আমার প্রিয় পোস্ট

http://tinyurl.com/epitaphblogs

গোলাম মোস্তাফার কণ্ঠে সুকান্তের বোধন

০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:০০

শেয়ারঃ
0 0 0

সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্হে প্রকাশিত বোধন কবিতাটি গোলাম মোস্তাফার চেয়ে ভাল আবৃত্তি কেউ করেছি কিনা জানা নেই । অসম্ভব বলিষ্ঠ আবৃত্তি - শোনার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ভিতর বিদ্যুৎ খেলে যায় ।


ডাউনলোড : Click This Link

বোধন
হে মহামানব, একবার এসো ফিরে
শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম নগরের ভিড়ে,
এখানে মৃত্যু হানা দেয় বারবার;
লোকচক্ষুর আড়ালে এখানে জমেছে অন্ধকার।
এই যে আকাশ, দিগন্ত, মাঠ স্বপ্নে সবুজ মাটি
নীরবে মৃত্যু গেড়েছে এখানে ঘাঁটি;

কোথাও নেইকো পার
মারী ও মড়ক, মন্বন্তর, ঘন ঘন বন্যার
আঘাতে আঘাতে ছিন্নভিন্ন ভাঙা নৌকার পাল,
এখানে চরম দুঃখ কেটেছে সর্বনাশের খাল,
ভাঙা ঘর, ফাঁকা ভিটেতে জমেছে নির্জনতার কালো,
হে মহামানব, এখানে শুকনো পাতায় আগুন জ্বালো।

ব্যাহত জীবনযাত্রা, চুপি চুপি কান্না বও বুকে,
হে নীড়-বিহারী সঙ্গী! আজ শুধু মনে মনে ধুঁকে
ভেবেছ সংসারসিন্ধু কোনোমতে হয়ে যাবে পার
পায়ে পায়ে বাধা ঠেলে। তবু আজো বিস্ময় আমার-
ধূর্ত, প্রবঞ্চক যারা কেড়েছে মুখের শেষ গ্রাস
তাদের করেছ ক্ষমা, ডেকেছ নিজের সর্বনাশ।
তোমার ক্ষেতের শস্য
চুরি ক'রে যারা গুপ্তকক্ষতে জমায়
তাদেরি দু'পায়ে প্রাণ ঢেলে দিলে দুঃসহ ক্ষমায়;
লোভের পাপের দুর্গ গম্বুজ ও প্রাসাদে মিনারে
তুমি যে পেতেছ হাত; আজ মাথা ঠুকে বারে বারে
অভিশাপ দাও যদি, বারংবার হবে তা নিস্ফল-
তোমার অন্যায়ে জেনো এ অন্যায় হয়েছে প্রবল।
তুমি তো প্রহর গোনো,
তারা মুদ্রা গোনে কোটি কোটি,
তাদের ভাণ্ডার পূর্ণ; শূন্য মাঠে কঙ্কাল-করোটি
তোমাকে বিদ্রূপ করে, হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে-
কুজ্ঝটি তোমার চোখে, তুমি ঘুরে ফেরো দুর্বিপাকে।

পৃথিবী উদাস, শোনো হে দুনিয়াদার!
সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু-কালো পাহাড়
দগ্ধ হৃদয়ে যদিও ফেরাও ঘাড়
সামনে পেছনে কোথাও পাবে না পার:
কি করে খুলবে মৃত্যু-ঠেকানো দ্বার-
এই মুহূর্তে জবাব দেবে কি তার?

লক্ষ লক্ষ প্রাণের দাম
অনেক দিয়েছি; উজাড় গ্রাম।
সুদ ও আসলে আজকে তাই
যুদ্ধ শেষের প্রাপ্য চাই।

কৃপণ পৃথিবী, লোভের অস্ত্র
দিয়ে কেড়ে নেয় অন্নবস্ত্র,
লোলুপ রসনা মেলা পৃথিবীতে
বাড়াও ও-হাত তাকে ছিঁড়ে নিতে।
লোভের মাথায় পদাঘাত হানো-
আনো, রক্তের ভাগীরথী আনো।
দৈত্যরাজের যত অনুচর
মৃত্যুর ফাঁদ পাতে পর পর;
মেলো চোখ আজ ভাঙো সে ফাঁদ-
হাঁকো দিকে দিকে সিংহনাদ।
তোমার ফসল, তোমার মাটি
তাদের জীয়ন ও মরণকাঠি
তোমার চেতনা চালিত হাতে।
এখনও কাঁপবে আশঙ্কাতে?
স্বদেশপ্রেমের ব্যাঙ্গমা পাখি
মারণমন্ত্র বলে, শোনো তা কি?
এখনো কি তুমি আমি স্বতন্ত্র?
করো আবৃত্তি, হাঁকো সে মন্ত্রঃ
শোন্ রে মালিক, শোন্ রে মজুতদার!
তোদের প্রাসাদে জমা হল কত মৃত মানুষের হাড়-
হিসাব কি দিবি তার?

প্রিয়াকে আমার কেড়েছিস তোরা,
ভেঙেছিস ঘরবাড়ি,
সে কথা কি আমি জীবনে মরণে
কখনো ভুলতে পারি?
আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই
স্বজনহারানো শ্মশানে তোদের
চিতা আমি তুলবই।

শোন্ রে মজুতদার,
ফসল ফলানো মাটিতে রোপণ
করব তোকে এবার।

তারপর বহুশত যুগ পরে
ভবিষ্যতের কোনো যাদুঘরে
নৃতত্ত্ববিদ্ হয়রান হয়ে মুছবে কপাল তার,
মজুতদার ও মানুষের হাড়ে মিল খুঁজে পাওয়া ভার।
তেরোশো সালের মধ্যবর্তী মালিক, মজুতদার
মানুষ ছিল কি? জবাব মেলে না তার।

আজ আর বিমূঢ় আস্ফালন নয়,
দিগন্তে প্রত্যাসন্ন সর্বনাশের ঝড়;
আজকের নৈঃশব্দ হোক যুদ্ধারম্ভের স্বীকৃতি।
দুহাতে বাজাও প্রতিশোদের উন্মত্ত দামামা,
প্রার্থনা করোঃ
হে জীবন, যে যুগ-সন্ধিকালের চেতনা-
আজকে শক্তি দাও, যুগ যুগ বাঞ্ছিত দুর্দমনীয় শক্তি,
প্রাণে আর মনে দাও শীতের শেষের
তুষার-গলানো উত্তাপ।
টুকরে টুকরো ক'রে ছেঁড়ো তোমার
অন্যায় আর ভীরুতার কলঙ্কিত কাহিনী।
শোষক আর শাসকের নিষ্ঠুর একতার বিরুদ্ধে
একত্রিত হোক আমাদের সংহতি।

তা যদি না হয় মাথার উপরে ভয়ঙ্কর
বিপদ নামুক, ঝড়ে বন্যায় ভাঙুক ঘর;
তা যদি না হয়, বুঝবো তুমি মানুষ নও-
গোপনে গোপনে দেশদ্রোহীর পতাকা বও।
ভারতবর্ষ মাটি দেয়নিকো, দেয় নি জল
দেয় নি তোমার মুখেতে অন্ন, বাহুতে বল
পূর্বপুরুষ অনুপস্থিত রক্তে, তাই
ভারতবর্ষে আজকে তোমার নেইকো ঠাঁই।।

আবৃত্তিকার পরিচিতি:

অভিনেতা ও আবৃত্তিকার গোলাম মুস্তাফা ১৯৩৫ সালের ২ মার্চ খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সংস্কৃতিজীবনের শুরু আবৃত্তি দিয়ে । তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত সংস্কৃতিকর্মী। তিনি বাংলাদেশে আবৃত্তি জনপ্রিয়করণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

তিনি প্রায় তিনশ চলচ্চিত্রে নায়ক, সহনায়ক, খলনায়ক সহ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'রূপালী সৈকতে', 'সীমানা পেরিয়ে', 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'পদ্মা নদীর মাঝি', 'এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী', 'ধীরে বহে মেঘনা', 'দেবদাস' ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে একুশে পদক সম্মানে ভুষিত হন। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাচসাস পুরস্কারও লাভ করেন।

গোলাম মুস্তাফা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র: গুণীজন ডট কম

কবি পরিচিতি:

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ই আগস্ট, ১৯২৬ - ১৩ই মে, ১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু। তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে। রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের সৃষ্টিশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, সুকান্ত তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতার ছন্দ, ভাষা, রচনাশৈলী এত স্বচ্ছন্দ, বলিষ্ঠ ও নিখুঁত যে, তাঁর বয়সের বিবেচনায় এরূপ রচনা বিস্ময়কর ও অসাধারণ বলে মনে হয়।

পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

 

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: হ্যা, রোম দাড়িয়ে যাওয়ার মত!

এটা অনেক অনেক খুঁজে পেলাম । সব্যসাচীর বিদ্রোহীর পর এটার মত এত বলিষ্ঠ আবৃত্তি খুব বেশী শুনিনি।

২. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:২২
মো হ না বলেছেন: সুকান্তের এমন কোনো কবিতা নাই, যেটা আমার প্রিয় নয়। এ কবিতাটার কথা বলাই বাহুল্য। গোলাম মোস্তাফা প্রিয় অভিনেতা। তাঁর কণ্ঠে আবৃতি শুনেছি, তবে এটা শোনা হয় নি। ফ্যাভারিট করলাম পরে শুনবো বলে।

আপনাকে ধন্যবাদ।
০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন: ক্লিক করলাম । ধন্যবাদ, আরেকটি অসাধারণ আবৃত্তির জন্য!

৪. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩২
আগামি বলেছেন: উপরের লিংকে গোলাম মোস্তফার কন্ঠে সিকান্দার আবু জাফরের বাংলা ছাড়ো পাবেন ।


গোলাম মোস্তফার কন্ঠে বাংলা ছাড়ো ই সবচেয়ে বেশি আদৃত । অন্তত, আমার কাছে । বোধনও প্রিয় । গোলাম মোস্তফার কন্ঠে শুনেছি বেশ কয়েকবার । শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ ।
০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৪০

লেখক বলেছেন: গোলাম মোস্তাফার "বাংলা ছাড়ো" সরাসরি বাংলা একাডেমীতে শোনা সৌভাগ্য হয়েছে। আপনার সঙ্গে একমত না হয়ে উপায় নেই । রেকর্ড শুনে সেই জিনিস পাওয়া সম্ভব নয় ।

০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

৮. ০৯ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৪৪
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: আমার নমস্য গুরুদের একজন সুকান্ত। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
৯. ১১ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৪:৩৮
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন: সামনাসামনি মুস্তাফার আবৃত্তি শুনবার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। অসামান্য আবৃত্তিকার ছিলেন। গলার বেজ, উচ্চারণ, স্বরের ওঠানামা-অদ্ভুত। শেয়ার করার জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ অনিক ভাই। আগামি কেও ধন্যবাদ। ডাউনলোড করে নিলাম।
১১. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭
কৌশিক বলেছেন: ওয়াও! চমৎকার।
(আপনাকে কেন ব্যান করেছে? জানি না উত্তর দেবার ক্ষমতা আছে কিনা!)
১৪. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৮
খারেজি বলেছেন:
সোজা

আপনের ব্লগ ফেরত দিল!

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৩৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নাম অনিক । মনে প্রাণে একজন বাংলাদেশী । দেশের বাইরে আছি কিন্তু মন পড়ে থাকে দেশের জন্য । দর্শন এবং...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই