ইরাকে আফগানিস্তানে প্রতিদিন শত শত নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে-এমন রক্তাক্ত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরেকটি রোমান্টিক প্রেমের ছবির স্যুটিংয়ে কীভাবে ব্যস্ত থাকেন একজন বিবেকসম্পন্ন চিত্রপরিচালক? যদি ভুল বুঝে না থাকি- ঠিক বারাক ওবামার মতো না ...অ্যাভেটার ছবিটির পরিচালক জেমস ক্যামেরুন মার্কিন প্রশাসনে যুদ্ধবিরোধী শান্তিবাদী মানুষ চাইছেন । অ্যাভেটার ছবিটির শেষ দৃশ্যে দূর গ্রহ প্যানডোরা আগ্রাসনের অন্যতম খলনায়ককে তীরধনুকের মাধ্যমে হত্যার দৃশ্যটি দেখতে দেখতে আমার মনে হল-জেমস ক্যামেরুন চাইছেন ইরাকিরা নিজস্ব পন্থায় ইঙ্গ-মার্কিন শক্তিকে পরাস্ত করুক।
অ্যাভেটার ছবিটির মহিমা এখানেই।
এবং ছবিটি নিছক থ্রিডি টেকনোলজি নির্ভর সস্তা কল্পকাহিনী মাত্র নয়।
কানাডিয়ান পরিচালক জেমস ফ্রান্সিস ক্যামেরুনের বিশ্বময় পরিচিতি একটি প্রেমের ছবি দিয়ে। ‘টাইটানিক’। সে সময় অনেকেই আশা করেছিলেন ক্যামেরুনের পরের ছবিটিও রোমান্টিক ধরনের হবে। অথচ, বাস্তবে দেখা গেল নয়া ঔপনিবেশিক শাসন-শোষনের মতো একটি মর্মান্তিক বিষয় বেছে নিলেন ক্যামেরুন।
ক্যামেরুনের এই মানসিক পালাবদলের কারণ কি?
ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইরাক এবং আফগানিস্তান আগ্রাসন। ইরাকে আফগানিস্তানে প্রতিদিন শত শত নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে-এমন রক্তাক্ত বৈরী বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরেকটি রোমান্টিক প্রেমের ছবির স্যুটিংয়ে কীভাবে ব্যস্ত থাকেন একজন বিবেকসম্পন্ন মানুষ? অধিকন্তু, ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এরূপ অমানবিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে অচিরেই সমগ্র মানবসভ্যতার অস্তিত্ব ভয়াবহ এক সঙ্কটের মুখে এসে পড়বে। এর প্রতিবাদ করা উচিত। যিনি লেখেন তার প্রতিবাদ প্রকাশ পায় লেখায়, একজন নাট্যকর্মীর অভিনয়ে। জেমস ক্যামেরুনের মাধ্যম চলচ্চিত্র; এটাই স্বাভাবিক যে তিনি মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদ করবেন তাঁরই নিজস্ব মাধ্যমে। উপরোন্ত একজন শিল্পীর উপকরণ হলো প্রতীক-রূপক-ম্যাটাফোর ইত্যাদি। অ্যাভেটার ছবিতে এসবই ক্যামেরুন ব্যবহার করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কল্পবিজ্ঞানের কাঠামোয়।

যেহেতু ক্যামেরুন কানাডিয়ান এবং বাস করেন বাঘের ঘরের খুব কাছেই-কাজেই ছলের আশ্রয় তাঁকে নিতেই হয়। কুচক্রী প্যান্টাগন তাঁকে ফাঁসাতে চাইবেই। আর, কানাডার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবরই ভালো। কাজেই তিনি ছল করে বললেন, অ্যাভেটারের আইডিয়া প্রথম মাথায় এসেছে ১৯৯৮ সালে, অর্থাৎ ইরাক যুদ্ধের অনেক আগেই।
কিন্তু, কতজন অ্যাভাটার ছবিটির অর্ন্তগত মানেটি ধরতে পেরেছে?
ডেইলি স্টার এর সহায়ক পত্রিকা -ছোটদের ‘রাইজিং স্টার’ ম্যাগাজিনে ইংলিশ মিডিয়ামের পড়া এক নতুন প্রজন্মের লেখা অ্যাভেটার ছবিটির রিভিয়্যূ পড়তে পড়তে আমার মনে হল যে ইয়ং জেনারেশন ছবিটির অ্যানিমেশন, কালার কনসেপ্ট, মেকিং, থ্রিডি টেক এসব নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন- ক্যামেরুনের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বক্তব্যের উপলব্ধিজাত কোনও আলোচনা নেই।
সমস্যা এখানেই।
সমকালীন ইয়ং জেনারেশন বড্ড বেশি এপোলিটিকল, অর্থাৎ রাজনৈতিক চেতনাশূন্য। দেশে-বিদেশে লোভনীয় চাকরির লোভে এদের বাবা-মারা ছেলেমেয়েদের রাজনৈতিক চেতনাশূন্য করে রাখছে। কেননা, পলিটিক্স মানে তো খুলনার বিএল কলেজে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত! বিদেশি কোম্পানীর কাছে স্বল্প লাভে গ্যাস-ব্লক ইজারা দিলেও প্রতিবাদের প্রয়োজন নেই, কেননা, এও পলিটিক্স!
যদি ভুল বুঝে না থাকি তো বলি-অ্যাভেটার ছবির পরিচালক জেমস ক্যামেরুন ইরাক ও আফগানিস্তানে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসন অবসানের লক্ষে পশ্চিম গোলার্ধের মহৎ হৃদয়ের অধিবাসীদের আত্বত্যাগের আহবান জানিয়েছেন।
জেমস ক্যামেরুনের আগ্রাসনবিরোধী উপলব্ধি মহত্তম, মানবিক ও মানব ইতিহাসে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


