আমরা বলি চিনের প্রাচীর বা গ্রেট ওয়াল। চিনেরা বলে দীর্ঘ দেওয়াল। চিনের প্রাচীর নিয়ে ওদের কত গর্ব, গর্ব পৃথিবীর মানুষের। তার কারণ আছে। চিনের প্রাচীরই পৃথিবীর একমাত্র মানবনির্মিত কাঠামো যা কিনা চাঁদ থেকে দেখা যায়!
কিন্তু, চিনের প্রাচীরটি গড়তে যে সব শ্রমিকরা অমানুষিক পরিশ্রম করে প্রাণ দিয়েছে তাদের কথা কি আমরা কখনও ভাবি? বোধ হয় না। সেদিন একজন তাজমহল ঘুরে এসে বলল সুন্দর। কই রক্তপাতের কথা তো একবারও বলল না!
যা হোক। চিনের প্রাচীরের শ্রমিকদের দুঃখকষ্টের কথা নিয়ে একটি কবিতা পেলাম মাইক্রোসফট এনর্কাটায়। কবির নাম চেন লিন।হান রাজবংশের শেষ আমলে চেন লি বেঁচে ছিলেন । মৃত্যু ২১৭ খ্রিস্টাব্দ । কবিতায় তিনি চৈনিক সম্রাট শি হুয়াঙ তি সময়কালে দীর্ঘ প্রাচীরের শ্রমিকদের দুঃসহ জীবনের কথা লিখেছেন। কবিতার নাম: “দীর্ঘ দেওয়ালের গুহার কাছে আমি আমার ঘোড়াকে পানি খাওয়াই।”
অভিজাত বংশে জন্ম হলেও সাধারণ মানুষের সুখদুঃখ অনুভব করার শক্তি চেন লিনের হৃদয়ে ছিল। কবি বলেই হয়তো ...।
দীর্ঘ দেওয়ালের গুহার কাছে আমি আমার ঘোড়াকে পানি খাওয়াই,
ঠান্ডা পানি ঘোড়াটির হাড়গোর কাঁপিয়ে দেয়;
দীর্ঘ প্রাচীরের কাছে গিয়ে আমি প্রহরীকে বলি:
“আমরা তাইয়ূয়ানের লোক- তোমরা কি আমাদের এখানে চিরকাল আটকে রাখবে?”
“ সম্রাটের কাজ ঠিকঠাক চালাতে হবে-কথা কম বল আর হাতুড়ি চালিয়ে যাও।”
এই দীর্ঘ দেওয়ালে ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে
আমার যুদ্ধক্ষেত্রেই মরে যাওয়া উচিত ছিল!
তিন হাজার লি দীর্ঘ আঁকাবাকা এই অভিশপ্ত দীর্ঘ প্রাচীর!
এখানে সীমান্তের কাছে, পুরুষেরা পরিশ্রমে নুয়ে আছে।
অথচ বাড়িতে তাদের বউরা ... বিধবারা ...
আমি আমার বউয়ের কাছে চিঠি লিখেছি:
“আমার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে
বরং আবার বিয়ে করো-
নতুন শ্বাশুড়ির যতœ নিও
মাঝে মাঝে আমার কথাও ভেবো।”
বউ লিখল-“ কি সব যা তা লিখেছ?
তুমি যখন কষ্টে রয়েছে
তখন আমি কী করে অন্য লোকে ঘরে যাই?”
(সে)
তোমার যদি ছেলে হয় তো কখনোই এখানে এনো না!
মেয়ে হলে- ওকে ভালো করে খাইয়ো-পড়িও।
তুমি কখনোই দেখতে পাবে না কী ভাবে এখানে
মৃতদের হাড়গোড়ের পাহাড় জমে উঠছে!
(নারী)
আমি চুল বেঁধে তোমার কাছেই যাব;
আমার বুকের ভিতরে যে কী রকম করছে।
আমি জানি সীমান্তের দুঃসহ যন্ত্রনার কথা।
আমি ...আমি যে আর সইতে পারছি না ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

