে কষ্ট দেয় সে। চোখ বুঁজে ফিল করে- তার কাছে হাত জোড় করে মিনতি করছে তারিক, রবিন। শিহাবও। বার বার অনুরোধ করছে- সেই সময়টার মত, ওকে ছেড়ে যাওয়ার সময় যখন ও ওদের কাছে মিনতি করছিল, ঠিক সেইভাবে! উঁহু, এইটুকুতে হবে না... আরও কিছু... ভীষণ যন্ত্রণা দিতে ইচ্ছে করছে কাউকে। নির্যাতনের অদ্ভুত অদ্ভুত পন্থা মাথায় আসছে নীলার। কল্পনায় ওদেরকে টর্চার করে অদ্ভুত একটা বিকৃত আনন্দ উপভোগ করতে থাকে সে। কখনো কাউকে নির্যাতন করে নি নীলা। আজ তার ভীষণ ইচ্ছা করতে লাগল- খুব বেশি, খুব!
শাওয়ার থেকে বেরিয়ে এসেই ওকে একটা চুমু দিল শিহাব- রাত প্রায় বারোটা বাজে। চমকে উঠল নীলা । তারপর কোনরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছিটকে দূরে সরে গেল সে।
এবার শিহাব রীতিমত রেগে গেল-
কি? সমস্যা কি তোমার? রনি ভাইয়ের সাথে থাকতে থাকতে আমাকে আর ভালো লাগে না, না? কালকেই তুমি চাকরি ছেড়ে দেবে।
- আসলে আমি একটু অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড ছিলাম তো, চমকে গেছি হঠাৎ। স্যরি।
স্যরি শু্নেও শিহাবের রাগ গেল না। আসলে নীলার উপর হম্বিতম্বি যতই করুক, প্রায়ই সে ফিল করে মেয়েটা যেন ওর তোয়াক্কাই করে না। যেটা টার্গেট করে সেটা পেয়েই ছাড়ে। ওকে একটু কন্ট্রোলে রাখা দরকার... ভাবতে ভাবতে আবার ধমকে ওঠে শিহাব- অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড! অ্যবসেন্ট মাইন্ডেড থাকবে কেন তুমি? সমস্যা কী? সমস্যা কী তা অবশ্য জানি আমি। তুমি কালকেই চাকরি ছেড়ে দেবে। নয়তো আমিই রনি ভাইকে বলে দেবো যে তুমি আর যাচ্ছো না।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামে শিহাব।
নীলা চুপ। তখনও ভাবছে সে...
উত্তর না পেয়ে কেমন যেন খারাপ লাগতে থাকে শিহাবের। মেয়েটাকে কিছুটা হলেও ভালবাসে সে। ল্যাম্পশেডের মধ্য দিয়ে আসা আবছা আলোতে মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর আর দুখী মনে হয় ওর। জমে থাকা ক্ষোভ পানি হয়ে যায়। বছর দুই আগে যখন প্রথম প্রেমে পড়েছিল সেই সময়ে ফিরে যায় সে। নীলাকে নিয়ে কত কী চিন্তা করত সারারাত জেগে। মনে পড়ে আবারো শিহরণ জাগে ওর... একটু লজ্জাও লাগে হঠাৎই। রাত সময়টাই আসলে অন্যরকম- বেশি রোম্যান্টিক।
কিছুক্ষণ আগের নীচু চিন্তাগুলো দূর হয়ে গেছে ওর মাথা থেকে... ধীর পায়ে নীলার দিকে এগোয় সে। মেয়েটাকে খুব ভালবাসতে ইচ্ছা করছে তার...

শিহাবের মুখের দিকে একবার তাকিয়েই বোধহয় তার চিন্তাটা পড়ে ফেলে নীলা। কিন্তু কোন ভালবাসা জাগে না তার ভিতরে। ওর ভেতরকার যত কোমল অনুভূতি ছিল- কিসে যেন সেগুলোকে বিষাক্ত করে ফেলেছে... হঠাৎ দারুণ একটা বুদ্ধি মাথায় খেলে যায় ওর। আর সব রাত থেকে আজকের রাত হবে আলাদা। ওর ভেতর অনেক তৃষ্ণা জমে আছে... অনেক।

মৃদু হেসে শিহাবের কাছে যায় সে। বুকে মাথা রাখে।
একটু দাঁড়াবে আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসি আবার?- ফিসফিস করে বলে নীলা।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওকে ছেড়ে দেয় শিহাব। দ্রুত চলে আসে নীলা। আজ সে ভীষণ ভালবাসবে শিহাবকে। চোখে চোখ রাখবে, লজ্জা পাবে একটু একটু... সেই আগের মত।
রাত বাড়তে থাকে... আবেগের তীব্রতা প্রচণ্ড, তবু রাতের চেয়ে তার দৈর্ঘ্য কম। একসময় ঘুমিয়ে পড়ে ক্লান্ত শিহাব।
কিন্তু ঘুম ছিল না নীলার চোখে। শিহাব ঘুমুচ্ছে কিনা আর একবার চেক করে পা টিপে টিপে খাট থেকে নামল সে। একবার ফ্যান অফ করে আবার ছাড়ল... নাহ, ঘুমিয়েই গেছে ছেলেটা।
জিনিসপত্র নিয়ে এসে আলতো করে শিহাবের হাতদুটোকে নিজের দিকে টানল নীলা। ওর ছোঁয়া পেয়ে ওকে আরেকটু টেনে ধরে শুল শিহাব। একটু সরে এসে দড়ি দিয়ে হাতদুটো বাঁধল সে। বাধা দিল না শিহাব। ছেলেটা আজ সত্যিই ক্লান্ত। ঘুমুচ্ছে মড়ার মত। একটু হেসে আবার কাজে মন দিল নীলা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝল রাত আসলে খুব বড় না।
হাত পা বাঁধা শেষ। মুখ বাঁধার সময় কীভাবে যেন জেগে গেল শিহাব। একটুও সময় নষ্ট করে নি অবশ্য নীলা। ওকে টেনে নামাল বিছানা থেকে। ঠাণ্ডা ফ্লোরের উপরে শিউরে উঠল শিহাব। কিছু বলার চেষ্টা করল- দুচোখে অবাক বিস্ময়। ওর বুকের উপর উঠে বসল মেয়েটা। হাসতে লাগল পাগলের মত। ডাঙায় তোলা মাছের মত ছটফট করছে শিহাব। দৃশ্যটায় মজা পেল নীলা। বাসায় যত ভারি ভারি জিনিস আছে একটা একটা করে এনে ওর শরীরে চাপাতে লাগল। বিকৃতির চরমে পৌঁছে যাচ্ছিল সে- এই সময়টায় শিহাবের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। আপ্রাণ চেষ্টা করছিল সে মুক্ত হওয়ার। মুখের বাঁধনটা একটু সরাল নীলা...
"পানি!"- শিহাবের মুখ দিয়ে এটুকু বের হওয়ার পরই আবার আটকে দিল সে ওর মুখটা। পানি নিয়ে এল সে। কেউ পানি চাইলে নাকি না করতে হয় না।

পরের স্টেজ শুরু হবে চারটায়- তার আগেই ইঞ্জেকশানটা নিয়ে আসে নীলা।
ওর হাতে ইঞ্জেকশান দেখে আতঙ্কে মুখ বিকৃত হয়ে যায় শিহাবের। দরজা -জানালা ভাল করে আটকে ওর চোখের সামনে ইঞ্জেকশানটা ধরে নীলা- শোনো তোমাকে আমি মারব না, কিন্তু একটু শব্দ করলে চোখে ঢুকিয়ে দেব- বলে শিহাবের মুখটা খুলে দেয় সে। শরীরের একেকটা অংশে সিরিঞ্জটা ঢুকিয়ে দিয়ে শিহাবের মুখের দিকে তাকায় নীলা। দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা সহ্য করছে ছেলেটা। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। দৃশ্যটা আরো পাগল করে দেয় মেয়েটাকে। যত কুৎসিতভাবে একটা ছেলেকে টর্চার করা যায়, সবই আজ অ্যাপ্লাই করে দেখবে সে। মনে মনে হাসে নীলা।
- বেইবি কেমন লাগছে? তুমি যখন আমাকে খোঁচাখুঁচি কর তখন এইরকম লাগে বুঝলে! হাহাহা
শিহাবকে টীজ করে নীলা। ভীষণ ভাল লাগে তার। মনে মনে পুরুষ হয়ে ওঠে সে। এখন শিহাবকে ডমিনেইট করছে সে... ওহ! কী ভীষণ আনন্দ! কী অসহ্য আনন্দ!!! এত তীব্র আনন্দ তো কোন রাতেই পায় নি সে!
আবার শিহাবের দিকে তাকায়। গুঙিয়ে গুঙিয়ে কাঁদছে ছেলেটা।
নীলার তাকানো দেখে শিউরে ওঠে সে, প্লিজ বেইবি আর না... আমি কখনো তোমাকে কষ্ট দেব না।
- আহারে, সোনা আমার। জান, খুব ব্যথা পেয়েছ, লক্ষ্মী? নরম গলায় বলে নীলা। আর ব্যথা দেব না।
এই কথাতে শিহাবের ভেঙে পড়ার মত হয়। ব্যথায় না, কান্নায় ফুলে কেঁপে উঠতে থাকে তার শরীর।
শিহাবের মাথাটা জড়িয়ে ধরে আলতো করে একটা চুমু দেয় ও। জড়িয়ে ধরে ওকে।
- ভুল হয়ে গেছে বেইবি। আমার মাথা ঠিক ছিল না। বলে ওর চুলগুলোয় আঙুল চালাতে থাকে নীলা।
- আমাকে এত ব্যথা দিলে কেন তুমি?- বলতে বলতে গলা বুঁজে যায় ওর। আমার হাত পা খুলে দাও এখন।
কথাটায় সংবিত ফেরে নীলার। ছেলেটার জন্য মায়া লাগছে, কষ্ট হচ্ছে... ওর মুখের দিকে আর তাকানো যাবে না।
- দিচ্ছি সোনা... এই যে এখনি।
ছুরিটা শক্ত করে ধরে। আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শিহাবকে। ধীরে ধীরে চালিয়ে দেয় ওর হৃৎপিণ্ড বরাবর। ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে পড়ে টকটকে লাল রক্তের স্রোত... কী ভীষণ লাল.... অদ্ভুত ভাল লাগে নীলার। রক্তের রংটা খুব পছন্দ তার। বার দুই তিন কেঁপে উঠে ওর আগলের ভিতরই নিস্তেজ হয়ে যায় শিহাবের শরীরটা। রক্তে ভেসে যায় সারা ঘর... বাইরে তখন সারা আকাশটায় রক্ত ছড়িয়ে উঠে পড়েছে সূর্য।
আমি আমাকে ভালবাসি, শুধুই আমাকে- নতুন সূর্যের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো দৃঢ় স্বরে উচ্চারণ করে নীলা।
শিহাবের রক্তে আবার তার জীবনের গল্প লিখবে সে। নতুন একটা অধ্যায় যোগ হল আজ তাতে...কিন্তু ওর রক্তে কেন? ওর সাহায্য তো সে চায় না!
চিন্তাটা যেন চাবুক মারে নীলাকে! হেরে গেছে সে। পাদুটো হঠাৎ খুব দুর্বল লাগতে থাকে। হাঁটু ভেঙে পড়ে যায় সে। মনে হয় শিহাব পাশোই দাঁড়ানো...হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ওর দিকে। কিন্তু হারবে না নীলা। সে হারতে জানে না। শুধু আজ তার তৃষ্ণা পেয়েছিল খুব বেশি...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28960654 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28960654 2009-06-05 20:00:01
সময় যখন অসময় যখন শহরটায় নেমে আসে
এক টুকরা নরক।
যখন কারখানাতে বেজে চলে
বাদ্য- পূর্ণ জিঘাংসায়!

এটা সেই রাতের কথা,
যখন ড্রেনের ভেতর থেকে
উঠে আসে অতৃপ্ত আত্মাসব-
ফেলে প্রিয় শরীর...

রাতটা পেরোচ্ছিল নিষ্ঠুর ঘড়িটায়-
একটু একটু করে
আর কালো অন্ধকার ঢুকছিল শুধু-
চোখের পাতা ঠেলে।

অসহ্য অসহ্য!
ব্যথা -টনটন চোখের পাতা
টানটান স্নায়ু,
জানিয়ে যায় প্রতি মুহূর্তে
বাঁচার আর্তি।

কষ্ট পেতে গেছি ভুলে
শুষ্ক দুচোখ আমার;
ফিরেছে কি বাবা ওর?
-চাই না ভাবতে আর।

হঠাৎই মনে পড়ে
সেই নিশাচর বন্ধু আমার,
অস্থির এই মুহূর্তটায়
যাকে খুব দরকার!

রাত্রি দ্বিপ্রহরে
অস্থির আমি দাঁড়িয়ে রই
সেই বন্ধুর দোরে...

'ভয় পেয়েছ, পাগলী?'
- নিঃশঙ্ক প্রশ্ন তার।
বাস্তবে ফিরে আসি
'ঘুম হয় না কেন?'
- অর্থহীন প্রশ্ন দেই
ছুঁড়ে তার দিকে; সে
সহৃদয় হেসে বলে,
'টেন্সড আছো বলে!'
'চল, ঘুরতে যাই কোথাও'
বলি আমি অকারণে,
রাতটাকে দেখে নিয়ে
আরো একবার।

রাত্রির রাজপথে হেঁটে চলি
সে আর আমি
আমি আর সে।
আর কোন এক অজানা শক্তি
নষ্ট এই শহরটাকে
কব্জা করেছে যে!

পায়ের ছাপ ফেলে,
পেরিয়ে যাই মৃত্যুপুরীটা
বড় অবজ্ঞাভরে।
পূর্ণচাঁদের বিদ্রূপটাকে
অল্প গ্রাহ্য করে...

ক্ষীণস্রোত রক্তবিন্দুসব
আঁকড়ে ধরে দুজোড়া পা।
তারস্বর চিৎকারে জানায়
এপথে থাকবে না তারা!
কানে আঙুল চেপে,
রোধ করি অনুপ্রবেশ ওদের;
শক্ত করে ধরি
বন্ধুর হাত- যেতে হবে আমাদের!

একসময় পৌঁছে যাই
অভাগা সেই নদীর তীরে-
যেখানে শহরের কলুষ
যত, চিৎকার করে ফিরে!

পচা-গলা দুর্গন্ধময় সেই জলস্রোতের মাঝে
আশায় থাকি- বৃষ্টি আশীর্বাদের;
বড় অসময় সেই সময়ে তবু নামে সে ঝমঝম করে,
সাড়া দিয়ে ডাকে আমাদের!

পাগল করা উন্মত্ত সেই বৃষ্টি
মাতাল করা তীব্র তার দৃষ্টি
এলোমেলো করে দেয়
মস্তিষ্কের অণুগুলো,
অসহ্য অনুরণনে!

তীর খুঁজে নিয়ে,
উঠে পড়ে এক ঝটকায়;
তারপর এলিয়ে পড়ে ক্লান্ত শরীর আমার।
মুক্তি দেয় সূর্যটাকে,
যাতে সে খেলে বেড়ায়
বন্ধুর রুক্ষ ত্বককে একটু রক্তাক্ত করে...
সকালের আগমনে তন্দ্রালু ছেলেটা-
নিশাচর বন্ধু আমার!
কিন্তু তাকে যে দেবো না ঘুমোতে
'দেখো দেখো সূর্যোদয়!'
- বলি ফিসফিসিয়ে।

ক্লান্ত সেই ছেলের
সহৃদয় হাসি
নিশ্চিন্ত করে আমাকে;
বলে- 'ঘুমোও পাগলী,
রাত্রি যে হয়ে গেছে শেষ'।
ওকেই দেখি
আবারো আমি;
দুর্বল সূর্যের খেলা তার মজবুত চোয়ালে,
দৃঢ় তার কাঁধ আর টানটান বুকের উপরে...

আরও গভীরে তাকাই
বুকের অনেক গভীরে
যেখানে দপ দপ করছে জীবনের মত
একটুকরা নরম মাংসপিণ্ড
নিতান্তই বেমানান বলিষ্ঠ সেই বুকের সাথে!
যে জানে না কি আছে অপেক্ষায়,
জানে না লুকিয়ে বাঁচার দণ্ড!

হঠাৎ দুষ্টু সূর্যটা,
ধাঁধিয়ে দেয় দুচোখ,
তীব্র লাল আলোয়;
যন্ত্রণার মুহূর্তটা
কাটিয়ে এগোই আমি
ওর দিকে ধীরে।

কী বোকা আমি!
এতো আলো নয়
শক্ত সেই খোলসটা কেবল
ভেঙে ঢুকে গেছে সেই নরম মাংসপিণ্ডে-
তারই জানান দিয়ে বইছে রক্তবন্যা,
তীব্রবেগে, অবিরাম অনর্গল!
শিউরে উঠি আমি,
বরফ শীতল ভীত অন্তরাত্মা...
কেঁপে উঠে সে ছড়িয়ে দেয়
ব্যথার নীল স্রোত।
শুষ্ক আমার চোখের কোটর ঠেলে
বেরিয়ে আসে নোনা অশ্রুজল!

সংবিত ফেরে ওর ডাকে-
'শীত করছে নাকি?'
নীরবে মাথা নাড়ি।
'ঘুম পাড়িয়ে দেবো?'
বলে সে কোমল স্বরে।
ওর বাহুতে মাথা রেখে
বুঁজে ফেলি চোখ;
ফিসফিস করে বলি-
'আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও
দিতেই থাকো,
যতক্ষণ না ঘুমিয়ে কাদা হয়ে যাই...'
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28918841 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28918841 2009-03-02 04:29:34
বন্ধু তুই কই? মন পোড়ে শুধুই অকারণে... পোস্টটা পড়তে গিয়ে চমকে যাচ্ছিলাম বার বার। আরও বেশি চমকে যাচ্ছিলাম কমেন্টগুলো দেখে।
একবছর আগেও কী ছিলাম... নিতান্ত ছেলেমানুষ? জানি না...
কমেন্টগুলো দেখে দেখে একেকটা ব্লগে ঢুঁ মারলাম- আর হতাশ হলাম। কেউ বা এক বছর আগে সর্বশেষ পোস্ট দিয়ে বসে আছে। কেউ আবার সমস্ত পোস্ট মুছে দিয়ে বসে আছে চুপচাপ...
এইসব ব্লগারদের কাউকেই চিনি না ফেস টু ফেস। তবু একেকজনের একেকটা লেখা পড়ে পিকচার করে নিতাম। যেন চিন্তাজগতের বন্ধুর দল...

মনে পড়ছে নতুন নতুন যখন ব্লগ লিখতাম। কত দারুণ দারুণ লেখা আসত। হয়ত এখনো আসে... জানি না। জোয়ারের পর ভাটার মত কি হারিয়ে গেল আমার ব্লগার বন্ধুরা?

উদাসী স্বপ্ন জগতের সব উদাসীনতা নিয়ে ইকোনমিক রিসেশনের একটা কাহিনী লিখে রেখেছে। ওদিকে সে নাকি বান্দর গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা? বান্দর কেন ভেংচি কাটা বাদ দিয়ে চুপ করে গাছের ডালে বসে থাকবে ঘুঘুর মত?
কোথায় বা তার দুদিন পর পর ভাবে টইটম্বুর কবিতা?

রাগ ইমনের কথা মনে পড়ে... একদম প্রথমদিকে যখন খুব ডিপ্রেসড থাকতাম- এই দুইজনের সাথে ছড়ায় ছড়ায় আড্ডা হত। ডিপ্রেশনগুলো হারিয়ে যেত কোথায় যেন।

সন্ধ্যাবাতি আর আলো দিচ্ছে না। সন্ধ্যের পর তাই অন্ধকার হয়ে যায় ব্লগস্ফিয়ার। অথবা তার আলো আরও কোথাও অনেক বেশি দরকার হয়ে পড়েছে... কে জানে?

আমার ব্লগ লাইফের প্রথম ইন্ট্যারঅ্যাকশন এদের সাথে... তখন অনেক বেশি ইমোশনও ছিল। তাই হয়তো মনে করি বারবার।
শেষ বিকেলের মেয়ে চলে গেছে কারণ এখন হয়তো গোধূলি তার। ব্লগে ঢুকে দেখলাম বছরখানেক আগের পোস্ট।

খুশবু কেমন আছে জানি না।
আরও দেখছি কণা, মামু, যীনাত, প্রণব আচার্য্যর মন্তব্য।
তখন নতুন নতুন চেন ফারজানা মাহবুবা।
ভাস্করদার কথা অবশ্য ভুলতে দেননা তিনি। মাঝেমধ্যে টুকটাক মেইল আসে।
সারওয়ারচৌধুরীর ব্লগে ঢুকতে গিয়ে দেখি উনি ব্যান। একটা ধাক্কাও খাই।
ছোট্ট মীরা কেমন বা আছে জানি না।
পিচ্চি শাওন বড় হয়ে গেছে। আর সে লেখে না- "স্বাগতম ব্লগ পরিবারে। হাত খুলে লিখে যান"। মাঝেমধ্যে ওকে কপি করে লিখি আমি।
কচ্ছপ সাইফুরের সাথে তেমন ইন্ট্যারাক্ট হয়নি। তবু দুই চার কমেন্টে তার উপস্থিতি টের পেতাম।
জানতে ইচ্ছা হয় কেমন আছে বার্বির ছবি লাগানো নীলপরী নিলা, জটিল বিশ্লেষণে অভ্যস্ত বিবর্তনবাদী, বুয়েটমেইট ফারহান আর মেহরাব ভাই। অবশ্য শেষের দুজন মাঝে মাঝে লেখেন এখনও।
বুয়েট বিদ্বেষী সাঈফ শেরিফকেও স্মরণ করি।
শ্রাবণী নামের মেয়েটার ব্লগে ঢুকে বোকা হয়ে যাই। একটা লাইনও নাই সেখানে।
ব্লগ কাঁপানো চতুরভূজকে মনে পড়ে।
উম্মু আব্দুল্লাহ আপু। রাকিব কি কালপুরুষদা... সবাই কেমন আছে জানতে খুব ইচ্ছা হয়।
শাব্বির আহমেদ তো ছেড়েই দিয়েছেন ব্লগ।
মনে পড়ছে গণ্ডারকে। ব্লগের মোটামুটি প্রসিদ্ধ চরিত্র। আমাকে একেবারেই পছন্দ করেন না। তবু মনে হয় কেমন আছে এই নিকের আড়ালের লোকটা?
ব্লগে ঢুকেই সবচে বিতর্কিত দেখেছিলাম ত্রিভুজকে। ভেবেছিলাম কেমন না জানি এই ডেইঞ্জারাস লোকটা...একসময় উনিও কমিয়ে দিলেন এইখানে আনাগোনা।
মনে পড়ে মৃন্ময় আহমেদ কে। প্রচেত্যদাকে।
আহমদ মুজতবা নামে অল্পবয়সী একটা ছেলে ছিল। এখন আর লেখে না বোধহয়। আমাকে আপি ডেকেছিল।
জোনাকি নামের মেয়েও বোধহয় আর লেখে না। লেখে কিনা ঠিক জানি না। নিজেও তো আমি অনিয়মিত...
হঠাৎ ব্লগে ঘুরতে ঘুরতে কেমন যেন নস্ট্যালজিক হয়ে গেলাম।
ভার্চুয়াল জগতের মানুষ সব। তবু তো এইসব নিকের আড়ালে রয়েছে বাস্তব কোন মানুষ। কেমন আছে তারা? খুব জানতে ইচ্ছা হয়।
এই প্ল্যাটফর্মটা ঘিরে কত মানুষের মনের ছোট্ট ছোট্ট টুকরো এসে পৌঁছেছে আরেকজনের কাছে... আবার সময়ের স্রোতে ভেসে গেছে সব। নতুন নতুন মুখের আনাগোনায় আগের মতই জায়গাটা জমজমাট। শুধু মিস করি মাঝে মাঝে- কফি হাউসের সেই আড্ডাটা...
গানটা লিখেছে কে আসলে... জানি না... জেনে লাভও নেই কোন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28915778 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28915778 2009-02-24 15:57:30
কিউটি কিউটি সুইটি ক্যাটস.... বই খাতা রেখে উঠে গেলাম ব্যাপার দেখতে। গিয়ে দেখি সাদা- কালো তুলতুলে একটা জীব এক কোণায় বসে কুঁই কুঁই করছে আর আমার ভাইবোনগোষ্ঠীসহ মা অত্যন্ত উত্তেজিতভাবে ডিসকাশন চালিয়ে যাচ্ছে... সাবজেক্ট হল- বিড়ালটা কখন, কিভাবে ঢুকলো।
বড় ভাইয়া চরম বিরক্তি নিয়ে বলল বাইরে ফেলে দিতে। মায়েরও নাকমুখ কুঁচকানো। আর আমার তো এইসব ব্যাপারে রিফ্লেক্স খুব স্লো, এবং করারও কিছু নেই। সুতরাং চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম।
আমার মেকানিক ছোটভাই কিন্তু অত্যন্ত উৎসাহের সাথে বিড়াল কোথায় থাকবে, তার বাসা কেমন হওয়া উচিত এইসব নিয়ে মাথা ঘামানো শুরু করল। তার মাথা ঘামলে সাথে সাথে হাতও ঘামে- মানে সে কথা নয় কাজে বিশ্বাসী আর কি।
গবেষণার এক পর্যায়ে মা আবিষ্কার করল- বিড়ালটা প্রেগন্যান্ট! এও জানা গেল যে বাচ্চা শিগগিরই হবে। আমার মা যতই ঘেন্না করুক- মা তো মা-ই। অসহায় অবস্থায় একটা প্রাণীকে বের করে দেওয়ার অনুমতি মিলল না। সুতরাং আমার ছোটভাইয়ের ফোম- টাওয়েল ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বাসায় বিড়ালটা আরামে ঘুম দিল।
ভাইয়া খুবই বিরক্তির সাথে 'ঐ বিলাইটারে ফালায়া দে' - টাইপ মন্তব্য করতে লাগল। এদিকে নতুন জীবটার ব্যাপারে আমারও একটু একটু উৎসাহ হয়। নিরাপদ দূরত্বে বসে সে কিভাবে ঘুমায়, নিঃশ্বাস কিভাবে নিচ্ছে, তার মানসিক অবস্থা(!) ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করতে লাগলাম। এর মাঝে 'বিলাই' শব্দটা কানে যাওয়ায় আমার মনে হল এর একটা নাম দরকার। তাৎক্ষণিকভাবে নাম দিলাম- বিলি। শুনতে ইংলিশ ইংলিশ লাগে বলে বেশ স্মার্ট মনে হল নামটা আমার কাছে। ভাইবোনদের ডেকে তখনি নামটা ঘোষণা করে দিলাম।
পরদিন সকালে উঠে দেখলাম বিলি একটা মাত্র বাচ্চা দিয়েছে। কুকুর- বিড়ালের সাধারণত একবারে চার-পাঁচটা হয়। আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে বিলি কোন সাধারণ বিড়াল না। কিন্তু অন্যদের ধারণা আরও বাচ্চা হয়ে মারা গেছে। ধারণাটা আমি এক ধাক্কায় ব্রেনের বাইরে পাঠিয়ে দিলাম!
এদিকে বাচ্চা হয়ে গেছে বলে ভাইয়া তাকে বের করে দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে গেল। আর আমিও মোটামুটি ফাইট শুরু করলাম- এইরকম অবস্থায় একটা প্রাণীকে বাইরে ছেড়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত? হয়তো কুকুর এসে বেবিটা খেয়ে ফেলবে, কি শীতেই মরে যাবে- বিলি এখনো উইক- এইসব কথা আরকি। মা কিছুই বলল না- মৌনতাই সম্মতি... বিলি রয়ে গেল আমাদের বাসায়।
বাচ্চাটা মোটেই বিলির মত হয় নি। সারাগায়ে ডোরাকাটা- নিশ্চয়ই বাপের মত হয়েছে! বাচ্চার নাম দিলাম কিম্বা(একটা কার্টুন ছিল 'কিম্বা দ্য হোয়াইট লায়ন'- এই থেকে নামটা নেওয়া। দেখতে টাইগারের সাথে সাদৃশ্য পেলেও এই নামটাই সবার পছন্দ হল! )
বাচ্চা মাত্রই কিউট। সুতরাং কিম্বার দখল নিল ছোটভাই। আর বিলির দেখাশোনার দায়িত্ব পেলাম আমি- যে কিনা স্কুলের বই খাতা ছাড়া কিছু চেনে না এবং অন্যের ব্যাপারে কেয়ার না করার কারণে হার্টলেস উপাধি পেয়েছে!
বিলিকে তার নামে অভ্যস্ত করালাম আস্তে আস্তে। প্রতিদিন সকালে দুধ- পাউরুটি, দুপুরে মাছ কিংবা মাংস নিয়ম করে খাওয়ানো- কাজের অন্ত নেই।
কিম্বার অবশ্য রূপ একটু বেশি ছিল- তার ঠোঁটের সমস্তটায় একটা কালো বর্ডার- যেন লিপলাইনার দিয়ে আঁকা। এই নিয়ে ছোটভাই গর্ব করত। তাছাড়া বিলির বয়স বেশি, কিম্বা নিউ-বর্ন!

দেখতে দেখতে বিলি আর কিম্বার ভিতর পুরোপুরি ডুবে গেলাম আমি। সারাক্ষণ বিলিকে কোলের ভিতর নিয়ে রাখি। এত আদরে ও মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ওরা দুইজনও আমার ভক্ত হয়ে গেল।
হয়তো পড়তে বসেছি, হঠাৎ টের পাই পায়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে কে যেন। তাকিয়ে দেখিগুটিগুটি হেঁটে বেড়ানো কিম্বা আঁচড় দিচ্ছে এসে। তাকাতেই দৌড়! আমি ওদের একেকটা আচরণের অর্থ বের করা শুরু করলাম। যখন এসে পায়ে আঁচড় দেয়- তার মানে হল "প্লে উইথ মি"
কখনো এসে আমার দিকে তাকিয়ে মিউ মিউ করতে থাকে- আমার মনে হয় বলছে- আমাকে একটু কোলে নাও!
অনেক সময় এসে পা চাটতে থাকে- এর মানে হল ওর ইচ্ছা হয় আমাকে আদর করতে। তখন আমি আরো বেশি আদর দেই। আমার হাতটাও ছেড়ে দেই চাটার জন্য। ওর ধারালো জিহ্বাটা একটু একটু ব্যথাও দেয়। তবু ভীষণ ভাল লাগে- আমার বিড়াল... আমার নিজের... কী অদ্ভুত ভাল লাগে। মাঝেমধ্যে খেলতে খেলতে আমাকে একটু কামড় কিংবা থাবা দেয় বিলি। মানুষের স্কিন কেটে রক্ত বের হয়ে আসে। আমি মাকে না দেখিয়ে চুপে চুপে স্যাভলন আর ব্যান্ডএইড দিয়ে ঢেকে দেই কাটা জায়গাটা। নিশ্চয়ই বিলি আমাকে ব্যথা দিতে চায় নি। মানুষের যে এত অল্পেই রক্ত বের হয়ে যায়, সেটা তো আর ও জানে না।
রাতের বেলা বিলিকে আমার কম্বলের ভিতর নিয়ে রাখি। ওর গায়ে এত লোম- ওর তো কম্বল লাগে না। ও বের হয়ে যায়। কখনো সকালে ঘুম ভেঙে টের পাই মুখের ওপর কারও গরম নিঃশ্বাস। তাকিয়ে দেখি বুকের ওপর বসে আমার দিকে ঝুঁকে আছে বিলি- মনে হয় বলছে- 'এখনো ঘুম ভাঙল না? আমি তো নিশাচর- তাও উঠে পড়েছি'
আমি মনে মনে বলি- 'এইতো উঠছি সোনা, এক্ষণি তোমার ব্রেকফাস্ট আসবে'। আর মুখে বলি- 'এই শয়তান বিড়াল, সারাক্ষণ গা ঘেঁষিস কেন? যা যা'! আসলে সবার সামনে তো আদর করা যায় না- সেটা কুলনেস এর পরিপন্থী!
আমি একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম- বিড়াল আদর বোঝে খুব। যদি পিঠে হাত বুলাই, তাহলে সে গলাটা বাড়িয়ে দেয়। আদর নেওয়ার সময় এক্কেবারে চুপ থাকে- যেন গলে যায়। আমার নিশ্চয়ই দেওয়ার জন্য অনেক আদর জমে ছিল। বিলিকে আর কিম্বাকে সারাদিন-রাত দিয়েও ফুরাতে পারতাম না। মনে হত- ক্লাসে না গিয়ে সারাক্ষণ যদি বিলিকে নিয়ে থাকতে পারতাম! বিলির সবই করে দিতাম আমি- খাওয়ানো, ট্রেনিং দেওয়া, পরিষ্কার করা- এমনকি ঘুম পাড়ানো পর্যন্ত! আব্বু তো আমার নামই দিয়ে দিল 'বিড়ালের মা'!
বাস্তবিকই পারলে বিলিকে আমি বুকে নিয়ে রাখি- এমন অবস্থা। বিলি আসার পর আমার হাঠাৎ যেন আমার গোটা জীবনটাই বদলে গেল। একটা বিড়ালের জন্য এত ভালবাসা জমা খুবই অদ্ভুত ব্যাপার। কিন্তু সেটাই হল।
এদিকে কিম্বা বড় হতে লাগল। এবং স্বাভাবিক নিয়মে একদিন বিলির সাথে চরম মারপিট বাধাল। কিম্বা এরপর থেকে প্রায়ই বিলিকে মারতে চাইত। আমার ভীষণ রাগ হত। কিন্তু ওদের তো এই-ই নিয়ম!
শেষমেষ বাসাটা কিম্বার জন্য ছেড়ে দিয়ে বিলি চলে গেল! তখন কিম্বার উপর বেশ রাগ হল। বিলি অবশ্য মাঝেমধ্যে এসে ঘুরে যেত। আমার খুব খারাপ লাগত। কিন্তু ও তো আর সত্যিই আমার বিড়াল না। আস্তে আস্তে মেনে নিলাম ব্যাপারটা।
বিলির জন্য জমা আদরগুলো কিম্বার উপর অ্যাপ্লাই করতাম। হয় কোলে, নয় কাঁধে কিম্বাকে বসিয়ে রাখতাম। আস্তে আস্তে কিম্বার একটা বয়ফ্রেন্ড জুটলো- বাদামী রঙের এক হুলো। বিশাল মোটা তার ঘাড়! দেখেই রাগ লাগত। কিন্তু কি করা। কিম্বাকে তো আর কষ্ট দেওয়া যায় না। তাই হুলোকে তাড়িয়ে দিতাম না আমি। অবশ্য আমার ছোটভাই দেখলেই ভাগিয়ে দিত। একদিন দেখা গেল কিম্বার খাবার হুলোটা খাচ্ছে, আর ও বসে বসে দেখছে! পুরুষ জাতি যে কত নিকৃষ্ট- দেখে আমার মেজাজ ফরটি নাইন!
তবু কিম্বার বয়ফ্রেন্ড... সহ্য করতেই হলো।
যথানিয়মে কিম্বার ৩টা বাচ্চা হল- নাম রাখা হল কেটি, কুইন আর টাইগার। এবারও ছোট ভাইবোন ছোট বিড়ালগুলো নিল। তখন কিম্বা আমার!
তবে এই ঘটনার পর আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম। ওরা যদি এত দ্রুত বংশ বিস্তার করে এবং জেনারেশন আফটার জেনারেশন আমাদের বাসায় থাকতে চায়, তাহলে কী হবে? ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন আপত্তি নেই। বাসায় যদি তিন-চারশো বিড়াল থাকে তো খারাপ হয় না... কিন্তু সমস্যা হল বড় ভাইয়া। বিড়ালের উৎপাত নাকি তার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে!
আর এদিকে হল কি- কিম্বা তো একেবারে ঘরোয়া বিড়াল। সে ঘরে বাথরুম করে। তাকে বাইরে করার ট্রেনিং দিয়েও খুব লাভ হয় নি। এই ছিল আরেক ঝামেলা। এইটাই একদিন বিরাট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াল।
ঘটনাটা বেশি কিছু না। এমনিতে কিম্বা আমার বিছানা ছাড়া শু'তো না। কিন্তু সারা ঘরে ওর অবাধ যাতায়াত। তো একদিন ভাইয়ার ঘুম ভাঙার পর ভাইয়া টের পেল পাশে গরম গরম ভারী কিছু। তাকিয়ে দেখে বিড়ালটা আরাম করে ভাইয়ার গায়ে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে। ভীষণ বিরক্ত হয়ে হাত সরানোর পর একটু ঠাণ্ডা আর সফট কিছুতে হাত পড়ল। ভাইয়া পরখ করার জন্য আরেকটু নাড়া-চাড়া করতেই ভক ভক করে গন্ধ বের হয়ে এল। মানে ভাইয়ার বিছানায় বড় বাথরুম সেরে কিম্বা আরামের ঘুমও দিয়েছে!!!
ভাইয়ার চিৎকারে মোটামুটি বাড়ি মাথায় উঠল। আর ঘটনার আফটারম্যাথস খুবই সিম্পল। কিম্বা তার পরিবার নিয়ে বাসা থেকে বিতাড়িত হল...
যখন ওকে ফেলে চলে আসি, বেচারা বারবার তাকাচ্ছিল, আর করুণ করে মিউ মিউ করে চলছিল। ও তো বাইরের জগৎ চেনে না... নিজেকে বুঝ দিলাম এই বলে যে ওর আরো অনেক ওয়ান্ডারফুল এক্সপিরিয়েন্স হবে। দেখুক জগৎটাকে!
(বাসায় এসে বাথরুমে ঢুকে অনেকক্ষণ কাঁদলাম... তবে বের হয়ে এসে বললাম- বেশ হয়েছে, ঝামেলা গেল!)
তবে দুঃখ ভোগ করতে হল না বেশিদিন...

(***বাকিটা পরে লিখব... এইটুক লিখতে অনেক সময় লেগেছে... টায়ার্ড হয়ে গেছি!)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28915200 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28915200 2009-02-23 13:30:08
Ring My Phone... Ring My Phone... ইচ্ছে হয় বসে পড়ি রানিং ট্র্যাকটার পাশে, যেখানে আমাকে সঙ্গ দেবে আমারই মত এক খেয়ালি প্রতিযোগী- যে ট্র্যাকের দিকে না তাকিয়ে আকাশের লক্ষ লক্ষ তারা দেখবে আমার সাথে বসে। যে অনায়াসে প্রতিদিন না হলেও অন্তত মাঝে মাঝে কাজটাকে একটু দুরে ঠেলে কাছে টানবে আমাকে...এই পর্যায়ে এসে কল্পনাবিলাস লাগামছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থেমে গেলাম। মানুষ খুব ক্ষুদ্র, তার কোন কিছু আনলিমিটেড হওয়া উচিত নয়- যারা তা করার চেষ্টা করে তাদের পরিণতি খুব খারাপ হয়।
সুতরাং অত্যন্ত অনিচ্ছার সাথে চুল থেকে ব্যান্ডটা খুললাম- ঠিক তখনই ফোনটা বাজল।
ভাবলাম নিশ্চয় পড়াশোনার ব্যাপারেই কেউ ফোন করেছে- আবার দেখলাম আননোন কলার- নতুন করে বিরক্ত হওয়ার মত এনার্জিও ছিল না- ফোন রিসিভ করলাম।
- হ্যালো
- Hi...
(হাই শুনে একটু অবাক হলাম, কারণ আমার বন্ধুগোষ্ঠীর এই 'হাই'- বলা অভ্যাসটা নেই)
- Could I talk to u for a few minutes?
ইংলিশ শুনে বাঙালি বরাবরই মুগ্ধ হয়। তার উপর একেবারে নেটিভ অ্যামেরিকান উচ্চারণ...
সুতরাং আমি মুগ্ধ হয়ে বললাম- Of course!

খানিক পর কথার পর জানা গেল- একদিন আড্ডায় তার সাথে দুমিনিট মত কথা হয়েছিল। সে বসে ছিল চুপচাপ- কারণ বাংলা জানত না ভাল। বড় হয়েছে ইউএসএ...দুচার বাংলা শব্দ দিয়ে তো আর আড্ডা চলে না। ওদিকে তার জন্যে কষ্ট করে ইংলিশ বলতে তেমন কারো আগ্রহ ছিল না। আমিই একটু তার সাথে দুচার কথা আর হালকা ঠাট্টা মস্করা করেছিলাম। ছেলেটার মেমোরি খুবই শার্প- সে প্রতিটা শব্দ মনে রেখেছে! এমনকি আমি কিরকম ড্রেস পরে ছিলাম- সেটা পর্যন্ত!! এই ব্যাপারটা আমি এতদিন মেয়েদের দখলে বলেই জানতাম।

ছেলেটার তেমন কোন ফ্রেন্ড নাই এখানে। থাকেও ফ্যামিলি থেকে আলাদা- মানে লোনলি বার্ড আরকি। সে কথা বলছিল অনর্গল। আমিও মাঝে মাঝে বলছিলাম। মানে ভালই লাগছিল কথা বলতে...
কিন্তু তখনো আমার পরনে সারাদিনের ঘামে ভেজা ড্রেস। কাজও বাকি অনেক। পরেরদিনের জন্য কিছু পড়াশোনা করে রাখাও দরকার! কিন্তু ফোন রাখব কি বলে?
একটু চিন্তা করে তাকে বললাম- দেখ, আমার ইংলিশ তো কাঁচা... আমি বিদেশিদের সাথে কথা বলতে আনইজি ফিল করি! কিন্তু সে এক্সকিউজটা নিতে পারল না
- Your English is fine... it's.. umm great I must say!
আমি খুশি হয়ে গেলাম- প্রশংসা শুনতে ভাল লাগে- সত্যি হোক আর মিথ্যা হোক!
তবু আমি একটু বিনয় দেখানোর চেষ্টা করলাম... মানে আমার সবকিছুই সিম্পল(এই কথাটা অবশ্য মিন করেই বললাম), প্রশংসার যোগ্য নই- এইসব বলতে লাগলাম আরকি।
তবে রিপ্লাইটা পেলাম এরকম:
- Who told u! You're not simple, rather sophisticated... You're a gonna be architect who can handle complicated structures. You are critical, but also you are a nice person. You look nice and dignified. You got plenty of sweetness inside and out. You talk sweet, you move sweet.. You are warm and lively. You're the best!

ধাক্কা খেলাম কথাগুলো শুনে। এই ধরনের অতিরঞ্জিত উদার প্রশংসার জন্য আমি রেডি ছিলাম না।
কি উত্তর দেব ভেবে পেলাম না... অথবা হতে পারে মন থেকে কথাগুলোর প্রতিবাদ করার আন্তরিক ইচ্ছা আমার ছিল না।
নিশ্চয় অন্য কোন ছেলে হলে বলতাম- 'পাম মারার আর জায়গা পাও না! আমার কাছে খরচ না করে অন্যখানে লাইন লাগাও- কিছু বেনিফিট হতেও পারে'...কিন্তু তাকে কিছু বলতে পারলাম না।
কথায় আমাকে কেউ কাবু করেছে- এধরনের ঘটনার সংখ্যা খুবই কম। সুতরাং ধরেই নিলাম- তার কাছে কাবু হতে আমার ভাল লাগছিল!
আমতা আমতা করতে লাগলাম...সে আবারও শুরু করল। এবারের প্রসঙ্গ আমার লাইকিংস ডিসলাইকিংস। মোটামুটি ইন্টারভিউ দিতে লাগলাম। আমি থামলেই সে বলে
- So, tell me more about this girl... what else she likes?
আবারও চলতে থাকে কথা। একসময় ব্যক্তিগত ব্যাপার স্যাপার চলে আসে। সে সিঙ্গেল, আমিও।
সুতরাং পরবর্তী প্রসঙ্গ হয়ে গেল- কেমন ছেলে আমার পছন্দ!
চিন্তা ভাবনা না করেই বললাম- জন আব্রাহাম এর মত! লম্বা গ্ল্যামারাস আর একটুও ফ্যাট থাকতে পারবে না... বলে হাসতে লাগলাম।
কিন্তু সে মনে হল চিন্তায় পড়ে গেল একটু। সে ছ ফিটের উপর লম্বা। আমি যখন তাকে দেখেছি তারপর নাকি সে পাঁচ কিলো ওয়েট লুজ করেছে। তাকে ফ্যাট বলা যায় না। কিন্তু গ্ল্যামারাস কিনা তা সে নিশ্চিত না।
আমার আরও হাসি পেল কথাটা শুনে। বললাম- তুমি একদম ওকে।
- That means I j-u-s-t passed...
আমি হো হো করে হাসতে লাগলাম। সে জানাল আমার হাসি খুব সুইট...
আমার মনে হল 'সুইট' শব্দটা এত সুইট করে বোধহয় আর কেউ বলতে পারে না!
ফোন রাখলাম যখন- ঘড়িতে রাত বারোটা!

এরপর কথা হত মাঝে মাঝেই। আস্তে আস্তে ব্যাপার এমন দাঁড়াল যে তার সাথে কথা না বললে ভাল লাগে না। একরকম অ্যাডিক্টেডই হয়ে পড়লাম। ঘুম ঘুম প্রহরে তার সুইট সুইট কথাগুলো শুনতে শুনতে আবিষ্ট হয়ে যেতাম। এইভাবে চলছিল...
একসময় সে চাইল দেখা করতে- ঐ প্রথমদিনের পর তো তোমাকে দেখিনি...Let's plan a date...
'ডেইট' শব্দটা শুনে আমার টনক নড়ল! আমি কি তার সাথে প্রেম করছি? আমি কি সত্যিই তার প্রেমে পড়েছি? সে যখন ফোন করে বলে, হেই সুইটি আ'ম সরি ফর বিইং লেইট- আমি তো একবারও বলিনি- ডোন্ট কল মি সুইটি!
আমি আসলেই অবসেসড হয়ে গেছি তার ব্যাপারে... আমি কি আদৌ তাকে ভালবাসি? নিজেকে অনেকবার অনেকভাবে প্রশ্নটা করলাম। মস্তিষ্ক উত্তর দিল- না!
কিন্তু মনটা মানতে চাইল না... ছেলেটা যে অসম্ভব সুইট!

সে আমার জন্যে র‌্যাডিসনে রুম নিতে চায়! আমি শুনে চমকে যাই- হায়রে অ্যামেরিকান ভালবাসা! কিন্তু ওর কালচারই এই...
বুঝতে পারি আমার মনটা ওর চারপাশে ঘুরছে। কিন্তু আমার বাঙালি মুসলিম সত্তাটা রাজি হয় না...
- হোটেল কেন?
তার বাইরে ডেইট করতে ভাল লাগে না। সে প্রাইভেসি চায়। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভাল লাগে না তার। আর আমার যদি হোটেলে আপত্তি থাকে তাহলে তার ফ্ল্যাটেই সে ইনভাইট করছে আমাকে। আমি যে কি বলব ভেবে পেলাম না। তার আজন্ম সংস্কার বেড়ে ওঠা যেমন, তাতে এসব দোষের না। এটাও সত্যি যে সে আমাকে কাছে পেতে চায়, আমিও চাই। কিন্তু আমার ধরন আর তার ধরন যে একেবারেই আলাদা। আমরা যে দুই মেরুর মানুষ।

কেমন যেন মন খারাপ হয়ে গেল আমার। অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল...
ও একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল- আমাকে কি তোমার পছন্দ হয়নি?
আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম। কিন্তু সে আমাকে বিব্রত হওয়ার সুযোগ দিল না- Look, if you are not sure about something, don't do it. You have to learn how to say no. If you don't want it, just say- no, thank you.
আমি চুপ করেই রইলাম। তাকে না বলতে আমার ইচ্ছা করছিল না। কাউকে হার্ট করতে খুব খারাপ লাগে আমার- Look I don't wanna hurt you...
কথা শেষ করতে দিল না সে.. মনে হল ও ডেসপারেট হয়ে গেছে। আমাকে না বলা শিখিয়ে ছাড়বে! সবাইকে না বলতে পারতে হবে- এমনকি তাকেও! বলতেই হবে!
আমি শেষমেষ বললাম- No, thank you. Is that ok?
সে মিষ্টি করে হাসতে লাগল।
তারপর....
তারপর সে আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড হয়ে রইল। কিন্তু মনটা ঐখানে থামতে চায় না। সারাদিনই তার কথা মনে হয়... পড়াশোনা লাটে উঠছে দেখে এক বন্ধুর পরামর্শে তাকে একটা মিথ্যা বললাম- আমার বাসায় মা- বাবা সন্দেহ করছে, তার সাথে আর কথা বলা যাবে না। সে আমাকে মন খারাপ করতে মানা করল। এমনিতেও এখন আমার পড়াশোনায় মন দেওয়া উচিত। আমি যেন আপসেট না হই। বাবা মার উপরও যেন রাগ না করি। তাঁরা আমার ভাল চান! আমার এক্সাম শেষ হলে তারপর দেখা যাবে। পড়াশোনা সবার আগে। তারপার ফান! আপাতত আমাদের কথা বন্ধ! আমাকে খুব ভাল করতে হবে পরীক্ষায়। সে জানে যে আমি পারব!

হায়রে.. তাকে বললাম মিথ্যা, আর সে আমাকে ইন্সপায়ার করল! মন আরো খারাপ হয়ে গেল।

এরপর একটা একটা করে পরীক্ষা দিলাম। দিনগুলো কাটল পড়াশোনার মাঝে দ্রুত। কিন্তু রাতগুলো হয়ে উঠল অসহ্য! সেই ভয়েসটা শুনতে ইচ্ছা করে- সুইট এন্ড কিলিং... শুনতে ইচ্ছা হয় সেই কথাগুলো- যার প্রত্যেকটা অংশই পিস অব আর্ট...Soft and gentle... Polite and seductive... Lethal but lovely...
একরাতে থাকতে না পেরে কল করার জন্য ফোনটা হাতে নিলাম- এবং আবিষ্কার করলাম যে পড়াশোনার ক্ষতি আশঙ্কায় আমি তার নাম্বারটা ডিলিট করে রেখেছি। সমস্ত জমে থাকা কথা মুখ দিয়ে বেরোতে না পেরে বুকের ভেতরের দেয়ালটাকে সজোরে ঠেলতে লাগলো!
আমি সত্যি তাকে ভালবাসি না- এই কথাটা হাজার বার করে বলেও সর্বগ্রাসী যন্ত্রণার স্রোতটাকে থামাতে পারলাম না। শিরায় শিরায় ছড়িয়ে আমার রক্তের ফুয়েলে জ্বলতে লাগল সে আগুন হয়ে। ভিতরে বাইরে পুড়ে এইভাবে একসময় পরীক্ষা শেষ হল আমার। কিন্তু আর যে ভাল লাগছে না!

সারাটা রাত যে তাকে বলে চলছি সমস্ত সত্তা দিয়ে- Make my phone ring...সে কি শুনতে পাচ্ছে না আমার কথা?
দুদিন বাদে ভ্যালেন্টাইনস... আমি কি তাকে বলতে পারব না- আমি কী ফিল করছি?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28909657 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28909657 2009-02-11 15:12:29
ভাললাগার গান- আসমা আল্লাহ ছক বাঁধা জীবন। ছক বাঁধা অনুভূতি।
মনটা অশান্ত ছিল। একেকটা সাইট ব্রাউজ করছিলাম আর মাঝে মধ্যে দুই একজনের সাথে দুইচার লাইন চ্যাট।
একজন ব্লগার সেদিন এই একটা গান শুনতে বললেন।

অচেনা সিংগার এর গান শুনতে এমনিতে মন চায় না।
গান শোনার মুড আসলে পুরানো পছন্দের গুলো প্লে করি। এইজন্যে প্রথমে শুনতে চাই নি। অচেনা সিংগারের গান শোনার রিস্কও আছে। যদি বেশি বিরক্তিকর হয়? মুডই নষ্ট হয়ে যাবে।
সামি ইউসুফ এর নাম শুনিনি শুনে অবাক হলেন উনি। আমার গান শোনার দৌড় যে ভাইয়ার আনা সিডি পর্যন্ত- সেটা আর বললাম না।

অনিচ্ছাসত্ত্বেও দেখা শুরু করলাম। কোন গান যে এত শান্তি দিতে পারে মনকে, জানা ছিল না। আল্লাহর নামগুলো নিয়ে গানটা। আর শেষের দিকটায় আল্লাহর কাছে আমাদের চাওয়া।
আরবি ভাষা যে এত সুন্দর, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা যে এত সুন্দর করে করা যেতে পারে এই গানটা শুনে ফিল করলাম।

পপ মিউজিক যারা ভালবাসেন তাদের তো ভাল লাগবেই। আর যারা আমার মত মিউজিকের ভিতর ডুবে যান- মানে খুব বেশি মন দিয়ে গান শোনেন, তারা অ্যাডিক্টেডও হয়ে যেতে পারেন।

শেয়ার করার ইচ্ছে হল আপনাদের সাথে।

গানটার ইউটিউব লিংক দিলাম। যে কারোরই ভাল লাগবে আই থিংক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28896078 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28896078 2009-01-11 19:31:44
ইট্টু ইলেকশন...
আমি প্রার্থীদের চিনি না। কে যে কোন দল তাও বুঝি না। মাঝেমধ্যে বাসায় ডিসকাশন চলে। বাবা- মা দুই বিপরীত দলের সাপোর্টার। এদিকে আমি নতুন ভোটার। কারো কথাতে কনভিন্স হতে পারি না। উৎসাহী বাবা আমার আইডি এটসেটরা ঠিক করে রেখেছেন।
কেউ বলছে ভোট দিতে যাবে তো?

আমি আড়মোড়া ভেঙে বলি- আবার লাইনে দাঁড়ানো--- উঁ..উঁ.. হুহু(এইগুলো অর্থহীন অপ্রয়োজনীয় ন্যাসাল সাউন্ড)।
তখন আমাকে ভোটাধিকারের গুরুত্ব বোঝানো হয়। বাবা তীব্রস্বরে আলোচনা করে। পুরুষমাত্রেই চেঁচামেচি করে নারীকে থামিয়ে দেয়। মেজাজ খারাপ হয়। মাথা থেকে ইলেকশন চলে যায়।
ধুরর...শালার ইলেকশন।
তারপরও মন্দ না।
ব্লগেও দেখছি প্রচারণা চলছে। বেশ বেশ। ভালই লাগছে হাওয়া। বড় হয়ে গেছি। আমি ভোটার কত গুরুত্ব। কতজন আবার ইষ্টাইল করে 'না' ভোট দিবে। তাইলে বাড়ি বইয়া থাকলেই হয়।
পড়াশোনা করা উচিত। ভাল্লাগে না। মন চাই মিছিলে যাই। অবশ্য সবই রবি ঠাকুরের মত মনে মনে। মা আমাকে বলে আলসের গুরুঠাকুর।
আমি চিন্তাবিদ মানুষ। শরীর খাটিয়ে কাজ করা আমার কম্ম নয়। দশ-বারোটা কামলা লাগবে!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28887365 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28887365 2008-12-24 18:52:42
You fill up my senses in English! মেজাজ খারাপ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_17.gif" width="23" height="22" alt="X(" style="border:0;" /> প্রিয় ব্লগারদের ব্লগে ঢুঁ মারছি। মন চাইলে দু একটা পোস্ট পড়া, কমেন্টের জন্য লগিন। সাথে একটু Secret Garden আমার আমার কানে কোকিলের মধুকণ্ঠ বর্ষণ করে চলেছে। হঠাৎ দুর্গ্রহের মত শ্রদ্ধেয়া মাতার আগমন।
মনে মনে রেডি হলাম এই কথা শোনার জন্য- সাতসকালে কি করছ কম্পিউটারে? "ব্লগিং" না "চ্যাটিং"?
আমার দুষ্টু ভাইবোনেরা মাকে এই টার্মদ্বয় শিখিয়ে দিয়েছে। তাদের মুখে ছাই পড়ুক(মুখ বন্ধ অবস্থায়)! মনে মনে উত্তর সাজানোর চেষ্টা করলাম। অটোক্যাড খোলারও কারণ নাই। আমার মা যথেষ্ট চালাক মহিলা। চুপচাপ ইস্নিপস খুলে বসলাম।
কিছুক্ষণ পর অবাক হলাম। মা কিছুই বলছে না... গুনগুন করে সুর ভাঁজছে কিসের যেন! আজ তাহলে মুড ভাল...
তবু একটু অপেক্ষা করলাম। খানিক পর মা এসে বলল- ঐ গানটা একটু দো তো মা- আমার সকল দুঃখের প্রদীপ।
মা-কে খুশি করা খুব জরুরি। কারণ আজকে একটা ফ্রেন্ড এর ভাইএর গায়ে হলুদ। আমি বাধ্য মেয়ের মত হেসে বললাম- দিচ্ছি।

রবীন্দ্র শোনার অভ্যাস নাই। গান যে কোথায় আছে... ১৫ মিনিট লাগিয়ে খুঁজলাম। এর মধ্যে মা কিচেন থেকে ঘুরে এল।
- কিরে মা, দিলি না গানটা?
মায়ের ডাকটা ভালো লাগছিল। আমার উপর খুশি থাকলে মা আমাকে "মা"
সম্বোধন করে। এইটা শোনার আনন্দের তুলনায় ঘুমসঙ্গীত শোনার কষ্ট কোন কষ্টই না!
কিন্তু গানটা খুঁজে পেলাম না...

শেষমেষ একটা 'আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল' খুঁজে বের করলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শিল্পী মহিলার কণ্ঠ খুব একটা ভালো না। খানিক পরই মায়ের আর সহ্য হল না। চিৎকার করে বলল- বন্ধ কর! নষ্ট করে ফেলেছে গানটা!

মায়ের মুড অফ হয়ে গেল...
বুঝলাম পারমিশন পাওয়ার আশা শেষ। তবু মিনমিন করে বললাম- মা আজকে কিন্তু হলুদ... মানে আমি বলেছি যাচ্ছি।
রাতের বেলা কোথাও যাওয়া যাবে না- কথাটা ছুঁড়ে দিয়ে মা গটগট করে চলে গেল। ঐ শিল্পীর উপর রাগ হতে লাগল <img src=" style="border:0;" />
মুড আমারও অফ হয়ে গেল। মুড অন করার জন্য You fill up my senses... ছেড়ে একটু ভিতরটা রিফিল করার চেষ্টা করছিলাম।

মা এসে ধুম করে বসল একটা চেয়ার নিয়ে।
সকালবেলা উঠে ইংলিশ হাউকাউ শুরু করেছে। পারলে একটু কোরান তেলোওয়াত কর!
আমি সাথে সাথে বলে ফেললাম- তাহলে ব্যথার পূজা কেমন করে হবে?
বলেই মনে মনে নিজেকে একশোটা চড় মারলাম। খোঁচানি স্বভাবটা কবে যে দূর হবে আমার...
শাড়িটা আয়রন করা দরকার। পারমিশনটাই আদায় করতে পারলাম না এখনো। ট্যাক্টফুল হতে শিখবো কবে আমি?
ইংলিশ গান প্লে না করলে হত না? তখনো ইউ ফিল আপ মাই সেন্সেস চলছে। আমার অষ্ট(নাকি পঞ্চ?) সেন্সেস মেজাজ খারাপ দিয়ে ফিলড আপ হয়ে গেল।

মনে মনে বললাম- লাইফ সাক্স!
তারপরই মনে হল- মেজাজ খারাপও কি ইংলিশে হয় আজকাল? হলিউডি মুভি বেশি দেখার ফল... এই কারণে অকারণেই নিজের উপর রাগটা আরেকটু বেড়ে গেল। মন মেজাজ কেমন করে ভাল করি?
ভাল্লাগে না <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28886632 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28886632 2008-12-23 10:37:07
মাই ডিসেম্বার অবশ্য একটা শেষ তো আরেকটা শুরু আনে সবসময়ই...
ডিসেম্বারটা আমার জন্য অনেক ঘটনার মাস... সেদিন ভাইয়াকে তাই বলছিলাম।
ডিসেম্বার তো আমার মাস।
প্রথম দিনটা আমার খুব প্রিয় একটা বান্ধবীর জন্মদিন।
৬ষ্ঠ দিনটায় আরেকটা প্রিয় বান্ধবীর বিয়ে হল- মানে নতুন জীবনের শুরু।
দশম দিনে আমার একটা পাগল বন্ধুর জন্ম।

আর ১৬শ দিনটায়- আমার বাংলাদেশের জন্ম!
এই দেশকে ভালবাসাটা আমার জন্য একটা অদ্ভুত ব্যাপার। জীবনের শুরুতে বাংলাদেশটাকে ভালবাসতে পারিনি। জন্ম হয়েছিল অন্য দেশে। দেশের প্রতি ভালবাসার আতিশয্যে যখন বাবা দেশে নিয়ে এল আমাদের- সেই সময়টা মনে পড়ে...এই দেশের কালো কালো মানুষগুলোর দিকে তীব্র বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকাতাম। ঘেন্নায় এমনকি কাউকে ছুঁতে পর্যন্ত চাইতাম না। আস্তে আস্তে সেই দেশটাই হাড়মাংসে জড়িয়ে গেল। এই দেশে মানুষের এত মায়া! এত আবেগ! এত ভালবাসা!
এই দেশটার জন্ম ডিসেম্বারে...
মাঝেমধ্যে ভাবি- এত কিছুর জন্ম হল কি করে এ মাসটায়?
২২তারিখে বছরের সংক্ষিপ্ততম দিনটা আসবে। খুব তাড়াতাড়ি সবাইকে একটা শীতল ধাক্কা দিয়ে পালাবে দিনটা। এই দিনটার জন্য কবে থেকে অপেক্ষায় আছি আমি.. স্বল্পায়ু সবকিছুর প্রতি অদ্ভুত একটা টান আছে আমার।
এই মাসের ২৫শে যীশূ খ্রিষ্টের জন্ম... কত পরিবর্তনের সূচনা এই দিনটায়...
২৭শে সেই মানুষের জন্ম, যার জন্য এই পৃথিবীতে আমি আসতে পেরেছি।
আর ৩১শে তার জন্ম, যার কথা ভাবলে বুকের ভেতরটা টনটন করে ওঠে অসহ্য ব্যথায়... তবু বারবার পেতে ইচ্ছা করে সেই ব্যথাটা।
মনটা একটুও ভাল নেই।
লিংকিন পার্কের ভোকাল কেমন উদাস ভাবে গেয়ে চলেছে সেই সকাল থেকে
This is my December
This is my time of the year
ওহ! যে সময়ে তার জন্ম হয়েছে সেটা আমার না হয়ে পারে কি করে?
গানটা কীভাবে যেন বুকের ভিতর ঢুকে পড়ে বাজতেই থাকে- যতক্ষণ না ভেতরটা যন্ত্রণায় দুমড়ে মুচড়ে যায়...
This is my snow covered home
This is my December
This is me alone
তাইতো...
This is me alone... কত অদ্ভুত সত্যি কথাটা। মানুষ তো একা... খুব একা।
মনে পড়ছে গত ডিসেম্বারের ২৯ এ, সবাইকে রেখে নানী চলে গেল। একা একা। অদ্ভুত সুন্দর মানুষটা তার বিশাল সংসারের বোঝা এক ঝটকায় কাঁধ থেকে ফেলে চলে গেল সেই পথে, যেটায় কেউ কারো সঙ্গী হতে পারে না...
This is my December
আবার সেই মানুষটার কথা মনে পড়ে। সমস্তু জীবনটা বিশাল ঝড়ে এলোমেলো করে যে চলে গেল...৩১ তারিখ কি বেশি দূরে?

তবু ভান করি- ভীষণ সুখী আমি। গেয়ে যাই- এই বেশ ভালো আছি... হায়রে মানুষ! এত অভিনয় জানে.. এত ভান করা কিসের জন্য?
These are my snow-covered trees
This is me pretending
This is all I need
মাঝে মধ্যে জেগে ওঠে অভিমানের সাথে তীব্র অহংকার- ঠিকই করেছি তাকে ফিরিয়ে দিয়ে! কেন যে জড়িয়েছিলাম হতভাগাটার সাথে!
And I
Just wish that
I didn't feel
Like there was
Something I missed
And I
Take back all the things
I said to you
হ্যাঁ, ওকে বলা সব কথা যদি ফিরিয়ে নিতে পারতাম! যদি মুছে ফেলতে পারতাম তাকে জীবনপঞ্জিকার পাতাগুলো থেকে...
কিন্তু হয় না... পারি না আমি...
হঠাৎ হঠাৎ বড় বেশি ভারি হয়ে ওঠে জীবনের বোঝা। ভেতরের বিশাল শূন্যতা গ্রাস করে নেয় আমাকে। ভয়ংকর ইচ্ছা হয় পালিয়ে যাওয়ার- জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার...
যদি ভেতরের এই বিশাল জায়গাটায় কাউকে একটু ভাগ দিতে পারতাম.. অসহ্য যন্ত্রণা... গানটা আবার ভেতরে বাজতে থাকে..
And I give it all away
Just to have
Somewhere to go to
Give it all away
To have someone
To come home to
হঠাৎ লিংকিন পার্কের উপর রাগ হয় ভীষণ- ওরা আমার কথাগুলো বলে কেন? দমিয়ে রাখা যন্ত্রণাগুলোকে উস্কে দেয় কেন ওরা?
তবু শুনতে থাকি-
This is my December
This is my time of the year
This is my December
This is all so clear
This is my December
This is my snow covered home
This is my December
This is me alone
ওহ! কি অসহনীয়!!
বুকের ভেতরের ক্ষতটায় খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করে চলে-
This is me alone
This is me alone
This is me alone
This is me alone.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28882641 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28882641 2008-12-15 11:29:07
ঈদ কেমন হল? আসেন আড্ডা দেই.. আপনারা কেমন করলেন ঈদ?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28880782 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28880782 2008-12-10 18:22:51 কয়েক টুকরা বাং কাহিনী, আর আমার চোখের মণি... ক্লাসের সময় কমনরুমে বসে থাকতাম। টিচারের পায়ের আওয়াজ শুনে ব্যাগসহ বাথরুমে। আমার কথাতে এই কাজ করত কেয়া আর আফ্রিও। তবে একটা মেয়ে ছিল, যাকে কোনভাবেই ইনফ্লুয়েন্স করা যেত না। কোন কারণেই তার ক্লাস করা বন্ধ করা যেত না। ক্লাসের পর একটা মিনিট বসিয়ে রাখা যেত না মেয়েটাকে। আমরা দিনের পর দিন ফাঁকি দিতাম। আর লক্ষ্মী মেয়েটা সুন্দর করে ক্লাস করত। কোনদিন কি জমা সব টুকে রাখত। আর জমার আগে আমার মত বদ গুলোকে জানাত। এইভাবে বাং মারতে মারতে আর ফাস্টফুড খেয়ে আয়তন বাড়াতে বাড়াতে আমাদের সংক্ষিপ্ত কলেজ জীবন প্রায় শেষ হয়ে এল।
কিন্তু ঐ মেয়েটাকে দিয়ে একদিনও বাং দেয়াতে পারলাম না... মনে দুঃখ...
বারান্দায় বসে গেজাচ্ছিলাম আমি কেয়া আর আফ্রি। ঐ মেয়েটা... মানে মণি নামের মেয়েটা গেছিল নামায পড়তে।
হঠাৎ আমার মনে ভয়ংকর দুঃখবোধ জেগে উঠল। আমাদের কলেজ শেষ হয়ে যাচ্ছে... আর এইভাবে আড্ডাবাজি করা যাবে না <img src=" style="border:0;" />
মণি নামায শেষ করে আসতে আসতে ওটা আরও বেড়ে গেল। ওর গলা জড়িয়ে ধরে বললাম- চল্ না আজকে আমরা কোথাও ঘুরে আসি...
মেয়েটা ঘড়ি দেখে বলে সময় নাই। কিন্তু জোরাজুরিতে কেমন করে যেন রাজি হয়ে গেল। কথায় বলে- সঙ্গদোষে লোহা ভাসে... <img src=" style="border:0;" />
তখন নভোথিয়েটার নতুন হয়েছে। একটা শো দেখে, পেট ভরে মরা মুরগির(নিশ্চিত না যদিও) রোস্ট খেয়ে বাসায় ফিরলাম।
পরদিন হল কি, লাই পেয়ে পাগলামি বেড়ে গেল আমার। পরের শো-টা দেখতে আবার যেতে চাইলাম আমি!
কলেজ পড়ুয়া স্টুডেন্ট সব। হাতে টাকা পয়সা থাকে না। তাও আবার আগেরদিন খরচ করে ফতুর। দেখলাম যে একদমই টাকা নাই। শুধু বাসায় যাওয়ার রিকশাভাড়া আছে। কিন্তু ততক্ষণে পাগলামি মাথায় উঠে গেছে। ঠিক করলাম হেঁটে যাব। ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিজয়সরণি কতটুকুই বা... যদিও এত পথ আগে হাঁটিনি- কিন্তু ভাবের ঠেলায় সেটা প্রকাশ করা যায় না। দুপুরবেলা চাঁদিফাটা রোদ। তার ভেতরে কলেজড্রেসে চারটা মেয়ে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে- আর্মির ভাইয়া/আংকলরা মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নিলেন। কিন্তু সাহস আমাদের অতিরিক্ত।

আমি আর আফ্রি হাঁটলাম সামনে- সাথে চলল চিৎকার করে বেসুরো গলার গান। মিনিট পনেরো পরে কেয়া আর মণি হয়রান হয়ে গেল। আমরা সামনে থেকে টিজ করতে লাগলাম- এই কচ্ছপের দল, তোরা কি কালকের শো দেখবি? হাঁটতে লাগলাম আমরা খা খা রোদ তুচ্ছ করে... মাঝেমধ্যে ব্যাগ কাঁধে একা ভদ্র ছেলে দেখলে দুই একটা মন্তব্য ছোঁড়া... যাত্রা বেশ জমজমাট আমাদের। হাঁটতে হাঁটতে একসময় সামনে দেখলাম জাহাঙ্গীর গেট- ইয়েসসসসসস!!!
এসেই গেছি তো! উল্লাসে বুঁজে যাওয়া গলা আবার জেগে উঠল। কেয়া ততক্ষণে পারলে রাস্তায় বসে পড়ে।
একটু পর টের পেলাম- শেষ তো নয়ই বরং আরও বেশ অনেকটাই যেতে হবে। আমার আর আফ্রির তখন আর গান আসছে না... চুপচাপ হাঁটতে লাগলাম। মাঝেমধ্যে মণি আস্তে করে বলে- একটু থাম। একটা সিএনজি নেই চল। আমি পাত্তা দিলাম না। শেষপর্যন্ত দূর থেকে উঁকি দিল বিরাট অর্ধগোলক। এইবার কচ্ছপদের স্পীড বেড়ে গেল। একসময় পৌঁছে গেলাম আমরা- কতক্ষণ হেঁটেছি কে জানে! একঘণ্টা, কি তার বেশি... টিকেট কেটে গেটের সামনেই বসে পড়লাম চারজনে। রাস্তার ছেলেদের থেকে নিজেদের পার্থক্যটা মাথায় রাখার অবস্থা ছিল না। ব্যাগ ঝেড়ে ঝুড়ে কয়েকটা টাকা বের হল- চারজন চারটা আইসক্রিম মুখে নিয়ে বসে রইলাম। গান তো দূরের কথা- একটা রা নেই কারও মুখে।
ভেতরে ঢুকে একটু ঠাণ্ডা হলাম। শো দেখে চন্দ্রিমায় একটা রাউন্ড মেরে সবাই বাসার দিকে...
সাড়ে পাঁচটায় ঘরে ঢুকলাম। মা তো দেখেই হই হই করে উঠল- এইসব টিচারদের কি কোন সেন্স নাই। বিকাল ভরে কি প্র্যাকটিক্যাল করায়? যাও মা গোসল করে খেয়ে নাও। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পড়াতে চুপ করে খেয়ে ঘুম দিলাম।
পরদিন গিয়ে শুনি আফ্রি নাকি সিএনজি সহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে- প্ল্যান করেছিল বাসায় গিয়ে ভাড়া দেবে। তখনি আন্টি ফিরেছে বাজার থেকে। ওর উপর একচোট গেছে।
কচ্ছপদ্বয়ের পা ফুলে গেছে। দুইজনই পায়ে মলম মেরে শয্যাশায়ী...
আমার অবশ্যি হয়নি কিছুই... তবে ওরা সুস্থ হয়ে ফিরলে রাম ডলা একটা খাওয়ার জন্য রেডি হয়ে রইলাম।

কিছুদিন পর আমার ঘাড়ের শয়তানটা আবার জ্বালাতন শুরু করল। ওদের ডেকে বললাম- দেখ আমরা তো অন্যদের চে অনেক এগিয়ে আছি। প্র্যাকটিক্যাল একটু মিস দিলে কিছু হবে না। চল জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ঘুরে আসি। আফ্রি তার বড় চোখদুটো দিয়ে এমন অগ্নিদৃষ্টি হানল যে আমার আর দ্বিতীয় কথা বলার সাহস হল না। শেষমেষ ওদের টেনেটুনে একটা ফাস্টফুড শপে ঢুকলাম। হঠাৎই মায়া বেড়ে যাওয়াতে ওদের সবাইকে লাঞ্চ করালাম আমি। বের হওয়ার সময় কেয়ার গলায় কোত্থেকে যেন মিষ্টি রবীন্দ্রসংগীতের সুর আসছিল- বুঝলাম মুড ভাল হয়ে গেছে ওর। আমি আস্তে করে বললাম- দোস্ত ঐটা একটু গা তো- আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে..

কেয়া গাইতে লাগল... এত মিহি ওর গলার স্বর.. ছেলে হলে অন্যভাবে ভাবতাম হয়তো...
মণির কাঁধে আর আফ্রির হাতে আমার হাত দুটো ছেড়ে দিলাম... কিসের যেন মায়ায় আটকে যাচ্ছিলাম চারজনে... কাঠফাটা রোদ রাস্তায় আর ধীর পায়ে চলা আমাদের ধীর রবীন্দ্রসুরে কে যেন বেঁধে ফেলছিল খুব ধীরে ধীরে...

পরদিন যখন আস্তে আস্তে বললাম- কোথাও যাওয়া হল না, তখন সেই লক্ষ্মী মেয়েটা, মানে মণি নামের মেয়েটা খেয়াল করেছিল। হঠাৎই ও বলল- ডিইউতে তো যাওয়া যায়...
চারজনে উঠলাম সিএনজিতে... আমি আর মণি পাতলা। কেয়া মধ্যম আর আফ্রি বডিবিল্ডার... কি করা যায়... আফ্রির কোলে উঠে পড়লাম। সিএনজিওয়ালা মিটিমিটি হাসছিল টের পেলাম। কিন্তু খুশিতে ঐসব গায়ে লাগল না। ডিইউতে গিয়ে টিএসসিতে বসে রইলাম- ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এর ভঙ্গি। হঠাৎ কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল একজোড়া ছেলেময়ে। ছেলেটা বিনীত ভঙ্গিতে বলল- তোমরা কোন স্কুলে পড় আপ্পি?
কোন স্কুলে মানে!- রাগে স্বর চড়ে গেল আমার। আমরা সেকেন্ড ইয়ার... কলেজে পড়ি। ছেলেটা একটু হাসল- ওরা মাস্টার্সের <img src=" style="border:0;" />
বলে- ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসেছ, না? এটা কিন্তু ঠিক না...
মন খারাপ করে উঠে পড়লাম আমরা।

পরদিন ঠিক করলাম- আর ইউনিতে না, এইবার যাব শপিংমলে।
সকাল সকাল ব্যাগ বুগ নিয়ে বের হয়ে এলাম। অসুস্থতার ওজুহাতে। আমি রোগী, আর ওরা তিনজন আমাকে নিয়ে যাচ্ছে বাসায়। টার্মের শেষ- টিচার ঝামেলা করল না। পারমিশন দিয়ে দিল। বসুন্ধরা সিটি... ঘুরব না মুভি দেখব না কোথাও খেতে খেতে আড্ডা দেব ভাবছিলাম- তখন হঠাৎ শুনলাম পেছন থেকে একজন বলছে, কলেজের পোলাপান, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসেছে... আমার মেজাজ গরম হয়ে গেল! ঠিক করলাম পরদিন জামাকাপড় নিয়ে বের হব। বাইরে এসে চেইঞ্জ করব কোন সুইট্যাবল জায়গা পেলে।
শুনে আফ্রি বলে- ডেটিং ছাড়া মানুষ এমন করে শুনিনি। মণি আবার বলল- কাজটা ঠিক না। অনেকদিন থেকেই বলব ভাবছি। এটা তো বাবা-মাকে ধোঁকা দিচ্ছি আমরা। তারা তো জানে আমরা ক্লাসে। কেয়া বলে- সব তোর জন্য..
এত বিরূপ কথায় মুখ চুন হয়ে গেল আমার।
ফলে পরেরদিন আবার ওদের নিয়ে চন্দ্রিমায় আড্ডা দিতে আসলাম! <img src=" style="border:0;" />
এবং পাগলের দাবড়ানি খেয়ে চারজন ভদ্র হয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলাম।

কিন্তু তারপরও মাঝে মাঝে যখন আমার ঘাড়ে শয়তান চাপত, তখন শান্তশিষ্ট মেয়েগুলোকে কুপথে চালিত করতাম আমি! সেজন্য এখন কোনই অনুশোচনা হয় না আমার।
তারপর সবচে লক্ষ্মী মেয়েটা ডিউতে ভর্তি হল। আমি বুয়েটে। কেয়া আর আফ্রি হল অন্য দুটো ইউনিভার্সিটিতে...
এখন আর ক্লাস ফাঁকি দিতে হয় না প্ল্যান করে। যখন ইচ্ছা ক্লাস করি, যখন ইচ্ছা করি না। আমার পাল্লা থেকে বের হয়ে ওরা খুব ভাল করছে পড়াশোনায়।
আর ঐ যে সবচে লক্ষ্মী আর সবচে সুন্দর যে মেয়েটা, মানে মণি নামের মেয়েটা সবচে বেশি ভাল করতে লাগল। তাই ওর মা আর বোনেরা ভাবল- অনেক তো হয়েছে- এইবার ওর বিয়ে দিয়ে দেই।(কারণ ওর তো বাবা নেই <img src=" style="border:0;" /> মায়ের আর বোনদের আর দুলাভাইদের কথা ওকে শুনতে হয়)
তাই কালকে হঠাৎ করে লক্ষ্মী মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল। ধবধবে ফর্সা মেয়েটাকে বধূর সাজে লাগছিল অপূর্ব আর অদ্ভুত বিষণ্ণ। দেখে বুকের ভিতরটায় কেমন করতে লাগল। একটুও যে হাসছিল না সে!
আমাকে দেখে আমার শাড়ীর আঁচলটায় টান দিয়ে কিছু একটা বোঝাতে চাইল মনে হয়। আমি বললাম- কিরে, খুব মজা, না?
ও হাসল- বলে মজা তো তোদের, আমার কি?
আমি দাঁত বের করে বললাম- হ, আমাদের তো শুধু দিনে মজা, তোর তো রাতেও মজা!
মণির বিষণ্ণতা ধুয়ে গিয়ে একটা বড়সড় হাসি ফুটে উঠল মুখে।
উপস্থিত মহিলাগোষ্ঠী মাথা ঘুরিয়ে তাকাল আমার দিকে; মণি বলল- শয়তান, তোর শয়তানি যাবে কবে?
আমি বললাম- নভোথিয়েটার যাবি?
টানা টানা চোখদুটোয় আবার একরাশ বিষণ্ণতা, সাথে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস...
এইবার বোধহয় ওর সাথে আমারও পড়ল। আচ্ছা আমরা বড় হলাম কেন?
ঐখানে যাওয়া যায় না- ঐ যে ঐ দেশে- যেখানে কেউ বড় হয় না কোনদিন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28879786 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28879786 2008-12-07 21:06:19
টু মাচ ইজ নেভার ইনাফ.... (ভাইয়া তোমাকে বড় একটা থ্যাংকস... প্রথম উইশটা তোমার)
রাত সাড়ে এগারোটায় আফ্রির ফোন... এখন নাকি আগে উইশ করাটা স্টাইল। এসব সম্পর্কে অমার খুব একটা জানা নেই। উইশ পেয়েই ধন্য। আগেপরে যাই হোক।

গপ্পোবাজির মধ্যে কল আসছিল একটার পর একটা। আমার এত্ত ফ্রেন্ড!!!
কিন্তু বাসার সবাই ভুলে গেছিল কেন যেন। হঠাৎ করে মায়ের চোখে পড়ল- রাত একটার সময় মেয়ে ফোনে গল্প করছে খুশি খুশি মুখে। বড়সড় একটা বকা দিয়ে দিল। আমার যে জন্মদিন, অভিমানে বললামও না কথাটা।
মন খারাপ করে শুয়ে আছি। আননোন একটা নাম্বার থেকে কল আসল। ফোনটা তুলে ঠাণ্ডা গলায় বললাম
-হ্যালো
-হ্যাপী বার্থডে-এ-এ-এ!!!
মেয়েটার উচ্ছ্বাসে একটু হকচকিয়ে গিয়ে ওর কথাটাই রিপিট করলাম প্রশ্নবোধক স্বরে- হ্যাপী বার্থডে?....
- কি অবস্থা দোস্ত?
- এইতো...
- তুই করছিস কি? এইরকম মরা মরা গলায় কথা বলছিস কেন?
- না, তা না...
- অ্যাই, তুই কি চিনসশ আমারে?
- না...
- উইশ করলা আর চিনলা না..
- উপপসসসস... শ্যাগিইইইই... থ্যাংকস দোস্ত।

ক্লাসের মধ্যে এই আরেক পিস, যে দুর্ভাগ্যক্রমে এই তারিখটাতেই পৃথিবীতে এসেছে...

মনটা অবশ্য কিছু কারণে আগে থেকেই খারাপ ছিল। তার উপর মা বকল। কোনভাবেই আর মনটা ভাল হতে দিলাম না। যতই সুইট সু্ইট উইশ করুক সবাই...
কাঁদো কাঁদো হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে রইলাম।
ছটফট করতে করতে একসময় ঘুমিয়েও পড়লাম। বেলা করে উঠে ক্লাসে গেলাম। গিয়ে শুনি আজকে নাকি রং মারা হবে। ভয়ে আধমরা হয়ে গেলাম।
একে অসুস্থ। তারপর মনখারাপ। এরপর আবার যদি খাই রং...

পর্ণাকে নিয়ে বের হয়ে এলাম স্টুডিও থেকে।

২০০৭ ব্যাচের ইন্সটলেশান চোখে পড়ল। গাছের গায়ে রঙিন পানি ভরা বোতল ঝুলানো। ঠিক রুহ আফজা আর পাঁচন...

অনেক হাসাহাসি করলাম। পর্ণার সাথে থাকলে গোমড়া মুখে থাকতে পারবো না। খানিক পরে সারা ক্লাস লাইব্রেরির সামনে। শ্যাগি আইসক্রিম খাওয়ালো সবাইকে...উইশ পেলাম দুইজনেই।
তারপর আরেক সারপ্রাইজ- শ্যাগির বাসায় পাটি!

কিন্তু এর মধ্যে আরেক সমস্যা হয়ে গেল আমার। বাথরুমে যাওয়ার খুব দরকার। রং খাওয়ার ভয়ে ডিপার্টমেন্টের দিকে যেতে পারছি না। এদিকে সবাই শম্বুক গতিতে পা ফেলছে। শেষে নিশুকে বলে একটু স্পিড আপ করালাম। শ্যাগির বাসায় ঢুকেই খুশিতে চিৎকার দিয়ে ফেললাম yeeeeeeeeeeeeeey!!!! বাথরুমে যাব!!!
নিশু আর রিফাত হাসতে হাসতে খাবি খেল...

শ্যাগির মা দেখতেও যেমন সুন্দর, তেমনি অসাধারণ রাঁধেন।
চিকেন অবশ্য খাওয়া যায় বেশি এটা সত্যি। লাঞ্চের পর মোটামুটি কারও নড়ার শক্তি ছিল না।
তখন আবার কেক। কাটলাম দুইজনে। ছোট্ট(আমার একটা ফ্রেন্ডকে এই নামে ডাকি) আমাকে খাওয়াতে গিয়ে নিজের পিস হাফ খোয়ালো... শেষে চেঁচানো শুরু করল- ওরে! দোতলা কেকটা দিলাম আর তুই পুরো একতলা খেয়ে ফেললি!!!

আন্টি আংকল দুইজনই ভীষণ ফ্রেন্ডলি।
বিকালবেলা একটু গানবাজনা হল। শ্যাগি গাইল- যাও পাখি, কৃষ্ণপক্ষ আরও সুইট সব বাংলা গান।
শ্যাগি গায় ভাল। তবে ভাল গান আমার ভাল লাগে না। আমি বসে বসে চেঁচাতে লাগলাম- এসব চলেনা... শাকিরা চাই শাকিরা...
সারা তো হা হয়ে গেল। বলে কি মেয়ে!
ওর কাছে শাকিরার কিছু নেই। শেষমেষ 'গুরু' ছাড়ল। মাইয়া মাইয়া...
হিন্দি মুভি তো খুব একটা দেখা হয় না। ইন্ডিয়ার অবস্থা দেখে চোখ ছানাবড়া।
ভদ্রলোক বিশ্ব বলে, দেখার দরকার কি বাপ, গান ছেড়ে তোরা নাচ। মল্লিকার নাচ সবাই মিলে দেখার জিনিস না।

এইসব গান নাকি বসে বসে শোনা যায় না। সারা আর পর্ণার নাচের তাল উঠল। শ্যাগি তো আগেরই পাগল। আমাকেও টেনে নেয় পারলে। আমি বিপদে পড়ে গেলাম। জীবনে নাচ গান শিখি নাই। শেষে বললাম তোরা নাচ। আমি বিছানায় বসে দেখছি। যার ভাল হবে তাকে নাহয় একটা মালা ছুঁড়ে দেব।

খানিক পরে বিশ্বরও তাল উঠল। বাজনা অ্যায় হাসিনা... পাপ্পু ক্যান ডান্স...
নাচতে জানে পর্ণা শুধু। বাকিরা লাফিয়ে ফ্লোরটা ভাঙার বন্দোবস্ত করল। আর সারা শয়তানটা আমার মত একটা শান্তশিষ্ট(!) মেয়েকেও নাচিয়ে(!!!) ছাড়ল।
বুয়েটের বাস তো আর ওয়েট করবে না... তাই চলে আসতে হল। আসার সময় দেখি বুয়েটে লাইটিং ডেকোরেশন। পর্ণা হো হো করে হেসে বলল, দেখো ডার্লিং, তোমার জন্মদিন সারা বুয়েটে সেলিব্রেইট হচ্ছে...
পর্ণা আর ছোট্টকে জোর দুইটা চড় মারলাম বাজে দিনটাকে ভালো করে দেওয়ার জন্য। বাসে উঠে টের পেলাম অতিরিক্ত হাসার কারণে চোয়াল ব্যথা করছে...

পাশের বাস থেকে ছোট্ট বলল, কিরে, আরো খাবি?
চিন্তা না করেই বললাম- হ!
- কিহহহ??? এত্ত খাইয়াও হয় নাই?
আমি আস্তে করে বললাম- টু মাচ ইজ নেভার ইনাফ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28855212 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28855212 2008-10-15 23:01:41
অশান্ত সময় ইচ্ছা করছে বড় রকমের একটা ভাঙচুর করতে। ভাঙচুর বললে অনেক ছোট হয়ে যায়।
একটা বিপ্লব... যেটাতে বইবে অন্তহীন রক্তবন্যা।
যেটাতে তোলপাড় হবে সারাটা পৃথিবীতে।
মাটি ফেটে বের হবে পৃথিবীর বুকের উষ্ণ রক্ত। ফিনকি দিয়ে ছুটবে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর মত। লাখ লাখ মানুষকে বিলাসী শেষ স্নানের স্বাদ দেবে। সারা জীবনে যারা সাঁতরায়নি নদীতে তারা পাবে বিলাসবহূল সমুদ্রস্নানের স্বাদ। শোণিতসমুদ্রে আকাশচুম্বি হিংস্র উদ্দাম তরঙ্গের সাথে মানুষগুলোর শেষ বোঝাপড়া...

ধেয়ে আসা বিশাল ঢেউয়ের চূড়ার ওপর দিয়ে আকাশটাকে আরো একবার দেখার তীব্র আকুতি ফুটে উঠবে মৃত্যভয়ে কাঁপা মানুষগুলোর চোখেমুখে...

কী অসহ্য সময়...
পৃথিবীর বুকের তরল রক্ত বের হয়ে আসছে না কেন মাটির কারাগারটা ভেঙে?
নিজের বুকের ভেতরটায় ভীষণ তোলপাড় হচ্ছে। সেই আলোড়নটার কোন প্রকাশ নেই বাইরে। শুধু বুকের ভেতরের টকটকে লাল দেয়ালটায় প্রাণপণে গর্ত খুঁড়ছে অশান্ত আত্মাটা। বাইরে বের হয়ে আসবে সে, যে করেই হোক...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28854579 http://www.somewhereinblog.net/blog/bdgirlblog/28854579 2008-10-14 14:44:58