আজকে সমকালের লিড
নিউজ পড়লাম। স্পষ্টতই নিউজটি উদ্দেশ্যমূলক। তাছাড়া তথ্যগত অসঙ্গতি ও
সাংবাদিকতার নীতিমালার বাইরে কিছু বিষয়তো রয়েছেই। সংবাদে উল্লেখিত ৪৩টি
দেশে শিবিরের যে সংগঠনগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে তা কোন উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে, তা কিন্তু বলা হয়নি। প্রতিবেদক কি স্বপ্নে পেয়েছেন এসব নাম?
ইন্ট্রোতে বলা
হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে
ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করায় বাইরের এসব সংগঠন নিয়েও এখন
বিপাকে পড়েছে ছাত্রশিবির।"
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাও যেখানে শিবিরের ৪৩টি সংগঠনের খোঁজ রাখে
না সেখানে কোথাকার এক ভার্সিটি রিপোর্টার এত বড় একটি সংবাদের আগা-গোড়া
জেনে ফেলেছেন! অবিশ্বাস্য বৈকি।
সমকালের রিপোর্টে শিবিরের বর্তমান ও সাবেক যেসব নেতাদের বক্তব্য নেওয়া
হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা বিদেশে শিবিরের ভিন্ন নামে কোনো সংগঠন আছে বলে
স্বীকার করেছে তাদের কারো নামই প্রকাশ করা হয়নি। একজন শিক্ষকের উদ্বৃতি
নেওয়া হয়েছে তার নামও প্র্রকাশ করা হয়নি। কিন্ত যে নেতা এটি স্বীকার করেনি তার
নাম ঠিকই প্রকাশ করা হয়েছে। শেষ লাইনটি ছিল এরকম, তবে শিবিরের চবি শাখার
মূল কমিটির সাবেক এক নেতা দেশের বাইরে ভিন্ন নামে শিবিরের এসব সংগঠন
পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।"
যেন শিবিরের কথিত ওই নেতা সমকালের প্রতিবেদককে বিষয়টি জানানোর জন্য
মুখিয়েই ছিলেন। রিপোর্টের গঠন দেখলেই বুঝা যায় পুরো রিপোর্টই বানানো। একটা
ব্যাপার বলে রাখি, মনিরুল সোহাগ (রিপোর্টটির প্রতিবেদক) কিন্তু
ছাত্রফ্রন্টের রাজনীতির সাথে জড়িত। আর আদর্শিক মতপার্থক্য থেকে এ ধরনের
রিপোর্ট করার নজির অন্তত বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে নজিরবিহীন নয়।
প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, সারা বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র সংগঠনগুলো একটি
প্লাটফর্মে দাঁড়ানোর জন্য ইফসো (IIFSO = International Islamic Federation
of Student Organization) নামে একটি সংগঠনের অধীনে একত্রিত হয়।
ছাত্রশিবিরও এর সদস্য। ইফসো'র সদস্য সংগঠনগুলোর তালিকাই সমকাল শিবিরের
সংগঠন বলে প্রচার করেছে। এ রকম বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছাপানোর জন্য সমকালের
প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
বিভিন্ন পত্রিকায় আরেকটি সংবাদ ছাপা হয়েছে, শিবির যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা
সংস্থার দৃষ্টিতে একটি সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী সংগঠন। প্রকৃত ব্যাপার কি আমি
জানি না। তবে কথা হলো, যেসব সংগঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থহানী
হতে পারে এমন সংগঠনগুলোকেই তারা কালো তালিকাভুক্ত করে থাকে। নেলসন
ম্যান্ডেলা আজ অবিসংবাদিত নেতা। এই ম্যান্ডেলা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কালো
তালিকায় ছিলেন। এমনকি ২০০৭ সালে সম্ভবত তাকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া
হয়।
www.satp.org নামে একটি সংস্থার বরাত দিয়ে
পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, তারা শিবিরকে চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে তালিকাভূক্ত
করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করে এই সংস্থাটি নাকি দক্ষিণ
এশিয়ার মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। তাদের ওয়েব সাইটে গিয়ে
দেখলাম শিবিরের নেতাদের নামের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তা ৭/৮ বছর আগের।
সাইটটি ঘাটাঘাটি করে জানতে পারলাম ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিভিউ সংস্থাটির তথ্যের অন্যতম উৎস। বাংলাদেশে সংগঠিত সন্ত্রাসী ঘটনার সংবাদের অন্যতম উৎস ডেইলি স্টার। তাহলে কাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে এই সংস্থাটি তা পরিস্কার।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



