somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হামাস-এর strategy কি ভুল?

১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত হামাস সদস্যদের কুচকাওয়াজ। ১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে এক নির্মম ইজরাইলী গনহত্যার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হামাস। তার পর থেকে সংগঠনটি ক্রমেই জঙ্গি হয়ে উঠেছে সমগ্র ফিলিস্তিনজুড়ে। হামাসের জঙ্গি হয়ে ওঠার কারণও আছে-ইজরাইলের একচ্ছত্র স্বৈরাচার। এবং, এই দিক থেকে বিশ্বের সকল বিবেকবান মানবতাবাদী মানুষের অবস্থান আরব গেরিলাদের পক্ষেই। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে হামাসের সামরিক strategy পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ন কি না- সে প্রশ্ন আজ ইজরাইল কর্তৃক গাজা উপত্যকা ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে উঠতেই পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ফিলিস্তিনিদের অন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে -ফাতাহ। এবং আমরা এও জানি যে, ফাতাহ ইজরাইলবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও হামাসের মত অত উগ্র নয়। তারা ইজরাইলকে বাস্তব বলেই মেনে নিয়েছে।

আজ যখন ইজরাইল তার সমস্ত সামরিক শক্তি নিয়ে হামাস নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় অনুপ্রবেশ করেছে তখন হামাসের ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রথমত, যখন ফিলিস্তিনের মাটি থেকে রকেট ছুঁড়ে ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে সর্ম্পূনত ধ্বংস করা যাবেই না- তখন ইজরাইলের উদ্দেশে রকেট ছোঁড়ারই-বা কি মানে? হামাস তো ভালো করেই জানে যে-ইজরাইলের সামরিক শক্তি সম্মিলিত আরব বিশ্বের সামরিক শক্তির চেয়েও বেশি। তা হলে কেন তার হিংস্র বাঘের লেজে অহেতুক পা দেওয়া? যখন আমরা সবাই জানি যে গুহায় একটি মানুষখেকো বাঘ রয়েছে তখন সেটিকে বর্শা দিয়ে খোঁচানোর কি মানে?
হামাসের হঠকারী ভূমিকায় অস্টাদশ শতকের বাংলার সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের কথা মনে পড়ে যেতেই পারে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিতুমীরের বিদ্রোহের কথা আমরা জানি। বারাসাত নগরের কাছে নারকেলবেড়িয়ায় তিতুমীর একটি বাঁশের দূর্গ নির্মান করেছিলেন যখন ইংরেজরা যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করত দূরপাল্লার কামান! ১৪ নভেম্বর ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ। কামান থেকে গোলা বর্ষন করে নারকেলবেড়িয়ায় তিতুমীর বাঁশের কেল্লাটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ইংরেজ সৈন্যরা। প্রশ্ন এই -তিতুমীর কি জানতেন না যে বাঁশ দিয়ে কেল্লা তৈরি করে ব্রিটিশ সৈন্যদের সস্মুখে দাঁড়ানো যাবে না? হামাস কি জানে না যে ফিলিস্তিনের মাটি থেকে মাঝে মাঝে ইজরাইলেল উদ্দেশে রকেট ছুঁড়ে ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে সর্ম্পূনত ধ্বংস করা যাবেই না বরং তাতে গুহার ঘুমন্ত বাঘটি জেগে উঠে ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে?
মাঝেমাঝে ভাবি, তিতুমীরের strategy ছিল সম্পূর্নত ভুল;তিতুমীর যদি বাঁশের কেল্লা না তুলে অরণ্যযুদ্ধের পথ বেছে নিতেন- তা হলে হয়তো বাংলার ইতিহাস অন্যরকম হত। ইজরাইলী সৈন্যরা কয়েকদিন ধরে গাজায় সাদা ফসফরাস ছিটাচ্ছে। তাতে দগ্ধ হচ্ছে শিশুদের মুখ ...
তিতুমীর ও হামাস-এর হঠকারী ভূমিকায় জে এম বি ও হরকাতুল জেহাদের মতন ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলির কথাও আমার মনে পড়ে যায়। এদের strategyও ভুল।
রাষ্ট্রের সদিচ্ছ থাকলে যে মৌলবাদী জঙ্গি নেতাদের ফাঁসীতে ঝোলানো যায়, সে অনন্য দৃষ্টান্ত তো আমরা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই দেখলাম; তারপরও কীসের তাড়নায় হঠকারী জঙ্গিরা গোপনে বিস্ফোরক তৈরি করে-যখন বাংলাদেশ সামরিক সেনাবাহিনীতে রয়েছে পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এবং একটি গনতান্ত্রিক সরকারের জঙ্গি নির্মূলের দৃঢ় প্রত্যয়?
ইজরাইল আজ হামাস নিশ্চিহ্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মাসখানেক ধরে ইজরাইলী সৈন্যরা গাজায় তান্ডব চালাচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনে হামাসের ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। হামাসের strategy কি ভুল? যে ভুলের মাশুল দিচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা? ইজরাইলী সৈন্যরা কয়েকদিন ধরে গাজায় সাদা ফসফরাস ছিটাচ্ছে। তাতে দগ্ধ হচ্ছে শিশুদের মুখ।
দিন কতক ধরে তিক্ত হয়ে ভাবছি- হামাস পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পরও বাদবাকী ফিলিস্তিনি শিশুরা বেঁচে থাকবে তো ফিলিস্তিনে?


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×