somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল-খানসা: সপ্তম শতকের এক আরব কবি

০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল-খানসার কাল্পনিক ছবি। আজ আমরা আরব দেশগুলিতে নারীর স্থান নিয়ে যাই বলি না কেন-সেই সপ্তম শতকেই কিন্তু এক প্রতিভাবান নারী কাব্য লিখে সমগ্র আরব উপদ্বীপের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। তিনি আল-খানসা। আল-খানসার কবিতায় মরুভূমির সমস্ত উপাদান রয়েছে। যেমন: বৃষ্টি, তরবারী, উট, ধূলা, পাহাড়-যে পাহাড়ের চূড়ায় জ্বলে আগুন। আল-খানসা তাঁর জীবদ্দশায় ইসলাম ধর্মের উত্থান প্রত্যক্ষ করেছিলেন। শুধু তাই নয় - ইসলাম গ্রহন করেছিলেন কবি। আমৃত্যু মদিনায় ছিলেন। যেখানে ইসলামের নবী বাস করতেন।

আল-খানসার পুরো নাম তুমাদির বিন্ত আমর ইব আল হারিথ ইবন আল শারিদ। সময়কাল : ৫৭৫-৬৪৬ খ্রিস্টাব্দ। মক্কা না মদিনা- আল-খানসা কোথায় জন্মেছেন-তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে অবশ্য বির্তক আছে। শোকগাথা রচনা করার জন্য আল-খানসা আরবি সাহিত্যে অমর হয়ে রয়েছেন। আমরা জানি, কেউ মারা গেলে লাশ ঘিরে উচ্চস্বরে বিলাপ করার প্রথা রয়েছে আরবদেশে। কখনও কখনও সে শোকার্ত ঘটনা নিয়ে বিলাপকাব্য রচনা করা হয়। বিলাপকাব্য রচনার ক্ষেত্রে আল-খানসা ছিলেন অদ্বিতীয়।
মধ্যযুগের আরবে গোত্রপরিচয় ছিল প্রধান। আল-খানসা ছিলেন সুলাইম গোত্রের। সেই সুলাইম গোত্রের কোন যোদ্ধা নিহত হলে তার উদ্দেশে আল-খানসা শোকগাথা রচনা করতেন। আল খানসার দুইজন ভাই ছিল। তাদের নাম: শাকর ও মুকুইযা। এরা যুদ্ধে মারা গেলে আল-খানসা শোকগাথা রচনা করেন।
৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের সাসানিয় সম্রাটের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সমর অভিযান পরিচালিত হয় । আল-কাদিসিয়ার যুদ্ধে মুসলিমরা জয়ী হয়। আল-কাদিসিয়ার যুদ্ধে আল-খানসার চার ছেলে মারা গিয়েছিল। আরবি বিলাপসংগীতে বারংবার আক্ষেপ করা হয়-সেই সঙ্গে মৃতব্যাক্তির বীরত্বের প্রশংসা করা হয়। মৃত্যুর প্রতিশোধ গ্রহনের কথাও বলা হয়। আল-খানসার বিলাপকাব্যেও এইসব বৈশিষ্টই বিদ্যমান।
আরবিতে কবিতা সঙ্কলনকে বলে: ‘দিউয়ান’। আমাদের সৌভাগ্য এই-আল-খানসার দিউয়ান কালের যাত্রায় টিকে গিয়েছে।
আজ আমরা আল-খানসার লেখা দুটি কবিতা পাঠ করব।

শাকর-এর জন্য শোকগাথা

শাকরের জন্য চিৎকার করে কাঁদো
দেখ, উপত্যকায় একটি পাখিও
শোকার্ত।

যখন যোদ্ধারা হালকা অস্ত্রে হয় সজ্জিত
যখন তরবারীর রঙ স্বচ্চ নুনের মতন

যখন ধনুকের টঙ্কার করে আর্তনাদ
যখন বাঁকানো বর্শাগুলো সব ভিজে

সাহসী, দূর্বল নয়-
বরং অরণ্যে শিকারী সিংহের ন্যায় সাহসী

যে যুদ্ধ করেছে তার বন্ধুদের জন্য
আত্মীয়বর্গের জন্য-তারাও সিংহের ন্যায় সাহসী।

ঝড়ঝঞ্ছা থেকে সে তার গোত্রকে বাঁচিয়েছে
বাঁচিয়েছে মরুভূমির একাকী পথিককে

বাতাসের গর্জন করে উঠলে তার মানুষেরা সুখি
যখন জমাট মেঘের নিচে উড়বে বাতাসের ধূলা।

ঘুম নেই

আমার দুচোখে ঘুম নেই সারারাত
আমি জেগে ছিলাম যেন
আমার দুচোখ থেকে বেরুচ্ছে থকথকে পুঁজ!

আমার চোখ ছিল নক্ষত্রপুঞ্জে
আমি যদিও ওদের মেষপালক নই
ছেঁড়া কাপড়ে শরীর ঢেকে নিই

আমি দুঃসংবাদ শুনেছি
দূত বলল:
‘শাকর এখন পাথর ও জঙ্গলের মাঝখানের
মাটির উপর শায়িত।’

যাও! আল্লাহ্ তোমার সহায় হোন, পুরুষের মতন
প্রতিশোধ নাও।
তোমার হৃদয় মুক্ত
শক্ত তোমার হৃদয়ের শিকড়।

মেষপালকের মতো তুমি রাত্রিকে উজ্জ্বলতা দান কর
শক্ত, দৃঢ়-মুক্ত মানবের সন্তান।

আমি আমার গোত্রের বীরের জন্য বিলাপ করি, মৃত্যু তোমাকে
ও অন্যদের ছিনিয়ে নিয়েছে।

যতক্ষণ পাখিটি কাঁদবে-আমি তোমার জন্য শোক করব
যেভাবে মধ্যরাত্রির পথিককে আলো দেয় নক্ষত্র।

শক্রদের সঙ্গে স্থাপন করব না শান্তি
তাদের পালিত পশুরা সব বিবর্ণ হয়ে যাক

তারা তোমার থেকে তাদের লজ্জ্বা ধুয়ে নেবে
বিশুদ্ধ হবে তোমার পতিত রক্তঘাম

আর যুদ্ধ তো খালিপিঠে কুঁজোর পিঠে চড়া!

হে যুদ্ধের প্রতিপালক।
তুমি বর্শাধারীর চুল ও নখ উপড়ে নাও!

সহস্র চোখ দেখছে তোমাকে
যারা ভয়ে অন্ধ। তারা বিস্মিত
তোমার উদর নাভীর উপরে ছিন্নভিন্ন
তোমার হৃদয়ের রক্তের ফেনা
তোমার হৃদয়ের রক্তের ফেনা
তোমার হৃদয়ের রক্তের ফেনা

সূত্র:

Willis Barnstone এবং Tony Barnstone সম্পাদিত Literatures of Asia, Africa, and Latin America. (From Antiquity to the Present)





সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×