সুপ্রাচীন কাল থেকেই প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের দজলা (তাইগ্রিস) ও ফোরাত (ইউফ্রেতিস) নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলটি অনেক সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়ে রয়েছে: সুমের আক্কাদ আসুর ব্যাবিলন। ব্যাবিলন নগরকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল ব্যাবিলনিয় সভ্যতা; যে সভ্যতাটি নির্মান করেছিল সেমেটিক কলদিয় ( Chaldeans) জাতি। আসিরিয় সভ্যতার পতনের পর পরই গড়ে উঠেছিল কলদিয় সভ্যতা।
মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র
প্রাচীন ইতিহাসে কলদিয় সভ্যতাটি নব্য ‘ব্যাবিলনিয় সাম্রাজ্য’ নামে পরিচিত। কলদিয় জাতির শাসন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৮৭ বছর: ৬২৬ থেকে ৫৩৯ খ্রিস্টপূর্ব । এত স্বল্প সময়ের মধ্যেই সভ্যতাটি অর্জন করেছিল বিস্ময়কর সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব।
কলদিয়া
ঐতিহাসিকদের ধারণা, ৮০০ খ্রিস্টপূর্ব নাগাদ এক সেমিটিকভাষী গোত্র ব্যাবিলন নগরের দক্ষিনে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে; অত্র অঞ্চলে তারা এসেছিল আরব উপদ্বীপ থেকে । এদের ভাষা ছিল আরামিয়। বসতি স্থাপনের কয়েক শ বছর পর এরা নিজেদের বাসভূমিকে বলে: ‘মাট কালদি’; এর মানে, ‘কলদিয় দেশ’। আরবি ভাষায়, ‘কালদান।’ কলদিয়া ছিল ব্যাবিলনের দক্ষিণে, পারস্য উপসাগরে কাছে এবং টাইগ্রিস নদীর দক্ষিণ তীর ঘেঁষে । টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস এর মাঝখানটি উর্বর ভূখন্ডটিই ব্যাবিলনিয়া নামে পরিচিত। ভূখন্ডটি অত্যন্ত উর্বর; বিস্তীর্ণ উজ্জ্বল শষ্যক্ষেত্র ও দ্রাক্ষাকুঞ্জে পরিপূর্ন। মিশরের নীলনদের পার্শ্ববর্তী উর্বর ভূখন্ডের সমতূল্য।
কলদিয়রা ছিল জ্যোর্তিবিদ্যা চর্চার অগ্রদূত
তবে কলদিয় জনগনের ভাগ্যে সুখ তেমন ছিল না। কেননা, সে সময়টায় ব্যাবিলনিয়া শাসন করছিল দুর্দান্ত আসিরিয় সাম্রাজ্য; যে সাম্রাজ্যটির রাজধানী ছিল নিনেভ। ২০০ বছর ধরে কলদিয়রা আসিরিয় শাসন শোষনে ছিল জর্জরিত । আসিরিয় রাজতন্ত্র কর্তৃক দরিদ্র কলদিয় কৃষকদের ওপর উচ্চহারে করারোপ করা হত, এরুপ নির্মম শোষন নির্যাতন ছাড়াও আসিরিয়রা কলদিয়দের সঙ্গে নানান বৈষম্যমূলক আচরণ করত। আসিরিয়রা কলদিয়দের বলত, কালদু। আসিরিয়রা তখনও বোঝেনি যে তারা নিজেদের কবর খুঁড়ছে। কলদিয়দের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ন আচরণ করলে আসিরিয় সভ্যতাটি হয় তো আরও কয়েক শ বছর টিকে থাকত, কলদিয়দের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যেত না। হায়, ইতিহাস থেকে কেউই শিক্ষা নেয় না!
আসিরিয় সাম্রাজ্য
শোষিত কলদিয় জাতি দীর্ঘকাল এক নেতার আবির্ভাবের প্রতীক্ষায় ছিল, যে নেতা আসিরিয় শাসনের তান্ডব থেকে কলদিয় জাতিকে মুক্ত করবে। খ্রিস্টপূর্ব ৬৫৮। জন্ম হল কলদিয় মুক্তিদাতার; নাম রাখা হল: নাবোপোলাসসার। নাবোপোলাসসার কলদিয় দের ঐক্যবদ্ধ করে আসিরিয় সাম্রাজ্য আক্রমন করতে থাকে । আসিরিয় সম্রাট সে সময় আসুরবানিপাল। কলদিয় আক্রমনে আসিরিয় সাম্রাজ্যে দূর্বল হতে থাকে। খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬। আসুরবানিপাল মৃত্যুবরণ করেন। আসিরিয় সম্রাট ২য় আশহুর উবাললিট ক্ষমতা গ্রহন করেন। লাভ হয়নি। কেননা, ঐ বছরই (খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬) নাবোপোলাসসার নিনেভ ধ্বংস করেন। যদিও ২য় আশহুর উবাললিট প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তিনি পালিয়ে যান।
প্রাচীন ইতিহাসে কলদিয় সভ্যতাটি নব্য ‘ব্যাবিলনিয় সাম্রাজ্য’ নামে পরিচিত। কলদিয় জাতির শাসন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৮৭ বছর: ৬২৬ থেকে ৫৩৯ খ্রিস্টপূর্ব । এত স্বল্প সময়ের মধ্যেই সভ্যতাটি অর্জন করেছিল বিস্ময়কর সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব।
ব্যাবিলন
নিনেভ নয়, ব্যাবিলন নগরকেই নাবোপোলাসসার কলদিয় সাম্রাজ্যের রাজধানী ঘোষনা করেন । ব্যাবিলনিয়ার প্রাচীন নগর ব্যাবিলন । সম্রাট হাম্মুরাবির (খ্রিস্টপূর্ব ১৮১৮) সময় থেকেই নগরটি ক্রমশ সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠতে থাকে । ব্যাবিলন নগরটির অবস্থান ছিল বর্তমানে ইরাকের বাবিল প্রদেশের আল হিললা; বাগদাদ শহরের ৫৫ মাইল দক্ষিণে। মনে রাখতে হবে, প্রাচীন ব্যাবিলন নগরটি অবস্থিত ছিল ইউফ্রেতিস নদীর পাড়ে, আর বর্তমান বাগদাদ শহরটি টাইগ্রিস এর পাড়ে অবস্থিত। ব্যাবিলন গ্রিক শব্দ; উৎপত্তি ‘বাবিলু’ শব্দ থেকে। ‘বাব’ শব্দের মানে, দরওয়াজা; আর, ‘ইলি’ শব্দের অর্থ, ঈশ্বর। ব্যাবিলন শব্দের মানে, ‘ঈশ্বরের দরওয়াজা।’
হারান।
পলাতক ও পরাজিত আসিরিয় রাজা ২য় আশহুর উবাললিট হারান নগরে আসিরিয় রাজধানী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলেন। জায়গাটি বর্তমান সিরিয়ায়। নাবোপোলাসসার সসৈন্য হারান নগরে এগিয়ে যান। মনে ঘৃনা। নাবোপোলাসসার-এর পাশে তাঁর যোগ্য পুত্র, ২য় নেবুচাদনেযার ( খ্রিস্টপূর্ব ৬০৫-৫২৬);
নাবোপোলাসসার শখ করে ছেলের নাম রেখেছেন: নেবুচাদনেযার । তার কারণ আছে। নাবু ছিলেন ব্যাবিলনিয়ার প্রধান দেবতা মারদুকের পুত্র। নেবুচাদনেযার শব্দটির মানে, ‘ওহ্ দেবতা নাবু!’ তখন কে ভেবেছিল নেবুচাদনেযারই একদিন ব্যাবিলন নগরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া জয় করে বিশাল এক কলদিয় সাম্রাজ্য গড়ে তুলবেন। যাক। ৬১০ খ্রিস্টপূর্বে পিতাপুত্রের যৌথ উদ্যেগে হারান কলদিয়দের নিয়ন্ত্রণে আসে।
কলদিয় সীমানা
৬০৫ খ্রিস্টপূর্ব। নাবোপোলাসসার মারা যান। কলদিয় সৈন্যদের দায়িত্বভার গ্রহন করেন ২য় নেবুচাদনেযার । ওদিকে কলদিয়দের ধ্বংস করতেই আসিরিয় রাজা ২য় আশহুর -উবাললিট হাত মেলায় মিশরের সঙ্গে। ফারাও ২য় নেকো সে সময় মিশরের সম্রাট। ৬০৯ খ্রিস্টপূর্বে মিশরিয় সৈন্যরা ব্যাবিলনের দিকে অগ্রসর হয়। সিরিয়ার কারচেমিশ এ দুপক্ষ মুখোমুখি হয়। প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ২য় নেবুচাদনেযার জয়ী হন, যার ফলে আসিরিয় সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে এবং ব্যাবিলনের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় সূচিত হয়। মিশর ও আসিরিয় যৌথবাহিনীকে পরাজিত করে ৬০৫ খ্রিস্টপূর্বের ৭ সেপ্টেম্বর ২য় নেবুচাদনেযার ব্যাবিলনিয়ার সিংহাসনে আরোহন করেন। পরবর্তী আট বছর তিনি সিরিয়া ফিলিস্তিন মিশর ও আরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
জুদাহ
জুদাহ রাজ্যের রাজা ছিলেন Jehoiachin; ৫৯৭ খ্রিস্টপূর্বের ১৬ মার্চ। ২য় নেবুচাদনেযার জেরুজালেম আক্রমন করে দখল করে নেন। রাজাকে ও বহুসংখ্যক ইহুদিদের জিম্মি করে ব্যাবিলন নিয়ে যান।
পরবর্তীতে জুদাহ বিদ্রোহ করে। অত্যন্ত নির্দয় উপায়ে সম্রাট ২য় নেবুচাদনেযার ইহুদিদের দমন করে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করেন। এই ঘটনা নিয়েই কুড়ি শতকের বিশিষ্ট পপ ব্যান্ড বনি এম এর গান ‘বাই দ্য রিভার্স অভ ব্যাবিলন।’
By the rivers of Babylon, there we sat down
ye-eah we wept, when we remembered Zion.
২য় নেবুচাদনেযার এর নির্দেশে কলদিয় সৈন্যরা ১৩ বছর ফিনিসিয় নগর টায়ার অবরোধ করে রেখেছিল। ৫৬৮ খ্রিস্টপূর্বে মিশর আক্রমন করেন ২য় নেবুচাদনেযার ।
যাহোক। নতুন কলদিয় সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্রাট ২য় নেবুচাদনেযার ব্যাবিলন নগরীটিকে সুন্দর করে সাজাবেন ঠিক করলেন, গ্রিক রাষ্ট্রনায়ক পেরিক্লিস (খ্রিস্টপূর্ব ৪৯৫-৪২৯) প্রাচীন আথেন্স নগরীকে যেমন সাজিয়েছিলেন । বিজিত রাজ্য থেকে অর্জিত (লুন্ঠিত) ধনসম্পদ ও অব্যাহত ভাবে প্রাপ্ত কর দিয়ে ব্যাবিলন গড়ে উঠতে থাকে, আধুনিক সময়ে লন্ডন যেমন উপনিবেশসমূহ থেকে প্রাপ্ত সম্পদে হয়ে উঠেছিল ঝলমলে বর্ণাঢ্য । ২য় নেবুচাদনেযার ব্যাবিলন নগরকে ঢেলে সাজাতে উচ্চভিলাষী সব পরিকল্পনা গ্রহন করেন। রাজকীয় প্রাসাদ, উপাসনালয়, নগর দূর্গ, ইশতার দরওয়াজা, শোভাযাত্রার পথ ইত্যাদি তৈরিতে সময় লেগেছিল ৮৮ বছর । বলাবাহুল্য দরদালান নির্মানে খেতে মরত বন্দি দাসেরা ও শ্রমিকেরা । ফিলিস্তিন থেকে হিব্রুভাষীদের বন্দি করে আনা হয়েছিল। সেই সময়কার ব্যাবিলনিয় স্থাপতে হিব্রু স্থাপত্যশিল্পের প্রভাব পড়ার কথা।
শিল্পীর আঁকা ব্যাবিলন। নদীটি ফোরাত বা ইউফ্রেতিস
বলাবাহুল্য প্রাচীন ব্যাবিলনিয়ার জনজীবনে ধর্ম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। ব্যাবিলনিয় উপাসনালয়ের নাম জিগুরাট-যা ছিল বিশালাকার কাঠামোর স্থাপত্য। জিগুরাটে উপাসনা করা হত দেবতা মারদুক-এর, যে দেবতা প্রাচীন সুমেরিয় দেবতা এনলিল-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্যাবিলনিয় জনগনের গভীর শ্রদ্ধা আর ভক্তি অর্জন করেছিলেন। ব্যাবিলন নগরের জিগুরাটটির নাম, ‘ইটিমেনানকি’। সুমেরিয় ভাষায় ইটিমেনানকি শব্দটির মানে- স্বর্গমর্তের ভিত্তি। আসিরিয় রাজা সেনাচেরিব ৬৮৯ খ্রিস্টপূর্বে ব্যাবিলন আক্রমন করে ধ্বংস করেছিলেন, সে সময় ইটিমেনানকিও ধ্বংস করা হয়। ২য় নেবুচাদনেযার ইটিমেনানকিটি পুর্ননির্মানের উদ্যেগ গ্রহন করেন যেমন গ্রিক রাষ্ট্রনায়ক পেরিক্লিস গ্রিক ধর্মীয় পীঠস্থান অ্যাক্রপলিস পুর্ননির্মানের উদ্যেগ গ্রহন করেছিলেন । পারসিকরা বিদ্বেষবশত অ্যাক্রপলিসটির শীর্ষে অবস্থিত গ্রিক প্যানথিওন ধ্বংস করেছিল। ব্যাবিলনের ইটিমেনানকিটি ছিল সাত ধাপবিশিষ্ট ... প্রায় ৯১ মিটার উঁচু। ওপরে এসাগিলা, অর্থাৎ মারদুক দেবতার উপাসনালয়।
জিগুরাট ইটিমেনানকি।
ইশতার ছিলেন পরম পূজনীয় কলদিয় দেবী । সময়টা ৫৭৫ খ্রিস্টপূর্ব।২য় নেবুচাদনেযার তারই নামে ব্যাবিলন নগরের উত্তর দিকে একটি সুদৃশ্য দরওয়াজা নির্মানের নির্দেশ দেন । নীল রঙের ঝলমলে টাইলস ইশতার দরওয়াজার বৈশিষ্ট্য । ছাদটি নির্মিত হয়েছিল সিডার কাঠ দিয়ে। ইশতার দরওয়াজাটি দিয়ে নববর্ষের ধর্মীয় শোভাযাত্রা যেত; দুপাশে দেওয়াল, দেওয়ালে অঙ্কিত দেবতা মারদুকের ড্রাগন, ঝলমলে সিংহ-যা তৎকালীন শিল্পীদের শিল্পরুচির প্রকাশ।
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘরটি নির্মানের পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি ছিল ইশতার দরওয়াজা। ব্যাবিলন নগরের ইশতার দরওয়াজাটি আজও ২য় নেবুচাদনেযার-এর এক অনন্য কীর্তিকে বহন করে আছে।
প্রাচীন বিশ্বে নীল রঙের প্রাধান্য। ভাবলে অবাক হতে হয়। আমি ভাবতাম নীল রঙের প্রয়োগ অধুনা।
ইশতার দরওয়াজাটি দিয়ে নববর্ষের ধর্মীয় শোভাযাত্রা যেত;
সুখি ও পরিতৃপ্ত সম্রাট ২য় নেবুচাদনেযার দেখছেন নগর ব্যাবিলন।
২য় নেবুচাদনেযার এর রাজত্বের শেষ সময়ে কলদিয় সাম্রাজ্যের উত্তরপুবে মদ্র (Medes) জাতির উত্থান ঘটছিল। মদ্র-আগ্রাসন ঠেকাতে প্রাচীর নির্মান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ২য় নেবুচাদনেযার: যা ‘মেডিয়ান ওয়াল’ নামে পরিচিত।
বর্তমান কালের মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র। ইরাক ছিল ২য় নেবুচাদনেযার এর রাজত্ব। রঙিন অংশটুকু প্রাচীন পারস্যের উত্তরে মদ্র সাম্রাজ্য। প্রাচীন ইরানি ট্রাইব দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। ক) মদ্র ও খ) পারস। মদ্ররা ছিল উত্তরে আর পারস-রা ছিল দক্ষিণে। মদ্ররা প্রথম ঐ অঞ্চল শাসন করেছিল। পরে পারস- রা। পারস থেকেই পারস্য।
২য় নেবুচাদনেযার মদ্রদের সঙ্গে অনর্থক যুদ্ধের পথে না গিয়ে রাজনৈতিক কূটকৌশলের আশ্রয়ও নিয়েছিলেন। ২য় নেবুচাদনেযার-এর সমসাময়িক মদ্রদের রাজা ছিলেন সিয়াক্সজারেক্স। তারই এক কন্যার নাম আমুহিয়া ( খ্রিস্টপূর্ব ৬৩০-৫৬৫)। ২য় নেবুচাদনেযার মদ্রদের হুমকি প্রশমিত করতেই সম্ভবত আমুহিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
ঝুলন্ত উদ্যান
তো, বিয়ের পর আমুহিয়ার একবার খুব অসুখ হল । সম্রাট অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হলেন। উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবলেন, মদ্ররাজ্য ধূসর ব্যাবিলনের তুলনায় অধিক সুজলাসুফলা, যে কারণে সবুজ সুধারস থেকে বঞ্চিত হয়েই আমুহিয়ার অসুখ করেছে । ২য় নেবুচাদনেযার একটি সবুজাভ উদ্যান নির্মানের কথা ভাবলেন। উদ্যান নির্মিত হল বটে, তবে নির্মিত হল বড় একটি দালানের ওপর।
এই ছবিটা দেখলেই বোঝা যাবে ব্যাপারটা আসলে কী রকম ছিল। লোকে বলল, ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। আসলে তো ঠিক ঝুলন্ত না। আসলে সম্রাটের প্রেম, সেকালের দোদন্ড প্রভাবশালী সম্রাট, কত নারী লভ্য-তারপরও মদ্র রানী আমুহিয়া ...আশ্চর্য ...মানুষের এই হৃদয় ...পুরুষের এই প্রেম ...
সম্রাট ২য় নেবুচাদনেযার মারা যান খ্রিস্টপূর্ব ৫৬২ অক্টোবর মাসে। তাঁর পুত্র আমেল মারদুক ব্যাবিলনের ক্ষমতা গ্রহন করে। সে তেমন সুশাসক ছিল না, হয়তো বখে যাওয়া টাইপ ছিল। যে কারণে পারসিকদের পক্ষে কলদিয় সভ্যতা গ্রাস করে নিতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি।
কলদিয়া
সম্রাট ২য় নেবুচাদনেযার
তাঁর বিক্রম
ঝুলন্ত উদ্যান
ইশতার দরওয়াজা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


