অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী transparency report
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairimon@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

জনপ্রিয় মন্তব্যসমূহ

আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্‌উক, হে ভগবান।রবীন্দ্রনাথ

যে প্রেম এমন কী ব্রিটিশ সিংহাসনকেও অগ্রাহ্য করেছিল

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১২ |

শেয়ারঃ
0 1


প্রেমের কারণে সিংহাসন পরিত্যাগ- এ কেবল রূপকথাতেই বুঝি সম্ভব। অথচ বিংশ শতকেই সে রকম একটি বিস্ময়কর ঘটনা সম্ভবপর হয়েছিল। ইংল্যান্ডের রাজা অস্টম এডওয়ার্ড মাত্র ৩২৫ দিন রাজত্ব করবার পর ১৯৩৬ সালে একজন মার্কিন মহিলাকে বিবাহ করবার জন্য সিংহাসন ত্যাগ করেন। যে মহিলাটি কেবল বিবাহিতাই নন, আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই মার্কিন মহিলার নাম মিসেস ওয়ালিস সিম্পসন। স্থূল স্বার্থের ওপর মানবিক আধ্যাত্মিকতার জয় হওয়ায়- এই অভাবনীয় ঘটনাটি তৎকালীন সারা বিশ্বে প্রচন্ড আলোরণ তুলেছিল। প্রেমের অর্ন্তগত শক্তি উপলব্দি করে সারা বিশ্বের মানুষ স্তব্দ হয়ে গিয়েছিল। কি ছিল সেই স্বর্গীয় প্রেমের পটভূমি? একুশ শতকের প্রারম্ভে বসে আমরাও কৌতূহল বোধ করি। সেই ভালোবাসার গল্পটির দিকে একবার চোখ ফেরানোর জন্যই এই লেখার আয়োজন ...



বেসি ওয়ালিস ওয়ারফিল্ড। তরুণী বয়েসে।
ওয়ালিস সিম্পসন-এর জন্ম ১৮৯৬ সালের ১৯ জুন । আমেরিকার পেনসালভানিয়ার ব্লু রিজ সামিটে । অভিজাত পরিবারে মেয়ে । পারিবারিক নাম ছিল বেসি ওয়ালিস ওয়ারফিল্ড।

১৯১৬ সালে লেফটেনান্ট আর্ল উইনফিল্ড স্পেন্সারকে বিয়ে করেন ওয়ালিস। স্পেন্সার ছিলেন আমেরিকান নেভির একজন পাইলট। বেসি ওয়ালিসেরই হয়তো কপাল মন্দ ছিল। কেননা ক্রমশ মদ্যপ হয়ে ওঠে স্পেন্সার। যে কারণে বিবাহ আর বিবাহ থাকল না, হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। ১৯২৭ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ মাধ্যমে ইতি ঘটে অশুভ দাম্পত্যজীবনের । বিচ্ছেদের মাত্র ছ’মাস পরই আর্নেস্ট সিম্পসন কে বিয়ে করেন ওয়ালিস। তারা, নিয়তির ইঙ্গিতেই কি না জানি না, লন্ডনে সেটেল করেন। ওয়ালিস আগে থেকেই অভিজাত সমাজে মেলামেশায় অভ্যস্থ ছিলেন । লন্ডনে একটা পার্টিতেই প্রিন্স এডওয়ার্ড কে প্রথম দেখেন ওয়ালিস। আজ আমরা জানি ... প্রথম দেখাতেই দু’জনই দু’জনার প্রতি গভীর আকর্ষন বোধ করেছিলেন। নইলে পরবর্তী ঘটনাসমূহ ঘটা সম্ভবপর ছিল না।



প্রিন্স এডওয়ার্ড। পুরো নাম: এডওয়ার্ড এলবার্ট ক্রিশ্চিয়ান জর্জ অ্যান্ড্রু প্যাট্রিক ডেভিড । ইনি ভালোবাসার জন্য সিংহাসন ত্যাগ করে পৃথিবীর ইকিহাসে অমর হয়ে আছেন । এডওয়ার্ড-এর জন্ম: ১৮৯৪ সালের ২৩ জুন । বাবা: রাজা পঞ্চম জর্জ। মা: ম্যারি অভ টেক। বংশ: হাউজ অভ উইন্ডসর। ১৯১৭ সালে রাজা পঞ্চম জর্জ হাউজ অভ উইন্ডসর প্রতিষ্ঠা করেন।

লন্ডনের সেই পার্টিতে প্রথম দেখার পরই প্রিন্স এডওয়ার্ড গভীরভাবে ওয়ালিস-এর প্রেমে পড়ে যান। এতে অনেকেই ওয়ালিস সিম্পসন কে দায়ী করেছিল। হাজার হলেও প্রিন্স এডওয়ার্ড ব্রিটেনের সিংহাসনে বসতে যাচ্ছেন। তার পাশে ওয়ালিস সিম্পসন কে? কিন্তু ব্যাপারটা ছিল সর্ম্পূন উল্টো। প্রিন্স এডওয়ার্ডই ওয়ালিস এর রূপে গুণে মুগ্ধ হয়েছিলেন। আসলে বিষয়টি তো ব্যাখ্যাতীত। আবেগের বিষয় বলেই যা কথায় কিংবা শব্দে প্রকাশ সম্ভব না। ওয়ালিস একবার বলেছিলেন: একবার জলপথে ভ্রমনের সময় "crossed the line that marks the indefinable boundary between friendship and love" (ওয়ালিস কী সহজে কথাটা বললেন, কিন্তু, আজও এটি নারীপুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা ...)

১৯৩৬ সালের ২০ জানুয়ারি। রাজা পঞ্চম জর্জ, প্রিন্স এডওয়ার্ড-এর বাবা, মারা গেলেন। এডওয়ার্ড অস্টম এডওয়ার্ড উপাধি ধারণ করে ব্রিটেনের সিংহাসনে আরোহন করলেন। এডওয়ার্ড-এর ওপর গ্রেট ব্রিটেনের সরকার এবং জনগনের অনেক আশা ছিল । সময়টা টালমাটাল। জার্মানিতে নাৎসীবাদের উত্থান ঘটছে। অথচ রাজদরবারের সদস্যদের এড়িয়ে চলছে রাজা। রাজার কথাবার্তাও কেমন অগোছালো। ওয়ালিস-এর প্রতি প্রবল প্রেমমগ্নতা এভাবেই রাষ্ট্রীয় কাজে বাধার সৃষ্টি করছিল।



ওয়ালিস সিম্পসন । প্রেমের পথ কখনোই ফুলে - ফুলে ঢাকা থাকে না। তৎকালীন ব্রিটেনবাসী ওয়ালিসকে জার্মান গুপ্তচর মনে করত। মনে করত মার্কিন মহিলাটি জার্মান সরকারের কাছে গোপনে ব্রিটিশ নথিপত্র পাচার করছে। কিছু সংখ্যক ঐতিহাসিক আজও হিটলারের সঙ্গে ওয়ালিসের একটা সম্পর্ক ছিল বলে প্রমাণ করার জন্য ব্যস্ত । অবশ্য এ কথা সত্য যে ... তিরিশের দশকের শেষে নাৎসী সরকারের প্রতি নমনীয় ছিলেন ওয়ালিস সিম্পসন ।

ওদিকে একজন তালাকপ্রাপ্তা মার্কিন নারীকে বিবাহ করা ব্রিটেনের একজন রাজার পক্ষে সাংবিধানিকভাবেই সম্ভব নয়। রাজা অস্টম এডওয়ার্ড এর সামনে তিনটে পথ খোলা ছিল:
(ক) ওয়ালিসকে ত্যাগ করা।
(খ) ওয়ালিসকে বিবাহ করা যাতে সরকারের কর্মচারীদের একযোগে পদত্যাগের সমূহ সম্ভাবনা ।
(গ) সিংহাসন ত্যাগ করা।
আজ আমরা জানি এডওয়ার্ড কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যে কারণে এই পোস্টের শিরোনাম: “যে প্রেম এমন কী ব্রিটিশ সিংহাসনকেও অগ্রাহ্য করেছিল।” এডওয়ার্ড -এর ছোট ভাই এলবার্ট রাজা ষস্ট জর্জ উপাধি ধারণ করে ব্রিটেনের সিংহাসনে বসেন। তবে বড় ভাই এডওয়ার্ড কে ‘ডিউক অভ উইন্ডসর’ উপাধি দান করেন। তারপর থেকে এডওয়ার্ড ‘ডিউক অভ উইন্ডসর’ নামেই পরিচিত। আজও।



একত্রে স্বর্গীয় যুগল।

এদিকে ওয়ালিস সিম্পসন স্বামী আর্নেস্ট সিম্পসনের বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন । ওসব ঝামেলা মিটলে ‘ডিউক অভ উইন্ডসর’ -এর সঙ্গে ফ্রান্সে চলে আসেন। এও এক ধরণের নির্বাসন। ‘ডিউক অভ উইন্ডসর’ ভালোবাসার জন্য প্রথমে সিংহাসন ছাড়লেন, তারপর মাতৃভূমি ত্যাগ করলেন।
ফ্রান্সেই স্বর্গীয় জুটির বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল ।
তারিখ? ১৯৩৭ সালের ৩ জুন ।
ডিউক অফ উইন্ডসর তাঁর প্রিয়তমাকে ১৯.৭৭ ক্যারাট ওজনের একটি প্লাটিনাম এর সেট উপহার দেন । আর একটি চতুস্কোন এমারেল্ড রিং । বলাবাহুল্য, বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রাজকীয় পরিবারের কেউই ছিল না।



ফ্রান্সের Château de Candé এখানেই স্বর্গীয় জুটির বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।আর বিবাহিত জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছিল ফ্রান্সে।

‘ডিউক অভ উইন্ডসর’মারা যান ১৯৭২ সালে। ওয়ালিস অবশ্য ১৯৮৬ সাল অবধি বেঁচে ছিলেন।



ওয়ালিস। ১৯৭০ সালে তোলা।



উইন্ডসর ক্যাসল-এর সমাধি। এখানেই পাশাপাশি দুটি কবরে শায়িত স্বর্গীয় জুটি।

ছবি: ইন্টারনেট।

তথ্যসূত্র :

Click This Link
Click This Link
http://news.bbc.co.uk/2/hi/uk_news/2699035.stm
Click This Link
Click This Link
Click This Link

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজা অস্টম এডওয়ার্ড ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ/নিবন্ধ  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


৩৪টি মন্তব্য

 

সকল পোস্ট     উপরে যান

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন