লেপ বেরিয়ে এসেছে আলমারীর গর্ভ থেকে; ওটাকে কদিন আগে রোদে ফেলে ভালো করে শুকানো হল। এখন আমার বিছানায় উঠে এসেছে। ভিতরে অন্ধকার আর ওম। আরও কদিন বাদে জমে উঠবে। ফ্যান এখনও ঘুরছে। এখনও শীত সেভাবে পড়েনি এ শহরের গায়ে। কারখানার ধোঁওয়াগুলি স্তর তৈরি করে ঠেকিয়ে রেখেছে শীত। গ্রামে তো শীত জাঁকিয়ে বসার কথা।
ক বছর হল শীত পড়তে পড়তে নভেম্বর। অথচ, ছেলেবেলায় সেপ্টেম্বর শেষ মানে শীতের আগমনী; মধ্য অক্টোবরে তো হি হি শীত। আজকাল শীত পড়তে পড়তে সেই পরের বছরের ২য় হপ্তা। মনে হচ্ছে শীত আরও দেরি করে পড়বে যত দিন গড়াবে। তবুও শীতের চুপিচুপি করে আসা টের পাওয়া যাচ্ছে নির্জন এই মধ্য নভেম্বরেই।
এখন সন্ধ্যাটা কেমন দীর্ঘ আর শ্লথ মনে হয়। রাত দশটা না-বাজতেই শব্দহীন মৃতের জগৎ হয়ে ওঠে চারপাশ। মালিবাগ মোড় থেকে ভেসে আসে ‘মনপুরার’ গান। রাত ১১টার পর থেমেও যায়। তখন লেপের ভিতরের অন্ধকার আর ওম, শুনশান রাত্রির প্রহর, গলিতে কুকুরের ডাক, দূরে রেলগাড়ির হুইশেল, বাথরুমের কল থেকে পানি পড়ার শব্দ, কারও কাশি ...এভাবে কবেকার ফেলে আসা ছেলেবেলা ফিরে আসে লেপের ভিতরের অন্ধকার ওমে। তখন মনে হয়-পৃথিবী ক্রমশ হতেছে নিঝুম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

