প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি আমি বরাবরই আগ্রহী। কাজেই (About.com; Ancient Women) গ্রাহক হলাম। প্রতিদিনই অধ্যাপক N.S.Gill প্রাচীন কালের নারীদের সম্বন্ধে জানান। নেফারতিতি আস্পাসিয়া ক্লিওপেট্রা ...
না। না, অধ্যাপক Gill-এর সংঘমিত্রার নাম নেই। সামান্য হতাশ বোধ করি।
কিন্তু, কে সংঘমিত্রা?
সংঘমিত্রা অশোকের মেয়ে। কারও কারও মতে বোন।
তো কে সম্রাট অশোক?
সম্রাট অশোক সম্বন্ধে আমরা কমবেশি জানি। তবু বলি। সম্রাট অশোক ছিলেন মৌর্য বংশের অন্যতম শ্রেষ্ট শাসক। মৌর্য শব্দটি এসেছে ময়ূর থেকে। মনে করা হয় যে মৌর্যদের পূর্বপুরুষ বিন্ধ্যপর্বতে ময়ূর-পালক ছিলেন। (প্রাচীন ইতিহাস এ জন্যই আমার ভালো লাগে। কেমন এক কবিতা ...) তো,মৌর্যরা ২৭৩ থেকে ২৩২ অবধি ভারতবর্ষ শাসন করেছিল। মৌর্য বংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । ইনিই যুবা বয়েসে আলেকজান্দারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। শেষ জীবনে রাজ্যপাট ছেড়ে দিয়ে জৈনসাধু হয়ে গিয়েছিলেন। এরই মন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য বা চাণক্য। অনেকেই একে “কামশাস্ত্রের” রচয়িতা বাৎসায়ন মনে করে।
সে যা হোক। সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর মৌর্য সম্রাট হলেন বিন্দুসার। তার মৃত্যুর পর সম্রাট অশোক পাটলিপুত্রের সিংহাসনে বসলেন। মৌর্যদের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র। বর্তমান বিহার; গঙ্গা নদীর ধারে।
একালের মতই প্রাচীন কালেও কথায় কথায় যুদ্ধ বেঁধে যেত। কাজেই সম্রাট অশোকের নেতৃত্বে মৌর্যরা কলিঙ্গ যুদ্ধ শুরু হল। কলিঙ্গ কোথায়? কলিঙ্গ ছিল বর্তমান উড়িষ্যায়।
এই কলিঙ্গ যুদ্ধটি প্রাচীন ইতিহাসের অন্যান্য যুদ্ধের মত নয়।
কারণ, কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রাণহানি রক্তপাত দেখে সম্রাট অশোক অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পরম অহিংস ধর্ম বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করলেন।
এই জন্যই কলিঙ্গ যুদ্ধটি প্রাচীন ইতিহাসের অন্যান্য যুদ্ধের মত নয়।
বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করে অশোক রাজ্যে ও রাজ্যের বাইরে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য দূত পাঠাতে লাগলেন । দূতেরা ভারতবর্ষ পেরিয়ে এমন কী ইউরোপের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে উপস্থিত হল।
ভারতবর্ষের দক্ষিণে সিংহল দ্বীপ। বর্তমান শ্রীলঙ্কা।
তো কাকে ওখানে পাঠানো যায়?
অশোকের ছেলের নাম মহেন্দ্র। ধীরস্থির, আত্মমগ্ন। মহেন্দ্র বলল, বাবা আমি সিংহলে যাব।
তবে তাই হোক। অশোক সন্তুষ্ট হলেন।
আমরা সংঘমিত্রার কথা বলছিলাম।
সংঘমিত্রা তখন বাবাকে বলল, বাবা আমিও যাব মহেন্দ্রদার সঙ্গে সিংহলে যাব।
কী বললি! কোথায় যাবি তুই?
সিংহল।
না! কেন সে কী!
অশোক মনে হয় সহজে রাজী হননি।
যা হোক। দ্বীপবংশ নামে একটি বৌদ্ধ ইতিহাসগ্রন্থ মতে সংঘমিত্রা মহেন্দ্রর সঙ্গে অনুরাধপুরে পৌঁছেছিলেন।
সেই প্রাচীন কালের এক রাজকন্যা বুদ্ধের অহিংস বাণী নিয়ে সমুদ্র পেরুল।
এখানেই আমাদের আগ্রহ।
কিন্তু কেন সংঘমিত্রা সিংহলে গেলেন? দুঃখী ছিলেন কি? কলিঙ্গ যুদ্ধে স্বামী কি প্রেমিক নিহত হয়েছিল? পাটলিপুত্র থেকে পালাতে চাইছিলেন কেন? নাকি আধ্যাত্মিক অনুপেরণায় বুদ্ধের বাণীকে শিরোধার্য করেছিলেন।
তখন বললাম, সংঘমিত্রা মহেন্দ্রর সঙ্গে অনুরাধপুরে পৌঁছেছিলেন।
অনুরাধপুর?
অনুরাধপুর ছিল তৎকালীন সিংহলের রাজধানী। চমৎকার ওই নগরটি ছিল মালভাথু ওয়ে নদীর ধারে। তৎকালীন সিংহলের রাজার নাম ছিল তিষ্য। তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন।
মহেন্দ্র ও সংঘমিত্রা সিংহলে বেধি বৃক্ষের ডাল নিয়ে গিয়েছিল। যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধ বুদ্ধত্ব অর্জন করেছিলেন।
বোধিবৃক্ষটি আজও অনুরাধপুরে অটল দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ধর্মপ্রচার শেষ। এবার পাটলিপুত্র ফিরতে হবে।
মহেন্দ্র ও সংঘমিত্রা নৌকায় উঠলেন।
কোনও কোনও সূত্র এক নৌদূর্ঘটনার কথা বলে।
সম্ভবত ভারতবর্ষে ফেরার পথে ঝড়ের কবলে পড়েছিল সংঘমিত্রারা।
অহিংবাণী প্রচারের এই হল ফল!
পৃথিবী চিরকালই নিষ্ঠুর।
লিঙ্ক:
http://en.wikipedia.org/wiki/Dipavamsa
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



