আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

সন্ত নানক

১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৪৫

শেয়ারঃ
0 2 0

সন্ত নানক। ষোড়শ শতকের এক ভারতীয় সন্ত। যিনি মনে করতেন, মানবজীবনের একমাত্র মোক্ষ ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ । সে জন্য ঐকান্তিক সাধনার প্রয়োজন। তবে আত্বকেন্দ্রিক মানুষ কখনও সাধনায় সিদ্ধি লাভ করতে পারে না। আত্বকেন্দ্রিক মানুষ মায়ার ঘোরে পড়ে ক্ষণিকের সুখলাভ করে মাত্র ...নানক আরও বলেছিলেন যে ...উচ্চতম সত্যকে জানতে হবে ঠিকই, তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন সত্যপূর্ন জীবনযাপন করা ...



নানক এর জন্ম হয়েছিল অবিভক্ত ভারতবর্ষে ...

তালভানদি গ্রামটি ছিল বর্তমান কালের পাকিস্থানের লাহোরের কাছে। এখন অবশ্য জায়গাটির নাম নানকানা সাহিব। সেই তালভানদি গ্রামেই বাস করতেন ত্রিপ্তা দেবী নামে এক নারী। ভারি শ্রীময়ী দেখতে ছিল ত্রিপ্তা । ঢলোঢলো। শ্যামলা। গাঁয়ের মেয়েরা তাঁকে ঠোঁট টিপে হাসত। আর বলত, দেখিস, তোর কোলআলো করে একদিন এক শিশুর জন্ম হবে।
তাই হল কিন্তু।
১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দ। এপ্রিল মাস, ১৫ তারিখ।
ত্রিপ্তা দেবীর ঘর আলো করে জন্ম হল এক শিশুর।
যে শিশুটি বড় হয়ে জাতপাতের বিরুদ্ধে প্রবল রুখে দাঁড়িয়েছিল।
শিশুটির বাবার নাম ছিল কল্যান দাশ বেদী। কল্যান দাশ বেদী ছিলেন জাতে ক্ষত্রিয়, তবে পেশায় পাটোয়ারি। পাটোয়ারি মানে কিন্তু হিসাব রক্ষক, ঠিক পাটচাষি নয়।
তালভানদি গাঁয়ের জমিদার ছিলেন মুসলমান। তখন তো পাঞ্জাবে মুসলিম শাসন চলছে। তবে মুগলরা তখনও দিল্লীতে ঠিক অধিষ্ঠিত হয় নি। (এখানে আরও বলে রাখি যে পাটোয়ারি উপাধী দেখে অনেকেই মনে করেন যে পাটোয়ারিরা পাটচাষি কিংবা পাটজাত সামগ্রীর ব্যবসা করেন। আসলে তা নয়। পাটোয়ারিরা ছিল হিসাবরক্ষক। মুগল আমলে পদটির সৃষ্টি। )
তো, শিশুটির নাম রাখা হল নানক। মায়ের ইচ্ছেতেই কি? কে বলতে পারে?
শিশুটি যথাসময়ে বড় হল। বালক হল। বালক নানক ছিল অন্যরকম। কেমন, চুপচাপ, লাজুক,অল্পভাষী, গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে খেলে না। একা একা থাকে। আর কী যেন ভাবে। আসলে তেমনই তো হওয়ার কথা। কেননা সে বড় হয়ে বলবে ..."Realisation of Truth is higher than all else. Higher still is truthful living"
নানকের এক বোন ছিল। নাম, নানাকি। নানক বোনকে বড্ড ভালবাসত। তবে মুখে বলত না। বোন যা আবদার করত তা সে দৌড়ে এনে দিত। এভাবেই নানক ছিল অন্য রকম।
তারপর একদিন কিশোর বয়েসে পৌঁছল নানক।
কাম নিয়ে কেমন এক উদগ্র কৌতূহল ছিল তার আশৈশব। কাম এড়িয়ে প্রেমের আরাধনা করতে চায় কিশোর। পারে না। পিছলে যায়। মনে মনে গান বাঁধল-

করি মানা কাম ছাড়ে না মদনে
আমি প্রেমরসিক হব কেমনে?

শেষমেশ বিয়ে করল নানক। দুটি সন্তানও হল তার বউটির। ভালো কথা। তো এখন সংসার চলবে কি ভাবে? বাবা তো তেমন কিছু রেখে যাননি। নানকের টনক নড়ল।
তো, সেই সময় পাঞ্জাবের সুলতানপুর শহরের প্রাদেশিক শাসনকর্তা ছিলেন দৌলত খান লোদী। তারই শরনাপন্ন হলেন নানক। যাহোক। দৌলত খান লোদী অধীনে কোনওমতে পাটোয়ারির চাকরি জুটল একটা।
পাটোয়ারির চাকরি করছে নানক। মন বসে না। হিসেবে গড়মিল হয়ে যায়। যার অন্তরে অসীমের প্রেরনা- তার ওই সামান্য হিসেবনিকেশে কী হয়।
বয়স নানকের যখন তিরিশ ... ঠিক তখনই ভিতরের ডাক শুনতে পেল সে।

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না
নড়েচড়ে হাতের কাছে
খুঁজলে জনম-ভর মেলে না।

দুর ছাই! চাকরি করে কে! আমি অনন্তের পাখি।
নানক দৌলত খান লোদীর কাচারি ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন।
কোথায়?
পথে।
কী আশ্চর্য! ঠিক সেই সময়ই মারদানার সঙ্গে পরিচয় হল। পথে। মারদানা ছিলেন মুসলিম সুফি। দীর্ঘদেহী ফরসা কালো পাঞ্জাবি পরা উদার মনের এক মানুষ মারদানা। কাছে গেলে আতরের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। ঝোলার মধ্যে গোটা দুই জালালি কবুতর। শুকনো কিসমিস আর ফারসি ভাষায় লেখা হাল্লাজের পুথি।
এই রকম একটা জ্ঞানী ছন্নছাড়া সংসারত্যাগী মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে ভারি আনন্দ হল নানকের।



তো, নানকের মনে তখন বোধি লাভের প্রচন্ড আশা। বোধি মানে- জীবনজগৎ সম্বন্ধে একটি স্বচ্ছ ধারনায় পৌঁছনো। বোধি লাভ করতে হলে তীর্থে যেতে হয়। কাজেই, মারদানার সঙ্গেই ভারতবর্ষের বিখ্যাত সব তীর্থগুলি দর্শন করল নানক। বৃন্দাবনেও গেল, আজমিরও গেল। আসলে, দুজনের মনেরই ভীষন মিল হয়েছিল। দু’জনই জাতপাতের তীব্র বিরোধী। মারদানা আবার বাদশাহিবিরোধী। প্রায়ই তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,“বুঝলে নানক, এই যে মুসলিম বাদশাদের জাঁকজমক দেখ। নিমকহারামরা সব যাকাত না দিয়ে হেরেম তৈরি করছে। ওদের কি বেহেস্তে যায়গা হবে বল?”
নানক মাথা নাড়ে। যাকাত না দেওয়া তো অন্যায়। অন্যায়কারীরা বেহেস্তে যায় কি করে।
তো, দু’জনে তীর্থে তীর্থে ঘুরছেন। সে সময়ই মারদানার মুখে নানক শুনল পারস্যের ফরিদউদ্দীন আত্তারের কথা; বাগদাদের মনসুর হাল্লাজের কথা; কোনিয়ার জালালউদ্দীন রুমীর কথা।
নানক উত্তেজনা বোধ করে। অনুপ্রানিত হয়। কী এক স্বপ্ন দেখে সে।
১৫২০ দিকের কথা। পাঞ্জাবের কাছে ছিল কর্তারপুর নামে এক গ্রাম । একেবারে রবি নদীর পাড়ে। বহুপথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সেই গ্রামেই এসে থিতু হলেন নানক। বয়স হয়েছে। শরীর আর চলে না।
(নানক তাঁর জন্মগ্রামে ফিরলেন না কেন? তাঁর বউ বাচ্চারই-বা কি হল? এই প্রশ্ন দুটি আমাকে ভাবায়।)
যাহোক। আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে ভীষন নাম ছড়াল নানকের। উপরোন্ত, লালনের মতই জাতপাত ঘৃনা করতেন নানক। কাজেই বহু লাঞ্ছিত নরনারী এসে জড়ো হল কর্তারপুর গ্রামে। নানকের শিষ্যত্ব বরণ করল তারা। নানক শিষ্যদের বলতেন “শিখ”। শিখ মানে শেখ, জাতপাত যে ভালো না, তাই আমার কাছে এসে শেখ।
শিখ শব্দটি অবশ্য উদ্ভুত হয়েছে সংস্কৃত শিক্ষা শব্দটি থেকে। শব্দটির মূলগত অর্থ- শিক্ষা বা শিষ্য।
শিখধর্মটি বর্তমানে বিশ্বের ৫ম সাংগঠনিক ধর্ম। কর্তারপুর গ্রামে যে ধর্মটির সূত্রপাত। নানক ছাড়াও আরও ৯ জন গুরু শিখধর্মটি প্রতিষ্ঠিত করেছে।



১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে নানকের দেহখাঁচা ছেড়ে উড়ে গেল অনন্তের সেই পাখিটি। যে পাখি অনন্ত থেকেই উড়ে এসেছিল একদিন।
নানকের প্রিয় শিষ্য ছিলেন অঙ্গদ। নানকের তিরোধানের পর ইনিই নব্য ধর্মস¤প্রদায়টির হাল ধরলেন। তারপর ক্রমে ক্রমে নানকের উপদেশের কর্তারপুর গ্রামে গড়ে উঠেছিল এমন এক ধর্মীয় গোষ্ঠী-যারা কেবল পরবর্তীকালে পরম পরাক্রমশালী মুগলদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়নি, কুড়ি শতকে হয়ে উঠেছিল আধুনিক ভারত সরকারের এক প্রবল প্রতিপক্ষ।
কিন্তু, কি ছিল নানকের শিক্ষা?



নানক।

নানকের জীবদ্দশায় উত্তর ভারতের হিন্দু সন্তরা মরমী কবিদের মতো একেশ্বরবাদের শিক্ষা প্রচার করতেন। তারা সামাজিক সাম্য ও সৎগুরুর প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা বলতেন। নানকের ওপর এই মরমী কবিদের প্রভাব পড়েছিল। নানক সন্তদের মতোই প্রাত্যহিক জীবনের দৃশ্যাবলীর আড়াল ভেদ করে ‘সহজ’ অর্জন করতে চেয়েছেন। সহজ কি? সহজ অর্থ - ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া। নানক এর মতে ঈশ্বর যুগপৎ অজ্ঞেয় এবং মানবসত্ত্বায় অস্তিত্বশীল; কঠোর বৈরাগ্য কিংবা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্বারা ঈশ্বরলাভ সম্ভব নয় ... এর জন্য প্রয়োজন সৎগুরুর নির্দেশে ঐকান্তিক সাধনা। আত্বকেন্দ্রিক মানুষ সাধনায় সিদ্ধি লাভ করতে পারে না, তারা মানুষ মায়ার ঘোরে পড়ে ক্ষণিকের সুখলাভ করে মাত্র । স্বর্গীয় নামের জপ আর আধ্যাত্মিক অন্তঃদর্শন (স্পিরিচুয়াল ইন্ট্রোস্পেকশন) পারে মানুষের এই আত্মকেন্দ্রিকতা দূর করতে। এভাবে মহাবিশ্বের শব্দ সম্বন্ধে সচেতন হওয়া যায়। যে শব্দে ভক্তসহ সবই হল রূপ (ফর্ম)। এই সত্যে ক্রমাগত ধ্যান করে সবকিছুর ভিতরে এক ‘অনাহত’ শব্দ সম্বন্ধে ভক্ত সচেতন হয়ে ওঠে। এবং বিশৃঙ্খল সত্ত্বার বিরুদ্ধে ক্রমশ সংগ্রাম করে ভক্ত সহজ অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।
প্রতিদিনের জীবনে বেঁচে থেকে ঐশ্বরিক উপলব্ধিই নানকশাহী পন্থা। নানক শিষ্যদের অতিরিক্ত সন্ন্যাস নিষেধ করতেন; প্রতিদিনের কাজকর্মের ভিতরেই আধ্যাত্মিক অনুভূতি প্রকাশ পেতে পারে। এ কারণে সংস্কৃত কিংবা আরবি ভাষায় নয়-সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় ধর্মের ব্যাখ্যা করতেন। নানক এর জনপ্রিয়তার এইই কারণ। নানক এর পরবর্তী ন’জন অনুসারী তো বটেই আজও বিশ্বজুড়ে অসংখ্য শিখ নানকের সুগভীর উপলব্ধি আপন জীবনের ব্রত করেছে।



আদি গ্রন্থ

নানকের শিক্ষা শিখদের পবিত্র গ্রন্থ আদিগ্রন্থে লেখা রয়েছে। ‘আদি গ্রন্থ’ শব্দ দুটি পাঞ্জাবি । এর অর্থ: প্রথম বই। আদিগ্রন্থের অন্য নাম- গুরু গ্রন্থ সাহিব। এতে ৬,০০০ প্রার্থনাসংগীত রয়েছে; সবই নানকসহ অন্যান্য শিখগুরুরা সাধুরা লিখেছেন। প্রার্থনাসংগীতগুলি রাগভিত্তিক। প্রথম এবং ৩য় গুরু নানক এবং অমর দাস (১৪৭৯-১৫৭৪) নিজের ধর্মগীতি সংকলন করে ও অন্যান্য আদিকবিদের গান অর্ন্তভূক্ত করেন।



অমৃতসর। মানচিত্র।

১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে পঞ্জম গুরু অর্জন সিং আদিগ্রন্থে আরও গান অর্ন্তভূক্ত করেন এবং এভাবে আদিগ্রন্থের প্রথম সংস্করণটি সম্পূর্ন হয়। তিনি এটি অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে রাখেন।



অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির; শিখদের পবিত্র তীর্থ।



স্বর্ণমন্দিরে অভ্যন্তরে

১৭০৪ খ্রিষ্টাব্দে শিখদের শেষ গুরু গোবিন্দ সিং তাঁর পিতা গুরু তেগ বাহাদুরের ভক্তিসংগীত আদিগ্রন্থে অর্ন্তভূক্ত করে আদিগ্রন্থের সঙ্কলন সম্পন্ন করেন। গোবিন্দ সিং য়ের মৃত্যুর আগে তিনি গ্রন্থটিকে শিখদের ‘গুরু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে যান। শিখরা আজ অবধি আদিগ্রন্থকে তাদের গুরু হিসেবে মান্য করে। শিখ প্রর্থনালয়ে (গুরুদোয়ারা) বইটির অনুলিপি রক্ষিত আছে।



গুরুদোয়ারা। শিখ-জীবনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে আদিগ্রন্থ সকালে খোলা হয় ও রাত্রে মুড়িয়ে রাখা হয়। আদিগ্রন্থের গীত গাওয়া হয়। আদিগ্রন্থের সামনে জুতা খুলে যেতে হয়। আর মাথা ঢেকে রাখতে হয়। এটি পাঠকালে বাতাস করা হয়; যেন গ্রন্থটি জীবন্ত আর সম্মানিত ...



ঢাকার গুরুদোয়ারা।



শিখ। Sikh শব্দটি পাঞ্জাবি। এর অর্থ ছাত্র। বা শিষ্য। কার শিষ্য? গুরুর। গুরুমৎ ধর্ম। শিখ ধর্মে সৎগুরুর নির্দেশনার কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্ম ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৫৩
কালপুরুষ বলেছেন: একটানে পড়ে গেলাম। জানা হলো অনেককিছু। বরাবরের মতোই মুগ্ধ হলাম। চমৎকার পাঠ।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা, কবি।

১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা।

১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: জানাতে পেরে কৃতার্থ হলাম কবি।

৪. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:০৯
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: অসাধারণ। এক নিঃশ্বাসে পড়লাম। অনেক দিনের কৌতূহল ছিল শিখদের নিয়ে। ওরা মাংস খায় কিনা বা গরু খায় কিনা জানালে ভাল করবেন। শিখ পুরুষরা এত সুকঠোরভাবে দাড়ি আর পাগড়ী পরে, এতটা আন্তরিকভাবে আর কেউ ধর্ম পালন করেনা। মুসলিমদের অনেক কিছু শেখার আছে তাদের কাছ থেকে।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:১১
অনুসন্ধিৎসু বলেছেন: নানক সাহেব কি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন ? শিখ ধর্ম কি হিন্দু ধর্মেরই একটি শাখা ?
১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: আসলে নানক তাঁর উপলব্ধি স্পষ্ট হওয়ার পর আর বৈদিক ধর্মে ছিলেন না ; শিখ ধর্মকে হিন্দু ধর্মের ঠিক শাখা নয়-অফসুট বলা হয়। বৌদ্ধধর্ম যেমন বৈদিক ধর্মের অফসুট।
ধন্যবাদ।

৬. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৩১
চতুষ্কোণ বলেছেন: এত দিন শুধু নানক নামটুকুই শুনেছি। আজ বিস্তারিত জানলাম। চমৎকার পোষ্ট। দারুন লাগলো।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আসলে আপনারাই আমার প্রেরণা। যখন যথার্থ মানচিত্র খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ি তখন আপনাদের কথাই ভাবি।

৭. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৩৫
শিরীষ বলেছেন: বাঃ! দারুণ পড়ে গেলাম শিখ উপাখ্যান। Caste custom এর বিরুদ্ধে সোচ্চার এই গুরুর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এলো। অতিরিক্ত সন্ন্যাস পরিত্যাগের শিক্ষাটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেক কিছু জানলাম। আমার কাছে Somewhere দিন দিন অনেক উপযোগী হয়ে উঠছে ইমন ভাই এর কল্যাণে। ধন্যবাদ, বস্।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫০

লেখক বলেছেন: কবি!

৮. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৪৫
সকাল রয় বলেছেন:

আপনি আর্য ভারত ইতিহাস নিয়ে একটা পোষ্ট দেন
১৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: আর্য ভারতের ঠিক কোন্ সময়কালের বলুন তো?

৯. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:০১
অপু২৮৩৮ বলেছেন: অনেক দিন ধরে নানক সম্পর্কে জানার ইচ্ছা ছিল। আজ জানলাম। ধন্যবাদ।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১০. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:০৫
রংধনুর সাত রঙ বলেছেন: ভালো লাগলো একজন মুসলমানের সংস্পর্শে এসে নানক তার জীবনের গতি পাওয়াই।

লেখককে অনেক ধন্যবাদ
১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১১. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:১৫
মেঘকন্যা বলেছেন: আমার খুব কৌতুহল ছিল শিখ ধর্ম নিয়ে,অনেকটা আজ পূরণ হলো,ধন্যবাদ।আচ্ছা,বাংলাদেশেতো শিখ ধর্মাবলম্বী আছে বলে কখনো শুনিনি,তবে এখানে শিখ মন্দির তৈরি করা হলো কেন???
১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন: ঢাকার শিখ মন্দিরের ইতিহাসটি আমার ঠিক জানা নেই। জানার চেষ্টা করব। জানতে পারলে অবশ্যই জানিয়ে দেব। ধন্যবাদ।

১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:২৩

লেখক বলেছেন: নানক ঢাকায় এসেছিলেন ...সে সর্ম্পকে এখানে লেখা আছে ...
Click This Link

১২. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:১৬
অমিত চক্রবর্তী বলেছেন:
চমৎকার লাগল ইমন ভাই, বরাবরের মতোই।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

১৩. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:০৮
সায়েম মুন বলেছেন: শিখধর্ম নিয়ে কিছুই জানতাম তা আপনার কল্যাণে জানতে পারলাম!

শুধু দেখতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুরুদুয়ারা নানক শাহী নামে একটি মন্দির!

অসংখ্য ধন্যবাদ ইমন ভাই!

অট.পি: আপনার কল্যাণে অনেক কিছু জানতে পারছি। আর আপনি অনেক সময় নিয়ে কষ্ট করে পোষ্টগুলো দাড় করান শুধু আমাদের জন্য। এজন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:১৪

লেখক বলেছেন: Click This Link

১৪. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৫৫
খারেজি বলেছেন:


ধন্যবাদ জুবায়ের, চমৎকার লেখাটির জন্য। শিখরা আধুনিক ধর্মসম্প্রদায়ের মাঝে আসলেই অনন্য। জাতপাত বিরোধী লড়াই ভারতে আরও অনেকগুলো ধর্মের জন্ম দিয়েছে, যেমন বৌদ্ধ, জৈন... কিন্তু মধ্যযুগের পর ভারতে জন্ম নেয়া শিখ ধর্মের ওপর ইসলামেরও একটা প্রভাব দেখা যায়, যেটা নানকের জীবনে সুফিদের প্রভাবজনিত সাম্যবাদ আর ক্ষমতার বিরোধিতা থেকে এসেছে। এ কারণেই নতুন জেগে ওঠা এই জাতিটি সর্বদা মোঘলদের পীড়নের শিকার হয়েছে। রবীন্দ্রনাথে ওই কবিতাটা থেকে
"এসেছে সে এক দিন
লক্ষ পরানে শঙ্কা না জানে না রাখে কাহারো ঋণ
জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনা হীন..."
শিখদের সাহস, গুরুভক্তি আর অদম্য লড়াকু স্বভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ওই কবিতার বিষয়বস্তু শিখগুরু বন্দার বিদ্রোহ, তুমুল লড়াইয়ের পর বন্দীত্ববরণ ও তার পুত্রের মৃত্যু। বন্দার ওই ঘটনার পর শিখদের জাতিগত চেতনায় মোঘল সাম্রাজ্যের বিরোধিতা অঙ্গাঙ্গী হয়ে ওঠে। পুরো ধর্মগোষ্ঠীরই সামরিকায়ন হয়। এটা আশ্চর্য না যে, শিখরা মোঘল যুগের শেষ পর্যায়ে রনজিত সিংহ পাঞ্জাবের শাসক হয়ে ওঠার পরপর ভয়ানক মোঘল বিরোধিতার সূত্রে মুসলিম বিরোধিও হয়ে ওঠে। পাঞ্জাবের শাসনভার মোঘলদের হাতে চলে যাবার পর, সিপাহী বিদ্রোহ শেষভাগে দিল্লীর যুদ্ধে সিপাহীদের বিরূদ্ধে সবচে সাহসী ভূমিকা রেখেছিল শিখ আর পাঠান সেনারা! ইতিহাসের কি অদ্ভুত নিয়তি। কলকাতার দাঙ্গায় ছুরি হাতে শিখদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য... অনেকেই এর সাথে বন্দার প্রতিশোধ খোঁজেন।

বাঙলা ভাগের মত পাঞ্জাব ভাগও ভারতের ইতিহাসের মর্মন্তুদ ঘটনাগুলোর একটা। প্রায় সব শিখ জনগোষ্ঠী লাহোর আর পুব পাঞ্জাব ছেড়ে ভারতে চলে আসেন, মুসলমান পাঞ্জাবীরা চলে যান পাকিস্তানে। টোবাটেক সিং গল্পটা তো পাঞ্জাব ভাগ নিয়েই। ভাগের মানুষ নামে ঢাকায় মঞ্চে এসেছে।


ভালো কথা, রিচার্ড এম ইটন দেখিয়েছেন পাঞ্জাবী মুসলমান আর শিখ একই নৃগোষ্ঠীর। নতুন সেচপদ্ধতি আসায় সেখানকার আধামরু জমিগুলো চাষ হতে শুর করে। ফলাফল যাযাবরদের স্থায়ী হওয়া। এই সূত্রে সেখানে কিছু মানুষ সুফীদের কল্যাণে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়, কিছু শিখ ধর্মে। এটাই লক্ষ্যনীয়, ইসলাম পরবর্তী ভারতে নতুন কৃষিভুক্ত এলাকায় জাতপাতের হিন্দু ধর্মের বিস্তার হয়েছে তুলনামূলক কম।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:১৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, বিস্তারিত আলোচনার জন্য।

১৫. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৪৬
শায়মা বলেছেন: শিখদের এতকিছু তো জানা ছিলোনা।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৫৫

লেখক বলেছেন: তাই?

১৬. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২৮
হিমু ব্রাউন বলেছেন: comment by: অমিত চক্রবর্তী বলেছেন:
চমৎকার লাগল ইমন ভাই, বরাবরের মতোই।
১৭ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৭ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৫৮

লেখক বলেছেন: তাই?
অনেক ধন্যবাদ।

১৮. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:০৭
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: নানক শিষ্যদের বলতেন “শিখ”। শিখ মানে শেখ, জাতপাত যে ভালো না, তাই আমার কাছে এসে শেখ।

কতটুকু শেখা হল, আর কতটুকু রয়ে গেল সেটাই প্রশ্ন!

কেননা.............আদিগ্রন্থের সামনে জুতা খুলে যেতে হয়। আর মাথা ঢেকে রাখতে হয়। এটি পাঠকালে বাতাস করা হয়; যেন গ্রন্থটি জীবন্ত আর সম্মানিত ...


১৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৩৮

লেখক বলেছেন: হুমম।

১৯. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:১০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: বউ পোলাপানকে বিপদের মধ্যে রেখে যাওয়াটা ঠিক না।
ব্যাপারটা ঠিক না।


শিখদের নিয়ে কিছুই জানতাম না। জানলাম।
জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
১৮ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২০. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৫
পল্লী বাউল বলেছেন: আপনার পোস্ট পড়ার পর নিজকে অপদার্থ মনে হয়। কত কিছু যে জানিনা।
চমৎকার পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
১৮ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২১. ১৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২১
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: গুরু নানক আর শিখ ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা ছিল না। জাওন্তে পেরে ভাল লাগল। আপনাকে ধন্যবাদ।
১৮ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২২. ১৮ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:৩৭
নস্টালজিক বলেছেন: ব্লগার ইমন জুবায়ের কে অভিনন্দন।।

ভালো থাকুন নিরন্তর।।
১৮ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:৪২

লেখক বলেছেন: আপনিও ভালো থাকবেন।

২৩. ১৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:২৪
হাজারি বলেছেন: দারুন জানলাম অনেক কিছু
১৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৪. ১৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:২৭
দীপান্বিতা বলেছেন: খুব ভাল লাগলো...নানক সম্পর্কে অনেক জানতে পারলাম......(আমার এমনিই পাগড়ি পরা শিখদের বেশ লাগে :) ....আমি এখানের গুরুদ্বারা গেছিলাম......বাইরে জলের কল থাকে, পা ধুয়ে ঢুকতে হয়, মাথা ঢাকা দেওয়ার কাপড়ও ওনারা দেন.....ছেলেরা একদিকে বসেছিলেন, আমরা আর একদিকে...খুব শান্ত পরিবেশ......গান গাওয়া হচ্ছিল......সবশেষে ওখানেই সবার হাতে গরম হালুয়া প্রসাদাকারে দেওয়া হয়...স্বাদ অসাধারণ, তবে বড্ড গরম!)
২০ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৩৭

লেখক বলেছেন: হুমম।

২৫. ২৮ শে মে, ২০১০ রাত ১২:১৮
অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: যথারীতি অনবদ্য ইমন জুবায়ের একটা প্রশ্ন মাথায় আসে- আত্বকেন্দ্রিক মানুষ সাধনায় সিদ্ধি লাভ করতে পারে না, তারা মানুষ মায়ার ঘোরে পড়ে ক্ষণিকের সুখলাভ করে মাত্র ।

তাহলে কি একা থাকা , নিজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া,য়ার সে প্রশ্নের উত্তর খোজা কি মায়ার ঘোর ???? কি বলেন আপনি ???

( আমার ঠিক তা মনে হয় না । অবশ্য এটা একান্তই নিজের কথা )

অ ট - ইমন ভাই সূর্যবাদ আর ধর্ম নিয়ে একটা পোস্ট দেবেন কি ??? অনুরোধে......
২৮ শে মে, ২০১০ ভোর ৬:৩৩

লেখক বলেছেন: আত্বকেন্দ্রিক মানুষ সাধনায় সিদ্ধি লাভ করতে পারে না, তারা মানুষ মায়ার ঘোরে পড়ে ক্ষণিকের সুখলাভ করে মাত্র ।

সবার জন্য না-হলেও কারও কারও জন্য এ কথাটি প্রযোজ্য।
সূর্যবাদ ও ধর্ম?
আচ্ছা দেখি কি করা যায়।
অনেক ধন্যবাদ।

২৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৯
sadatarman বলেছেন: শিখ দের সাথে মুসলমানদের একটা বৈরী সম্পর্ক আছে বলে জেনে আসছি । ব্যাপারটা কবে কখন কি কারন তা জানালে ভাল হতো। শিখদের সাখে ইসলাম ধর্মের একটা তুলনা মুলক ব্যাখ্যা দিলে ভালো হতো। ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৮৩২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ