আমরা কালো, আমরা খর্বকায়, আমরা প্রাচীন।
আমাদের শিয়রে মৌন পাহাড়; পায়ের কাছে অথই সমুদ্র,
বাঁ দিকে গহীন বনাঞ্চল, ডাইনে এক স্মৃতিময় জনপদ।
আমাদের বাস আলুথালু গ্রামে । আমাদের ঘরগুলি খড়ের, উঠানগুলি
খোলামেলা আর চতুস্কোন; আমাদের খাদ্য ধান, আমাদের জল বৃষ্টি।
রুপালি মাছের আশায় আমরা মেঘনার উজানে যাই । সম্বৎসর ফসল
ফলাই; শীতের মাঠজুড়ে তাই ফোটে হলদে সর্ষের ফুল। আমরা আবাদ
করি হৃদয়ের উর্বরতম মৃত্তিকায়। তাই আমরা কবি। পূর্ণিমার রাত্রে উথাল-পাথাল হাওয়ায় আমাদের ঘুম আসে না।
আমরা নিশীথে ফুলবনে যাই, নিরন্তর বুনি গান
প্রাণের গভীর সুরে। ঢাকের বাদ্যে ভুলি আমাদের ব্যক্তিগত দুঃখ।
কখনো-বা আমরা হারিয়ে যাই গ্রামীণ মেলার ভিড়ে।
তখন আমরা কাঁদি দুঃখী বালকের মতন ।
আমরা এক প্রাচীন মায়ের সন্তান;
যে সন্তান হাঁটে ‘সেরাতুল মোস্তাকিম’- এর পথে
আতরের গন্ধমাখা আলেক ফকিরের মারফতি চাদর জড়িয়ে গায়ে;
আমাদের দেশের পাখিরাও রাধাকৃষ্ণের জানে গান! মূলত আমরা বাউল। আমাদের হৃদয় মরমী। আমাদের দেহাতীত আত্মার একতারায় ধ্বণিত হয় নিগূঢ় বয়ান আ মরি বাংলা ভাষায়।
কখনও-বা আমরা ভেসে যাই পদ্মা-যমুনার জলে
খড়কুটোসমেত। শূন্য ভিটায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে নিরন্ন শিশুরা ।
শহরের দিকে ছোটে উৎখাত হয়ে যাওয়া মানুষের মিছিল ।
পথে আমাদের মেয়েরা হারিয়ে যায়, বিক্রি হয়ে যায় সীমান্তের ওপারে!
তারপর অবরুদ্ধ শহরে আমরা ক্রমাগত কংক্রিটের চাপে
জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে দুলতে থাকি ...
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



