somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন শাহাদাব আকবরের কথা মনে আছে?

২২ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে আছে এই চমৎকার ব্যক্তিটিকে?

অবৈধ সম্পদের বিবরণী মামলায় তিনি ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারায় দুই বছর এবং ২৭(১) ধারার আওতায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫ ও ১৬৬ ধারার আওতায় যথাক্রমে এক বছর ও পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাকুল্যে তার সাজা ছিল ১৮ বছর।

তিনি কখনো আত্মসমর্পণ করেননি। পলাতক দণ্ডিত দোষী ব্যক্তি আইন ও সংবিধানের কোনো সুবিধা নিতে পারেন না এবং তাঁকে অনুরূপ সুবিধা দেওয়াও রাষ্ট্রের কারও এখতিয়ারে পড়ে না সাধারণ হিসাবে। তবে ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা-২-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রুখসানা হাসিনের সই করা এক পত্র থেকে দেখা যায়, শাহাদাব আকবরই নিজের দণ্ড মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন। পলাতক আসামীর নিজে দন্ড মওকুফের আবেদন এই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

শুধু তাই না, সে আবেদন পৌছে যায় বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষক প্রেসিডেন্টের কাছে। তড়িৎ প্রয়োহ হয় ধারা ৪৯। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ যদিও বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম তাঁর কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ বইয়ে অভিমত দিয়েছেন, ‘অন্যান্য ক্ষমতার মতো দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা প্রয়োগেও রাষ্ট্রপতি স্বাধীন নন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই তাঁকে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।’।

যে অসীম ক্ষমতাধর, বনখেকো মহিলার কারণে এই সব অসীম-অবিশ্বাস্য ব্যাপর-স্যাপার তিনি আজ সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি যে কমিটির প্রধান সে কমিটির ম্যান্ডেট হচ্ছেঃ

১. জনগণের স্বার্বভৌম ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
২. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নতকরণ/সংরক্ষণ
৩. মহাজোটের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ (শুনেছিলাম এটা সর্বদলীয় কমিটি)
৪. জনগণের দেয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন
৫. দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করা এবং
৬. অবৈধ ক্ষমতা দখল বন্ধ করা

সব দেখে শুনে আমার পাশের বাসার ছোট্ট কুকুরটা হাসছেঁ কেন যেন....:)

ফুটনোটঃ

ক) ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৪ আওয়ামী লীগ, জামায়াত আলাদা সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য বিএনপি সরকারকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়৷ সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকায় ২৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগপত্র পেশ করে৷শুন্য আসনে উপনির্বাচনের পর সংসদ বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ থেকে টানা ৩২ ঘণ্টা হরতাল পালন করে আওয়ামী লীগ ও জামাত জোট। ৬ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা আবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। একই দাবীতে ১৬ নভেম্বর ১৯৯৫ থেকে একাধারে ৭ দিন হরতাল পালিত হয়। পরের বছর ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পর ২৩ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে সচিবালয়ের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা তাদের চাকুরির নিয়ম ভঙ্গ করে জনতার মঞ্চ স্থাপন ও সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়।

খ) ১/১১ এর সরকার আমাদের সৃষ্টিঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্যসুত্র: ,
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১২ ভোর ৫:৫৫
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×