somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে নারী নির্যাতন: দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করেই কি লাভ হবে ?

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পুরোপুরি ছাত্রলীগের দখলে। এখানে এতো বড় রকমের একটি কুকর্ম ছাত্রলীগের কর্মী বাদে কারো পক্ষে ঘটানো সম্ভব না। সাধারনত এধরনের কুকর্মে গ্রুপের কিছু অংশ বহিরাগত, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাশীন দলের ছাত্রদের সাথে ক্যাম্পাস আসে, তারাও জড়িত থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিএনপি-আওমিলীগ-বিএনপি- এর আমল দেখেছি। সে থেকে বলতে পারি আওমিলীগ আমলে সাংস্ক্রিতিক অনু্স্ঠান বেশি হয় এবং এই আওমিলীগ আমলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে হাজার মানুষের মধ্যে মেয়েদের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে প্রথম ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে। এই দিন বাধন নামে এক মেয়ের কাপড় তার পরিচিত জনদের সামনেই টেনে ছিড়ে ফেলা হয়। পত্রিকাতে যে ছবি প্রকাশ পায় তাতে পরিস্কার দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের হাত দিয়ে সেই মেয়েটির কাপড় টানছে। ১৬ বছর আগের সেই ঘটনায় ঘটনায় দায়ের করা মামলা ১১ বছর চলার পর ২০১০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর তিন আসামি, ফজলুল হক রাসেল, খান মেজবাউল আলম টুটুল ও চন্দন কুমার ঘোষ ওরফে প্রকাশ খালাস পেয়ে যান।


এই ছবিতে রাসেলের পিছনে থাকা একজনকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি, আমার বিভাগের জুনি্যর ছেলে, ছাত্রলীগ কর্মি। এদের ক্ষমতা এতোই ছিলো যে first year, 2nd year-এর কোনো subject-এ পাশ না করেও এই ছেলে 3rd year (honours final) exam দিতে পেরেছিলো এবং তার হাতের মোটা ফাইলের কাগজপত্রে দেখলাম প্রতি yearই ভিসি আজাদ চৌধুরি তাকে special permission দিয়েছিলো exam দেবার জন্য।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পুর্ন দলিয় করনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন আওমিলীগের তল্পিবাহক। তাই ছাত্রলীগ কর্মীদের কুকাম আড়াল তাদের পবিত্র দ্বায়িত্ব বলে তারা মনে করেন। আর যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন পদে আছেন, তাদের যোগ্যতার অন্যতম হলোদলের দালালি।তাই ছাত্রলীগের বিরুদ্বে উনাদের কিছু করার ক্ষমতা নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদলোভি কিছু শিক্ষক এতো নিচে নেমে গেছেন যে পুলিশ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তল্লাসি করত, ক্ষমতাসিন দলের কর্মীদের অস্ত্রগুলি হলের এইসব শিক্ষকদের বাসায় রেখে আসা হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অব্স্থায় দেখেছি, ঈদে ক্ষমতািন দলের কর্মীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের থানাগুলো থেকে পান্জাবি উপহার আসতো। তাই নিষ্চিত ভাবেই বলতে পারি পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের সবাইকে ভালো করেই চিনে। তাই জনগন দুর্বৃত্তদের ধরে পুলিশে দিলেও পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশের মূল দ্বায়িত্ব ছাত্রলীগকে রক্ষা করা আর ছাত্রদলকে নিপিড়ন করা। আমজনতার বউ-মেয়ের ইজ্জত রক্ষা করার সময় বা ইচ্ছা তাদের নাই। এজন্য যৌন নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত ও আটক করার চেয়েও বস্ত্রহরণের ঘটনা ঘটেনি প্রমাণ করতে তৎপর তারা। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বস্ত্রহরণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তৎপর ঢাবি প্রশাসনও। পুলিশ ও ঢাবি কর্তৃপক্ষ ঘটনা ধামচাপা দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা। পুলিশ দাবি করছে, ঘটনার পর থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে বস্ত্রহরণের কোন দৃশ্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৩:২৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবৈধ উপার্জনের সুযোগ ও উৎস বন্ধ করুন - মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি এমনিতেই কমে যাবে ।

লিখেছেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:২৯

দুর্নীতিই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা | আমরা যেমন অক্সিজেনের মধ্যে বসবাস করি বলে এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি না, আমাদের গোটা জাতি এই চরম দুর্নীতির মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রয়েছে বিধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রভাতী প্রার্থনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫


প্রভাত বেলার নব রবি কিরণে ঘুচুক আঁধারের যত পাপ ও কালো ,
অনাচার পঙ্কিলতা দূর হোক সব ,ভালোত্ব যত ছড়াক আলো ।

আঁধার রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ১৫: যবনিকা পর্ব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪১

এর আগের পর্বটিঃ আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ১৪: বেলা শেষের গান


শ্রীনগর বিমান বন্দর টার্মিনালের মেঝেতে বিচরণরত একটি শালিক পাখি

টার্মিনাল ভবনের প্রবেশ ফটকে এসে দেখলাম, তখনো সময় হয়নি বলে নিরাপত্তা প্রহরীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মপক্ষ সমর্থন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯



আর কিছুদিন পর সামুতে আমার রেজিস্ট্রেশনের ৮ বছর পূর্ণ হবে।রেজিস্ট্রেশনের আগে সামুতে আমার বিচরণ ছিল। এই পোস্ট সেই পোস্ট দেখে বেড়াতাম। মন্তব্য গুলো মনোযোগ সহকারে পড়তাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালোটাকা দেশে বিপুল পরিমাণে বেকারত্বের সৃষ্টি করছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫



কালোটাকা হলো, দেশের উৎপাদনমুখী সেক্টর ও বাজার থেকে সরানো মুদ্রা; কালোটাকা অসৎ মালিকের হাতে পড়ে স্হবির কোন সেক্টরে প্রবেশ করে, কিংবা ক্যাশ হিসেবে সিন্ধুকে আটকা পড়ে, অথবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×