প্রাচীন মিশরের কবিতায় অনিবার্যভাবেই সেকালের সমাজজীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। যেমন, সে সময় মেয়েরা জাল দিয়ে পাখি ধরতে ঘরের বাইরে চলে যেত । একটি কবিতায় একটি মেয়ে (কবি) বলছে:
বুনোহাঁসের তীক্ষ্ম ডাকে
আমার শিকার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
আমিও প্রেমের ফাঁদে বন্দি
পাখিরা আমার জাল নিয়ে উড়ে যাচ্ছে।
পাখি নিয়ে মা যখন ফিরে আসবে
আর দেখবে যে আমি পাখি ধরতে পারিনি...
আমি তখন কী বলব?
আমি পাখি ধরতে পারিনি
আমি তোমার জালে ধরা পড়ে গেছি।
আরেকটি কবিতায় দেখতে পাই-মেয়ে কবি লিখেছে-
যখন পাখিরা ওড়ে
যেনবা চরাচরে সবুজ ঢেউ ভাসে।
তখন আমি কিছুই দেখতে পাই না
আমি যেনবা অন্ধ হয়ে যাই।
যেন আমি ফাঁদে পড়েছি, আমাকে উি নিয়ে যাচ্ছে।
দুটি হৃদয় পাশাপাশি আছে
আমার জীবন তোমাতে বাধা পড়েছে
তোমার সৌন্দর্য আমাকে টানছে।
এরকম আরও অনেক কবিতা আছে।
‘বাগানের গান’ নামে একখানি কাব্যগ্রন্থ লেখা হয়েছিল প্রাচীন মিশরে প্যাপিরাসের পাতার ওপর। সে কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা এরকম:
ডালিম বলছে, আমার পাতাগুলি তোমার দাঁতের মতন
আমার ফল তোমার স্তনের মতন
আমিই সবচে সুন্দর ফল
সব ঋতুতে আছি
যেমন
ইষৎ মাতাল হয়ে
প্রেমিক থাকে প্রেমিকার পাশে সবসময়।
অন্যসব গাছের পাতা ঝরে যায়
ডালিম পাতা বাদে।
বাগানে আমার সৌন্দর্যই অত
আমি ঋজু
পাতা ঝরলেও
নতুন পাতা জাগে।
আর, ফলের মধ্যে আমিই প্রথম
তুমি ল কর:
আমি দ্বিতীয় না
তারপরও আমাকে অবহেলা করলে
তুমি আমায় আর খুঁজে পাবে না!
১৫৫৪-১০৮৫ খ্রিস্টপূর্ব সময়ের অনুভূতি! নারী অনুভূতি।
সে যা হোক। প্রাচীন মিশরীয় কবিতার আরও অনুবাদ সম্ভব। তবে তার আর প্রয়োজন কী। আমার কেবল বলার কথা-প্রাচীন মিশর কেবলই পিরামিড আর ‘বুক অভ ডেড’-এর দেশ না, প্রাচীন মিশরে প্রেমের কবিতার মতন সেকুলার সাহিত্যও ছিল-যা আমাদের আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে।
তথ্য:
Willis Barnstone এবং Tony Barnstone সম্পাদিত Literatures of Asia, Africa, and Latin America. (From Antiquity to the Present)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

