প্রাচীন মিশরীয় দেবীর চোখেও রং ... Detail of the Goddess Selket from the Canopic Shrine, from the Tomb of Tutankhamun ..... যে সমাজে চোখের প্রসাধন নিয়ে এত উৎসাহ ... সে সমাজের দেবদেবীর চোখও যে রঞ্জিত হবে সে ব্যাপারে আর সন্দেহ কি ...
প্রাচীন মিশরীয়রা চোখে দুটি রং ব্যবহার করত। কালো এবং সবুজ। অবশ্য নীল রঙের ব্যবহারও দূর্লভ ছিল না। যা হোক। সবুজ ও কালো রং কেবল সৌন্দর্য নয় উর্বরতা এবং মৃত্যুর পরে পুর্নজন্মেরও প্রতীক- এমনই বিশ্বাস ছিল প্রাচীন মিশরের। প্রাচীন মিশরীয়রা যেনতেন করে চোখে রং লাগাত না, রঙের ছোপে থাকত নির্দিস্ট নকশা । নকশার আকার হত বাদাম কিংবা বেড়ালের মতো । এবং তা নিছক নকশাই ছিল না -ছিল ইন্দ্রজাল এবং আধ্যাত্বিকতার প্রতীকও। তখন একবার বলেছি- রহস্যময় প্রাচীন মিশরে চোখের প্রসাধন কেবল প্রসাধনই ছিল না, ছিল রহস্যময়তারও প্রতীক ...
ক্লিওপেট্রা ছবিতে সদ্য প্রয়াত এলিজাবেথ টেইলর। প্রাচীন মিশরে চোখের প্রসাধন এতই গুরুত্বপূর্ণ যে একালের চলচ্চিত্র পরিচালককে তা মনে রাখতে হয়েছে।
এবার দেখব প্রাচীন মিশরীয়রা রং কোথায় পেত। ম্যালাকাইট হল এক ধরণের খনিজ- যার পোষাকি নাম কপার কার্বনেট। এই ম্যালাকাইট থেকে প্রাচীন মিশরীয়রা পেত সবুজ রং । এবং গালেনা হল সীসার আকরিক। এই গালেনা থেকে প্রাচীন মিশরীয়রা পেত কালো রং । এই দুটি খনিজ পদার্থের সঙ্গে প্রাচীন মিশরের রাজবংশ পূর্ব সময়ে মিশরবাসী পরিচিত ছিল।
প্রসাধনরত প্রাচীন মিশরীয় নারী
রাজবংশ পূর্ব যুগ বা Pre-Dynastic Period -এর সময়কাল হল: ২৫০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব। (প্রাচীন মিশরের যুগবিভাগ সম্বন্ধে দেখুন) ... ম্যালাকাইট পাওয়া যেত মিশরের পূবের মরুভূমিতে এবং সিনাই উপত্যকায়। আর গ্যালেনা পাওয়া যেত আসওয়ান এবং লোহিত সমুদ্রে।
ম্যালাকাইট। এটি সবুজ রং-এর উৎস।
সবুজ রং নতুন রাজবংশের (the New Kingdom) পর ব্যবহার কমে এসেছিল । নতুন রাজবংশের সময়কাল সম্বন্ধে ওপরে উল্লেখিত সময়কাল দেখুন।
গালেনা বা লেড সালফাইড। এটি কালো রং -এর উৎস। কালো রঙের অনেক ধরনের ভ্যারাইটি ছিল। যেমন: কাজল। ইংরেজিতে kohl, বাংলায় কাজল। সুর্মা কে আরবরা বলত al-kohl... যা থেকে উদ্ভব হয়েছে alcohol শব্দের ...
প্রাচীন মিশরীয়রা চোখের রং এর কাঁচামাল চামড়া কিংবা লিলেন-এর ছোট ঝুলিতে রাখত। পেস্ট কি পাউডার হিসেবে তৈরি (রেডিমেড) চোখের রং পাওয়া যেত। এসব পাওয়া যেত টিউবে বা অন্যান্য পাত্রে।
প্রাচীন মিশরের সুর্মাদানী।
রং রাখার পাত্র প্রাচীন মিশরের সমাধিসৌধে অঢেল পাওয়া গিয়েছে। আঙুল দিয়ে চোখের চারপাশে রং লাগাত । কখনও কাঠি হাতির দাঁত হাড় কাঠ বা ধাতু ব্যবহার করা হত। কাঠির ডগায় পেস্ট মেখে সামান্য পানি লাগিয়ে তারপর রঙিন পাউডারে ছুঁইয়ে নিত।
মিশরের বাইরে থেকেও রং আমদানী করা হত। বেনি হাসানে অবস্থিত মধ্যবর্তী রাজবংশের একটি সমাধিসৌধে দেওয়াল চিত্রে ৩৭ টি এশিয় ক্যারাভান কালো রং (কাজল? ) বহন করছে দেখা যায় ।
প্রসাধনের একটি গ্রহনযোগ্য সংজ্ঞা হল: The word "makeup" means to pretend and, in using cosmetics to hide pores, smooth complexions and attempt to change the color of our eyes, we a pretending to be something we are not, we are "making it up".....তবে প্রাচীন মিশরে চোখের প্রসাধন ব্যবহারের অন্য একটি বিশেষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছিল। কারণটি মিশরতাত্ত্বিক Ottar Vendel বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন: প্রাগৈতিহাসিক কালে উত্তর দিক থেকে মিশরীয়রা নীল নদের উপত্যকায় এসেছিল । এদের গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল গৌড় বর্ণের । নীল নদের উপত্যকায় প্রখর সূর্যালোকে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে অসুবিধে হচ্ছিল । অস্বস্তিকর রোদ সইয়ে নিতে তারা তাদের চোখের চারপাশে রঙের প্রলেপ দিতে শুরু করে । এতে উন্মুক্ত সূর্যালোক মোটামুটি সহ্য করা যেত ।
প্রাচীন মিশরীয়রা এ ধরনের পাত্রে kohl বা কাজল রাখত।
সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চোখের এই রং করা অভিজাত শ্রেণির নারীপুরুষ নিত্যদিনের অপরিহার্য কাজে পরিনত হয়। পরবর্তীকালে চোখের প্রসাধনে সবুজ ও কালোর ছোপ এবং নকশা যুক্ত হয় - যার কথা আমি আগেই বলেছি।
প্রসাধনরত প্রাচীন মিশরীয় নারী
রং গুঁড়ো করার পাথরের তৈজষপত্র প্রাচীন মিশরীয় সমাজে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে । এসব তৈজষপত্র নানা আকার ও বর্ণের হত ।
আজও আধুনিক কালের নারী চোখের চারপাশে রংয়ের প্রলেপ দেয়। তবে এতে ইন্দ্রজাল এবং আধ্যাত্বিক ছোঁওয়া নেই, এ নিছকই ফ্যাশন ...
প্রাচীন মিশরের চোখের নকশা। অদ্ভূত না বলে উপায় কি।
ছবি; ইন্টারনেট
তথ্যসূত্র
Click This Link
Click This Link
http://www.love-egypt.com/cosmetics.html
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



