আমার প্রিয় পোস্ট

সকল অন্ধকারের হোক অবসান

টিফা চুক্তি ঠিকঠাক মতো হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৪

শেয়ারঃ
0 0 0

টিফা হলো আমেরিকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের রূপরেখা নির্ধারণের চুক্তি। সাদা চোখে এরকম চুক্তি বেশ ভালোই লাগে দেখতে। দু দেশের মধ্যে বাণিজ্য হবে। বাংলাদেশ বাণ্যিজ্য করবে। ডলার আসবে। .... না, ব্যাপারটা এতো সরল নয়। এই চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে পণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেয়ে সেবা বাণিজ্য বাড়ানো এবং অশুল্ক বাধা দূর করার কথা। এতে বাংলাদেশ কতোটা লাভবান হবে সেটা নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা ও মেধার ওপর। একটি বিষয় এখানে না বললেই নয়- সেটি হলো টিফা নিয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বেশ কয়েকবার নাড়াচাড়া করেছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু তারা সাড়া পায় নি এই পর্যন্ত। তবে এবারের টার্মে আওয়ামী লীগ এই চুক্তির দাঁড় গোড়ায়। সরকারী বহু মহল থেকে এরকম ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে (৯ ফেব্রুয়ারির প্রথম আলো দ্রষ্টব্য)।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ যাই হোক, এখানে আমার মনে হয় ভয়ানক জিনিস হয়ে দাঁড়াবে আইপিআর অর্থাৎ বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার। টিফা চুক্তির সংযোজনী (এনেক্স) অংশের প্রথম অধ্যায়ে এই বিষয়ে বলা হয়েছে। এ চুক্তি হলে বাংলাদেশকে বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এবং সেটা যদি হয় তাহলে আমাদের সামনে সত্যিই গভীর অন্ধকার অপেক্ষমান। কারণ হিসেবে আমি কয়েকটি ক্ষেত্র উল্লেখ করছি।

১. কম্পিউটার বা তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এতোদিন যেসব প্রযুক্তি কিংবা সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছিলো সেগুলো ছিলো পাইরেটেড। কারণ চড়ামূল্য। সাধারণ অফিস মাইক্রোসফট-এর আসল দাম চার হাজারের ওপর। যেটা আমরা মাত্র চল্লিশ টাকা দিয়ে পাচ্ছি। চুক্তি হলে ঐ হাজার টাকা দিয়েই সফটওয়্যার কিনতে হবে।

২. পড়াশোনার ক্ষেত্রে- বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষার অধিকাংশ বই শিক্ষার্থীরা সংগ্রহ করে নীলক্ষেত থেকে। নীলক্ষেত ওলারা ঐসব হাজার টাকার বই আমাদের দিচ্ছে শ'দুয়েক টাকায়। ফলে অনেক মধ্যবিত্তের ছেলে-মেয়ে পড়তে পারছে। ম্যাডিকেলের বই ১০ হাজার টাকা, সেটা পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার টাকায়। কিন্তু চুক্তি হলে- আমাদের ছেলেমেয়েদর বিবিএ আর কম্পিউটার সায়েন্স পড়া দিল্লিসম হয়ে উঠবে।

৩.শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে যেসব বই কিংবা ডিভিডি আমরা কিনি, সেগুলো আমাদের সাধ্যের মধ্যে। কিন্তু চুক্তি হলে আমাদের সাধ থাকবে কিন্তু সাধ্য থাকবে না।

এই হলো মোটামুটি তিনটি ক্ষেত্র। হ্যা মোটে তিন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে সরাসরি। কিন্তু একবার ভাবুন তো ঐ প্রভাবগুলোই কি আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করতে যথেষ্ট নয়????

 

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৭
শুভ৭৭ বলেছেন: হমম..
সকল কিছু পুড়ে যাক। ভস্ম থেকে জন্ম নেক চেতনার অগ্নি-পক্ষি
২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০০
শাহরিয়ার হোসেন বলেছেন: আপনার উল্লেখ করা সমস্যাগুলো যদি সত্যি -ই হয় তা'হলে বলবো আমরা ভাল মানুষ হবার পথ পাবো। যাদের মেধার দানে আমরা উপকৃত হচ্ছি তা'দের কর্মের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করা সম্ভব হয় যদি আমরা সঠিক পন্থায় তাদের মেধাজাত পণ্য ভোগ করি।
সাথে সাথে একথাও ঠিক আমাদের পক্ষে উন্নত বিশ্বের নাগরিকদের মতো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। সেটা কিন্তু বিশ্বের সবাই বোঝে। আর তাই আমরা এই উপমহাদেশের জন্য "লো কষ্ট এডিশন" দেখতে পাই। তাই আমার ধারণা, এই বাস্তবায়ন হ'লে তেমনটি নিশ্চয়ই ঘটবে।

আর উপকার যেটি হবে, সেটি হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে দেশী সফটওয়্যারের সম্ভাবনা বাড়বে, কদর বাড়বে - সর্বোপরি মেধার বিকাশ সহায়ক এক সংস্কৃত গড়ে উঠার পথ প্রশস্ত হবে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৮

লেখক বলেছেন: দেশী সফটওয়্যারকে আমরা পাইরেটেড না করলেই হলো। কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করুন। তাদের পক্ষে শিক্ষার এতো ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে না। আর তাছড়া অন্যভাবে দেখলে বলা যায় এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সবকিছুকেই পণ্য বানিয়ে বিক্রি করছে। নারীর দেহ থেকে জীবনরক্ষাকারী ঔষধ। আপনি কি জানেন এইডস-এর প্রতিশেধক আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা এখন অনেকটাই সফল। কিন্তু সেটা বাজারজাত করা হচ্ছে না কারণ বাজারে ছাড়লে লোকজন তা কিনতে পারবে না। অনেক দাম হবে। তাই লোকসানের ভয়ে ঔষধ ছাড়া হচ্ছে না। অথচ দেখুন কত টাকা খরচ করে মারণাস্ত্র বানানো হচ্ছে, মানুষ মারার জন্য। তাই বলছি নিউটন যখন গতি সূত্র আবিষ্কার করেছেন তখন কি তিনি বলেছেন এটা যার টাকা আছে সেই জানতে পারবে? তা বলেননি। কিন্তু এখন দেখুন বিষয়টা দাঁড়িয়েছে যার যত টাকা সে ততো ভালোভাবে বিজ্ঞানকে জানতে পারবে। কিন্তু আইডিয়েল সিচুয়েশন কী এটা হওয়ার কথা?
তাই বলছি- আমরা ওতো উন্নত দেশ নই। দরিদ্র। এর মধ্যেই আমরা কষ্টসৃষ্টে লেখাপড়া করছি। এখন হঠাৎ এই চড়ামূল্যের খড়গ নেমে এলে অনেক ছেলেমেয়ে ঝড়ে পড়বে। এটা কি আমাদের কাম্য হতে পারে?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৪

লেখক বলেছেন: লো কস্ট এডিশনের কথা বলছেন, সেই লো-কস্টও তো আমাদের কাছে হাই কস্ট। কারণ তা প্রকাশ হচ্ছে ভারত থেকে। সেই একই জিনিস নিশ্চয় বাংলাদেশ থেকে প্রকাশ হবে না। তার মানে আমরা আরেক সাম্রাজ্যবাদী দেশের খপ্পরে পড়বো। ইতিমধ্যেই ভারত সেই চরিত্র অর্জন করেছে। এর থেকে আমাদের দেশের একটি বিশাল সংখ্যক মানুষ (নীলক্ষেতে ব্যবসায়ীরা) যে এটা করে খাচ্ছে, তাদের পরিবার চলছে, বিপুল শিক্ষার্থীরা কম খরচে উচ্চ শিক্ষা পাচ্ছে- সেটা কি আমাদের জন্য ঢের মঙ্গলের নয়???

৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১০
রাজর্ষী বলেছেন: পাইরেসি বন্ধ হলে উদ্বেগের কিছু নাই জনাব। পাইরেসির পথে কেউ উন্নত হতে পারে নাই। আমরাও পারছি না, পারবো বলে বিশ্বাস করার মত কোন লক্ষন দেখতেছিনা।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৯

লেখক বলেছেন: পাইরেসির পথে কেউ উন্নত হতে পারে নাই। আপিন বলেন। আপনি কি জানেন ভারত কবে থেকে পাইরেসি বন্ধ করেছে। তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে মেধাসত্ত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছে। এর আগে নয়। আর তাছাড়া তারা ইতিমধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিকে নিজ দেশে কারখানা খুলিয়ে নিতে পেরেছে। ফলে পণ্যের দাম কমে গেছে। কিন্তু আমাদের কি সেরকম রিসোর্স আছে, যেটা থাকলে নিজেদের মাটিতে সম পর্যায়ের পণ্য উৎপাদন করতে পারবো কিংবা থাকলেও ভারত কি সেটা করতে দেবে? ওদের পররাষ্ট্রনীতি কি আমাদের থেকেও শক্তিশালী নয়? আমাদের পাটকল বন্ধ হয়ে যায় আর ওদের চারটি নতুন হয়। পৃথিবীতে প্রাকৃতিক আঁশের চাহিদা বাড়ছে। অতএব যা হচ্ছে সেটাকে সাদা চোখে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪৮
Shottobadi সত্যবাদী বলেছেন: কিনতে হইলে কিনবেন। সুখে থাকলে ভুতে কিলায় কথা আছেনা! আমরা ৭০ টাকা দিয়ে ডলার কিনে আমাদের কষ্টের টাকা আমেরিকাকে দিয়ে দিচ্ছি
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১১

লেখক বলেছেন: সেটাই কথা। চুক্তি অনুযায়ী আমরা যখন পণ্য কিনবো, তখন সেই টাকা যাবে বিদেশীদের পকেটে। আর এখন আমাদের নিজের দেশের টাকা নিজের দেশেই থাকছে।

৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫২
শেরজা তপন বলেছেন: সেইদিন আনু মহম্মদ স্যারের সাক্ষাৎকারে আরো কিছু শুনলাম টিফা চুক্তির ব্যাপারে-ভয়াবহ!
আপনার লেখা পড়েও কিছু জানলাম। ধন্যবাদ
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩২
রাজন সান বলেছেন: চমৎকার ও বুদ্ধিদীপ্ত লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। এরকম লেখা আরো লিখবেন আশা করছি। যদিও এ-ব্লগে আমার Experience হলো, গুরুগম্ভীর লেখা খুব কম সংখ্যক ব্লগারই পছন্দ করে। হালকা ও চটুল লেখার বাজার ভালো। সাথে আছি, থাকবো।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও। আপনি চাইলে আমার আগের পোস্টগুলো পড়তে পারেন। ভালো লাগবে আশা করি।

৭. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:২৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
দিনমজুরের পোস্টখানি পড়তে পারেন.....
Click This Link

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯১৮২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সকল কিছু পুড়ে যাক। ভস্ম থেকে জন্ম নেক চেতনার অগ্নি-পক্ষি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই