আমার প্রার্থনা এই:
এই দুঃখের কাছে নত যেন না হই;
নিজেকে ধরে রাখি
জীবনের মাঝে।
আমার প্রার্থনা এই :
আবার যেন যাই
জলের কিনারায়
স্বর্গের সিঁড়িটা যেন চিনতে পারি।
আমার প্রার্থনা এই :
পৃথিবীর সব ক্রোধ এক ঝড়ের রাতে ফেলে দিই
সমুদ্রের জলের গভীরে।
আমার প্রার্থনা এই :
আবার যেন যাই জলের কিনারায়
স্বর্গের সিঁড়িটা যেন চিনতে পারি।
মানুষের মনে কত রকম ইচ্ছে যে থাকে। সে ইচ্ছে কখনও কথায় কখনও কান্নায় কখনও সুরে প্রকাশ পায়। তখন অন্য মানুষ সে ইচ্ছের কথা জানতে পারে। এই হল মানুষের ধারা। এভাবে তৈরি হয় সংযোগ । কেউ কেউ বৃহৎ সংযোগের কথা বলেন। যেমন পদার্থবিদ ডেভিড বোম্ ইমপ্লিকিট অর্ডার বা নিহিত সংহতির কথা।
যা হোক। অন্যদের মতো আমারও ইচ্ছে জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়া। যে জীবনসংগ্রামে প্রত্যেকেই অবতীর্ণ।
আমার প্রার্থনা এই:
এই দুঃখের কাছে নত যেন না হই;
নিজেকে ধরে রাখি
জীবনের মাঝে।
জীবনের মাঝে আছে আনন্দ । দুঃখ সে আনন্দকে প্রায়শ ম্লান করে দেয়। একে কোনওমতেই এড়ানো যায় না। এরা জীবনে অনিবার্য। তবে এই দুঃখের কাছে নত হওয়া চলবে না। কেননা, সুখ আবার ঘুরে আসে। শরীর ও মনে বল ফিরে আসে।
‘ইচ্ছা’ কবিতার বিষয়: ক্রোধকে বিসর্জন দিয়ে অনিবার্য দুঃখের কাছে নত না হওয়ার ইচ্ছা-প্রার্থনা; আর, জলের কিনারায় যাওয়ার ইচ্ছে। নারীর মতো জলও কবিকে টানে। স্বর্গের সিঁড়িটা যেন চিনতে পারি। কেননা, সিঁড়িটা চেনা খুব জরুরি। সুপ্রাচীন গ্রন্থসমূহে লিখিত আছে: ‘একদা স্বর্গপথের দরজা খুলিয়া যাইবে।’ সেই অদৃশ্য সিঁড়িটা আমাদের ধারেকাছেই থাকে। কখনও দেখা যায় কখনও দেখা যায় না। নিজের অহং ভুলে বস্তুপ্রকৃতির সঙ্গে প্রাণের সম্যক সংযোগ ঘটলেই কেবল দেখা যায়। এর জন্য আবশ্যক অভেদ জ্ঞান। ভেদ মানেই সংকীর্ণতা। সমাজের কোণঠাসা মানুষদের কোনওমতেই ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। স্বর্গের সিঁড়িটা চিরস্থায়ীভাবে দৃশ্যমান রাখতেই প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ অধিকার ফিরে পায়।
অডিও লিঙ্ক
http://www.mediafire.com/?emcnmzehmmd
জন ও তাহাসান বাদে ব্ল্যাক এর তিন জন সদস্য। ওপরে জাহান (বাঁয়ে) ও মেরাজ; নীচে জাহান ও টনি। জাহান এর ছবি দুবার এসেছে।
‘ইচ্ছা’ গানটায় (টনির বাজানো) ড্রামস ঢোলের মতই বেজেছে। এবং গানটা একটা রক ব্যান্ডের পরিবেশনা হলেও তাহাসানের কীবোর্ডে বাজানো এর উদ্বোধনী সুরটায় যেন গ্রামবাংলার মেলার সুরের ছোঁওয়া পেয়েছে;- এবং সেটিও কম আকর্ষনীয় নয়। কেননা, এতে করে রক ব্যান্ডের আয়োজনে বাঙালিআনার পরশ পেল। বাংলার বিজয় হল। কেননা, রক গান আর রক গান রইল না।

তাহাসান। এই গানের কিবোর্ডের পিসটা ওরই বাজানো।


জন। (বাঁয়ে) এই গানের ভোকাল। ডানে জাহান।
এবং আমার ইচ্ছে ছিল এই গানটির ভিডিও সুচারু রুপে সম্পন্ন করা হোক। এবং সে ভিডিও তে বাংলাদেশের কোনও নদীপাড়ের একটি প্রাচীন মন্দিরের সিঁড়িতে নানা বর্ণের অনেক মানুষের অংশগ্রহনে দূর্গা পূজার দৃশ্য ধারণ করা হোক এবং উৎসবে মাতা পূজারীদের সঙ্গে ব্যান্ডের সদস্যরাও নেচে গেয়ে উঠুক। কেননা,
আমার প্রার্থনা এই :
আবার যেন যাই
জলের কিনারায়
স্বর্গের সিঁড়িটা যেন চিনতে পারি।
আজও আমার সে ইচ্ছে পূরিত হয়নি।
উৎসর্গ: ভাঙ্গন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

