
কবি অ্যান্তোনিও আগোসটিনহো নেটো। আঙ্গোলার একজন কবি, চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। আমাদের বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কবি আগোসটিনহো নেটো-র জীবনের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। আগোসটিনহো নেটো ছিলেন তুমুল দেশপ্রেমিক-অ্যাঙ্গোলার স্বাধীকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জীবন তুচ্ছ করে। দেশমাতৃকাকে বড় ভালোবাসতেন সমাজতান্ত্রিকমনস্ক এই মহান কবি
কবি অ্যান্তোনিও আগোসটিনহো নেটো -র জন্ম অ্যাঙ্গোলায়।
অ্যাঙ্গোলা দেশটি আফ্রিকায়।

অ্যাঙ্গোলার মানচিত্র।
ষোড়শ শতক থেকে ১৯৭৫ সাল অবধি পর্তুগালের ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল অ্যাঙ্গোলা ।

পর্তুগালের মানচিত্র।
অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডা


লুয়ান্ডার ছবি
১৯২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাঙ্গোলার বেনগো প্রদেশের কিনাক্সিজি নামে একটি গ্রামে কবি আগোসটিনহো নেটোর জন্ম ।

অ্যাঙ্গোলার গ্রাম ও গ্রামের মানুষ

গ্রামের মানুষ
কিনাক্সিজি জায়গাটা লুয়ান্ডা থেকে চল্লিশ মাইল। আগোসটিনহো প্রথমে দেশেই পড়ালেখা চুকালেন। তারপর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যান চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে। তারপর, মেডিকেলের পড়া শেষ করে দেশে ফিরে আসেন; এসে প্র্যাকটিশ শুরু করেন । অ্যাঙ্গোলার নিজস্ব শিল্পসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে ভীষণ স্পর্শকাতর ছিলেন আগোসটিনহো । অথচ, দেশ পরাধীন-পর্তুগালের থাবায়। অ্যাঙ্গোলাকে স্বাধীন করার লক্ষে গড়ে উঠেছিল ‘পপুলার মুভমেন্ট ফর দ্য লিবারেশন অভ অ্যাঙ্গোলা বা এম পি এল এ। আগোসটিনহো এম পি এল এ-র নেতৃত্ব গ্রহন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনবার গেরেপতার হন। ১৯৬২ সালে নিয়ে যাওয়া হয় পর্তুগাল । জেলে পুরে রাখা হয়-করা হয় নির্যাতন। কবিতা লিখেছেন কারাগারে বসেই। এক বছর পর পালিয়ে আসেন অ্যাঙ্গোলায়। তারপর বহু ঘটনা ...
অ্যাঙ্গোলা স্বাধীন হলে অ্যাঙ্গোলার প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আগোসটিনহো ।
তাই তখন আমি বলছিলাম- আমাদের বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কবি আগোসটিনহো নেটো-র জীবনের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।
রাজনীতিবিদ হলেও কবি হিসেবে আগোসটিনহো নেটো-র খ্যাতি সমধিক।
আগোসটিনহো নেটো-র মৃত্যু মস্কোয়-১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯।
তাঁর কবিতা নানা ভাষায় অনুদিত হয়েছে। এমনকী পর্তুগালেও তিনি কবি হিসেবে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
তাঁর কবিতায় জাতি ও শ্রেণিবৈষম্য বিরোধী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। নিচের কবিতাটি সেই চিহ্ন বহন করে।
কিনাক্সিজি
আমার কিনাক্সিজির একটা বেঞ্চে
বসে থাকতে ভালো লাগে।
সন্ধ্যা ছয়টায় গুমোট
এই-বসে থাকা আর কী।
কেউ এসে হয়তো
আমার পাশে বসবে।
আমি দেখব কালো মানুষের কালো কালো মুখ;
উদ্ভট কিমবানদু ভাষায় কথা বলতে বলতে
ধীরেসুস্থে
শহরে যাচ্ছে তারা
আমি দেখব ক্লান্ত পদশব্দ
অনুগতদের-যাদের পূর্বপুরুষও ছিল অনুগত
এখানে ভালোবাসা খুঁজছে, ওখানে সম্মান -খুঁজছেই
মদের চেয়েও তীব্র আচ্ছন্নতায়
প্রেম কি ঘৃনা- কিছুই না
সূর্য ডুববার পর
আলো জ্বলে উঠবে
আর আমি
হাঁটব এলোমেলো
ভাবতে থাকব-জীবন আসলে সহজ
ভীষন সহজ
তার জন্য-
যার এখন অনেক ক্লান্তি
এখনও যার অনেক কাজ বাকি।

অ্যান্তোনিও আগোসটিনহো নেটো: আঙ্গোলার একজন কবি

স্ত্রী মারিয়া ইউজেনিয়া দ্য সিলভার সঙ্গে
কবিতাসূত্র:
Willis Barnstone এবং Tony Barnstone সম্পাদিত Literatures of Asia, Africa, and Latin America. (From Antiquity to the Present)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



