আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

সাঁওতালপুরাণ

০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৭

শেয়ারঃ
0 0 0



সাঁওতালরা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নৃগোষ্ঠী। এদের নিবাস প্রধানত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়ায়। বাংলাদেশের বাইরে পশ্চিম বাংলার রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল ছোটনাগপুর এবং সাঁওতাল পরগনায় এরা বাস করে।
সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলিয় জনগোষ্ঠীর বংশধর। এদের গায়ের রং কালো, উচ্চতা মাঝারি, চুল কালো ও কোঁকড়ানো, ঠোঁট পুরু। এরা বংলার প্রাচীনতম অধিবাসী ও এতদঞ্চলে কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক। এদের প্রধান উপাস্য সূর্য (সাঁওতালী ভাষায় সিং বোঙ্গা); তবে পর্বত দেবতাও (মারাং বুরু) এদের গ্রামদেবতা।
সাঁওতাল পুরাণকথার নাম হল: ‘হড়কারেন মারে হাপড়ামকো রেয়াঃক কাথা’। ১৮৭০ এর দশকে স্কেসরাড নামে একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক সাঁওতালপুরাণ সংগ্রহ করে রোমান হরফে লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ১৯৫১ সালের আদমশুমারির সময়ে প্রয়াত অশোক মিত্র বৈদ্যনাথ হাঁসদাকে দিয়ে তার বাংলা অনুবাদ করেন।



সাঁওতাল পুরাণকথা ‘হড়কারেন মারে হাপড়ামকো রেয়াঃক কাথা’ শুরু হচ্ছে এভাবে-

সূর্য যেই দিকে উঠে সেই দিকে মানুষের জন্মস্থান। আদিতে সমস্ত জলময় ছিল এবং জলের নীচে মাটি ছিল। তখন ঠাকুরজীউ (ভগবান) জলজীব, কাঁকড়া, হাঙ্গর, কুমির, রাঘববোয়াল, শাল, চিংড়িমাছ, কেঁচো, কচ্ছপ ইত্যাদি সৃষ্টি করিলেন। তারপর ঠাকুর বলিলেন: অতঃপর কাহাদের সৃষ্টি করিব? মানব সৃষ্টি করিব।

সাঁওতাল ভাষায় ‘হড়’ মানে মানুষ। হড় বা মানব সৃষ্টির জন্য ঠাকুরজীও প্রথমে মাটি দিয়ে একটি মূর্তি গড়েছিলেন। কিন্তু, সূর্যের ঘোড়া তা ভেঙে দেয়। তখন ঠাকুর দুঃখিত হয়ে বললেন-

মাটি দিয়া গড়িব না। পাখি সৃষ্টি করিব। তারপর হাঁস-হাঁসলি পাখি গড়িলেন নিজের বক্ষস্থলের ময়লা দিয়া। তারপর হাতের উপর রাখিলেন, বড় সুন্দর দেখাইতে লাগিল। তখন ফুঁ দিলেন। অতঃপর তাহারা সজীব হইয়া উঠিল। ...(পাখি দুটি) উড়িয়া উড়িয়া বেড়ায়, কোথাও বসিবার স্থান পায় না।

তখন মাটি গঠনের জন্য ঠাকুর একে একে কুমির, চিংড়িমাছ, রাঘববোয়াল এবং কাঁকড়া ডাকলেন। কিন্তু তারা কেউই জল থেকে মাটি তুলতে পারল না। ‘সমস্ত মাটি গলিয়া গেল।’ অবশেষে কচ্ছপের সাহায্যে এই কাজটি সম্পন্ন করল কেঁচো। কচ্ছপ জলের ওপর স্থির হয়ে রইল আর কেঁচো জলে নেমে:

মুখের দ্বারা মাটি খাইতে লাগিল ও তাহা কচ্ছপের পিঠে বাহির করিতে লাগিল। (মাটি) সরের মত বসিল । ...তারপর ঠাকুর মই দেওয়াইয়া মাটি ঠিক করিলেন। মই দিতে মাটি আটকাইয়া স্তুপ হইয়া গেল। তাহাই পর্বত হইয়া গেল।
এইভাবে মাটি গঠনের পরও জলের যে ফেনা অবশিষ্ট ছিল, ঠাকুর তা-তে বেনা বীজ বুনলেন; তারপর দুর্বাঘাস, করমগাছ, শাল, মহুয়া ইত্যাদি ‘সর্বপ্রকার গাছ’ । তখন সেই বেনাঝোপে হংসযুথ বাসা বাঁধল এবং হাঁসুলির ডিম থেকে দুটি মনুষ্যসন্তান জন্মাল। তাঁদের নাম পিলচু হারাম আর পিলচু বুড়ি। প্রথমে তাহারা উলঙ্গ ছিলেন, তাহাদের লজ্জ্বাবোধ ছিল না। ক্রমে হাড়িয়ার প্রভাবে তাঁদের মধ্যে লজ্জ্বা আর আসঙ্গলিপ্সা জন্মাল। তাঁদের মিলনে সন্তানসন্ততি হল। সাত ছেলে, সাত মেয়ে।
পৃথিবীতে এই ভাবে মানববংশ সৃষ্টি হল।




সূত্র: দলিতের আখ্যানবৃত্ত; সংকলন/সম্পাদনা; সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
এবং
বাংলাপিডিয়া।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাঁওতাল/পুরাণ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ/নিবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৩২

লেখক বলেছেন: কিচে?

২. ০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
কলঘরে আর ঘরঘর নাই
মরদ আসবেক না
সর্দার পাগল, মহুয়া খেয়ে মন ভুলায়
বাবু, তোহার বিটি কেনে মইরে গেল
শহুরে কি মানুষ থাকতে নাই
০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪০

লেখক বলেছেন: প্রথমে তাহারা উলঙ্গ ছিলেন, তাহাদের লজ্জ্বাবোধ ছিল না। ক্রমে হাড়িয়ার প্রভাবে তাঁদের মধ্যে লজ্জ্বা আর আসঙ্গলিপ্সা জন্মাল।

অতঃপর, সুধী সমাজ মহুয়া ও হাড়িয়ার পার্থক্য নিয়ে ভাবা যায়।

০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শুভ্র।

৪. ০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
ফারহানা আহমেদ বলেছেন: আরেকটু ডিটেইলড লেখেন না, কয়েক পর্বে ভাগ করে। সাঁওতালদের জীবন, ধর্ম, সংস্কৃতি, পার্বন এইগুলো আলাদা আলাদা করে।
০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, সেরকম ইচ্ছেও রয়েছে। মালমসলাও আছে। জাস্ট অপেক্ষা করেন। সময়সুযোগমতন পোষ্ট করে দেব।

৫. ০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:২৯
আহমেদ রাকিব বলেছেন: পোষ্ট খুবই ভাল্লাগছে। সাথে আপনার লিঙ্কটা আমার লিঙ্কে এড কইরা নিলাম। :)
০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: আচ্ছা। ধন্যবাদ।

৬. ০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: অদ্ভুত অদ্ভুত... আপনি আমার মাথাটা খারাপ করে দিছেন... সকালে নেরুদা... দুপুরে সাঁওতাল পুরান... আচ্ছা ওরা ওদের সেই অদ্ভুত সাঁওতালি সুরটা কোথা থেকে পেয়েছিল?? কে ছিল সেই সুরকার জানাতে পারবেন প্লিজ... দুর্দান্ত :)
০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:০৭

লেখক বলেছেন: ওদের সুরটাকে বলে পেনটাটনিক। মানে ৫ স্বরের স্কেল। পরে যা ৭ স্বরের সপ্তক বা অটকেভ হয়ে যায়। অন্যান্য জাতেরও ৫ স্বরের পেনটাটনিক স্কেল আছে-তবে সাঁওতালদের সুরটা সত্যিই অসাধারন।

০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ। সেরকম অবশ্যই করা যাবে।

৮. ০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: আগে কিছু জানাছিলো এখন আরো অনেক কিছু জানলাম!
থ্যান্কস ভাইয়া!
০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:০০

লেখক বলেছেন: থ্যান্কস!

০৭ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:০১

লেখক বলেছেন: যেত।

১০. ০৩ রা জুন, ২০১০ বিকাল ৪:৪৬
রেজোওয়ানা বলেছেন: অ নে ক ভাল্লাগছে........

সিং বোঙ্গা আপনার মঙ্গল করুণ
০৩ রা জুন, ২০১০ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: সাধু সাধু

১১. ০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:২১
দীপান্বিতা বলেছেন: বাঃ! দারুন লাগলো... পড়তে পড়তে দবরু পান্নাকে মনে পড়লো...... জলপাইগুড়ির আমাদের বাড়ির বুড়ো আর বিরাং নামে একটি মেয়েকেও মনে পরে গেল... :)
০৪ ঠা জুন, ২০১০ ভোর ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩১৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ