আজ যখন ইজরাইল তার সমস্ত সামরিক শক্তি নিয়ে হামাস নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় অনুপ্রবেশ করেছে তখন হামাসের ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রথমত, যখন ফিলিস্তিনের মাটি থেকে রকেট ছুঁড়ে ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে সর্ম্পূনত ধ্বংস করা যাবেই না- তখন ইজরাইলের উদ্দেশে রকেট ছোঁড়ারই-বা কি মানে? হামাস তো ভালো করেই জানে যে-ইজরাইলের সামরিক শক্তি সম্মিলিত আরব বিশ্বের সামরিক শক্তির চেয়েও বেশি। তা হলে কেন তার হিংস্র বাঘের লেজে অহেতুক পা দেওয়া? যখন আমরা সবাই জানি যে গুহায় একটি মানুষখেকো বাঘ রয়েছে তখন সেটিকে বর্শা দিয়ে খোঁচানোর কি মানে?
হামাসের হঠকারী ভূমিকায় অস্টাদশ শতকের বাংলার সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের কথা মনে পড়ে যেতেই পারে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিতুমীরের বিদ্রোহের কথা আমরা জানি। বারাসাত নগরের কাছে নারকেলবেড়িয়ায় তিতুমীর একটি বাঁশের দূর্গ নির্মান করেছিলেন যখন ইংরেজরা যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করত দূরপাল্লার কামান! ১৪ নভেম্বর ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ। কামান থেকে গোলা বর্ষন করে নারকেলবেড়িয়ায় তিতুমীর বাঁশের কেল্লাটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ইংরেজ সৈন্যরা। প্রশ্ন এই -তিতুমীর কি জানতেন না যে বাঁশ দিয়ে কেল্লা তৈরি করে ব্রিটিশ সৈন্যদের সস্মুখে দাঁড়ানো যাবে না? হামাস কি জানে না যে ফিলিস্তিনের মাটি থেকে মাঝে মাঝে ইজরাইলেল উদ্দেশে রকেট ছুঁড়ে ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে সর্ম্পূনত ধ্বংস করা যাবেই না বরং তাতে গুহার ঘুমন্ত বাঘটি জেগে উঠে ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে?
মাঝেমাঝে ভাবি, তিতুমীরের strategy ছিল সম্পূর্নত ভুল;তিতুমীর যদি বাঁশের কেল্লা না তুলে অরণ্যযুদ্ধের পথ বেছে নিতেন- তা হলে হয়তো বাংলার ইতিহাস অন্যরকম হত। ইজরাইলী সৈন্যরা কয়েকদিন ধরে গাজায় সাদা ফসফরাস ছিটাচ্ছে। তাতে দগ্ধ হচ্ছে শিশুদের মুখ ...
তিতুমীর ও হামাস-এর হঠকারী ভূমিকায় জে এম বি ও হরকাতুল জেহাদের মতন ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলির কথাও আমার মনে পড়ে যায়। এদের strategyও ভুল।
রাষ্ট্রের সদিচ্ছ থাকলে যে মৌলবাদী জঙ্গি নেতাদের ফাঁসীতে ঝোলানো যায়, সে অনন্য দৃষ্টান্ত তো আমরা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই দেখলাম; তারপরও কীসের তাড়নায় হঠকারী জঙ্গিরা গোপনে বিস্ফোরক তৈরি করে-যখন বাংলাদেশ সামরিক সেনাবাহিনীতে রয়েছে পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এবং একটি গনতান্ত্রিক সরকারের জঙ্গি নির্মূলের দৃঢ় প্রত্যয়?
ইজরাইল আজ হামাস নিশ্চিহ্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মাসখানেক ধরে ইজরাইলী সৈন্যরা গাজায় তান্ডব চালাচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনে হামাসের ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। হামাসের strategy কি ভুল? যে ভুলের মাশুল দিচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা? ইজরাইলী সৈন্যরা কয়েকদিন ধরে গাজায় সাদা ফসফরাস ছিটাচ্ছে। তাতে দগ্ধ হচ্ছে শিশুদের মুখ।
দিন কতক ধরে তিক্ত হয়ে ভাবছি- হামাস পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পরও বাদবাকী ফিলিস্তিনি শিশুরা বেঁচে থাকবে তো ফিলিস্তিনে?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



