somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লালন ও সোফিস্টগন।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাচীন গ্রিসে এভাবে হেঁটে হেঁটে জ্ঞানচর্চা করতেন জ্ঞান তৃষ্ণার্তরা। এই ছবিটা অবশ্য রাফায়েলের আঁকা প্লেটো ও অ্যারিসটোটল।

‘সুফি’ শব্দটা তো আমরা শুনেছি। প্রখ্যাত ইতালিয় অভিনেত্রী সোফিয়া লরেন-এর নামও আমরা জানি। এবং আমরা অনেকেই ইয়েস্তেন গার্ডার-এর লেখা "সোফির জগৎ" বইটি পড়েছি। মজার কথা এই যে-‘সুফি’ এবং ‘সোফিয়া’ এবং 'সোফি'-এই তিনটি শব্দের মূলে কিন্তু একটি গ্রিক শব্দ । sophistēs: অর্থ দক্ষ কারিগর। পরে শব্দটির অর্থ বদলে যায়। যেমন হয়। Sophists। এর মানে আয়নার কারিগর বা man of wisdom.
আজ আমরা অবশ্য সোফিস্ট বলতে এক দার্শনিদের বুঝি যারা একটি বিশেষ সময়ে এথেন্স নগরে বাস করতেন। সেই বিশেষ সময়টা ছিল এথেনিয় রাজনীতিবিদ পেরিক্লিসের আমল।
৪৮০ খ্রিষ্টপূর্ব। সদ্য পারস্য সম্রাট জারেকসেস এথেন্স তছনছ করে গিয়েছেন। অবশ্য এথেন্সের নেতৃত্বে পারশিকদের ভরাডুবি হয়েছিল ঠিকই। তারপর পরপরই এথেন্স হয়ে উঠল গ্রিকবিশ্বে অন্যতম এক সেরা নগররাষ্ট্র। এথেন্সের কাছে রৌপ্য খনি আবিস্কৃত হল; ফলে রৌপ্য মূদ্রার প্রচলনে অর্থনীতির চাকা ঘুরল। আমাদের যেমন চট্টগ্রাম; সেরকম এথেন্সের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর ছিল পিরেউস। সে বন্দরটি হয়ে উঠল হাজারও পন্যের ভিড়ে জমজমাট।
নিয়তি কে নির্ধরন করে দেয় কে জানে।
ঠিক ওই রকম একটা তুমুল সময়ে এথেন্স তার শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদকে পেল। পেরিক্লিস। তিনি মোটেও শিল্পান্ধ ছিলেন না; বরং শিল্পসাহিত্য বুঝতেন; চর্চা করতেন সঙ্গীত। তাঁকে ঘিরে ছিল ফিদিয়াসের মতন ভাস্কর, আনেক্সোগোরাস মতন দার্শনিক এউরিপিদিসের মতন নাট্যকার। তাঁকে ভালো বেসেছিল এক নারী। আসপাসিয়া। মূর্খেরা বলে আসপাসিয়া ছিলেন রক্ষিতা। আসলের আসপাসিয়া ছিলে সুন্দর মনের অধিকারী এক নারী। প্রথম স্ত্রীকে ডির্ভোস দিয়ে আসপাসিয়াকে ঘরে তুললেন পেরিক্লিস। এথেন্সের লোকের মুখে মুখে কত গুঞ্জন। আমরাও এক সময় যেমন এরশাদকে নিয়ে ...যাক। আসপাসিয়াকে ঘিরে পেরিক্লিসের ঘরে আলো করতেন সোফিস্ট দার্শনিকগন। প্রোটাগোরাস। গর্জিয়াস। আনেক্সোগোরাস ...
আসলে সোফিস্টরা এথেন্স নগরে এসেছিল গ্রিসের নানা প্রান্ত থেকে। গ্রিসবিশ্বটি ছিল এজিয়ান সমুদ্র ঘিরে এশিয়ায় ও ইউরোপে ছড়িয়ে। সোফিস্টরা নানা অঞ্চলের রীতিনীতি দেখেছিলেন। তারা কোনও একটিকে শ্রেয় মনে করতেন না। তারা মনে করতেন যে-

দেশ সমস্যা অনুসারে
ভিন্ন বিধান হতে পারে।
সূক্ষ জ্ঞানের বিচার করে
পাপ-পূন্যের নাই বালাই ।

কাজেই এথেন্সের লোকে যখন বলল-আমাদের রীতিনীতিটাই সহি।
কী করে জানলে? সোফিস্ট দার্শনিকরা চোখ রাঙিয়ে জিজ্ঞাসা করত।
তো সোফিস্টা ভারি ভয়ানক কথা বলত।
আনেক্সোগোরাস বলেছিলেন, সূর্য? আরে ওটা তো একটা লাল রঙের গরম পাথর। আকার? এই ধরো, আমাদের পেলোপন্নেসিয়ার সমান।
এমনই অভক্তি তাদের।
Gorgias নামে একজন বিখ্যাত সফিস্ট ছিলেন। তিনি একবার একটি অতি ভয়ানক কথা বলেছিলেন- nothing really exists, that if anything did exist it could not be known, and that if knowledge were possible, it could not be communicated.
কী সাঙ্ঘাতিক। এমন কথা শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে!
আরেকজন ছিলেন Protagoras। বলেছিলেন, Man is the measure of all things.এই কথাটা আমরা কমবেশি জানি। আপনারা যে ইংলিশ গ্রামারের Parts of Speech এর জানেন।Protagorasই প্রথম এটি আবিস্কার করেছিলেন। কার্ল মাকর্স এ জন্যই একবার বলেছিলেন, প্রাচীন গ্রিকরা চিরকালই আমাদের শিক্ষক হয়ে থাকবেন। ধর্ম নিয়ে Protagoras বলেছিলেন-Concerning the gods; I have no means of knowing either that they exist or that they do not exist nor what sort of form they have.
মোট কথা; সোফিস্টরা সব ছিলেন ঘোর সংশয়ী। তখন বললাম না যে- আসলে সোফিস্টরা এথেন্স নগরে এসেছিল গ্রিসের নানা প্রান্ত থেকে; আর, গ্রিসবিশ্বটি ছিল এজিয়ান সমুদ্র ঘিরে এশিয়ায় ও ইউরোপে ছড়িয়ে। সোফিস্টরা নানা অঞ্চলের রীতিনীতি দেখেছিলেন। তারা কোনও একটিকে শ্রেয় মনে করতেন না।
তবু, এথেন্সের লোকে তাদের কাছে যেত। তাদের নানা কথা জিজ্ঞেস করত। লোকে যখন তাদের জিজ্ঞেস করত, হে আয়নার কারিগর, আমাদিগকে পাপ-পুণ্য সম্বন্ধে বলুন।
সম্ভবত তখন তারা বলতেন-

পাপ-পুন্যের কথা আমি কারে বা শুধাই।
এই দেশে যা পাপ গন্য অন্য দেশে পুন্য তাই।

সূত্র:

"Sophists." Microsoft® Student 2008 [DVD]. Redmond, WA: Microsoft Corporation, 2007.
এবং
উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৩
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×