somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক দিন পর, একটি ইংরেজি কবিতা ...

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল সন্ধ্যায় এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটল। বাড়ির লোকজন সব কোথায় যেন গিয়েছিল। ঘরে একা বসে আছি; টিভি দেখছি। এমন সময় কলিং বেল বাজল। উঠে দরজা খুলে দেখি রনি। অনেকদিন পরই এল । বছর তিনের আগে একবার বিয়ের কার্ড দিতে এসেছিল। এরপর আর আমার সঙ্গে রনির সঙ্গে দেখা হয়নি। ভারি ব্যস্ত ও। একটা ব্যাংকে আইটি ডিপার্টমেন্টে আছে।
অথচ একটা সময় ছিল যখন আমার এলোমেলো ঘরে দু’জনে একসঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিয়ে সময় পার করেছি। কড় গুনে হিসেব করলে ১৩/১৪ বছর তো হবেই। রনি বয়েসে আমার ছ-সাত বছরের ছোটই হবে। ’৯৬ সালের কথা, রনি সে সময় কলেজে পড়ে, গিটার শিখবে, কাজেই আমার কাছে এল, ওই কাজটা আমি তখন করতাম শখের বশে; কেউ গিটার শিখতে চাইলে হাতিখড়ি দিতাম। অর্থনৈতিকভাবে আমি সে সময় ততটা স্বচ্ছল না হলেও গিটারে মোটামুটি হাত এসে গেলে আমি নিজেই গাঁটের পয়সা খরচ করে শিষ্যদের গিটার গিফট করতাম। রনিকেও করেছিলাম। সে কথাও কাল বলল। ‘৯৭ সালে আমি ওকে একটা হফনার গিটার গিফট করেছিলাম। সেই গিটারটা নাকি এখনও রনির কাছে আছে। শুনে আশ্চর্য হলাম।
ও আরও একটা আশ্চর্য ঘটনা বলল। বলল, আপনার কি মনে আছে- তখন ২০০০ সাল। মাত্র নতুন একটা চাকরিতে জয়েন করেছি। অফিসে বস এর সঙ্গে নানা সমস্যা। গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঝামেলা। এসব কথা আপনাকে আমি বলতাম।
আমি মাথা নাড়লাম। হ্যাঁ, আমার মনে আছে। বললাম।
রনি বলল, এরই ফাঁকে একদিন সকালবেলায় আপনার ঘরে এলাম। ছুটির দিন , সারাদিন কাটালাম আপনার সঙ্গে, দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর হঠাৎ আপনি সাদা কাগজ বের করে আমার হাতে দিয়ে বললেন, পড়। তোমাকে নিয়ে লেখা। আমি দেখলাম ইংরেজিতে কি সব লেখা । পড়তে শুরু করলাম। ইংরেজি কবিতা। ছন্দ আছে। সবচে বড় কথা প্রতিটি লাইন যেন আমার মনের কথা বলছে। আমি চেঁচিয়ে বললাম: দারুন ! দারুন! আপনি বললেন, নাও তোমাকে লেখাটা গিফট করলাম। কাগজটা আমি নিয়ে যাই। এরপর আপনি আর কখনও লেখাটার কথা তুলেননি। লেখাটা এখনও আমার কাছে আছে।
রনির কথা শুনে আমি অবাক। জিজ্ঞেস করলাম , কোন্ কবিতা?
আই কনফেস।
বল তো শুনি। আমি অবাক হয়ে বললাম।
রনি আবৃত্তি করতে লাগল।

Sitting on life’s electric chair
Watching nice scenery,
Last night I hungry but
I did feed my canary.

আমার যেন আবছা মনে পড়ল। হ্যাঁ, তাইতো ...আই কনফেস নামে একটি ইংরেজি রাইমধর্মী কবিতা তো লিখেছিলাম বছর দশ কি বারো আগে। রনি আমাকে ওর জীবনসংগ্রামের কথা বলত। আমি সে বিষয়ে লিখেছিলাম।
রনি I Confess কবিতাটি আবৃত্তি করতে থাকে।

Sitting on life’s electric chair
Watching nice scenery,
Last night I hungry but
I did feed my canary.

Rowing boats childhood dreams
Slips from my fingers ,
And I wish to protect those
And love to chew my ginger.

My boss is so fat man
He often treats me badly;
Though I make him calm
And I fry his dead fish gladly.

That’s how I pass my time
And learn some strange diction,
Girls are made for moneyed man
Girls are mean to be sanction!

Sometimes I calculate
Sometimes I thought deeply,
If I now close my eyes
Will you sigh honey softly?

রনির আবৃত্তি শেষ হলে আমি ভীষণ আলোরণ টের পেলাম। এমন একটা কবিতার কথা এ ক’বছর ভুলে থেকেছি। আমি এত অবহেলা করি। আই কনফেস ভালো হোক মন্দ হোক আমারি এক ক্রিয়েশন।
কথা এখানেই শেষ না।
রনি বছর খানেক আগে কী মনে করে কোন্ এক পোয়েট্রি সাইটে কবিতাটি আপলোড করেছিল। সেই ইউরোপকেন্দ্রিক পোয়েট্রি সাইটের সম্পাদক নাকি দুটি চিঠি লিখেছে রনিকে। তারা বই বার করবে, ‘আই কনফেস’ কবিতাটি নাকি তারা ছাপাতে চায়।
আমি তো শুনে রীতিমতো অবাক। যে কবিতাটির কথা আমি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম, তাকে নিয়ে এত কান্ড। জীবন আসলেই অবাক করা সব কান্ড ভরতি চন্দন কাঠের বাকশো। বললাম, চিঠি দুটি একদিন নিয়ে এসো তো।
আনব। ও বলল।
আমি এখন রনির কাছে লেখা সেই পোয়েট্রি সম্পাদকের চিঠি দুটি পড়ার অপেক্ষায় আছি। দেশে বসে যখন লেখা ছাপানোর সৌভাগ্য হচ্ছে না তখন ইউরোপ থেকে ছাপানো বইয়ে একটি ভুলে যাওয়া কবিতা অর্ন্তভূক্ত হলে মন্দ হয় না!


সাজিদ ওয়াসিম রনি। ও খুব খুশি ছিল কাল। গত ১ জানুয়ারি কন্যা শিশুর বাবা হয়েছে। গিটারে রনির হাতেখড়ি আমার কাছেই। রনি আমার লেখা (বাংলা) অনেক কটা গানের সুরও করেছে। কাল রাতে সে গানগুলো শোনাল। ১০/১২ বছর পিছনে চলে গিয়েছিলাম। রনির বিয়ের কারণও নাকি গিটার। ওর হবু বউ রনির গিটার বাজিয়ে গান শুনে নাকি গলে গিয়েছিল। এখনও নাকি সংসারের নানান ব্যস্ততার মাঝেও গিটার বাজাতে বলে ...

রনি চলে যাওয়ার পর মনে পড়ল ১২/১৪ বছর আগে কবি Louis Macneice এর একটি কবিতা খুব পড়তাম। কবিতার নাম Bagpipe Music ..."আই কনফেস" এর ছন্দে তারই পরিস্কার ছোঁওয়া পড়েছে।

It's no go the merrygoround, it's no go the rickshaw,
All we want is a limousine and a ticket for the peepshow.
Their knickers are made of crepe-de-chine, their shoes are made of python,
Their halls are lined with tiger rugs and their walls with head of bison.

John MacDonald found a corpse, put it under the sofa,
Waited till it came to life and hit it with a poker,
Sold its eyes for souvenirs, sold its blood for whiskey,
Kept its bones for dumbbells to use when he was fifty.

It's no go the Yogi-man, it's no go Blavatsky,
All we want is a bank balance and a bit of skirt in a taxi.

Annie MacDougall went to milk, caught her foot in the heather,
Woke to hear a dance record playing of Old Vienna.
It's no go your maidenheads, it's no go your culture,
All we want is a Dunlop tire and the devil mend the puncture.

The Laird o' Phelps spent Hogmanay declaring he was sober,
Counted his feet to prove the fact and found he had one foot over.
Mrs. Carmichael had her fifth, looked at the job with repulsion,
Said to the midwife "Take it away; I'm through with overproduction."

It's no go the gossip column, it's no go the Ceilidh,
All we want is a mother's help and a sugar-stick for the baby.

Willie Murray cut his thumb, couldn't count the damage,
Took the hide of an Ayrshire cow and used it for a bandage.
His brother caught three hundred cran when the seas were lavish,
Threw the bleeders back in the sea and went upon the parish.

It's no go the Herring Board, it's no go the Bible,
All we want is a packet of fags when our hands are idle.

It's no go the picture palace, it's no go the stadium,
It's no go the country cot with a pot of pink geraniums,
It's no go the Government grants, it's no go the elections,
Sit on your arse for fifty years and hang your hat on a pension.

It's no go my honey love, it's no go my poppet;
Work your hands from day to day, the winds will blow the profit.
The glass is falling hour by hour, the glass will fall forever,
But if you break the bloody glass you won't hold up the weather.


ইস্ । কতদিন পর কবিতাটি মনে পড়ল।
ভাগ্যিস রনি এসেছিল।

উৎসর্গ: রনির মেয়ে তানুশকা শারমীন। একদিন ও এই গল্পগুলি জানবে।
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×