
এদুয়ার্দ মানে। কয়েকটি নগ্ন ছবি এঁকে সমকালে ভীষন বিতর্কিত হয়ে ছিলেন মানে। অথচ, ক্যানাভাসের ওপর জীবনের বহুধা বিস্তার তিনিই উনিশ শতকে প্রথম ঘটিয়ে ছিলেন । নীতিবাগীশরা সব তাঁর ছবি দেখে হা, হা করে উঠেছিল। অথচ, আজ আমরা জানি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আধুনিক চিত্রকলার পথটি কে খুলে দিয়েছিলেন ।
১৮৩২ সালের ২৩ জানুয়ারি প্যারিসে এদুয়ার্দ মানের জন্ম । বাবা ছিলেন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা। কাজেই রাশভারী বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে আইন নিয়ে পড়–ক। তো, ছেলের ছবি আঁকার ঝোঁক-সে কিছুতেই আইন পড়বে না। ওর এক চাচা- চালর্স ফুরনিয়ের- ওকে ল্যুভরে নিয়ে বরেণ্য শিল্পীদের ছবি দেখাতেন। যা হোক আইন না পড়লেও বাবার নির্দেশে মানে নৌবিদ্যা শিখতে সমুদ্রে পথে ব্রাজিল অবধি গেল; তারপরও নৌবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা অকৃতকার্য হলেন। বাবা শেষমেশ ছেলের আঁকাআঁকি মেনে নেন। তারপর প্যারিসে এক ফরাসি চিত্রকরের কাছে ছবি আঁকার তালিম শুরু । শিল্পগুরুদের ছবি দেখার জন্য জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডও গেলেন মানে। তাঁর ছবি ওপর স্পেনিশ দিয়েগো ভেলাজক্যুয়েজ, ফ্রানসিসকো হোসে দ গোইয়ার প্রভাব রয়েছে।
মানের ছবির বিষয় হিসেবে মানে বেছে নিয়েছিলেন চারপাশের জীবন। ভিক্ষুক পথশিশু ক্যাফের লোকজন নিসর্গচিত্র বাঁশীওলা, স্বল্পবসনা নারী-এরাই উঠে এসেছিল মানের ক্যানভাসে। বিষয়নিষ্টতার জন্য ব্রাশের সরাসরি স্থূল প্রয়োগ ঘটাতেন। এভাবে উনিশ শতকে বাস করেও আধুনিক হিসেবে গন্য। তিনি ফরাসি চিত্রকলাকে বাস্তববাদ বা রিয়ালিজম থেকে ইমপ্রেশনিজমে উন্নীত করেন। ‘ঘাসের ওপর দুপুরের ভোজন’ আর ‘অলেম্পিয়ার’ নগ্নতার জন্য দারুণ সমালোচিত হয়েছিলেন জীবদ্দশায়। অথচ ঐ ছবিগুলিই উদ্দীপ্ত করেছিল পরের প্রজন্মকে ক্যানভাসকে আরও জীবনমূখি করে তোলার জন্য।
রুয়েলির বাগানের পথ
![]()
রুয়েলির বাড়ি
![]()
স্পেনের গায়ক
![]()
বাঁশীওয়ালা
![]()
ক্যাফেতে

মানের মৃত্যু হয়েছিল সিফিলিস ও রিউমাটিক জ্বরে। চল্লিশের পর, শরীরে মারাত্মক ব্যথা হত। মৃত্যুর আগে শরীরের কতক অংশ প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিল। বাঁ পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়েছিল। ওটা কেটে ফেলতে হয়েছিল। ১৮৮৩ সালে ৪১ বছর বয়েসে প্যারিসে মারা যান। সমাধি প্যারিসেই।
আত্মপ্রতিকৃতি
![]()
এক মেয়ে বন্ধু
![]()
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



