somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলেকজান্দ্রিয়া

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাচীন মিশরের মানচিত্র।
প্রাচীনকালে মেসোপটেমিয় যাযাবর গোষ্ঠী হাইকসসরা শাসন করেছিল মিশর। তারপর গ্রিকরা। তারাপর পারশিকরা। গ্রিকদের সময়ই গড়ে ওঠে এর অন্যতম নৌবন্দর-আলেকজান্দ্রিয়া। এই আলেকজান্দ্রিয়া নগরেই শায়িত আছেন আলেকজান্দার । তার মাওসোলেআমটিও ওখানেই। নগরের পশ্চিমে।

৩৩২ খ্রিস্টপূর্ব। আলেকজান্দার তখন মিশরে। তার দূরদৃষ্টির অভাব ছিল না। তার ভবিষ্যৎ সাম্রাজ্যের কথা মনে করে তিনিই প্রথমে মিশরে একটি নৌবন্দরের পরিকল্পনা করলেন। তাঁর নির্দেশে ভুমধ্যসাগরের জলে বড় বড় পাথরের চাঁই ফেলা হল। তৈরি করা হল ১ মাইল লম্বা জলপথ। জলপথের নাম হল: “হেপতাস্টেডিয়াম।” এর মানে, সাত ফার্লং। তো সেই পথ মিশল ফারোস দ্বীপে। পরে ওই দ্বীপেই টলেমিরা তৈরি করেছিল একটি বাতিঘর-যা হয়ে উঠেছিল প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি অন্যতম নিদর্শন।
ফারোস দ্বীপের পশ্চিমে নির্মান করা হল (সে কালের তুলনায়) অত্যাধুনিক একটি বন্দর।
এভাবেই বন্দর ঘিরে একটি নগর গড়ে উঠতে থাকে। তারপর সে নগরের নাম রাখা হয় আলেকজান্দিয়া। দৈর্ঘে সে প্রাচীন নগরটি ছিল ৪ মাইল। পরিকল্পিত আড়াআড়ি সড়ক। সড়কের দুপাশে মনোরম সব গাছ। ভূমধ্যসাগর থেকে ছুটে আসা ঝিরিঝিরি হাওয়ায় কাঁপত সেসব গাছের পাতা। প্রধান সড়কের পাশে পায়ে চলার পথ। পথের পাশে সাদা রঙের দেওয়াল। সে দেওয়ালে গ্রীষ্মদিনের প্রাচীন রোদ। একটি নির্মেঘ নীলাকাশ। হ্রেষা ধ্বনি, ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ। সড়কে রথ। ঝলমলে ঘোড়াগাড়ি। কিংবা তেজি গ্রিক অশ্বারোহী সৈন্য। একা। কিংবা দলবেধে।
আলেকজান্দ্রিয়া নগরের পুবে ছিল একটি অভিজাত এলাকা। নাম: ব্রূচেইয়াম। বোঝাই যায় কারা থাকত সে এলাকায়।
মিশরের দেবতা ছিলেন সেরাপিস। তার উপাসনাগৃহটি ছিল পশ্চিমে। আলেকজান্দারের মাওসোলেআমটিও ছিল নগরের পশ্চিমে। গ্রিকদের সমুদ্রদেবতার নাম পোসাইদন। তার উপাসনাগৃহটিও ছিল নগরের পশ্চিমে। তা ছাড়া নগরের পশ্চিমেই ছিল যাদুঘর। রঙ্গমঞ্চ। ইত্যাদি। আলেকজান্দার নিজেই নাকি নগরটির পরিকল্পনা করেছিল। যে কারণে বলা হয় যে মানবসভ্যতায় আলেকজান্দারের অন্যতম অবদান ছিল নাগরিক সভ্যতার বিস্তার। আলেকজান্দার যে কটি নগর স্থাপন করেছিল এশিয়ায় তার সমর অভিযানের সময় তার সবকটির আদলই ছিল হুবহু গ্রিক নগরের আদল। প্রাচ্যের পাশ্চাত্যকরণ মূলত আলেকজান্দারকে দিয়েই শুরু।
ইহুদি, গ্রিক ও মিশরীয় মিলে আলেকজান্দ্রিয়া নগরটিতে সর্বমোট মুক্ত নাগরিক ছিল ৩ লাখের মতন। এ ছাড়া ছিল বিদেশি ও দাস।



টলেমি ছিলেন আলেকজান্দারের প্রধান তিন সেনাপতির একজন। তো, আলেকজান্দারের মৃত্যুর পর টলেমির ভাগেই পড়েছিল মিশরসহ অনান্য অঞ্চল। আলেকজান্দ্রিয়া নগরটিকে তার সাম্রাজ্যের রাজধানী করলেন টলেমি। গ্রিক বলেই তিনি ছিলেন জ্ঞানবিজ্ঞানে উৎসাহী। আলেকজান্দ্রিয়া নগরে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা হল মূলত তারই উৎসাহে। সব মিলিয়ে নাকি ৫ লক্ষ বই ছিল সেই গ্রন্থাগারে। কথিত আছে, কোনও জাহাজ আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে ভিড়লে সরকারী সৈন্যরা প্রথম যা খুঁজত তা হচ্ছে বই। তবে সে বই আজকে দিনের বইয়ের মতন দেখতে ছিল না; ছিল প্যাপিরাসে লেখা পান্ডুলিপি।
যা হোক। টলেমিদের উৎসাহে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠল আলেকজান্দ্রিয়া।
আলেকজান্দ্রিয়া নগরের উত্তরপুবে থাকত ইহুদিরা। এখানেই ইহুদিরা গ্রিকদের সংস্পর্শে এসে বদলে ফেলতে বাধ্য হয় নিজেদের জীবনবোধ। গ্রিক ভাষায় অনুদিত হল ওল্ড টেস্টামেন্ট । নাম হল:Septuagint। সে অনুবাদে তারা তাদের ঈশ্বর ইয়াওয়ের বদলে লিখতে বাধ্য হল গ্রিক ভাষার ঈশ্বর শব্দটি।



ক্লিওপেট্রা ছিলেন টলেমি বংশের শেষ শাসক। তিনি রোমানদের কাছে ৩১ খ্রিস্টপূর্বে পরাজিত হন। তারপর রোমানদের হাতে চলে যায় আলেকজান্দ্রিয়া নগরটি। Its position made it the center of commerce between East and West, and fleets of grain ships sailed from Alexandria to Italy year after year. Gradually, however, the city lost its prosperity. A Jewish revolt in ad 116 resulted in the annihilation of the Jewish population and the destruction of a large portion of the city. In 215 the Roman emperor Caracalla ordered a massacre of the male inhabitants of the entire city for reasons that remain obscure but might have involved a punishment for some form of seditious conduct. The founding of Constantinople (present-day İstanbul) further eclipsed the Egyptian metropolis. The Muslims under General Amr ibn-al-As besieged Alexandria, capturing and almost destroying the city in 641. After losing the city in 645, the Muslims reasserted their control for good in 646. Under Muslim rule the city declined, particularly after the rise of Cairo after about 968 and the opening of the sea route to India in the 15th century. Alexandria was captured and held from 1798 to 1801 by Napoleon I.

তথ্যসূত্র:

"Alexandria (Egypt)." Microsoft® Student 2008 [DVD]. Redmond, WA: Microsoft Corporation, 2007.
Microsoft ® Encarta ® 2008. © 1993-2007 Microsoft Corporation. All rights reserved.



সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×