আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

স্পিনোজার নির্বিকার ঈশ্বর

০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

শেয়ারঃ
0 1 0


বেনেডিক্ট স্পিনোজা। (১৬৩২-১৬৭৭) ওলন্দাজা (Dutch) দার্শনিক। স্পিনোজার বড় বোন বাড়ি নিয়ে মামলা করেছিল। বাড়িটি বোনকে লিখে দিয়ে স্পিনোজা গৃহত্যাগ করেছিলেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই-প্রকৃত দার্শনিকেরা এমনই হয়। তাছাড়া ইহুদি ধর্মনেতাদের সঙ্গেও স্পিনোজার গোল বেঁধেছিল-পরিনতিতে স্পিনোজাকে সম্প্রদায় চ্যূত করা হয়েছিল। দার্শনিকটি তারপর আমস্টারডামের একটি কাচের দোকানে কাজ নিলেন। ইউরোপের বিদগ্ধজনেরা সেই কাচের দোকানেই নাকি আসতেন দলছুট দার্শনিককে শ্রদ্ধা জানাতে। যা হোক। সেই কাচ পরিস্কার করতে করতেই ফুসফুসে কাচের গুঁড়ো ঢুকে মাত্র ৪৪ বছরে অস্টাদশ শতকের ইউরোপীয় জ্ঞানদীপ্ত যুগের অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিটি মৃত্যুবরণ করেন।




হল্যান্ড। সপ্তদশ শতকে হয়ে উঠেছিল স্পেন থেকে নির্বাসিত ইহুদিদের আশ্রয়স্থল।

২৪ নভেম্বর ১৬৩২। বেনেডিক্ট (বা বারুচ) স্পিনোজার জন্ম হল্যান্ডে। আমস্টারডামের এক ইহুদি পরিবারে। পরিবারের শিকড়টি ছিল স্পেনে। ওখানকার খ্রিস্টান রাজা ইহুদিদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। নির্বাসিত ইহুদিরা ইউরোপের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল।



সপ্তদশ শতকের আমস্টারডাম।



এখনকার আমস্টারডামের একটি কফিশপ।

কৈশরে ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়াও লাতিন ও ফিজিক্স পড়েছিলেন স্পিনোজা । পাঠ্যসূচির অর্ন্তগত ছিল ফরাসি দার্শনিক দেকার্ত ও ইতালিও সংশয়বাদী জিওদার্নো ব্রুনো। (একে চার্চ পুড়িয়ে মেরেছিল)
তরুণ বয়েসেই হল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্পিনোজার বিরোধ বাঁধে।
কেন ?
বলছি।
স্পিনোজা ছিলেন সর্বপ্রাণবাদী অদ্বৈতবাদী। এই কথাটা মোটেও কঠিন নয়। ব্যাখ্যা করছি। স্পিনোজার মতে- ঈশ্বর এবং জগৎ অভিন্ন। কাজেই অতিজাগতিক ঈশ্বরের সন্ধানে দৃশ্যমান জগতের বাইরে যাওয়ার দরকার নাই-বর্তমানের সীমিত অভিজ্ঞতায় ঈশ্বরলাভ বা ঈশ্বরজ্ঞান সম্ভব। ঈশ্বর সামগ্রিকভাবে প্রকৃতিতে বাঁচেন ও আন্দোলিত হন। (গড মুভস অ্যান্ড লিভস্ ইন নেচার।) সমগ্র বিশ্ববহ্মান্ডই ঈশ্বর। প্রকৃতি কিংবা ঈশ্বর প্রকৃতি কিংবা ঈশ্বর-এর মূল কারণ এবং প্রকৃতি কিংবা ঈশ্বর স্বয়ংসম্পূর্ন।
এই ধারনার জন্যই স্পিনোজার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরের শতাব্দীতে স্পিনোজাকে ‘বাজে শয়তান’ বলা হয়েছিল!
স্পিনোজা আরও বিশ্বাস করতেন: মানুষ-অহংবশত ঈশ্বরকে নিজের রুপে কল্পনা করেছে। ধারণাটি অ্যানথ্রোপোমরফিক বা মানুষকেন্দ্রিক। মানুষ আরও কল্পনা করেছে -এই কল্পিত মানুষের ব্যাপারে বিশেষভাবে কৌতূহলী।
স্পিনোজার প্রবল আপত্তি এখানেই।
স্পিনোজার ঈশ্বর ভালোও বাসে না ঘৃনাও করে না। সামগ্রিক অস্তিত্ব (দি টোটালিটি অভ এক্সিজটেন্স) প্রকৃতি, ঈশ্বর মানুষের অনেক উর্ধে; মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতি উদাসীন-কাজেই পার্সোনাল গড-এর ধারণাই অবাস্তব।
তাহলে শুভ ও অশুভ?



আমাদের ধারণায় যা কিছু মঙ্গলময়- তার ক্রেডিট আমরা ঈশ্বরকে দেই-যা কিছু খারাপ লাগে - শয়তানকে দোষারোপ করি।
এসব কথাই স্পিনোজা লিখেছেন ‘এথিক্স’ নামে একটি গ্রন্থে । লাতিন ভাষায়। প্রকাশ পেয়েছিল মৃত্যুর পর। ১৬৭৭ সালে। বইটির পুরো নাম: ‘এথিকা অরডাইন জিওমেট্রিকো ডেমোনসস্ট্রাটা।’



এথিকা অরডাইন জিওমেট্রিকো ডেমোনসস্ট্রাটা বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা




স্পিনোজাকে "বাজে শয়তান" বললেও আধুনিক যুগ স্পিনোজার ভাবনাকে সম্মান করেছে। শ্রদ্ধভরে ভাস্কর্য নির্মান করেছে। আমি আগেই বলেছি। স্পিনোজা ছিলেন অস্টাদশ শতকের ইউরোপীয় জ্ঞানদীপ্ত যুগের অন্যতম পথিকৃৎ। যে কারণে বারট্রান্ড রাসেল তাঁকে the noblest and most lovable of the great philosophers বলে অবহিত করেছেন।


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্পিনোজা/ ঈশ্বর ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দর্শন  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০৪
মিজান মল্লিক বলেছেন: ভালো লাগলো। কথা সামান্যই। তবু দরকারি । তাঁর চিন্তায় ভূত তাড়ানোর ক্ষমতা আছে। কবি দর্শন চর্চা করছেন-এই ভেবেও ভালো লাগলো।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: তাঁর চিন্তায় সত্যিই ভূত তাড়ানোর ক্ষমতা আছে। আসলে তাঁর থেকেই শুরু ...
অনেক ধন্যবাদ।

২. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৭
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: ধন্যবাদ। তাঁর আরো চিন্তাভাবনা অনুবাদ করার অনুরোধ করি। ভাল থাকবেন।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪

লেখক বলেছেন: করব। ধন্যবাদ।

৩. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৯
আকাশ_পাগলা বলেছেন: উনার কৃতিত্বটাই বুঝি নাই।
মানে, উনি কী বিজ্ঞানী ছিলেন? কবি ছিলেন?

উনার কাহিনী জেনে ভাল লাগল।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮

লেখক বলেছেন: ওনার প্রথম কৃতিত্ব -বাইবেলিয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখান করে বিশ্বজগৎকে নতুনভাবে দেখানো। এর ফলে বিশ্বজগৎ সম্পর্কে নতুন এক কৌতূহল সৃস্টি হয়। এই কৌতূহল নিবৃত্তির নামই বিজ্ঞান। যে কারণে আমি বলেছি: স্পিনোজা ছিলেন অস্টাদশ শতকের ইউরোপীয় জ্ঞানদীপ্ত যুগের অন্যতম পথিকৃৎ।
তিক্ত সত্য হল-স্পিনোজা যা করেছেন-আমাদের এখানেও সেরকম কিছু ঘটা দরকার।

৪. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৬
কার্ল মার্কস বলেছেন: ধন্যবাদ, ভবিষ্যতে আরো বিস্তারিত আশা করি। বিশেষ করে স্কুল আব থট অনুযাই হলে সোনায় সোহাগা।
ভালো থাকবেন।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯

লেখক বলেছেন: লিখব।

৫. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৬
ফুয়াদ০দিনহীন বলেছেন: আকাশ পাগলা,
বিভিন্ন বিজ্ঞানে উনার দ্বারা প্রভাবিত । যেমন ঃ আইনিস্টাইন ।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫০

লেখক বলেছেন: Yes.

৬. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪২
মুভি পাগল বলেছেন: চমৎকার এবং প্রিয়তে
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪
আকাশ অম্বর বলেছেন: প্রিয় মানুষ।


The Ethics

Part III PROP. XXXIII. The intellectual love of God, which arises from the third kind of knowledge, is eternal.

Part I PROP. XL. A third kind of knowledge, which we will call intuition....

Part III PROP. XXIV. The more we understand particular things, the more do we understand God

Part III PROP. XXXI. The third kind of knowledge depends on the mind, as its formal cause, in so far as the mind itself is eternal.
Proof.-The mind does not conceive anything under the form of eternity, except in so far as it conceives its own body under the form of eternity ; that is, except in so far as it is eternal; therefore, in so far as it is eternal, it possesses the knowledge of God, which knowledge is necessarily adequate; hence the mind, in so far as it is eternal, is capable of knowing everything which can follow from this given knowledge of God.


অসংখ্য ধন্যবাদ।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪

লেখক বলেছেন: এথিকা অরডাইন জিওমেট্রিকো ডেমোনসস্ট্রাটা থেকে আরও অনুবাদ করব ভাবছি।

৮. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
তারার হাসি বলেছেন:
তেমন কিছুই জানি না, এখানেও খুব অল্প কথায় লেখা হয়েছে।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫০

লেখক বলেছেন: পরে আরও লিখব।

৯. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:১৭
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: কত কিছু নিয়ে যে জানলাম আপনার মাধ্যমে!~
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৪

লেখক বলেছেন: তাই?

১০. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৪
ভুরিদত্ত বলেছেন: এই সব স্পিনোজা-ডান্সস্কোটাসরা বহুত জ্বালিয়েছে স্কুলে।
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: ?

১১. ২২ শে মে, ২০১০ রাত ৯:১০
অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: আরেকটু ডিটেল হলে আরো ভাল লাগতো, আপনার লেখাটা অনেক ভালো লাগে, অলস বানিয়ে দিয়েছেন !
২২ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৩৩

লেখক বলেছেন: অলস বানিয়ে দিয়েছেন ! :|

১২. ২২ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫০
হোমার জে সিম্পসন বলেছেন: আপনার মতো করে লিখতে পারলে দুজন মুসলিম দার্শনিকের জীবনি লেখার চেষ্টা করতাম। ধর্মের সাথে দর্শনের বিভেদ থাকলেও ইবনে খালদুন এবং আল ফারাবি এ দুজনের মুসলিম পরিচয় তাদের দার্শনিক পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়। তাদের দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রচেষ্টা গুলো পাঠকদের জানানো দরকার। আপনার কাছে অনুরোধ রাখছি তাদের নিয়ে লেখার জন্য।

পোস্ট নিয়ে আর কি বলতে পারি, স্পিনোজা আমার প্রিয় চিন্তাবিদদের একজন আর আপনি প্রিয় ব্লগার তালিকায় প্রথমেই আছেন। :)
২২ শে মে, ২০১০ রাত ১০:০১

লেখক বলেছেন: ইবনে খালদুন নিয়ে এখনও লেখা হয়নি তবে আল ফারাবি নিয়ে লিখেছি।
ধন্যবাদ।

১৩. ২৩ শে মে, ২০১০ রাত ১:৫২
অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: আসলে এখন আর নিজে থেকে পড়তে ইচ্ছা করে না, এমন একটা ভাবনা থাকে যে, ইমন জুবায়ের ই হয়তো লিখবেন আবার.........। :)
২৩ শে মে, ২০১০ সকাল ৭:৪৩

লেখক বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ ...

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৮৮০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ