ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাটির আয়তন চতুস্কোন। চতুস্কোন উপত্যকাটির মাঝখানে গাজা শহরটি অবস্থিত। গাজা শহরের তিন মাইল পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল। গাজা উপত্যকার দক্ষিণে রাফা- মিশরের সীমান্ত; উত্তর-পুবে ইজরেল।
দুটি মহাদেশের সংযোগ স্থলে অবস্থিত বলে প্রাচীন কাল থেকেই গাজা উপত্যকাটি ছিল যুদ্ধবিগ্রহের এক রক্তাক্ত ক্ষেত্র।
গাজা শব্দটি হিব্রুতে 'আজজা'। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী আজজার আদি অধিবাসীরা ছিল আভিটেস জাতির। জাতিটি যদিও পরে লুপ্ত হয়ে যায়।
ইহুদিদের দাবী অনুযায়ী ঈশ্বর (ইয়াওয়ে) যে ভূখন্ডটি ইস্রাইলের সন্তানদিগকে দান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- ‘আজজা’ তারই অন্তভূর্ক্ত। আজজার দক্ষিণেই ছিল প্রাচীন কেনান প্রদেশ-যে প্রদেশ অভিমূখে যাত্রা করতে ঈশ্বর কর্তৃক আদিষ্ট হয়েছিলেন মেসোপটেমিয়া উর নিবাসী হযরত ইব্রাহিম (আ.)।
প্রতিশ্রুত ভূমি বলেই কালক্রমে হিব্রুভাষী জুদাহ গোত্র আজজা দখল করে নিয়েছিল।
আজজায় ফিলিস্তিনি জাতি প্রবেশ করে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বের দিকে । কারও কারও মতে ফিলিস্তিনি জাতির আদি বাসস্থান ছিল ভূমধ্যসাগরীয় ক্রিট দ্বীপে। একটি ইহুদিসূত্র লিখেছে-Just to set the factual and historical record straight, the Philistines were a Mediterranean seafaring nation that is completely extinct today. They are not one and the same people as the Arab nation and people calling themselves "Palestinians" today. These Arabs are the descendants of Ishmael. The name "Palestine" and "Palestinians" evolved from the name Philistia, which was given to the area by the Roman conquerors as an insult to the Jewish people (named for the tribe of Judah and area of Judea). The name has been hijacked by the Arabs to lay a false claim to a land that does not belong to them Biblically, historically, legally, morally or rightfully.
Click This Link
যা হোক। ফিলিস্তিনিরা আজজায় প্রবেশ করার পর আজজার নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়: গাজা।
গ্রিক সম্রাট আলেকজান্দা যখন গাজা উপত্যকায় সসৈন্য এলেন তখন গাজাবাসী তাঁর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল । পরে অবশ্য মিশরের টলেমিদের অধীন চলে যায় উপত্যকাটি।
তারপর ইহুদি হাসমোনেয়ানরা উপত্যকটি গ্রিকদের কবল থেকে উদ্ধার করে। সময়টা ১৪৫ খ্রিস্টপূর্ব।
এর আরও কিছুকাল পর গাজা চলে যায় রোমানদের দখলে । বাইজানটিয়াম শাসনামলে গাজা হয়ে ওঠে ইহুদিদের প্রধান তীর্থকেন্দ্র। এখনও তিরিশটির বেশি ইহুদি উপাসনালয় (সিনাগ্যগ) রয়েছে গাজায়।
৬৩৫ সালে আরবরা গাজা আক্রমন করে। সেই আগ্রাসন ঠেকাতেও তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। অবশ্য, আরবদের কাছে গাজা শহরের পতন হতে সময় লাগেনি। তারপর থেকেই থেকেই গাজায় আরব মুসলমানদের বাস।
দশম-একাদশ শতকে ক্রসেডের সময় গাজা উপত্যকা হয়ে ওঠে রক্তাক্ত।
তেরো শতক থেকেই অটোমান তুর্কিরা গাজা শাসন করেছিল। সে সময় যথেস্ট উন্নতি হয়েছিল গাজার;বিশেষ করে ইহুদিদের। ইহুদিদের সে উন্নত অবস্থা ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকেও অব্যাহত ছিল।
১৭৯৯ সালে ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন সসৈন্য কিছুকাল গাজায় অবস্থান করেছিলেন।
উনিশ শতকে গাজা শহরের অবক্ষয় স্পস্ট হয়ে ওঠে। শহরটিতে তখন অবশ্য ইহুদি ব্যবসায়ীরা ছিল; তারা বেদুঈনদের কাছ থেকে বার্লি কিনে রপ্তানি করত ইউরোপে -বিয়ার কারখানার জন্য।
প্রথম মহাযুদ্ধের সময় গাজা ছিল তুর্কিদের শক্তিশালী ঘাঁটি।
তারপর ব্রিটিশরা দখল করে নেয় গাজা।
১৯২৯ সালে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। যার পরিনতিতে ইহুদিরা গাজা ত্যাগ করে চলে যায়।
আরব-ইজরেল সংঘাত সেই শুরু।
যার জের এখনও চলছে।
২
১৯৪৬ সালে গাজার জনসংখ্যা ছিল ১৯,৫০০। ৭২০ জন খ্রিস্টান বাদে সবাই ফিলিস্তিনি আরব মুসলিম। মনে থাকার কথা-৬৩৫ সালে আরবরা গাজা আক্রমন করে। সেই আগ্রাসন ঠেকাতেও তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। অবশ্য, আরবদের কাছে গাজা শহরের পতন হতে সময় লাগেনি। তারপর থেকেই থেকেই গাজায় আরব মুসলমানদের বাস।
১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ সৈন্যরা ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায়। প্রতিষ্ঠিত হয় ইজরেল রাষ্ট্রটি। ফিলিস্তিনরা বাধ্য হয় নবাগত ইহুদিদের জন্য জাফা এবং বেরশেবা ছেড়ে দিতে। নির্বাসিত ফিলিস্তিনি আরবরা গাজা উপত্যকার শরনার্থী শিবিরে এসে বসবাস করতে থাকে। যে কারণে গাজার জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
এর পর গাজায় জারি হয় মিশরীয় সামরিক শাসন। যদিও মিশর গাজার মুসলিম অধিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়নি!
১৯৬৭ । মিশরের সঙ্গে ৬ দিনের যুদ্ধের সময় ইজরেলি সৈন্যরা গাজা দখল করে নেয়। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল অবধি গাজা দখলে রাখে ইজরেলিরা। ফিলিস্তিনি আরবদের ওপর দমন পীড়ন চালায়। ১৯৯৪ সালে ইজরেলিরা গাজা ছেড়ে চলে যায়। তারপর ১৯৯৪ থেকে গাজা ছিল ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে।
৩
ইনতিফাদা অর্থ: ‘পাথরের যুদ্ধ’। ইনতিফাদা বলতে অবশ্য ফিলিস্তিনীদের ব্যাপক গনঅভ্যূত্থানকে বোঝায়। প্রথম ইনতিফাদাটি সংঘটিত হয় ১৯৮৭ -১৯৯৩ সালে: যখন ফিলিস্তিনের জাবালিয়া শরনার্থী শিবিরে ইজরেলি সৈন্যরা গনহত্যা চালায়। ফিলিস্তিনি গনঅভ্যূত্থান গাজাসহ ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও পূর্ব জেরুজালেমে ছড়িয়ে পড়ে।
সেই সময়ই-অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে গাজায় ‘হামাস’ গঠিত হয়। হামাস আসলে মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডেরই একটি শাখা। হামাসের প্রতিষ্ঠাতা তিনজন:শেখ আহমেদ ইয়াসিন, আবদুল আজিজ আল রানতিসি ও মোহাম্মদ তাহা। হামাসের পুরো নাম-‘হারাকাত আল মুকাওয়ামাত আল ইসলামিয়া।’ বাংলায় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন। এটি একটি রাজনৈতিক দল হলেও পশ্চিমের চোখে ফিলিস্তিনি সুন্নী প্যারামিলিটারি সংগঠন । সামাজিক সেবামূলক কাজেও হামাস জড়িত। এরা গাজায় হাসাপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে ফিলিস্তিনি জনগনের মধ্যে
ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
২০০৭ এ হামাস গাজার নিয়ন্ত্রন গ্রহন করে।Hamas' charter calls for the destruction of the State of Israel and its replacement with a Palestinian Islamic state in the area that is now Israel, the West Bank, and the Gaza Strip. Hamas describes its conflict with Israel as political and not religious or antisemitic.However, its founding charter, writings, and many of its public statements reflect the influence of antisemitic conspiracy theories.
স্বাভাবিক কারণেই দখলদার ইজরেলের প্রতি বৈরী বলে হামাস ইজরেলি ভূখন্ড অর্ন্তঘাতমূলক তৎপরতা অব্যাহত রাখে ও প্রায়ই ইজরেলি ভূখন্ড লক্ষ করে রকেট নিঃক্ষেপ করে; যার জের ধরে ইজরেল গাজা উপত্যকায় বোমা বর্ষন অব্যাহত রাখে।
ইজরেলি ভূখন্ড লক্ষ করে হামাস গেরিলাদের রকেট নিঃক্ষেপের প্রতিক্রিয়াসরুপ গত সপ্তাহজুড়ে গাজা উপত্যকায় জঙ্গি বিমান থেকে বোমা বর্ষন করেছে ইজরেল।
গত ৩ জানুয়ারি রাত্রে ইজরেলি সৈন্যরা ট্যাঙ্ক বহর নিয়ে ঢুকে পড়েছে গাজা উপত্যকায়।
কী এর সমাধান?
এই অনন্ত ইনতিফাদার?
দুপক্ষের এই ব্যাপক বিদ্বেষের?
আরও জানতে হলে-
http://www.slate.com/id/2182754/
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

