১৯৭৮ সালে তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত। এরপর জর্মন, বৃটেন, আমেরিকা- নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি। ইতিমধ্যে তিনি বিখ্যাত। তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা- এই কবিতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সুমন চট্টোপাধ্যায় তো গানও লিখে ফেললেন। সেনাবাহিনীর হাতে বন্দুকের বদলে যিনি ফুল ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, যিনি বোমা ফেলার পরিবর্তে চকোলেট, টফি ফেলতে চেয়েছিলেন- সেই টুপি খোলা অভিবাদ জানানো কবি আবারো প্রকাশিত হলেন- চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে- এবারের বইমেলায়। এবং আদায় করে নিলেন আমাদের অভিবাদন।
প্রায় ত্রিশ বছর পর কাদরী লিখছেন:
"কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর
ব্যক্তিগত গ্রাম থেকে অনাত্মীয় শহরে
পুকুরের যৌথ স্নান থেকে নিঃসঙ্গ বাথরুমে
কোনো নির্বাসনই কাম্য নয়
কাম্য নয়
কাম্য নয় আর-"
কবি তাঁর দীর্ঘ পরবাস জীবনকে ঘুরেফিরেই নিয়ে এসেছেন পংক্তির পর পংক্তিতে- কখনো দীর্ঘশ্বাসে, কখনো অভিমানে। তিনি ভিন্ন এক কবিতায় বলছেন:
"দু টুকরো রুটি কিংবা লাল শানকি ভরা
এবং নক্ষত্রকুচির মতন কিছু লবনের কণা
দিগন্তের শান্ত দাওয়ায় আমাকে চাও নি তুমি দিতে-
তাই এই দীর্ঘ পরবাস।
....
....
যা কিছু বলার ছিলো দেশের-দশের কাছে
বলতে পারি নি আমি-
তাই এই পরবাস।"
কবি ২০০৪ সাল থেকে নিউ ইয়র্কে বাস করছেন। তিনি অসুস্থ্য। লোকমুখে শুনেছি তাঁর কিডনীতে পানি জমেছে। সারাদিনে দুই গ্লাসের বেশী পানি খেতে পারেন না। কি দুর্বিসহ জীবন! এই শরীরেই কবি বারবার ফিরতে চান আপন ভূমিতে। অসুস্থ হওয়ার আগে ফিরেছিলেনও। দেশে ফিরে দৈনিক সংবাদে কাজ করেন। পরে ১৯৮২ সালে এক অজানা অভিমান নিয়ে আবারো চলে যান বিদেশ। এরপর আর ফেরন নি। কিন্তু তাঁর ফেরার আকুতি প্রবল। ২০০৯ সালে বের হওয়া কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতার শেষের কয়েকটি লাইন এরকম:
"যতোবার আমি ঘরের নিকটবর্তী হই
কুয়াশা আক্রান্ত সেই বারান্দায় রয়েছে দাঁড়ানো আজো
একটি অস্পষ্ট ছায়ামূর্তি- একদা কৈশোরে
যে আমাকে জানিয়েছিল বিদায়, সেই ছায়ামূর্তি
আজো, এখনো, আমাকে লক্ষ্য ক'রে উড়িয়ে চলেছে একটি বিদায়ী
রুমাল।"
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



