somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা থেকে গান : আমার পৃথিবী

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৩। এপ্রিল মাস। জাফলং এসেছি। রৌদ্রকরোজ্জল একটি দিন। আর একটা পাহাড়ি নদী। নদীতে ভাসমান নৌকার ভিড়। নৌকায় ও নদীতে অজস্র পাথর-শ্রমিক গিজগিজ করছে। ওপারে ইন্ডিয়া। তার নীল-সবুজ পাহাড়। পাহাড়ে ঘরবাড়ি। রুপালি রঙের ঝকঝকে করগেটের টিনের ছাদ। ডিস অ্যান্টেনা। দূরে একটি সেতু লক্ষ করা যায়।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে আমরা বেশ মুগ্ধ ।
রুকসার সিগারেট টানছিল। ওকে গম্ভীর দেখায়। আমার ভিতরেও কাঁপা কাঁপা তিরতিরে অনুভূতি। শহর ছাড়িয়ে আসার অনুভূতি। গায়ে তাত লাগছে। বেশ লাগছে। সিগারেট টানছিলাম আমিও। ঘামছিলাম। মৃদু উদ্বেগ বোধ করছি। চোখ, নৌকার ওপর, পাথরশ্রমিকদের কর্মকান্ডের ওপর। জীবনের দুটি রুপ দেখছি যেন। একদিকে অবারিত উজ্জ্বল রৌদ্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে পাথর তুলে প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত করার কদর্য রুপ-যে কারণে পাথর তোলার দৃশ্যটি যেন একেবারেই মানায় না। ভাবলাম: উপায় কি- শ্রমিকেরা খাবেই কি? জীবিকার টানে বাংলাদেশের নানাপ্রান্ত থেকে এসেছে। আমি অত্যন্ত বিষন্ন বোধ করতে থাকি। তখনও আমি জানতাম না যে গানের মাধ্যমে অনুভূতিটি অনেকের কাছে ছড়িয়ে যাবে। বিষন্নতার অনুভূতি নিয়ে কবিতা লিখেছিলাম: নিভৃতে বুনি দুঃখের গান। আর সে কবিতা সুর করেছিল জন। অবশ্য অনেক বছর পর। ২০০০ সালে।
রুকসার নৌকা ভাড়া করছে ; পানিতে নামবে, সে প্রস্তুতি আমরা নিয়েই এসেছি। ডাউকির জল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও অগভীর। পানির নিচে অজস্র পাথর দেখা যায়। আমি নৌকার পাটাতনে দাঁড়িয়ে শার্ট খুলছি, পানিতে নামব, তার আগে লুঙ্গি পরব। গায়ে তাত লাগছে। বেশ লাগছে। ঘাম হচ্ছে। ওপরে তাকিয়ে দেখি-ওজোন লেয়ারের ওপাশে ... আকাশে পূর্বাহ্ণের সূর্য। আমার মনে হচ্ছিল ... (সূর্যটা) তাকিয়ে আছে মৃত্যুর এপারে ...এসব ভেবেই পরে লিখেছিলাম-

তাকিয়ে আছে মৃত্যুর এপারে (ওজোন লেয়ার যেন জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা)
জীবনের সুতীব্র উল্লাস দেখি আমি
সাদা রৌদ্রে ভাসছে সবি।

এপ্রিল মাস। তারপরও নদীর পানি কি শীতল! এতটা শীতলতা আশা করিনি। মুহুর্তেই উবে গেল শরীর ও মনের দাহ। পাথের নিচে পিছল পাথল। শ্যাওলার গন্ধ। ডুব দিলাম। তবে জলে নেমেও উদ্বেগ কাটল না। বারবার মনে হচ্ছিল আমার: নদী থেকে অবিরাম পাথর তোলা তো পরিবেশের ক্ষয়-নদীর ধর্ষন। সভ্যতার অন্তিম পরিণতিটি যেন দেখতে পাচ্ছি।
নদীর ধর্ষন লক্ষ করে মাথার ভিতরে অনেক কথা গুনগুন করছিল। পরে সিলেট ফিরে সে রাতেই লিখে রাখলাম-

ছায়ারা সরে যাবে, জানি সূর্য উঠবে।
মৃতসব গাছের নিচে আগুন জ্বলবে।
বুকের ভিতরে নদী; কুয়াশা কুয়াশা ...
পাথরের ওপর বসে দেখছি এসবি।

তাকিয়ে আছে মৃত্যুর এপারে
জীবনের সুতীব্র উল্লাস দেখি আমি
সাদা রৌদ্রে ভাসছে সবি।

পায়ে পায়ে ফিরে আসি আবার
নিভৃতে বুনি দুঃখের গান।
অনন্ত আগুনে পোড়ে অনিদ্র চোখ।
আমার বিবেক পোড়ে সূর্যের নিচে।


অনেক অনেক বছর পর জন আমার কাছে গানের কথা চাইল। ‘আমার পৃথিবী’ নামে ওই কবিতাই দিলাম। বললাম পরিবেশ সংক্রান্ত গান। চলবে তো?
জন মাথা নাড়ল। গিটারে ডি মেজর কর্ড ধরল। তারপর গুনগুন করে গাইতে লাগল-ছায়ারা ... আমি ...যাকে বলে মুগ্ধ। যে মুগ্ধতার ঘোর এত বছরেও কাটেনি।



জন

জন বলল: কম্পোজিশনটা কিছুটা রাগা টাইপ।
আমি টের পেলাম- ও যাকে রাগা টাইপ বলল আমি পেলাম রাগ ইমন এর ছোঁওয়া।
তখন তাহাসান ব্যান্ডের ভোকাল। জন বলল: গানটা ডুয়েট হবে।

ছায়ারা সরে যাবে, (তাহাসান) জানি সূর্য উঠবে (জন)।
মৃতসব গাছের নিচে (তাহাসান )আগুন জ্বলবে (জন)।
বুকের ভিতরে নদী; (তাহাসান) কুয়াশা কুয়াশা (জন)...
পাথরের ওপর বসে (তাহাসান) দেখছি এসবি (জন)।

গানটির কম্পোজিশনে জাহানের সেতারের কথা না বললেই না। জাহান তখন সেতার শিখছিল। ‘আমার পৃথিবীতে’ অসাধারন বাজাল।



জাহান; ডান দিকে


আমার পৃথিবীই ওদের প্রথম টিভি পারফর্মেন্স।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×