somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টি এস এলিয়টের একটি কবিতা

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জে. আলফ্রেড প্রুফ্রক-এর প্রেমের গান

তাহলে চল যাই তুমি আর আমি
যখন সন্ধ্যা ছড়ানো আকাশে
যেনবা টেবিলের ওপর অচেতন রোগী;
চল যাই, আধা-নির্জন নিশ্চিন্ত রাস্তায়,
এক রাতের সস্তা হোটেলের
অস্থির রাত্রির বিড়বিড় করে পিছু হটা
আর ঝিনুকের খোসা ছড়ানো কাঠের গুঁড়ো ভরতি রেঁস্তোরা;
অনিষ্টকর অভিপ্রায়ে
ক্লান্তিকর তর্কের মতন রাস্তাগুলি অনুসরন করছে
ঠেলে দিচ্ছে এক অভিভূত প্রশ্নের কাছে ...
ওহ্, জিগ্যেস করো না, ‘এটা কি?’
চল, বেড়ানো যাক।

কক্ষের ভিতরে রমনীরা আসে আর যায়
কথা বলে মাইকেল এঞ্জেলোর বিষয়ে।

যে হলুদ কুয়াশারা জানালার শার্সিতে ঘঁষছে পিঠ
যে হলদে ধোঁয়ারা জানালার শার্সিতে ঘঁষছে নাকমুখ
জিভ দিয়ে চেটে নিচ্ছে সন্ধ্যার বাঁক আর কোণ
ঝুলে আছে নালার ওপর দাঁড়ানো জলাধারের ওপর
কালিঝুলি ঝরে ঝরে পড়ছে চিমনি থেকে
চত্ত্বর থেকে পিছলে পড়ে, হঠাৎই মেরে লাফ,
আর দেখে যে নম্র অক্টোবরের রাত,
বাড়ির ব্যাপারে কুঁকড়ে, তারপর ঘুম।

এবং বাস্তবিকই সময় হবেই
হলুদ ধোঁয়ার জন্য -যা পিছলে যায় রাস্তায়।
জানালার শার্সিতে যে হলদে ধোঁয়ারা ঘঁষছে নাকমুখ
সময় হবেই, সময় হবেই
মুখগুলির সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্য একটি মুখ তৈরির যার সঙ্গে দেখা হবে তোমার;
সময় হবেই হত্যা ও নির্মানের
এবং সময় হবে সব কাজে আর হাতের দিনগুলির
যা তোলে আর তোমার থালায় একটি প্রশ্ন ফেলে;
তোমার জন্য সময় আর আমার জন্য সময়,
আর শত দ্বিধার জন্য সময়,
আর শত দৃষ্টি আর সংশোধন
চা আর টোস্টের আগে।

কক্ষের ভিতরে রমনীরা আসে আর যায়
কথা বলে মাইকেল এঞ্জেলোর বিষয়ে।

এবং বাস্তবিকই সময় হবেই
বিস্ময়ের, ‘আমি কি ধৃষ্টতা দেখাব?’ এবং, ‘আমি কি ধৃষ্টতা দেখাব?’
সময় হল ঘুরে দাঁড়াবার আর সিঁড়ি বেয়ে নামার,
আমার চুলের মাঝখানে টেকো দাগ নিয়ে....
(তারা বলবে: ‘ওর চুল কি পাতলা হয়েই না গজাচ্ছে!)
আমার সকালের কোট, কলার শক্ত হয়ে উঠেছে চিবুক অবধি,
আমার নেকটাই দামি আর বিনয়ী, অথচ সাধারণ পিন দিয়ে ঘোষিত...
(তারা বলবে: ওর হাত-পা কি পাতলা!)
আমি কি স্পর্ধা করি
বিশ্বজগৎ কে বিঘ্নিত করার?
একটি মিনিটে রয়েছে সময়
সিদ্ধান্ত ও সংশোধনের জন্য যা এক মিনিটকে করে তুলবে বিপরীতগামী।

যেহেতু আমি এরই মধ্যে ওদের চিনি, প্রত্যেককেই চিনি,
চিনেছি সন্ধ্যা, ভোর, অপরাহ্ন,
আমি আমার জীবনকে মেপেছি কফির চামচ দিয়ে;
আমি জানি এক মুমূর্ষ হেমন্তের সঙ্গে মুমূর্ষ কন্ঠস্বরসমূহ
দূরের কক্ষ থেকে ভেসে আসা সংগীতের নীচে।
সুতরাং আমি কীভাবে অনুমান করব?

আর আমি এরই মধ্যে চোখগুলি জেনেছি, জেনেছি ওদের প্রত্যেককেই
যে চোখগুলি তোমাকে সূত্রবদ্ধ শব্দের সমষ্টিতে নিবদ্ধ করে,
আর যখন আমি সূত্রবদ্ধ, একটি পিনের ওপর এলোমেলো,
যখন আমি পিনবিদ্ধ এবং দেওয়ালের ওপরে রয়েছি অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে ,
তাহলে আমি কীভাবে শুরু করব?
আমার সমস্ত দিন ও পথের ধাক্কায় থুতু ফেলা
সুতরাং আমি কীভাবে অনুমান করব?

আর আমি এরই মধ্যে জেনেছি বাহু, ওদের প্রত্যেককেই জেনেছি-
চুড়ি পরা বাহু আর সাদা আর শূন্য
(কিন্তু ল্যাম্পের আলোয়, হালকা বাদামী চুলের মিশেল)
এটা কি পোশাকের সুগন্ধী
যা আমায় করে তুলছে অসুস্থ?
টেবিলের পাশে বাহু পড়ে আছে, কিংবা শালে ঢাকা।
আর আমি কীভাবে অনুমান করব?
আর আমি কীভাবে শুরু করব?

আমি কি বলব, প্রত্যুষে আমি গিয়েছি সংকীর্ণ রাস্তায়
দেখেটি পাইপ থেকে ধোঁয়া উঠছে
জানালায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো হাতাওয়ালা শার্ট পরা নিঃসঙ্গ মানুষের?

আমার শান্ত সমুদ্রের মেঝেয় দুদ্দাড় করে পালিয়ে যাওয়া
ছিন্ন নখর হওয়া উচিত ছিল।

আর অপরাহ্ন, সন্ধ্যা, ঘুমাচ্ছে শান্তিতে!
দীর্ঘ আঙুল দ্বারা মসৃন,
ঘুমন্ত ... ক্লান্ত ...অথবা এটা কর্তব্য এড়ানোর জন্য অসুস্থতার ভানমাত্র
মেঝের ওপর ছড়ানো, এখানে তোমার আমার পাশে।
আমি কি চা এবং কেক এবং বরফের পর
মুহূর্তকে তার সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেওয়ার জোর কি আছে?
কিন্তু যদিও আমি কেঁদেছি আর উপবাস করেছি, কেঁদেছি আর প্রার্থনা করেছি,
যদিও আমি দেখেছি আমার মাথা (সামান্য টেকো) আনা হল একটি পাত্রে
আমি প্রেরিত পুরুষ নই আর এখানে কোনও মহৎ ঘটনাও ঘটছে না;
আমি দেখেছি আমার মহত্ত্বের নান্দনিক মুহূর্ত,
আর আমি দেখেছি আমার কোট নিয়ে অনন্ত খানসামা দাঁড়িয়ে, আর চাপাহাসি,
আর সংক্ষেপে ... আমি ভয় পাচ্ছিলাম।

আর এটা কি যথার্থ হত, হাজার হলেও,
পেয়ালার পরে, মোরব্বা, চা,
পোর্সেলিনের মধ্যে, তোমার আর আমার কিছু কথার মধ্যে,
এটা কি যথার্থ হত,
বিষয়টিকে হাসতে হাসতে আঘাত করা,
বিশ্বজগৎকে চাপতে- চাপতে একটা বলে পরিনত করা,
সে বলকে গড়িয়ে দেওয়া কিছু অভিভূত প্রশ্নের কাছে,
বলা: ‘আমি ল্যাজারাস, মৃতের দেশ থেকে এসেছি
সব বলার জন্য ফিরে এসেছি, আমি তোমাদের সবাইকে বলব”-
যদি কেউ, মাথার পাশে বালিশ রাখে,
বলা উচিৎ: ‘ আমি তা মোটেও বলিনি।
এটা তা না। আসলে।”

আর এটা কি যথার্থ হত, হাজার হলেও,
আর এটা কি যথার্থ হত,
সূর্যাস্তের আর দরজা-আঙিনায় এবং ছড়ানো ছিটানো রাস্তায়
উপন্যাসের পর, চায়ের কাপের পর, স্কার্টের পর ... যা মেঝের ওপর দিয়ে যায়
এবং এই, এবং আরও অনেক?

আমি কি বুঝিয়েছি তা বলা অসম্ভব!
কিন্তু, যেনবা পর্দার ওপর বিন্যস্ত ভাবে যাদুর লন্ঠন ছুড়েছিল স্নায়ূ;
এটা কি যথার্থ হত
যদি কেউ, বালিশ রাখে ও শাল ছুড়ে ফেলে,
আর জানালার দিকে ঘুরে যায়, বলা উচিত:
“আসলে ওটা এটা না,
আসলে আমি যা বুঝিয়েছি তা এটা না।”

না! আমি প্রিন্স হ্যামলেট নই, সেরকম কিছু নই;
আমি তত্ত্বাবধায়ক প্রভু, যে একটি প্রগতিকে
স্ফীত করবে, একটি-দুটি দৃশ্যের সূচনা,
যুবরাজকে উপদেশ, সন্দেহ নেই, সহজ হাতিয়ার,
শ্রদ্ধাপূর্ন, ব্যবহৃত হতে পেরে আনন্দিত,
রাষ্ট্রনৈতিক, সতর্ক, আর খুঁটিনাটি
নাটি বিষয়ে অতি যত্নশীল;
মহৎ বাক্যে পরিপূর্ন, কিন্তু সামান্য ভোঁতা
কখনও, সত্যিই, একেবারেই হাস্যস্পদ--
প্রায়, কখনও, নির্বোধ।

আমার বয়স বাড়ছে ... আমার বয়স বাড়ছে ...
আমি আমার গোটানো প্যান্টের তলা পরব।

আমি কি পিছন দিকে চুল আঁচড়াবো? আমি কি একটি পিচ ফল খাওয়ার ধৃষ্টতা দেখাবো?
আমি ফ্লানলের সাদা প্যান্ট পরেছি, আর হাঁটছি বেলাভূমিতে।
শুনছি মৎসনারীদের গান, প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকে।

আমার মনে হয় না ওরা আমার জন্য গাইবে।

আমি ওদের ঢেউয়ের ওপর সমুদ্র-অভিমুখে চড়তে দেখেছি
আঁচড়াচ্ছিল কালো উড়ন্ত ঢেউয়ের শাদা চুল
যখন সাদাকালো জলের ওপর বাতাস বয় ।

আমরা সামুদ্রিক শয়ন কক্ষে দেরি করেছি
বাদামী লাল সমুদ্র আগাছার মালায় সজ্জ্বিত সমুদ্র-কন্যাদের পাশে
যতক্ষণ না মানুষের কন্ঠস্বর আমাদের জাগায়, আর আমরা নিমজ্জিত।


মূল ইংরেজি কবিতা
(জায়গার অভাবে এখানে দেওয়া গেল না)

Click This Link

কবি টি . এস এলিয়ট সম্বন্ধে

http://en.wikipedia.org/wiki/T._S._Eliot

এই কবিতাটি সম্বন্ধে

Click This Link


কবিতার শুরুতে একটি quotation রয়েছে। কবির দান্তের Inferno (XXVII, 61-66) থেকে:

S`io credesse che mia risposta fosse
A persona che mai tornasse al mondo,
Questa fiamma staria senza piu scosse.
Ma perciocchè giammai di questo fondo
Non tornò vivo alcun, s'i'odo il vero,
Senza tema d'infamia ti rispondo.

এর বাংলা মানে

যদি আমি মনে করি আমার উত্তর দেওয়া হয়েছে
কারও প্রতি যে কখনও পৃথিবীতে ফিরবে,
এই শিখা অবিনশ্বর ও স্থির।
কিন্তু এই অতল থেকে কখনোই কেউ
জীবিত ফিরে যায়নি, যা শুনি তাই যদি সত্য হয়,
অশুভের ভয় না করে আমি উত্তর দিই।

উৎসর্গ: রুবেল শাহ। যিনি ক’দিন আগে আমায় এই কবিতাটি অনুবাদ করতে অনুরোধ করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৬
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×