somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য সময়ের গল্প ...২

১০ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রাচীন ভারত

পিছন ফিরে কতদূর দেখা যায়?
কতদূর দেখা যেতে পারে? মানে, কতদূর দেখা বিধেয়? কত দূরের ইতিহাস-ইতিবৃত্ত, কল্পকাহিনির অভিঘাত আমাদের বর্তমান মনকে আলোরিত করতে পারে, আচ্ছন্ন করতে পারে? উনবিংশ শতকের লালন-রবীন্দ্রনাথ কে তো তাদের বাণীর অভিঘাতে বড় সাম্প্রতিকই বোধ হয়। ষোড়শ শতকের শ্রী চৈতন্যদেবও অতটা অস্পষ্ট নয়। (চৈতন্য জীবনকথা; বিজিতকুমার দত্ত) তাঁরই নামে স্থাপিত অধ্যাত্ববাদী ইসকন সংঘটি তো সমসায়য়িক কালের দেশি-বিদেশি ভাববাদীদের আচ্ছন্ন করে রাখছে। দশম শতাব্দীর অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানও কি অতটা আবছা ? তাতো মনে হয় না। তাঁকে আরও বেশি স্বচ্ছ করার জন্য তাঁকে নিয়ে আজও ছোটদের জন্য জীবনী, বড়দের জন্য নাটক লেখা হচ্ছে। (অতীশ দীপংকর; একরাম আলি। অতীশ দীপঙ্কর সপর্যা; অলোক বসু)
কিন্তু তারও আগে?
বৌদ্ধ দোঁহার গান - চর্যার পদ।
তারও আগে?
খ্রিস্টপূর্ব যুগের করতোয়া পাড়ের পুন্ড্রনগরটি যেন দেখা যায়। প্রাচীন বিশ্বের ওই অতুলনীয় নগরটি গড়ে তুলেছিল নিষাদ জাতির উত্তরসূরি পোদরা। (প্রাচীন বাংলার জনজাতিগোষ্ঠী; কাবেদুল ইসলাম) শাসনদন্ডটি যদিও ছিল মগধকেন্দ্রিক মৌর্যদের হাতে। আসলে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ট শতক থেকেই মগধকে কে কেন্দ্র করেই শাসিত হচ্ছিল প্রায়-অর্ধেক আর্যবর্ত মগধের প্রথম কেন্দ্রটি ছিল রাজগৃহ। পরে মগধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল পাটালিপুত্র। (A New History of India; Stanley Wolpert)
রাজগৃহ তো ছিল রীতিমতো দার্শনিকদের নগর। যেমন ছিল প্রাচীন গ্রিসের এথেনাই নগররাষ্ট্রটি। সম্রাট বিম্বিসারের সময়ে রাজগৃহে বাস করতেন অস্তিত্ববাদী বুদ্ধ; যিনি সমাহিত ভঙ্গিতে বৈপুল¬গিরির দিকে হেঁটে যেতে-যেতে বলতেন:
ÒO Sariputra, form is no other than emptiness, emptiness no other than form; form is precisely emptiness, emptiness precisely form.” (Jean Smith সম্পাদিত Radiant Mind);
গঙ্গার উত্তরের ৩৬ গণরাজ্যের বিরুদ্ধে সম্রাট অজাতশক্রর সামরিক অভিযানের কারণে ওই রাজগৃহ নগরেই উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন অজিবক ধর্মসম্প্রদায়ের প্রবক্তা দার্শনিক মোক্ষলি গোশাল! বৌদ্ধধর্ম ছাড়াও, বর্ধমান মহাবীর প্রচারিত জৈনধর্মেরও অন্যতম কেন্দ্র ছিল ওই রাজগৃহ নগর (Scripture and Community; Kendall W. Folkert). আসলে ওই সময়টায় আর্যবর্ত জুড়েই ছিল জৈন ও বৌদ্ধধর্মের জয়জয়াকার।(A History of India; vol.1; Romila Thapar) জনসাধারনে না-হলেও বোদ্ধা মহলে ভূতচৈতন্যবাদী চার্বাক দর্শনও জনপ্রিয় ছিল। (ভিন্নমত ও ভাববিদ্রোহ: প্রাচীন ভারতীয় দৃশ্যপট; প্রীতি কুমার মিত্র। ভারত ও ভারততত্ত্ব) তারও আগে আর্যাবর্তের সুশীল সমাজে প্রভাব বিস্তার করেছিল দার্শনিক কপিল-এর সাংখ্যদর্শন। সাংখ্যদর্শনই ভারতের আদি দার্শনিকমত। (সাংখ্য-পাতঞ্জল দর্শন। কনকপ্রভা বন্দ্যোপাধ্যায়)
কপিলকে ইচ্ছে করেই কপিলমুনি না বলে দার্শনিক কপিল বললাম।
তাতে ব্রাহ্মণ্যবাদী ঐতিহ্যে খানিকটা ক্ষুন্ন হল বটে; হলেও আমরা কপিলকে সংগত কারণে দার্শনিকই বলব। আরও বলব যে, কপিল শুধু ভারতীয় দর্শনেরই নয়- বাঙালির দর্শনের ভিতটিও তিনিই গড়ে দিয়েছিলেন । বৌদ্ধদর্শন তো বটেই - অতীশ দীপঙ্কর থেকে আরম্ভ করে লালন-রবীন্দ্রনাথ অবধি সবাই কমবেশি কপিলের ভাবশিষ্য। এমন কী, সা¤প্রতিক কালে চিন্তাবিদ ফরহাদ মাযহার অবধি কপিলের প্রকৃতিপুরুষ তত্ত্বে কমবেশি আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছেন । এই কিছুদিন আগেও তিনি কালের খেয়ায় লিখেছিলেন, আমার অন্তরে রাধা বহিরঙ্গে কৃষ্ণ ...ইত্যাদি। তাঁর নিজেকে এই রকম একই সঙ্গে রাধাকৃষ্ণ মনে হওয়ার কারণও কপিল। বাঙালির অন্যতম কবিকেও তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যে কপিলকে স্মরণ করতে দেখা যায়:

...আমার তো কপিলে বিশ্বাস,
প্রেম কবে নিয়েছিল ধর্ম কিংবা সংঘের শরণ?

বাঙালির জীবনদর্শনের প্রাচীনতম উৎসে যে একজন আদিপুরুষের উপস্থিতি বেশ গভীর ভাবেই ছিল এভাবেই তা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। সেই আদিপুরুষের নাম কপিল। বাঙালির দর্শন-ঐতিহ্যের ধারা কপিল থেকেই উৎসারিত। কাজেই কপিলকে নিয়ে আজ আমরা গভীর ভাবে কৌতূহলী হয়ে উঠতেই পারি।
কিন্তু কে কপিল?
একটু আগেই বলা হল যে তিনি একজন দার্শনিক ছিলেন- সাংখ্যদর্শন প্রচার করেছিলেন। কিন্তু এত অল্পে তো মন ভরে না, মানুষটি যখন লালন-মাযহারেও গুরু। সে-কারণে প্রশ্ন উঠতেই পারে - কপিল সম্বন্ধে আরও বেশি করে জানা সম্ভব কি না? কতকাল আগের মানুষ তিনি? একটু আগেই বলা হল যে, বাঙালির দর্শন-ঐতিহ্যের ধারা কপিল থেকেই উৎসারিত- তা হলে কি তাঁর জন্ম প্রাচীন বাংলায়? বা এতদিনে কপিলকে নিয়ে (সাংখ্যদর্শন নয়) তেমন স্পষ্ট করে আলোচনা না-করার কী কারণ? উপযুক্ত তথ্যপ্রমানের অভাব? না ইতিহাসের বিপুল সময়ের ব্যবধান? স্বীকার করি যে, কপিলের বসবাস অতীত ইতিহাসের এক ধূসর অধ্যায়ে; যার ঘুনেকাটা পৃষ্ঠাটি আজ অবধি কোনওমতে অক্ষত থাকলেও ভাষাটি মাগধীপ্রাকৃত হওয়ারই কথা। যদিও মাগধীপ্রাকৃত ভাষাটি একালের অনেকেই পড়তে পারেন, তবে, আমাদের কপিলতত্ত্বের চেয়ে মানুষ কপিলের প্রতি তীব্র কৌতূহল হওয়াই স্বাভাবিক। প্রবল যুক্তিবাদীরা এও স্বীকার করবেন- তথ্য যেখানে সুলভে মেলে না সেখানে কল্পনার আশ্রয় নেওয়া যেতেই পারে। কল্পনার মাধ্যমে মানুষ কপিলের একটা আবছা ছবি ফুটে উঠলেও উঠতে পারে। ততটুটুই বাঙালি তত্ত্বজিজ্ঞাসুর জন্য যথেষ্ট বিবেচনা করি।
এবার তা হলে বলি, কপিল কী ও কেন। কী তাৎপর্য ওই প্রাচীন বঙ্গবাসীর। বৈদিক মতে, মানবজীবনের উদ্দেশ্যই হল ঈশ্বরকে অন্বেষন করা। জীবন হল এমন এক পাঠশালা যেখানে নিয়ত ঈশ্বরের পাঠ নিতে হয়। এ ছাড়া জীবনের আর কোনও মানে নেই। এই কথাগুলিই বিশ শতক অবধি শ্রী অরবিন্দরা সুন্দর করে ইংরেজিতে লিখে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এইসব কাল্পনিক বিশ্বাসের বিরোধীতা করে ভূ-ভারতে কপিলই সর্বপ্রথম প্রতিবাদ করে বললেন, ঈশ্বরের পাঠ তো পরের কথা আসলে মানুষের জীবনটাই যে দুঃখপূর্ন। পৃথিবীতে মানুষ জন্মলাভ করে নানাবিধ দুঃখ কষ্টে ভোগে। বেদপাঠ কিংবা ব্রহ্মাজ্ঞান এইসব দুঃখকষ্ট দূর করতে পারে না। দুঃখকে দূর করতে হলে চাই স্বচ্ছ দৃষ্টি, প্রকৃতি ও পুরুষের জ্ঞান, এককথায়- দর্শন। কথাগুলি সঙ্গে বৌদ্ধদর্শনের সাদৃশ্য থাকার কারণ, বৌদ্ধধর্মের ওপর সাংখ্যদর্শনের প্রভাব।
নেহেরুর লেখা The Discovery of India বইটির পাতা উল্টিয়ে দেখি, অধ্যাপক রিচার্ড গার্বে লিখেছেন, `In Kapila’s doctrine, for the first time in the history of the world, the complete independence and freedom of the human mind, its full confidence in its own powers were exhibited. ( P.184)
তথ্যটি শিহরিত করে!
অধ্যাপক গার্বে কপিলের সময়কাল seventh century b.c. বলে উলে¬খ করেছেন ।
কাজেই, আয়োনিয়ার Thales নন - বরং বিশ্বের প্রথম মানবতাবদী দার্শনিকটির নাম কপিল। এবং তাঁর জন্মস্থান প্রাচীন বাংলা!
কথাটি অবিশ্বাস্য শোনালেও বলব- প্রাচীন বাংলায় জন্ম-নেওয়া কপিলই বিশ্বের প্রথম মানবতাবাদী দার্শনিক। আজ থেকে প্রায় সাতাশ ’শ বছর আগে প্রাচীন বাংলা অধিবাসী কপিল এমন মতবাদ প্রচার করেছিলেন যাতে ... . the complete independence and freedom of the human mind, its full confidence in its own powers were exhibited ... পক্ষান্তরে, আয়োনিয়বাসী থালেস ব্যবসা করতেন। (Greek Science:Its meaning for us; Benjamin Farrington.) ব্যবসাবানিজ্যের স্বার্থে বিশ্ব ঠিক কী দিয়ে তৈরি - থালেস সে-রকম ভাবতেই পারেন। পক্ষান্তরে, বঙ্গবাসী কপিলের কবিহৃদয় তাঁকে মানবীয় দুঃখদুর্দশার প্রতি সচেতন করে তুলেছিল। এ দিক দিয়েও বুদ্ধ কিংবা কিয়ের্কগার্দ নন- বরং কপিলকেই আমরা অস্তিত্ববাদী দর্শনের জনক বলতে পারি ।
ব্যাক্তিমানুষ হিসেবে ততটা না-হলেও কপিলপ্রচারিত নিরেশ্বরবাদী এবং নারীবাদী সাংখ্যদর্শন আজও বাঙালি তত্ত্বজিজ্ঞাসুর আলোচ্য। স¤প্রতি বাংলাদেশের দর্শন সম্বন্ধে গভীর কৌতূহল লক্ষ করা যাচ্ছে। কপিলবাদ থেকেই যে বাঙালির দর্শনচর্চার আরম্ভ, সে-কথা দৃঢ়ভাবে বলার আজ সময় এসেছে। সাংখ্যদর্শনকে আমরা বলব কপিলবাদ।
আজকাল তো আমরা সমীচিন না-হলেও জীবনানন্দের কবিতার আলোচনার পাশাপাশি কবির প্রতি লাবণ্য দাশের শীতল উপেক্ষার কথাও যেন আরও বেশি করে আলোচনা করি। ছাতার- বাঁটের- ব্যবসা- করে- ব্যর্থ- হওয়া মানুষ জীবনানন্দ দিন-দিন আমাদের গভীর কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠছেন তাঁর কবিতার পাশাপাশি। সেই রকম সাংখ্য দর্শনের পাঠ গ্রহন ছাড়াও বাঙালি জীবনদর্শনের উৎসে অবস্থান করা দার্শনিক কপিলও আমাদের কৌতূহলের কেন্দ্র হয়ে উঠতেই পারেন। ক্রমেই অন্ধকার হয়ে আসা এই বিমর্ষ¤¬ান ভাববাদী সময়ে সেই নিরীশ্বরবাদী বিদ্রোহীটিকে খুঁজে বার করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের ওপরই বর্তায়। আমরা খুঁজে বার করতে চাই সেই কপিলকে - তা সে যত কালের ব্যবধানেই তিনি দাঁড়িয়ে থাকুন না কেন। তথ্যাদির অভাবে কপিলকে স্পষ্ট করতে চাই কল্পনা শক্তির আশ্রয় , তবে সে-কল্পনা বলগাহীন হবে না - যুক্তিযুক্তই হবে।
প্রাচীন বাংলারই কোনও কৌম গ্রামে, অনুমান করি, যিশুর জন্মে সাত শ বছর আগে জন্ম হয়েছিল কপিলের । তপোব্রত সান্যাল লিখেছেন, “প্রাচীনকালের লেখকরা বঙ্গকে উপেক্ষা করলেও মহামুনি কপিলের সঙ্গে গঙ্গার সম্পর্কে কে মান্য করেছেন। সাংখ্য-দর্শনের প্রবর্তক কপিল যে বঙ্গবাসী ছিলেন, তার প্রমান আছে। সাংখ্যই ভারতের প্রাচীনতম দর্শন। বৌদ্ধধর্মের মূলতত্ত্বের উৎসও এই সাংখ্যদর্শন। বস্তুত, বুদ্ধের দু’জন গুরুই ছিলেন সাংখ্যমতাবলম্বী। সনাতন ধর্মাবলম্বী আর্যশাস্ত্রীরা কপিলের লোকায়ত সাংখ্যশাস্ত্রকে কখনোই মেনে নেন নি, কারণ কপিল বেদকে প্রমাণ বলে স্বীকার করেননি। মনে হয় এই কারণেই বৌদ্ধ-অধ্যুষিত বঙ্গ আর্যদের দ্বারা অবহেলিত হয়েছে।” (গঙ্গা: তত্ত্ব ও তথ্য। পৃষ্ঠা ১৬)।
প্রাচীন বাংলার অন্যতম সম্বৃদ্ধশালী অঞ্চল ছিল পুন্ড্রবর্ধন। বর্তমান কালে এটি বগুড়া জেলায় অবস্থিত; সেই খ্রীষ্টপূর্ব যুগে অঞ্চলটি নিষাদ জাতির উত্তরসূরি পোদ-রা গড়ে তুলেছিল । পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর। যে নগরের পুব পাশে প্রবাহিত হত সদানীরা করতোয়া; আজও - তবে, ক্ষীন ধারায়। তৎকালে পুন্ড্রনগরের পশ্চিমদিকে অনেকগুলি বৌদ্ধবিহার গড়ে উঠেছিল। তার মধ্যে ভাসু বিহার অন্যতম। গৌতম বুদ্ধ ভাসু বিহারে বর্ষাযাপন করেছিলেন। চারমাস। বাংলার ঝরঝর মেঘ-অন্ধকার দর্শনে আর গ্রামবাসীর বিচিত্র বৈষয়িক আচরণে তিনি যথারীতি বিষন্ন-ব্যথিতই ছিলেন মনে হয় । তবু, অনুমান করি, পুন্ড্র জনপদটি নিয়ে তথাগতর ছিল অসীম কৌতূহল । কারণ, প্রাচীন বাংলা সাংখ্যদর্শনের প্রচারক কপিলের জন্মভূমি। আগেই উলে¬খিত হয়েছে, “বস্তুত, বুদ্ধের দু’জন গুরুই ছিলেন সাংখ্যমতাবলম্বী।” এঁদের নাম অড়ার-কলাম।
কপিলের জন্ম প্রাচীন বাংলার কোনও কৌমগ্রামে, পরে, তিনি তাঁর মতবাদটি প্রচার করেছিলেন উত্তর ভারতের কোনও নগরে- এইরকমই অনুমান করা তা হলে অসংগত নয়?
তৎকালে ভাগীরথী-করতোয়া-পদ্মার দু’পাড়ের কৌমগ্রামগুলি কেমন ছিল?
প্রাচীন বাংলার অধিকাংশ স্থানই জল ও জঙ্গলে পরিপূর্ন ছিল। হরিকেল, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ/ নাব্য, পন্ড্রবর্ধন, গঙ্গাহৃদয় Ñ এই সমগ্র অঞ্চলটিই খ্রীষ্টপূর্ব যুগে ছিল পোদ-বাগদি-হাড়ি-ডোম প্রমুখ জাতির বাসভূমি। পোদ-বাগদিরা অরণ্যচারী নিষাদ জাতি থেকে উদ্ভুত। কৌম-গ্রামের পাশেই অরণ্য। ওখানে বেঁটে-কালো নিষাদ নারী-পুরুষের দেখা মেলে। অরণ্য পুড়িয়ে চাষাবাদ শুরু হয়েছে কোথাও, গড়ে উঠছে গ্রাম, তার বটতলা, মেঠোপথ, হাট, আষাঢ়- শ্রাবণের আলো-আঁধারিময় পথঘাট। গ্রামীণ সমাজ লৌকিক দেবতার প্রাধান্য । অরণ্যে তখনও নিষাদ নারী-পুরুষেরা বৃষ্টিতে ভিজছিল। এমনই সহজ সরল জীবন যাপন ওদের । অরণ্যচারী নিষাদরা বোঙ্গা দেবতার পূজো করে। ওই বোঙ্গা দেবতার নামেই রাজ্যের নাম রাখা হল বঙ্গ । বোঙ্গা থেকেই বঙ্গ। (প্রসঙ্গটি বিতর্কিত। দ্র: প্রাচীন বাংলার জনজাতিগোষ্ঠী। কাবেদুল ইসলাম) ওই ঘন জঙ্গলের কালো-কালো বেঁটে শরীরের আদি-অস্ত্রাল মানুষদের বোঙ্গা দেবতার স্বীকৃতি দেওয়া হল।
এমনই এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন কপিল । জীবনের শুরু থেকেই গভীর চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন বলা বাহুল্য। নিষাদ অধ্যূষিত অরণ্য আর কৌম গাঁয়ের পরিবেশ প্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করেছিলেন। তাঁর মনে অনেক প্রশ্নের উদয় হয়েছিল নিশ্চয় । অনেক প্রশ্নে উত্তর পেয়েও গিয়েছিলেন অনেক ভেবে-ভেবে। বরিশালের লামচরি গাঁয়ের আরজ আলি মাতুব্বরের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে কি? কিংবা হরিধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালির কথা? পরিনত বয়সে এসে অধিকতর জ্ঞান আরোহন করবেন পশ্চিমযাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কপিল? দশম শতাব্দীর অতীশ দীপঙ্করের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে কি? বাঙালির পশ্চিমযাত্রা কি নতুন কিছু? দশম শতাব্দীর অতীশ ছাড়াও কুড়ি শতকের ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, জীবনানন্দ প্রমুখ তৃষ্ণার্তরা পশ্চিমযাত্রা করেছিলেন গান ও কবিতার কারণে। এঁদের সঙ্গেও কপিলের হৃদয়টির সাদৃশ্য লক্ষ করি না কি? শ্রেষ্ঠ বাঙালি যোগী বিবেকানন্দর গোটা জীবনটাই তো বলা যায় পশ্চিমযাত্রারই এক অসাধারন বর্ণনা। অদম্য কৌতূহল, এমনকী রবীন্দ্রনাথকেও টেনে গিয়েছিল ইউরোপে ।
বাঙালি রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি।
প্রাচীন বৃহৎ বঙ্গর কপিল বিশ্বসভ্যতার প্রথম দার্শনিক।
ওই সময়টায়, মানে, খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীতে বা আরও কিছু পরে প্রাচীন ভারতে এক- এক করে গড়ে উঠছিল ষোলটি (ট্রাইবাল) রাজ্য । কাশী, কোশল, অঙ্গ, মগধ, বজ্জি, মল¬, চেদি, বৎস, করু, পাঞ্চাল, মৎস, সুরসেনা, অশ্মক, অবন্তী, গান্ধার এবং কম্বোজ । (T.W. Rhys Davids; Buddhist India.)
কপিল সেই রকম কোনও নগরে উপস্থিত হয়েছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই লিখেছিলাম ‘আমার তো কপিলে বিশ্বাস’

ডাউনলোড লিঙ্ক


http://www.mediafire.com/?dmo10o0v3ha


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৭
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×