আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য হবার চেষ্টায় আছি....

আপনি টাকা বানানোর যন্ত্র খুঁজছেন? /:)

০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:২১

শেয়ারঃ
0 0 0



এক

মাননীয় পরফেছার সাহেব, আমার হাজার হাজার, কুটি কুটি (কোটি কোটি) সালাম জানিবেন। আমি আপনার লেখা পড়ি। পড়িয়া মনে হয়, আপনি অর্থনীতি সম্পর্কে জানেন। আমি অর্থনীতি সম্পর্কে জানি না। জানি না বলিয়া অর্থহীন গরিব। পার্শ্বের টি-স্টলে চায়ের মইধ্যে বনরুটি ডুবাইয়া খাইয়া যাওয়ার সময় দোকানদারের বিল শোধ করিতে অপারগ হই। আমি টাকা বানাইবার মেশিন পাইতে চাই। আপনি কি আমাকে বলিয়া দিবেন, টাকা বানাইবার মেশিন আমি কোথায় পাইব? ইতি, আপনার একান্তই ভক্ত দরিদ্র পাঠক-----।

এটা একটা পত্র, এই এসএমএসের ই-মেইলের যুগে একজন পাঠক আমাকে পত্র লিখে আমার প্রশংসা করেছেন, জানতে চেয়েছেন, টাকা বানানোর যন্ত্র (মানি মেকিং মেশিন) তিনি কি করে হাতে পেতে পারেন। দুনিয়াতে সবাই বড় হতে চায়। সবাই টাকাওয়ালা হতে চায়। একজন দরিদ্র মানুষ, রুটি চা খেয়ে তার দাম পরিশোধ করতে পারেন না। তিনি যদি একটি টাকা বানানোর যন্ত্রের খোঁজে থাকেন। তাতে তাকে দোষ দেয়ার কোন উপায় আছে কি? অন্ধ কি চায়? চায় দুটি চোখ। গরিব কি চায়? চায় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। এটা কি গরিবের দোষ? দুনিয়া এখন টাকার পেছনে ছুটছে।

দুই

কিছু আগে আমি দেবী শেঠির সাথে দেখা করার জন্য ভারতের বাঙ্গালোর শহরে গিয়েছিলাম। ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন হার্টের এনজিওগ্রাম করাতে। আত্মীয় স্বজন বলল তুমি এই বাংলাদেশে ঢাকাতে হার্টের চিকিৎসা করাতে যেওনা। হার্ট হাসপাতাল গুলিতে কোটি কোটি টাকা খাটছে, হাসপাতালের পেছনে বিনিয়োগ করে বসে আছে টাকা ওয়ালারা। রোগী পেলে তারা মাইনর ক্ষেত্রে ওপেন হার্ট বা এন্জিওপ্লাস্টের দিকে চলে যায়। আপনি ভারতে যান, না হলে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদে যান, সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথে যান। আপনি ঠকবেন না। এসব কথা কখনো আমার বিশ্বাস হয় না। ডাক্তার এথিক্স্-এর বাইরে কাজ করে না।

ডা. দেবী প্রসাদ শেঠির হাসপাতালের নাম “নারায়ন হৃদয়ালয়া”। এটি ব্যাংগালোর সিটি থেকে ৩০/৪০ কিলো দূরে মহীশুরের দিকে। ঐ স্থানের নাম ব্যোমেসন্দ্রে। আমি সেখানে প্রয়োজনীয় টেস্ট্ সেরে শেঠি সাহেবের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার মতো পাকিস্তানের এক মহিলা রোগী সাঈদাও শেঠির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। সাঈদা আমাকে বললেন দেখো ইয়ার, ইয়ে হসপিটাল নেহি, দিস্ ইজ নট এট অল এ হার্ট হসপিটাল দিস ইজ এ ডলার মেকিং মেশিন। ইয়ে হিন্দুস্তান কে লিয়ে এতমিনান সে ডলার পয়দা কর রাহা। টাকা বানানোর যন্ত্র সম্পর্কে এই প্রথম আমি কারো কাছে কিছু শুনি। যেমন করে পার টাকা বানাও- এমন প্রক্রিয়া আমি কখনো রপ্ত করতে পারি নি। টাকা বানানোকে আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বলে কখনো ভাবতে পারি নি। এটা হচ্ছে টাকা বানানোর যুগ। যারা টাকার ব্যাপারে উদাসীন এ যুগে সে অচল। এ যুগ তাদের যুগ নয়। টাকা নাই বলে আমার মতো অনেক লো-পেইড লেখক সমাজের ব্যাক্ বেঞ্চে বসে আছে।

তিন

আমার এক বন্ধু আমাকে তার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছে। তার এক স্বজন ছিল বেকার। তার জন্য সে একটি চাকরি খুঁজতে থাকে। এখানে সেখানে ধর্ণা দেওয়ার পর তাকে একটি চাকরিতে ঢুকিয়ে দেই। কিছুদিন পর দেখা গেল ঐটা একটা সাধারণ চাকরি নয়, ভাগ্য ভাল ঐটা টাকা বানানোর যন্ত্র। দিনে বেতন বা মজুরি যদি হয় একশ টাকা, উপরি আসে সাত হাজার টাকা। কয়েক বছরের মধ্যে সে বেকার টাকার ওপর ভাসতে শুরু করে। যেখানে যে জমি বিক্রি করে যেখানে যা চোখে পড়ে সে তা কিনে নেয়। যেখানে যত বাড়ি বিক্রি হয় তার ক্রেতা সে। একদিন এসে আমার বন্ধু আমাকে বলে দেখেছ কারবার? আমি বলি- কি কারবার? কি হয়েছে? এমন করছ কেন? এই ছেলেকে লেখাপড়া শেখার জন্য আমি টাকা পয়সা দিয়েছি, তাকে একটি “টাকা বানানোর যন্ত্র” সদৃশ চাকরি ঠিক করে দিয়েছি। সে এখন ক্রোড়পতি, ঘুষের চাকরি অনেকে করে, ঘুষ খেয়ে চাকরিজীবী বড় জোর একটি বাড়ি বানায়, এখন এই ছেলে আমাকে বলছে আমার বাড়ি ঘর তার কাছে বিক্রি করতে হবে। যে কোন দামে সে আমার ভিটেমাটি কিনতে চায়। কেমন যুগ এসেছে-বুঝতে পারছ? আমি বলি এই যুগ টাকাওয়ালাদের যুগ। এ যুগ পরোপকারীর যুগ নয়। আমি নিজেও একজন ভিক্টিম। পয়সার জোরে যে আমাকে গ্রাস করতে চাচ্ছে- তার সাথে আমি পেরে উঠছি না। আমি বন্ধুকে বললাম মানি মেকিং মেশিন- খারাপ জিনিস। এই যন্ত্র যার হাতে যায় সে মানুষকে মানুষ মনে করে না। সে হয়ে যায় রক্ত চোষা। সে সমাজকে চুষে খায়। আমি একটি ফ্রাংকেস্টাইন তৈরি করেছি, আমার হাতে গড়ে ওঠা মানুষ আমাকে গিলে খেতে চাচ্ছে।বন্ধু বলে আমি আরো শক্তিশালী মানি মেকিং মেশিন চাই। তুমি একজন লেখক, আমাকে শক্তিশালী যন্ত্রের খোঁজ দিতে পারবে? আমি প্রতিশোধ নেব। যে আমাকে এক আংগুল দেখিয়েছে তাকে আমি দুই আংগুল দেখাব। মানি মেকিং মেশিন কোথায় পাওয়া যাবে? আমাকে পথ দেখাও। প্রিয় পাঠক, দেখুন “টাকা” কিভাবে আমাদের শান্ত সমাজকে-বিদ্বেষ হানাহানির নরকে পরিণত করছে। কিভাবে প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হচ্ছে এবং তা বেড়ে যাচ্ছে।

চার

আমার এক পাঠক আমার কাছে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন মানি মেকিং মেশিন- কোথায় পাওয়া যাবে? “ঘুষের চাকরি”, “লাভের ব্যবসা”, “সরকারি রেভেনিউ মেরে দেয়ার বিজনেস”, “জন প্রতি ৫০০/- টাকা ফিসে প্রতিদিন ২০০ রোগী দেখার ডাক্তারী পেশা”, “ভাল স্কুলে, ভাল কলেজে একশ ভাগ নিশ্চয়তায় রমরমা ভর্তি কোচিং”, “ফাইনাল পরীক্ষায় প্র্যাকটিক্যাল মার্কস বেশি দিবেন বলে প্রলুব্ধ করে প্রাইভেট টিউশন”- এ রকম অনেক টাকা বানানোর যন্ত্রের খবর আমরা অনেকে জানি। আপনারাও জানেন। তবে এইসব মেশিন কিভাবে আপনি হস্তগত করবেন? কাজটা কঠিন।

আপনারা যারা টাকা বানানোর যন্ত্রের ব্যাপারে ভাবছেন, যদি কিছু মনে না করেন আমি আপনাদের বলব, আপনারা রাজনীতিতে নামুন। রাজনীতি হচ্ছে টাকা বানানোর শক্তিশালী সুপার ফার্স্ট মেশিন। আমার এই কথা শুনে রাজনীতিবিদরা গোস্বা হতে পারেন। আপনারা বলতে পারেন এটা হচ্ছে একটা “হেইট ক্যাম্পেইন”, যা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের ছোট করতে পারলে অনেকে খুশি হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রাজনীতিবিদরা থাকুক এটা একটা মহল চায়না, তারাই “হেইট ক্যাম্পেইন” চালায়।

রাজনীতি যে টাকা বানানোর মেশিন-এই তত্ত্ব আমার উদ্ভাবিত নয়। বিশ্বের সকল দেশে কিছু কিছু রাজনীতিবিদ আছেন, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে- টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এমনকি নির্বাচিত না হয়েও ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে টাকার পাহাড় বানিয়েছেন। আপনি আমাদের চট্টগ্রামের সকল এমপি, মন্ত্রী, মেয়র, অনির্বাচিত মন্ত্রী (সাবেক+বর্তমান) এর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখুন, কে কি করেছেন। যারা সুবিধা নেন নি- তারা ভবিষ্যতে সম্মানিত হবেন। তবে সকলের জবাবদিহিতার দিকটি ভেবে দেখা দরকার। রাজনীতিবিদদের কোন জবাবদিহিতা থাকবে না এটা জনগণ কখনো মেনে নেবে না। এটা নেতারা ভাল বুঝবেন।

পাঁচ

সম্প্রতি ইন্ডিয়া টু ডে ভারতীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের এবং রাজনীতিবিদদের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০০৪ সালের তুলনায় এ বছর ভারতের সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী আবু আসিফ আজমির সম্পত্তি বেড়ে গেছে ২৭৭৭ শতাংশ। গত নির্বাচনের তুলনায় এ নির্বাচনে তার সম্পত্তি বেড়েছে প্রায় ১১৮ কোটি রুপী।

গত ৫ বছরে জনতা দলের (এস) প্রার্থী এইচ ডি কুমারা স্বামীর সম্পত্তি বেড়েছে ৮৮১ শতাংশ। কংগ্রেসের সন্তোষ মোহন দেবের সম্পত্তি বেড়েছে ৮০২ শতাংশ। অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের বোন ও কংগ্রেসের প্রার্থী প্রিয়া দত্তের সম্পত্তি বেড়েছে ৭১৭ শতাংশ। জামশেদপুরের বিজেপির প্রার্থী অর্জুন মৃড়ার সম্পত্তি বেড়েছে ৫৬৫ শতাংশ। এছাড়া ভারতের অনেক সাংসদের সম্পত্তি গত ৫ বছরে ১০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।ইন্ডিয়া টুডের এ রিপোর্ট ছাড়াও পাকিস্তান, কোরিয়া, জাপান এমনকি পশ্চিমা দেশের রাজনীতিবিদদের ব্যাপারেও এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এমনকি গরিবের পক্ষে কথা বলেন- এমন রাজনৈতিক নেতাদের হাতেও বিপুল অংকের অর্থ আছে বলে শোনা যাচ্ছে।ইন্ডিয়া টুডে আরো বলেছে ভারতের রাজ্য সভার অর্দ্ধেকও লোকসভার একতৃতীয়াংশ সদস্য কোটিপতি। ২০০৪ সালে ভারতের নির্বাচনে ৩৬৫ জন কোটিপতি প্রার্থী হন। এ বারের নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী তার চেয়ে বহু বেশি। ৫০০ কোটি রুপীর বেশি সম্পত্তির হিসেব দিয়েছেন অধিকাংশ প্রার্থী। কোটিপতি হলেই যদি নির্বাচনে জেতা যায়, তাহলে “গণতন্ত্রের” ধারণা কি আগের জায়গাতে থাকবে? অনেকে ব্যবসা ছেড়ে পলিটিক্স করবে।

দৈনিক প্রথম আলো (৩০ এপ্রিল ২০০৯ ইং) এক রিপোর্টে বলেছে, ভারতে অসম্ভব দ্রুততায় সম্পদ বৃদ্ধির তালিকায় সবচাইতে আলোচিত সাংসদ হচ্ছেন বিজেপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী এল কে আদভানী। গত ৫ বছরে তার সম্পত্তি বেড়েছে ১৭৫ শতাংশ। ২০০৪ সালে ১ কোটি ২৯ লাখ রুপী সম্পত্তির হিসেব দেয়া আদভানী এ বছর ৩ কোটি ৫৫ লাখ রুপীর সম্পত্তি দেখিয়েছেন।প্রথম আলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে ভারতের রাজনীতি যেন টাকা তৈরির যন্ত্র। ঐ দেশটি দারিদ্র্যে জর্জরিত, অন্তত ৭৭ শতাংশ মানুষ দিনে ২০ রুপীর কম আয় করে। আর তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাই ৫০০ কোটির মালিক। টাকা আসে কোত্থেকে? সংসদ সদস্য হওয়ার পর কোটিপতি হয়েছে এমন রাজনৈতিক নেতার সম্পদ অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে। শুধু ভারতে নয় অনেক দেশেই রাজনীতি একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা দিয়ে সম্পদ বাড়ানো যায়। যদি আপনি সম্পদ ও ক্ষমতা বাড়াতে চান-আমার পরামর্শ আপনি চোখ বন্ধ করে রাজনীতিতে নামুন। নির্বাচন করুন।

ছয়

বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাপারটি সাদামাটা চোখে দেখা যায়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখন অনেক ক্ষমতা পাচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের ওপর খবরদারীর ক্ষমতা, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর খবরদারীর ক্ষমতা, স্কুল কলেজের পরিচালনা কমিটির প্রধান হওয়ার ক্ষমতা, স্থানীয় লোকেরা উনাদের নির্বাচিত করেছেন, উনারা ক্ষমতা না পেলে উন্নয়ন কাজ করবেন কিভাবে? উনাদের হাতে টাকা না আসলে জনসেবা করবেন কিভাবে?

বাংলাদেশে শুধু রাজনীতিবিদ নন আমলারাও বিপুল অংকের টাকার মালিক হন। যে দেশে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সে দেশে আমলা, রাজনীতিবিদের সম্পদের বৃদ্ধি ঘটে ২০০ থেকে ৫০০ শতাংশ- সে দেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি হতে পারে? সম্পদের দিকে সবার চোখ, তাহলে কল্যাণ করবে কে? আপনি পাকিস্তানের দিকে তাকান-দুর্নীতির ঠেলায় পাকিস্তান পর্যুদস্ত।

সাত

আমার এক গরিব পাঠক টাকা বানানোর মেশিন খুঁজছে। তাকে আমি পরামর্শ দেবোণ্ড আপনি রাজনীতিতে নামুন। নির্বাচন করুন। কোটিপতি হওয়া কঠিন কাজ। আবার কোটিপতি হওয়া সহজ কাজ। যদি আপনি জনগণের ম্যান্ডেট নিতে পারেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নামেন- কেউ আপনাকে প্রশ্ন করবে না কি করে আপনি কোটিপতি হলেন?

রাজনীতিবিদদের দোষ দিয়ে লাভ নাই- আমাদের দেশে যে ঘুষের চাকরি করে সেও কোটিপতি হয়, যে ঘুষ দেয় সেও। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে না। টাকা কোথায় পাইলা? এত জমি, এত বাড়ি কিন্ছ তুমি- টাকা কোত্থেকে আসল? সবাই চুরি করে, কে কার হিসাব নিবে? কে বলবে, তোমার আয়ের সোর্স কি? যে বলবে তার পিঠের চামড়া থাকবে?

আপনার হাতে টাকা বানানোর মেশিন আছে, আপনি টাকা বানান, জনগণের হাতে মেশিন নাইণ্ড তারা অনাহারে থাকুক, গরিব দেশের গরিব জনগণের বলার কিছুই নাই। আমরা যে সমাজে বসবাস করি সেটা হচ্ছে শোষক এবং টাউট নির্ভর সমাজ। টাকা দিয়ে এ সমাজে মানুষের পরিচয়। টাকা থাকলে মান সম্মান ঠিক থাকে।আমরা একটি জ্ঞান নির্ভর সমাজের স্বপ্ন দেখি। যে সমাজে ঘুষখোর নিন্দিত হবে। রোজগার না করে কোটিপতি বনে যাওয়ারা নিন্দিত হবে। সে সমাজে যে ঘুষের চাকরি করবে সে অন্যের বাড়ি ভিটা কিনে নিতে পারবে না। তাকে প্রশ্ন করা হবে টাকা কোথায় পাইলা?

সে সমাজে জ্ঞানীরা হবেন নন্দিত। মানুষ কোটিপতির কাছে যাবে না- যাবে জ্ঞানীর কাছে। এই জ্ঞান-নির্ভর সমাজ নির্মাণ করবে- সে রাজনীতিবিদরাই। সেটা বাংলাদেশে হোক আর ভারতে হোক। তরুণ প্রজন্মের ভেতরে নতুন দৃষ্টিভংগির রাজনীতিবিদ লুকিয়ে আছে। সকল রাজনীতিবিদকে খারাপ বলার উপায় নেই।টাকা বানানোর যন্ত্রের খোঁজে যারা আছেন তাদের জন্য ছোট্ট ‘টিপস’ “অর্থ সকল অনর্থের মূল”, “জ্ঞান” অর্থের চেয়ে অনেক বড়। আজ একথা আপনার বিশ্বাস না হতে পারে। তবে কাল একথা আপনি বিশ্বাস করবেন। টাকার মেশিনের পেছনে ছুটবেন না।

লেখক: ফজলুল হক, প্রাক্তন অধ্যক্ষ হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্রগ্রাম

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): টাকাঅর্থনীতিপ্রবন্ধ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ব্লগরব্লগরহিবিজিবি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:৪৬
নুশেরা বলেছেন: এতোবড়ো এই লেখা আপনি টাইপ করেছেন না কপিপেস্ট!?!

অফটপিক: অধ্যাপক ফজলুল হক-- ইনি কি গায়ক জেমসের বাবা?
০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:৫১

লেখক বলেছেন: নুশেরাপু....এত্তবড় লেখা টাইপ করতে পারলে তো আপনার মত বিখ্যাত ব্লগার হয়ে যেতাম...

হ্যা....

২. ০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৩০
ঋভু অনিকেত বলেছেন: অধ্যক্ষ ফজলুল হক স্যার
আমি জানি আপনি অনেক সুন্দর লেখেন। দীর্ঘ এ লেখাটা মানুষের মনকে নাড়া দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে বাংলাদেশের ডাক্তারদের নয়। অবশ্য প্রান গোপাল দত্ত এর মত দু'একজন বাদে। দেবী শেঠী টাকার মেশিন, ঠিক আছে,তিনি টাকা কামাই করেন ভাল সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে।আমাদের ডাক্তাররা চিকিৎসাটা যে সেবা না ব্যবসা,গুলিয়ে ফেলেন।
আপনার মনে আছে কীনা জানিনা আমার ছেলে মেয়ে দুটোকে ঘরে তালা দিয়ে আসতাম বলে আপনি খবরের কাগজে লিখে দেবেন বলেছিলেন। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সে সময় তা করতে বাধ্য হয়েছিলাম, তাছাড়া আমাদের কোন উপায়ও ছিল না।
আপনাকে জানাচ্ছি আমার ছেলেটা বুয়েটে পড়ে, মেয়েটা এবার উচ্চ মাধ্যমিক দিচ্ছে।
আপনার কাছ থেকে এ ধরণের লেখা আরো চাই।

০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৪১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ অনিকেত

৪. ০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৩৫
ঋভু অনিকেত বলেছেন: নুশেরাকে বলছি, না ইনি জেমসের বাবা নন। জেমসের বাবা চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাক্তণ মহাপরিচালক প্রয়াত প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক।
০৫ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৪১

লেখক বলেছেন: তথ্যটার জন্য ধন্যবাদ...আমি জানতাম ফজলুল স্যারই!...

০৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৪১

লেখক বলেছেন: হুমম

০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৭. ০৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:০২
অদ্ভুতুড়ে বলেছেন: ভালো লাগল পড়ে। ধন্যবাদ ব্লগে প্রকাশের জন্য
০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১০

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ

০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ঢেকি!

০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১০. ০৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৫২
আকাশ_পাগলা বলেছেন: একটু ছোট করতেন ভাই।

+

কষ্ট করে পড়লাম।
মূল লেখাটা কোথায় ভাই???
০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১২

লেখক বলেছেন: কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ...

এটি চট্রগ্রামের সুপ্রাচীন দৈনিক আজাদীর উপসম্পাদকীয় লেখা

০৬ ই মে, ২০০৯ সকাল ৭:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ঋফায ...আপনার নিকের অর্থ কি?

১২. ০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৫২
সোনার বাংলা বলেছেন:

অসাধারন একটা লেখা...ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।


প্রিয়তে....
০৭ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...

০৭ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১৩

লেখক বলেছেন: !! আচ্ছা...নামের অর্থটাই কি?

১৪. ১৪ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:০৭
০০৭৭৭৭৭ বলেছেন: ঠিক উনার কলেজে( মহসিন কলেজ )গত বছর ভর্তি হয়তে গিয়ে পিয়নকে ৫৫০ টাকা দেওয়ার পর আমার রেজিস্টেসন কার্ড পাইছি...........। টাকা বানানোর মেসিনটা মহসিন কলেজ আর মহসিন স্কুলে গেলে বোঝা যাবে পরিস্কার ভাবে........। ভর্তির প্রথম দিনে আমাকে কানে ধরে দড়িয়া করে রাখছিল মাহাবুব স্যার.........। পরে ঠিক ঐ স্যারের বাসায় পড়তে যেতে হয়ছিল পাশের মুখটা দেখবার জন্য। বব্যহারিক পরীখ্হা দেওয়ার সময় দিতে হয়ছিল ১০০ টাকা........।ওটাকে নাকি পানি খাওয়া বলে স্কুল কলেজে টাকা বানানোর মেশিন টা ছাএরা..........। আমি ঘুষ বানানটা শিখতে চাই.........। আমি ঘুষটাকে দেখতে চাই।আমি ঘুষটাকে দেখতে জানতে চাই...। আমরা দিতে থাকব আর উনারা খেতে থকবে.......
১৫. ২১ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:৪৭
জহুরুল ইসলাম স্ট্রীম বলেছেন: বলেছেন: ঠিক উনার কলেজে( মহসিন কলেজ )গত বছর ভর্তি হয়তে গিয়ে পিয়নকে ৫৫০ টাকা দেওয়ার পর আমার রেজিস্টেসন কার্ড পাইছি...........। টাকা বানানোর মেসিনটা মহসিন কলেজ আর মহসিন স্কুলে গেলে বোঝা যাবে পরিস্কার ভাবে........। ভর্তির প্রথম দিনে আমাকে কানে ধরে দড়িয়া করে রাখছিল মাহাবুব স্যার.........। পরে ঠিক ঐ স্যারের বাসায় পড়তে যেতে হয়ছিল পাশের মুখটা দেখবার জন্য। বব্যহারিক পরীখ্হা দেওয়ার সময় দিতে হয়ছিল ১০০ টাকা........।ওটাকে নাকি পানি খাওয়া বলে স্কুল কলেজে টাকা বানানোর মেশিন টা ছাএরা..........। আমি ঘুষ বানানটা শিখতে চাই.........। আমি ঘুষটাকে দেখতে চাই।আমি ঘুষটাকে দেখতে জানতে চাই...। আমরা দিতে থাকব আর উনারা খেতে থকবে.......।

টাকা বানানোর মেশিনে এই অংশটি থাকলে পূর্ন হতো লেখাটা। তারপরো ভালো লাগলো্।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৬১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লাইফটা মাঝে মাঝে তেজপাতা মনে হয়

bdidol @ gmail.com
fb.me/bdidol
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ