পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের পর পরিস্থিতি এখন এতটাই বিপজ্জনক যে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি নিয়ে কথা বলতেও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ঘিরে ধরে। না জানি কখন আবার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপবাদে গিলতে হয় একটার পর একটা মামলা। তাছাড়া নৃশংসতার যে মহামারী চলছে তাতে ‘বাঁশবাড়িয়ার বড় বাড়ির বড় বাবু বিপিনবিহারী বসু বৈকালে বাঁশ বনে বসিয়া বসিয়া বক বক বকিতেন’— বলার সময়ও পাওয়া যাবে না। তার আগেই পটল তোলা হয়তো কমপ্লিট হয়ে যাবে। তারপরও তো আশা থাকে। থাকে আশার বসতি।
মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু আমাদের প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু’ নন। ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে তার আবির্ভাব যতই মহিমান্বিত হোক, ইতিহাসে তার স্থান তৃতীয়। অর্থাত্ তিনি আমাদের ‘তৃতীয় বঙ্গবন্ধু’, বঙ্গবন্ধু দ্য থার্ড। এটা রাগ, গোসসা কিংবা ইয়ার্কি মারার জিনিস নয়। এটা ইতিহাস। সত্যিকারের ইতিহাস, এতে কোনো ফরমালিন মেশানো নেই, ভুষিমালও নেই। আর ইতিহাস তো শাসক দলের মনোরঞ্জনের জন্য বদলে ফেলা যায় না। যদিও আমাদের দেশের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবী নৈতিক চরিত্রহীনতার কারণে, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে ইতিহাস ‘সৃষ্টি’ করেন।
তা তারা করতেই পারেন। আমাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ‘বঙ্গবন্ধু’ অর্থাত্ বঙ্গবন্ধু দ্য সেকেন্ড ছিলেন ‘মুসলিম বাংলার রামমোহন’ হিসেবে খ্যাত, অবিস্মরণীয় সমাজ সংস্কারক, বাগ্মী মুন্সী মেহেরুল্লাহ (১৮৬১-১৯০৭)। ইংরেজ শাসক ও তাদের ধর্ম প্রতারকদের বিরুদ্ধে তিনি গড়ে তুলেছিলেন কার্যকর প্রতিরোধ। তিনি ঘুমিয়ে আছেন আজকের যশোর জেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। তাকে যশোর, খুলনা, নদীয়া, চব্বিশ পরগনা ও খুলনার মানুষ ভালোবেসে এই উপাধি দিয়েছিল।
আসলে আমাদের ইতিহাসের প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু’ কোনো ব্যক্তিবিশেষ নন। ওটি ছিল একটি পত্রিকা। ১৮৭০-এ বঙ্গচন্দ্র রায়ের সম্পাদনায় ঢাকা ব্রাহ্মসমাজের ‘সঙ্গত সভা’ কর্তৃক এটির পাক্ষিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। পরে এই পত্রিকা সাপ্তাহিক কাগজে পরিণত হয়। সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেন ইতিহাসবিশ্রুত ভাই গিরিশচন্দ্র সেন মহাশয় (১৮৩৫-১৯১০)। তাঁর সম্পাদনায় এই পত্রিকা ১৯০৭ পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধু পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে ভাই গিরিশচন্দ্র সেনকেও অনেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করতেন—বিদগ্ধ কারও কারও কথা।
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন আমাদের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন অনেক কারণে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি পূর্ণাঙ্গ কোরআন শরীফ বাংলায় অনুবাদ করেন। ১৮৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর ছিল এর প্রকাশের তারিখ। বাংলাদেশের মানুষ কেন এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করে না জানি না। ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের কথা হয়তো আজ আর কারও মনেও পড়ে না। নারায়ণগঞ্জ (বর্তমানে নরসিংদী) জেলার পাঁচদোনা গ্রামে জন্মেছিলেন এই মহাপুরুষ। তিনিই কেশবচন্দ্রের অনুপ্রেরণায় ইসলামের মহানবী, আওলিয়াদের জীবন, মহররম নিয়ে গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ মেশকাত শরীফেরও প্রথম অনুবাদক তিনি। তিনি সর্বশক্তি দিয়ে বঙ্গ ভঙ্গকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি আমাদের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবী কিংবা রাজনীতিবিদের মতো ‘কলকাতাবাদী’ ছিলেন না, ছিলেন রক্তে-মাংসে ‘ঢাকাপন্থী’। তাঁর মৃত্যু হয় ১৫ আগস্ট ১৯১০। অর্থাত্ আমাদের ইতিহাসের প্রথম ও শেষ ‘বঙ্গবন্ধু’র মৃত্যুদিন একই তারিখে। যদিও মাঝে সময়ের ব্যবধান ৬৫ বছর।
এখন কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারেন, তুলবেনও কেউ কেউ, ১৫ আগস্ট যেহেতু ‘জাতির জনকের’ পরলোকগমন দিবস, সেহেতু ওইদিন ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের মৃত্যুদিন উদযাপন করা যাবে না।
যেমন আমাদের শাসক দলের অনেক নেতানেত্রী এমনকি মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রীরা পর্যন্ত ভয়ানক নাখোশ বিরোধীদলীয় নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। কারণ তাঁর জন্মদিন ১৫ আগস্ট। বলা হচ্ছে তাঁর কোনো অধিকার নেই ‘জাতীয় শোক’ দিবসে নিজের জন্মদিন পালনের। হয় তাঁকে তাঁর জন্মদিন পাল্টাতে হবে, না হয় সব ধরনের উত্সব-অনুষ্ঠান বর্জন করতে হবে।
কী ভয়ানক মুসিবত! নিজের জন্মের ওপর তো কারও কোনো হাত নেই। এটা উপরওয়ালা নির্ধারণ করেন। তাছাড়া খালেদা জিয়ার জন্মদাতারাও তো জানতেন না যে ওইদিন ‘জাতির জনক’ নিহত হবেন। এখন না হয় ‘সিজারিয়ান’ যুগ এসেছে। ইচ্ছে করলেই নবজাতকের জন্ম তারিখ আগ-পাছ করা যায়। সরকার যদি এখন আইন জারি করে যে ১৫ আগস্টে কেউ জন্মগ্রহণ করতে পারবে না, তাহলে আমাদের বর্তমান র্যাব বা পুলিশের যে আচরণ, তারা হয়তো তা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মতো আরও যারা ওইদিন জন্মেছিলেন তাদের এখন উপায় কী? জন্মদিন উদযাপনের অভিযোগে কি তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হবে?
সরকারের কাছে একটা বিশেষ অনুরোধ। ভারতীয় পত্রপত্রিকাগুলো ইদানীং তাদের দলকে প্রো-ইন্ডিয়ান দল হিসেবে স্নেহ-আশীর্বাদ বর্ষণ করছে। পিঠও চাপড়ে দিচ্ছে। ভারতপ্রেমে তারাও রাধার মতো আকুল-ব্যাকুল ভাদর। এত এত প্রেম ও বন্ধুত্ব যেখানে, সেখানে ‘জীবনের জীবন’ বন্ধুকে তো বলাই যেতে পারে, “দাদা, আমাদের ‘জাতীয় শোক’ দিবসে তোমরা তোমাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করো না। আমাদের শোকের দিনে তোমরা আনন্দ স্ফূর্তি করবে—এ ভারি অন্যায়। তোমাদের প্রেমে পাগলপ্রায় বন্ধুর জন্য অন্তত এটুকু করো।”
তবে আমি হলফ করে বলতে পারি, এটুকু বলার সাহস বা সদিচ্ছা আমাদের বর্তমান সরকারের নেই। তাদের যত হম্বিতম্বি সব নিজের দেশের সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলগুলোর ওপর। তাছাড়া কর্মটি তারা করবে কেন, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তো এখন ভারতীয় হাইকমিশনের এক্সটেনশন।
দুই.
যে কথা বলছিলাম, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন বিধান-আচার্য কেশব চন্দ্র সেনের প্রেরণা ও উত্সাহে আরবি, ফার্সি এবং উর্দু ভাষা আয়ত্ত করে ইসলাম ধর্মের মর্ম অনুধাবন করার জন্য জীবনের অর্ধযুগ কাটিয়েছিলেন, সেই সময়কার লক্ষেষ্টৗর বিখ্যাত সব মাদরাসায়। তারপর দেশে ফিরে হাত দেন ইসলাম চর্চায়। তারপর ‘মোসলমান জাতি সম্বন্ধে বদ্ধমূল কুসংস্কার লোকের অন্তর হইতে দূর করিবে’—এই উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করতে থাকেন হিতোপাখ্যানমালা (গুলিস্তা), হিতোপাখ্যানমালা (বুস্তা), হাফেজ (৪ খণ্ড), দরবেশদিগের উক্তি, নীতিমালা (আকসিরে হেদায়েত), দরবেশদিগের ক্রিয়া, দরবেশদিগের সাধন প্রণালী, তাজকেরাতুল আউলিয়া (তাপসমালা ৬ খণ্ড), গুলশানে আকরার, মসনবী, মহাপুরুষ মোহাম্মদের জীবনচরিত (তিন খণ্ড), হাদিস মেশকাত মুসবিহ, ইমাম হসন ও হোসয়ন, মহাপুরুষ মোহাম্মদ এবং তত্প্রবর্তিত ধর্ম, চারিটি সাধ্বী মোসলমান নারী, কোরানের রচনাবলীর মতো অনশ্বর গ্রন্থাবলী। এছাড়া কোরআন শরীফের অনুবাদ তো আছেই।
১৯৩৬ সালে তাঁর অনূদিত ‘কোরান শরীফের’ চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকায় মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ মহামূল্যবান কয়েকটি কথা লিখেছিলেন, ‘আরবী পারসী ভাষায় সুপণ্ডিত মোসলমানের অভাব বাংলাদেশে ছিল না।... কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই। এই গুরুদায়িত্ব বহন করিবার সুদৃঢ় সংকল্প নিয়া, সর্বপ্রথম প্রস্তুত হইলেন একজন হিন্দু সন্তান, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন—বিধান-আচার্য কেশবচন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে। গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’
ভাই গিরিশচন্দ্রের অন্য ধর্মের প্রতি এই অপরিসীম শ্রদ্ধা, মমতা এবং ইসলাম সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখে সে সময় অনেকেই তাঁকে ‘মওলানা ভাই গিরিশচন্দ্র সেন’ বলতেন। নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়া তাঁকে যেসব চিঠিপত্র লিখেছেন তাতে দেখা যায়, তিনি নিজেকে ‘আপনার স্নেহের মা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
আমাদের বর্তমান শাসক দলের নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপির বাংলা-ইংরেজি জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলা রীতিমত বাতুলতা। তিনি শুধু এই দুটি ভাষা নয়, হয়তো হিন্দিও ভালো জানেন। তিনি স্বনামধন্য পার্লামেন্টারিয়ান, আইনজ্ঞ। তিনি রাজনীতিবিদ। তিনি দুর্দান্ত বক্তা। কিন্তু ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের মতো অথবা তাঁর ধারে-কাছের ইসলাম বিশেষজ্ঞ কিংবা আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষার পণ্ডিত, এমন কথা তাঁর পরম মিত্রও বলতে পারবেন না।
তবুও তিনি কীর্তিমান মানুষ। যে ’৭২-এর সংবিধানের প্রেমে এখন তিনি কাতর, সেই সংবিধানকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাইরে চলে এসেছিলেন। তাঁর অনুসারী বা সমমনস্করা মরহুম শেখ মুজিবের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে এখন আবার তাঁরই মতো ‘মুজিবময়’ হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের নীতি-আদর্শ বর্জিত রাজনীতিতে এগুলো হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কিন্তু তিনি নিজ স্কন্ধে স্বেচ্ছায় এর চেয়েও গুরুতর বিষয় তুলে নিয়েছেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে সামনে নিয়ে এবং পাস করিয়ে তিনি হয়তো প্রচুর বাহবা পাচ্ছেন। কথা সেখানেও নয়। বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে কি থাকবে না, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে কি থাকবে না, সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর অবিচল বিশ্বাস ও আস্থা থাকবে কি থাকবে না, আল্লাহর অনুবাদ ‘সৃষ্টিকর্তা’ হবে কি হবে না—এর ওপর তিনি আমাদের প্রতিনিয়ত বাণী দিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর সে বাণী আমাদের অহরহ গিলতে হচ্ছে।
এরপর হয়তো আমরা দেখব আমাদের মাদরাসাগুলোর সিলেবাস প্রণয়নের দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন। দেখব, আমাদের উলামা-মাশায়েখদের ভাত মেরে তিনি বায়তুল মোকররম জাতীয় মসজিদের খতিবের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিংবা ইসলাম সম্পর্কে দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক ফতোয়া। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতের ওপর, অজু-গোসলের ওপর, হারাম-হালালের ওপর দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক বিধান।
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অনেক কিছুর ওপর কথা বলার অধিকার তার আছে। কিন্তু সব কিছুর ওপর নয়। সব কিছুর ওপর কথা বলতে হলে তাকে এগিয়ে আসতে হবে ‘পদ্ধতি’ মোতাবেক। কিন্তু তিনি হয়তো সে পদ্ধতি মানবেন না। যদি না-ই মানেন, তাহলে এই সীমা লঙ্ঘন কেন? ‘আমরা কোথায় আছি?’ দেশ হিসেবে যাচ্ছিই বা কোন চুলায়?
এই কথাটাও জননেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের। সেনাবাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তার নাম নাকি বলেছিল এক বন্দি জঙ্গি। সেনাবাহিনীর ওই পদস্থ কর্মকর্তা ২০০১ সালে নাকি ওই লোকটিকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার ৮ বছর পর জাতির জন্য উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায়, আইনের শাসন ও সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর হাহাকার করে উঠলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ‘আমরা কোথায় আছি?’
তিন.
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এই বাক্য উচ্চারণের দুই বছর পর এখন তার কাছেই পুরো জাতির প্রশ্ন—‘আমরা কোথায় আছি?’ কারণ মানবাধিকার এখন ভূলুণ্ঠিত। দেশজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে নৃশংসতা। বিরোধীদলীয় নেত্রী থেকে শুরু করে গরিব চাষী পর্যন্ত কারও চোখে আজ ঘুম নেই। ঘরে ঘরে চাকরি, বিনামূল্যে সার, ১০ টাকা কেজিতে চালের কথা এখন মনেও করতে পারে না কেউ। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। খাদ্যের নিরাপত্তা নেই। সম্পদের নিরাপত্তা নেই। শাসনব্যবস্থা বিপর্যস্ত। আইনের শাসন এখন অতীত দিনের স্মৃতি। বিচারব্যবস্থা ধ্বংসের শেষ কিনারে। পুলিশ এখন দলীয় ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। দ্রব্যমূল্য সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন। বিদ্যুত্ নেই। গ্যাস নেই। পানি নেই। চাকরি নেই। কথা বললেই মামলা। রিমান্ডে নিয়ে নির্মম পিটুনি। দেশের ৬৬টি কারাগারে তিলধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার তিন-চার গুণ বেশি সেখানে বন্দি। কথায় কথায় খুন, জখম, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, চাপাবাজি, মিথ্যাচার এখন যেন রাজনৈতিক কালচারে পরিণত হয়েছে। গোটা দেশই যেন এক কারাগার, আতঙ্কপুরী।
দেশের জমি, সমুদ্রসীমা তুলে দেয়া হচ্ছে বন্ধু ভারতকে। ট্রানজিট-করিডোর তো দেয়া হয়েই গেছে। প্রতিদিন আমাদের খুন করছে ভারতীয় বিএসএফ। তার কোনো বিচার নেই। প্রতিবাদও নেই।
রাষ্ট্রপতি দেশের ভয়ঙ্কর সব খুনিকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন। শুধু বিপ্লব নয়, এর আগে তিনি নাটোরের ২০ ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ছেলেকেও তিনি ক্ষমা চাওয়ার আগেই ক্ষমা করে দিয়েছেন। এমপি শাওনের মতো অনেক সন্ত্রাসীও তার ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয়নি। ‘বঙ্গবন্ধু’ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিদেশ থেকে ধরে আনার জন্য ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগ করা এবং ‘সর্বশক্তি প্রয়োগ’ করে দলীয় খুনিদের স্বমহিমায় রক্ষা করার মধ্য দিয়ে যে ‘গণতান্ত্রিক’ মোনাফেকির উলঙ্গ বীভত্সতা আজ দৃশ্যমান, তার শেষ কোথায়? কেন এই ভয়ঙ্কর ক্ষমা-দান?
চার.
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সভানেত্রী মিসেস সোনিয়া গান্ধীকে যখন অটিজম সম্মেলনে এনে ঢাকায় রাজকীয় সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছিল, যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক অবদান রাখার জন্য তাঁর হাতে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর জন্য তুলে দেয়া হচ্ছিল দেশের সর্বোচ্চ পদক ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’—সেই সময় সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ নির্মমভাবে, পৈশাচিক কায়দায় মুখ ও মাথা পাথর দিয়ে থেঁতলে, তীক্ষষ্ট ধারালো বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে এক নিরস্ত্র-নিরপরাধ বাংলাদেশী যুবক রফিকুল ইসলামকে (২৮)। তারপর জিঘাংসায় উন্মত্ত ভারতীয় বিএসএফ এই হতভাগ্যের লাশ ফেলে দেয় সীমান্তসংলগ্ন সনিয়াজান নদীতে। সোনিয়ার হাতে যখন আমাদের বন্ধুত্বের মসলিনে বোনা হৃদয় উপচানো পুষ্পস্তবক, সেই সময় তারই নামের সঙ্গে মিলে যাওয়া ‘সনিয়া’জান নদীতে ভাসছিল আমাদের ভাইয়ের বিকৃত, ক্ষতবিক্ষত, দুমড়ানো-মুচড়ানো লাশ। আমাদের হাতে যখন বন্ধুর জন্য ভালোবাসা, তখন সোনিয়ার হাতে আমাদের নিহত ভাইয়ের রক্ত। চমত্কার!
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথারীতি নিন্দা জানানোর সময় পাননি। কারণ তিনি তখন তার হীরার কুচির মতো সুন্দর দাঁতগুলো একসঙ্গে বার করে সোনিয়ার পাশে ছবির জন্য পোজ দিচ্ছিলেন।
এক হাজারেরও বেশি মানুষ গত কয়েক বছরে বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে। বিশেষ করে পদুয়া হারানোর জ্বালা এবং বড়ইবাড়ী আগ্রাসনের সময় গোহারা হেরে যাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ধার না ধেরে অনেকটা যেন ‘বন্য কুকুর’-এ পরিণত হয়েছে এই বাহিনী। আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ‘আদিম নৃশংসতায় মানুষ হত্যা করছে বিএসএফ।’ যেন হত্যার এক মধ্যযুগীয় বর্বর উল্লাসে উন্মাদ হয়ে গেছে এরা। ২০১০ সালে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ শিরোনামে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিএসএফের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আটক, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল। তারপর চক্ষুলজ্জায়ই হোক ভারত বারবার নানা বৈঠকে বাংলাদেশকেও আশ্বস্ত করেছিল আর প্রাণঘাতী গুলি নয়। এবার দেয়া হবে রাবার বুলেট।
এরপর থেকে বাংলাদেশী মানুষ হত্যার অভিনব এবং নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে ভারত। এসব ভয়ানক কৌশলের মধ্যে আছে পাথর ছুঁড়ে থেঁতলে থেঁতলে হত্যা, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা, পানিতে চুবিয়ে চুবিয়ে হত্যা, বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে হত্যা ইত্যাদি।
ফেলানী হত্যার পর পিঠের চামড়া বাঁচানোর জন্য চক্ষুলজ্জায় হোক আমাদের সরকার অতিক্ষীণ কণ্ঠে কিছু বলেছিল। হয়তো প্রতিবাদই হবে। ব্যাস, ওইটুকুই।
বিএসএফ এখন তাদের নব-উদ্ভাবিত নতুন নতুন পদ্ধতিতে আমাদের ভাইদের খুন করছে। আর আমাদের সরকার এবং আমাদের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবী দাদার পায়ে সেলাম ঠুকে, চাকরি ঠিক রেখে, ঘরে বসে মজাসে দেখছেন ‘মিরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার’, শাহরুখ খানের ‘চাক দে ইন্ডিয়া’, দুচোখ উপুড় করে পান করছেন ঐশ্বরিয়া রাই কিংবা কারিনা কাপুরের রূপসুধা।
পাঁচ.
ভারতের প্রয়াস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহযোগিতায় ‘গান্ধী’ এখন বিশ্ব আইকন। তারপরও বলার অপেক্ষা রাখে না, গান্ধী সব সীমাবদ্ধতা নিয়েই ‘মহাপুরুষ’ ছিলেন। গান্ধীর বাণী ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ অনেকেই নিজের রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে নিয়েছেন। অনেকে গান্ধীবাদী হওয়ার জন্য নিজের জীবনেও তা প্রয়োগ করেছেন। বাংলাদেশেও দু-একজন আছেন, মাছ-গোস্ত যাই খান, গান্ধীর মতো পোশাক পরে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের কোশেশ করেন।
ভারতীয় জাতির ‘বাপুজী’ মহাত্মা গান্ধীর একজন গুরুত্বপূর্ণ শিষ্য ছিলেন আচার্য ্বিনোবাভাবে। বিনোবাভাবে তাঁর সমগ্র জীবনই উত্সর্গ করেছিলেন দুস্থ ও গরিব মানুষের কল্যাণে। তাঁর একটা নন্দিত এবং ঐতিহাসিক কর্মসূচি ছিল ‘ভূ-দান’ আন্দোলন। এই আন্দোলন তিনি সারা ভারতে ছড়িয়ে দেন। পঞ্চাশের দশকে আমাদের বাংলাদেশেও তিনি এসেছিলেন। তিনি সারা দেশ ঘুরে ঘুরে জমিদার, সামন্তপ্রভু ও ধনী ভূস্বামীদের উত্সাহিত করতেন দুস্থ, গরিব, ভূমিহীন কিংবা বর্গাচাষীদের বিনামূল্যে জমিদানের জন্য। তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অনেক ভূস্বামী সে সময় ভূমিহীন গরিব চাষীদের মধ্যে জমি দান করেছিলেন।
বিনোবাভাবে আজ নেই। তাঁর কর্মসূচিও আজ নেই। পেরিয়ে গেছে দশকের পর দশক। সব এখন কেবল স্মৃতি। কিন্তু অতি উদ্বেগের বিষয়, এই গুণের কিঞ্চিত আলামত আমাদের সরকারের মধ্যে বহুদিন পর আবার দেখা যাচ্ছে। আমাদের সরকার দেশটাকে নিজেদের ‘পৈতৃক সম্পত্তি’ মনে করেই কিনা জানি না, ভারতকে ভূমি দান করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। ইহকালকে বরবাদ করে পারলৌকিক সওয়াব হাসিলের জন্যই কি-না, নাকি ভারতকে আরও কত কী দেয়ার আছে তারই একটা নজির স্থাপনের জন্যই, কিংবা ভারতের মন আরও একটু কাছে পাওয়ার জন্যই কি-না জানি না; কথা নেই বার্তা নেই বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ সিলেট সীমান্তের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের ২৬১ একর জমি, বাংলাদেশের শরীর থেকে কেটে ভারতকে দান করে দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে পদুয়া সীমান্তের ২২০ একর, লিংকহাট পর্যন্ত ৮ একর, নলজুরী সীমান্তে ৩৩ একর জমি ভারতকে বুঝিয়ে দিয়েছে আমাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়’ অতি উদ্বুদ্ধ সরকর। কাগজপত্র হস্তান্তরও শেষ। নতুন করে জাতির হৃিপণ্ড ছিদ্র করে পোঁতা হচ্ছে খুঁটি। এর আগে গোয়াইনঘাট উপজেলার পদুয়া সীমান্তের ৫০ একর জমি এবং একইভাবে জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল সীমান্তের ৩ একর জমি ভারতের হাতে তুলে দেয়ার জন্য বেহুঁশ হয়ে পড়েছিল সরকার।
সে সময় ভারতকে জমি দেয়ার জন্য এই দুটি সীমান্তে দুই দেশ থেকে জরিপ দলও হাজির হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তবাসী অনন্যসাধারণ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে, মিছিল করে ভণ্ডুল করে দেয় এই ‘ভূ-দান’ উদ্যোগ। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনতাকে শায়েস্তা করার জন্য
এক পর্যায়ে বাংলাদেশের মধ্যেও ঢুকে পড়ে খুনি বিএসএফ। তবুও পিছু হটেনি জনতা। বাধ্য হয়ে ‘ভূ-দান’ কর্মসূচি পালন করে ভারতীয় সওয়াব হাসিল থেকে বঞ্চিত হয় আমাদের সরকার। আর বিডিআর ধ্বংস করে গড়ে তোলা বিজিবি সদস্যরা বাধ্য হয়েই পালন করেছিল দর্শকের ভূমিকা। সরকার এবার আর কাঁচা কাজ করেনি। তারা সিলেটের দেশপ্রেমিক সীমান্তবাসীর বিরুদ্ধে মাঠে নামায় বিজিবি, দাঙ্গা পুলিশ, সাদা পোশাকধারী পুলিশসহ দলীয় ক্যাডার। তারা সৃষ্টি করে ভীতিকর পরিবেশ। হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করার সব পথ অবলম্বন করে। তারপরও ‘আমরা সীমান্তবাসী’ ব্যানারে দেশের ভূমি রক্ষার জন্য সিলেটবাসী এখন শুরু করেছে আন্দোলন।
এখানে দুটি জিনিস দেখবার। একটা হলো, বিনোবাভাবের ভূ-দান ছিল ধনীদের উত্সাহিত করে, (কোনোভাবেই জোর খাটিয়ে নয়) তাদের জমি ভূমিহীন গরিব চাষীদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া। সেখানে দাতা হলো ধনী ভূস্বামী। গ্রহীতা হলেন গরিব। গরিবের জমি ধনীদের দান করতে কোনো দিনই তিনি বলেননি।
কিন্তু বিনোবাভাবের ভাবশিষ্য আমাদের সরকার করছে উল্টো কাজ। তারা গরিব রাষ্ট্রের জমি নিজেদের ‘পৈতৃক সম্পত্তি’ মনে করে ধনী রাষ্ট্রকে দান করতে যাচ্ছেন, যা রীতিমত আইন ও নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডত্বকে হত্যা করার শামিল। দেশের জমি অন্যকে দান করার কোনো অধিকার সরকারের আদৌ আছে কি? ভারতকে দান করতে চাইলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সাহেবরা তাদের নিজেদের ব্য³গিত জমিজমা দান করতে পারেন—কিন্তু রাষ্ট্রের জমি কেন? কেন আমাদের গরিব চাষীদের বাড়া ভাতে ছাই দেয়ার কুমতলব? কেন আমাদের মাতৃভূমির পবিত্র শরীরকে কুপিয়ে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করা?
অবশ্য দান-খয়রাতের অভ্যাস আমাদের ইতিহাসের তৃতীয় ‘বঙ্গবন্ধু’রও ছিল। তিনি কলমের এক খোঁচায় সংবিধান পর্যন্ত পরিবর্তন করে, দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বেরুবাড়ি ইউনিয়ন ভারতকে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ দান করেছিলেন। এই দানের সত্তর গুণ সওয়াবের আশা ছিল না। ছিল শুধু একটি চাওয়া, একটি ছোট ফুটবল মাঠের সমান তিন বিঘা জমি—তিন বিঘা করিডোর, দহগ্রাম আঙ্গরপোতায় যাওয়ার জন্য। সেই সামান্য জমিটুকু চল্লিশ বছরেও ভারত বাংলাদেশকে দেয়নি। তারপরও আবার ভারতকে এই জমি দানের অভিলাষ কেন? কার স্বার্থে?
ছয়.
এখন যে কথা বলব, এটা গল্প নয়। একেবারে খাঁটি সত্য। ’৯৮ কী ’৯৯ সালের কথা। শিশুদের এক অনুষ্ঠান শিশু একাডেমী মিলনায়তনে। আমার এক বন্ধুর মেয়ে গান গাইবে। আমাকে জোর করেই নিয়ে গেলেন বন্ধুবর। আয়োজকরা সম্মানের সঙ্গে সামনের কাতারেই বসালেন। ওখানে গিয়ে বুঝলাম একজন প্রতিমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। কিছুক্ষণ পর প্রতিমন্ত্রী প্রবর এলেন। বসলেন।
পর্দা ওঠার পর মঞ্চের ব্যানারে দেখি লেখা ‘ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে/ঘুমিয়ে আছে সকল পিতা সব শিশুদের অন্তরে।’—এটা কবি গোলাম মোস্তফার একটা অতি পরিচিত লেখা। আমি আমার বন্ধুকে বললাম, উদ্ধৃতিটায় ভুল আছে। আসলে হবে ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে।’ প্রতিমন্ত্রী প্রবর আমাকে চিনতেন না। তিনি কী বুঝতে কী বুঝলেন জানি না, দেখলাম তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ছেন।
অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রধান অতিথির ব³ৃতা দিতে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী তো এক পর্যায়ে রেগে আগুন, “এসব কী হচ্ছে? আমরা কোথায় আছি? এত বড় ভুল উদ্ধৃতি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা হবে ‘ঘুমিয়ে আছে জাতির পিতা সব শিশুদের অন্তরে।’ আমি নিশ্চিত, ভুল করে এই ভুল লেখা হয়নি। এখানে নিশ্চয়ই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত এবং বিএনপির দালালরা আছে। তারাই আমাদের মধ্যে ছদ্মবেশে ঢুকে এসব ভুলভাল উদ্ধৃতি লিখে কোমলমতি শিশুদের মিথ্যা এবং বিকৃত ইতিহাস শেখাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র অবশ্যই রুখে দিতে হবে। আমি উদ্যো³াদের নির্দেশ দিচ্ছি—এই জঘন্য কাজ কারা করেছে তাদের খুঁজে বের করতে। তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী সাহেব ব³ৃতা চালিয়েই যাচ্ছেন। আমি আর আমার বন্ধু পরস্পরের মুখের দিকে লা-জবাব হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
লেখক : কবি-সাংবাদিক
[email protected]
সূত্র: আমারদেশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


